আমার প্রিয় পোস্ট

যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি বাড়ি যায়, তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১

শেয়ার করুন:                   Facebook

বাংলাদেশে মনে হয় পাওয়া যায় না, অন্তত আমি শুনিনি। ভেবেছিলাম বিদেশে কখনও গেলে দেখব কি রকম। কিন্তু পোড়া কপাল, আমেরিকায় আবস্যাঁত উত্পাদন নিষিদ্ধ। আমেরিকায় পাওয়া যায় 'অ্যাবসেন্ট' যা আমেরিকানাইজ্‌ড এবং সোর্সও ভিন্ন।
দুনিয়ার সবচেয়ে কড়া মদ আবস্যাঁত, absinthe। কড়া মদ হলেও আধুনিক সমাজে এর আবির্ভাব ঔষধ হিসেবে। ফরাসী বিপ্লবের পরে, ১৭৯২ সালের দিকে সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী ফরাসী ডক্টর পিয়ের অরডিনেইর্‌ এটি প্রস্তুত করেন। ধারণা করা হয় আবস্যাঁত নাম এসেছে আর্টেমেসিয়া আবসেন্থিয়াম হতে যা ওয়ার্ম উড বা পোকার গাছের বৈজ্ঞানিক নাম। এ গাছের নির্যাস হতে তৈরি করা হয় বিখ্যাত এই মদ। প্রাচীন মিশরে এ গাছ অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে, জ্বর নিবারণ ও এমনকি পেটের পীড়া ও গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ সারাতে ঔষধ হিসেবে ব্যব হার করা হত। বর্তমানে ওটিসি ড্রাগ হিসেবে এ গাছের তেল ফার্মেসীতে পাওয়া যায়।

এত উপকারী গুণ থাকলেও বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে আবস্যাঁত 'সমাজের জন্যে ক্ষতিকর' খেতাব পেয়ে পানীয় হিসেবে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। অথচ বাণিজ্যিকভাবে প্রথম যখন বাজারে আসে তখন এর পরিচিতি ছিল 'সর্বরোগ নিবারক' আদর করে বলা হত La Fee' verte বা সবুজ পরী। আদি আবস্যাঁত ছিল সবুজবর্ণের। বর্তমানে সবুজসহ বিভিন্ন রংগের আবস্যাঁত পাওয়া যায়।

ধারনা করা হয় মেজর দ্যুবি ডাক্তারের কাছ থেকে মূল ফর্মুলা কিনে উনিশ শতকের প্রথম দিকে বড় ধরণের উত্পাদন ও বাজারজাতকরণে মনোনিবেশ করেন। ১৮৪৪-৪৭ সালে জনপ্রিয়তা তুংগে ওঠে যখন ফরাসী সেনাবাহিনী আলজেরিয়ায় লড়াই করার সময় মিলিটারি মদ হিসেবে আবস্যাঁত ব্যবহৃত হয়। এত জনপ্রিয় হয় যে ৫ টা ছুটির ঘন্টাকে বলা হত, ল'খ ভেখত্‌' বা 'সবুজ ঘন্টা'। ১৮৭৪ সালে ফরাসীরা ৭০০,০০০ লিটার আবস্যাঁত পান করে। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে, ১৯১০ সাল নাগাদ যা দাঁড়ায় বছরে ৩৬ মিলিয়ন লিটার।

আবস্যাঁতের স্বর্ণোজ্জ্বল দিনে অন্য মদ/ওয়াইন ব্যবসা বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়। পরবর্তীতে অবস্হার পরিবর্তন হলে বেশীর ভাগ ভাইনইয়ার্ডে পূণরায় গাছ লাগাতে হয়। ওয়াইন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা তুলে নেয়ার জন্যে ওয়াইনের দাম বাড়িয়ে দেয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবস্যাঁত নিষিদ্ধ করার আহবান জানায়। এ সময় ম্যাগনান নামে এক গবেষক অনেকগুলো আর্টিকল ছাপান যাতে বলা হয় আবস্যাঁত পানে আবস্যান্টিজম নামক একধড়নের উপসর্গ দেখা দেয় যার লক্ষণ হল, নেশা, অতিরিক্ত উত্তেজনা,মৃগী এবং হ্যালুসিনেশান।

শেষ পর্যন্ত বের হয় থিউজন নামে একটা কেমিক্যাল যা পোকার গাছের অন্যতম সক্রিয় উপাদান এর জন্যে দায়ী। ম্যাগনান তার গবেষণায় এটি বের হয়ে আসে,এবং প্রকাশিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে এসে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স,বেলজিয়াম,অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকা আরও অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। ব্রিটেন,স্পেন,পর্তুগাল অবশ্য কখনও নিষিদ্ধ করেনি, যার কারণে পানীয় হিসেবে আবস্যাঁত পূণজাগরণ হয়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে আবস্যাঁতের খারাপ উপাধি আর নেই। বর্তমানে অ্যাকোহল বৈধ এমন সবদেশে এটি পাওয়া যায় এবং উত্পাদন করা হয় , একমাত্র ব্যতিক্রম আমেরিকা। অবশ্য এখানে আপনি খেতে এবং রাখতে কোন বাধা নেই।

শিল্পী সাহিত্যিকরা আবস্যাঁতের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। যেমন ১৮৭৬ সালে ইম্প্রেশনিস্টদের অন্যতম উদ্যোক্তা এডগার ডেগা এঁকেছেন, L'absinthe যেখানে কাফেতে একজন রমণী ও একজন পুরুষ সামনে আবস্যাঁত নিয়ে বসে আছে। আরেক ইম্প্রেশনিস্ট দিকপাল এদুয়ার মানে এঁকেছেন ' দ্য আবস্যাঁত ড্রিন্কার'। কিছুটা দেবদাস স্টাইলে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো যুবক সামনে মেঝেতে খালি বোতল গড়াগড়ি খাচ্ছে।

আরও জানতে উইকির শরণ নিন।

 

 

  • ৩ টি মন্তব্য
  • ২১৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৩
comment by: তুষার ০০৭ বলেছেন: অভিজাত পানীয়,,,
২. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২০
comment by: তাকদীর বলেছেন: চলেছ যখন চল আবেসেেতর েলাকাল েসাের্সর েখাজ েপেল জািিনোো। েখালা রইেলা ব্লগ
৩. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:২০
comment by: নাম্বারহীন বলেছেন: রসের খবর রসিকের কাছেই থাকে

 



 


মার্ক্স বা হেগেল নয়;
মেধা নয়, মনন মনীষা নয়,
সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আনন্দঘন
জীবনের মূল_--
স্বনির্বাচিত মহিলার
স্তন, স্তনন, চিবুক, যোনি ও উদ্দাম কালো চুল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৩৭২৮