somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

আশা

১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশা
(প্রথম পর্ব)

মনের আশাগুলো গাছের মত।প্রথমে সুপ্ত বীজের মত থাকে তারপর হঠাৎ করে একদিন অন্ধকার মাটি ভেদ করে পৃথিবী দেখে। একটু আলো আর বাতাসে দিন দিন সেই আশা বড় কোন গাছের মতো হয় একদিন।তুমি কি দেখতে পাচ্ছো সেই আশার গাছটি?আমি দেখছি সমস্ত আকাশজুড়ে সে আশা তার প্রশাখা বিস্তার করে চলেছে।প্রতিটা ডাল জুড়ে আশার নতুন নতুন পাতা।সেই পাতাগুলো ঝরে পড়তে পড়তে আশার গাছে নতুন পাতা এসে ভীড় করে।সে আশা'য় আশা'য় কাটে নিরু'র প্রতিটি বেলা।

নিরু জানালার গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে আছে।অগোছালো চুল কোমর ছাড়িয়ে আছে।দেখেই মনে হচ্ছে কতদিন চুল আঁচড়ায়নি।কানের পাশ দিয়ে বেশ কিছু চুলে মুখের অর্ধেকটা ঢেকে গেছে।মাথার চুলের উপরে একটা চুলে বড় ধরনের একটা উকুন নিচের দিকে নামছে।উকুনটা'র পেট বেশ মোটা।এখনি হয়ত ডিম ছেড়ে দেবে।গ্রহণ করবে মাতৃত্বের স্বাদ।উকুনটা দেখতে দেখতে চুলের মধ্যে ঢুকে যায়।

নিরু মাথা ঠেকিয়ে আকাশ দেখছে না।দেখছে জানালার ধার দিয়ে পিঁপড়াদের সারি বাধা ছুটে চলা।ওদের মুখে সাদা সাদা ডিমের মত।খুব ইচ্ছে করছে একটা ফুঁ দিতে কিন্তু দেয় না।ওদের ঘরে নতুন শিশু আসবে তাইতো ওরা আয়োজন করছে।কী দারুণ এই বিশ্বের খেলা! প্রতিটা প্রাণের অস্তিত্ব থেকে জন্ম নেয় নতুন প্রাণ। একই রকম ছাঁচে গড়া অথচ প্রত্যেকেই স্বাতন্ত্র্য নিজস্বতায়।

মাথা তোলে নিরু।কপালের দিকটায় জানালার গ্রিলের দাগ পড়ে গেছে।নিরু জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকায়।ওপাশের একতলা বাড়ির ছাদে অনেক ফুলের গাছ।সেই গাছে অনেক ফুল তাকিয়ে আছে যেন নিরু'র দিকে।নিরু দেখে ওই বাড়ির ছোট্ট মেয়েটা একটা মগ ভরে গাছটাতে পানি দিচ্ছে।সে জল একদম গাছের গোড়ায় ঢালছে না, গোড়া থেকে বেশ দূরে চারিপাশ গোল করে দিচ্ছে।ছোট্ট মেয়ে অথচ কত বোঝে।

গোলাপি রঙয়ের জামা পরেছে মেয়েটা।খুব যত্ন করে সে।মানুষের জীবনে কেউ যদি এমন করে যত্ন করে তবে তো সেখানে চিরদিন বসন্ত থাকবে!
অথচ মানুষগুলো যত সহজে অন্য কিছুর যত্ন নিতে পারে তত সহজে অন্য মানুষকে যত্ন নিতে পারে না!সেখানে ভিড় করে দাম্ভিকতা,স্বার্থপরতা,লোভ আরও কত কী! মানুষ যদি আন্তরিকতার সাথে অন্য মানুষের যত্ন নিত তবে তো মানুষে মানুষে শুধু প্রেম,সম্প্রীতি আর ভালোবাসা বিরাজ করত।ঝগড়া হলেও তা থেমে যেত একটুখানি পর।
ছোট্ট মেয়েটা ছাদে এলে নিরুর দিকে তাকিয়ে হাসে একবার।নিরুও হাসে।নিরু জানে আর ওই মেয়েটাও জানে প্রতিদিন উভয়ে অপেক্ষা করি একটু হাসির জন্য।এই হাসিতে কোন শব্দ নেই,নেই আহবান, কিন্তু আছে হৃদয়ের উষ্ণ ভালোবাসা।উভয়ের হৃদয় একটা জায়গায় শুন্য হয়ে দু'টি মানুষকে ফ্রেমবন্দি করে একটা হাসিতে।মেয়েটি চলে যায়। ও যখন চলে যায় নিরু'র মনে হয়
সমস্ত ফুল কালো হয়ে গেছে, নিয়ে গেছে তার সৌরভ।প্রতিদিন মনে হয় আরো বেশি সময় ধরে যদি দেখতে পেত!

নিরু জানালায় পর্দা দিয়ে উঠে আসে।চোখের নিচটাতে কালি পড়েছে নিরুর।শুকিয়ে যাওয়া পটলের মত মুখটা চুপসে গেছে।দুপুর বেলায় খাওয়া হয়নি।ভুলে গেছে।কলিং বেল বাজছে।রায়ান অফিস থেকে ফিরেছে।নিরু'র স্বামী।দরজা খুলতে যাবে নিরু ঠিক তখনি কোথা হতে একটা মোটা টিকটিকি এসে পড়ে নিরুর হাতে।চিৎকার দিয়ে উঠে নিরু।রায়ান শুধু শব্দটা শোনে। জিজ্ঞেস করে এই নিরু! নিরু।
কোন উত্তর আসে না।মাথা ঘুরে পড়ে আছে নিরু।
রায়ান দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে।হাতে মোবাইল নিয়ে ফোন করে নিরুকে।ফোন বাজে কিন্তু নিরু ফোন ধরে না।
ক্রমশ...

#আগে আমি এভাবেই লিখতাম -ফেসবুকের ওয়ালে।তখন আমি ইডিট করতাম না তাই লেখায় বেশ ভুল থাকত। এরপর মনে হল অন্য কোথাও লিখে, ইডিট করে তারপর ফেসবুকে দিব।কিন্তু সমস্যা হল অন্য কোথাও লিখছি ঠিকই কিন্তু ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে না।কেন হচ্ছে না তার দুটো কারণ প্রথমত অলসতা দ্বিতীয় ভুলে যাওয়া।তাই ভাবলাম আগের ঢঙে ফিরে আসি।আমার প্রথম বই"অন্তরালের বর্ণফুল" ফেসবুকের ওয়ালেই লেখা।যাইহোক এটি আমার প্রথম পর্বভিত্তিক লেখার প্রচেষ্টা

©রুবাইদা গুলশান
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ৭:৩৫
৫৭টি মন্তব্য ৫০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রেমানুভূতি

লিখেছেন শাহরিয়ার কবীর, ২১ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৮


প্রভাব ও প্রেরণার মাঝে লুকিয়ে আছে কিছু স্বপ্ন
যা কখনো বিচিত্র, কখনো কল্পনাপ্রবণ,
কখনো স্বপ্নময়, কখনো মহত্তম রহস্য...
ঘেরা অনুভূতিগুলোর অস্তিত্ব জুড়ে
মিশে আছে কুয়াশা আর ধুপছায়া;
যা পরক্ষণেই উল্কার মত মিলিয়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন ফিরে পেলাম।

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ২১ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৪৫




ব্লগার ভাই ও বোনেরা, বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশে, মতামত তৈরীতে, স্বাধীন ভাবে কথা বলতে ব্লগে অনেক দিন হলো আপনাদের সংগে আছি। কিন্তু তার ফাঁকেই হঠাৎ করে পা ফসকে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক!!

লিখেছেন কাইকর, ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:০৯


একজন ভাল লেখককে সহজেই ভাল মানুষ ভেবে নেয়াটা বোকামী। যেমন একজন ভাল ডাক্তার ভাল মানুষ নাও হতে পারে। বাংলাদেশে যত জন ডাক্তার আছে এরা সবাই যদি ভাল মানুষ হত, যদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুশীল ফরমান আলী (গল্প)

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৩৬


ফরমান আলী মানিব্যাগে রাখা তিনটি একশত টাকার নোট, সাতটি বিশ টাকার নোট এবং এগারোটি দশ টাকার নোট থেকে একটি কড়কড়ে বিশ টাকার নোট বের করে দোকানের কর্মচারী বাবুলের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অর্থের অনর্থে স্যাটেলাইট উড়িয়ে দিও

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৬


অর্থের অনর্থে

মন চিনলি শুধু অর্থ
অর্থ সব করলো রে অনর্থ
দিনে দিনে কেবল হলিরে তুই অথর্ব ।

অর্থ অর্থ আনে ভালোবাসা আনে ভালোবাসা—
ভালো বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×