somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপত্তিকর ছবি তুলে ইন্টারনেটে দেওয়ায় ছাত্রীর আত্মহত্যা

২৭ শে মে, ২০১২ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকজন সহপাঠী মুঠোফোনে মেয়েটির আপত্তিকর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। চরম এক পরিস্থিতিতে পড়ে মেয়েটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ওই পরিস্থিতিতে দুই সাংবাদিক যখন বাড়িতে গিয়ে বাবার কাছে তার আপত্তিকর ছবিসহ সংবাদ টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে প্রকাশের হুমকি দেন, তখন আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেনি মেয়েটি। গত বৃহস্পতিবার সে স্যাভলন পান করে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মেয়েটির বাবা বাগেরহাট মডেল থানায় তার চার সহপাঠী ও দুই সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মেয়েটির নাম সাবিয়া সুলতানা (১৫)। বাগেরহাট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা শেখ আলমগীর। বাড়ি বাগেরহাট শহরেই।
শেখ আলমগীরের করা মামলার আসামিরা হলো: শহরের পুরাতন বাজার এলাকার এম এ ওয়াদুদের ছেলে আল মুজাহিদ ওরফে পিয়াল (১৫), সৈয়দ জাহিদ হোসেনের ছেলে সৈয়দ সীমিন হাসান ওরফে সীমান্ত (১৫), শহরের কে বি বাজার সড়কের দেলোয়ার হেসেনের ছেলে মানজুল ইসলাম (১৫), দড়াটানা সড়কের জাকির হোসেন মোল্লার ছেলে মোল্লা আবদুল হান্নান (১৫), খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার বাগেরহাট ব্যুরো প্রধান মোল্লা আবদুর রব (৪৮) ও মাই টিভির বাগেরহাট প্রতিনিধি রিফাত আল মাহমুদ (৩২)।
শেখ আলমগীর গতকাল শনিবার প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, মেয়ের আপত্তিকর ছবি নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। সে বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে সব সময় বই নিয়ে থাকত। ১৫-২০ দিন আগে বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আবদুর রব ও রিফাত আল মাহমুদ বলেন, ‘আপনার মেয়ের আপত্তিকর কিছু ছবি আমাদের কাছে আছে। আমরা এ বিষয়ে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই।’ তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি না হলে তাঁরা কয়েকটি সংবাদপত্রে ও টেলিভিশনে মেয়ের এ ঘটনা প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চলে যান। মেয়েটি ঘরের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সব কথা শুনেছিল। এর পর থেকে সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। গত বৃহস্পতিবার স্যাভলন পান করে আত্মহত্যা করে। তিনি তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য দায়ী সাংবাদিক ও মেয়ের সহপাঠীদের বিচার দাবি করেন।
ঘটনার শুরু: সাবিয়ার কয়েকজন সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, চার আসামি আর সাবিয়াসহ আরও কয়েকজন বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। সাবিয়া ও অন্য এক মেয়ের সঙ্গে মুজাহিদের এবং আরেক মেয়ের সঙ্গে সীমিন হাসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৬ মার্চ সাবিয়া, মুজাহিদ, সীমিনসহ ছয়জন বাগেরহাট স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে না গিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। একটি শ্রেণীকক্ষে বসে তারা মুঠোফোনে সাবিয়া ও অপর মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কিছু ভিডিওচিত্র পৃথকভাবে ধারণ করে। পরে এই ছবি ইন্টারনেট এবং ব্লুটুথের মাধ্যমে মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: বাগেরহাট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখার্জি রবীন্দ্রনাথ জানান, ৪ এপ্রিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ওই ছয়জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডাকা হয়। পাঁচজন অভিভাবকের উপস্থিতিতে ওই ছয় শিক্ষার্থীকে প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। এ ছাড়া তাদের স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত মেনে চলে যান। বৃহস্পতিবার সাবিয়া একাই বাড়িতে ছিল। বাবা-মা কর্মক্ষেত্রে, একমাত্র ভাই কলেজে গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাবিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আসে তার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবী। ওই বান্ধবী জানায়, সাবিয়া তাকে বলে, ‘ঘটনার জন্য দায়ী ছেলেদের বাড়ি সাংবাদিক যায় না, আমার বাড়িতে সাংবাদিক আসে। আমি কোথাও বের হতে পারি না। বাড়ির মধ্যেও অনেক কথা শুনতে হয়। আমি আর পারছি না। আমার মনে হয় মরে যাওয়াই ভালো।’ ওই বান্ধবী সাবিয়াকে অনেক বুঝিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই স্যাভলন পানে আত্মহত্যা করে সাবিয়া।
পুলিশের বক্তব্য: বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মামলা করার রাতেই মোল্লা আবদুর রব, রিফাত আল মাহমুদসহ কয়েকজন আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বক্তব্য: আবদুর রব ও রিফাত আল মাহমুদ পৃথকভাবে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন, মাস খানেক আগে সাবিয়াদের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাঁরা দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন, তবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি।
এ কেমন সভ্যতা- যেখানে এধরনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত!
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×