দিনভর নির্যাতনের পর বাঁধা হয় হাত, মুখ এমনকি চোখও।
সকালে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ননদ মিলে নানা কায়দায় নির্মমভাবে পেটানো হয় গৃহবধূ আজমেরিকে। বিকেলে জোর করে মুখে পুড়ে দেয়া হয় ইঁদুর মারার ওষুধ।
কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় খাওয়ানো হয় ডিজেল। সঙ্গে আরো বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল।
এতো নির্যাতনের পড়েও কই মাছের প্রাণ হয়ে বেঁচে থাকে আজমেরী। তাতে কি? যমদূতের ঘরে পৌঁছে দিতে তার দুই হাত পিছমোড়া করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে রুবেল নামের স্বামী পরিচয়ের এক নরঘাতক। আজমেরীর কাপড় ছিঁড়েই বাঁধা হয় চোখ-মুখ।
তারপর ডিজেল ঢেলে ভিজিয়ে দেওয়া হয় আজমেরী বেগমের সারাদেহে ।
রাজধানীর কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তোলা হয় মাইক্রোবাসে।
সিটের নিচে তাকে শুইয়ে দিয়ে তার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে রাখেন সিটে বসে থাকা আরো দু’জন। চলতে থাকে গাড়ি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে কমলাপুর স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় আজমেরীকে। কিন্তু সেখানে র্যাব-পুলিশের টহল দেখে তারা পিছু হটেন। গাড়ি ঘুরিয়ে আজমেরীকে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর এলাকায়। সেখানেও নিরিবিলি সুবিধাজনক স্থান না পাওয়ায় আবার মাইক্রো ঘুরিয়ে রমনা পার্কের উদ্দেশে রওনা দেন তারা।
কিন্তু এতোটা বর্বরতা বরদাশত করতে পারেননি সবার অলখে থাকা সৃষ্টিকর্তা।
নগরীর শেরেবাংলা এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের ঠিক সামনে পৌঁছামাত্রই বিকল হয়ে যায় আজমেরীকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি।
আজমেরীকে পা দিয়ে চেপে ধরে রাখা আরোহী দু’জন নিচে নেমে পেছন থেকে মাইক্রোবাস ধাক্কা দিয়ে স্টার্ট করানোর চেষ্টা করতে থাকে।
এমনসময় মাইক্রোর দরজা খোলা বুঝতে পেরে মুহূর্তেই গাড়িটির ভেতর থেকে রাস্তার ওপর গড়িয়ে পড়েন আজমেরী।
এ দৃশ্য দেখে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে যান আজমেরীর কাছে।
কিন্তু ততক্ষণে মাইক্রোবাস স্টার্ট হওয়ায় দ্রুত পালিয়ে যায় আজমেরীর স্বামী ও তার অপর দুই সহযোগী।
উদ্ধার হওয়ার পর মুহূর্তেই শেরেবাংলানগর থানার সহকারী দারোগা আব্দুর রফিকের কাছে বিস্তারিত খুলে বলার পরই আজমেরী বেগম অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু আজমেরী বেগমের অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটলে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আজমেরী। নানা শুধু আজমেরি নয় এমন অবস্থায় কাতর দেশের নারী সমাজ। প্রায় প্রতি দিনই ঘটছে এমন নির্যাতন আর আত্ম হননের ঘটনা। রাষ্ট্র ও সমাজের স্তরের স্তরে এখন কেবলি শুনি ভাঙনের সুর। বিভেদ-বিসম্বাদ। হানাহনি।
কিন্তু এ নিয়ে যেন নেই কোনো বোধদ্বয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এহেন নির্যাতন বন্ধে এখনই সোচ্চার না হলে আবার আসবে মহাপ্লাবন। ধূয়ে-মছে পুঃত-পবিত্র ধরিত্রি! এটাই পৃথিবীর বিধিলিপি। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়না কেউই।
পুনশ্চঃ এটা কোনো গল্প নয়। গত সোমবার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে আজমেরীকে।
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।