আমার প্রিয় পোস্ট

চোর

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৩

শেয়ারঃ
0 0 0

চৌর্যবৃত্তি মানব সভ্যতার আদিমতম পেশা। এটি আসলে প্রকৌশল বিদ্যা, খুবই টেকনিক্যাল কাজ। অনেক বিখ্যাত চোরের কাজ শিল্পকর্মকেও হার মানায়। চোখকান খোলা রেখে প্রচুর গবেষণা ও চর্চার মাধ্যমেই এ বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন সম্ভব। ভারতবর্ষে চুরিবিদ্যার স্মীকৃতি প্রাচীন শাস্ত্রগুলোতে পাওয়া যায়। রাজকর্মে পারদর্শিতা অর্জনের জন্যে রাজকুমারদের অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে চৌষট্টি এক কলা চুরিবিদ্যা শেখানো হত।

ধর্মীয় মিথ অনুযায়ী আদমের দুই ছেলে হাবিল আর কাবিল ঝগড়া করে একজন আরেকজনকে মেরে ফেলে। এরপর কি করবে ভেবে পায় না। এমন সময় দেখে দুইটা কাক মারামারি করে একটা আরেকটাকে মেরে ফেলে এরপর চোখ বন্ধ করে মৃত কাকটাকে লুকিয়ে বা মাটিতে পুঁতে রাখে। সাথে সাথে হাবিল বা কাবিল আইডিয়া পেয়ে যায়, মর্ত্যের পৃথিবীতে শঠতার জন্ম নেয়। পরিবেশ বান্ধব কাকের উপর এরকম একটা অসত্ গুণের আরোপ নিন্দাজনক।

গ্রীক মিথোলজিতে দেখা যায় প্রমেথিউস মর্ত্যের মানুষের জন্যে স্বর্গের দেবতা জিউসের কাছ থেকে আগুণ চুরি করেন। যার ফলে দেবতারা ক্রুদ্ধ হয়ে প্যান্ডোরা'র বাক্স পাঠান যার মাধ্যমে জরা,মৃত্যু ইত্যাদি যাবতীয় খারাপ জিনিষ দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায়।

বাংলায় আমরা বলি, চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। ধরা পড়ার অসম্ভব রিস্ক নিয়েই চোর চুরি করতে বেরোয়। তবে কিছু নিয়ম কঠিনভাবে অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশেও শুনেছি গাটকাটার দল, কচি লাউয়ে পাতলা কাগজ সেঁটে নতুন ব্লেড দিয়ে কাটা প্রাকটিস করে যাতে কাগজ কাটা যাবে কিন্তু লাউয়ে কোন আঁচড় পড়বে না।

সেই আদিম যুগ থেকে চোর জানে 'ইনফরমেশন ইজ পাওয়ার' তাই যত সম্ভব তথ্য পাওয়া যায় ততই কাজ হাসিলের জন্যে মঙ্গলজনক । বাড়ির স্হাপত্য কৌশল, ইনটেরিয়র ডিজাইন কোথায় কি আছে তার নকশা, অন্ধকারে পুরো এলাকায় কিভাবে বিচরণ করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকলে তবে সার্থকভাবে কাজ নামানো যায়।

যোগচর্চা করে উপযুক্ত গুরুর নিকট ইন্দ্রিয় সাধনার প্রয়োজন। ইন্দ্রিয় হতে হবে তীক্ষ্ণ, হরিণের মত শ্রবণশক্তি,কুকুরের মত ঘ্রাণেন্দ্রিয়,বিড়ালের মত দৃষ্টি আর শার্প ব্রেইন। এর কোনটায় ঘাটতি থাকলে সাফল্য অনিশ্চিত।

চোরের সবচেয়ে বড় শত্রু কাশি। এ রোগ থাকলে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। শরীর ফিট রাখার জন্যে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। কারাগারে সবার অসুস্হতার খবর শুনে মনে হয় এরা শরীরচর্চায় তেমন মনোযোগী ছিল না।

বয়স্ক লোক আছে এমন বাড়িতে কখনও যাওয়া যাবে না। বয়স্কদের ঘুম পাতলা, ঘনঘন জেগে ওঠে।

সদ্য বিবাহিত দম্পতির বাড়িতেও যাওয়া যাবে না। এরাও সারারাত জেগে থাকে।

চাঁদের পক্ষ,চোরের মত আর কেউ অনুসরণ করে না। কৃষ্ণপক্ষ চুরির জন্যে মোক্ষম সময়।

মানুষের স্বভাব-চরিত্রও চোরকে ফলো করতে হয়। লুচ্চা পুরুষ বা দ্বিচারিণী নারীর বাড়িতে চুরি করতে গেলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা। কারণ এক্ষেত্রে গৃহস্হের স্বভাবই চোরের মত।

সবচেয়ে কঠিন চুরি হল সদ্য বিবাহিত ঘুমন্ত নারীর গা থেকে গয়ণা খুলে নেয়া। পাশে শুয়ে নিরাসক্তভাবে একে একে সব গয়ণা খুলে নিতে হবে। ঘুমন্ত নারী হয়ত স্বামী ভেবে জড়িয়ে ধরতে পারে, কিন্তু কোনভাবেই বিচলিত হওয়া যাবে না। এ বড় কঠিন পরীক্ষা, শাস্ত্রে নিষেধ মিশনে নেমে শেষ না হওয়া পর্যন্ত যৌনকর্ম করা যাবে না।

দক্ষ পেশাদার চোর আজকাল একেবারে কমে গেছে। এখন দেখা যায় এমেচার পকেটমার/ছিনতাইকারী, এদের কারও চৌরসন্ধি জান নেই। ফলে যত্রতত্র ধরা পড়ে, গণপিটুনির শিকার হয়। বছর কয়েক আগে পত্রিকায় দেখেছিলাম শনি আখড়ায় ছিনতাইকারীরা মহা সম্মেলন করেছে। সেখানে ঘোষণা এসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও থানা-পুলিশের হয়রানি কমাতে, ছিনতাই বাড়াতে হবে। আগে শনি আখড়া লাইনে ৫০ টা ছিনতাই হত, এখন থেকে ১০০টা হবে।

পেশাদারিত্বের অভাব চোখে পড়ার মত। ভাল বিশ্বাসযোগ্য একমপ্লিসের অভাবে মাল ঠিকমত হাপিস করতেও জানে না। সুইস ব্যান্ক, মালয়েশিয়া,দুবাই, ইয়াবা টাইপ বিজনেসে বিনিয়োগ না করে তারা সরকারী টিন চুরি করে , বালিশের ভেতরে নগদ টাকা ,ডলার রেখে হাজতবাস করে। ঠিকঠাকমত ভাল থানদারের(সুইস) কাছে মাল চালান করে দিতে পারলে এরাই সংস্কারক হতে পারত।

সেলেব্রেটি বড়লোকের আছে আরেক চোর স্বভাব, ক্লেপ্টোম্যানিয়া। দামী কোন কিছু চুরি করবে না। ছোটখাট অপ্রয়োজনীয় জিনিস যা ইচ্ছে করলেই কিনতে পারবে তা চুরি করে। বিখ্যাত লোকের বাসায় ত্রাণের শাড়ি দেখলে সেরকম কিছুই মনে হয়।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৮
বিহংগ বলেছেন: সবচেয়ে কঠিন চুরি হল সদ্য বিবাহিত ঘুমন্ত নারীর গা থেকে গয়ণা খুলে নেয়া। পাশে শুয়ে নিরাসক্তভাবে একে একে সব গয়ণা খুলে নিতে হবে। ঘুমন্ত নারী হয়ত স্বামী ভেবে জড়িয়ে ধরতে পারে, কিন্তু কোনভাবেই বিচলিত হওয়া যাবে না। এ বড় কঠিন পরীক্ষা, শাস্ত্রে নিষেধ মিশনে নেমে শেষ না হওয়া পর্যন্ত যৌনকর্ম করা যাবে না।৫
আজকে ব্লগীয় জীবনের সবচেয়ে ভালো দিন। একের পর এক ভালো লেখা আসছে।
৩. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:২০
ফারহান দাউদ বলেছেন: খাইসে। আপনেও নাইমা পড়েন,অনেক কলাকৌশল জানেন দেখি।
৪. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:২১
রাশেদ বলেছেন: বাপরে! বিশাল গবেষনা দেখতেছি!!
৫. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।
দাউদ,
অন্যান্য পেশার মত বাংলাদেশে এ কাজেও পেশাদারিত্বের অভাব, ভাবছি নেমে পড়ব কিনা।
৬. ২৯ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:৩৮
স্বপ্নকথক বলেছেন: খাইচেরে খাইচে! এতো পুরা পেশাদারী পোস্ট!
২৯ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার কাজে লেগেছে জেনে খুশী হলাম। :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬৫১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
‘আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না
আড়ম্বর করি, কাজ করি না
যাহা অনুষ্ঠান করি, তাহা বিশ্বাস করি না
যাহা বিশ্বাস করি, তাহা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ