somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ হেমলক সোসাইটি

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেঁচে থাকাটা একটা শিল্প । বেঁচে থাকতে ইচ্ছে লাগে , ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ থাকতে হয় । হতাশা থেকে আপনি আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন কিন্তু সেই আত্নহত্যা করাটাও একটা শিল্পের পর্যায়ে পরে । আপনি চাইলেই আত্নহত্যা করতে পারবেন না , তার জন্যে অনেক সাহস থাকা চাই । কিভাবে আপনি আত্নহত্যা করতে চান তা আপনার জানা নাও থাকতে পারে , আত্নহত্যা করতেও টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকতে হয় । না আমি কাউকে আত্নহত্যা করতে বলছি না জীবনে হতাশ হয়ে । বেঁচে থাকার অনেক উপকরণই আপনার আমার আশে-পাশে আছে , শুধু একটু চেয়ে দেখুন পেয়ে যাবেন । কেউ ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে আত্নহত্যা করতে চায় আবার কেউ অন্যকোন কারণে আত্নহত্যা করতে আগ্রহী হয় । আপনার আত্নহত্যার সম্পন্ন দায়িত্ব নিবে "হেমলক সোসাইটি" । ছবির নামটিই এমন , তবু বলছি জীবন অনেক সুন্দর । আপনি হয়ত ভাবছেন আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে দুখী মানুষ কিন্তু না একটু ভালভাবে চেয়ে দেখুন , আপনার চারপাশে অনেক দুখী মানুষ পাবেন। জীবনে কষ্ট থাকবেই , আর কষ্ট আছে বলেইতো আপনি জীবনটাকে উপভোগ করার জন্যে এত পাগল হন ।


মেঘনা একা একটি ফ্ল্যাটে থাকে , বাবা-মার থেকে আলাদাই থাকে । সে একজনকে ভালোবাসে এবং তাকে বিয়েও করবে কিন্তু তার আচার-আচরণ মেঘনাকে হতাশ করে । তাকে যেন ঘিরে ধরে সমস্ত একাকীত্ব । আর একাকীত্ব থেকে বাঁচার জন্যে সে সিদ্ধান্ত নেই আত্নহত্যার । কিন্তু আত্নহত্যা করতে চাইলেইতো আর আত্নহত্যা করা যায়না , আত্নহত্যা করতেও অনেক সাহস লাগে । যেকোন একভাবে নিজের আত্নহণনের পথ বেছে নিতে গিয়ে আত্নহত্যা সম্পন্ন নাও হতে পারে , তবে তাহলে কিভাবে সম্ভব তা করা ? আনন্দ একটা প্রতিষ্ঠান করেছে যেখানে কিভাবে মানুষকে আত্নহত্যা করতে হবে শিখানো হবে । কিন্তু কেনইবা তার এই রকম একটা প্রতিষ্ঠান করার ইচ্ছে জাগল । সে কি তাহলে মানুষকে গোপনে প্ররোচিত করছে আত্নহত্যা করতে ?


এদিকে মেঘনার কোন খোঁজখবর নেই দেখে তার বাবা- মা হন্যে খুঁজছে কিন্তু মেঘনাতো অন্যরকম এক জগতে প্রবেশ করেছে । সেই জগতে শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় কিভাবে তারা আত্নহত্যার পথ বেছে নেবে । আত্নহত্যা বিভিন্নভাবে করা যায় কিন্তু কিভাবে করলে মৃত্যু আসন্ন হবে , কিভাবে করা সহজ তার বিভিন্ন দিক নিয়েই "হেমলক সোসাইটি"তে শেখানো হয় । বিভিন্ন রকম আত্নহত্যার জন্যে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকও আছে । বিভিন্নভাবে দেখানো হচ্ছে আত্নহত্যার করার নমুনাগুলো কিন্তু কোনটি বেছে নেবে মেঘনা । তার জীবনের আনন্দময় সময়গুলো কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে । সেই প্রতিষ্ঠানে এসেছে মানুষ আত্নহত্যা কিভাবে
করতে হবে তা শিখতে । তাহলে আত্নহত্যার কোন পথ বেছে নেবে মেঘনা । অনেক কিন্তু নিয়েই ক্রমান্বয়ে গল্পের ভেতর থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করান পরিচালক সৃজিত মুখারজি । কিন্তু আত্নহত্যা কোন সমাধান নয় , বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক কিছু করা যাবে । সবারই কিছু না কিছু সমস্যা থাকে আর তা জয় করে বেঁচে থাকাটাই হল আনন্দ । আত্নহত্যা কতটা কষ্টদায়ক এবং মরে গেলে পৃথিবীতে কিছুই করা যায়না ।মূলত আত্নহত্যার আড়ালেই মানুষের মনে জাগিয়ে তোলা হয় বেঁচে থাকার আশা ,আর এটাই ছবির মূল উদ্দেশ্য ।


ছবিতে ভালো অভিনয় করেছেন প্রায় প্রতিটিঅভিনয়শিল্পী । তবে বিশেষভাবে বলতে হয় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এর কথা । অসাধারণ এক শুরু করেছেন একের পর এক তার কথার মাধ্যমে আর তার অভিনয়তো মনমুগ্ধ হয়ে দেখেছি । তার ডায়ালগ ডেলিভারি সব ছিল অসম্ভব সুন্দর ।এ ছবিটির বিভিন্ন দৃশ্যায়নে অভিনয় করেছেন - সব্যসাচী চক্রবর্তী ,পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, কোয়েল মল্লিকসহ আরও অনেকে । ছবিটির গল্প লেখায় এবং পরিচালনায় ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখারজি । ছবির মিউজিকে ছিলেন অনুপম রায় । ছবিটি প্রযোজনা করেছে শ্রীভেঙ্কেটেশ ফিল্মস ।


ছবির কাহিনীর গমন , তার প্রয়োজনে বিভিন্ন চরিত্রের আগমন তা দারুণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখারজি । ছবির সেট , মেকআপ , দৃশ্যায়ন আর ছবির কথোপকথন এক কথায় দর্শককে দারুণভাবে নাড়া দিতে সক্ষম । ছবির গানগুলোও ছিল মনে রাখার মত । জীবনের গুরুত্ব এবং জীবনের পরিণাম সব এক ফ্রেমে বন্দী করতে দারুণভাবে সক্ষম হয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখারজি । এ জন্যে তিনি অবশ্যই এক কথায় প্রশংসার দাবিদার ।

ছবির নাম-"হেমলক সোসাইটি"
বিদ্রঃ ইহার কোন শাখা নেই
মুক্তিসাল-২০১২
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:১৩
১৩টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×