somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের সবচে ছোট মসজিদ

১২ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলা যায়, এর চেয়ে ছোট কোনো মসজিদ দেশের কোথাও নেই। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে এতটাই ছোট যে, মাত্র তিনজন মুসল্লির বেশি একসাথে সেখানে নামাজ আদায় করা কঠিন। এর অবস্থান বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকায়।

মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য প্রায় সমান, ৮ ফুট। ভাঙা (আধলা) ইট দিয়ে তৈরি দেয়ালের পুরত্ব দেড় ফুট। মসজিদের দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া দেড় ফুট। কোনো রকমে একজন মানুষ এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। মসজিদের দরজায় দুটি রাজকীয় নিদের্শনা আছে। এছাড়া মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শনসম্বলিত মিনার, দরজায় রাজকীয় নকশা এবং মেহরাবই মসজিদটির প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাক্ষ্য বহন করে।

প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩০০ বছর আগের ঘটনা। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এক গম্বুজবিশিষ্ট এমন একটি মসজিদ তৈরি হবে যার আকৃতি হবে খুবই ছোট। মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদে একটিমাত্র ছোট্ট দরজা থাকলেও থাকবে না কোনো জানালা।

সান্তাহার থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে তারাপুর গ্রামে এর অবস্থান। জনশ্রুতি আছে, তারাসুন্দরী নামের একজন নারীর নামানুসারে এই গ্রামের নামকরণ। তবে তারাসুন্দরী কে তা জানা যায়নি। কিন্তু তারাপুর দক্ষিণপাড়ায় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে সেই মসজিদটি।

স্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়শ বছর আগেও এখানে নামাজ পড়া হতো। এরপর দীর্ঘদিন থেকে এই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ আছে। তবে কে বা কারা এবং কেন এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন তা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য দেখা গেছে। যেহেতু এই মসজিদ নির্মাণের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো লিখিত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেহেতু জনশ্রুতি থেকেই আসল ইতিহাস জানার চেষ্টা করতে হবে।

এই চেষ্টা চালাতে গিয়ে গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার বয়স্ক, যুবক, কিশোর সবার মধ্যেই এর ইতিহাস জানার কৌতূহল রয়েছে। গ্রামের আজমুল হুদা রিপন বাংলানিউজকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদটিকে এভাবেই দেখে আসছেন। তিনি জানান, তার দাদার কাছে দাদার বাবা এই মসজিদ সম্পর্কে গল্প করেছেন। গল্প শুনে যেটুকু জেনেছেন, তা হলো কোনো এক কারণে শিতন নামের একজন মুসলমানকে গ্রামবাসী একঘরে করে দিলে তিনিই একা নামাজ পড়ার জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

গ্রামের আরেক বয়স্ক ব্যক্তি রাজ্জাক জানান, তার দাদারা গল্প করতেন, প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে নামাজ পড়ার জন্য তারাপুরে তেমন কোনো মসজিদ ছিল না। এলাকাটি জমিদার অধ্যুষিত হবার কারণে প্রয়োজনের তাগিদে সে সময় জমিদারবাড়িতে কয়েকজন মুসলমান পেয়াদাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা কয়েকজন স্বল্প পরিসরে নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। জমিদারের পেয়াদারা নামাজ পড়তেন বলে পরে এটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংস্কার করে পাকা করে নির্মাণ করা হয়। এজন্য এই মসজিদটি দেখতে রাজকীয় পূরাকীর্তির মতো।

গ্রামের আরেকজন আরিফুল ইসলাম জনি জানান, উপজেলার সান্তাহারের ছাতিয়ান গ্রামে ছিল রানী ভবানীর বাবার বাড়ি। এ কারণে সান্তাহার ও এর পাশের এলাকা তারাপুরও ছিল রানী ভবানীর বাবার রাজত্ব। এরই অংশ হিসেবে রানীর আসা-যাওয়া ছিলো ঐ গ্রামে। সে সময় গ্রামে একজন পরহেজগার মুসলমান নারী ছিলেন, যিনি নিয়মিত নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে চলতেন। তৎকালীন সময়ে এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হবার কারণে ধর্মভীরু ঐ মহিলার নামাজ পড়ার অনেক অসুবিধা হতো। এ কথা জানতে পেরে রানী ভবানী নিজেই গ্রামে এসে তার অধীনস্থ পেয়াদাদের হুকুম দেন, ওই নারীকে যেন আর কেউ নামাজ পড়তে বাধা না দেয় এবং নির্দেশ দেন তার জন্য রাজকীয় নকশায় একটি মসজিদ তৈরি করে দেবার। হয়তো এভাবেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মসজিদটি যে কোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সেখানে যে একসময় নামাজ আদায় হতো এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানার জন্য কথা হয় বগুড়া মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান নাহিদ সুলতানার সাথে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, এ বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে হয়তো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দেশ দিবেন বলে জানান।

এরপর কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলমের সাথে। তিনিও বাংলানিউজকে একইভাবে জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে সাথে সাথে তিনি বিষয়টি নজরে আনার জন্য এই প্রতিবেদককে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করতেও অনুরোধ জানান।

তবে মসজিদটির অবস্থা এখন ধ্বংসপ্রায়। দ্রুত এর সংস্কার ও সংরক্ষণ করা না হলে এই বিশিষ্ট স্থাপত্যটি যে অচিরেই হারিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



Click This Link
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×