আমার প্রিয় পোস্ট

বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে মুসলমান

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩১

শেয়ারঃ
0 0 0

[ত্রিভুজদের মাঝেমধ্যেই বলতে দেখা যায়- রবীন্দ্রনাথ যেহেতু বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন, সেহেতু তিনি পূর্ববঙ্গের তথা বংলাদেশ চেতনারই বিরোধী মানুষ ছিলেন। অনেককেই বলতে দেখা যায়- বঙ্গভঙ্গ পূর্ববঙ্গের স্বার্থেই ব্রিটিশ-রাজ করেছিল এবং এই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করা মানেই পূর্ববঙ্গের উন্নতি না চাওয়া। বিবর্তনবাদীর একটি পোস্টে ( Click This Link) এবিষয়ে বেশ কিছু আলোচনা করেছি। মুসলমানরাও যে বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন- সে ইতিহাসই এই পোস্টে তুলে ধরেছি।]

বঙ্গভঙ্গঃ
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলেও এর ইতিহাস আরেকটু আগের। ১৮৭৪ সালে আসামকে বাংলার থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক প্রদেশ গড়ে তোলা হয়। তখনই কাছাড়-গোয়ালপাড়া-শ্রীহট্ট বাংলা ভাষভাষী এই তিন জেলাকেও আসামের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। এর আগে আসাম 'বঙ্গ' বা 'বাঙলা' প্রেসিডেন্সির অংশ ছিলো। ১৮৭৪ এর পরে 'বঙ্গ' প্রেসিডেন্সির অংশ ছিলো বাঙলা, বিহার, উড়িষ্যা ও ছোটনাগপুর। আয়তন ১,৯০,০০০ বর্গমাইল ও লোকসংখ্যা ৭ কোটি ৮ লক্ষ ৫০ হাজার। ১৮৯১ সালে কয়েকজন উচ্চপদস্থ আমলা এই প্রস্তাব করলেন যে, লুশাই পাহাড়-অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বিভাগ আসামের সঙ্গে মিশে যাওয়া উচিত। ১৮৯২ তে এই সংযোগ সরকার বাহাদুর মেনে নিলেন; কিন্তু আমাদের ততকালীন চিফ কমশনার স্যার উইলিয়াম ওয়ার্ড ১৮৯৬ সালে ঢাকা বিভাগকেও আসামের অংশ করতে চাইলেন, চাইলেন ময়মনসিংহকেও। আর্থিক, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক সুবিধার ধুয়া তুলে এই সংযোগের প্রস্তাব করা হলেও তাঁর দুরভিসন্ধি মানুষ ধরতে পারে এবং প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রবল গণবিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়, ফলে ওয়ার্ড সাহেব পিছু হটতে বাধ্য হন। ১৯০৩ সালে বাংলার ছোটলাট অ্যানড্রু ফ্রেজার বাংলাভাগের নতুন একটা খসড়া প্রস্তাব আনেন। তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রসচিব রিজলি'র মাধ্যমে পেশকৃত প্রস্তাবটিতে (রিজলির পরিকল্পনা বা পত্র নামে খ্যাত) চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলাকে আসামের সাথে যুক্ত হওয়ার কথাই বলা হয়। এটিও দিনের আলোয় আসার সাথে সাথেই চারদিকে প্রবল আলোড়ন শুরু হয়ে যায় এবং সরকার বাধ্য হয় পিছিয়ে যেতে। এবারে পরিকল্পনাটিকে ঢেলে সাজানো হয়। নতুন পরিকল্পনায় স্থির হয়-ঢাকা বিভাগ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদহ জেলা ও দার্জিলিং, অর্থাত উত্তরবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গকে আসামের সাথে যুক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে একটি প্রদেশ গড়ে তোলা হবে, এই প্রদেশের রাজধানী হবে ঢাকা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বয়ং লর্ড কার্জন মাঠে নামেন- ঢাকায় এসে মুসলমানদের বুঝানো আরম্ভ করেন- এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মুসলমানদের জন্য কত ভালো হবে। অনেক প্রতিবাদের মুখেও অবশেষে ১৯০৫ সালে অক্টোবরে বাঙলা ভাগ কার্যকর করা হয়।

উদ্দেশ্যঃ
বাঙলাদেশ, বিহার ও উড়িষ্যার একটি প্রদেশ হিসাবে থাকার প্রশাসনিক দিক থেকে অনেক অসুবিধা ছিলো একথা সত্য। কাজেই সেই বিশাল প্রদেশকে ভেঙ্গে দিয়ে নতুনভাবে গঠন করা কোনো দোষের ব্যাপার ছিলো না। বৃটিশ ভারতীয় সরকার প্রধানত এই কারণটিকেই বঙ্গভঙ্গের মূল যুক্তি হিসাবে উপস্থিত করেছিলো। কিন্তু প্রদেশ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও সেটাই যে বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ ছিলো না তা বৃটিশ সরকার ও বৃটিশ ভারতীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি, সরকারী ভাষ্য এবং দলিলপত্র থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়। বঙ্গ বিভাগের আসল কারণ ছিলো রাজনৈতিক। রিজলির নোটে আমরা দেখি, "ঐক্যবদ্ধ বাঙলা একটি শক্তি। .... আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকে বিভক্ত করা এবং এভাবে আমাদের শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিরুধীদের দুর্বল করে তোলা"। ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সফরের সময় লর্ড কার্জন খুব পরিস্কারভাবে বলেন, "বাঙালীরা যারা নিজেদেরকে একটি জাতি হিসাবে চিন্তা করতে ভালোবাসে এবং যারা এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে যেখানে ইংরেজদেরকে বিতাড়িত করে একজন বাঙালী বাবু কলকাতার গভর্মেন্ট হাউজে অধিষ্ঠিত হবে, তারা অবশ্যই সেই ধরণের যেকোন ভাঙ্গনের বিরুদ্ধে তিক্ত মনোভাব পোষণ করে যা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাঁধাস্বরূপ। এখন তাদের চিতকারের কাছে নতি স্বীকার করার মত দুর্বল হয়ে পড়লে আমরা আর কখনো বাঙলাকে বিভক্ত অথবা ছোট করতে সক্ষম হবো না এবং তার দ্বারা আপনারা ভারতের পূর্বদিকে এমন একটা শক্তিকে জমাটবদ্ধ ও কঠিন করবেন যে শক্তি ইতোমধ্যেই অপ্রতিরোধ্য হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার নিশ্চিত উতস হিসেবে বিরাজ করবে"।

বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে মুসলমানঃ
(নবাব সলিমুল্লাহকে দিয়ে শুরু করি। কেননা, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তিনি ছিলেন ইংরেজদের পক্ষে। কিন্তু প্রথম দিকে তিনিও বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব মেনে নেননি।) ১১ জানুয়ারি ১৯০৪ নবাব সলিমুল্লাহ একটি সভা ডাকেন, এখানে তিনি ও অন্যান্যরা সরকারের তীব্র বিরোধিতা করেন- এমনকি এই প্রস্তাবকে Besatly বলতেও তিনি দ্বিধা করেননি।
'দ্য মুসলিম ক্রনিকল' পত্রিকা এক সম্পাদকীয়তে(জানুয়ারি ১৯০৪) স্বীকার করেছে যে, "জনগণ- সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে দেশবাসী এতখানি ঐক্যবদ্ধ আগে কখনও হয়নি, যতটা প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে হয়েছে"।
১৭ জানুয়ারি ১৯০৪ ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত এক বঙ্গভঙ্গ বিরুধী সভায় উপস্থিত ৮০০০ শ্রোতার ৭৭০০ জনই ছিলো মুসলমান (অবশ্য এ সভায় উপস্থিত হওয়ার পেছনে অভিজাত হিন্দুদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আছে)।
২৫ জানুয়ারি ১৯০৪ মহমেডান ফ্রেণ্ডস ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ঢাকায় এক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জমিদার কায়েসউদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী।
১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় আয়োজিত সেন্ট্রাল মহমেডান অ্যাসোসিয়েশনের সভায় মৌলবি শামসুল হুদা ও মৌলবি সিরাজুল ইসলাম প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন। শামসুল হুদা দাবি করেন, "মুসলিম সংগঠনগুলির ততখানি জোরের সঙ্গে প্রতিবাদ করা উচিত যতটা হিন্দু সংগঠন গুলি করছে, কারণ এতে হিন্দু-মুসলমান উভয়ের স্বার্থ জড়িত"।
সেন্ট্রাল মহমেডান অসোসিয়েশনের সম্পাদক আমির হোসেন সংস্থার পক্ষে ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারকে একটি চিঠি লিখে জানান, "বাঙালি জাতির কোন অংশকে বাঙলা থেকে আলাদা করা উচিত হবে না,...... যদি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোই বিভাজনের উদ্দেশ্য হয় তাহলে সমগ্র বাঙলাকে মাদ্রাজ এবং বোম্বাইয়ের মতো নির্বাহী পরিষদ (Executive Council) গঠন করে গভর্ণরের শাসনাধীনে আনা হোক"।
মুনতাসীর মামুন কর্তৃক সংকলিত "উনিশ শতকে বাংলাদেশের সংবাদ-সাময়িকপত্র" গ্রন্থের অষ্টম খণ্ডে আমরা দেখি- 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকাটির অবস্থান ছিলো স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে। ১৯০৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে 'বেঙ্গল টাইমস' (পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম ইংরেজী সাপ্তাহিক ও পরে দৈনিক) -এও অবিশ্রান্তভাবে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। যদিও 'বেঙ্গল টাইমস' অতীতে সবসময় নবাব পরিবারের পক্ষাবলম্বন করেছে, কিন্তু বঙ্গভঙ্গের বেলায় নবাব সলিমুল্লাহর পথ অনুসরণ করেনি ওই পত্রিকা।
৪ জানুয়ারি ১৯০৪, ঢাকার সদরঘাটের এক সভায় সভাপতিত্ব করেন একজন মুসলমান জমিদার। সভাতে যে আটাশজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন বঙ্গভঙ্গের সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অন্যান্য জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য, তার মধ্যে ৭ জন মুসলমান, ৪ জন ইঙ্গ-ভারতীয় এবং বাকিরা ছিলেন হিন্দু। নারায়নগঞ্জের এক জনসভায় বিভিন্ন প্রস্তাবের উত্থাপক ও সমর্থকের মধ্যে বেশ কয়েকজনই ছিলেন মুসলমান।
ফেব্রুয়ারি ১৯০৪ এ লর্ড কার্জন ঢাকা সফরে মুসলমানদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করার চেস্টা করলেও তাঁর ফিরে যাওয়ার ঠিক পরেই, মার্চ মাসে, ঢাকার জগন্নাথ কলেজে হিন্দু-মুসলমানের এক যৌথ সমাবেশ হয় এবং তাতে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এই মর্মে যে, "ভাইসরয়ের মিষ্টি কথাতে জেলার জনগণের মন ভোলেনি"।
২৭ অক্টোবর ১৯০৫ 'ছোলতান' পত্রিকায় একটি সংবাদে প্রকাশ, "কলকাতার মুসলমানের বেশিরভাগই ছিলেন স্বদেশি আন্দোলনের সমর্থক, শুধু কয়েকজন রাজনৈতিক কাণ্ডজ্ঞানহীন মুসলমান বাদে, যারা অন্যদের স্বদেশি আন্দোলনে যোগ দিতে বাঁধা দিচ্ছিলেন"।
স্বদেশি আন্দোলনে মুসলিম অংশগ্রহণের সাক্ষ্য হিসাবে কিছু মুসলমান নেতার নাম বিভিন্ন আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে। এঁদের একজন হলেন খাজা আতিকুল্লাহ- নবাব সলিমুল্লাহর বৈমাত্রেয় ভাই, তিনি ছিলেন বঙ্গভঙ্গের প্রবল বিরোধি। ডিসেম্বর ১৯০৬ কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উত্থাপন করেন খাজা আতিকুল্লাহ। ওই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা সকলেই বঙ্গভঙ্গের পক্ষে একথা ঠিক নয়। কিছু ধনী মুসলমান নিজেদের স্বার্থে সরকারের এই পদক্ষেপ সমর্থন করছে"। নিজের পরিবার সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ছিলো, "নবাব সলিমুল্লাহর মত গোটা খাজা পরিবারের মত নয়। এই পরিবারের অন্যরা বঙ্গভঙ্গকে হিন্দু-মুসলমান উভয়ের প্রতি অবিচার বলে মনে করেন এবং চান যে তা রদ হোক"। প্রসঙ্গত, এই সভায় আতিকুল্লাহ ছাড়াও ঢাকা নবাব বাড়ির আরো কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মুসলমানদের মধ্যে অন্যান্যরা যাঁরা বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য-
*সেন্ট্রাল নয়াশনাল মহমেডান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান বাহাদুর মহম্মদ ইউসুফ- ১৯০৬ সালে ফেডারেশন হলের সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য ঐ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়,
*বরিশালের জমিদার সৈয়দ মোতাহার হোসেন- বঙ্গভঙ্গ-রদের আন্দোলনের বর্ষপূর্তির সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন,
*ফরিদপুরের উকিল আলীমুজ্জামান চৌধুরী- ১৯০৭ সালে নিজের জেলার এক হাজার মুসলমানের সইসহ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন,
*বর্ধমান জেলার কংগ্রেস নেতা আবুল কাসেম,
*কলকাতার আইনজীবী ও টাঙ্গাইলের জমিদার আবদুল হালিম গজনভি,
*ব্যরিস্টার আবদুল রসুল- হালিম ও রসুল মিলে মুসলিম লীগ বিরুধী 'বেঙ্গল মহমেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠন করেন,
*যশোহরের স্বদেশি নেতা দীন মহম্মদ,
*'দ্য মুসলমান' পত্রিকার সম্পাদক মুজিবর রহমান,
*মৌলবি কাজেম আলি মাস্টার,
*মৌলানা মহম্মদ আকরাম খাঁ- আজাদ পত্রিকার সম্পাদক ও মালিক,
*পাটনার আলি ইমাম ও তার সহোদর হাসান ইমাম,
*ব্যারিস্টার মজহারুল হক- সাদাকত আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা,
*মৌলানা আবুল কালাম আজাদ,
*কলকাতার শিক্ষক দেদার বক্স- স্বদেশি আন্দোলনের বক্তা হিসাবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন,
*ঢাকার শিক্ষক হেদায়েত বক্স, স্বদেশি প্রচারক দেদার বক্স ও 'ছোলতান' পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মৌলবি মনিরুজ্জামান ইসলামবাদি- স্বদেশি আন্দোলনে এই তিনজনেরও বক্তা হিসাবে সুনাম ছিলো,
*কবি সৈয়দ আবু মহম্মদ ইসমাইল হোসেন সিরাজী- স্বদেশি করতে গিয়ে নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে লাঞ্ছিত হন,
*অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটির সক্রিয় সদস্য লিয়াকত হোসেন,
*হুগলির আবুল হোসেন এবং 'হাবলুল মতীন' পত্রিকার সম্পাদক প্রাক্তন ফারসি শিক্ষক আবদুল গফুর- দুই বাঙলায় এঁরা বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা করেন।...... প্রমুখ।
১৯০৭ সালের গোড়ায় যে স্মারকলিপি পেশ করেন আলিমুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর সহ-স্বাক্ষরকারী খানপাড়ার জমিদার রহমতজান চৌধুরি, তাতে তাঁরা বলেন, "সরকার যদি চাকরি-বাকরির ব্যাপারে বিশেষ কিছু সুবিধা দিতে চায় মুসলমানদের তাহলে সেটা বাঙলা ভাগ না করেও দেওয়া যেত"
১৯০৭ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক বিশাল জনসভা হয় দক্ষিণ মালদায়। তাতে শ্রোতাদের অর্ধেকই ছিলেন মুসলমান। মৌলবি মুহম্মদ সালেহ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বনাথপুরের মুন্সি মুহম্মদ গুলজার। ১৯০৭ সালের অক্টোবর শেষ সপ্তাহে খুলনা জেলার সেনহাটিতে ঐ রকম একটি সভা হয়েছিলো প্রায় পুরোপুরি মুসলিম উদ্যোগে। শুধু অবস্থাপন্নই নন, অনেক মুসলমান চাষিও এই সভায় যোগ দিয়েছিলেন। ........
..........................।
এমন অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

উপসংহারঃ
তবে এটা ঠিক, এ বঙ্গের অধিকাংশ মুসলমানই পরবর্তিতে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেন। কারণ কি? হিন্দুদের তুলনায় পশ্চাদপদ মুসলমানরা মনে করেছিলো এতে তাদের সমূহ উন্নতি সম্ভব- এবং এ প্রলোভনটিই প্রথম থেকে ব্রিটিশরা মুসলমানদের দিয়ে এসেছে। ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে লর্ড কার্জন বলেন, "বঙ্গভঙ্গ পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে এমন এক নতুন ঐক্য আনবে যা মুসলমান শাসকদের আমলেও তাঁরা পাননি"। বাস্তবিকই এসময় ব্রিটিশদের কিছু উদ্যোগ দেখা যায়। বঙ্গভঙ্গের ঠিক পরেই পাট চাষে কৃষকরা লাভবান হন। এবং পরীক্ষামূলকভাবে বর্গা বা আধিয়ারি আইন প্রচলিত হওয়ায় কৃষকরা জমিদারের খাস জমিতে বর্গাচাষি হিসাবে স্বীকৃতি পেতে লাগলেন। শুধু ঢাকা জেলাতেই ৭০ হাজার কৃষক খাসজমির প্রজা হিসাবে নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করতে পেরেছিলেন। (অথচ- এই ইংরেজ সরকারই একদিন চিরস্থায়ি বন্দোবস্তের মাধ্যমে- কৃষকদের জমি থেকে উতখাত করেছিলো!!), একে বঙ্গভঙ্গের সুফল মনে করে মুসলমান কৃষকরাও বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করতে আরম্ভ করেন। পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের নতুন গভর্ণর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার মুসলমানদের উন্নতির জন্য বিশেষ নজর দেন, এতে কিছু পরিবর্তনও খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে- যার মধ্যে মুসলমানদের শিক্ষা অন্যতম। ফুলার বলেছিলেন, "হিন্দু-মুসলমান তাঁর দুই স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিই টান বেশি তাঁর"। ব্রিটিশ সরকার এপর্বে নানাভাবে মুসলমান তোষণ চালিয়ে যেতে থাকে, নতুন প্রশাসনে মুসলমান ও হিন্দুর অনুপাত ২:১ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।
নবাব সলিমুল্লাহর অবদানও কম নয়- বঙ্গভঙ্গের পক্ষে মুসলমানদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে। ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহকে দেনার দায় থেকে বাঁচাতে ১৪ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া হয় সরকারি কোষাগার থেকে। কেননা, বৃটিশ সরকারের একথা অজানা ছিলো না যে, পূর্ববঙ্গের অভিজাত মুসলমান সম্প্রদায় এবং মুসলমান তালুকদার-ধনী কৃষক গোষ্ঠীর ওপরে নবাব সলিমুল্লাহর যথেস্ট প্রভাব আছে। নবাব সলিমুল্লাহর মদতপুষ্ট প্রচারকরা প্রচার করতে থাকে যে, নতুন গঠিত হওয়া প্রদেশটিতে মুসলমান কৃষকদের কোন রাজস্ব দিতে হবে না এবং বৃটিশদের শেষ হয়ে ইসলামের পুনরুত্থান আসন্ন, যে ইসলামি শাসনের কর্ণধার হবেন নবাব সলিমুল্লাহ। ..........
অথচ, অসংখ্য আত্মমর্যাদাশীল মুসলিম নেতাই এভাবে উপঢৌকন নিয়ে বিভক্ত হয়ে উন্নত হতে আপত্তি জানিয়েছিলেন- বলেছিলেন- "পিছিয়ে পড়া অবহেলিত অংশ হিসাবে আমাদের উন্নতিতে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি অবশ্যই যৌক্তিক ও এটা আমাদের ন্যায্য দাবিও, কিন্তু এহেন ঐতিহাসিক ক্ষণে বঙ্গমাতাকে দ্বিখণ্ডিত করার লক্ষে আমাদেরকে দাবার বড়ে হিসাবে ব্যবহৃত করতে- যতই আমাদের উন্নতি করা হোক না কেন- আমরা কি সেই উন্নতিকে সমর্থন জানাতে পারি? কেননা এতে যে ইতিহাসে আমরা মাতার অঙ্গচ্ছেদকারির তল্পিবাহক হিসাবেই চিহ্নিত হবো!"

প্রশ্নঃ
যেসব মুসলমান বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন- তাঁরাও কি বাঙলাদেশ চেতনার বিরোধি?

সূত্রঃ
১। বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি- বদরুদ্দীন উমর,
২। বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলন- শতবর্ষ স্মারক সংগ্রহ,
৩। উনিশ শতকে বাংলাদেশের সংবাদ-সাময়িকপত্র (অষ্টম খণ্ড)- মুনতাসীর মামুন সংকলিত,
৪। Swadeshi Movement in Bengal- Sumit Sarkar,
৫। উপনিবেশপূর্ব বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি - গোলাম রব্বানী,
৬। Bengal divided- জয়া চ্যাটার্জি

 

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৪
সোনার বাংলা বলেছেন:
অনেক দিন পর ভালা পোষ্ট দিয়েছেন............

পিলাস দিলাম.........।

কিন্তু কতা হইলো যার বিরুধীতা করেছিলো( হিন্দু মুসলিম)
তাদের কেউ কেউ আবার ৪৭-এ চুপ কইরা বসে আছিলো
ক্যান এই জিনিষটাই গিলুর মইধ্যে যায় না.....................

রাজনীতির পেচালী খেল বড়ই আজব...........

অনেক অনেক ধন্যবাদ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন:
আপনার প্রশ্নের জবাব কিছুটা দেয়ার চেস্টা করেছি- বিবর্তনবাদীর পোস্টে।

আশা করি পড়বেন।

২. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৫০
হট্টগোল বলেছেন:

ত্রিভুজ গংদের গালে জুতার বাড়ি এই পোস্ট।
৪. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা,

আসুন, একটু ১৯৭১ ঘুরে আসি
কিছুদিন আগে একুশে টিভিতে সাবেক অর্থ সচিব শাহ আবদুল হান্নান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে আক্ষায়িত করেন। ঐ ব্যক্তির যুক্তি অনেকটা এই রকম ছিল যে, “যেহেতু মুক্তিযুদ্ধাদের বিপক্ষে পূর্ববঙ্গের যে অংশটি ছিল তারাও বাঙ্গালি ছিল, বিধায় মুক্তিযুদ্ধকে নাকি গৃহযুদ্ধ বলা উচিত”। বলাবাহুল্য, যদি তার কাছে প্রশ্ন তুলে ধরা হত এমন কিছু বাঙ্গালির উদাহরন দিতে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল তিনি নিশ্চিন্তে সিরিয়াল ধরে জামাতের নেতাকর্মীদের নাম বলে যেতেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সদস্য কারা ছিলেন সেক্ষেত্রে খোদ নিজামীও কোন লিস্ট উল্লেখ করার সাহস যোগাবে না। কারন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছিল বাংলার সকল মানুষ। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাতিদের সংখ্যা সাত কোটি বাঙালির সাপেক্ষে নগন্য।
হাতে গোনা কয়েকটি নামকে একটি জাতীয় আন্দোলনের অন্যতম প্রধানধারা হিসেবে গন্য করার মত হাস্যকর ও নগ্ন দালালী ছাড়া আর কি হতে পারে? নিশ্চয়ই একমত।


এবার আসি ১৯০৫ –এ
আপনি এটা বলছেন, তবে এটা ঠিক, “এ বঙ্গের অধিকাংশ মুসলমানই পরবর্তিতে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান নেন। কারণ কি? হিন্দুদের তুলনায় পশ্চাদপদ মুসলমানরা মনে করেছিলো এতে তাদের সমূহ উন্নতি সম্ভব- এবং এ প্রলোভনটিই প্রথম থেকে ব্রিটিশরা মুসলমানদের দিয়ে এসেছে”।

অর্থাৎ, এ বঙ্গের মানুষের ঐ বঙ্গের মানুষ থেকে কিছু পৃথক চাওয়া ছিল। যার চাওয়া নেই তাকে প্রলোভোন দেখিয়ে লাভ কি? আর চাহিদা তারই থাকে যার অভাব থাকে। তাছাড়া আপনি স্বীকার করছেন হিন্দুদের তুলনায় পশ্চাদপদ ছিল মুসলমানরা । এ বঙ্গের মানুষের পৃথক চাওয়া ছিল, কারন দেশে শাসক গোষ্টি ও প্রভাবশালী গোষ্টি (অধিকাংশ হিন্দু জমিদার) তাদের পৃথক বিবেচনা করে এসেছে অন্য অংশ থেকে। কোন দেশকেই বিদেশী শাসক গোষ্টি স্বদেশী কোন না কোন গ্রুপের সমর্থন ছাড়া শাসন বা শোষণ করত পারে না। বাংলায় বৃটিশের ঐ সমর্থনকারি ছিল, পশ্চিম বঙ্গের উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা, আর ঐ উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মূল প্রতিপক্ষ ছিল মুসলমানেরা। কারন নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় অথবা আর্থ-সামাজিক (অথবা অন্য যে কোন কারনে) কারনে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে কখনই অবস্থান নেয়নি, তাই না?
অর্থাৎ, বঙ্গভঙ্গকালীন আমরা দুইটি মূলধারা দেখতে পাই। এক পক্ষে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের শক্তিশালী নেতৃত্বে হিন্দু জনগন (কারন উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের বৃটিশদের কাছাকাছি হবার সুবিধাভোগী তারাই ছিল, বাংলায় হিন্দুদের স্বার্থ না দেখে নিশ্চয়ই মুসলমানকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা সুবিধা দেয় নাই।)। অন্য পক্ষে ছিল, দূর্বল নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের সাধারন মুসলমান। বাকি হাতে গোনা বা নাম ধরে উল্লেখ করা, পথভ্রষ্ট বা কিছু দালাল প্রধান ধারা হিসেবে কখনই গ্রহনযোগ্য নয়।

দূর্বল নেতৃত্বের কারনে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের সুবিধা আমরা বেশিদিন নিতে পারি নাই এবং একসময় বঙ্গভঙ্গরদ হয়। কিন্তু, সাময়িক উন্নতি যা ঘটেছিল ১৯১১ থেকে ১৯০৫ –এ তা, আমাদের বুঝিয়েছে আমরাও পারব। আমরা কোন ক্রমেই কলকাতা থেকে পিছিয়ে রইবার নই। ওদের স্বার্থ আর আমাদের স্বার্থ এক না। আমরা আরো বুঝেছি, ওরা বাঙালির উন্নতি বলতে, বাঙালির ওদের অংশের উন্নতিই বুঝে, আমাদের না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে গান ওরা আমাদের শুনাচ্চে তা ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই না।

যতই ফাঁকা একপেশে যুক্তি দিয়ে তর্ক করেন না কেন, একসময় দেখবেন বিশ্ব জানবে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নামে মাত্র বাঙালিরা, হাস্যকর ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চাপে ওরা একসময় হয়ত ভারতের একটা পিছিয়ে পড়া উপজাতি হিসেবে টিকে রইবে।

অবশেষে, আপনাকে ধন্যবাদ।
৫. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:০৬
বিবর্তনবাদী বলেছেন: তবে, একটা কথা আপনার সাথে বলা দরকার। শুধু তিনশত বছরের ইতিহাসের সাপেক্ষে দেখলে পূর্ব পশ্চিম বঙ্গ দ্বন্দকে উচ্চ বর্ণের হিন্দু ও মুসলমানের দ্বন্দ বলে মনে হয়। তবে সামগ্রিক বাঙালির ইতিহাস বিবেচনা করলে এ দ্বন্দ মূলত আর্য অনার্যের। ১৯০৫ এ আর্যের অবস্থানে এসেছে উভয় বঙ্গের উচ্চবর্ণের হিন্দু আর অনার্যের স্থানে সংখ্যাগরিষ্ট পূর্ববঙ্গীয় মুসলমান। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট নিম্ন বর্ণের হিন্দু বাংলার ইতিহাসে কোন আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হয় না। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি অংশের ইতিহাসের পরিসংখ্যান টানলে হয়ত দেখা যাবে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমরা পূর্ববঙ্গবাসীই প্রধানত সকল আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছি ও তা চালিয়ে নিতে ত্যাগ স্বীকার করেছি। যদিও, নানা কারনে অনেকেই হয়ত দেশবিভাগের সময় পশ্চিমে চলে গেছেন।
৬. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনার ছেলের একটা নাম প্রস্তাব করতে পারি। সেটা হল মিহির। এর অর্থ সূর্য বা রবি। রবীন্দ্রনাথ আমার বড়ই প্রিয়, তবে রবি নামটা ব্যাকডেটেড মনে হয়। তাই, মিহির নামটা বললাম। পরে যদি একটা মেয়ে হয় তবে নাম রেখে দেবেন সবিতা । সাবিতা অর্থও সূর্য।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১২

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
লিস্টে যুক্ত করা হলো।

৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
@বিবর্তনবাদী,
আপনার আলোচনা দেখে আমার কটি কথা বলা দরকার মনে হলো-

১। '৭১ ও '০৫ দুটিকে পাশাপাশি দিয়ে আপনি কি প্রমান করতে চাইলেন?? এতটুকু চোখ খোলা রাখলেই বুঝতে পারবেন- '৪৭ থেকে '৭১ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজের শক্তিতে ও প্রেরণায় লড়াই করে- সংগ্রাম করে - ও শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে!!!
আর, ১৯০৫ এ কি হয়েছে?? ১৮৭৪ সাল থেকে ব্রিটিশরা বাঙলাকে ভাগ করার চেস্টা চালিয়ে আসছিলো- এবং প্রতিবারে উভয় বঙ্গের মুসলমান-হিন্দু মিলে তাকে প্রতিরোধ করেছে। অবশেষে- ইংরেজরা বাঙলার শক্তিহানী ঘটাতে গিয়ে- ধর্মকে হাতিয়ার করে- দুই ধর্মের লোকদের মুখোমুখি করে দেয়। সেটা করতে গিয়ে- এই বঙ্গের মুসলমানদের নানারকম সুযোগ দিয়ে সুবিধা দিয়ে হাত করে নেয়। এই সুযোগ নেয়া - সুবিধা নেয়াকে আপনি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সাথে মিলালে মুক্তিযুদ্ধকেই অপমান করা হয়।

২। .....
৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
......
২। পূর্ববঙ্গের সকলে কিন্তু বঙ্গভঙ্গ চায়নি।
বরং বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে এই পূর্ববঙ্গেও জোরালো আন্দোলন হয়েছে। উপরের মুসলমানদের লিস্ট তো দিলামই। এখানকার হিন্দুদের অবস্থান কি ছিলো???
৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
.......

৩। আরেকটি কথা আপনার বুঝা দরকার- হিন্দুদের তুলনায় মুসলামানরা পিছিয়ে এ কথাটির মানে কি? এই পার্থক্য কিন্তু- উচ্চবর্ণ হিন্দু ও সম্ভ্রান্ত মুসলমানের মধ্যকার।

বাঙলার বিশাল সংখ্যায় নিম্ন বর্ণ হিন্দু- সাধারণ মুসলমান- যারা মূলত চাষি- তাদের মধ্যে কিন্তু অবস্থার বিশেষ কোন পার্থক্য ছিল না। চিরস্থায়ি বন্দোবস্তে - নীল চাষে- এসব ঘটনায়- ভুক্তভোগি হিন্দু-মুসলমান উভয়ই, এবং ব্রিটিশদের সাথে এ সব ঘটনায় সহযোগিতাকারি হিন্দু জমিদাররাও যেমন ছিলো- তেমনি মুসলমান নবাব- মুসলমান তালুকদাররাও। তবে এটা ঠিক যে, হিন্দু জমিদারদের সংখ্যা বেশি ছিলো।
১০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
........

৪। নাচোলের বিদ্রোহ থেকে শুরু করে- তেভাগা আন্দোলন বা চিরস্থায়ি বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন- নীলচাষের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সবই কিন্তু এখানকার সাধারণ কৃষকদের আন্দোলন- এবং সেটাতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই অংশগ্রহণ ছিলো।

সেসব বিদ্রোহ বা আন্দোলনে- কৃষকদের বিরুধী পক্ষ ছিলো- একই সাথে জমিদার শ্রেণী ও ব্রিটিশ সরকার।
১১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৪৪
অচেনা বাঙালি বলেছেন: "ওদের স্বার্থ আর আমাদের স্বার্থ এক না। আমরা আরো বুঝেছি, ওরা বাঙালির উন্নতি বলতে, বাঙালির ওদের অংশের উন্নতিই বুঝে, আমাদের না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে গান ওরা আমাদের শুনাচ্চে তা ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই না। "


____________________________________________

বিবর্তনবাদীর এইসব বাক্যে খানিকটা না বেশ খানিকটা খারাপ লাগল। এইভাবে জেনারেলাইজড করাটা মনে হয় অবিচার হয়ে গেল। বিশেষ করে একজন বাঙালি হিসাবে। আমি আপনাকে অনুরোধ করব এরকম চরম কনক্লুশনে আসার আগে চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাস বসু, শরৎ বসু প্রমূখ নেতাদের কর্ম ও অবাদান মাথায় রাখতে।
১২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
.........

৫। আপনি যতই নিজেকে বাংলাদেশী জাতি হিসাবে বলেন না কেন- বাংলাদেশী জাতি বলে কিছু থাকতে পারে বলে মনে হয় না।
আমি নিজেকে বাঙালী জাতি বলেই মনে করি- হুম নাগরিক হিসাবে আমি বাংলাদেশের নাগরিক- আমার নাগরিকত্বকে আপনি বাংলাদেশী বলেন- আপত্তি করবো না- কিন্তু জাতি হিসাবে আমি বাঙালী- এখানে যেমন অন্যান্য জাতিও আছে- যেমন চাকমা-সাঁওতাল প্রভৃতি, - তেমনি আমিও বাঙালী.... আমার(পূর্ববঙ্গের অধিবাসীর) বাঙালী জাতীয়তাবোধ আহত হয়েছিলো ১৯০৫ এ মুসলিম নেতাদের দালালির কারণে- প্রায় নিহতই হয়েছিলো- ১৯৪৭ এ- কিন্তু তা আবার প্রবল প্রতাপে মাথা তুলে দাঁড়ায় - ১৯৫২ সালে- বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েই এই জাতীয়তাবোধ আবার আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি- ফলে, একে আর হারাতে চাইনা- সেই ১৯০৫ সালের পূর্ববঙ্গের দালাল মুসলিম নেতাদের ধ্যান-ধারণার মতো- আজকের একই ধ্যান-ধারণার দ্বারা।
১৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
৬। আপনি যে বললেন- "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি অংশের ইতিহাসের পরিসংখ্যান টানলে হয়ত দেখা যাবে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমরা পূর্ববঙ্গবাসীই প্রধানত সকল আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছি ও তা চালিয়ে নিতে ত্যাগ স্বীকার করেছি। যদিও, নানা কারনে অনেকেই হয়ত দেশবিভাগের সময় পশ্চিমে চলে গেছেন।"
---------------->
এই ইতিহাস সত্য নয়।
কেননা- প্রথমত, ভারতের স্বাধিনতা আন্দোলনে আপনি একজন পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমান বিপ্লীর নাম বলতে পারবেন কি? তার বিপরীতে অসংখ্য হিন্দু নাম আপনি সহজেই পাবেন।
এবং দ্বিতীয়ত, পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বাইরেও অসংখ্য বিপ্লবীর নাম আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন।
১৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
.............
৭। আপনি বলেছেন, "১৯০৫ এ আর্যের অবস্থানে এসেছে উভয় বঙ্গের উচ্চবর্ণের হিন্দু আর অনার্যের স্থানে সংখ্যাগরিষ্ট পূর্ববঙ্গীয় মুসলমান। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট নিম্ন বর্ণের হিন্দু বাংলার ইতিহাসে কোন আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হয় না। "
------------>
এটাও ভুল।
আপনি ইতিহাসটি আরেকটু ভালো করে পড়েন- তাহলে বুঝতে পারবেন- ........

এমনকি ১৯০৫ সালেও- কিন্তু মুসলমান সাধারণ চাষি-কৃষকরা উচ্চবর্ণ হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন লড়াই গড়ে তুলেছে।

আর, এই বঙ্গে জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে যেসব লড়াই সংগ্রাম হয়েছিলো- সেগুলোতে হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই অংশগ্রহণ ছিলো এটা ঠিক, তবে এটাও ঠিক যে, মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলেই বেশিরভাগ আন্দোলন গুলো হয়েছিলো এবং সেগুলোতে নিম্ন বর্ণ হিন্দুরাই অংশ নিয়েছে।
১৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
........

৮। বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আপনার যে এলার্জি দেখলাম- সেই একই ধরণের এলার্জি ছিলো- এখানকার সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের। তারা উর্দুকেই মর্যাদাশীল ভাষা মনে করতো- কিন্তু সাধারণ মুসলমান- চাষা-ভুষারা কিন্তু বাংলাতেই কথা বলতো-মনের ভাব প্রকাশ করতো। তারা কিন্তু - সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের মতো বাংলাকে হিন্দুর ভাষা মনে করতো না!!!

৯। নবাব সলিমুল্লাহর বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে কোনরূপ আবেগ না থাকারই তো কথা!!
কেননা, তাঁরা তিন পুরুষ আগে এসেছিলেন কাশ্মির থেকে- তাঁরা ছিলেন মূলত ব্যবসায়ি- তাঁরা উর্দুতেই কথা বলতেন- ইংরেজরা তাঁদের নবাব উপাধি দিয়েছিলেন- ইংরেজদের সাথে এই নবাব পরিবারের সম্পর্ক বুঝা যায় আগে থেকেই ভালো!!!!
১৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
......

১০। আপনি বলেছেন, "... বাকি হাতে গোনা বা নাম ধরে উল্লেখ করা, পথভ্রষ্ট বা কিছু দালাল প্রধান ধারা হিসেবে কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। "
------------------->

আমি কখনোই আমার লিস্টকে প্রধান ধারা বলিনি।
কিন্তু- এনাদের যদি পথভ্রষ্ট বা দালাল বলেন- তবে ইতিহাসকে ভুল চোখে দেখাই হবে!! কেননা-
-> পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মুসলমান বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলো। তারা বঙ্গভঙ্গের কারণে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যা লঘিষ্ঠ হয়ে যাওয়ার ভয়ে যদি বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন- তবে তাদের কি পথভ্রষ্ট বলবেন?
->যারা ইংরেজদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেন- তাদের কে কি দালাল বলবেন??
->দালাল বললে- এটাও বলা দরকার কার দালালি করেছে? আপনার ভাস্যমতে- প্রতিপক্ষ এখানে দুটি- পূর্ববঙ্গের মুসলমান ও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু এটা ধরলে- বলা যায় আপনি বলতে চেয়েছেন- এনারা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের দালালি করেছেন!!!
অথচ- এনাদের অনেককেই দেখবেন- তাঁরা অনেক আগে থেকেই পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উন্নতির জন্য নানারকম চেস্টা- সংগ্রাম করে আসছিলেন- বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা তাঁরা গড়েও তুলেছিলেন!!
->আপনি নিজেও বলেছিলেন (আপনার পোস্টে)- আপনি বঙ্গভঙ্গকে ঠিক বলছেন না- এবং ইংরেজরা ভেদনীতি সফল করার জন্যই এ বঙ্গভঙ্গ করেছিলো। তাহলে- বঙ্গভঙ্গকে বেঠিক মনে করলে- তার বিরোধিতা করা কি দালালি হতে পারে???
->উল্টো দিকে দেখেন- এখানে আমার মনে হয়- প্রতিপক্ষ দুটি- এক ইংরেজরা যারা বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বাঙলাকে বিভক্ত করে দুর্বল করতে চেয়েছিলো, এবং যারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে বিভক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো। তো, যারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে ইংরেজদের সাথে গিয়ে হাত মিলালো- তাদেরকেই তো দালাল বলা উচিত- তাই নয় কি???



১৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
......

আপাতত, এতটুকুই।

আপনাকে ধন্যবাদ@ বিবর্তনবাদী
১৮. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ Nastike dhormokotha ---

Kemon achen? Apni amar montoboer kichu shobdo and bakko gulo ke nijer kheyal khushi moto interpret kore nicchen abong montobbo korchen. Eta ki thick?? Jaihok, vul buja buji hotei pare, ja alochonar maddhome clear hobe hoyto. Na holeo shomossa nai.


Ami ekhon chittagong. Ekhankar cybercafe gulote banglai likhte parchi na. Banglai na likhle feelings valo moto express kora jai na. Dhakai asle abar alochona suru kora jabe.

Totodin valo thakun.... shusto thakun.... bacchar nam niye vabun... Dhonnobad
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৭

লেখক বলেছেন:
আপনার বাড়ি কি চট্টগ্রামে??

ভালো থাকবেন।

১৯. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ Ochena Bangli-----

vai keu ekjon boleche The term absolute itself is not absolute . Kothata sotti.... Amar ba apnar kono montobbo kei absolute dhroe newa uchti na.... kichu na kichu batikrom shob sthanei thake.... shobshomoy ullekh korte kheyal thake na, ba vul hoye jai. S N Bose, or Shorot Basu der moto mohan netader obodan ami borabor shroddha vore sworon kori... ebong Bangali hisebe tader jonno gorbo kori...


Jaihok, dhakai ese nei ... shob clear korbo....... toto din valo thakun....
২০. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: না বাড়ি নোয়াখালি। অভ্র ছাড়াও দেখছি বাংলা লেখা যায়। কিন্তু খুব ঝামেলা লাগছে। কি বো্রড লে আউটের সাথে পরিচিত না হয়ত তাই।
২১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: '৭১ ও '০৫ দুটিকে পাশাপাশি দিয়ে আপনি কি প্রমান করতে চাইলেন?? এতটুকু চোখ খোলা রাখলেই বুঝতে পারবেন- '৪৭ থেকে '৭১ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজের শক্তিতে ও প্রেরণায় লড়াই করে- সংগ্রাম করে - ও শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে!!! আর, ১৯০৫ এ কি হয়েছে?? ১৮৭৪ সাল থেকে ব্রিটিশরা বাঙলাকে ভাগ করার চেস্টা চালিয়ে আসছিলো- এবং প্রতিবারে উভয় বঙ্গের মুসলমান-হিন্দু মিলে তাকে প্রতিরোধ করেছে। অবশেষে- ইংরেজরা বাঙলার শক্তিহানী ঘটাতে গিয়ে- ধর্মকে হাতিয়ার করে- দুই ধর্মের লোকদের মুখোমুখি করে দেয়। সেটা করতে গিয়ে- এই বঙ্গের মুসলমানদের নানারকম সুযোগ দিয়ে সুবিধা দিয়ে হাত করে নেয়। এই সুযোগ নেয়া - সুবিধা নেয়াকে আপনি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সাথে মিলালে মুক্তিযুদ্ধকেই অপমান করা হয়।


৪৭ থেকে ৭১ এ আমরা পাকিস্তানের শোষনের বিরুদ্ধে লড়াই করবার যোগ্য ছিলাম, ফলে মাত্র ২৫ বছরেই পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র। আর ১৯০৫ এ আমরা লড়াইয়ের যোগ্য ছিলাম না, ফলে বঙ্গভঙ্গরদ হয়। নিজ অধিকার আদায়ের জন্য যোগ্য হবার যে চেতনা আমাদের মাঝে জাগ্রত হয় তার সূত্রপাত ১৯০৫ থেকে। বঙ্গভঙ্গরদের ফলাফল যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই মূলত আমাদের সম্পুর্ণ জাতীকে পাকিস্তানী হানাদার শাসক গোষ্টির বিরুদ্ধে লড়বার প্রেরণা যুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি সেটাকে শুধু মাত্র ২৫ বৎসরের সংগ্রাম উল্লেখ করাই মুক্তিযুদ্ধের অপমান। আমাদের মুক্তির জন্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেই ১৯০৫ থেকে, যার ফলাফল পেয়েছি ১৯৭১-এ।
২২. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: পূর্ববঙ্গের সকলে কিন্তু বঙ্গভঙ্গ চায়নি। বরং বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে এই পূর্ববঙ্গেও জোরালো আন্দোলন হয়েছে। উপরের মুসলমানদের লিস্ট তো দিলামই। এখানকার হিন্দুদের অবস্থান কি ছিলো???


আবারো সেই হাস্যকর কথা। আরে এরকম কত লিস্টই তো দেওয়াই যায়। জামাতে ইসলামী খুব সম্ভবত ২০০৬ এর একটা মহাসমাবেশ করেছিল পল্টনে। সেই সমাবেশে দেখাগেল, পল্টন ভর্তি। এর মানে এই নয় বাংলাদেশে জামাতে ইসলামী জনগনের কাছে একটা গ্রহণ যোগ্য লোক। কয়েককোটি মানুষের জনপদে মাঠ ভর্তি করবার মত দালালের অভাব হয় না, এটা একটা বড় উদাহরন।
২৩. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: আরেকটি কথা আপনার বুঝা দরকার- হিন্দুদের তুলনায় মুসলামানরা পিছিয়ে এ কথাটির মানে কি? এই পার্থক্য কিন্তু- উচ্চবর্ণ হিন্দু ও সম্ভ্রান্ত মুসলমানের মধ্যকার। বাঙলার বিশাল সংখ্যায় নিম্ন বর্ণ হিন্দু- সাধারণ মুসলমান- যারা মূলত চাষি- তাদের মধ্যে কিন্তু অবস্থার বিশেষ কোন পার্থক্য ছিল না। চিরস্থায়ি বন্দোবস্তে - নীল চাষে- এসব ঘটনায়- ভুক্তভোগি হিন্দু-মুসলমান উভয়ই, এবং ব্রিটিশদের সাথে এ সব ঘটনায় সহযোগিতাকারি হিন্দু জমিদাররাও যেমন ছিলো- তেমনি মুসলমান নবাব- মুসলমান তালুকদাররাও। তবে এটা ঠিক যে, হিন্দু জমিদারদের সংখ্যা বেশি ছিলো।


হিন্দুর মুসলমানদের থেকে পিছিয়েছিল কারন পূর্ববঙ্গ পিছিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ হতে। পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ ছিল মুসলমান। উচ্চ বর্ণের হিন্দু সংখ্যায় বেশি থাকাটাই যে অনান্য হিন্দু ও মুসলমানদের ভাল থাকার উপর প্রভাব বিস্তার করে তার উল্লেখ আমি আগেই করেছি।
আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন ইংরেজরা পূর্ববঙ্গবাসীকে উন্নয়নের প্রলোভন দেখিয়েছিল। প্রলোভন কাকে দেখানো যায় যার চাহিদা রয়েছে। আজকের বাংলাদেশীদের যদি স্বাধীনতার প্রলোভন দেখানো হয় তাতে কি কোন লাভ আছে? স্বাধীনতো আমরা আছিই। ঠিক তেমনি ভাবেই আমরা পূর্ববঙ্গবাসীই বিভিন্ন দিক হতে পিছিয়ে ছিলাম বিধায় আমাদের বেচে থাকবার প্রয়োজনেই উন্নয়ন দরকার ছিল।


পূর্ববঙ্গে উৎপন্ন হত পাটের প্রধান অংশ আর কলকারখানা গড়ে উঠত পশ্চিমবঙ্গে। আমাদের কৃষকের ঘামে উৎপন্ন পাট থেকে আয়ের যে অংশ বাংলা পেত তার সিংহভাগ কলকাতাকে “সিটি অব জয়” করতে খরচ হত। এর সাথে পাকিস্তানী শাসনের কি কোন পার্থক্য খুজে পাই?? পার্থক্য শুধু এতটুকুই পাকিস্তানী পাঞ্জবীকে আমরা চেহারা দেখেই আলাদা করতে পারতাম, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাবুদের বাঙালি চেহারার পেছনে যে সাম্প্রদায়িক দৈত্য লুকিয়ে রয়েছে তা বুঝতে আমাদের সময় লেগেছ।


বঙ্গভঙ্গের ক্ষেত্রে শিক্ষাক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হয়েছিল পূর্ববাংলায় তার একটা পরিসংখ্যান আমি আমার পোস্টে দিয়েছি। আপনার কাছে সেটা শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন। কিন্তু বাস্তবে সেটার ব্যপ্তি আরও বিস্তৃত। প্রথমত শিক্ষা প্রতিটি জনপদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ভারতবর্ষের এক এক জাতী এক এক ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। যেমন গুজরাটিরা ব্যবসায়, গুর্খারা যুদ্ধক্ষেত্রে, তেমননি বাঙালিরা শিক্ষাক্ষেত্রে। শিক্ষা সাহিত্য বিজ্ঞান প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাঙালিদের জয়জয়কার। কিন্তু এর বাঙালিদের মধ্যে একটা পরিস্কার বিভেদ রেখা সহজেই চোখে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গবাসী বিশেষ করে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি। হিন্দুদের সংখ্যা বেশি তাতে আমার কোন ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ হচ্ছে এই ক্ষেত্রে যে হিন্দুরা পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উঠে আসার সুযোগের পথে বাধা হয়ে দাড়াল।
২৪. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: আপনি যে বললেন- "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি অংশের ইতিহাসের পরিসংখ্যান টানলে হয়ত দেখা যাবে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমরা পূর্ববঙ্গবাসীই প্রধানত সকল আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছি ও তা চালিয়ে নিতে ত্যাগ স্বীকার করেছি। যদিও, নানা কারনে অনেকেই হয়ত দেশবিভাগের সময় পশ্চিমে চলে গেছেন।" ----------------> এই ইতিহাস সত্য নয়। কেননা- প্রথমত, ভারতের স্বাধিনতা আন্দোলনে আপনি একজন পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমান বিপ্লীর নাম বলতে পারবেন কি? তার বিপরীতে অসংখ্য হিন্দু নাম আপনি সহজেই পাবেন। এবং দ্বিতীয়ত, পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বাইরেও অসংখ্য বিপ্লবীর নাম আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন।


প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা,
পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমানের নাম খুজবার কোন প্রয়োজন আমার নেই। সূর্যসেন, প্রতিলতা, নজরুল, কমরেড মুজাফফর প্রভৃতির নাম নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্ট বিধায় আমি হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমরা পূর্ববঙ্গবাসী কথা গুলো উল্লেখ করেছি।
আপনার মত গুটিকয়েক ব্যক্তির নাম তুলে সম্পূর্ণ এক জাতীয় আন্দোলন ব্যাখ্যা করা বড়ই হাস্যকর লাগে। মূলত আপনার মত দৃষ্টিভঙ্গি রেখেই জামাতিরা আজ মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে ঘোষনা দেবার সাহস রাখে।
২৫. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন:আপনি বলেছেন, "১৯০৫ এ আর্যের অবস্থানে এসেছে উভয় বঙ্গের উচ্চবর্ণের হিন্দু আর অনার্যের স্থানে সংখ্যাগরিষ্ট পূর্ববঙ্গীয় মুসলমান। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট নিম্ন বর্ণের হিন্দু বাংলার ইতিহাসে কোন আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হয় না। " ------------> এটাও ভুল। আপনি ইতিহাসটি আরেকটু ভালো করে পড়েন- তাহলে বুঝতে পারবেন- ........ এমনকি ১৯০৫ সালেও- কিন্তু মুসলমান সাধারণ চাষি-কৃষকরা উচ্চবর্ণ হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন লড়াই গড়ে তুলেছে। আর, এই বঙ্গে জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে যেসব লড়াই সংগ্রাম হয়েছিলো- সেগুলোতে হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই অংশগ্রহণ ছিলো এটা ঠিক, তবে এটাও ঠিক যে, মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলেই বেশিরভাগ আন্দোলন গুলো হয়েছিলো এবং সেগুলোতে নিম্ন বর্ণ হিন্দুরাই অংশ নিয়েছে।


ওকে ইতিহাস পড়ে নেই, তারপর আবার এই টপিকে বসব। কিছু বই কিনতে হবে, কিন্তু পয়সার অভাবে কিনতে পারছি না। তাছাড়া সময়ের বড় অভাব।
২৬. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন:বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আপনার যে এলার্জি দেখলাম- সেই একই ধরণের এলার্জি ছিলো- এখানকার সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের। তারা উর্দুকেই মর্যাদাশীল ভাষা মনে করতো- কিন্তু সাধারণ মুসলমান- চাষা-ভুষারা কিন্তু বাংলাতেই কথা বলতো-মনের ভাব প্রকাশ করতো। তারা কিন্তু - সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের মতো বাংলাকে হিন্দুর ভাষা মনে করতো না!!!


আপনি দেখছি বড় ভাল ডাক্তার। আমার এলার্জি ধরে ফেললেন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে টিউমার হয়েছে ধরেছেন ঠিকই কিন্তু গলার টিউমারকে
মাথার টিউমার ঘোষনা দিয়ে ফেললেন।

যাইহোক, বাঙালি হয়ে আমি গর্বিত। সেই সাথে আরো বেশি গর্বিত বাংলাদেশী বাঙালি হয়ে। এখানকার সম্ভান্ত মুসলমানরাতো ধর্মীয় অজ্ঞানতার কারনে উর্দুকে মর্যাদাশীল মনে করত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনগন কি কারনে নিজেদের বাঙালি কম ভারতীয় বেশি মনে করে সেটা বুঝতে সমস্যা হয়। আসলে ওদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জিনিসটাযে মুহম্মদ আলী জিন্নাহর ধর্মের ভিত্তিতে দ্বি-জাতী তত্ত্বের মতই ফাকা বুলি তা যে ওরা বুঝে না।


আমি কেন বাংলাদেশী বাঙালি হয়ে গর্বিত হব না। আমার আছে একুশ, আমার আছে একাত্তর, আমার আছে স্বাধীন বাংলাদেশ। বিশ্ব আজ জানে ভাষার প্রতি আমাদের অনুরাগের কথা। এক্ষেত্রে আমাদের বলতে বিশ্ব আজ শুধুই বাংলাদেশীদের বুঝে, কারন রক্ত ঝরেছে আমাদের । আমাদের কেউ কেউ কেন খামাখা পশ্চিমবঙ্গের ওদের এই গর্বের ভাগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠে চিন্তা করলে ভয় হয়।


পশ্চিমবঙ্গের ওদের কাছে বাংলার কথা বললে ওরা বলে, বাংলা হচ্ছে ভারতের অনেক গুলো ভাষার মতই একটি ভাষা। এমনকি রবীন্দ্রনাথের জন গন মন গানটির ব্যাপারে ভারত সরকার বলে রবীন্দ্রনাথ ওটাকে নাকি হিন্দিতে লিখেছেন। আর আমাদের পশ্চিমা বাঙালিরা (!) এর প্রতিবাদটুকুও করে না। চিন্তা করুন আজ কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা করলে আপনি আমি ঝাপিয়ে পড়ি, ওরা পড়ে না... ... ... কেন? আপনার আর আমার চেতনার আর ওদের চেতনার মাঝে কি কোন ফরাক খুজে পান না??


বাঙালি হিসেবে নিজেকে যখন চিন্তা করি, তখন সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেই আমাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করবার জন্য। সেই সাথে ধন্যবাদ দেই আমাকে বাঙালি মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করবার জন্য। আরো ধন্যবাদ দেই আমাকে বাংলাদেশী বাঙালি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠাবার জন্য। নইলে, শুধু রক্তেই বাঙালি হতাম আর ইংরেজী ও হিন্দিকেই নিজ ভাষা ভাবতাম। সব থেকে বড় কথা, বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে (অর্থাৎ পূর্ব দিকে) নিজেকে বড়ই কাপুরুষ মনে হত।
২৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন:নবাব সলিমুল্লাহর বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে কোনরূপ আবেগ না থাকারই তো কথা!! কেননা, তাঁরা তিন পুরুষ আগে এসেছিলেন কাশ্মির থেকে- তাঁরা ছিলেন মূলত ব্যবসায়ি- তাঁরা উর্দুতেই কথা বলতেন- ইংরেজরা তাঁদের নবাব উপাধি দিয়েছিলেন- ইংরেজদের সাথে এই নবাব পরিবারের সম্পর্ক বুঝা যায় আগে থেকেই ভালো!!!!


নবাব সলিমুল্লাহ তো ছিলেন ব্যবসায়ি এবং নবাব পরিবারের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক ভালই ছিল। সম্পর্ক ভাল থাকা তো ভালই, নাকি যদি তা মানুষের কাজে আসে। যেমন ছিল রবীন্দ্রনাথের। আপনি নিশ্চয়ই রবীন্দ্রনাথের নাম উল্লেখ করায় আমার উপর ঝাপিয়ে পড়বেন। কিন্তু, আপনি যেমন ইংরেজদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকাকে দোষ হিসেবে চিহ্নিত করে উল্লেখ করলেন আমি কিন্তু তেমন করি নাই। রবীন্দ্রনাথকে আমি শ্রেষ্ট বাঙালি কবি না, বিশ্বকবি বলে মনে করি। কোন জাতীয়তার প্রকোষ্টে রবীন্দ্রনাথকে বাধা দূরহ ব্যাপার।
শুধু নবাব কেন?? সারা বাংলায় শত শত হিন্দু রায় বাহাদুর, খান বাহাদুর, রাজা, স্যার ইত্যাদিরা ছড়িয়ে ছিলেন চতুর ইংরেজ কি তাদের কোন প্রকার ভাল সম্পর্ক তথা লাভ লোকসানের হিসাব না করে এই সব পদবী ছিটিয়েছিল। ইংরেজদের সাথে ভাল সম্পর্ক কি গান্ধি বা নেহরুর ছিল না?? মাউন্টব্যাটেনতো নেহেরুর বন্ধুই ছিল, যার সুবিধা ভারত পেয়েছে দেশ বিভাগের সময়। এসব নিয়ে আলোচনায় যেতে ইচ্ছুক নই, তাই কথা বাড়ালাম না।

ঢাকার নবাব পরিবারের নবাবদের ঢাকা শহর তথা পূর্ববঙ্গের উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের ঢাকা বিষয়ক গবেষণা গুলো ঘাটলে অনেক কিছুই পাবেন।
২৮. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা, ধরুন বাংলায় দুটি প্রদেশ। একটি পূর্ববঙ্গ অন্যটি পশ্চিমবঙ্গ। ক্ষতি কি হত? আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন বঙ্গভঙ্গ হয়ে পূর্ববঙ্গে আলাদা প্রদেশ হলে পূর্ববঙ্গের উন্নয়ন সম্ভব ছিল। কিন্তু, ইংরেজের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ছিল। ইংরেজের উদ্দেশ্য কি ছিল? কিভাবে ওরা চেয়েছিল বাংলার দুই অংশের মাঝে পার্থক্য তৈরি করতে? ইংরেজ জাতী কি এতটাই অপদার্থ যে ভাববে প্রশাসনিক ভাবে দুটি আলাদা প্রদেশ করেই জাতীয়তাবাদকে ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব। ওরা জানত, পূর্ববঙ্গ অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেই সাথে পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জমিদারদের জমিদারি পূর্ববঙ্গে এবং সেই অধিকাংশ জমিদারদের বেশির ভাগই হিন্দু। অন্যপক্ষে, পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান। ফলে আলাদা প্রদেশের ঘোষণা দিলে, পশ্চিমবঙ্গবাসী ওদের জমিদারদের কথায় বঙ্গভঙ্গরদের আন্দোলনে নামবে। আন্দোলনের মূল কথা থাকবে, “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”। সোজা কথা, তাই না। অন্যদিকে, পেটে ভাত না থাকলে জাতীয়তাবাদের গান কোন কাজে আসে না। বিধায়, পূর্ববঙ্গবাসীর নিকট এই জাতীয়তাবাদের আন্দোলন “ফাঁকা বুলি” ভিন্ন কিছুই হবে না। বরং পূর্ববঙ্গবাসী দেখবে তাদের উন্নয়ের পথে যারা বাধা তাদের বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গীয় হিন্দু। বিধায়, কেউ উৎসাহ দিক আর না দিক এই আন্দোলন বাংলাকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দুইভাগে মনস্তাত্বিক ভাবেই ভেঙ্গে ফেলবে। ইংরেজ এক পর্যায়ে বঙ্গভঙ্গরদ করে দেবে। এই ভাবেই অতিচতুরতার সাথে ইংরেজ, তাদের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করে ফেলল। কি করে এটাকে আটকানো সম্ভব ছিল। একটা উপায়েই, সেটা হল প্রশাসনিক ভাবে পূর্ববঙ্গকে আলাদা প্রদেশ হতে দেওয়া। যদি তাই হত তবে পূর্ববঙ্গবাসী, পশ্চিমবঙ্গবাসীকে দেখত বন্ধুরুপে। আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা ক্ষেত্র উভয় ক্ষেত্রে সমান সমান দুইবাংলা এক পর্যায়ে এক হয়ে গঠন হত স্বাধীন বাংলা। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের একমুখি চিন্তা ভাবনা আর কতিপয় পূর্ববঙ্গীয় দালালের (বা পথভ্রষ্ট) নির্বোধ সিদ্ধান্তে বাংলা মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে পৃথক হল। আপনি কি স্বীকার করেন না, “দুই বাংলার মানুষ আজও মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে?”
২৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: আপনি যতই নিজেকে বাংলাদেশী জাতি হিসাবে বলেন না কেন- বাংলাদেশী জাতি বলে কিছু থাকতে পারে বলে মনে হয় না। আমি নিজেকে বাঙালী জাতি বলেই মনে করি- হুম নাগরিক হিসাবে আমি বাংলাদেশের নাগরিক- আমার নাগরিকত্বকে আপনি বাংলাদেশী বলেন- আপত্তি করবো না- কিন্তু জাতি হিসাবে আমি বাঙালী- এখানে যেমন অন্যান্য জাতিও আছে- যেমন চাকমা-সাঁওতাল প্রভৃতি, - তেমনি আমিও বাঙালী.... আমার(পূর্ববঙ্গের অধিবাসীর) বাঙালী জাতীয়তাবোধ আহত হয়েছিলো ১৯০৫ এ মুসলিম নেতাদের দালালির কারণে- প্রায় নিহতই হয়েছিলো- ১৯৪৭ এ- কিন্তু তা আবার প্রবল প্রতাপে মাথা তুলে দাঁড়ায় - ১৯৫২ সালে- বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েই এই জাতীয়তাবোধ আবার আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি- ফলে, একে আর হারাতে চাইনা- সেই ১৯০৫ সালের পূর্ববঙ্গের দালাল মুসলিম নেতাদের ধ্যান-ধারণার মতো- আজকের একই ধ্যান-ধারণার দ্বারা।

আপনি আমার বাক্য হতে শব্দ তুলে নিয়ে নিজে ইচ্ছা মত বাক্য রচনা করে আমার মন্তব্যকে বিচার করছেন। এটা মোটেই সভ্য নয়। আমি বলতে চেয়েছি পশ্চিমবঙ্গবাসীর বাংলার প্রতি যে আচরণ দেখা যাচ্ছে তাতে একসময় হাস্যকর ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে ওদের বাঙালিত্ব ভেসে যাবে বলেই মনে হয়। হয়ত ওরা এক সময় ভারতের একটি বিলুপ্ত প্রায় উপজাতি গোষ্টি হিসেবে টিকে রইবে। এটা নিয়ে বৃথা তর্ক করে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। আসুন বসে বসে ভবিষ্যতের পানে চেয়ে রই।
৩০. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা,

আপাদত এটুকুই। ছেলের নাম কি ঠিক করলেন, জানাবেন কিন্তু। ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।
৩১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫১
ত্রিভুজ বলেছেন:

"বঙ্গভঙ্গের" বিরোধীতা করলেই বাঙলার চেতনার বিরুদ্ধ হয়ে যাবে এরকম বক্তব্য আমি দিয়েছিলাম কি? আমার প্রশ্নগুলোর মূল পয়েন্টই সম্ভবত আপনি ধরতে পারেননি মিরাজ সাহেব! দেখুন আমার সেই পোস্টগুলোতেই কিন্তু আমি বলে দিয়েছিলাম যে আমিও রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। কিন্তু তার জন্য কিন্তু আমাকে সেই লোকগুলো বাংলার চেতনা বিরুদ্ধ বলবে না যারা আবার বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অন্ধের মত আচরণ করে।

এভাবে যে জেনারালাইজ করা ঠিক না, সেটা বুঝানোর জন্যই কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গভঙ্গের বিষয়টা এসেছিলো... আপনি বঙ্গভঙ্গ ও রবিন্দ্রনাথ বিষয়ক আমার সবগুলো লেখা আরেকবার পড়ে দেখতে পারেন..


বাই দ্য ওয়ে... আপনার দলিল পত্রের বাকীগুলো যে পোস্ট দিলেন না? আমার ৭টা প্রশ্নের উত্তরে যেগুলো দেয়ার কথা ছিলো.... আশা করি কোন একদিন সময় সুযোগ করে দিয়ে আসবেন....


ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৪৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষেরে ঘৃণা করি'/
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'/
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে,/
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই