somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... THANK YOU AND GOOD BYE : পাঁচ বছর পূর্তির পোস্ট কিংবা বিদায়ী মর্সিয়া বিলাপ !
আমরা তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এর কথা ভুলে দেশ গড়ার ফতোয়াকে অস্বীকার করতাম । যুদ্ধাপরাধীদের পরবর্তী প্রজন্ম ভার্চুয়াল রাজাকার, যারা মুক্তিযুদ্ধে ৩০লক্ষ শহীদ হলো কী হলোনা, অগুণতি মা-বোন ধর্ষিতা হলো কী হলোনা, সে বিষয় সন্দেহ প্রকাশের স্পর্ধা পায় , শহীদ বা ধর্ষিতার সংখ্যা আরো কম হলেও যে আদতে কোন ফারাক পড়ে না, প্রকৃতপক্ষে একেকটা বলিদান যে একেকটা বিশাল ত্যাগ, একেকটা পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়া, যারা বুঝেও বুঝতে চায়না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শব্দপাতের লড়াই এ উত্তীর্ণ হতাম । পাকী পতাকাখচিত পোস্ট প্রথম পাতা থেকে বিতাড়ণের জন্য আমরা দু'লাইনের ছন্দবদ্ধ কবিতা বা এক লাইনের গালাগাল সমৃদ্ধ পোস্ট এর প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতাম । সেই বিশেষ প্রজাতিটির জন্য আমরা কাঁঠালপাতা এবং অমসৃণ বাঁশ এর নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ অটুট রাখতাম । আমরা ব্যান খেতাম এবং সোলেমানী বান এর কবলে কখনও আমাদের একেকটা নিক চিরতরে নিহত হয়ে যেতো । আমরা তবু, স্বার্থের জন্য হাসিনা-খালেদার মতো যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে আঁতাত করতাম না । আমরা স্বপ্ন দেখতাম ক্ষমতার চেয়ার বদল হলে, অনেক কিছুরই বদল হবে। ক্ষমতার চেয়ার বদল হলে অনেক কিছুরই বদল হয়, বিমানবন্দরের নাম বদল হয়,ক্ষমতার পকেট বদল হয়, কিন্তু চরিত্র বদল হয়না । যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এর মূলোটিকে আমাদের নাকের সামনে বিভৎসরূপে ঝুলে থাকতে দেখি । ঝুলন্ত মুলোর আঘাতে এখন আমাদের নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরে !

'ভারত বিশাল রাস্ট্র,ভারতীয়রা থু থু দিয়া বাংলাদেশরে ডুবায়া দিতে পারে'- এই জাতীয় ম্যাৎকার করতো যেসব ভাছা বা ভারতীয় ছাগল, তাদের জন্য ছিলো আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সুখপ্রদ সুশীল বচন । আমরা তাদের আহ্বান করতাম,"নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর সঙ্গে ব্লেড এর মূল্যও কিঞ্চিত অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়াতে বাংলাদেশীদের নিম্নাঙ্গের কেশরাজী দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে । হে ভারতীয় বন্ধুগণ ! বঙ্গদেশীদের নিম্নাঙ্গের দীর্ঘ কেশরাজী উৎপাটনে যেন আপনাদের সদয় মর্জি হয় ।"

বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ-এ হয়তো তখন আমরা একটা পরিবারের মতই ছিলাম , পরিবারের ধারণাটাও হয়তো ভুল ছিল, কারণ আমাদের অগ্রজদের আমরা হতাশ হতে দেখেছিলাম এবং হাতি-ঘোড়া মারা ছেড়ে তাদের বেদনাবিদ্ধ প্রস্থান দেখেছিলাম, বা বলা ভালো, নিজেদের গোয়ালের গরুটির জন্য ঘাসের সন্ধানেই হয়তো তারা বেরিয়ে গিয়েছিলেন । পরের ঘরে বাতি জ্বালানোর দিন শেষ,-এই সত্য উপলব্দির সঙ্গে সঙ্গে হয়তো সবাইকেই নিজের ঘরের বাতি এবং তার জন্য তেল এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে হয়

Click This Link কারণ, আমাদের অগ্রজ, সমসাময়িক এমনকি অনুজদের এভাবে চলে যেতে দেখেছিলাম । এভাবেই চলে যেতে হয় একদিন । আমিও যাই । আজ এলো যে নতুন, তার জন্য জায়গা করে দিয়ে যাই ।

আফসোস: প্রিন্ট মিডিয়ার আট টাকার বড় বড় পাতাগুলোতে লেখে ভড়িয়ে ফেলেন যেসব লেখকরা, বা অসফল সাহিত্যিক এবং তথাকথিত সফল সাহিত্য সম্পাদকের সাহিত্যপাতায় নিত্য সাহিত্যের ছা'পোনা প্রসব করেন যেসব বিদগ্ধ লেখক- কবি, তাদের নাকখানি বিভৎসরকম উঁচু । উঁচু নাকের জন্য অনেক দৃশ্যমান বস্তুও তাদের অদেখা থেকে যায় । ফলে, ওয়েবলগ এর লেখকদের তারা দেখেন না বলে নাকচ করে দিতে চান । আদতে, সাহিত্যের ছা-পোনা প্রসব করা সেইসব ফরমায়েশী লেখকদের চে' দশগুণ ভালো লেখেন এরকম অন্তত শ'খানেক ব্লগার বিভিন্ন ব্লগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন । এসব ব্লগারদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হতে পারতো বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ । হতে-হতেও হয়নি , ভুলের জন্য । আফসোস !
অপূর্ণ ইচ্ছা : আমার প্রিয় পোস্টের তালিকাকে সমৃদ্ধ করা লেখাগুলোকে মলাটবদ্ধ করবার সুপ্ত একটা ইচ্ছা ছিল এবং আছে । সময়-সুযোগ করে লেখকদের অনুমতি নিয়ে যদি লেখাগুলোকে মলাটবদ্ধ করবার সৌভাগ্য হয় তো, সঙ্গে এই ব্লগের আরো কিছু লেখা থাকবে , যেগুলো স্মৃতিতে গেঁথে রয়েছে ।

ধন্যবাদ হে ভালোবাসা : ভালোবাসার জন্য আমরা হাতের মুঠোয় প্রাণ নেইনি, তবে, বাংলাভাষার প্রথম ব্লগ-বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ এর জন্য আমাদের ভালোবাসার খামতি ছিল না কোনদিন ! ভাষাকে আরো বেশী করে ভালোবাসবার সুযোগ করে দেবার জন্য - ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ।


শু ভ বি দা য় । থ্যাংক য়্যু, গুড লাক এ্যন্ড গুড বাই ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29427676 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29427676 2011-08-08 08:35:49
সাকিবের ঔদ্ধত্য, লিবিয়াতে মরনাপন্ন বাংলাদেশী আর লজ্জা লাঘব করা ফয়সাল মাসুমরা 'এতোজন ব্যাটসম্যান এতো বাজেভাবে একদিনে আউট হলেন, কোন মনস্তাত্বিক সমস্যা ?' সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের কান্ডারীর হাস্যমুখী সপ্রতিভ জবাব,- 'ইচ্ছে করে !'
'লাঞ্চে নাকি সুস্বাদু খাবার ছিলো, তা খাবার জন্যই সবাই জলদি...' রসে টইটম্বুর সাকিব মিয়া রসবোধের পরিচয় দিতে গেলেও, সেইখানে আমরা রসালো কিছুই পাইনা, আমরা লজ্জা পাই ! ১৬ কোটি মানুষের আবেগ, প্রেম আর চেতনা নিয়া উপহাস করা সাকিবের বালখিল্যতায় আমরা লজ্জা পাই !

কৃতিত্ব উপভোগ করবার ধৈর্য ঈশ্বর সবাইরে দেন না । সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে আত্মতৃপ্তি কখনও যায়না । পরস্পরের শত্রু তারা । আত্মতৃপ্তিতে ভোগা, ধরাকে সরা জ্ঞান করা মানে , নিজের ফুরিয়ে যাবার জানান দেয়া । পৃথিবীর সেরা সৃষ্টিশীলরা তাই, সেরা বিনয়ীও ! প্রায় দু'বছর ধরে বিশ্বের এক নাম্বার ক্রিকেটার সাকিব যখন কলাম লেখেন, আর আমাদের ক্রিকেটে সাবেক ক্রিকেটারদের অবদান কি , এরকম অশ্রদ্ধাপূর্ণ প্রশ্নের উত্থাপন এর দুঃসাহস করেন, ওই ঔদ্ধত্য তখন সাকিবের পতনের কালঘন্টা হয়েই আমাদের ব্যথাতুর করে !

প্রিয় সাকিব, ভালো ক্রিকেটার হবার সঙ্গে সঙ্গে ভালো মানুষ হওয়াটাও খুবই জরুরি ! ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব কোন ছেলে খেলা না ! এদেশের ক্রিকেটকে আপনি অনেক দিয়েছেন, নিশ্চয় দিয়েছেন ! এই দেশ এবং ক্রিকেটও আপনাকে অনেক দিয়েছে । ক্রিকেটার না হলে আপনি সাকিবকে কেউ চিনতো না ! ক্রিকেট যদি একবার আপনাকে ত্যাগ করে তো, কেউ আপনাকে পুছবেওনা ! খেয়াল করে, আপনি ক্রিকেটকে ত্যাগ করতে হবেনা, ক্রিকেট যদি আপনাকে ত্যাগ করে.. !

২.
বাংলার প্রতিনিধি সুবিধাপ্রাপ্ত সাকিব যখন মানুষের আবেগকে পুঁজি করে তামাশা করছেন, ঠিক সেই সময়ে, লিবিয়াতে আটকা পড়া অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশীর ক'জন প্রাণ হারিয়েছেন নানাভাবে । খাদ্য সঙ্কটও এর মাঝে অন্যতম । প্রবাসীরা এই দেশ মায়েরই সন্তান । কিন্তু সর্বত্র তাঁরা আচরণটা পেয়ে থাকেন, বাংলার বহুল আলোচিত চরিত্র 'সৎ মায়ের সন্তানের মতো !' নিজে প্রবাসী হিসাবে, শেয়াল-কুকুরের মতে পথে প্রান্তে মরে থাকা সেইসব প্রবাসী ভাইদের জন্য আমি অশ্রুপাত করবোনা, আমি কাঁদবোনা ! শুধু বলবো, মরো বাঙালী ; মরো ! কাল আমিও মরে পরে থাকবো হয়তো কোথাও ! কার অতো সময় খবর নেবার !

৩.
সাকিবদের বাজে ব্যাটিং এ ক্ষুদ্ধ কিছু মানুষ প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাসে পাথর ছুঁড়ে ক্ষোভ মেটাতে চেয়েছেন, আর লজ্জার অতলে ডুবিয়েছেন দেশকে । লজ্জার ভার লাঘব করবার একটা প্রয়াস নিয়েছিলেন কিছু মানুষ ! শেরাটনের সামনে তাঁরা ফুল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন ! আরো ছিলো, - WE ARE SORRY লেখা প্লা কার্ড ! ওয়েষ্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ড্যারেন সামী ফুল গ্রহণ করেছেন, ছবি তুলেছেন নিজেদের ক্যামেরায় !













আমাদের নত মাথাকে উঁচু করে তুলবার এই প্রয়াসের জন্য দাঁড়িয়ে সম্মান জানাই, ফটোগ্রাফার ফয়সল মাসুম, তাবরেজ মাহমুদের মতো মানুষদের !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29339692 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29339692 2011-03-07 05:32:01
মডারেটরবৃন্দের প্রতি খোলা চিঠি : পাকীস্তানের পতাকা ব্লগে দেখতে চাইনা

প্রিয় সামহ্যোয়ারইন মডারেটরবৃন্দ,
একুশের শুভেচ্ছা । রক্ত দিয়ে ভাষা অর্জনের কৃতিত্ব শুধু আমাদেরই আছে । যেখান থেকে মূলত আমাদের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিলো । ফেব্রুয়ারির একুশ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । ভাষার অধিকার ফিরে পাবার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলে আমাদের প্রাণের মেলা ,-বইমেলা । মাসব্যাপী বইমেলা আমাদের জমিয়ে রাখে, কিংবা আমরা জমজমাট জমিয়ে রাখি বইমেলা । এক তথ্যে জানা যায়, গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলায় প্রকাশীত বই এর সংখ্যা ২০হাজার ! ২০হাজার না, ২০০টি না, এরমধ্য থেকে যদি ২০টি বইও আমাদেরকে আলোকিত করতে পারে , তবে মাসব্যাপী এই দুর্দান্ত আয়োজন সার্থক । সার্থক রফিক, সালাম, বরকত , জব্বারের আত্মদান এবং তাঁদের প্রতি, তাঁদের স্মরণে আমাদের এই অকৃত্রিম শ্রদ্ধার প্রকাশ ।

ভাষার এই মাসে, প্রিয় সামহ্যোয়ারইনব্লগে আমি পাকীস্তানের পতাকা দেখতে চাইনা । কোন মাসেই আসলে পাকীস্তানের পতাকা এই ব্লগের প্রথম পাতায় আমি দেখতে চাইনা । আমার দৃষ্টির জন্য এটি পীড়াদায়ক । আমার হৃদয়ের জন্য এটি তীব্র বেদনাদায়ক । যে ভুলে ভুলুক, আমি ভুলতে পারিনা, পাকীস্তানী হায়েনা দ্বারা আমার বাবার সামনে আমার মায়ের সম্ভ্রমহানী ! কিংবা আমার মায়ের চোখের সামনে তাঁর মেয়ের অমানবিক নির্যাতনের কথা আমি ভুলতে পারিনা । আমি অতোটা মহৎ হতে পারিনা । উদার হতে পারিনা । কারণ, বিরঙ্গনা সব মা , আমার মা ! সব বোন আমার বোন !
পাকীস্তানী খেলোয়াড়রা যে পূর্বপুরুষের রক্তের প্রবাহ ধারণ করে, যেই পূর্বপুরুষরা মুসলিম ছিলো, ইসলামের দোহায় দিতো, অথচ বাংলার মুসলিমদের হত্যা করবার সময়, নারীদের ধর্ষণ করবার সময়, হাজার হাজার নারীকে তাদের ক্যাম্পে আটক করে দিনের পর দিন উলঙ্গ রেখে, তাঁদের লজ্জাস্থানে বেয়নট খুঁচিয়ে মারবার সময়, পশুর মতো শিশু হত্যার সময়, তাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের কথা একবারও মনে রাখেনি, নারী-শিশু হত্যা বিষয়ে ইসলামের বিধানের কথা মনে রাখেনি, শুধু ইসলাম আর মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের দোহায় দেয়া তাঁদের সমর্থনকারীদের মুখে আমি নিঃসঙ্কোচে থু থু দেই ! কারণ আমি জানি, এই ভ্রাতৃত্ববোধের কথা নির্লজ্জ নোংরামী, ভন্ডামী ছাড়া কিছু না !
এই নির্লজ্জ নোংরামী দেখে আমি আর আমার মতো যাদের শরীর ঘৃণায় রি রি করে, যারা বেদনায় নীল হয়, তাদের অনুভূতির প্রতি খানিকটা সম্মান কি আপনারা দেখাতে পারেন ?



এরকম ঘৃণ্য যে কোন প্রচারণা কি আপনারা বন্ধ করতে পারেন ?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29334938 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29334938 2011-02-27 03:43:06
আসেন খেলা দেখি আর আড্ডাই:জিতে গেছি ! জিতে গেছি !! জিতে গেছি!!!
বাংলাদেশ ২০৫/১০ (৪৯.২)
সাবাশ টাইগার্স ! বাঘের থাবা দেখিয়ে দিলো !

আয়ারল্যান্ড ১৭৮/১০ (৪৫)

খেলা দেখার লিঙ্ক
খেলা দেখার লিঙ্ক


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29333795 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29333795 2011-02-25 14:42:05
স্বপ্নের পথে এক পা, আসছে আমার প্রথম উপন্যাস- 'চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং'
প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য Click This Link
জাগৃতি প্রকাশনী
স্টল, ১৯৬-১৯৭

১.
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ! যে ভদ্রলোক কথাটি বলে গেছেন, বেশ সাহসের সঙ্গে সত্য বলেছেন । স্বপ্ন থাকলে হাতের মুঠোয় স্বপ্ন ছোঁবার দুরন্ত কাঙ্ক্ষা আর নিরন্তর প্রয়াস জারি থাকে । স্বপ্ন ধরবার জন্য হাত বাড়ালে হাতটাকে যখন ছোট মনে হয়, চৌকাঠে ঝুলে-ঝুলে, ঝুলে-ঝুলে , হাতটাকে বড় করতে হয় । নিজের আয়াতনও বাড়াতে হয় । অবশ্য, আদনান সামী টাইপ আয়াতন না, তা ।

স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোতো হলো । যেতে হবে বহু- বহুদূর ! Miles to go before I sleep..miles to go before I sleep. পথটা কন্টকাকীর্ণ, তবে অসাধ্য না ।

২.
চন্দ্রাবতী নামের কিশোরীটি যখন আমার মাথার ভেতর বসত গড়তে শুরু করে, রাত -বিরাতে তখন আমার ঘুম ছুটে যায় । আমি ছটফট করি । কাগজ -কলম নিয়ে বসি । চন্দ্রাবতী কলমে ধরা দেয়না । দিন যায়, মাথার ভেতর চন্দ্রাবতী ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে । তার শরীর বাড়তে থাকে । ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পড়তে শেখে । কিশোরী থেকে তরুণীতে পরিণত হয় । এরই মধ্যে ঘটে যায় ঘটনাগুলো । তার দুঃখ আমাকে দুঃখী করে তোলে । কলমে নেমে আসে সে ।

৩.
২০০৮ এর একুশের বইমেলা চলছে তখন । সেই মেলাতে এলো ব্লগ এবং ব্লগের বাইরে সমান তালে লেখেন, এমন দু'জন ব্লগারের বই । আরিফ জেবতিক ভাই Click This Link এর 'তাকে ডেকেছিল ধূলিমাখা চাঁদ' এবং অমিত আহমেদ http://www.somewhereinblog.net/blog/aumitblog এর- নির্বাচিত গল্পের বই , 'গন্দম' । দুটি বই ই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিলো । তখন প্রতিদিনই বইমেলার তরতাজা খবরে সরগরম ব্লগ । সে সময়ে, সসংকোচে 'চন্দ্রাবতী' প্রথম আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করলো সামহ্যোয়ারইন ব্লগে । প্রথম কিস্তির পর সঙ্কোচ খানিকটা কাটলো । সুহৃদ সহব্লগার বন্ধুরা দারুণ অভ্যর্থনায় তাকে সাদরে বরণ করে নিলো । প্রকাশের ধারাবাহিকতা রক্ষার তাগাদাতে তাঁরা আঠার মতো লেগে থাকলো । তাঁদের আন্তরিক প্রেরণায় প্রাণীত হয়েই বোধকরি সে সময় চন্দ্রাবতীর মোটামুটি একটি রূপ দাঁড় করানো গিয়েছিলো । সে সময়ের অনেক ব্লগারই আজ আর ব্লগে নেই । সময়ের সাক্ষী হয়ে তাঁদের ব্লগ বাড়িগুলোই শুধু রয়ে গেছে এবং থাকবে ।

প্রিয় সুহৃদ, আপনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ।

৪.
ফেব্রুয়ারী ২০০৮ এর ব্লগের চন্দ্রাবতী ফেব্রুয়ারী ২০১১ তে নতুন সাজে, নতুন রূপে, মলাটবদ্ধ হয়ে আসছে । মাঝের বছরগুলোতে চন্দ্রাবতী অনেক বেশী পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত এবং পরিণত ।

উপন্যাসের চন্দ্রাবতী এবং তাঁর যেসব সহপাঠিনীরা তিনবছর আগে সর্বপ্রথম 'নারীর যৌন হয়রানী এবং ইভ টিজিং' এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল, তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল, যে আগুন ছড়িয়ে গিয়েছিলো প্রায় সবখানে, তারা কি সফল হয়েছিল ? তারা কি সফল হয়নি ?

যৌন হয়রানী এবং নিয়ত টিজিং এর শিকার বাস্তবের 'চন্দ্রাবতীরা' কেমন আছে ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29317236 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29317236 2011-01-30 17:01:18
জামাত শিবিরের সঙ্গে সহ আন্দোলনের ফতোয়াকে অস্বীকার করি, যত্রতত্র "ছাগু-রাজাকার" ট্যাগিং এর রাজনীতিকেও প্রত্যাখ্যান করি । ছাগবান্ধব লোকজন ছাড়া ব্লগের বিশাল একটি গোষ্ঠি সবসময় 'ছাগতাড়ুয়া' হিসাবে কাজ করেছে । রাজনৈতিক পরিচয় বা আস্তিক-নাস্তিক দ্বন্দ্বের উর্ধ্ব উঠেই তারা সেটা করেছে, যার যার জায়গা থেকে করেছে, সফলও হয়েছে । ছাগুরা কখনই বাংলা ব্লগে (ছাগুদের খোয়াড়গুলো ছাড়া) বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি । পারবেওনা ।

আমগো রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেও জামাতের লগে সহাবস্থানের ফতোয়ারে অস্বীকার করে । কিন্তু তারা জামাতের ইফতার পার্টিতে , বা জামাত উপস্থিত আছে এমন পার্টিতে দন্ত বিকশিত কইরা হাজির হয় । পাশাপাশি টেবিলে বইসা 'আহারাদি' গ্রহণ করে , এমনকি একই মঞ্চে বইসা বক্তিমাও দেয় ! তাদের কেউ কেউ আবার এগো লগে কোয়ালিশন সরকারও গঠন করে ! সেইসব রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর ব্লগারগো মাঝে তপাৎ হইলো, রাজনৈতীকরা কপট ! তারা জাইনা -শুইনা ভুল করে । ব্লগারেরা কপট না, ছাগ তাড়ানোতে তারা আন্তরিক । তারা ভুল করে, না জাইনা ।

আমার দেশে গতকালের মানববন্ধের যে রিপোর্ট আসছে , তাতে চিহ্নিত কিছু ছাগুর নিক দেখা যায় ! তারপাশেই আবার ছাগতাড়ুয়া নিকও ! কেম্নে কি ! ভুল বুঝাবুঝি ! যারা গেছে তারা আন্তরিক ছিলো । বছরের পর বছর বিএসএফ এর নির্মম , অন্যায়ভাবে বাংলাদেশী হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়তেই তারা গেছে । তারা ব্যবহৃত হইছে , বুঝতে পারে নাই । তাই, তাগো প্রতি আমার সমর্থন এবং শ্রদ্ধা জানাই ।

কৌশিক, পাথুরে বা শামসীরকে ছাগু বললে, বা এরকম ইঙ্গিত করলেও সেটা আত্মঘাতী হবে । এখানে 'ছাগতাড়ুয়া' বা জাশী বিরোধীগো ব্যর্থতাটাও বাই ডিফল্ট চইলা আসে । যদি মানব বন্ধনটা জাশীর হয়, তয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনায় জ্বলতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলা কি করে ? ব্লগে হাতি-ঘোড়া মারা কি-বোর্ড সিপাহী আমরাইবা কি করি ! আমরা কেন জাশীর আগে মানব বন্ধনের ডাক দিতে পারি নাই , আমরা কেন পিছায়ে আছি ? আমরা কি মনে করিনা, ভারতের এই আগ্রাসী , নির্মমতার তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত ? এইটার জবাব আমি ছাগতাড়ুয়া জাশি বিরোধী সব ব্লগারের কাছ থেকে আশা করি ।

পারভেজ আলম মানববন্ধনের সঙ্গে থাকবেন বলেছিলেন । শেষ পর্যন্ত তিনি কি গিয়েছিলেন ? এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য মতামত আশা করি ।

কথা হলো, জাতিগতভাবে আমগো একটা বিরাট দোষ হইলো, যে কোন বিষয়ে দুই ভাগ হয়া যাওয়া । ইভ টিজিং বিরোধী ক্যাম্পেইনেও সেইটা হইতে দেখছি । কাজটা ভালো । সেইটারেও সবাই স্বাগত জানাইতে পারে নাই । সেইখানেও আস্তিক -নাস্তিক রাজনীতি টাইনা আনছে । যা অনভিপ্রেত । ভালো যে কোন কিছুরে স্বাগত জানানোর মানসিকতা আমগোরে তৈরী করতে হবে ।

'ভালোবাসি' শব্দটা নাকি চর্বিত চর্বনে মান হারায়ছে । যে ভালোবাসে, সত্যিকার ভালোবাসে, কিংবা যে বাসেনা,- ছল করে, তারা উভয়েই 'ভালোবাসি' বইলা মুখে ফেনা তোলে । তাই শব্দটা 'মানহীন' !

'ছাগু' শব্দটা বাংলা ব্লগের একটা বিশেষ আবিস্কার । ছাগু হবার যোগ্যরাই কেবল এই বিশেষণ অর্জন করতো । কেপি টেস্ট (কাঁঠালপাতা টেস্ট) পজিটিভ হইলেই, এই উপাধিতে তারে ভূষিত করা হয়তো । রাজাকার শব্দটাও অনুরূপ ।

অথচ , ছাগুদের এখন সম্মানীত করা হয় যারে-তারে, যত্র-তত্র 'ছাগু' ট্যাগিং কইরা । আস্তিক-নাস্তিক একে অন্যরে ছাগু ট্যাগিং করতেছে । লাভবান হইতেছে আদি ও অকৃত্রিম ছাগুরা ।

অনুরোধ করি, ছাগ চিনুন এবং অতঃপর কাঁঠালপাতা খেতে দিন । যত্রতত্র 'ছাগ' সম্বোধন করে আদি ও অকৃত্রিম ছাগুদের সম্মানীত না করি !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29312243 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29312243 2011-01-22 17:01:23
ফেলানীর মৃত্যু ফেলনা না, হাসিনার কাছে ফেলনা হতে পারে, আমাদের কাছে না !

একজন ফেলানী ফেলনা না ! কোন বাংলাদেশীর প্রাণই ফেলনা হতে পারে না । হাসিনার কাছে ফেলনা হতে পারে । খালেদার কাছে ফেলনা হতে পারে । তীব্রভাবে প্রতিবাদ জানাবার ভাষা তাদের অজানা থাকতে পারে । তারা ভারতপ্রভূর পদলেহী হতে পারে । হাসিনা ভারতপ্রেমে অন্ধ হতে পারে, ক্ষমতারমোহে ভুলে যেতে পারে,-- এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের অপমৃত্যু রোধ করবার দায়িত্ব বর্তমানে তার ঘারেই বর্তায় । ভুলে যেতে পারে প্রতিদিন সীমান্তে পাখির মতো বাংলাদেশী মানুষ মারে বিএসএফ নামের কুকুরগুলো । হাজার হাজার নিরীহ মানুষ সীমান্তে প্রাণ দিয়েছে এ যাবৎ ! কুকুরগুলো বারবার বলেছে , এরকম ভুল আর হবেনা । নির্মম উপহাসের মতো পরক্ষণেই আবার বাংলাদেশীর লাশ ফেলেছে ! হাসিনার সরকার কখনই আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি । হাসিনার সরকার পারেনি, তার নাগরিকের অনভিপ্রেত মৃত্যুর কৈফিয়ত চায়তে ভারতের কাছ থেকে । এই নতজানু, মেরুদন্ডহীন সরকারের প্রতি ঘৃণা জানাতে, ভারত নামের সামন্ত প্রতিবেশীর নিমর্ম হত্যর প্রতিবাদ জানাতে সাধারণকেই পথে নামতে হবে । সাধারণকে দেখিয়ে দিতে হবে প্রতিবাদের তীব্র ভাষা আমাদের অজানা না ।

খালেদা হয়তো ভুলে গেছে একজন যুদ্ধাপরাধী সাকা'র জন্য হরতাল , গাড়ি-ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের চে' বেশী জরুরী এ দেশের প্রতিজন নাগরিকের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা আদায় করা সরকারের কাছ থেকে । সেজন্য খালেদার দল মানববন্ধন করতে পারে, আন্দোলন করতে পারে । কিন্তু তারা তা করবে না । তারা রাজনীতি করবে ক্ষমতার , জনগণের রাজনীতি না ।

প্রিয় বন্ধু, প্রিয়ব্লগার আমাকে -আপনাকে নামতে হবে রাজপথে । সব রকম দলীয় আনুগত্য ভুলে গিয়ে , দলমত নির্বিশেষে আমার দেশের মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চেয়ে পথে নামতে হবে । সময় আজ, এখনি ।

চট্টগ্রামের ব্লগারেরা জেগেছে , চট্টলাবাসী জেগেছে । তারা রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছে । অন্যায় হত্যার প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠুক বাংলার প্রতিটি রাজপথ । প্রতিটি নাগরিক হোক প্রতিবাদী । সেটা সম্ভব । খুব সম্ভব । যেমন আমাদে এক সহব্লগার বন্ধু বলেছেন,-

"শুষ্ক বলেছেন: → ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন → এয়ারটেলের- AIRTEL (পূর্বের ওয়ারিদ) সীম ব্যবহার বন্ধ করুন → ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখা বন্ধ করুন → বলিউডের সিডি-ডিভিডি কেনা বন্ধ করুন → পশ্চিম বাংলার লেখকদের গল্প-উপন্যাস বর্জন করুন→ বাংলাদেশ-ভারত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিবাদ বিশ্ব মিডিয়ার সামনে তুলে ধরুন → ঐক্যবদ্ধ চিন্তাধারার দিকে এগিয়ে আসুন । দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্যের প্রশ্নে কোন দ্বিধা নয় - সংকোচ নয়!"

এভাবে জেগে উঠুক সমগ্র বাংলাদেশ


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29307009 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29307009 2011-01-13 17:53:10
ছোটগল্প : উকুন বাছা রাত কিম্বা সর্ষেফুল দিনের গল্প
আমরা এখন বৈদ্যুতিক আলোয় উকুন বাছি । বিদ্যুৎ আমাদের ফাঁকি দেয়, যেমন আমাদের ভাগ্য প্রায়শই আমাদের ফাঁকি দিতে থাকে । বিদ্যুতের ফাঁকিবাজিকে ফাঁকিবাজ ভাগ্যের মতনই আমরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাই । কারণ, ভাগ্য বদলের কথা যদি বলি, যদি বলি ভাগ্যকে ধরবার জন্যই আমরা গ্রাম ছেড়ে নগরে এসেছি, তবে এ কথা বলা সঙ্গত হবে যে, রামপুর বস্তির দুর্গন্ধময় গলি-ঘুপচিতে আমাদের অনুপ্রবেশ নিশ্চিত করবার আগ মুহূর্তগুলোতে রায়পুর গ্রামের সবুজের পরতে পরতে আমরা আমাদের সারল্যকে লুকিয়ে রেখে এসেছি । আমরা যথেষ্ট নির্লিপ্ত, খানিকটা নিষ্ঠুর আর আত্মপরায়ণ হতে শিখেছি ।

২.

রায়পুর গ্রামে আমরা তখন কুপির আলোতে উকুন বাছতাম । তাই, নাগরিক বিদ্যুতের গরহাজিরা আমাদের বিচলিত করতে অক্ষম । বড়জোর খিস্তি সহযোগে আমরা মোমবাতিতে আগুন দেই, উকুন বাছাতে মনযোগ দেই ফের । বস্তির ফাঁক - ফোকর গলে টুকরা -টাকরা জোছনা কখনও আমাদের অন্ধকারে হানা দিলে জোছনা খন্ড গায়ে মেখে আমরা বসে থাকি । ফিসফাস কথা বলি,- 'বাবা লোকটা কিরম, মা ?' পরীবানুর এহেন অকস্মাৎ প্রশ্নে তখন হয়তো আমাদের মাঝে অযাচিত একটা নীরবতা ভর করে । তখন, বাবার দু'টি চোখ, দু'টি কান, হাত-পা, একটি নাক এবং মুখমন্ডল রয়েছে.. এরকম ভাবনা স্কুলে পড়া রচনার মতো আমার ভেতরে জড়ো হতে থাকে । তখন নীরবতা আমাদের চারপাশে ক্রমশ ঘুরপাক খেতে খেতে একটা নিরবিচ্ছিন্ন জাল তৈরীতে সক্ষম হয় । সেই জাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসবার তাগিদে মা হয়তো তখন কয়টি 'ডাঁশা' মারা পড়লো, সশব্দে সেই হিসাব কষতে থাকেন এবং হৃদয়ের খুব গহিন থেকে অজান্তে একটা শ্বাস ত্যাগ করেন । সেটা প্রচলিত ধারার প্রথাসিদ্ধ দীর্ঘশ্বাস হয়ে ওঠলো কিনা, তা বুঝে উঠবার আগেই মায়ের হৃদয় পোড়া গন্ধ আমাদের নাক ঠিক ঠিক চিনে নেয় ! তখন পরীবানু, যে আমার এক বছরের ছোট, পরীর মতন না হলেও পরীর কাছাকাছি সুন্দর বলে গার্মেন্টসে যাবার পথে যাকে অহরহই নানারকম যৌন উৎপীড়ক মন্তব্য হজম করতে হয়, সে বলে, - 'বাবার কোন ছবি তোমার কাছে নাই, মা ?' মায়ের কঠিন দৃষ্টি পরীবানুতে যেতে যেতে শীতল হয় । ভালোবাসা মোড়ানো মায়ের হাত, হাতের আঙ্গুল পরীবানুর চুলে বিলি কেটে দেয় । আহ্লাদি কন্ঠে মা বলেন, - 'আয়নায় নিজেরে দ্যাখোস না ?' পরীবানু মায়ের মুখে চেয়ে থাকে । বুঝবার চেষ্টা করে,- 'দ্যাখিতো !'
-বাপের মতনইতো হইছস দ্যাখতে তুই !
- বাবার ঠিকানাটা দ্যাওনা !
- ক্যান , কি করবি তুই ?
- বাবার লগে দেখা করুম !
- দেখা কইরা কি অয়বো ?
-কিচ্ছু না, দ্যাখতে মন চায় !
- হের কোন ঠিকানা আমার কাছে নাই !
- আছে, আমি জানি, দ্যাওনা !
-চোপ ! আর কোনসম আমার সামনে হের কথা কইবি না !

তখন আমাদের মাতা-কন্যার সমাবেশে ক্ষণিকের জন্য হলেও পিন পতন নিস্তব্দতা নামে । সভাস্থল থেকে দ্রুত মা নিঃস্ক্রান্ত হলে কিঞ্চিত ছন্দপতন হয় ! তখন বস্তির মাতাল মঈজ তার ভান্ডারে থাকা বাংলা ভাষার যাবতীয় মন্দ শব্দ সমেত মুক্ত হস্তে এলোপাথারি কিল -ঘুষি অকৃপণভাবে তার প্রথম স্ত্রীতে বিলায় ! চার সন্তানের জননী তখন মাটিতে গড়াগড়ি খায় । তার সন্তানদের কান্নার রোল, চিৎকার , বস্তির দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে যেতে থাকলে, বজলু মামার দোকানের সামনে ছেড়া পাউরুটি, ভাঙ্গা বিস্কিট খাওয়া , দু'পা সামনে ছড়িয়ে নতজানু ভঙ্গিতে বসে থাকা বাঘা নামের হাড্ডিসার কুকুরটিও তখন কুঁ...উঁ...কুঁ...উ.. চিৎকারে তাদের কান্নায় সুর মিলায় । বোবা প্রাণীটি শোকাহত মনুষ্য সন্তানদের সঙ্গে এভাবেই শোক প্রকাশে একাত্ম হয় হয়তো । তখন মাতাল মঈজের সদ্য বিবাহীত ছোট বউ হাত ভরতি কাঁচের চুরিতে রিনঝিন রিনঝিন শব্দ তুলে, দু'হাত কোমড়ে রেখে বড় বউয়ের মার খাবার দৃশ্য অবলোকন এবং উপভোগ করে আর বজলু মামার পাশের দোকান 'ঝিলিক অডিও ভিশন' থেকে তখন চড়া সুরে একটা গান মূর্হমূর্হ আমাদের কানে বাজতে থাকে- 'এই বেশ ভালো আছি... এই বেশ ভালো আছি... !'


৩.

রায়পুর গ্রামে ঝিলের জলে আমরা শাপলা তুলতাম । কচুরিপানার নিরাপদ আশ্রমে চুপটি মেরে থাকা ছোট চিংড়িদের ঘাপটি মেরে তালুবদ্ধ করতাম । শাপলা-চিংড়ি রেসিপি আমাদের বিদ্যুৎ চালীত টিভি
চ্যানেলগুলোতে 'সুস্বাস্থ্যবতী রন্ধন কর্ত্রীরা' দর্শকদের জন্য পরিবেশন না করলেও, শাপলা চিংড়ির মোলায়েম স্বাদ চৌধুরী বাড়ি থেকে পাওয়া, প্রথমবার খাওয়া সন্দেশের মতো বহু বছর আমাদের মুখের ভেতর থেকে যায় । অথবা সবুজ কলমিলতা আর কচু শাকের ঘ্রান শহুরে ধনীদের সুগন্ধ বিরানীও আমাদের ভোলাতে ব্যর্থ হয় !


রায়পুর গ্রামে আমরা তখন বেদে -বেদিনীদের সাপের খেলা দেখতাম । নাগ-নাগিনী ছবির সুরের মতন বেদে দলের বংশী বাদন শুনতাম ! আমার তখন বেদিনী সাজে, বেদে দলের যে ছেলেটি চোরা চোখে বারবার আমাকে দেখতো, তার সঙ্গী হয়ে যাবার সাধ জাগতো ! যদিও , রায়পুরের হলুদ সর্ষফুলের গায়ে হলুদ প্রজাপতিদের ছেড়ে যাবার বাসনা সহজ ছিলো না । তখন যখন তীব্র ক্ষুদায় কখনও আমাদের মাথা চক্কর দিয়ে ওঠতো, সর্ষেফুলগুলোকে হঠাৎই নৃত্যশিল্পি বনে যেতে দেখতাম ! আমাদের ক্ষুদার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দলবদ্ধ সর্ষেফুলেরা চোখের সামনে দলীয় নাচন নাচতো !

তখন, চৌধুরীদের দখিন ভিটায় দু'চালা ছনের ছাউনিতে আমাদের ফরমাশ খাটা দিনগুলো এভাবেই অম্লমধুর কাটতো । চৌধুরী বাড়িতে দিনভর বুয়ার কাজ করতেন মা । দিনশেষে চৌধুরাণী যে খাবার দিতেন, তাতে আমাদের তিনটি প্রাণীর আধপেটা রাত মন্দ যেতো না ! চৌধুরী সাহেব লোক ভালো ছিলেন । স্কুলের সভাপতির পদবলে আমাকে তিনি নিখরচায় দশ ক্লাশ পর্যন্ত পড়বার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ।

সেই সময় এক সন্ধ্যায়, রায়পুর গ্রাম তার বুক থেকে আমাদের ত্যাগ করবে মনস্থির করলো ! সেই সন্ধ্যায় চৌধুরীদের সুপারী বাগানে, চৌধুরীদের ছোট ছেলে, আমাদের পরীর কাছাকাছি সুন্দর পরীবানুর পথ আগলে দাঁড়িয়েছিলো । পরীবানুর দু'বাহু খামচে ধরে, পরীবানুর ঠোঁটে সে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়েছিলো ! সেই সন্ধ্যায় ঠিক সেই মুহূর্তেই ভাগ্যক্রমে মা সেখানে উপস্থিত হতে পেরেছিলেন ! সে মধ্যরাতের শেষ নিস্তব্দতায়, আমাদের একমাত্র আশ্রয় চৌধুরীদের দু'চালা ছনের ঘর ছেড়ে বাধ্য হয়েই আমাদের রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে আসতে হয়েছিলো !

৪.

রামপুর বস্তিতে আমাদের অন্ধকার ঝুপরির সমুখ ভাগে টলায়মান একটি মনুষ্য অবয়ব এসে দাঁড়াতে দেখা যায় ! খোঁচা-খোঁচা কাঁচাপাকা দাড়ির চোয়ালভাঙ্গা মুখটির সঙ্গে পরীবানুর চেহারার সাদৃশ্য আমাদের অভিভূত করবার আগেই , হুড়মুড় করে লোকটিকে মাটিতে ভেঙ্গে পড়তে দেখি । আমাদের বিস্ময়াভিভূত তিনজোড়া চোখ তখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ় ! পরীবানু ছুটে লোকটির কাছে যায়, মাথা কোলে তুলে নেয়, কপালে হাত রেখে বলে,- 'জ্বর !'

আমার তখন মনে হতে থাকে, বোধকরি একেই বাবা বলে,বা বাবা এরকমই হয় ! পরীবানুর জন্মের পর মাকে আঁতুরঘরে রেখেই যে পালিয়ে গিয়েছিলো !

............................................................................


[বস্ত্রশিল্পিদের গর্বের অনুষ্ঠান,গানের প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান 'গর্ব' চলছে বাংলা ভিশনে । বিচারকদের সামনে একজন তাঁর জীবনের গল্প শুনাচ্ছিলেন , প্রবাসের ব্যস্ততার ফাঁকে এক ঝলক দেখেছি । নামটিও মনে রাখতে পারিনি ! তিনি বলছিলেন,-- "বাবা ! তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে দোয়া করো... !"

এই গল্প তার হাতে তুলে দিতে পারলে খুব খুশী হতাম ! এই গল্প তাঁর জন্য, তাঁদের জন্য ]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29282960 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29282960 2010-12-03 16:43:05
হাসিনা এ্যন্ড খালেদা আন্টি দু'জন দুজনাতে যেভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় কর্লেন... হাসিনা আমার নাম হইলেও আমি যে হাসি না, তা কিন্তু না ! টিভিতে আমার হাস্যোজ্জ্বল খোমাতো দেখনই । এখনও হাসছি, ভালো লাগার হাসি । আপনারে লেখতে বইসা ভাল্লাগতেছে !

সেইদিন জি সিনেমায় (আমগো জয় এর বাপ ওয়াজেদ মিয়া অনেক আগেই জনগণরে জানায়া গেছে আমি জি সিনেমার ভক্ত, জানেনইতো)একটা মুভি দেখলাম, - 'পিয়ার কিয়াতো ডরনা কিয়া' ! পোলাপাইনের ব্যাপার -স্যাপার ! আমগো কি আর সেইদিন আছে ! তয়, হঠাৎই মনে ভাবনার উদ্রেক হইলো, পিয়ার কি খালি নারী-পুরুষে ! আমাতে- আপনাতেওতো পিয়ার হইতে পারে ! আলবৎ পারে ! আপনার জন্য যে, আমার দিলে পিয়ারভাব পয়দা হইছে, এইটা জানায়তেও আমি ডরামু না !

আমাতে -আপনাতে অনেক মিল, আমরা দু'জনই স্বামীহারা, দু'জনই বড় দু'দলের নেত্রী, দু'জনই একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী, সবচে' বড় মিল, আমরা দু'জনই দু'জনার শাড়ি টানাটানি করতে ভালোবাসি !

কুরবান আসছে, আমিতো দেশের লাইগা আগেই কুরবান হয়া গেছি, জানেন ! আইসা দেইখা যায়েন, দাওয়াত রইলো ! আপনেও যেন কুরবান হয়তে পারেন, এই শুভ কামনায়-- ঈদ মোবারক !

(বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আপনেরে কোন কিছুতেই ডাকেনা, এই বদনাম কইরেন না য্যান আর ! )

...............................

হাসিনা বু'জি !
গরু মেরে জুতাদান--এইরম কথা বাংলাভাষায় আছে ! আপনে সেইটারেও ছাড়ায়া গেছেন ! আপনেতো জুতা মাইরা গরুদান করতেছেন ! 'পিয়ারভাবের' নমুনা সেদিন বিটিভিও দেখাইলো ! তয়, দুজনই 'স্বামীহারা' কথাটা কয়া মনটা আদ্র কইরা দিলেন ! বিধবার দুঃখ বিধবা বুঝবেনাতো, কে বুঝবে ! ওয়াজেদ মিয়া লোক ভালো আছিলো ! আফসোস ; তার বউ ভাগ্যটা ভালো ছিলোনা !<img src=" style="border:0;" />

তোমার ঘরে লাগছে ঈদ
আমার চোখে নাইকো নিদ !

দেশের লাইগা কুরবান আমিও কি হই নাই ! আমরা দুইজনই কি দেশ জনগণের লাইগা জান কুরবান করার রাজনীতি করিনা ! এইটাওতো আমগো বড়ো মিল !

শাড়ি টানাটানির খেলাটা খারাপ না, তয়, এই বয়সে নাঙ্গা হইতে আর ভাল্লাগেনা ! আসেন আমরা ভালা হয়া যাই ! ঈদ মোবারক !

(লোকজন বলে আমার বয়স আপনের চেয়েও কম হবে ; দেখেন না, কেমন মাঞ্জা মাইরা থাকি ! তুমি কইরা বইলেন ) <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29273167 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29273167 2010-11-16 13:25:45
রহস্য সাহিত্যে নতুনদের প্রতিনিধি, নাফে ভাই, আমিও দুঃখিত !
রহস্য সাহিত্যের বিকাশে নতুনদের প্রতিনিধি...

উফ্ ! মাত্র পাঁচটি শব্দ ! অথচ কি উজ্জ্বল শিখার মতনই না জ্বলজ্বল করে আমাদের জানান দিচ্ছে, জীবন্ত কীংবদন্তী এক মহাপ্রাণের কথা !

বড় আশায়, বড় এই মানুষের ব্লগ বাড়িতে গিয়েছিলাম, একখানা মন্তব্যদানে বর্তে যাবার টানে; কিন্তু -

দুঃখিত, আপনার এখানে মন্তব্য করার অনুমতি নেই ।

লাইনটি আমার হৃদয়কে চৌচির না, চৌ দু গুণে আটচির করে দিলো ।

আমিও দুঃখিত নাফে ভাই ! আপনাতে মন্তব্যদানে ব্যর্থ হয়ে, এ জীবন বড় অর্থহীন, বিষাদী হয়ে উঠলো আজ !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29272330 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29272330 2010-11-14 23:39:38
প্রতিবাদী শিক্ষক মিজানুর রহমান, প্রতিবাদী মা এবং রূপালী রাণীর মৃত্যুর মিছিল আমাদের অভিসম্পাত না দিক ! 'সাইজ কতো' টাইপ এর মন্তব্য পথে-প্রান্তরে শুনেনি, এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া দুস্কর হবে ! সঙ্গে চলে অনুমান, এতো... এতো.. এতো... হঠাৎ করে উড়ে আসে, -'ছুঁতে ইচ্ছা হয়... !' এরকম কোন শব্দ ! তরুণীর হৃদয় ফালি হয় । পায়ের নিচের মাটি ফালি হয়না । হলে সেই মাটিতে সে ডুব দিতো , ফিরতো না আর !

২.
পথে-ঘাটে, বাস যাত্রীর ভিড়ে, দর্জি দোকানে, লম্বা কোন কিউতে , জনারণ্যের মেলাতে, নারীর স্তন, পাছা..এরকম স্পর্শকাতর জায়গা বিকৃত পুরুষ ছুঁয়ে দেয়নি, এরকম পরিবেশ থেকে বেঁচে আসা কোন সৌভাগ্যবতী নারীর কথা জেনে, সৌভাগ্যবান হতে চাই !

৩.
শৈশবে কাছের আত্মীয় (চাচা, খালু, ফুফা, কাজিন) দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা নেহাৎ কম না । আমরা তাদের কথা জানতে পাইনা । জনে জনে এসে তারা জানিয়ে যায়না । এমনকি নিজের মা-বাবাকেও এই লজ্জার কথা তারা জানাতে পারেনা প্রায় সময় ! জানতে পাবেন, আপনার খুব কাছের (মেয়ে) বন্ধুটিকে আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করুন !

৪.
প্রাপ্ত বয়স্কা নারী পুলিশের আশ্রয়ে পুলিশ কর্তৃক সম্ভ্রম হারিয়ে, আত্মহনন করে প্রাণে বেঁচে যান ! পাঁচ- সাত বছরের কিশোরী ধর্ষীতা হয়ে প্রাণ হারায় । আবার কোন কিশোরী বখাটের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথার গ্লানি সইতে না পেরে পুকুরে ঝাপিয়ে ডুবে মরে !

৫.
লুলুপ গৃহশিক্ষক কর্তৃক যেমন ছাত্রী লাঞ্ছিত হয় । কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃকও ছাত্রী লাঞ্ছিত হয় । খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে , খুব বেশী খোঁজার কষ্ট না করেই এরকম শিক্ষকের তালিকা করা যাবে । জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষকের কথা নিশ্চয় আমরা বিস্মৃত হইনি । বিস্মৃত হলেও , আশ্চর্যের কিছু নেই ! আমাদের গোল্ডফিশ মেমোরি !

৬.
তারপরও একজন শিক্ষক মিজানুর রহমান নিজ ছাত্রীদের বখাটে কর্তৃক যৌন হয়রানীর প্রতিবাদে প্রাণ দিয়ে, আমাদের পথ দেখিয়ে যান । আমাদের বলে যান,- সব শিক্ষক পশু না, কেউ কেউ পশু !

একজন মা প্রতিবাদের বিনিময়ে প্রাণ বিলিয়ে বলে যান, প্রাণের বিনিময়ে হলেও প্রতিবাদী হবার দরকার আছে !

১৬ বছরের রূপালী রাণী তার বিরুদ্ধে কৃত অন্যায়ের প্রতিবাদে আত্মহত্যা করে সেই মৃত্যুর মিছিলকে আরো শোকাতুর করে তোলেন ।

আমাদের তখন প্রার্থনা, এই মৃত্যুর মিছিল আমাদের অভিসম্পাৎ না দিক ! কারণ, আমরা প্রতিবাদী না, আমরা প্রতিবাদ করতে জানিনা !

৭.
সব কিছু সয়ে নেবার পরীক্ষায় আমরা উত্তীর্ণ ! আমাদের চোখের সামনে কোন দুস্কৃতি মানুষের পেট এপোড়-ওপোড় করে দিলে, সেই দৃশ্য হয়তো আমাদের তাড়িত করে, তবে খুব কম সময় ।

এসিডে ঝলসানো, অন্য কারো বোনের মুখ দেখে আমাদের হয়তো ভাবনা হয়, এই ঝলসানো মুখ আমার বোনেরও হতে পারতো ! কিন্তু পরক্ষণেই, আমাদের ভীরুতার জয় হয় । আমরা আশান্বিত হবার ভান করি, - 'নাহ্, আমার বোনের, আমার কন্যার বেলাতে এরকম ঘটবে না !

আদতে এভাবেই আমরা আমাদের রক্ত প্রবাহকে বরফ শীতলতার সঙ্গে বিনিময় করে নিয়েছি !

এই পৃথিবী কেবল পুরুষের না, বরং নারীরও, অর্থাৎ মানুষের পৃথিবী । মানুষের পৃথিবী থেকে বিকৃত পুরুষের জন্য নারী অবাঞ্চিত হতে পারেনা । পুরুষের বিকৃত মানসিকতার বিপরীতে পুরুষ এবং নারীর সংঘবদ্ধ প্রতিবাদই, সময় এবং সমাজকে বদলে দিতে পারে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29265385 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29265385 2010-11-02 02:40:44
রূপগঞ্জে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু : যৌনহয়রানির প্রতিবাদে সোচ্চার শিক্ষকের প্রাণ নাশ : কিবোর্ড সিপাহীর দু'পয়সা "রূপগঞ্জের সহযাত্রী"- নামের গল্পটি ২০০৪-তে যখন আমি লেখি, তখন রূপগঞ্জ নামটি আমার কল্পনার হলেও আমি জানতাম, এই নামে এই দেশে একটা জায়গা নিশ্চয় আছে । আর এখন আমি জানি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ জায়গাটিতে বাপ-দাদার ভিটে মাটির ন্যায্য হিস্যার প্রতিবাদে, ন্যায্য মূল্য পাবার আকুতিতে, কিম্বা শেষ সম্বল ভিটে-মাটি না ছাড়ার যৌক্তিক প্রতিবাদে সেখানকার মানুষ নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারায় । গুলিতে তাদের প্রাণ হরণ করে, এই দেশের প্রাণ রক্ষাকারী হিসাবে নিয়োজীত বাহিনী ! তাদের অপরাধ, সরকারের প্রয়োজনে যে জমি সরকার, 'ইচ্ছাস্বাধীন' ভাবে নিয়ে নিচ্ছে, সে জমির মালিক হিসাবে তারা জমির বর্তমান বাজার মূল্য পেতে চায়, নামমাত্র দামে তাদের জমি দখলের বা বাপ-দাদার ভিটে - মাটি ত্যাগের সরকারী ফতোয়াকে তারা অস্বীকার করে !

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যখন চলেছিল, আমরা জানি, প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, বাপ-দাদার ভিটে মাটির মায়া ছাড়তে না পেরে, সে মাটি কামড়ে মৃত্যুকে মাথার উপরের শূলের মতো ঝুলিয়ে রেখে অনেকে পড়েছিলো ।

২.
'ইভ টিজিং' শব্দটিতে কখনই এর ভয়াবহতা, এমনকি নিকৃষ্টতা পুরোপুরি উঠে আসেনা । 'যৌন হয়রানি' শব্দটিই এক্ষেত্রে যথার্থ হতে পারে । পুরুষের লুলুপতার শিকার নারী কতোভাবেই না হতে পারে, পুরুষ প্রজাতিটির সে কথা অজানা নয় । পুরুষ প্রজাতিটির কেউ কেউ বিকৃতিতে পশু প্রজাতি হয়ে উঠলে, তখন আমরা ধর্ষণের খবর পায়, কিম্বা অনেক ধর্ষণের খবর ধর্ষিতা এবং তার পরিবার সজ্ঞানে চেপে যায়, সামাজিক ভাবে আরো বেশী হেনস্থা না হবার লজ্জায়, সেসব খবর আমরা পাইনা । আমরা খবর পাই, পুলিশের হেফাজতে নারী তার সম্ভ্রম হারায় এবং অসহায়ত্বের শেষ বিন্দুতে , নারীটি তার স্বেচ্ছামৃত্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে যায় । তারও বহু বছর পর আমরা খবর পাই, কিশোরী, যৌন হয়রানীর শিকার হয় পুরুষের জীভ দ্বারা ; সহ্য ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে কিশোরী তখন লজ্জায়, ঘৃণায় পুকুরে ঝাপিয়ে লজ্জার সঙ্গে নিজের জীবন ধুয়ে ফেলে চিরতরে। তারওপর আমরা খবর পাই , ৫ বছরের কিশোরী ধর্ষীতা হয়ে প্রাণ হারায় । তারও অনেকদিন পরে, 'যৌনহয়রানীর' বিরুদ্ধে আমাদের আইনপ্রস্তুতকারীরা সজাগ হয়ে আইন তৈরী করে, এবং তারও পরে, যৌনহয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নাটোরে শিক্ষক মিজানুর রহমান পিশাচদের আঘাতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে যান । কিন্তু জিতে যান আদর্শের সঙ্গে । তার অগণিত ছাত্র-ছাত্রী যখন প্রিয় শিক্ষকের জন্য কেঁদে বুক ভাসায়, তখন তার ছাত্র যারা নন, তারাও হয়তো শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রিয়জন হারাবার বেদনাবোধ করেন ।

বিনা প্রাণে আমাদের অর্জিত হয়না কিছুই । শ্রদ্ধেয় প্রতিবাদী শিক্ষক মিজানুর রহমানের প্রাণের বিনিময়ে এবার যদি, পথে ঘাটে , প্রান্তরে নারীর যৌন হয়রানীর প্রতিকার এদেশে কিছু মেলে !

৩.
কলম সৈনিকের সমার্থক হয়ে কি-বোর্ড সিপাহীরা কি-বোর্ডে ঝড় তুলতে পারে । তা দেখে টিপ্পনি কেটে কেউ অবজ্ঞার হাসির সঙ্গে শ্লেষ মিশিয়ে বলতেও পারে,- 'বাপু ! তোমাদের কি -বোর্ড বিপ্লবে কার কি উপকার প্রাপ্তী হয় ! আমি তবু, কি বোর্ড সিপহী-ই হতে চাই । কি-বোর্ডের ভাষাতেই প্রতিবাদ জানাতে চাই । প্রতিবাদের যে দরজাটা আমার জন্য খোলা সেটা কাজে লাগাতে চাই ।

সরকার তথা সেনাবাহিনীর অযৌক্তিক এবং অন্যায়ভাবে জমিদখলের প্রতিবাদে সোচ্চার মানুষদের স্যালুট জানাই । এই প্রতিবাদীরাই এই দেশকে নতুন মানচিত্র এবং পতাকা দিয়েছে । এই দেশকে টিকিয়ে রাখবে, প্রাণ দিয়ে হলেও অন্যায় এর প্রতিবাদ করতে পারা মানুষরাই । সবকিছু সহ্যে'র মধ্যে নিয়ে আসার আমাদের নিত্য প্রতিযোগীতায়, যে দু'একটা আলোর রেখা ধূমকেতুর মতো হঠাৎ আমরা দেখতে পাই, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মিজানুর রহমান এর মতো, বিরলপ্রজ সেইসব পথ দেখানো আলোর রেখাগুলোর প্রতি দাঁড়িয়ে সম্মান জানাই ।
"কলম সৈনিক এবং কি-বোর্ড সিপাহীদের হাতগুলো, এবং হৃদয়গুলো সচল থাক !"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29260851 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29260851 2010-10-25 02:17:08
দুই নেত্রীর বচন : রাজনীতির সর্বাঙ্গে পচন এক

বাংলাদেশের রাজনীতির শরীরে পচনের শুরুটা হয়তো হয়েছিলো, নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট হিসাবে দাবী করে আসা দল আওয়ামীলীগের নেত্রী যেদিন, দলীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখবার জন্য নিজামীর সঙ্গে একই মঞ্চে বসে বক্তিমা ঝাড়তে একাত্ম হয়েছিলেন ! কিম্বা তারও আগে, লুইস আঙ্কেল এরশাদ যখন, রাজাকার মান্নানকে তার সরকারের ধর্মমন্ত্রী বানিয়েছিলেন । রাজনীতির হৃৎপিন্ডের পচন শুরু হয়েছিল, আপোষহীন নেত্রী যখন, জামাতের সঙ্গে আপোষ করে, তাদের মন্ত্রীত্ব উপহার দিয়ে , দেশের পতাকা তাদের গাড়িতে লাগিয়ে ঘুরবার মতন অশোভন কাজটি করবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ! সেই দেশের পতাকা, যে দেশের জন্মলগ্নে দেশটির জন্মকে অস্বীকার করেছিল এই যুদ্ধাপরাধীরা । খালেদা যখন , যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে দেশকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেবার মন্ত্রনা হিসাবে দেখেন, তখন, প্রকারান্তরে তার বন্ধুদল জামাতকে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগই করে দেন । সেটা বুঝা যায়, আওয়ামীলীগ এর 'যুদ্ধাপরাধীর বিচার' 'যুদ্ধাপরাধীর বিচার' নামক নাটককে (নাটক এজন্য যে, আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু বাচিয়ে না রেখে শেষ করবে, তাদের দু'বছরের কার্যক্রম দেখে অন্তত তা মনে হবার যথেষ্ট কারণ নেই ) বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জামাতের যুদ্ধাপরাধী নেতারা যখন একের পর এক যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে হাস্য-রসাত্মক মন্তব্য করে স্পর্ধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন !


দুই

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন । আমাদের একটা বাস নদীতে নিমজ্জিত হলে যখন প্রায়, ৭০ জন নাগরিকের প্রাণ নদের জলে ভেসে যায়, যখন বাসটি তুলতে ৫৪ ঘন্টা সময় লাগে, এমনকি দূর্ভাগাদের লাশটিও তাদের প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখবার সৌভাগ্য ঘটেনা, সেই দৃশ্য দেখে যখন, গণতন্ত্রের গণমানুষ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাতে ২০ লাখের মতো মানুষ প্রাণ হারাবার দৃশ্যটি কল্পনা করেন, এবং অনুধাবন করেন যে, ভূমিকম্পের ২০দিন পর ২০টি লাশ উদ্ধারের পরই হয়তো উদ্ধার কাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে, কারণ, ৫৪ঘন্টায় নিমজ্জিত বাস উদ্ধারের কাহিনী আমাদের সেই সামর্থের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেয় ! তখন, আমাদের দুই নেত্রী অশ্লীল লাশের রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকেন । আমাদের একনেত্রী তার সমাভেশে ট্রেনে কাটা পাঁচটি লাশ নিয়ে মর্সিয়া গীত গায়তে গিয়ে নিছক দূর্ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হত্যা বলে রাজনীতি করেন । আমাদের অন্যনেত্রী যিনি আবার দেশের সর্ব্বোচ্চ আসনে অধিষ্টিত, দেশের অভিভাবকের জায়গা থেকে তিনি শিশুসূলভ দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতি দিয়ে বিনোদন বঞ্চিত নাগরিককে কাতুকুতুতে হাসানোর ব্যর্থ চেষ্টায় রত থাকেন । তখন, নিমজ্জিত বাসের প্রায় ৭০টি লাশ পাঁচটি রাজনৈতিক লাশের কাছে পরাজীত হয় ! তখন দুই নেত্রীর কাউকেউ সেই অভাগা ৭০ জনের জন্য মর্সিয়া বিলাপ জুড়তে দেখা যায়না, শোকগ্রস্থ হতে দেখা যায়না । সেই লাশগুলোর কাছে তাদের ছুটে যেতে দেখা যায়না, কারণ তখন তারা তাদের নগ্ন রাজনীতিতে নিমজ্জিত হয়ে থাকেন ।

আমান বাজারের ৭০ টি লাশের চে, খালেদার সমাভেশের ৫টি লাশের মূল্য কি বেশী ? সেই ৭০টি লাশের চে' রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসীনার দলীয় ক্যাডারের ৩টি লাশের দাম কতো বেশী ?

এই ঝগড়াটে দুই বৃদ্ধা, যাদের দেখে বস্তীবাসী ঝগড়াটে দুই বুড়ির কথা, কিম্বা শিক্ষা, বস্ত্র - বাসস্থান বঞ্চিত কোন গেয়োঁ মহিলার কথা মনে পড়ে যায়, তারা কেন, আমান বাজারের লাশগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারেননা ?

তাদের এই উতকট রাজনীতি থেকে আমরা নিস্তার চাই । নিস্তার আমাদেরই হাতে । তাদের অন্ধ আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসবার শুভ বোধের উদয় হোক, দুই দলের অন্ধ সমর্থকদের মন এবং মননে !


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29257440 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29257440 2010-10-18 23:12:38
পোলাপাইন কি দেখাইলো ! টাশকিত !! সাবাশ বাংলাদেশ !!! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> প্রথম ম্যাচে জয়ের পর উচ্ছাস দেখাই নাই । কারণ, উচ্ছাসবোধ করি নাই । জয়ের ধারাবাহিকতার অপেক্ষায় ছিলাম । এখনো জয়ের ধারাবাহিকতার অপেক্ষায় আছি । তবে, আজ যা দেখাইলো বাংলার তরুণরা, 'টাইগার্স' নামটা খানিকটা হইলেও স্বার্থক ! আশা করা যায়, সিরিজটা বাংলাদেশ জিতবে । জেতা উচিত ।

শাহরিয়ার নাফিজ এর প্রত্যাবর্তনটা হয়েছে দুর্দান্ত ! অভিনন্দন শাহরিয়ার নাফিজ !

অ ভি ন ন্দ ন লাল সবুজের প্রতিনিধিরা !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29253062 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29253062 2010-10-11 15:19:36
ঈদগল্প : ফুলকলি, লাল জামা আর লাল পুতুল ! এক

সন্ধ্যার পশ্চিম আসমানে যখন কোমর সচেতন নায়িকাগো মতন, চিক্কন ঈদের চাঁদ হাসি দেয়, সেই চাঁদের হাসি দেইখা যখন আমগো বেতার বাংলাদেশের বেতারে বেতারে ইথারে ইথারে ছড়ায়া যায় মনের ভিতর আনন্দের নাচন তোলা দুঃখু মিয়ার সেই চিরযুবতী গান,- 'রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ..!' খুশীতে লাফাইতে লাফাইতে ফুলকলি তখন হাততালি দেয় আর কয়, - 'ঈদ হইবো ! ঈদ হইবো !'

ফুলকলি তখন তাগো সাদা উঠান যেইটার কোণায় কোণায় সাদা গন্ধরাজ, হলুদ গেন্দা, আর লাল লাল ন'টা ফুল ফুইটা থাকে সবুজ লতার ভিতর ভিতর,-সেই উঠানের মধ্যখানে আইসা খাড়ায় । পিছন পিছন তার মাও আসে, ঈদের চাঁদ আর মাইয়ার খুশী দুইটাই তখন তার হাসির উপলক্ষ হয় । দ্বীনদার মুসল্লিরা তখন-'আল্লাহু আকবার আল্লাহুআকবার আল্লাহুআকবার..লা ইলাহা ইল্লাল লা হু আল্লাহুআকবার আল্লাহুআকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ--এই দোয়া পড়তে পড়তে সুন্নত পালনে সজাগ হইয়া যায়, তখন টিভি চ্যানেলওয়ালারা তাগো এক কোণায় দুইটা শিশুর কোলাকুলি কিম্বা কোন মসজিদের মিনার ধারণ কইরা 'ঈদ মোবারক' এই শুভেচ্ছাবাণী আমগো লাইগা লটকায়া দেয় ! 'মোবারক ! তুই শালা ঝুইলা পড়লি'--এই মর্মবাণীতে তখন মোবারক নামের বন্ধুরা কিঞ্চিত হেনস্থা অতঃপর বিব্রত হয় । তখন মমতাজ বানু নাম্নী জনৈকা মহিলা তার ১২ হাজার টাকা দামের শাড়ির একটা ভাঁজ খুইলা নিজের মুখের উপর হালকা কইরা চাইপা রাখে এবং সুঘ্রাণ লয় , তখন মমতাজ বানুর ১২ বছরের মাইয়া মিলিবানু তার ১২ গুণন ৪ = ৪৮ শ' টাকা দামের ঈদের জামা কোলে লইয়া টিভিতে ঈদ আনন্দ মেলার বিজ্ঞাপন দেখে ! এইদিকে ফুলকলির চাচা কলিমুল (যার সংসার ফুলকলিগো থেইকা আলাদা, দিনমজুরী কইরা যে দিনাতিপাত করে), তখন বাজারে গিয়া তার পোলা সলিমুলের লাইগা একটা ফুলওয়ালা গেঞ্জি কিনতে চায়লে, গেঞ্জির দাম ৪৮ টাকা দেইখা সেমাই চিনি কিনার পয়সার খামতি হওনের সম্ভাবনা তারে দ্বন্দ্বে ফালাইয়া দেয় ! তখন ফুলকলির মার যে একটা নোকিয়া ১১শ' মোবাইল আছে, সেই মোবাইলটা বাইজা উঠলে, সৌদী আরব থেইকা ফুলকলির বাপে ফোন করছে দেইখা সে খুশী হয় ।

-কি গো ; আমগোরে মনে পড়লো ?
- তোমরাতো মনেই থাকো !
- মনের মইধ্যে থাকি, না বাইরে ?
- কও কি তুমি এইসব !
- কয়দিন পর ফোন দিলা, আইজ ?
- পাঁচদিন পর ।
- প্রত্যেকদিন ফোন দিলে কি অয় ?
- প্রত্যেকদিন ফোন দিলে কি পয়সা বাচে ?
- উঁম্...হইছে.. !
- ফুলকলি কই ?
- আছেতো !
- হেরে ঈদের কাপড় কিছু কিইনা দিছো ?
- দিছিতো !
- ভালৈছে ! হুনো..!
- কি ?
- কলিমুলরে দুই হাজারটা ট্যাকা দিও, ঈদ আইছে... !
- আইচ্ছা দিমু ! তুমি খাওতো ঠিকমতন ?
- খাই । মাইয়ারে দেওনা এট্টু !
- দিতাছি !

নোকিয়া এগারশ' মোবাইল তখন ফুলকলির ছোট্ট হাতে বদল হইয়া গেলে নরম হাতে কানের লগে মোবাইল ধইরা ফুলকলি কয়,

- বাজান, তুমি আয়বানা ?
- আমুরে মা !
- কবে আয়বা ?
- ঈদের পর !
- ঈদের কয়দিন পর ?
- তাড়াতাড়িই আসুম !
- তোমার লাইগা মন পোড়ে , বাজান !
- আমার আম্মার লাইগাও আমার মন পোড়েতো !
- তুমি তাড়াতাড়ি চইলা আসো..!
- চইলা আসুম । এখন কওতো, আমার আম্মাজানে কি জামা কিনছে ?
- লাল জামা !
- আসার সময় আমার আম্মার লাইগা কি আনুম ?
- কমু ?
- অবশ্যই কয়বেন, আম্মা !
- একটা লাল পুতুল আনবা !
- আইচ্ছা, লাল পুতুল... !

তখন, বঙ্গদেশের বিস্তৃত জমিনে কর্পোরেট মোবাইল ব্যবসায়ীরা যেইখানে তাগো নিজ নিজ জাল বিস্তার কইরা রাখছে, আর যেহেতু তারা রাইত-দিন কথা কওনের লাইগা মাইনষেরে উৎসাহদান কর্মব্রত বিশেষ যত্নে পালন কইরা আসতেছে, সেহেতু অনেকের অনেক মোবাইলই ঠিক একই লগে বাইজা উইঠা থাকবো ! তবে, ঠিক সেই সময়ে নগরীর এক তরুণীর মোবাইল বাইজা উঠনের গল্পটা এইখানে প্রাসঙ্গিক হইবো, যেইখানে অন্যপ্রান্ত থেইকা তরুণীরে জিগায়,

- আপনি কেমন আছেন ?
- সহি সালামত আছি !
- জেনে প্রীত হলাম !
- এই মূল্যবান তথ্য জানার জন্যেই কি আপনি ফোন দিছেন ?
- জ্বি, জ্বনাবা ! আমার আরো বলার ছিলো,- 'আপনাকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা, মোবারকের ঈদ'!
- আপনাকেও ! এইবার তাহলে রাখি ?
- রাখবেন..? তার আগে আর কিছুই কি বলবেন না ?
- একটা কথা বলবো,- আপনার কি সমস্যা ? আপনি আমাকে কেন ফোন দেন ? আপনার সঙ্গে না আমার আড়ি ?
- জ্বি মহিয়সী ; আমার কোন সমস্যা নেই ! আপনি আমার ফোন ধরেন কেন ?
- তুই মানুষ না !
- কথা সত্য ! প্রেমিকরা কখনও কখনও মানুষ থাকেনা ! আপনাকে দেখার জন্য মন আথালিপাথালি করে !
- ঈদের নামাজ পড়ে সোজা আসতে পারবি ?
- আপনি বললে আমি শরতেও কদমফুল জোগার করতে পারি ; বিলিভ মি !
- আঁতলামী অসহ্য লাগে ! শরতে কাশফুল পেলেই আমি ধন্য । সোজা চলে আসবি জায়গামতন !
- মহিয়সীর হুকুম শিরোধার্য !



দুই


ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলির মেলা জইমা উঠলে যখন, আতর বিক্রেতার শিষি ভরতি সুগন্ধ বাতাসে উইড়া যায়তে থাকে, বেলুন বিক্রেতার বেলুন আর শিশু, শিশু আর খেলনা উড়ালজাহাজ, আর প্লাষ্টিকের পাখিরা যখন এক লগে উড়াল দিয়া উইড়া যায়তে থাকে, তরুণীর ফোনের অপর পার্শ্বের কন্ঠনা তখন সশরীরে বন্ধুগো ভিড় গলাইয়া বাইরইয়া আসে । সামনে যে রিক্সাওয়ালাটারে পায়, তার লগে কোলাকুলি কইরা এক লাফে রিক্সায় উইঠা বসলে রিক্সাও তখন উড়ালপঙ্ক্ষী হইয়া উড়াল দেয় ! তখন দোয়েল মার্কা , অথবা সংসদ ভবন, কিম্বা পাটচাষীগো ছবিওয়ালা তরতাজা রঙ্গিন কাগজগুলা জীবন্ত হইয়া ভাগ্যবান শিশুগো পকেটে পকেটে বড়ো বেশী আমোদে খিলখিল কইরা হাসে ; তখনও কিছু কিছু শিশু মসজিদগুলার সামনে, চৌরাস্তার মোড়ে মোড়ে থালা হাতে খাড়াইয়া থাকলে, মাঝে মাঝে তাগো ভাগ্য বাইজা উঠনের টুংটাং শব্দ পাওয়া যায় ! নগরীর তরুণীটিরে তখন সেইরকমই মলিন একঝাঁক কিশোর- কিশোরীগো ভিড়ে খাড়াইয়া থাকতে দেখা যায় ! তার হাতভরতি তখন লাল - সবুজের রং ! সবুজ জমিনে লাল গোলক আঁকা টি-শার্ট কিশোরগো হাতে ; আর সবুজ জামার লগে লাল হাফ প্যান্ট কিশোরীগো হাতে সে যখন তুইলা দেয়, তখন এক ঝলক ঈদের চাঁদ অকস্মাৎ কিশোর -কিশোরীগো চোখে মুখে খেইলা যায় ! তখন, ফোনের অপর পার্শ্বের কন্ঠটা সশরীরে এই জায়গায় হাজির হইলে, এই দৃশ্য দেইখা খানিক ষ্ট্যাচু অব এই নগরী হইয়া সে খাড়াইয়া থাকে ! তারপর যখন সে দুইটা লাল গোলাপ ধইরা তরুণীর সামনে যায়, তরুণী তারে দেখে, দেখে আর হাসে ,

- পাঞ্জাবি গায়ে তোরেতো বর এর মত লাগতেছে !
- সব পুরুষরেই একদিন বর এর মতো লাগে, মাগার সব নারীকেই মাদার তেরেসার মতো লাগেনা !
- মানে কি ! প্যাঁচায়া কথা বলা তুই কবে ছাড়বি !
- সম্ভবত আজকেই ! মানে হচ্ছে, আপনাকে মাদার তেরেসার মতো লাগছে !
- ও ! আমি বুঝি অতো বুড়িয়ে গেছি !
- আরে নাহ্ ! মাদার তেরেসাও একসময় যুবতী আছিলো গো.. !

তখন তাড়া সেই রিক্সাটায় উইঠা বসলে, তাগো দুইটা কাঁধ লাইগা থাকে ! তরুণীর চুলের ঘ্রাণে হঠাৎই পোলাটার একটা ইংরেজী ডায়ালগ মনে পইড়া যায়,- 'উইল ইউ মেরী মি ?' তখন, তার মুখ দিয়া বাইরইয়া আসে,

- আমি কি আপনার হাতটা ধরতে পারি, জ্বনাবা ?
- জ্বি..সানন্দে !

তখন রিক্সা আবারও উড়ালপঙ্ক্ষি হয় !

তখন, ফুলকলির বাপে সৌদী আরবে যেই দোকানে হোম ডেলিভারীর কাজ করে 'দাব্বাব' (বিশেষ প্রজাতির মোটর সাইকেল) চালাইয়া, যেইখানে তারে ৮০০রিয়াল বেতন দেয় আর সে এই পয়সায় কিছুই গোছায়া আনতে পারেনা বইলা, কিম্বা কিছু গোছায়া আরো গোছায়া আননের পয়সা অবশিষ্ট থাকেনা বইলা, যেমন, দেশ থেইকা আসার সময় যে নিজের ক্ষেতি জমিটা বন্ধক রাইখা আসছিলো, সেইটা ছাড়াইতে গিয়া, এবং দুই বছর আগে তার মা-বাপ হারা বোন কুলসুম, যারে সে বড়ো করছে, আর বিয়াও দিছে দুই লাখ টাকা খরচ কইরা, আবার বিয়া উপলক্ষে ঘরটাও তারে নতুন কইরা করতে হইছে, এইভাবে সব খরচ গিয়া গত ছয় বছরে যখন সে তার মাইয়াটারে একবারও দেখতে যায়তে পারেনাই, যেই মাইয়াটারে সে মাইয়ার মার পেটে রাইখা আসছিলো, যেই মাইয়াটার ছবি দেইখা সে একলা একলা বালিশে মুখ লুকাইয়া কান্দে, যেই মাইয়ার লাইগা তার মনটা বড়ো উদাস হয়, কাজে মন বসেনা, কাজে মন না বসলেও বাধ্য হইয়া তারে কাজ করতে হয়, সেই দোকানের তিনটা ডেলিভারী নিয়া সে রাস্তায় নামে ! সাঁ কইরা লাল একটা গাড়ি পাশ কাটায়া চইলা যায় ! লাল গাড়ির ভিতর লাল জামা পড়া একটা মাইয়ার মুখ তার মাইয়ার মতোই দেখতে , এক ঝলক দেখা যায় । তখন সে মাইয়ার ভাবনায় বিভোর হয় ! সে দেখে লাল জামা পইড়া মাইয়াটা কতো খুশীতে হাসে, তখন মেইন রাস্তা থেইকা ভিতরের রাস্তায় ঢুকনের মোড়ে সামনে থেইকা একটা জিএমসি গাড়ি আইসা তারে উড়ায়া দেয়, দাব্বাব আর সে উড়তে থাকে, উড়তে উড়তেই সে দেখে ফুলকলির হাসি মুখ আর নাই ! মাইয়াটা কানতে থাকে, তখন সব শক্তি দিয়া সে চিৎকার করে,- 'ফুলকলি ! কান্দেনা মা আমার...আমি লাল পুতুল কিনছি !'





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29238373 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29238373 2010-09-11 00:53:49
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫৪ মাটির সংসার : আবদুল মান্নান সৈয়দ (কবি আজ চলে গেলেন । ভালো থাকুন...
আবদুল মান্নান সৈয়দ


মাটির সংসার

সে অনেক বছর আগের কথা।
এখন কত সাল বলছ?
আচ্ছা, ৩০১০ তাহলে এসে গেছে পৃথিবীতে?
যখনকার কথা বলছি -
তখন এই ২০১০/১২ সাল হবে আর কী ?
আমি খুব ছোট।
মাটির হাঁড়িকুড়ি নিয়ে খেলাধুলো করতাম।
খেলার সঙ্গিনীর নাম কী ছিল ?
হয়তো বিবি। হয়তো সোনালি।
সোনালি ! সোনালি -নামটা মনে পড়েছে !
তো আমরা দু'জন মাটির হাঁড়িকুড়ি নিয়ে খেলতাম।
মাটির হাঁড়ি, মাটির বাসনকোসন।
আমি বাজার করে আনতাম।
মাটির মাছ, মাটির মাংস, মাটির তরিতরকারি।
সোনালি রান্নাবান্না করত।
মাটির চামচ দিয়ে হাঁড়িতে নেড়ে দিয়ে
সোনালি বলত,-গোসল করে এসো, তোমার ভাত খুলছি।
আমরা খেতে বসে যেতাম।
এ রকম একদিন
খাওয়ার পরে মাটির গেলাশে পানি খেতে গিয়ে
আমার হাত থেকে গেলাশটা পড়ে গিয়ে ভেঙেচুরে গেল।
সোনালি বলল,- আমার এত শখের গেলাশটা ভেঙে ফেললে !
যাও, তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
সেই-যে বলল সেদিন আর এলই না।
পরদিনও না।
তারপর সোনালিরা চলে গেল কোথায়-যেন।
দেখা হয়নি আর।

দ্যাখো, জীবনে সুখ-দুঃখ পেয়েছি অনেক।
আজ আর সেসব নিয়ে কিছু ভাবি না।
সকলেই কিছু দুঃখ পায়। পায় কিছু সুখ।
শুধু একটি মেয়ের অভিমানী গলা শুনতে পাই আজো,
-তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
কবে ভেঙে গেছে আমাদের ছোট্ট মাটির সংসার।
কিন্তু এবারের শ্রাবণ মাসে কী রকম উথালপাথাল বাতাস
বইছে, দ্যাখো।
এ রকম বাতাসে আমার কানে একটিই কথা ভেসে আসে,
- তোমার সঙ্গে খেলব না আর !
'খেলব না আর!' বলে চলে গেল যে-মেয়েটি,
সে আর ফিরল না কোনোদিন।
জীবনে কত ভাঙা-গড়া দেখলাম।
কত জন্ম । কত মৃত্যু।
কত বাদশা ফকির হয়ে গেল।
কত ভিখিরি কুড়িয়ে পেল সোনাদানার থলি।
তারই মধ্যে যখন শ্রাবণমাস আসে,
ঝেঁপে নামে বৃষ্টি,
তার ভেতরে একটি কণ্ঠস্বর বাজতে থাকে অবিরাম
তোমার সঙ্গে খেলব না আর !

আমি কী করব!
আমি কি আকাশ-থেকে-নেমে-আসা নীল বিদ্যুত থামাতে পারি ?
এই শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি বন্ধ করবার সাধ্য আছে কি আমার ?
হাত ফসকে পড়ে গেলাশ ভেঙে যায়।
আমার কিছু করবার নেই।
আমি অসহায় ! আমি অসহায় !
আমার শুধু বাতাসে-বিদ্যুতে-বৃষ্টিতে শুনে যেতে হবে
একটি অভিমানিনী কণ্ঠস্বর ;
-তোমার সঙ্গে খেলব না আর !


কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ আর নেই

ভালো মানুষদের প্রয়াণ সবসময়ই একটা শূণ্যতা তৈরী করে । একজন ভালো মানুষ কমে যাবার শূণ্যতা । কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ একজন ভালো মানুষ ছিলেন । আমাদের কবিদের রাজনীতির রঙ্গে রাঙ্গিয়ে উঠবার দলটির বাইরে ছিলেন তিনি । এই ভালোমানুষ কবিটির প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা । কবির আত্মা শান্তি পাক ।




ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১ (পুর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-- ২ (যদি নির্বাসন দাও--সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩ (কেউ কথা রাখেনি ---সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৪ (অন্ধকার--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৫ (হায় চিল--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৬ (গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর- আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৭ (মায়ের সুখ--ফজলুল বারী বাবু)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৮ ( নারী--সুনীল )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১০ ( ছিন্নমুকুল--সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১১ ( শুদ্ধ করো আমার জীবন --মহাদেব সাহা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১২ ( বদলে যাও, কিছুটা বদলাও--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৩ ( আমি কিংবদন্তির কথা বলছি --আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৪ ( চিঠি দিও---মহাদেব সাহা )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৫ (নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়--হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৬ (ফেরীঅলা --হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৭ (মানুষ -কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৮ (ছাড়পত্র --সুকান্ত ভট্টাচার্য )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৯ ( সত্যবদ্ধ অভিমান --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২০ ( আসাদের শার্ট--শামসুর রাহমান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২১ (ওটা কিছু নয়--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২২ ( মানুষ--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৩ ( বাতাসে লাশের গন্ধ --রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৪ ( সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় --জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৫ ( আসমানী প্রেম--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৬ (উচ্চারণগুলি শোকের--আবুল হাসান)

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৭ (আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৮ (পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা । কথোপকথন ৩৯)

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কবিকে স্মরণ । ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-২৯ (সাম্যবাদী--কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩০ (খেলাঘর--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩১ (উল্টোরথ--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩২ (কোথায় গেল, কোথায়--সুনীল)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩৩ (লোকটা জানলই না--সুভাষ মুখোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৪ (দোতলার ল্যন্ডিং,মুখোমুখি দু'জন--আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৫ (আমি কোনো আগন্তুক নই --আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৬ ( যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৭ ( চতুর্দশপদী কবিতাবলী -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৮ ( এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি--আবিদ আজাদ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৯ (উটপাখি--সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪০ (মুখোশ--বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪১ ( যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না--আবিদ আজাদ )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪২ ( বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা--জয় গোস্বামী )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৩ ( রিক্সাওয়ালা--অরুণ মিত্র )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৪ ( আপনি বলুন, মার্কস --মল্লিকা সেনগুপ্ত )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৫ ( দিন আনি, দিন খাই --তারাপদ রায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৬ ( চাবি --শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৭ ( আমার হবেনা, আমি বুঝে গেছি --আবুল হাসান )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৮ ( অদ্ভুত আঁধার এক-- জীবনানন্দ দাশ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৯ ( একবার তুমি -শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫১ ( আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো-মহাদেব সাহা )

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫২ (আমার কৈফিয়ত - কাজী নজরুল ইসলাম । ১১১তম জন্মজয়ন্তীতে কবিকে অভিবাদন)

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫৩ (যাত্রা - ভঙ্গ, নির্মলেন্দু গুণ । ব্লগার নীপবন এর জন্য )




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29235860 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29235860 2010-09-06 02:59:38
সম্ভ্রম বনাম স্ববিরোধীতার আয়নায় মুখোশের আড়ালে মুখ -২ (প্রসঙ্গ : প্রভা)! চেতনার সম্ভ্রম বনাম স্ববিরোধীতার আয়নায় মুখোশের আড়ালে মুখ -১ ! ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭

বলা হয়ে থাকে-- মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব । মানুষের হৃদয়ভর্তি ভালোবাসা আবার ঘৃণাও । মানুষ প্রেমান্ধ আবার কামান্ধও;--এইসবই জানা কথা । মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব-- তবে, যা বলা হয়না তা হলো, মানুষ সৃষ্টির সেরা ভন্ড জীবও !

গোপনে যা করতে ভালোবাসি, অন্যে তা করতে শুনলেই, জানলেই ছি ছি করি আমরা মানুষ ! একান্ত নিজের জগতে যেটা সঠিক, অন্যের জগতের সে খবরে আঁৎকে উঠি, আঁতকে উঠার ভান করি, তা হয়ে যায় বেঠিক, খুবই বেঠিক !

পরকীয়া একটি অশুদ্ধ সম্পর্ক । এই সম্পর্কের কথা শুনলেই অপবিত্র একটা ভাব আমাদের উপর 'সওয়ার' হয়, বিশেষত আমরা যারা নিজেদেরকে শুদ্ধ- বিশুদ্ধ মানুষ হিসাবে, দেখতে বা দেখাতে ভালোবাসি ! সেই 'অশুদ্ধ' সম্পর্কের সুযোগ মিললে অনেক 'বিশুদ্ধ' মানুষই সুযোগটা গ্রহণ করবেন গোপনে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, স্বীকার করতে না চায়লেও, মানুষের খুব স্বাভাবিক প্রবণতা এটাই ! কুলবধূ তথা পতিতাদের প্রতি বেশীরভাগ ভদ্রলোকই ঘৃণার ভাব প্রকাশ করে থাকেন, লজ্জার বিষয়, কুলবধূ বা পতিতাদের খদ্দের এর একটা বিরাট অংশ সেইসব সুশীল ভদ্রলোকরাই, এমনকি পতিতাকে পতিত করবার পেছনের ঘটনা হাতড়ে পাওয়া যাবে, কোন না কোন ভদ্রলোকের বদমায়েশীর ইতিহাস !

দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্পর্ক, সেটি যদি হয় মানব-মানবীর সম্পর্ক, বন্ধুত্বের বাইরে, সেখানে হৃদয়ঘটিত ব্যাপার থাকতে পারে, হৃদয়কে ছাপিয়ে শরীরে গড়াতে পারে সম্পর্ক, কিম্বা শরীরকেও ছাপিয়ে যেতে পারে হৃদয় , এসবই খুব স্বাভাবিক । তেমনি স্বাবাভিক , ভালোবাসার দু'জন মানুষ পরস্পরের কাছে আয়না হয়ে যাওয়া । পরস্পরের কাছে খোলা হয়ে যাওয়া । পরস্পরের শরীরের দাগগুলো, ভাঁজগুলো মুখস্থ হয়ে যাওয়াও খুব স্বাভাবিক । অস্বাভাবিক শুধু, ভালোবাসায়-বিশ্বাসে খুলে দেয়া ভাঁজগুলো, একান্ত আমার জন্য খুলে দেয়া ক্যানভাসটা কখনো, কোন পরিস্থিতিতেই নিলামে তুলে দেবার কথা না থাকলেও, নিলামে তুলে দেই প্রতিশোধ পরায়ন আমরা মানুষ !

আপনার একসময়কার প্রেয়সী, প্রিয়তমা, প্রেমিকা বা জান (যে নামেই ডাকেন না, কেন) যখন, প্রেমে বা কামে, মমতায় বা প্রণয়ের গভীরতায় আপনার কাছে হয়ে যেতো, নগ্ন দেবী; আপনি সেটাকে উপভোগ করতেন ! আপনারা সেটাকে ভোগ করতেন ! সেই পৃথিবীটা ছিলো আপনাদের দু'জনের , একান্ত দু'জনের, সেই স্মৃতিগুলোও সোনা, রূপা, তামা বা পেতলেরই হোক, একান্ত দু'জনেরইতো !

আপনার প্রেয়সী বা জানটা আপনাকে ছেড়ে চলে গেলে, সেই একান্ত জিনিসগুলো নিলামে তুলবার কথা কি ছিলো ?

ছেড়ে যাবার পর আপনি কি সেগুলো নিলামে তুলবেন ? আপনার নিজের মন কি বলে, সে উত্তরটা দিন কেবল !

প্রশ্ন আসবে, ছেড়ে যাবার কথা কি ছিলো ?

স্বামী-স্ত্রী বৈবাহিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে যে সম্পর্ক শুরু করেন, তা আজীবনের সম্পর্ক হবে, সেই আশা স্বপ্ন ভালোবাসার সূত্র দিয়েই শুরু করেন । আশা স্বপ্ন ভালোবাসা ভেঙ্গে যায়। দু'জন বিপরীতধর্মী মানুষের ভালোলাগা সবসময় একরকম যায়না, মোহ কেটে যায়, মানসিক বুঝাপড়ার জায়গাটাতেও দু'জন মানুষে ফারাক থেকে যায় যোজন, সাত কিম্বা সতের বছর সংসার করেও স্বামী- স্ত্রী আলাদা হয়ে যান, এটাও স্বাভাবিক, স্বীকার করতে না চায়লেও ।

মনের অমিল, মতের অমিল অশান্তি জিইয়ে থাকা সংসার টিকে থাকার চে' , খারাপ সম্পর্কের চে' একদম সম্পর্ক না থাকাটাই শ্রেয়তর সবসময় । তো, স্বামী - স্ত্রী যখন আলাদা হয়ে যাবেন, সাত-সতেরো বছরে জমা হওয়া এতো এতোগুলো রাত এবং দিনের তাদের একান্ত মুহূর্তগুলো, যেগুলোর অনেকগুলো হয়তো ভালোলাগার স্মৃতি ধরে রাখবার জন্য তারা ক্যামেরাবন্ধী করেও রেখেছিলেন, স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে যাবার পর স্বামী কি ক্যামেরাবন্ধী সেই বস্তুগুলো বাজারে তুলবেন ? আপনি কি তুলতেন ?

ঠিকাছে, পরস্পরের মতামতের ভিত্তিতে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি, আপনার স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে গেছেন, অন্যের সঙ্গে ভেগে গেছেন, আপনার এবং স্ত্রীর সেই বস্তুগুলো কি আপনি বাজারে তুলবেন ?

গল্পটা একজন প্রভার না, আমার-আপনার, আমাদের 'জান' বলতে বলতে মুখে ফেণা তুলে ফেলা 'জানেদের'ও হতে পারে ! আমার আপনার প্রিয় বোনের গল্পও হতে পারে এটা, হয় ! সেক্ষেত্রে, আমার আপনার অবস্থান কি হবে ?

প্রভা একজন 'নটি' বলেই কি আমরা ভদ্দরলোক সুশীলরা ঘৃণা উগরে দেই, সবটুকুন ?

আমরা পর্ণো দেখে মৈথুন করে শীর্ষ সুখ নেবার চেষ্টাতে লজ্জিত হইনা, পর্ণো নায়িকা হিসাবে উপস্থাপিত, শরীরটি কিভাবে এরকম উন্মুক্ত হতে পারলো, (যেরকম উন্মুক্ত হয়তো আমাদের প্রেমিকারাও আমাদের সামনে হয়ে থাকেন ) তা ভেবে ভীষণ লজ্জিত হই !

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় আমাদের চিন্তাগুলো কতো স্বার্থপর, দুর্বল এবং পরস্পরবিরোধী তা ভেবে লজ্জিত হবার কিছু নেই । জয়তু হে পুরুষ এবং পৌরুষ !

ধিক ! আমাদের এই স্ববিরোধীতাকে ! ধিক ! আমাদের এই ভন্ডামিকে !

সম্ভ্রমের এই বিশাল ঘাটতিতে(!!) ইসলামের কান্ডারী হিসাবে নিজেদের পরিচয় দেয়া জামাতী, ধার্মীক, আস্তিক এবং নাস্তিকরা যেই বিপুল উদ্দিপনায় এক স্রোতে মিশে যেতে পারলেন, আমাদের মুখোশের আড়ালের মুখগুলোর ভন্ডামীর এক নিদারুণ উদাহরণ হয়ে, আমাদের সমাজের একটা প্রতিচ্ছবি হয়েই তা থাকুক !


আমি কেবল পুরুষের একজন হয়ে নিজেকে ধিক্কার দেই ! ধিক ! পুরুষ তোমাকে !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29229263 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29229263 2010-08-25 04:33:49
আমরা মিশেছি ভালোবেসে...গিয়েছি ফেঁসে শেষে : এক ঝলক ব্লগার ইতিহাস (চারবছর পূর্তির প্রথাসিদ্ধ না, বরং রীতিবিরুদ্ধ পোস্ট )! (লেখা শুরু হয়েছে রাত ১০টায়)

এক

কবি বলেছেন, - আমরা মিশিনি ভালোবেসে সব মানুষ যেভাবে মেশে
আমরা গিয়েছি প্রাজ্ঞ আঁধারে অজানার টানে ভেসে..

আমরাও অজানার টানে ভেসে গিয়েছি, ভালোবেসেছি । সেটা প্রাজ্ঞ আঁধার কি বিজ্ঞ আলোতে ভেসে যাওয়া, ঠিক সেই অর্থে বিচার হয়তো করা হয়না আমাদের । আমরা শুধু জানি, বাংলা ব্লগকে ভালোবেসেছি আমরা । ভালোবেসে ফেঁসে যে গিয়েছি, লেখার শেষ অবধি পৌঁছানো গেলে, সে খবর পাওয়া যাবে !

চার বছর খুব কম সময় না ! অনেকগুলো দিন এবং রাত্রি । অনেকগুলো প্রহর । অনেক উত্থান -পতন দেখা । অনেক ভাঙ্গাচোরা দেখা । প্রিয় এবং অপ্রিয় স্মৃতিগুলোর জাবর কাটা হবে বটে, তবে, একটু 'ঘুরান্তিস' পথে !

চার বছর আগে থেকে যারা ব্লগ জমিয়ে রেখেছিলেন, অথচ, তাদের অনেকেই এখন সামুতে একদমই নেই হয়ে গেছেন, সেইসব সহব্লগার , সহযোদ্ধাদের স্মরণ করবো, নতুনদের বরণ করবো,-

তোরা সব জয়ধ্বনি কর, তোরা সব জয়ধ্বনি কর
ওই নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড় ...

নতুনের কেতন উড়ছে পতপত করে, তাঁরা কালবোশেখির ঝড় কতোটা হতে পেরেছেন, তা আলোচনা হবে, কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে । নবিন বন্ধুদের উদ্দেশ্যে যে প্রশ্নগুলো, সেগুলোর উত্তরও এখানে দেয়া থাকবে, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অজানা কোন তথ্য যদি তাঁদের জানা হয়, চেষ্টা তা-ই । <img src=" style="border:0;" />

*ব্লগের একদম শুরুতে যাঁরা ছিলেন, তুখোড় ব্লগিং এ, ব্লগকে জমিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁরা এখন নেই, নেই মানে সামুতে নেই, এরকম দু'চারজন ব্লগারের নাম কি আমার নবিন বন্ধুরা বলতে পারবেন?

*সামুতে ব্লগিং করা অন্তত দু'জন ব্লগারের মৃত্যু আমাদেরকে প্রিয়জন হারাবার ব্যথায় শোকাহত করেছিলো ! তাঁরা কারা ?

# বাংলা ব্লগের এ যাবতকালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নিকধারী, এবং সর্বাধিকবার ব্যান খাওয়া ব্লগারটির দু'চারখানা নিক কে কে বলতে পারবেন ?

# কমেন্টবাজ বা কমেন্টরাজখ্যাত ব্লগারটি কে, বলতে পারেন ? স্বল্প সময়ে কমেন্ট করে যে রেকর্ড তিনি গড়েছিলেন, তা এখনও অক্ষত আছে বলেই জানি ।

# সামহ্যোয়ারইনব্লগ বাংলা ব্লগের পথিকৃত (তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ) । নানা সময়ে , নানা ঘটনায়, সামহ্যোয়ারইনব্লগের ব্লগারেরা এখান থেকে ছিটকে গিয়ে, নতুন নতুন ব্লগ খুলেছেন, তার মধ্যে কোন কোন ব্লগটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে বলে আপনি মনে করেন ?

# বাংলা ব্লগিং-এ, মাল্টিনিক নিয়ে, নানারকম স্ববিরোধি চরিত্র দাঁড় করাতে যেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, এরকম স্ববিরোধী ব্লগার আপনার কাকে মনে হয় ? ( এ -প্রশ্নের উত্তরটি আমি দেবো না । ব্লগারেরাই এটা নির্বাচন করবেন )

আশা করছি, প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা-না জানা এবং নিজের মতামত দানে আমরা সব সহব্লগার বন্ধুরা সত থাকবো । নতুন মোড়কে কতক পুরানো ব্লগার আছেন, তাঁদের অংশগ্রহণ এই পোস্টটিকে আরো বেশী প্রাণবন্ত করবে বলে বিশ্বাস ।


দুই



তিনি দেবরা । হ্যাঁ, তাঁর ব্লগের মাথায় তেমনই লেখা আছে । তিনিই বাংলা ব্লগের প্রথম পোস্টের জন্মদাত্রী । হোক দেড় লাইনের চে' একটু কম <img src=" style="border:0;" /> এবং পনের শব্দের একটি পোস্ট , তবু সে এক ইতিহাস ! সেখান থেকেই এই ইতিহাসের শুরু -- ইমরান ব্লগ স্রষ্টা, ইমরান, হাসিন ভাই, জানা আরিল এবং ব্লগের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এইক্ষণে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই । বাংলা ভাষার প্রথম ব্লগটি আমাদের উপহার দেবার জন্য ।

ব্লগের প্রথম দিককার ব্লগারেরা । যাঁদের প্রায় সবারই একটি বিশেষ গুণ ছিল, লেখার গুণ । তাঁরা লিখতে জানতেন । উন্নত পাঠক এবং উন্নত লেখক হিসাবে আমার শ্রদ্ধা তাঁদের প্রতি ।

সুমন চৌধুরী , আনোয়ার সাদাত শিমুল , হিমু আজাদ ধুসর গোধুলী , কনফুসিয়াস , এস এম মাহবুব মুর্শেদ এরকম আরো এক ঝাঁক ব্লগার, সে সময়ে সামহ্যোয়ার থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান । সচলায়তন নামের নতুন একটি ব্লগ গড়ে তোলেন, সুমন চৌধুরির পোস্টটি থেকে হয়তো , বুঝা যাবে অনেক কিছু ।

চোরের স্রষ্টার পক্ষ থেকে কৈফিয়ত ব্লগার চোরের এই পোস্টটি পড়লে, চোর নিকটির আদ্যোপান্ত জানা যাবে ।

সাদিক মোহাম্মদ আলম সচলায়তনে যাননি, কিন্তু এখানেও লেখেন না আর ।



আরো যাঁরা, যাদের লেখার অভাববোধ করি :

শুভ ভাই, সামুতে তাঁর শেষ পোস্ট--ক্ষমতা নামের এমন ক্ষুরটা আমি কারও হাতে দিতে চাই না। আমাদের শুভ ভাই, বাংলা ব্লগ প্রতিযোগীতায় সেরা হয়েছিলেন । উই মিস ইউ, শুভ ভাই !

নজমুল আলবাব। দারুণ গল্পের হাত তাঁর । ব্লগার আলভী তার মুগ্ধ পাঠক সিরিজে নজমুল আলবাবকে নিয়ে লিখেছেন, পড়লে খানিকটা হলেও অনুমান করতে পারবেন, কি উপাদেয় গল্প লিখতেন তিনি । নতুন ব্লগারদের অনুরোধ করবো, নজমুল আলবাবের গল্প পড়ে দেখবার জন্য ।

লঘু পাপে গুরুদন্ড, অর্থাৎ খুব ছোট্ট কোন ভুলের জন্যও কোন কোন ব্লগারকে ব্যান হতে হয়েছে । তার প্রতিবাদে নিজেকে সামু ব্লগ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন আরিফ জেবতিক । ইনি সেই ব্লগার যাঁর ডাকে সর্বপ্রথম ব্লগ আন্দোলন সফল হয়েছিল । ভ্যালরী টেইলরকে অন্যায়ভাবে অপসারণের প্রতিবাদের প্রথম ডাক উঠেছিলো, আরিফ জেবতিকের পোস্ট থেকে ।সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. সে যে কি দুর্দান্ত আবেগঘণ পোস্ট, যারা পড়েননি, অবশ্যই তারা দারুণ জিনিস মিস করেছেন । সে পোস্ট ছড়িয়ে গিয়েছিলো, ফেইসবুকের গ্রুপগুলোতে, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে, তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকারের টনক নড়েছিলো । তাদের একজন অসাধু শফি সামির, অপকৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিলো । আরিফ ভাই তাঁর সব পোস্ট ড্রাপট করেছেন, ব্লগার জানালার সেই পোস্টের ইংরেজী অনুবাদ , আগ্রহী পাঠকগণ পড়ে দেখতে পারেন । বোধকরি, এখন পর্যন্ত সেটি ছিলো সামুর সর্বাধিকবার পঠিত এবং সর্বাধিক মন্তব্যপ্রাপ্ত পোস্ট ।

হোসেইন-- এই দুর্দান্ত ব্লগারের দু'একটি লেখা পড়ে দেখলেই , তার ভেতরের আগুন সম্পর্কে টের পাওয়া যায়। ছাগু তাড়ানীতে হোসেইন ছিলো অতুলনীয় ।

নিক নরাধম হলেও, যাকে আমি নরোত্তম বলে ডাকতাম । প্রকৃতই নরোত্তম সে । সামু তাকে হারিয়েছে । ভালবাসা দিবসে অন্যরকম ভালবাসা। --নারুর এই পোস্টি পড়লে বুঝা যাবে, কেন তাকে নরোত্তম ডাকি ।

One of the things I keep learning is that the secret of being happy is doing things for other people. --'বিহংগ'দা, তাঁর ব্লগ শিরোনামের মতোই, আমাদের আরো সমৃদ্ধ করতে পারতেন, সুখী করতে পারতেন অপূর্ব সব লেখা দিয়ে ! হঠাৎই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিলেন একদম । ভালো লেখার সমঝদারদের জন্য বিহংগদার ব্লগ অবশ্য পাঠ্য ।

"জালছেড়া নদী"-- আমাদের কবি ব্লগার মুকুল এর কবিতার বই এর নাম । ভাষাচিত্র প্রকাশনা থেকে ২০০৯ এর বই মেলাতে বেরিয়েছিলো । ছ'হাজার মাইলের দূর পরবাস থেকে কবিতার বইটি সংগ্রহ করতে পেরে আমি আপ্লুত হয়েছিলাম, সত্যিকারের ভালো লাগা কিছু কবিতা বইটিতে ছিলো । সেই মুকুলও স্বেচ্ছা নির্বাসনে ।

"একটি শীতার্ত চুম্বন তোমার ঠোঁটের কাছে প্রার্থনার মতো বসে আছে খুব নিরিবিলি, ধ্যানী নয়, ঋষী নয়, কবি নতজানু হয়ে আছে ওই প্রার্থনার কাছে !"

লাইনগুলো আমার আরেক প্রিয় কবি প্রণব আচার্য্যের । ভাষাচিত্র থেকে প্রণব আচার্য্য এর কবিতার বইও বেরিয়েছিলো ।, নাম --
"সূর্যের একচ্ছত্র অধিকার অস্তের পূর্বে" ! অজানা কারণে তিনিও এখন আর লিখছেন না ।

আমাদের একটি গানের ভান্ডার ছিলো । প্রয়োজন হলেই, হাত বাড়ালেই যে কোন গানের লিরিক আমরা যার কাছ থেকে পেতাম । সোলেমানী বানের কবলে পড়েছে সে । । অপরাধ লঘু ছিলো । এরচে' বড়ো অপরাধ নিয়ত করেও অনেক ব্লগারকে এই ব্লগে বেঁচে থাকতে দেখেছি, দেখছি ।



যে দু'জন প্রিয়জনকে আমরা হারিয়েছি : আর প্রস্থানোদ্যত নন, তিনি প্রস্থান করলেন -- কি কাকতালীয় ব্যাপার ! এ-ই ছিলো মুহম্মদ জুবায়ের ভাই এর শেষ পোস্ট সামুতে । এরপর একদিন, জুবায়ের ভাই চিরপ্রস্থান করলেন এই পৃথিবী থেকে !
..............

"অবশ্য ক্রমেই তো সব কিছু মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে... যায়.... এই যে এখন গলা বসে গ্যাছে... কথা বলতে পারছি না... তিন চারদিন এরকম থাকবে.... তারপর হয়তো ঠিক হবে.. আবার গলার ওপর অত্যাচার হবে.. গলাবাজি হবে.... তারপর একদিন ঠিক...ঠিক-ই..... ! ! ! ! ! ! !"

সাংবাদিক মাহবুব মাতিন এমনই লিখেছিলেন, তাঁর শেষ পোস্টে !! পাঠক , ভাবতে পারেন !

সর্বাধিক নিক : অনেকরই প্রিয় আবার অপ্রিয়ও এই ব্লগারটিকে শ্রদ্ধা করি, সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে । যা তিনি বলতে চান, বলেন, লুকোচুরি নেই । আপোষ নেই । তিনি ডাক্তার আইজুদ্দিন । কতোবার তিনি ব্যান খেয়েছেন, নিজেও বলতে পারবেন না । আর নিক সংখ্যা ? তাঁর কোন একটি উক্তিতে দেখেছিলাম, সম্ভবত শতাধিক নিক ব্যবহার করতে হয়েছে । কারণ, কোন কোন নিক একদিনেই শেষ হতো । বিস্ময়ের ব্যাপার , হালিখানেক নিক তার সবসময় তৈরীই থাকতো !

ভালো পোলা আছিলাম, এখন আপাদমস্তক ভন্ড!
কমেন্টরাজ রাশেদের ব্লগ শিরোনাম । পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাশেদ মোট মন্তব্য করেছেন: ৪১৮০২টি এবং এই মন্তব্যগুলো তিনি করেছেন মাত্র আড়াই বছরের মতো সময়ে । গত এক বছরে তিনি বোধহয় সামুতে একটিমাত্র পোস্ট দিয়েছেন । অর্থাৎ এক বছর ধরে, তিনিও নেই ।

সামু ভেঙ্গে গড়ে ওঠা ব্লগগুলো :

সচলায়তন : তাঁরা নিজেরা বলেন , সেই অর্থে সেটি ব্লগ নয় । পাঠকেরও অভিযোগ, সেটি লেখক পোড়াম । বিতর্কের উর্ধ্বে গিয়ে বলা যায়, দারুণ প্রতিভাবান এক ঝাঁক লেখক সেখানে লেখেন, এটা সত্য ।

আমার ব্লগ : একটা নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁরা আটকে আছে । এরচে' বেশী এগুতে পারবে কিনা, সময় বলে দেবে । তাদের 'নো মডারেশন' স্লোগান আদতে, মেনে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক পোস্ট তাদের মুছতে হয়েছে, নিকও । 'নো মডারেশন' স্লোগান নিয়ে বাংলা কোন ব্লগ চালানো প্রায় অসম্ভব ।

আমরা বন্ধু : নতুন ব্লগ । তারপরও একটা নির্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী তাঁরা গড়ে তুলতে পারছেন । ডুয়েল পোস্টের কড়াকড়ি আছে, তাই নতুন পোস্ট তুলনামুলক কম । তবে, যাঁরা লিখছেন, ভালো লিখছেন ।

একটি মজার তথ্য : অন্তত দু'জন সেলিব্রেটি ব্লগার তাঁদের ব্লগ জীবন জমাতে পারেন নি । আব্দুন নূর তুষার এবং মানস চৌধুরী ! সেলিব্রেটিদের একটা সমস্যা ব্লগে হয়, যেমন তারা অভ্যস্থ, হয়তো ভাবেন, খুব বাহ্বা চলবে তাঁদের, কিন্তু ব্লগ জিনিসটি ভিন্ন ।
ব্লগার বেড়ে উঠেন তার ব্লগিং এর পরিচয়ে-- সেলিব্রেটিদের তোষামোদ করবার সময় ব্লগারদের নেই, ব্লগের এই গুণটি ভালো লাগে ।




তিন

নতুন যাঁরা , কেমন তাঁরা :

হাসান মাহবুব -এখন আর তাকে হয়তো নতুন ব্লগার বলা যায়না । এক বছরের অধিক সময় ধরে তিনি ব্লগিং করছেন । ভালো করেছেন বেশ । তার গল্পের ভক্ত আমি । একটা ভবিষ্যত বাণী সাহস করে বলতে পারি, বাংলা ছোট গল্পে হাসান মাহবুব নামটি উপরে উঠে আসবে একসময় ।

তবে, ব্লগকে যে দু'জন তাঁদের গল্প দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন , এবং আমার অলটাইম ফেভারিট । ছোট গল্পের পাখায় যারা নিত্য নতুন পালক যোগ করছেন, সে দু'জন ব্লগার যথাক্রমে- মোস্তাফিজ রিপন এবং আকাশচুরি ওরফে তারিক স্বপন । এ দু'জনও একদমই অনিয়মিত । সকল পাঠকের হয়ে বলতে পারি, আপনাদের গল্পের জন্য আমরা তৃষ্ণার্ত ।

ভাঙ্গন,তার লেখার গুণে ইতোমধ্যেই সহব্লগার পাঠকদের মন জয় করেছেন ।

ব্লগের যেসব কবিদের কবিতা প্রতিদিন মুগ্ধ করে আমায় । যাদের কবিতা খুঁজে পড়বার চেষ্টা করি, - অমিত চক্রবর্তী , তিনি উঠে এসেছেন সৎকারবিহীন যার সংক্ষিপ্ত নাম আমি দিয়েছি,- 'সৎকারবিহীন উঠক' ! <img src=" style="border:0;" />
স্বদেশ হাসনাইন আরো প্রতিষ্ঠিত কবিরা ব্লগে লিখছেন, তাঁদের নাম সচেতন ভাবেই এখানে উল্লেখ করলাম না ।

একটা কথা না বললেই না : প্রচুর ব্লগার বাড়ছে প্রতিদিন । প্রতিদিন ভালো লেখার সংখ্যা বাড়ছেনা সে তুলনায় । এক কথায়, ব্লগের কোয়নটিটি যতো বাড়ছে, কোয়ালিটি পড়তির দিকে ক্রমশ ।


পরিশেষ : ব্লগ একটি মুক্ত মাধ্যম, আমরা জানি । মানিনা শুধু মুক্ত বা স্বাধীনতার সীমারেখা । স্বাধীনতা মানেই যথেচ্ছাচার না । বোধকরি, স্বাধীনতা ততোটুকু, অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়ে, যতোটুকু ভোগ করা যায় । আমরা পরস্পরের শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আশা করি, পরমত সহিষ্ণুতা আশা করি, কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে নিজের আচরণগত দিকটি ভুলে যাই ।

ব্লগ ইসলাম প্রচারের জায়গা না । ইসলামী পোস্ট পড়তে ব্লগে কেউ আসে বলে মনে হয়না । মনে রাখা ভালো, ইসলামী পোস্টকে উদ্দেশ্য করে উস্কানীমূলক কোন নাস্তিক্য পোস্ট আসতে পারে। যার জন্য ইসলাম প্রচারের পোস্টটিই দায়ী থাকবে ।

নাস্তিক বন্ধুদের প্রতিও একই কথা : 'নাস্তিকতা'টাও একটা বিশ্বাস, বিশ্বাস না হলে আপনিও এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন ! আস্তিকরা যেমন, নাস্তিকের মতবাদে বদলায়না, নাস্তিকরাও আস্তিকের প্রচারে বদলাবে, মনে হয়না । আপনারা মতামত অবশ্যই দেবেন, সেটা যতোখানি শালীন ভাষায় হয়, সম্পৃতির জন্য ততোখানিই ভালো ফলদায়ক বোধহয় ।

বিজ্ঞাপনী পোস্ট : খুবই বিরক্তির কারণ । কিছু ব্লগার মোবাইল সেট, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিভাবে কিনবেন, বা কিনেছেন এরকম বিজ্ঞাপনী পোস্ট দিয়ে থাকেন, এমনকি পাত্র-পত্রি খোঁজার বিজ্ঞাপনী পোস্টের সংখ্যাও ইদানীং নেহাৎ কম নয় । নতুন সেইসব ব্লগাররা বুঝে উঠতে পারেন না , সহব্লগারেরা তাদের প্রতি ক্ষ্যাপা হয় । এই জাতীয় পোস্ট থেকে সবাইকে বিরত থাকবার অনুরোধ করি ।

মডারেশন : এতো বিশাল একটি ব্লগ চালাতে গেলে, সবকিছুর উপর মডারেটরা সবসময় চোখ রাখতে পারবেন, এমন কথা নেই । শতভাগ নির্ভুল মডারেশন হওয়াটাও অস্বাভাবিক, এই কারণে যে, মানুষ শতভাগ নির্ভুল নয় । তবে, সচেতনভাবে, ভুল কমিয়ে আনবে মডারেটর প্যানেল, এই আশা নিশ্চয় দূরাশা নয় । একটিমাত্র ভুলে কেউ হারিয়ে যাবেন, অনেক ভুলেও কেও শোধরাবেন না, এরকমটা সুবিচার হবেনা কখনই ।

ব্লগের প্রথম দিকে গালি বিরোধী পোস্ট দিতাম । একসময় নিজেকে গালিবাজ হিসাবে আবিস্কার করলাম । ব্লগ আমাকে বাধ্য করলো গালি দিতে, এই পরিবেশটার পরিবর্তন দরকার । গালিবাজ হতে না পারলে যে, কেবল গালি খেয়ে যেতে হবে, এই নিয়মটির পরিবর্তন দরকার । মডারেটরদের সচেতনতায় পরিবর্তন সম্ভব ।

ক্ষমপ্রার্থণা : আমি অকুন্ঠচিত্তে ক্ষমা চাই, সেই দুই প্রকৃতির ব্লগারদের কাছে :

১ ) যারা মতের অমিলের জন্য গালি দিয়েছেন বলে, বাধ্য হয়ে পাল্টা গালি আমাকে দিতে হয়েছে । আমি লজ্জিত ।
২) ব্লগীয় রাজাকার মনস্কদের, অসহ্য হয়ে যাদের গালি দিয়েছি । তারা গালির উপযুক্ত । তাদের গালি দেবার জন্য আমি লজ্জিতও না । তবে, গালি কোন সমাধান না, এটা স্বীকার করি । এবং সেইসব রাজাকার মনস্কদেরও এই মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে অনুরোধ করি যে : যুদ্ধাপরাধীদের ভারে ভরাক্রান্ত আমার প্রিয় স্বদেশ । তাদের বিচার হলে, দেশ মাতৃকার বুক থেকে বিশাল পাথর বোঝা নেমে যাবে ।

৩৭ বছর পরও তোমার মাংস খাওয়া কুকুরেরা রয়ে গেছে, মা জননী!


এভাবে কেউ কেউ চলে যায়
চলে যেতে হয়,
কেউ কেউ বেছে নেয় পৃথক প্লাবন....

পৃথক কোন প্লাবনে ভেসে যাবো কিনা জানিনা, যেতেও পারি । তবে, ভালোবেসে ব্লগে যে সময় ব্যয় , তার একটা চিহ্ন হয়ে থাকুক, এই ভার্চুয়াল দিনলিপি । ব্লগ প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক আগের মতো ।

শুভ ব্লগিং ।


(শেষ : ১:২২ )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29218953 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29218953 2010-08-10 02:24:34
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫৩ (যাত্রা - ভঙ্গ, নির্মলেন্দু গুণ । ব্লগার নীপবন এর জন্য ) যে কবিতাগুলো আমার বোধের জগৎ নাড়া দেয় । ভালো লাগে । ভীষণ ভালো । একান্ত আমাকে ছুঁয়ে যায় । যে কবিতাগুলো আমার কাছে পুরনো হয়না কখনই । এমন কিছু কবিতা ব্লগ বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করবার লোভ সামলাতে পারলাম না । এই সিরিজে মাঝে- মাঝে ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা ভেসে উঠবে ।


ব্লগার নীপবন এই কবিতাটির খোঁজ চেয়েছিল । কবিতাটি খুঁজে পেতে নিপবন এর জন্য দেয়া গেল!


যাত্রা - ভঙ্গ

নির্মলেন্দু গুণ

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িযে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করিনা ;
এককে করি দুই ।
হেমের মাঝে শুই না যবে
প্রেমের মাঝে শুই ।

তুই কেমন করে যাবি ?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া ,
আমাকে তুই পাবি

তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই ।
তখন আমি একটু ছোঁব
হাত বাড়িয়ে জড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে
আমার বৈতরণী নায়ে ।

নায়ের মাঝে বসবো বটে
না- এর মাঝে শোব ;
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ
দুঃখ দিয়ে ছোঁব ।

তুই কেমন করে যাবি ?


ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১ (পুর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-- ২ (যদি নির্বাসন দাও--সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩ (কেউ কথা রাখেনি ---সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৪ (অন্ধকার--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৫ (হায় চিল--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৬ (গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর- আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৭ (মায়ের সুখ--ফজলুল বারী বাবু)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৮ ( নারী--সুনীল )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১০ ( ছিন্নমুকুল--সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১১ ( শুদ্ধ করো আমার জীবন --মহাদেব সাহা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১২ ( বদলে যাও, কিছুটা বদলাও--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৩ ( আমি কিংবদন্তির কথা বলছি --আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৪ ( চিঠি দিও---মহাদেব সাহা )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৫ (নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়--হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৬ (ফেরীঅলা --হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৭ (মানুষ -কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৮ (ছাড়পত্র --সুকান্ত ভট্টাচার্য )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৯ ( সত্যবদ্ধ অভিমান --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২০ ( আসাদের শার্ট--শামসুর রাহমান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২১ (ওটা কিছু নয়--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২২ ( মানুষ--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৩ ( বাতাসে লাশের গন্ধ --রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৪ ( সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় --জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৫ ( আসমানী প্রেম--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৬ (উচ্চারণগুলি শোকের--আবুল হাসান)

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৭ (আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৮ (পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা । কথোপকথন ৩৯)

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কবিকে স্মরণ । ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-২৯ (সাম্যবাদী--কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩০ (খেলাঘর--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩১ (উল্টোরথ--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩২ (কোথায় গেল, কোথায়--সুনীল)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩৩ (লোকটা জানলই না--সুভাষ মুখোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৪ (দোতলার ল্যন্ডিং,মুখোমুখি দু'জন--আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৫ (আমি কোনো আগন্তুক নই --আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৬ ( যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৭ ( চতুর্দশপদী কবিতাবলী -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৮ ( এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি--আবিদ আজাদ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৯ (উটপাখি--সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪০ (মুখোশ--বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪১ ( যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না--আবিদ আজাদ )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪২ ( বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা--জয় গোস্বামী )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৩ ( রিক্সাওয়ালা--অরুণ মিত্র )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৪ ( আপনি বলুন, মার্কস --মল্লিকা সেনগুপ্ত )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৫ ( দিন আনি, দিন খাই --তারাপদ রায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৬ ( চাবি --শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৭ ( আমার হবেনা, আমি বুঝে গেছি --আবুল হাসান )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৮ ( অদ্ভুত আঁধার এক-- জীবনানন্দ দাশ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৯ ( একবার তুমি -শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫১ ( আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো-মহাদেব সাহা )

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫২ (আমার কৈফিয়ত - কাজী নজরুল ইসলাম । ১১১তম জন্মজয়ন্তীতে কবিকে অভিবাদন)





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29189833 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29189833 2010-07-01 22:38:00
বাবার জন্য কবিতা গান : শামসুর রাহমান, আবুল হাসান, আর ভিনদেশী কবি পাপাকংগোস এর কবিতা । জেমস এর 'বাবা' গান... বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা । ঈশ্বর বাবাকে এমন বীজ দিয়েছেন, যা দিয়ে বাবা পৃথিবীর আলো-বাতাসে সন্তানকে নিয়ে আসেন । কৃতজ্ঞতা, বাবা ! ভালো থেকো !

বাবাকে নিয়ে কবিতা-গান, গল্প আছে অনেক । সংগ্রহে রাখার মতন ক'টি কবিতা গান এখানে একত্র করবার প্রয়াস পেলাম । কবিতায় কবির বানানরীতি অটুট রাখা হয়েছে ।



কোন দৃশ্য সবচেয়ে গাঢ় হ'য়ে আছে ?
শামসুর রাহমান

কোন্ দৃশ্য সবচেয়ে গাঢ় হ'য়ে আছে
এখনো আমার মনে ? দেখেছিতো গাছে
সোনালি বুকের পাখি, পুকুরের জলে

শাদা হাঁস । দেখেছি পার্কের ঝলমলে
রোদ্দুরে শিশুর ছুটোছুটি কিংবা কোনো
যুগলের ব'সে থাকা আঁধারে কখনো ।
দেশে কি বিদেশে ঢের প্রাকৃতিক শোভা
বুলিয়েছে প্রীত আভা মনে, কখনো-বা
চিত্রকরদের সৃষ্টির সান্নিধ্যে খুব
হয়েছি সমৃদ্ধ আর নিঃসঙ্গতায় ডুব
দিয়ে করি প্রশ্ন : এখনো আমার কাছে
কোন্ দৃশ্য সবচেয়ে গাঢ় হ'য়ে আছে ?


যেদিন গেলেন পিতা, দেখলাম মা'কে--
জননী আমার নির্দ্বিধায় শান্ত তাঁকে
নিলেন প্রবল টেনে বুকে, রাখলেন
মুখে মুখ ; যেন প্রিয় ব'লে ডাকবেন
বাসরের স্বরে । এখনো আমার কাছে
সেই দৃশ্য সবচেয়ে গাঢ় হ'য়ে আছে !

.........

চামেলী হাতে নিম্ন মানের মানুষ

আবুল হাসান

আসলে আমার বাবা ছিলেন নিম্নমানের মানুষ
নইলে সরকারী লোক,পুলিশ বিভাগে চাকরি কোরেও
পুলিশী মেজাজ কেন ছিলনা ওনার বলুন চলায় ও বলায়?
চেয়ার থেকে ঘরোয়া ধূলো,হারিকেনের চিমনীগুলো মুছে ফেরার মতোন তিনি
আস্তে কেন চাকরবাকর এই আমাদের প্রভু নফর সম্পর্কটা সরিয়ে দিতেন?
থানার যত পেশাধারী ,পুলিশ সেপাই অধীনস্থ কনেস্টবল
সবার তিনি একবয়সী এমনভাবে তাস দাবাতেন সারা বিকেল।

মায়ের সঙ্গে ব্যবহারটা ছিল যেমন ব্যর্থপ্রেমিক
কৃপা ভিক্ষা নিতে এসেছে নারীর কাছে।

আসলে আমার বাবা ছিলেন নিম্নমানের মানুষ
নইলে দেশে তাঁর ভাইয়েরা জমিজমার হিশেব কষছে লাভঅলাভের
ব্যক্তিগত স্বার্থ সবার আদায় কোরে নিচ্ছে সবাই
বাবা তখন উপার্জিত সবুজ ছিপের সুতো পেঁচিয়ে মাকে বোলছেন,এই দ্যাখোতো
জলের রং এর সাথে এবার এই সুতোটা খাপ খাবেনা?

আমি যখন মায়ের মুখে লজ্জা ব্রীড়া,ঘুমের ক্রীড়া
ইত্যাদিতে মিশেছিলুম,বাবা তখন কাব্যি কোরতে কম করেননি মাকে নিয়ে
শুনেছি শাদা চামেলী নাকি চাপা এনে পরিয়ে দিতেন রাত্রিবেলা মায়ের খোপায়।

মা বোলতেন বাবাকে তুমি এই সমস্তলোক দ্যাখোনা?
ঘুষ খাচ্ছে,জমি কিনছে,শনৈঃ শনৈঃ উপরে উঠছে,
কত রকম ফন্দি আটছে কত রকম সুখে থাকছে,
তুমি এসব লোক দ্যাখোনা?

বাবা তখন হাতের বোনা চাদর গায়ে বেরিয়ে কোথায়
কবি গানের আসরে যেতেন মাঝরাত্তিরে
লোকের ভীড়ে সামান্য লোক,শিশিরগুলি চোখে মাখাতেন।

এখন তিনি পরাজিত,কেউ দ্যাখেনা একলা মানুষ
চিলেকোঠার মতোন তিনি আকাশ দ্যাখেন,বাতাস দ্যাখেন
জীর্ণ শীর্ণব্যর্থচিবুক বিষন্নলাল রক্তে ভাবুক রোদন আসে,
হঠাৎ বাবা কিসের ত্রাসে দুচোখ ভাসান তিনিই জানেন।

একটি ছেলে ঘুরে বেড়ায় কবির মতো কুখ্যাত সব পাড়ায় পাড়ায়
আর ছেলেরা সবাই যে যার স্বার্থ নিয়ে সরে দাঁড়ায়
বাবা একলা শিরদাঁড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন,কী যে ভাবেন,
প্রায়ই তিনি রাত্রি জাগেন,বসে থাকেন চেয়ার নিয়ে

চামেলী হাতে ব্যর্থ মানুষ,নিম্নমানের মানুষ।
............


পাপাকংগোস-এর কবিতা
(দৈনিক আজাদী পত্রিকা থেকে সংগৃহীত )

গাথা

আর চাষার ছেলে প্রশ্ন করল তার বাবাকে

বাবা, কবিতা কী?

বীজ বোনা আর ফসল কাটা!

উত্তর দিল চাষা।


দর্জির ছেলে প্রশ্ন করল

বাবা, কবিতা কী?

গরম, মজবুত পোশাক তৈরি করা!

উত্তর দিল দর্জি।


সেনাধ্যক্ষের ছেলে প্রশ্ন করল

বাবা, কবিতা কী?

গেরিলাদের বিরুদ্ধে

বুর্জোয়াদের সৈন্য পরিচালনা করা!

উত্তর দিলেন সেনাধ্যক্ষ।


কবির ছেলে প্রশ্ন করল

কবিতা কী, বাবা?

জানি না! উত্তর দিলেন কবি।

কিন্তু বাছা,

কবিতা লেখা মানেই কবিতা নয়।
..................................



'বাবা'-জেমস এর গান


সবশেষে একখানা মজার কবিতা "বাবা শাহ্ জালাল (রঃ) ক্ষমা করো" ! যদিও এইখানা ঠিক সেই অর্থে কবিতা হয়ে ওঠেছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে ! কবিতাটি লিখেছেন, জনৈক কালাম এ. মীর !

বাবা শাহ্ জালাল (রাঃ) ক্ষমা করো !

বাবা শাহ্ জালাল (রাঃ)
তোমার প্রতি শ্রদ্ধা নয়
তোমার প্রতি ভক্তি নয়
তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে "শিক্ষা দেবার জন্য"
তোমার পবিত্র নামকে ব্যবহার করেছেন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা !

তোমার পবিত্র গুন ও নামের বরকতে
যেই দেশের আদি-পত্তন
সেই দেশেই তোমার পবিত্র নামকে
অতি নীচু নোংরা রাজনীতিতে ব্যবহার করেছেন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা !

বাবা শাহ্ জালালা (রাঃ)
তুমি আমাদের ক্ষমা করো
তুমি হতভাগা এই দেশটাকে ক্ষমা করো !

বাবা শাহ্ জালাল (রঃ)
আমরা জানি, নির্বোধের বিষ্ঠা লাগে তিনখানে
পায়ে হাতে, আর নাকে-
শেখ হাসিনার পাপ লাগলো কোথায়,
বাবা (রঃ) , কে বলবে তাকে ?

<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29181516 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29181516 2010-06-20 23:52:46
ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০ এর থিম সং : দুটি ভার্সন লিরিকসহ
আর মাত্র ৭২ ঘন্টা পরে বিশ্ব কাঁপানো যে বিশ্বকাপ আমাদের ঘারে জীবন্ত শ্বাস ফেলছে, ফুটবল বিশ্বকাপ প্রেমী, ফুটবল বিশ্বকাপ পাগল বাংলাদেশীদের ঘরের বিদ্যুতের লাইন, বাংলাদেশের বিদ্যুত বিভাগ যেন এই বিশ্বকাঁপানো বিশ্বকাপের মতই জীবন্ত থাকে, ঘুমিয়ে না পড়ে , এই শুভ কামনায়, সংগ্রহে রাখার মতো 'ওয়াভিং ফ্ল্যাগ' গানটির দুটি ভার্সন লিরিকসহ ব্লগে তুলে দিলাম । যারা গানটি অনেকবার শুনেছেন, যারা একবারও শুনেননি, সবাইকেই গান দুটি শোনার এবং দেখার অনুরোধ রইলো । ভালো লাগবে ।


ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০ এর অফিসিয়াল থিম সং

ooooooo.. Give me freedom, give me fire give me reasons, take me higher See the champions take the field now you define us, make us feel proud In the streets our heads are liftin as we lose our inhibition Celebration is around us, every nation, all around us Singing forever young ! singing songs underneath that sun ! let's rejoice in the beautiful game ! ant together at the end of the day ! We all say When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! So wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag oooo..oooo..ooooo Give you freedom, give you fire give you reasons, take you higher See the champions take the field now you define us, make us feel proud In the streets our heads are liftin as we lose our inhibition Celebration is around us, every nation, all around us Singing forever young ! singing songs underneath that sun ! let's rejoice in the beautiful game ! ant together at the end of the day We all say When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! So wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag ooooo...ooooooo We all say When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! So wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag now wave your Flag ooooo...ooooooo ..And everybody will be singing it !! ..and we all will be singing it !!

.............................


হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে গাওয়া গানটির মূল ভার্সন । অনেক খুঁজেও হাইতির ভূমিকম্প সম্পর্কিত কোন ভিডিও পেলাম না । আপাতত তাই এটিই সই ।


When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back Born to a throne, stronger than Rome But violent prone, poor people zone But it's my home, all I have known, Where I got grown, streets we would roam Out of the darkness, I came the farthest, Among the hardest survival Learn from these streets, it can be bleak, Except no defeat, surrender retreat, So we struggling, fighting to eat, And we wondering when we'll be free, So we patiently wait, for that fateful day, It's not far away, so for now we say, When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back So many wars, settling scores, Bringing us promises, leaving us poor, I heard them say, love is the way, Love is the answer, that's what they say, But look how they treat us, Make us believers, We fight their battles, Then they deceive us, Try to control us, they couldn't hold us Cause we just move forward like Buffalo Soldiers . But we struggling, fighting to eat and, We wondering , when we'll be free, So we patiently wait, for that faithful day, It's not far away, but for now we say, When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back ..And everybody will be singing it !! (oh.....oh......oh ) And you and I will be singing it (oh.....oh......oh ) And we all will be singing it !! (oh.....oh......oh ) When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back When I get older , I will be stronger they'll call me freedom just like a waving Flag ! And then it goes back and then it goes back and then it goes back When I get older When I get older I will be stronger just like a waving Flag just like a waving Flag just like a waving Flag Flag.....Flag.....Flag...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29173235 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29173235 2010-06-09 01:20:38
জরিপ পোস্ট : মিডিয়ার উপর সরকারের কালো থাবা আবালামী / আবালামী না ?
অথচ অদ্ভুত বিষয় , আবাল নয়, শিশু নয়, প্রাপ্ত বয়স্ক কেশ গজানো, কেশযুক্ত মন্ত্রী আমলারা ক্রমশ আবাল হয়ে উঠছেন । অথবা আবাল অর্থাত শিশু হয়ে উঠেছেন বলাই শুদ্ধ হবে ! তাদের সিদ্ধান্তগুলোই মনে করিয়ে দিচ্ছে, তারা আবাল, শিশু নয়তোবা পাগল হয়ে গেছেন ।

চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়েছে, দেশের সব লোকই জানে আসল কারণটা কি । ফেইসবুক বন্ধ : অজুহাত হিসেবে নবীজি (সঃ) এর কার্টুন এর কথা বলা হলো । যদিও ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা সবাই জানেন, হাসিনার ব্যাঙ্গ কার্টুন প্রকাশের কারণেই ওটা করা হয়েছে ।
শেষ থাবাটা পড়লো, আমার দেশ পত্রিকার উপর । আমার দেশ বিএনপি পন্থী পত্রিকা এটা আমরা জানি । বিরুদ্ধ মতের পত্রিকা চ্যানেল হলেই যদি সেটা বন্ধ করে দিতে হয়, তো এই দেশ , এই নষ্ট রাজনীতিকদের গণতান্ত্রের চর্চা কি ?

কন্ঠরোধ করে কোন সরকার লাভবান হতে পারেনা । সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে যদি এই নিকৃষ্ট চর্চা বাড়তে থাকে তো, একশ্রেণীর লোভী রাজনীতিকরা ছাড়া ক্ষতিটা হবে এই হতভাগা দেশ এবং জনগণের ।

এইসব চ্যানেল পত্রিকা বন্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গে কর্মরত যেসব সাংবাদিক (বোধকরি, হাজারের উপর) বেকার হয়ে পড়লেন, তাদের পরিবারগুলো কিভাবে চলবে ? কর্মসংস্থানের কি হবে ?
প্রতি ঘর থেকে একজন করে চাকরী দেবার নিশ্চয়তা দেয়া সরকার যেভাবে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে ক্রুর নিষ্ঠুরতায় চাকরী কেড়ে নিচ্ছেন, বেকার করে দিচ্ছেন, যেভাবে কালো থাবায় মিডিয়ার কন্ঠরোধ করছেন, এটাকে আবাল সরকারের আবালামী ছাড়া আর কি বলা যায় ?

মিডিয়ার কন্ঠরোধ করবার এই প্রক্রিয়াকে আপনি কি আবালামী মনে করেন ? আপনি কি আবালামী মনে করেন না ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29167989 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29167989 2010-06-02 01:23:14
দ্বিতীয় দফায় ঈশ্বরের দরবারে হাসিনা খালেদারে জরুরী তলব (রাজনৈতিক কৌতুক -২) ঈশ্বরের দরবারে হাসিনা, খালেদা এবং এরশাদ : রাজনৈতিক (অতি অবাস্তব) কৌতুক -১


নীল জাহান্নামের গভীর নিমজ্জন হইতে ঈশ্বরের দূত হাসিনা আন্টি এ্যন্ড খালেদা চাচীকে উপরে ভাসাইয়া দিলেন । সর্পিল সর্পের দংশন পাইয়া, রক্ত-পুঁজের সাগরপৃষ্ঠে ভাসিয়া উঠিয়া ক্ষণিকের তরে হইলেও উহাদের হৃদয় বাকবাকুম আনন্দে বিগলিত হইলো । এইক্ষণে লুইস এরশাদকে দেখিতে না পাইয়া উহারা উভয়েই নিশ্চয় করিয়া বুঝিয়া লইলো যে, এই লোভীটা এইখানেও কোন পল্টিবাজী করিয়া থাকিবে । যদ্দরুন উহাকে জাহান্নামে নিমজ্জিত রাখিয়াই ঈশ্বর তাহাদের উত্তম প্রতিদান দিবার জন্য বিভীষিকাময় জাহান্নাম থেকে তুলিয়া আনিয়াছেন !

এই দফায় ব্যতিক্রম ঘটাইয়া ঈশ্বর প্রথমে খালেদা চাচীকেই সওয়াল -জওয়াব শুরু করিলেন ,-

' তোমার দেশে ফেসবুক ব্লক করা হইয়াছিল কি জন্য ? এই বিষয়ে তুমি কি জানো ?'
:মা আদরী ! আমি কিছুই জানিনা, হুজুর !
'এই অঙ্কনটা তুমি কি চিনিতে পারো ?'
:জ্বি পারি ! আমার পৃষ্ঠদেশে নিশ্বাস ফেলা মহিলাটিরই আসল রূপ এই ছবি !
'তোমার পশ্চাতের অই মহিলা কি তোমার শ্বাশুরি হন ? উহার নাম উচ্চারণে কি তুমি 'লজ্জিষ্ট' হও !'
:জ্বিনা জনাব ! উহার নাম মুখে আনিতে অযু করিবার নিয়ম আমার দেশে চালু করা হইয়াছিল, এই মুহুর্তে আমার অযু নাই !
'হুম.. ! এই ছবিটা কি চিনিতে পারো ?' বলিয়া ঈশ্বর দ্বিতীয় অঙ্কনখানা খালেদা চাচীর সামনে মেলিয়া ধরিলেন !
:জ্বি নহে ! বক্রমুখী ওই রমনীকে আমি কস্মিনকালেও দেখিয়াছি বলে মনে করিতে পারিনা !'
'উহা তোমারই আসলরূপ ! যাহা অঙ্কিত হইয়াছে । তুমি পূর্বের জায়গায় নিমজ্জিত হও !'
ঈশ্বরের দূত পুনরায় খালেদা চাচীকে জাহান্নমে ঠেলিয়া দিলেন ।
...

হাসিনা আন্টি অকস্মাত প্রশ্নের সম্মুখিন হইলেন । ঈশ্বর জানতে চায়লেন,--
'চ্যানেল ওয়ান বন্ধের বিষয়ে তুমি কি জানো ?'
: উহারা দেশের টেলিযোগাযোগ আইন অমান্য করিয়াছে , হুজুর !
'শুনা যায়, তোমর বিরোধী পন্থী চ্যানেল হওয়াতে উহাকে বন্ধের নির্দেশ দিয়াছো ?'
: খুবই অসত্য কথা হুজুর !
'বেশ ! তাহা হইলে এইবার বলো দেখি, ফেসবুক কি কারণে বন্ধ করিয়াছিলা ?'
: প্রিয় নবীজির নামে উহারা কুতসা রটায়তেছিলো !
'কিন্তু সেই ঘটনারও অনেক পরে তোমরা তাহা বন্ধের হুকুম দিয়াছিলা !'
: হুজুর , উহারা খারাপ ছবি প্রচার করিতো ?
'তুমি কি , এইরকম ছবির কথা বলিতেছো ?' বলিয়া ঈশ্বর খালেদা চাচীর বক্রমুখী ছবি হাসিনা আন্টিকে দেখাইলেন ।
: জ্বি নহে জনাব, ইহাতো যথার্থ ছবি !'
'তবে কি তুমি এইরকম ছবির কথা বলিতেছো ?' এইবার হাসিনা চাচীর দাঁত উঁচু ছবিখানা ঈশ্বর মেলিয়া ধরিলেন এবং যথারীতি কবির মতোই হাসিনা আন্টি এইবেলা নীরব রহিলেন !

ঈশ্বর এইবার জনৈক নায়িকার নগ্ন একখানা ছবি হাসিনা চাচীকে দেখাইলেন,-
'তবে কি তুমি এইরকম ছবির জন্যই ফেসবুক বন্ধ করিয়াছিলা ?'
:আপনি যথার্থ ধরিয়াছেন হুজুর !
'বহু বছর ধরিয়া নগ্ন ছবিতে তোমার দৃষ্টি পড়েনাই । যেই উচুঁ দাঁতী ছবি দিয়া তোমার ইজ্জত নগ্ন করা হইলো, সেই তোমার বিবেক খাড়া হইলো ! তুমি পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরিয়া যাও ।'

ঈশ্বরের দূত হাসিনা আন্টিকে নীল জাহান্নামে ছুঁড়িয়া ফেলিলেন !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29165398 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29165398 2010-05-29 23:08:52
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা - ৫২ (আমার কৈফিয়ত - কাজী নজরুল ইসলাম । ১১১তম জন্মজয়ন্তীতে কবিকে অভিবাদন)
"যদি আর বাঁশি না বাজে... আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন, ভুলে যাবেন..."

ভুলে যেতে বলাটাই কবিকে মনে করিয়ে দেয় বারবার। আমরা ভুলতে পারিনা সাম্যের গান । আমরা ভুলতে পারিনা বৈষম্য বিরোধী গান । আমরা ভুলতে পারিনা কি দারুণ সাহসে কবি বলে গেছেন -- "তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান, সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ !"
প্রাণের ভেতরের যে সত্য , যে ধর্ম, তার উপর কোন ধর্ম নেই, নজরুলই আমাদের শিখিয়ে যান । কবি তার প্রথম সন্তানের নাম রাখেন "কৃষ্ণমোহাম্মদ"--ধর্মের উপরে যে মানুষ সত্য, ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবার আগে আমরা যে মানুষ , তার অসাধারণ উদাহরণ এভাবেই কবি নজরুল (মে ২৫, ১৮৯৯ — আগস্ট ২৯, ১৯৭৬) রেখে যান । আর তাই আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কবি বেঁচে থাকেন ভালোবাসার উষ্ণতায়, আপন উজ্জ্বলতায়, । যে উজ্জ্বলতার জন্য কবির সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকার উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,-

"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দূর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন অলক্ষণের এই তিলকরেখা , রাতের ভালে হোক না লেখা জাগিয়ে দেরে চমক মেরে আছে যারা অর্ধচেতন !"

উল্লেখ্য, ১৯২২ সালের শারদীয় সংখ্যা ধূমকেতুর দুটি কবিতার জন্য কবিকে ১ বছর কারাবরণ করতে হয় । কবিতা দুটো যথাক্রমে 'আনন্দময়ীর আগমন এবং বিদ্রোহীর কৈফিয়ত' (খন্ড-ত হীনতায় ভুগছি)!

এই ধারাবাহিক প্রিয় কবিতার সিরিজে ইতোমধ্যে নজরুলের 'মানুষ' এবং 'সাম্যবাদী' কবিতা দু'টো যুক্ত হয়েছে । আজ "আমার কৈফিয়ত" কবিতাটি যুক্ত করলাম । যে কবিতা পাঠে কবিমানস আমদের চোখে আরো বেশী স্পষ্ট হবে বলে বিশ্বাস ।


আমার কৈফিয়ত

কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে!
বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটিক্সের পাশ ঠেলে’।
পড়ে না ক’ বই, ব’য়ে গেছে ওটা।
কেহ বলে, বৌ-এ গিলিয়াছে গোটা।
কেহ বলে, মাটি হ’ল হয়ে মোটা জেলে ব’সে শুধু তাস খেলে!
কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো ফের যেন তুই যাস জেলে!

গুরু ক’ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা!
প্রতি শনিবারী চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা!’
আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি!’
অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি।
সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা ক’ন, আড়ি চাচা!’
যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা!

মৌ-লোভী যত মৌলবী আর ‘ মোল্‌-লা’রা ক’ন হাত নেড়ে’,
‘দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!
ফতোয়া দিলাম- কাফের কাজী ও,
যদিও শহীদ হইতে রাজী ও!
‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!
হিন্দুরা ভাবে,‘ পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা’ত-নেড়ে!’

আনকোরা যত নন্‌ভায়োলেন্ট নন্‌-কো’র দলও নন্‌ খুশী।
‘ভায়োরেন্সের ভায়োলিন্‌’ নাকি আমি, বিপ্লবী-মন তুষি!
‘এটা অহিংস’, বিপ্লবী ভাবে,
‘নয় চর্‌কার গান কেন গা’বে?’
গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কন্‌ফুসি!
স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের আঙ্কুশি!

নর ভাবে, আমি বড় নারী-ঘেঁষা! নারী ভাবে, নারী-বিদ্বেষী!
‘বিলেত ফেরনি?’ প্রবাসী-বন্ধু ক’ন, ‘ এই তব বিদ্যে, ছি!’
ভক্তরা বলে, ‘নবযুগ-রবি!’-
যুগের না হই, হজুগের কবি
বটি ত রে দাদা, আমি মনে ভাবি, আর ক’ষে কষি হৃদ্‌-পেশী,
দু’কানে চশ্‌মা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ’তেছে নিদ্‌ বেশী!

কি যে লিখি ছাই মাথা ও মুণ্ডু আমিই কি বুঝি তার কিছু?
হাত উঁচু আর হ’ল না ত ভাই, তাই লিখি ক’রে ঘাড় নীচু!
বন্ধু! তোমরা দিলে না ক’ দাম,
রাজ-সরকার রেখেছেন মান!
যাহা কিছু লিখি অমূল্য ব’লে অ-মূল্যে নেন! আর কিছু
শুনেছ কি, হুঁ হুঁ, ফিরিছে রাজার প্রহরী সদাই কার পিছু?

বন্ধু! তুমি ত দেখেছ আমায় আমার মনের মন্দিরে,
হাড় কালি হ’ল শাসাতে নারিনু তবু পোড়া মন-বন্দীরে!
যতবার বাঁধি ছেঁড়ে সে শিকল,
মেরে মেরে তা’রে করিনু বিকল,
তবু যদি কথা শোনে সে পাগল! মানিল না ররি-গান্ধীরে।
হঠাত জাগিয়া বাঘ খুঁজে ফেরে নিশার আঁধারে বন চিরে’!

আমি বলি, ওরে কথা শোন্‌ ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস্‌ খোশ্‌-হালে!
প্রায় ‘হাফ’-নেতা হ’য়ে উঠেছিস্‌, এবার এ দাঁও ফস্‌কালে
‘ফুল’-নেতা আর হবিনে যে হায়!
বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায়
গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা! সেই তালে
নিস্‌ তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে।

বোঝে না ক’ যে সে চারণের বেশে ফেরে দেশে দেশে গান গেয়ে,
গান শুন সবে ভাবে, ভাবনা কি! দিন যাবে এবে পান খেয়ে!
রবে না ক’ ম্যালেরিয়া মহামারী,
স্বরাজ আসিছে চ’ড়ে জুড়ি-গাড়ী,
চাঁদা চাই, তারা ক্ষুধার অন্ন এনে দেয়, কাঁদে ছেলে-মেয়ে।
মাতা কয়, ওরে চুপ্‌ হতভাগা, স্বরাজ আসে যে, দেখ্‌ চেয়ে!

ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত, একটু নুন,
বেলা ব’য়ে যায়, খায়নি ক’ বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন।
কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়,
স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায়!
কেঁদে বলি, ওগো ভগবান তুমি আজিও আছে কি? কালি ও চুন
কেন ওঠে না ক’ তাহাদের গালে, যারা খায় এই শিশুর খুন?

আমরা ত জানি, স্বরাজ আনিতে পোড়া বার্তাকু এনেছি খাস!
কত শত কোটি ক্ষুধিত শিশুর ক্ষুধা নিঙাড়িয়া কাড়িয়া গ্রাস
এল কোটি টাকা, এল না স্বরাজ!
টাকা দিতে নারে ভুখারি সমাজ।
মা’র বুক হ’তে ছেলে কেড়ে খায়, মোরা বলি, বাঘ, খাও হে ঘাস!
হেরিনু, জননী মাগিছে ভিক্ষা ঢেকে রেখে ঘরে ছেলের লাশ!

বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,
মাথায় উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।
প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১ (পুর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-- ২ (যদি নির্বাসন দাও--সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩ (কেউ কথা রাখেনি ---সুনীল)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৪ (অন্ধকার--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৫ (হায় চিল--জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৬ (গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর- আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৭ (মায়ের সুখ--ফজলুল বারী বাবু)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৮ ( নারী--সুনীল )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১০ ( ছিন্নমুকুল--সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১১ ( শুদ্ধ করো আমার জীবন --মহাদেব সাহা)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১২ ( বদলে যাও, কিছুটা বদলাও--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৩ ( আমি কিংবদন্তির কথা বলছি --আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৪ ( চিঠি দিও---মহাদেব সাহা )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৫ (নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়--হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৬ (ফেরীঅলা --হেলাল হাফিজ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৭ (মানুষ -কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৮ (ছাড়পত্র --সুকান্ত ভট্টাচার্য )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ১৯ ( সত্যবদ্ধ অভিমান --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২০ ( আসাদের শার্ট--শামসুর রাহমান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২১ (ওটা কিছু নয়--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২২ ( মানুষ--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৩ ( বাতাসে লাশের গন্ধ --রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৪ ( সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় --জীবনানন্দ দাশ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৫ ( আসমানী প্রেম--নির্মলেন্দু গুণ)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৬ (উচ্চারণগুলি শোকের--আবুল হাসান)

ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৭ (আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্ক্ষল--আবুল হাসান)
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৮ (পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা । কথোপকথন ৩৯)

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে কবিকে স্মরণ । ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-২৯ (সাম্যবাদী--কাজী নজরুল ইসলাম )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩০ (খেলাঘর--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩১ (উল্টোরথ--নির্মলেন্দু গুণ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩২ (কোথায় গেল, কোথায়--সুনীল)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৩৩ (লোকটা জানলই না--সুভাষ মুখোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৪ (দোতলার ল্যন্ডিং,মুখোমুখি দু'জন--আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৫ (আমি কোনো আগন্তুক নই --আহসান হাবীব)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৬ ( যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৭ ( চতুর্দশপদী কবিতাবলী -শক্তি চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৮ ( এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি--আবিদ আজাদ)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৯ (উটপাখি--সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪০ (মুখোশ--বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪১ ( যে শহরে আমি নেই আমি থাকবো না--আবিদ আজাদ )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪২ ( বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা--জয় গোস্বামী )]
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৩ ( রিক্সাওয়ালা--অরুণ মিত্র )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৪ ( আপনি বলুন, মার্কস --মল্লিকা সেনগুপ্ত )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৫ ( দিন আনি, দিন খাই --তারাপদ রায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৬ ( চাবি --শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৭ ( আমার হবেনা, আমি বুঝে গেছি --আবুল হাসান )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৮ ( অদ্ভুত আঁধার এক-- জীবনানন্দ দাশ )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৪৯ ( একবার তুমি -শক্তি চট্টোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় )
ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫১ ( আপন মানুষদের কাছে ফিরে যাবো-মহাদেব সাহা )


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29162231 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29162231 2010-05-25 01:29:08
ঈশ্বরের দরবারে হাসিনা, খালেদা এবং এরশাদ : রাজনৈতিক (অতি অবাস্তব) কৌতুক -১
ঈশ্বরের দরবারে সওয়াল -জওয়াব চলছে । প্রথমেই হাসিনা আন্টির কাছে ঈশ্বর জানতে চায়লেন,-

'১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানের ঘোষণা তুমি দিছিলা ?'
- জ্বি জ্বনাব, দিছিলাম !
'পরে অস্বীকার করলা ক্যান ?'
-অস্বীকার আমগোরে করতে অয়, রাজনীতিতে যে যতো মিছা কইতে পারে, সকালের কথা বিকালে অস্বীকার করতে পারে, সে ততো বড়ো রাজনীতিবিদ !
'অ ! তোমার দেশের রাজনীতি দেখি খুবই খারাপ জিনিস !'
- তা.. খা..রা..প ই !
'মরণের আগ পর্যন্তওতো সেই খারাপ রাজনীতি ছাড়লা না । একবার বলছিলা ৫০বছরের বুড়ি হইলে রাজনীতি ছাড়বা,৫০ পার হইয়া যাওনের পর সেই কথা আর মনেও আনলা না ক্যান ?
--রাজনীতি ছাড়লেতো গুরুত্বহীন হইয়া যায়তাম হুজুর ! রাজনীতিতে থাকলে আমরা পাঁদ বিসর্জন করলে সেইটাও খবর ! আমগো কথা-ই সংবাদে লিড নিউজ হয় ! মিছা কই জায়নাও বোকা জনতা সেইটা শোনার লাইগা কান পাইতা রাখে !
'হুমম ! এই মুহূর্তে একটা সত্য কথা কওতো দেখি !'
-জীবনভর জনগণের কথা ভাবছি, তাগো সুখ শান্তির কথা..!'
--স্টপ ! মিছা রাজনীতি অহনও ছাড়তে পারো নাই দেখতেছি..জাহান্নামে যাও ! গো টু হেল !

................


ঘোমটা টানা খালেদা চাচী এইবার ঈশ্বরের মুখোমুখি হলেন ! ঈশ্বর বললেন,-
'তোমার বিষয়ডা কি কওতো, সারাক্ষণ এতো সাজু-গুজু কইরা থাকো ক্যান ?'
--পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমাণের অঙ্গ , হুজুর..!
'কিন্তু এইভাবে চুল ফুলায়া..এইসব..যাইহোক, তুমি একবার হঠাত কইরা একটা খেইল দেখাইলা , চিটাগং এর মেয়র নির্বাচনে তোমার দলের সদস্যপদও নাই এমন একজনরে সমর্থন দিলা, এইটা কি হইলো ?'
-এইটা একটা চালবাজী জ্বনাব ! আমগো এগুলা নিজেগো মধ্যে কামড়া-কামড়ি করতেছিলো, আমি এমন একজনরে সমর্থন দিলাম, যে আমার দলের ভোট পায়বো এমনকি প্রতিপক্ষ দলের কিছু ভোট কায়টা আনবো !
'হুঁমম ! কিন্তু তোমগো স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা দেশের বিরোধীতা করছে, শিশুদের হত্যা করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে , তাগো লগে কাঁধ মিলায়া ক্ষমতায় গেলা ; এইটার ব্যাখ্যা কি ?"
--রাজনীতির স্বার্থে এইসব ময়লা -আবর্জনার লগে জোট করছি হুজুর , ক্ষমা কইরা দেন ! আমগো প্রতিপক্ষও তাগো লগে কাঁধ মিলায়া একসময় আন্দোলন করছে , একই মঞ্চে পাশাপাশি বইসা বক্তিমা দিছে.. !
'চোপ !অন্যজন গু ভক্ষণ করছে বইলা তুমিও গু ভক্ষণ করবা, এইটাতো কোন কথা না !'
-তা ঠিক হুজুর ! ক্ষমা কইরা দেন !
'ক্ষমা করতে পারি, যদি এই মুহূর্তে একটা সত্য কথা কও !'
-আমার দুই পোলা নির্দোষ ; মইনু ফখরুরা হুদাই তাগোরে ফাঁসানের..!
'চোপ...মালয়েশীয়ার ব্যাঙ্কের টাকাগুলার ক্যামনে কি সেইটা এখন মাহাথীর রে ডাকাইয়া প্রমাণ করতে পারি, কিন্তু আমি সেইটা করবো না ! আমি যেইটা করবো তা হলো, তোমারে জাহান্নামের রাস্তা দেখায়া দিমু ..যাও..জাহান্নামে পতিত হও !

....................

সামনের দুইজনের অবস্থা দেইখা হাঁটুকম্পন নিয়া এরশাদ কাগু ঈশ্বরকে সালাম দিলেন,
--আসসালামু আলায়কুম !
'তোমারে লুইস এরশাদ বলা হয় কেন ?'
--আপনি সর্বজ্ঞাত, সব জানেন, জ্বনাব !
'ধাপ্পাবাজী করো ? তোমার মুখ থেইকা শুনতে চাই !'
-তো.....তো.....তো...
'আচ্ছা, তোমার ক্ষমতার ন'বছরে বাংলাদেশে দূর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়ছে, এই বিষয়ে তোমার মত কি ?'
--আমার বিরুদ্ধে বিরাট অপপ্রচার , জ্বনাব !
'আচ্ছা আচ্ছা ! তাইলে এই মুহুর্তে যে কোন একটা সত্য কথা কও !'
--এরিখ আমার পোলা...!
'তোমার একসময়ের প্রেমিকা জিনাত কিন্তু এই বিষয়ে তার মত দিছে এইভাবে,-- এরশাদের যদি সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা থাকতো, তো বাংলাদেশ কচি -কাচার আসরে ভরে যেতো !'

তাইলে আমি তোমারে এই মুহূর্তে একটা কথাই কয়তে পারি,- তুমি হাবিয়া দোজখে নিমজ্জিত হও !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29158543 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29158543 2010-05-20 00:39:42
সীমান্তে বিএসএফ এর অবৈধ অনুপ্রবেশ, নতজানু পররাস্ট্রনীতিকে ধিক্কার

বিএনপি -জামাত জোটের রাজনীতির একটা বড়ো প্রচার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ ভারত হয়ে যাবে । আদতে সেরকম সম্ভাবনা না থাকলেও ভারতের প্রতি আওয়ামীলীগের দুর্বলতার ফলে নতজানু পররাস্টনীতির চরম উদাহরণ হৃদয়, কর্ণ এবং দৃস্টি পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । বরাবরই পাখির মতো বাংলাদেশী শিকার করছে বিএসএফ । সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত এর জোরালো কোন প্রতিবাদ পাওয়া যায়নি । সেটা আওয়ামী সরকারের এই সময়েতো বটেই এমনকি ভারত নিয়ে রাজনীতি প্রিয় বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলেও নতজানু পররাস্ট্রনীতির চিত্র এরচে' উন্নত ছিল বলে দাবি করা যাবেনা ।


গতকালের ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াতে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-- "এটা দুঃখজনক !"
আমাদের অদক্ষ পররাস্ট্রমন্ত্রী এটাকে 'বিচ্ছিন্ন" ঘটনা বলে অভিধা দিয়েছেন । দিপুমণি ম্যামকে বিনয়ের সঙ্গে বলা যায়, যারা বাবা, ভাই, স্বামী হারায় বিএসএফ এর বর্বরতায়, বিচ্ছিন্নতা শব্দটা তারা বুঝেন না । কিম্বা আপনার পিতা ভ্রাতা অথবা স্বামী বিএসএফ এর বর্বর হত্যার শিকার হলে নিশ্চয় তখন আর সেটা আপনার কাছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হবেনা । বিএসএফ কর্তৃক আরো কতো বাংলাদেশীকে হত্যা করা হলে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে অভিধা পাবেনা, দীপুমণি কি তা বলতে পারেন ?

শেখ হাসিনার চীন যাত্রার দিনে ভারতের ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার আড়ালে ভারত আমাদের কি মেসেজ দিতে চায় ? ভারত কি চায়না চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক ? ভারত কি তা চায় ?

শেখ হাসিনা কি একটা ফোন করে ভারত সরকারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এইরকম বন্ধুত্বের নিদর্শন আর কতোকাল চলবে ?


সামন্তবাদী ভারতের এমন ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই । ধিক্কার নতজানু পররাস্ট্রনীতিকে ।

ভারতের জঘণ্য আচরণ সম্পর্কিত পত্রিকার কিছু রিপোর্ট : -



সমকাল রিপোর্ট

আমার দেশ

আজ ১৫ তারিখের আপডেট নিউজ হলো, এই ঘটনায় বিডিআর বিএসএফ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে ফের । "এভাবে আর গুলি করবেনা বলে বিএসএফ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলা হয়েছে । প্রশ্ন হলো, আগে কি এরকম প্রতিশ্রুতি বিএসএফ আর দেয়নি কোনদিন ? দেখার বিষয় এই প্রতিশ্রুতি কতোদিন মেয়াদে টিকে থাকে ।


সংযুক্তি :



ভারতের জনৈক পররাস্ট্র সচীব বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে কথা দিয়ে গেছেন, আগামী একবছর বিএসএফ আর একতরফা গুলি চালাবেনা ।

তেনার উদ্ধৃতিটি নানাকারণে আমোদজনক । কারণ, এই উদ্ধৃতি থেকে যে সত্যগুলো বেরিয়ে আসে, তা হলো,-

১. ভারত যে একতরফা গুলি চালিয়ে বাংলাদেশী হত্যা করে, অবচেতনে সেই সত্য স্বীকারুক্তি । ২.বাংলাদেশীদের গুলি করে মেরে ফেলাটা ভারতীয়দের ইচ্ছাধীন । ইচ্ছা হলো, একবছর বিরতি নিলেন। ইচ্ছে হলেই আবার গুলি করে বাংলাদেশী হত্যার কাজটা নিষ্ঠার সঙ্গেই তারা শুরু করবেন ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29116827 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29116827 2010-03-15 16:08:27
ছোটগল্প : ঠোঁটবাঁকা লুৎফরের জীবনচরিত এক


লুৎফরের ভোর যেখানটাতে রাত্রিতে গড়ায় সেখানটায় ফুল কিশোরী জোবেদা ফুল বিক্রি করে মায়ের পথ্য যোগায়, সেখানটায় গঞ্জিকাসেবী দু'জন তরুণকে দু'টো গাঁজাভর্তি সিগারেট মুখে পুড়ে লাল চোখে ফুটপাথে বসে থাকতে দেখা যায়, সেখানটায় সুগন্ধি তরুণীদের চলার ছন্দে তাদের বুকের যুগল নৃত্য সুবেশী সাহেবদের জৈবিক চোখগুলোকে লোভাতুর করে তোলে, সেখানটায় রিক্সাচালক রইসুদ্দিনও ওঁতপেতে থাকে, সাহেবদের পরিপাটি বেশ-ভূষার সঙ্গে তার ফারাক বিস্তর হলেও, সেই একই লোভাতুর জৈবিক চোখ রইসুদ্দিনেরও; সেখানটায় তরুণীরা ওড়না জড়িয়ে বুক ঢাকার প্রবণতাকে পশ্চাদপদ ফ্যাশন বলে চিহ্নিত করে আঁটসাঁট জামায় দিব্যি আধুনিক হয়ে ওঠবার পাশাপাশি তরুণদের তালিযুক্ত জিন্সের ফ্যাশন পশ্চাৎ বেয়ে নেমে পড়তে চায়লে, সেটাকে টেনে তুলে তরুণরা হাল ফ্যাশনের পতন ঠেকায় ; সেখানটায় স্থুল রমণীরা থপথপ কষ্টে সিঁড়ি ভেঙ্গে শপিং মলে প্রবেশ করলে তাদের গা থেকে ডিওডোরান্ট এর গোলাপ গন্ধ কিম্বা টকটক ঘামের গন্ধ পেছনে পড়ে থাকলে, এদোকান-সেদোকান ঘুরে শেষে নয় হাজার নয়শত নিরান্নবই টাকায় মোটামুটি পছন্দসই একখানা শাড়ি কিনে তারা নিজেদের প্রাইভেট গাড়িতে ফিরে এলে, গাড়ি চালক যতো দ্রুত সম্ভব যথাযথ সম্মানে হাতের জ্বলন্ত ক্যান্সারের মায়া ত্যাগ করেন, বিনয়ে গদগদ হয়ে গাড়ির দরোজা খুলে ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন, গাড়িতে ওঠবার ঠিক আগে আগে যখন সেইসব ভদ্রমহিলাগণের পুষ্ট সাদা পায়ের প্রায় আধখানা প্রদর্শিত হয়, তখন রোজ রোজ একই দৃশ্য দেখবার ক্লান্তিতে লুৎফরের হায় ওঠে, তখন পাশ থেকে লুৎফরের একই পেশার সহকর্মী ভিক্ষুক মজনু মামা আওয়াজ তোলেন, -

-ভাইগ্না ; ওই খোদার খাসীটার কয়মন ওজন হইতে পারে, কওতো ?
-কোন খোদার খাসী, মামা ?
-আরে, ওই যে এইমাত্র গাড়িতে ওইঠা গেল !
-ও...! বলে লুৎফরের বাঁকা ঠোটের অন্য প্রান্তে এক ঝলক হাসির মতো কিছু একটা মিলিয়ে যেতে থাকলে মজনু মামা বলেন,
- হাইসোনা ভাইগ্না; একটা অনুমান দেওতো দেখি !
-আমি খিয়াল করি নাই , মামা !
- খিয়াল করবানা ক্যান ? আমগো গরীবের হক মাইরা খাইয়া এইগুলানের পেটে কেমন চর্বি জমছে, খিয়াল করণ দরকার না ?

দরকার কি দরকার না, সে বিষয়টা পরিস্কার হবার আগে 'গরীবের হক মাইরা খাওনের' এই ব্যাপারটা সবে কৈশোর উত্তীর্ণ লুৎফরের অনুচ্চ এন্টেনায় পুরোপুরি ধরা না পড়া হেতু, এ বিষয়ক মন্তব্য দানে সে নিজেকে বিরত রাখা সমীচীন মনে করলে মজনু মামা বলে উঠেন,- মাশাল্লাহ ! যা দেখলাম ভাইগ্না; গা থেইকা মাংস ফাইটা পড়নের দশা !

তৃতীয় পক্ষের কোন শ্রোতা যেমন আমি, এ আলাপচারীতা শুনে ফেললে দ্রুত একটি রেখা টেনে ফেলতে সমর্থ হই, ধনী-দরিদ্রের সেই চিরাকালীন বৈষম্য থেকে জন্ম নেয়া ঘৃণার সহজাত প্রকাশ, গুরুত্বহীন মানুষদের এই কথাগুলোকে অধিক গুরুত্ব দেবার কিছু নেই !


কিন্তু যখন, লুৎফরের নাসিকা রন্ধ্রে বেলী ফুলের সুবাস হামাগুড়ি দিতে থাকে, যখন দোর্দান্ড প্রতাপে জেসমিনের সৌরভ বাতাসকে দখল করে নেয়, সুগন্ধি সেইসব তরুণীরা যখন উচ্ছল আমোদে তরুণ বন্ধুদের গায়ে ছলকে পড়তে পড়তে হাসির ফোয়ারা ছোটায়, দু'জন তরুণ-তরুণীর দু'টি প্রিয় হাত যখন আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে পরস্পরের সঙ্গে লতিয়ে যেতে চায়, তখন যখন ফুল কিশোরী জোবেদা বাহারি ফুলের সৌন্দর্য সাজিয়ে তরুণ সংঘের সমুখে নিজের অস্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে, তখন যখন এক গোছা হরিৎ শুভ্র রজনীগন্ধার সৌন্দর্য তরুণীর চুলে গুঁজে দেয় তরুণ, বৈদ্যুতিক তারের কাকের এ দৃশ্য অবলোকনে উৎফুল্ল হয়ে ওঠলে, কা কা রবের তারস্বরে বিমুগ্ধ আনন্দের প্রকাশ ঘটালে যখন অদূরে উৎকট রং-চঙ্গা কথিত পতিত নারীরা 'পক্ষী' শিকারে বের হয়, তখন লুৎফরের মুখ তুলে তাকাতে ইচ্ছা করে, মাথা তুলে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে, খুব ইচ্ছা করে যেমন,- উন্নত শিরে দাঁড়িয়ে থাকে সাম্রাজ্যসম বিশাল এই শপিং মল, তার লাঠিয়াল গার্ডরা, এমনকি যেমন বুক চেতিয়ে মাথা উচুঁ করে দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকে সুবর্ণ পরিচ্ছদে আচ্ছাদিত প্রাণহীন মেনিকিন এবং মলের সামনের জড় ল্যাম্পপোস্টগুলো, তেমন বুক চেতিয়ে দাঁড়াতে গেলে ঠোঁটবাঁকা লুৎফরের এবড়ো-থেবড়ো মুখ আর বিসদৃশ মস্তক মাটির কি এক অদ্ভূত মধ্যাকর্ষণ টানে আরো বেশী অবনত হয়ে গেলে লুৎফরের মনে পড়ে, ঈশ্বর সৃষ্ট কুৎসিত চেহারা আর প্রতিবন্ধী শরীরের অপরাধে, লুৎফর নামের মাতৃহারা সন্তানটিকে শৈশবেই এক রাতে তার পিতা জনতার ভিড়ে নির্বাসন দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন !


দুই



সে রাতের আকাশটি উজ্জ্বল ছিল, জ্বলজ্বলে তারকারা জ্বলছিল, চাঁদের বুড়ি জেগেছিল রূপালী চাঁদের গায় ! সে দীর্ঘ যাত্রাপথের পাশে জল টলটল ঝিল ছিল, ঝিলের হাওয়ায় জলতরঙ্গ ছিল, ঝিলের জলে চাঁদ ডুবেছিল, এমনকি জলতরঙ্গে একটা চাঁদ মুহূর্তেই একশ'টা চাঁদ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি একশ'টা চাঁদ দীর্ঘ সার বেঁধে ঝিলের জলে ডুব সাতার খেলায় মেতেছিল, এমনকি আকাশের চাঁদটা ততোক্ষণ পর্যন্ত লুৎফরদের সঙ্গে সঙ্গে গিয়েছিলো, যতোক্ষণ পায়ে হেঁটে তারা সে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিল !

সে রাতে লুৎফর তার বাপজানের হাত ধরে, কতোখানি বা বাপজানের ঘাড়ে চড়ে, আবার কতোখানি পায়ে হেঁটে, আবার বাপজানের ঘাড়ে চড়ে..এভাবে ক্রমান্বয়ে যখন বাসন্তিপুর থেকে নয়মাইল দূরের গন্তব্য, লাল চাদরে ঘেরা সামিয়ানা টানানো সার্কাস মাঠে গিয়ে পৌঁছেছিল, তারও আগে সেই সন্ধ্যায়, যখন একটু একটু রাত নেমেছিল বাসন্তিপুর, একটু একটু জমে ওঠছিল মোড়ের দোকান, জমে ওঠছিল দুই টাকায় গরুর খাঁটি দুধের সর ভাসা দুধ চা; যখন বাসন্তিপুরের প্রাচীন শিমুল গাছে একটু একটু বাজছিল সমবেত পাখিদের সূর, তখন যখন লুৎফরদের পেয়ারা বাগানে ঝিঁ ঝিঁ পোকারা ডাকছিল, জোনাক পোকারা তাদের প্রাকৃতিক বাতির জ্বলা-নেভা, নেভা -জ্বলার স্বয়ংক্রিয় সুইচটি চালু করেছিল, তখন যখন লুৎফরদের পাশের বাড়ির আবুল মুন্সির গোয়াল ঘর থেকে সন্ধ্যাগত সদ্যজাত গো-বাচুরটি করেছিল হাম্বা রব, বাড়ির পেছন দিককার মজা পুকুর পারে লুৎফর তখন তার বাপজানের সঙ্গে বসেছিল, জোটবদ্ধ মশাদের হুল ফুটানো উৎপাত সইতে না পেরে লুৎফর বলেছিলো,-

- বাপজান; ঘরে যামু !
- ঘরে যামু নারে বেটা !
- ক্যান, বাপজান ?
- তোরে আইজ এক আচানক জিনিস দেখাইতে নিয়া যামু !
- কি জিনিস , বাপজন ?
- সার্কাস !
- সার্কাস কি ?
- না দেখলে এই জিনিস তোরে বুঝান যায়বো না রে, বাপ ! শূন্যে ঝুলাইন্যা দরির উর্পে দিয়া তোর মতন ছোড পোলাপাইন হাঁইটা যায় !
- আমিও কি দরির উর্পে দিয়া হাঁটুম, বাপজান ?
- না রে বাপ; তুই দরির উর্পে হাঁটতে পারবি নাতো !
- পারুম না ক্যান, বাপজান ?
- তোর কি তাগো মতন 'পেকটিস' আছে রে বেটা !'
- বাপজান; পেকটিস থাকলে কি অয় ?
- তাগো মতন আচানক খেইল দেখান যায় !
- আমিও তাইলে পেকটিস করুম ,বাপজান !
- তোরে দিয়া অয়বোনা রে , বাপ !
- ক্যান অয়বোনা ?
- তোর যে একটা পা ছোড ! ডান পার চায়তে বাম পাডা ছোডতো...!


এই পর্যায়ে কথোপকথনের এই জায়গায়, অকস্মাৎ অপ্রস্তুত নীরবতা নেমে এলে লুৎফর এবং তার বাপজানের মনোঃজগতে দিগন্ত রোখার অস্পষ্ট, অস্পৃশ্য অন্ধকারের মতো একটা বিষাদ রেখা দাগ বসাতে চায়লে লুৎফরের বাপজান তাগাদা লাগান,-

- বেটা চল যাই !
- আমরা কি অক্ষণই যামু ?
- হ; অক্ষণই !


রাত দুপুরে লুৎফররা যখন সার্কাস মাঠে গিয়ে পৌঁছেছিল, লুৎফরের বাপজান যখন লুৎফরকে বাঁশি কিনে দিয়েছিল,-বেলুন বাঁশি, যে বাঁশিতে ফুঁ দিলে বেলুন ফুলতে থাকে, ফুঁ বন্ধ করলে হাওয়া সরে বেলুন চুপসে যেতে যেতে বাঁশি বাজতে থাকে, সেই বাঁশি হাতে ধরে চিড়ার মোয়া খেতে খেতে লুৎফর যখন সার্কাস দেখছিল, দেখছিল- লোহার রিং এর ভেতর জ্বলন্ত আগুন, লাল আগুনের ভেতর দুরন্ত লাল কুকুর দশ সেকেন্ডে লাফায় দশবার, যখন দেখছিল এক চাকার চলন্ত সাইকেলে পরস্পরের কাঁধে চড়ে অনন্য ক্ষিপ্রতায় বারো দফায় উঠে পড়ে বারোজন মানুষ বারোবার চোখের পলক ফেলবার আগেই; তারপর যখন মানুষের দলটি মুহূর্তেই মূর্তিমান এক মিনারে পরিণত হয়, তা দেখে লুৎফরের দৃষ্টি বাসন্তিপুর হাইস্কুল মাঠের শহীদ মিনারটির সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পেলে দর্শক সারির সব মানুষের সঙ্গে লুৎফরও দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়, তখন স্থির মানুষদের মূর্তিমান মিনার শিখরে সমবয়সী শিশুটিকে দেখে বিস্ময়াভিভূত লুৎফর বাপজানের হাত ধরে কিছু বলতে গেলে আবিস্কার করে, তার ডান পাশে বাপজানের আসনটি শূন্য !


তারও অনেক পরে, সার্কাস মাঠটিও ধীরে ধীরে শূন্য হয়ে ওঠলে, শূন্য চেয়ারগুলো ছাড়া যখন আর কোন জনমানব অবশিষ্ট থাকেনা, তখনও যখন লুৎফরের বাপজান ফিরে না আর, ঠোঁটবাঁকা লুৎফরের দুঃখী হৃদয়টা যখন গলতে শুরু করে, গলে গলে চোখের নদী হয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে, তখনও যখন আকাশের তারারা জ্বলছিল, তখনও যখন লুৎফরের যাত্রাসঙ্গী চাঁদটা উঁকি মেরে মেরে লুৎফরকে দেখছিল, চোখের সামনে লুৎফর তখন একটি মুখ দেখতে পায়, মায়ের মুখের মতো মুখ, মায়ের অবয়বের মতো মুখটি লুৎফরের কাছে এলে, তার মাথায় হাত রাখলে সে বুঝতে পারে, মায়ের মতো দেখতে হলেও-এটি মা নয় ! জন্মদাত্রীকে সে হারিয়ে এসেছে আঁতুরঘরেই !

তবু, মমতাময়ী মুখটি যখন লুৎফরকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিল, লুৎফরের কষ্ট উবে গিয়েছিল, লুৎফরের দুঃখী হৃদয় গলে গলে পড়া বন্ধ হয়েছিল, এমনকি শান্তি শান্তি অনুভব হয়েছিল !



তিন


শিশুরা খেলাঘর করে ।
তারা হাঁড়ি - পাতিল, বাসন- কোসন নিয়ে
বড়োদের মতো সংসার সংসার খেলে ।
তারপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
ঘুম ভাঙ্গার পর শুরু হয় তাদের অন্য খেলা ।
এক্কা- দোক্কা, গোল্লাছুট কিংবা
কানামাছি ভোঁ ভোঁ !

যেমন শিশুদের দেখে কবি নির্মলেন্দু গুণ এমন কবিতা লেখেন, যেমন শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলে যায়, পথিমধ্যে বাবার আদরে ড. ইউনুসের শক্তি প্লাস খায়, স্কুলে সহপাঠীদের খেলাঘরের খেলার অংশীদারিত্ব পায়, এবং বাসায় ফিরে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লে, কপালে মায়ের নরম আদর পায়, লুৎফর তেমন শিশু ছিলনা বলে, আশৈশব লুৎফরের ঠোঁটবাঁকা ছিল বলে, কিম্ভুত কিমাকার দর্শন ছিল বলে, খাটো বাম পায়ের দুর্বলতায় লুৎফর খুঁড়িয়ে চলতো বলে, সুপাঠ্য কোন কবিতা লুৎফরকে নিয়ে রচিত হয়নি বলে, যখন লুৎফরের পিতা তাকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জালের মতো ত্যাগ করে যান, এবং বাসন্তিপুরের বাতাসি বেগমকে বিবাহ করে সুখের সংসার সাজান, যখন সার্কাস মাঠের মমতাময়ী মুখটি লুৎফরের আশ্রয়দাত্রী হন, লুৎফর তাকে মা বলে ডাকতে শুরু করলে যখন তিনি তাকে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন, লুৎফরের স্কুল জীবনের তিন মাস তিন সপ্তাহ পার হবার পরও যখন তার তিনজন সহপাঠীও তার সঙ্গে মিশতে অপারগতা জানায় বরং তেত্রিশজন মিলে তার নাম ল্যাংরা লুৎফর প্রচলন করে দিলে যখন এক রোদ্র প্রখর দিনে স্কুল ঘর থেকে বেরিয়ে পান্থপথে পাঠ্যপুস্তক বিসর্জন দেয় লুৎফর, তখন স্কুলে যাবার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে লুৎফর প্রথমবারের মতো তার কুড়িয়ে পাওয়া মায়ের মতের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় !





চার


রাত গভীর হলে, নাগরিক কোলাহলে খানিক প্রশান্ত নীরবতার প্রলেপ জমলে যখন শপিং মলের সাত রঙ্গা সাত রকম দোকানগুলোর রূপসজ্জা সাটারাবদ্ধ হয়, এর মালিকরা পকেট ভারী করে নিজ নিজ সন্তানদের জন্য চকোলেট-ক্যান্ডি নিয়ে বাড়ি ফেরেন, তখনও যখন মলের সামনের ফোয়ারাটি নান্দিনকতা ঝরায়, তখনও যখন বিষন্ন বর্ণিল নিয়ন সাইনগুলো ঘুমন্ত শহর এবং রাতের,- রাত এবং শহরের শ্রী বৃদ্ধি ঘটিয়ে যায়, হুশ করে গাড়ি ছুটে যায়,-ভেতরে পেট্রল পুলিশের ঢুলুঢুলু চোখ, তখন যখন উৎকট রং-চঙ্গা কথিত পতিত নারীদের পক্ষী শিকারের ঘনত্ব বেড়ে যায়, কখনওবা এক জোড়া পুলিশের দুই জোড়া চোখ তাদের কাছে এসে প্রাপ‌্য হিস্যা বুঝে নেয়, কখনওবা সে দৃশ্যের দখলসত্ব টিভি ক্যামেরার চোখে চলে গেলে যখন হতচকিত পুলিশের দলকে পেছন ফেলে, লুৎফরের আশ্রয়দাত্রী মা তাকে নিয়ে যেতে আসেন, মায়ের হাত ধরে লুৎফর হেলেদুলে তাদের বস্তির বসতে ফিরে গেলে, তখন যখন লুৎফরের বাসনে গরম ভাত আর ডালের সঙ্গে মা তুলে দেন পোঁড়া মরিচ, সে খাবার লুৎফরের অমৃত লাগে, মা যখন সামনে বসে তার খাওয়া দেখেন, লুৎফরের আনন্দের মতো অনুভূতি হয়, ভিক্ষারত লুৎফরকে দেখে নীল চোখের এক নীলঞ্জনা যে আঁতকে উঠে পাশের ছেলে বন্ধুর গায়ে সেঁটে গিয়েছিল,-সে কষ্ট লুৎফর তখন ভুলতে পারে সহজেই !

উৎকট রং-চঙ্গা কথিত পতিত নারীদের সঙ্গে লুৎফরের মাও একসময় পক্ষী শিকারে যেতো, এ খবরের সত্যতা জেনেও এই মহিলাকে মা ডাকতে লুৎফরের মন্দ লাগেনা, ভালো লাগে, তার ভিক্ষাবৃত্তিতে তাদের মা-ছেলের সংসার চলে,- বহুদিন এখন আর মা পক্ষী শিকারে যান না; বহুদিন এখন আর মাকে পক্ষী শিকারে যেতে হয় না !




উৎসর্গ : প্রতিবন্ধী সেইসব শিশুদের, নারীদের, মানুষদের !



প্রথম প্রকাশ : ছলাৎ' লিটল ম্যাগ
বইমেলা ২০১০


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29102676 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29102676 2010-02-21 21:24:55
ছোটগল্প : যুবকের মাতার ঘরে আগুন লেগেছিলো ! (অন্যরকম এক ভালোবাসাহীনতার গল্প)



এক


কাওছার নামের আধুনিক সংস্করণ কায়সার, এবং অতঃপর শ্রুতি মাধুর্যতা বৃদ্ধি করণ কিম্বা আরো খানিকটা স্মার্ট আকার ধারণ করার 'নিমিত্তে' কায়সার নামটি 'কায়েস'-এ পরিণত হয়ে গেলে, এ নামের সত্ত্বাধিকারী যুবকটি যখন তার ২৪ বছর বয়সে পারিপার্শ্বিক জীবন সম্পর্কে যথেষ্ট পরিপক্কতা অর্জনে সক্ষম হয়, সেই সময়ে জোছনা ধোয়া এক রাতে চাঁদের বুড়ির শত শত শতাব্দির পুরানো কোটরগত চক্ষুতে যুবকের চোখ পড়লে, আচানক এক তথ্য হৃদয়ঙ্গম করতে যুবক সমর্থ হয়,- অনেক বছর আগে, সুবহে সাদেকের মলিন অথচ নির্মল প্রকৃতির অন্ধকার কেটে কেটে শিশু সন্তান বুকে চেপে, ত্রস্ত পায়ে পড়ি-মরি করে জীর্ণ-শীর্ণ দেহের যে নারীটি স্বামীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, যে নারীটি তার মা, মায়ের সে ঘটনাটি যতোখানি না পলায়ন, তারচে' বেশী ছিল আসলে বাবা কর্তৃক মাকে পরিত্যক্তকরণ এবং বিতারণ !



দুই


সুবহে সাদেকের আবছা আলোর মতো, যুবক কায়েসের আবছা স্মৃতির দুয়ার খুলে চিকচিক সোনারাঙ্গা আলোর স্ফুরণ ঢুকে পড়লে, যুবক তার পাঁচ বছর পাঁচ মাস বয়সে ফিরে যায় । সেখানে একটি বাঁশঝার দেখতে পায়, তাদের বাড়ির দক্ষিণের বাঁশঝার, যেখানে তাকে বুকে চেপে ধরে পালাতে গিয়ে, হোঁচট খেয়ে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়েছিলেন মা, পরক্ষণেই একটু একটু করে মা উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, পরক্ষণেই মা ছুট লাগিয়েছিলেন, মায়ের পেছন -পেছন পোষা কুকুর বুলু ছুটে এসেছিল, পাহারাদার হয়ে বুলু মাকে সঙ্গ দিয়েছিল, সুপারী বাগানের নৈঃশব্দকে আলগোছে ভেঙ্গে, সারি সারি খেজুর গাছেদের পাশ কাটিয়ে, সাদা সাদা, ঝাঁকে-ঝাঁক বকেদের ঝিলের রাজ্যকে পেছনে ফেলে মা যখন খালের পাড়ে এসে পৌঁছলেন, বুলু কুকুরটি তখন থমকে দাঁড়িয়েছিল ক্ষণিক, তারপরই পানির স্রোত অগ্রাহ্য করে সাহসী বুলু ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্রোতের বিপরীতে সাতার কেটে বুলু খাল পাড়ি দিয়েছিল, পারাপারের নৌকা অবর্তমান ছিল, অগভীর জলে কোমর ডুবিয়ে জলের নীচের বালুকা রাশীদের পদস্পর্শের সাক্ষী রেখে মাও খালের এপারে এসেছিলেন যেখানে শিমুল চুড়ায় রক্তের মতো রং আঁকা হয়ে ছিল, যেখানে শিমুল তলে ঝরে পড়েছিল থোকা থোকা অজস্র নিহত শিমুল !

কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে কুয়াশার চাদর ফুঁড়ে নিস্তব্দতার শরীরে হুঁইসেল বাজিয়ে ঝিকঝিক ঝিকঝিক শব্দ সমেত ভোরের ট্রেন এসে থামলে, ভয় পাওয়া চেহারায় মায়ের একটা হাত শক্ত করে ধরে কায়েস । ট্রেনের কামরার এক কোণে জুবুথুবু হয়ে মা ওঠে বসলে, মার চোখের দু'ফোঁটা দুঃখ গড়িয়ে কোলে থাকা কায়েসের কপোল ছুঁয়ো দেয়, কায়েসের অবাক দৃষ্টি মায়ের কান্নার কারণ নির্ণয়ে ব্যর্থ হলে, সে বলে,- মা তুমি কাঁদছো কেন ?

কায়েসের মাথাটা আরো গভীরে করে বুকের সঙ্গে চেপে নিলেও, নিরুত্তর থাকেন মা ! কায়েস বলে, - মা; বাবা তোমাকে মারছে ?

এবার বুকের ভেতরে কি এক হু হু ব্যথার ভারে ডুকরে কেঁদে ওঠেন মা ! কায়েসের দু' গালে হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে আদর আর আদর লেপটে দেন । তখন মৃদু কম্পন তুলে রেলগাড়ির ঝিকঝিক ঝিকঝিক শব্দের সঙ্গীত ক্রমশ বেগবান হয়, তখন মায়ের পোষা বুলু কুকুরটি যান্ত্রিক রেলগাড়ির সঙ্গে দৌড় পাল্লা লাগিয়ে পেছন - পেছন ছুটতে থাকে, ছুটতেই থাকে, তারও আগে, মা যখন কায়েসকে নিয়ে রেলগাড়িতে ওঠে বসলেন, বুলু কুকুরটি জানালা দিয়ে কুঁইকুঁই শব্দ তুলে জানাচ্ছিল বেদনার বোবা প্রকাশ; তখন বাইরের সবুজ বনানী আর ঢেউ খেলানো সবুজ সবুজ ধানক্ষেতগুলোকে দ্রুত পেছনে ছুঁড়ে ফেলে ফেলে রেলগাড়ি এগিয়ে যেতে থাকলে, এক সময় বুলু কুকুরটির অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন রেলগাড়ির ধাতব ইঞ্জিনের কাছে পরাস্ত হয়, তখন বুলু কুকুরটিকে আর দৃষ্টি সীমানায় ছুটে ছুটে আসতে দেখা না গেলে, ধীরে ধীরে মুখ খোলে কায়েস,

-মা ! আমরা কোথায় যাই ?
-তোমার মামাবাড়ি !
- বাবা যাবে না ?
- না !
- আমরা কি বেড়াতে যাচ্ছি, মা ?
- হুঁম !
- মামাবাড়িতে আমরা কতোদিন থাকবো ?
-অনেকদিন !
- তাহলে আমার টুনটুনি পাখিটাকে কে খাবার দেবে, মা ?
এ প্রশ্নের জবাবেও মা চুপচাপ থাকলে, নিরুত্তর থাকলে, টুনটুনি পাখিটার জন্য কায়েসের মনের ভেতর কেমন কেমন করতে থাকে ! পাখিটা রোজ ভোর, বিকেলে কায়েসদের দাওয়াই নেমে আসতো, কায়েস চাল-গম ছিটিয়ে দিলে, টুকটুক করে ছোট্ট ঠোঁটে খাবার খুঁজে খুঁজে খেতো; তা দেখে আনন্দে হাততালি দিতো কায়েস, পিতলের ছোট্ট ঘটিতে পানি ভরে দিলে টুনটুনি পাখি ঠোঁট ডুবাতো ! পানির কথা ভাবতে গিয়ে পুকুর ঘাটে ফুটে থাকা শাপলা ফুল গুলোর সৌন্দর্য চোখে ভেসে ওঠলে কায়েস বলে,

-মা ! মামাদের পুকুরে কি শাপলা ফুল আছে ?
- আছে !
- এত্তোগুলা (হাত দিয়ে দেখিয়ে ) শাপলা ফুল আছে ?
- আছেতো !
- আমাকে তুলতে দিবে ?
- না, ওই পুকুরে অনেক পানিতো !
- তাহলে তুমি আমাকে তুলে দিবে না, মা ?
- আচ্ছা, দিবো !




তিন



কায়েস দেখে, মামাদের শাপলা পুকুরে ভেজা চুলো মায়ের মাথাটা ভেসে ভেসে ওঠে, আবার টুপটুপ ডুবে যায় । ডুব দিয়ে মা শাপলা তুলে আনেন, কোল ভরে শাপলা তুলে আনেন, কি অদ্ভুত দক্ষতায় শাপলার গায়ে শাপলা লতিয়ে মালা গাঁথেন মা , সে মালা কায়েসের গলায় পড়িয়ে দেন !

মামাদের বাড়ি থেকে কায়েস যেদিন ফিরে আসে, মার সঙ্গে মামাদের বাড়িতে যাবার ঠিক এক মাস পর, বাবা যেদিন শেষবারের মতন গিয়ে কায়েসকে ফিরিয়ে আনেন, সেদিন যখন বাবার হাত ধরে শাপলা পুকুর পাড়ে এসে কায়েস দাঁড়িয়েছিল, ঠাঁই দাঁড়িয়েছিল দুই মিনিট, বাবা বলেছিলেন,

-কী দ্যাখো ?
- শাপলা !
- শাপলা আমাদের পুকুরেও আছে !
- বাবা !
- হুঁ !
- মা আমাদের সঙ্গে যায় না কেন ?
- মা যাবেনা !
-যাবেনা কেন, বাবা ?
- সে আলাপ আমরা পরে করি ?
- এখনই বলোনা !
- এখনতো আমরা দরগাহ্-তে যাবো !
- দরগাহতে কি জন্য , বাবা ?
- দরগাহতে আমরা দোয়া করবো !
- দরগাহতে আমরা কি দোয়া করবো, বাবা ?
- তোমার যা মনে আসে, তাই দোয়া করো !
- মার জন্য দোয়া করবো ?
- কোরো !
বলেই মামাদের সদর দরজার পাশে ফকিরের দরগাহতে কায়েসের হাত ধরে বাবা ঢুকে পড়েছিলেন ।

দরগাহ্ থেকে বেরিয়ে বাবা যখন জানতে চায়লেন, - কি দোয়া করলে ?
কায়েস জবাব করেনা, কায়েস তখন ঘাড় কাৎ করে তাদের পেছনের সমবেত মানুষের দলটিকে দেখে, সেখানে মামাদের মুখ, মামীদের মুখ, যেসব মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে ঘাসফড়িং ধরে কাঁচের বয়ামে জড়ো করে, বাঘ শিকারের আনন্দ পেয়েছে, যাদের আকাশছোঁয়া ঘুড়িগুলো ঘোঁৎতা খেয়ে খেয়ে কাটাকাটি খেলতে খেলতে হঠাৎ সুতো ছিঁড়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকলে, ঘুড়ির পেছনে ছোটা দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হয়ে কায়েসও যাদের সঙ্গে ছুটেছে, সেইসব মামাতো ভাই-বোনেরা কায়েসের প্রস্তানে তখন একেকটি শোকাতুর মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কেবল মার মুখটা কায়েস দেখেনা, আ-র দেখেনা ! কেবল মায়ের অস্পষ্ট আহাজারি তখনও শুনতে পাওয়া যায় !

ঝিকঝিক ঝিকঝিক রেলগাড়ি চলতে শুরু করলে, যখন ফেরীওয়ালা চকোলেট ফেরী করে যায়, তখন বাবা কায়েসকে চকোলেট কিনে দিলে, চকলেটের স্বাদের চে' মামাদের বিশাল উঠোনের প্রান্তে ফোটা ভোরের গন্ধরাজদের সাদা সাদা হাসির কথা ভাবতে কায়েসের অধিক ভালো লাগে, ফেরার আগে গন্ধরাজের এক মুঠো সাদা হাসি ছিঁড়ে মাকে উপাহার দিয়েছিল কায়েস; কায়েসকে বুকে লেপটে নিয়ে চোখের কান্নার সঙ্গে বুকের একটা আর্তনাদই কেবল শুনিয়েছিলেন মা,- বাবারে ! আমারে ভুলিসনারে বাবা....আমারে ভুলিসনা.. !



চার


জোছনা ধোয়া সে রাতে, চাঁদের বুড়ির প্রাচীন চোখের চির নবীন আলোতো দাঁড়িয়ে চিৎকারের মতো করে যুবক,- মা ! তোমাকে ভুলি নাই, মা..! তোমাকে ভুলি নাই.. !


পদটিকা : যুবকের পিতা তিন অক্ষরের নির্দিষ্ট একটা শব্দ তিনবার উচ্চারণ করলে যখন যুবকের মাতার ঘর ভাঙ্গে, এবং এরপর বেশীদিন না গড়াতেই যখন যুবকের পিতা নতুন উদ্যমে নতুন মাকে ঘরে তুলে আনে, এভাবে সময়ের দাবীতে যুবকের মাতাও যখন আরেক নতুন স্বামীর ঘর সাজাতে গেলে, সময়ের বহমানতায় যখন সেখানে তিনি আরেকটি সন্তানের মা হন, নবজাতকের কপালে কালো টিপ পড়িয়ে মা যখন তার নরম গালে নরম নরম আদর খান, ঠিক সেই সময়ে, মায়ের আরেকটি সন্তানের বুকে যখন মায়ের ভালোবাসার অভাবে তীব্র হাহাকার, শূন্যতা, সেই শূন্যতা হাহাকার, কে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয় ?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29097687 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29097687 2010-02-14 16:43:15
পহেলা ফাগুন শনিবার, অপরবাস্তব - ৪ এর মোড়ক উন্মোচন : বইটি আপনারই, আপনি আমন্ত্রিত
প্রচ্ছদ : মাহবুবুর রহমান


...শীতের অলস বেলা পাতা ঝরার খেলা ফাগুনে পড়ে সাজ ফুল বধূর....

একাধারে দ্রোহের, প্রেমের এবং প্রকৃতির কবি নজরুল এভাবেই ফাগুনের কথা বলে গেছেন । বসন্তের প্রথম দিনে আমাদের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে একটি শিরোনাম কমন পড়তে দেখা যায়, তা হলো,- 'ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত !'

হ্যাঁ, এই বসন্ত দিনে আপনার হৃদয়ে খানিকটা হলেও বাসন্তী রঙ্গের প্রলেপ ছড়াতে, আপনারই বই "অপরবাস্তব - ৪" এর ঘোমটা তোলার চূড়ান্ত আয়োজন ! ১ ফাগুন, ১৩ ফেব্রুয়ারী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মোড়ক উন্মোচন হবে অপরবাস্তব - ৪ এর ।

স্থান : নজরুল মঞ্চ, বইমেলা ।
বই এর পরিবেশক : সংহতি প্রকাশন
স্টল - ২৪১

একটা সত্য স্বীকার্য যে, নানান মতদ্বৈথতা, মতবিরোধের সংমিশ্রণে আমাদের যে সহাবস্থান এই সামহ্যোয়ারইন ব্লগে, তার তুলনা চলতে পারে কেবল একটি বিশাল পরিবারের সঙ্গে । আমরা সবাই এই বিশাল পরিবারের সদস্য, এটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস । এই পরিবারের বেশীরভাগ সদস্যের লেখা এক মলাটের ভেতর নিয়ে আসার সদিচ্ছা থাকলেও, নানা রকম জটিলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না । তবে, এইবার অপরবাস্তব- ৪ এর পরিসর অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে । অনেক বেশী ভালো লেখা এবং ব্লগার বন্ধুকে এইবার আমরা জায়গা করে দিতে পেরেছি । সেদিকটায় আমাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল । ভবিষ্যতে আরো অনেক বড়ো পরিসরে, গল্প, কবিতার আলাদা বই বের করবার ইচ্ছা পোষণ করি, সহব্লগার বন্ধুদের সহযোগীতা থাকলে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠবে বলে আশা করি ।

অপরবাস্তব নামের আমাদের ব্লগারদের এই বইটি বের করতে গিয়ে, ব্লগারদের মনোনয়ন থেকে যৌক্তিক কারণেই সবচে' ভালো লেখাগুলো তুলে আনার কঠিন কাজটি করতে হয়েছে । মনোনয়নে না আসার কারণে অনেক ভালো লেখা দৃষ্টির অন্তরালেও থেকে গেছে । মনোয়ন প্রাপ্ত কয়েকশ' লেখার প্রতিটি আমরা পড়েছি । সেখান থেকে বিষয় বৈচিত্র্য, লেখার তুমুল ধরণ, সবকিছু মিলিয়ে সেরা লেখাগুলো তুলে আনতে, চূড়ান্ত নির্বাচনে যেসব অগ্রজ সুহৃদরা আমাদের সহযোগীতা দিয়েছেন তাঁরা হলেন,- আহমাদ মোস্তফা কামাল, ফাহমিদুল হক, মোস্তাফিজ রিপন, তারিক স্বপন, (আকাশচুরি), আন্দালীব এবং প্রণব আচার্য্য ।

এইক্ষণে এই সুহৃদ অগ্রজদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাখছি । মাত্র দশ দিনের আয়োজনে লেখার মনোনয়ন, অসংখ্য লেখা থেকে লেখা বাছাই, প্রুফ দেখা ও সম্পাদনা, বই এর অঙ্গসজ্জা এবং সবশেষে ছাপাখানা থেকে বই প্রকাশের এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হতোনা, যদিনা সবার আন্তরিক সহযোগীতা পেতাম ।

বন্ধুরা ! আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন । নিমন্ত্রণ গ্রহণ করুন আপনাদের বই "অপরবাস্তব- ৪ এর মোড়ক উন্মোচন উৎসবের । আপনার আন্তরিক উপস্থিতি হবে আমাদের প্রেরণা ।

অপরবাস্তব - ৪ আপনার, আমার , আমাদের ব্লগ পরিবারের । আমাদের পরিবারের সদস্যদের সেরা লেখাসমৃদ্ধ বইটি ছুঁয়ে, এর ঘ্রাণ নিয়ে এতোটুকু ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী হলে সেটুকুই প্রাপ্তি ।


আগাম বসন্ত শুভেচ্ছা সবাইকে


সংযুক্তি -১ : আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, অপরবাস্তব- ৪ এর উৎসর্গপত্রটি প্রয়াত সাংবাদিক এবং ব্লগার মাহবুব মতিনের নামে যাচ্ছে । আনন্দের খবর হলো, মাহবুব মতিনের স্ত্রী শাহীন শবনম আমাদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, তিনিই হচ্ছেন, "অপরবাস্তব-৪" এর মোড়ক উন্মোচক ।


প্রবাসী কোন বন্ধু অপরবাস্তব -৪ সংগ্রহ করতে চায়লে , অনলাইনে বইমেলা.কম থেকে কিনতে পারেন ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29094955 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29094955 2010-02-10 22:39:12
অপরবাস্তব- ৪ এর প্রকাশনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন, ২০০৯ এ লেখা আপনার সেরা পোস্টটির মনোনয়ন দিন
অপরবাস্তব- ৪ এর প্রকাশনা তেমনই একটি প্রয়াস । অপরবাস্তব ১,২,৩ প্রকাশীত হয়েছিল যথাক্রমে ২০০৭,২০০৮ এবং ২০০৯ এর বই মেলাতে । তারই ধারাবাহিকতায় অপরবাস্তব- ৪ প্রকাশের কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়ছেন ক'জন উদ্যোগী ব্লগার ।

সহব্লগার বন্ধুরা, ২০০৯ -তে লেখা আপনার সেরা পোস্টটির মনোনয়ন দিয়ে যেতে আপনাকে অনুরোধ জানাই । হ্যাঁ, আপনার সেরা লেখা কোনটি আপনার চে' ভালো আর কেউ জানবে না, তাই আপনার পোস্টটি আপনাকেই মনোনয়ন দিতে আমরা উৎসাহ যোগাই । সেই সঙ্গে আপনার পড়া সহব্লগারদের সেরা পোস্টগুলোর মনোয়নও । অর্থাৎ মনোনয়ন হবে দু'রকম-

১. আপনার নিজের সেরা লেখা এবং
২. আপনার পড়া সহব্লগার বন্ধুর সেরা লেখা ।

পাঁচমিশালী লেখার খাতা এই ব্লগ । তাই নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের সীমাবদ্ধতায় আমরা অপরবাস্তব - ৪ কে বেঁধে ফেলতে চাইনা । আপনার লেখাটি হতে পারে,- গল্প, কবিতা কিম্বা নিবন্ধ । ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের , ভিন্ন আঙ্গিকের লেখা দিয়ে আমরা ব্লগেরই একটা চরিত্র অপরবাস্তব - ৪ এ তুলে ধরতে পারবো বলে আশা করছি ।

হাতে সময় একদমই কম । লেখা মনোনয়ন দেবার শেষ তারিখ তাই ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ।

উল্লেখ্য, অপরবাস্তব-৪ এর জন্য লেখার মনোনয়ন যারা দেবেন, যারা চূড়ান্ত বাছাই এ লেখা নির্বাচন করবেন, এবং বই প্রকাশের দুরূহ কাজটি সম্পাদন করবেন, তারা সবাই ব্লগার । এর সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কোন যোগ নেই । অর্থাৎ অপরবাস্তব-৪ আপনার, আপনার নিজেরই সম্পদ, তাই একে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলবার জন্য আপনার আন্তরিক সহযোগীতা একান্ত কাম্য ।


সবার জন্য শুভকামানা ।


বিশেষ দ্রষ্টব্য- ১. মনোনয়ন যারা দিচ্ছেন, ব্লগনিকের সঙ্গে নিজের নামটিও লিখবার অনুরোধ রইলো, আপনার লেখা নির্বাচিত হলে, বইতে আপনার নামেই যাবে, তাই নামটি দরকার ।

২. আপনি নিজের লেখা মনোনয়ন দিচ্ছেন মানে আমরা ধরেই নিচ্ছি লেখা প্রকাশে আপনার অনুমতি আছে । কিন্তু সহব্লগার বন্ধুদের লেখার মনোনয় যারা দিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট সেইসব লেখকদের যদি কোন আপত্তি থাকে, মন্তব্যের ঘরে জানিয়ে গেলে বাধিত থাকবো

যোগাযোগ : ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29087400 http://www.somewhereinblog.net/blog/neelblog/29087400 2010-01-28 21:01:14