আমার প্রিয় পোস্ট
- গল্পঃ বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে - মোস্তাফিজ রিপন
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- স্মৃতি হন্তারক বৃস্টিতে থ্যাঁতলানো কয়েকজন আর উড়াল সেতু জুড়ে ধাবমান কদম - আকাশচুরি
- চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং-( ধারাবাহিক উপন্যাস -শেষ কিস্তি ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- বাজেয়াপ্ত নজরুল কাব্যগ্রন্থ এবং তাঁর কারাজীবন এর কথা/আদনান সৈয়দ - স্ট্যানলি কুবরিক
- বীভৎস যৌন নির্যাতন, কিন্তু এড়িয়ে গেছেন সবাই - শেরিফ আল সায়ার
- ইসলাম শান্তির/অশান্তির ধর্ম নিয়ে ব্লগার আরিফুর রহমানের সাথে আলোচনা। - হ্যারি সেলডন
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- এসো ৭১ এর গল্প শোনাই সবাই মিলে - জ্বিনের বাদশা
- ক্লেদাক্ত বৃষ্টিতে নতুন ঈশ্বরের সাথে......(উৎসর্গ রাশেদ ও এক্সিমো) - অন্যমনস্ক শরৎ
- একাত্তরের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনঃ কিছু সাক্ষীর বয়ান - রাশেদ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- অভিশপ্ত এই খুনীদেরও চিনতে হবে ঘৃণাভরে... - অমি রহমান পিয়াল
- আমি অপার হয়ে বসে আছি ----- (লালন ফকির) - বিষাক্ত মানুষ
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের তালিকা - ফারহান দাউদ
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- স্বাধীনতার পরিক্রমা - বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - রাগিব
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- লাল গাড়ি ও আমাদের লাল বালিকারা - মাদারি
- পাঁচ বঙ্গসন্তানের কমনওয়েলথ জয় (এক অন্য রকমের বিজয় উদযাপন) - মিরাজ
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- হিন্দু না ওরা মুসলিম। কাজী নজরুলের এ লিখাটি পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো। - বিহংগ
- মা বলেছিলেন- 'একদিন বুঝবি'(আজ...মাকে স্মরণ) ! - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং-(ধারাবাহিক উপন্যাস,কিস্তি -৮)
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:২১
![]()
![]()
আয়ুর প্রথম হৃদয়মথিত শব্দ
মনুষত্যের প্রথম দীক্ষা যে উচ্চারণে
তারই সম্মানে তাঁরা যুথিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল !!
--------------------------------হাসান হাফিজুর রহমান ।
তাঁদের সম্মানে, ভাষা শহীদ মহান বীরদের সম্মানে দু'পয়সার মানুষের এই দু'পয়সার উৎসর্গ, এই শ্রদ্ধার্ঘ্য...
কিস্তি -১ কিস্তি- ২ কিস্তি -৩ কিস্তি - ৪ কিস্তি -৫ কিস্তি -৬ কিস্তি -৭
আট
মাষ্টার আতাউর রহমান মেয়ের জন্মদিন মনে রাখতে পারেন না । তিনি ভুলোমনা মানুষ । আজ মনে রেখেছেন । মনে রেখেছেন না বলে, মনে পড়েছে বলাটা ঠিক হবে । সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখনো তিনি জানতেন না আজ ১২ ভাদ্র । আজকাল সবকিছু ইংরেজী তারিখের উপর দিয়ে যাচ্ছে । বাংলা তারিখ মনে রাখার দরকার পড়ছে না ! কখনও দরকার পড়লে তাই ক্যালেন্ডারের পাতায় খোঁজ লাগাতে হয় । কিম্বা দৈনিক পত্রিকার ওপরের দিকে খোদাই করা তারিখই ভরসা ! আজকে ১২ ভাদ্র এই তারিখটা মনে করিয়ে দেবার জন্য মাষ্টার আতাউর হাজী সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ । মনে মনে অনেক কৃতজ্ঞ । হাজী সাহেব যে তারিখটা বলে দিয়েছেন তাও না । হাজী সাহেব 'প্রাতকালীন হন্টন' শেষে ফিরছিলেন । মাষ্টার আতাউরের ফ্ল্যাটের দরজায় টোকা দিলেন । দরজা খুলে দিলেন মাষ্টার আতাউর । বললেন,- ভাইজান; আসেন ভিতরে আসেন।
হাজী সাহেব বললেন,-এখন ভিতরে আসবো না । আইজকের কথা মনে আছেতো ?'
'কি কথা; ভাইজান ?'
'আইজকে আমরা মধুপুর যাবো । বিকেলে ।'
'বিরাট উপকার করলেন ভাইজান, আমি ভুইলা বসে আছি !'
'তৈরী থাইকো !'
'অবশ্যই ভাইজান; অবশ্যই !'
হাজী সাহেব দু'তলায় উঠে গেলেন । মাষ্টার আতাউর ঘরময় পায়চারি করতে থাকলেন । তার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে । ভাল রকম উত্তেজনা ! হঠাৎ তার মনে পড়েছে আজ ১২ ভাদ্র । চন্দ্রাবতীর জন্মদিন ।
মাষ্টার আতাউর রহমান মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন । মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা । তার ধারণা, মেয়েকে তিনি আজ চমকে দেবেন । ভাল মতনই চমকে দেবেন । চমকে দেবার মত ব্যবস্থা করা হয়েছে ! কিন্তু মেয়ের দেখা নেয় । অন্যদিন আরো আগে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । আজ দেরি করছে । আতাউর রহমান অপেক্ষা করছেন, চন্দ্রা রুম থেকে বেরুলেই চমক পর্ব শুরু হবে । অপেক্ষার প্রহর তার কাছে বেশ দীর্ঘ মনে হচ্ছে । এমন সময় চন্দ্রাকে দেখা গেল । আতাউর রহমান মেয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন । তার হাতে ধরা তিনটি গোলাপ । টকটকে লাল, ঈশৎ কালো আর হলদে গোলাপ । মুগ্ধ চোখে চন্দ্রা তার বাবাকে দেখছে । আতাউর রহমান বললেন,- আমার আম্মাজানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ! বাবাকে জড়িয়ে ধরলো চন্দ্রা । আতাউর রহমান মেয়ের কপালে নরম একটা আদর খেলেন । বললেন, - আমার আম্মাজান কি বলতে পারবে, তিনটা গোলাপের ব্যখ্যা কি ?
'কি; বাবা ?'
'তিনটা গোলাপ হলো তিনজন ! আমি, তুই, আর তোর মা !'
চন্দ্রার চোখে হঠাৎ করে ভিজে গেল । মেঝেতে তাকালো সে । বাবাকে সে চোখের পানি দেখাতে চায় না । মাষ্টার আতাউর রহমান মেয়ের হাত ধরে নিজের রুমে নিয়ে গেলন । তার টেবিলের উপর, ছোট্ট একটা কেক সাজানো । কেকের চারপাশে বৃত্তাকারে জ্বলছে ১৮ টি মোমবাতি ! চন্দ্রাবতীর আজ আঠারতম জন্মদিন ।
'তোমার নাম কি ?'
'আক্কাস !'
'আক্কাস ! তুমি রাত্রে কই থাকো ?'
'এইহানেই থাকি !'
'তোমার সাথে আর কে কে থাকেন ?'
'মা থাকে !'
'মা, কই এখন ?'
' কোনদিক জানি গ্যাছে গা !'
'বাবা ? বাবা থাকেন না ?'
'নাহ্ ! বাপেরে কোনুসম দ্যাখি নাই !'
চন্দ্রাবতী আক্কাসের দিকে ঝুকেঁ পড়ে । আক্কাসের একটা হাত ধরে । আক্কাসের হাতটা নোংরা । তাতে চন্দ্রা কোনো সমস্যাবোধ করে না । বরং নোংরা ময়লা দেহের এই শিশুটির হাত ধরতে তার ভাল লাগছে । আক্কাসের মলিন মুখটার দিকে তাকায় চন্দ্রা । চোখ ছলছল করে । পাশে দাঁড়িয়ে চন্দ্রার কান্ড দেখে তিথী । গভীর মনোযোগে দেখে আর উপভোগ করে । এই অভিনব আইডিয়াটা চন্দ্রা কোথায় পেলো, কে জানে ! আজ সকাল নয়টার আগেও তিথী এই আইডিয়ার কিছুই জানতো না ! নয়টা বাজার দশ মিনিট আগে চন্দ্রার ফোন পেলো,- তিথীমণি ! কই আছ ?'
'এইতো ! কলেজের পথে !'
'কলেজ গেইটে দাঁড়াও ! আমি আসতেছি !'
'গেইটে দাঁড়ায়া থাকবো কেন ? ভেতরে আসলেইতো দেখা হবে !'
'নাহ ; দেখা হবে না ! আমি ভেতরে আসবো না !'
'কেন ?'
'আজ রাস্তায় নামবো ! পথিক হবো !'
'কিছুইতো বুঝতেছিনা !'
'সবই বুঝবা ! দশ মিনিট পর !'
কলেজ গেইটে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার কোন মানে হয় না । তিথী তাই লাইব্রেরীর দিকে হাঁটা ধরলো । একটা এসএমএস করে দিলো চন্দ্রাকে,- আমি 'গ্রন্থবিতানে' আছি ! কলেজ গেইট থেকে বাম দিকে অল্পদূরেই গ্রন্থবিতান । গ্রন্থবিতানে বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে তিথীর মনে পড়লো,- আরে ! চন্দ্রার জন্যতো বই কেনা যায় ! বই এর চেয়ে ভালো উপহার আজকের দিনে আর কি হতে পারে ! যেই ভাবা সেই কাজ । খুঁজে পেতে খুব প্রিয় দুটা বই বের করলো তিথী । কিনে ফেললো । চন্দ্রাও আসলো ততোক্ষণে ! বই দু'টা চন্দ্রার হাতে দিয়ে তিথী বললো - হ্যাপী বার্থ ডে চন্দ্রামণি !
'থ্যাঙ্ক য়্যু, তিথীসোনা ! রাত বারোটায় একবার শুভেচ্ছা দিলানা ?'
'সেটাতো শূণ্য প্রহরের শুভেচ্ছা ! তারে তারে শুভেচ্ছা ! এটা উপহার সমেত, সামসামনি শুভেচ্ছা !'
'সানন্দে গৃহীত হইলো !'
'গুড গার্ল ! এইবার বলো, পথিক হবো-মানেটা কি ?'
'মানে হচ্ছে,- তোমার মনটাকে একটা ধূলোমাখা পথ করো...আমি পথিক হবো...! পার্থ'র গান !'
'নো হেঁয়ালিপনা , সোনামণি !'
'ঠিকাছে, শোন ! আমার ইচ্ছা, তিথী নামের বদ মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবো । ঘুরে বেড়াবো আর মিষ্টি বিলাবো !'
'মিষ্টি বিলাবি ! সেইটা কেমন ?'
'ধর, আমাদের হাতে থাকবে মিষ্টির কার্টন ! সুদর্শন পোলাপান দেখলেই সামনে গিয়ে বলবো,- ভইয়া; স্লামুলায়কুম ! ভাল আছেন ? আজ আমার জন্মদিন ! নেন মিষ্টি খান !'
'আবার ফাজলামী !'
আচ্ছা শোন, আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো সেটা ঠিক আছে । মিষ্টি বিলাবো তাও ঠিক । তবে, এমন কাওকে-যারা খুব কমই ভালো খেতে পায় !'
'যেমন ?'
'পথশিশুদের !'
'দারুণতো !'
'হুঁ !'
এরপর রাস্তায় নামলো তারা । হাঁটতে হাঁটতে ছিন্নমূল শিশুর সন্ধান । প্রথম যাকে সামনে পাওয়া যাবে, তাকেই ধরা হবে ! সেই হবে আজকের মিশনের প্রথম টার্গেট । চন্দ্রার প্রথম অতিথি । আক্কাসকেই প্রথমে পাওয়া গেল । আক্কাসের ভাগ্যটা আজ সুপ্রসন্নই বলতে হবে । তার জন্য আছে আজ স্পেশাল মেনু । সে যা খেতে চায়, তা-ই খাওয়ানো হবে । ইচ্ছেমাপিক । আক্কাস ফুটপাথে বসে ছিল । বয়স সাত-আট হবে । সামনে বিছানো একখানা গামছা । পুরনো ময়লা গামছা । লোকজন সেখানে এক-দুই টাকা করে ফেলে যাচ্ছে । সিকি আধুলিও ফেলছে কেউ কেউ ! অচল আনির মত প্রায় অচল এই পয়সাগুলো দিয়ে এখন আর বঙ্গদেশে কি পাওয়া যায়; কে জানে ! আক্কাসদের কাছে তবু সেইটাও মূল্যবান । সিকি আধুলি জমে জমে হয়তো তাদের জন্য হয়ে ওঠে- একটা কিছু সম্বল ! আক্কাসকে দেখেই চন্দ্রা আক্কাসের কাছে গিয়ে কথা বলতে শুরু করলো । সেই আলাপ এখন চলমান ! চন্দ্রা বললো,-
'আক্কাস ! এইবার আমাদের আলাপের বিষয় বদলানো যাক । খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আলাপ চলতে পারে ! সকালে নাস্তা খেয়েছো ?'
'হ ! খাইছি !'
'কি খেয়েছো ?'
'পরোটা হালুয়া !'
'পরাটা -হালুয়া খেতে তোমার কেমন লাগে ?'
'বালা লাগে !'
'পরাটা হালুয়া ছাড়া আর কি খেতে তোমার লোভ হয় ?'
'সুখ-পরোটা !'
সুখ পরোটার -কথা শুনে চন্দ্রা ভ্রু কোঁচকায় ! সুখ পরোটা কি জিনিষ ! 'পরোটা' বুঝা গেছে, কিন্তু 'সুখ' জিনিষটা কি আসলে ! তিথীর দিকে তাকায় চন্দ্রা ! তিথী হাসছে । হাসি থামিয়ে তিথী বললো,-'স্যুপ পরাটা !' এবার চন্দ্রার হাসার পালা ! আক্কাসের উদ্দেশ্যে সে বললো,- চলো যাওয়া যাক । তোমাকে 'সুখ-পরোটা' খাওয়াবো ! আক্কাস এইবার ধাক্কার মতো খেলো ! মোটামুটি হতভম্ব হয়ে গেল সে । এমনিতেই এতোক্ষণ সে বিরক্ত হচ্ছিল । 'পরীর মতন সোন্দর এই আফাটা কি মনে কইরা এতোসময় বকর বকার করতেছিলো' -সেটা ভেবে বিরক্ত ! এখন তার অনুভূতি হচ্ছে মিশ্র ! একটু একটু আনন্দ হচ্ছে । আসলেই যদি স্যুপ পরাটা খাওয়া যায়- সেই আনন্দ ! আবার একরকম সন্দেহও হচ্ছে । ভীতিজনক সন্দেহ । এরা চায় কি ! এই দুই আফার আসল মতলব কি; -সেটা নিয়ে আক্কাস ভাবিত ! আক্কাসকে তাড়া লাগালো চন্দ্রা ,- কই ! তোমার গামছা গোটাও । চলো যাই !
'কই যামু ?'
'সামনের হোটেলে । তুমি যা খেতে চাও খাবে ! যতো খুশী খাবে !'
হোটেলে বসে গপাগপ স্যুপ পরোটা খাচ্ছে একটি শিশু ! শিশুটির আবাস পথপাশ; -তাই একে পথশিশু ডাকা হয় ! চন্দ্রা আর তিথী চেয়ে চেয়ে বুভুক্ষু শিশুটির খাবার দৃশ্য দেখছে । চন্দ্রার চোখ ভিজে ওঠেছে আবার । শরৎ চন্দ্রের নায়িকারা অতি যত্নে তাদের নায়কদের খাওয়াতে পছন্দ করতো । সেরকম কোনো নায়ক চন্দ্রার নেই । না থাকলেও চন্দ্রা বুঝতে পারছে, নিশ্চিত করেই বুঝতে পারছে, এই শিশুটির মতো একজনকে খাওয়ানোর আনন্দ কোন অংশেই নিজের নায়ককে সযত্নে খাওয়ানোর চেয়ে কম নয় ! চন্দ্রার খুব দুঃখ হয়, তার অনেক টাকা নেই ! যদি কখনও তার অনেক টাকা হয়, এই শিশুর মতো ক'জনকে সে নিজের কাছে এনে রাখবে,-মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় । দৃঢ় সিদ্ধান্ত ।
হোটেল ভর্তি মানুষগুলোর দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে একটি দৃশ্যে । অপূর্ব সেই দৃশ্য । অপরূপ সুন্দরী দুই তরুণী একজন পথশিশুকে খাওয়াচ্ছে ! কতো যত্ন করেইনা খাওয়াচ্ছে !
[আগামী পর্বে সমাপ্য]
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উপন্যাস.. ;
প্রকাশ করা হয়েছে: উপন্যাস লেখার কোশিশ.. বিভাগে ।
রাশেদ বলেছেন:
ভাল্লাগছে। তবে আগের পর্বটা আবার একটু চোখ বুলাতে হবে আমার, একটু ভুলে গেছি। লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাশেদ ।
আগের পর্বের রেশ এই পর্বে কমই আছে ।
আগামী পর্বে পাওয়া যাবে । শেষ করে ফেলবো ।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ভালো হচ্ছে ... চালান ... +++++একটা মন্তব্য করি, যদি কিছু মনে না করেন, কথোপকথন লেখার সময় কি হুমায়ুন আহমেদের প্রভাব অনুভব করেন?
লেখক বলেছেন: ...বাদশা ভাই ! আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগছে । আরো আগেই আপনর মতামত পাবার ইচ্ছা হচ্ছিল । ভাবছিলাম, চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে আপনার ।
হুমায়ুন আহমেদের প্রভাব ঠিক হয়তো বলবো না । আমার পক্ষে তেমন বলা সম্ভবওনা । সেটা আপনারই বলবেন । পাঠক আর সমালোচকরা। আমি শুধু এইটুকু বলে রাখি, হুমায়ুনি স্টাইলটা আমার খুব পছন্দ । যদিও হুমায়ুনের মতো করে লেখা আমার পক্ষে একদমই সম্ভব নয় । হুমায়ুন এদেশে একজন । অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, তবে, বঙ্গদেশে দ্বিতীয় আর কোন হুমায়ুন আসবে না বলেই আমার মনে হয় ।
বাদশা ভাই,কিছু মনে করার কোন প্রশ্নই আসেনা । আমি এমন মতামতই চাইছি । নিজের ভুলগুলো ধরতে যাতে আমার সুবিধে হয় । এই পথের নতুন পথিক আমি । অনেক ভুল হয়তো থাকতে পারে ।
আগামী পর্বে শেষ করে দেবো । আপনাদের প্রাণ খোলা মতামত আশা করবো । আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন ।
কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই । অশেষ ধন্যবাদ, ভ্রাত !
লেখক বলেছেন: নগর বাউল ! একটা গান শুনান !![]()
ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: সাইফুর ভাই গো
কচ্ছপের ক্যাপটার ওজন একটু বেশী হইয়া গেলনা।
দেখা যায় না ক্যান ? চলবে না আর বেশী ! ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: তোমারেও প্লাস ![]()
প্লাসে প্লাসে...হা হা হা !
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুকুল ভাই ! ভেঙ্গে ভেঙ্গে এইভাবে ধারাবাহিক উপন্যাস পড়তে ভাল লাগেনা জানিয়েও, পড়ার জন্য এবং সঙ্গ দেবার জন্য ।![]()
বোঘদাদি হেকিম বলেছেন:
মুকুলের সাথে একমত
লেখক বলেছেন: আমি আপনের লগে একমত বস...![]()
সাইফুর বলেছেন:
শিপন ভাই কেমন আছেন....?
লেখক বলেছেন: আরে সাইফুর ! আমি ভাল, আপনি কেমন ?
কচ্ছপটার ভারী মুকুট বদল হইয়া, মুকুটের নীচের সাদা চুল এইবার প্রকাশ হইয়া গেল ! বুইড়া হইয়া গেছে বেচারা ![]()
লেখক বলেছেন:
আপনি গ্রাফিক্স-এর কাজ করেন নাকি ?
সাইফুর বলেছেন:
জ্বি ভাই
লেখক বলেছেন: হুঁমম....সেরকমই ধারণা করছিলাম..
দেশে আইলে কামে লাগবেন আপনি !![]()
লেখক বলেছেন: হুম যোগাযোগ হবে । আমার মেইল আইডি উপরে আছে ।
দেশে যখন আসবো, তার আগে অবশ্যই জানবেন !
এই অধমও ফটোশপে এক-আধটু কাজ করতাম, অনভ্যাসে বিদ্যা রাশ হইছে ![]()
লেখক বলেছেন: *বিদ্যা হ্রাস হইছে..
লেখক বলেছেন: হ ! বয়সের দোষ..![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: আরে ! শামীম ভাই ! ধারাবাহিকতো প্রায় শেষের পথে ! এতোদিনে পড়লেন
আগের কিস্তিগুলা পড়ছেন ?
মেইল চেক করতেছি ।
লেখক বলেছেন: হা হা হা ! সেইটা একটা কাজের কাজ হবে ! ![]()
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
হুম .... পরের পর্বের অপেক্ষায় ।
লেখক বলেছেন: পরের পর্বই শেষ পর্ব ! অপেক্ষায় থাকেন !
আর কড়া একখান সমালোচনা তৈরী করেন ![]()
লেখক বলেছেন: হ ! নাদু ! আমিওতো তাই কই ! ক্যামনে মিস করলেন এতোদিন !![]()
সব পইড়া কমেন্ট দিয়েন, কেমন পঁচা লাগছে জানাইয়া ![]()
মিরাজ বলেছেন:
এই পর্বে আবার পুরনো (৩-৬) পর্বগুলির স্বাদ পেলাম । চমৎকার লাগলো ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মিরাজ ভাই ।
আগামী পর্বে সব রহস্য খুলে যাবে !
রাশেদ বলেছেন:
পরের পর্ব কই!!
লেখক বলেছেন: রাশেদ ভাইডি ! পরের পর্ব অর্থাৎ শেষ পর্ব আয়তে শনিবার ধরবো মনে লয় !![]()
লেখক বলেছেন: দৌড়ের উপর আছি রে ভাই ! তাই খানিকটা সময় নিচ্ছি । আগামী পর্বে ধারাবাহিকটি শেষ করে দেবো । সেজন্য মাথায়ও প্যাঁচ লেগে আছে । যে পর্বটা লেখা সবচে' সহজ হবে ভেবেছিলাম, সেটায় এখন বেশী কঠিন লাগতেছে ।
ধন্যবাদ অপেক্ষার জন্য । আসবে দু'একদিনে ।
ইরতেজা বলেছেন:
শিপন ভাই দারুন হয়েছে। আর ওই হুমায়ুনের ব্যাপারটাতে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। আমাদের সবার লেখাই কার না কার সাথে মিলতেই পারে। আপনার স্টাইল খুবি সাবলিন। আবার বলছি খুব ভালো হয়েছে/
লেখক বলেছেন: প্রাণখোলা মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ইরতেজা !
হুমায়ুনের ব্যাপারটা নিয়ে আমি আসলেই ভাবছিনা । কারণ, আমার পক্ষে হুমায়ুন হওয়া সম্ভব নয় ।
লেখক বলেছেন: যাক ! শেষ পর্যন্ত যে মিস করেন নাই, সেটাই বড় কথা ![]()
আন্তরিক ধন্যবাদ এ-যাত্রার নতুন সহযাত্রী হবার জন্য ।
সবগুলো পড়ে সমালোচনামূলক একটা কড়া মন্তব্য দেবেন আশা করছি ।
লেখক বলেছেন: আরো দুটা দিন অপেক্ষা করতে হবে,ভ্রাত ! ভীষণ ব্যস্ত ।
পুরো লেখা মাথায় আছে । ব্যস্ততার দরুন নামাতে পারছিনা ।
তবে শীঘ্রই পারবো আশা করছি ।
আগামী পর্বটি হবে শেষ পর্ব । ইরতেজা আপনার প্রাণখোলা অংশগ্রহণ কাম্য ।


















