লক্ষ্য ঠিক তাকলে তার যাত্রা পথ বড়ই অনিশ্চিতের পথে সে এক যাত্রা। এ যাত্রা পথে এসেছে অনেক বাধা, কোন দিন পরিশ্রম করতে হয়েছে দিনে ১৮ ঘন্টা, কোন দিন সব পরিশ্রম জলে গেছে। কোন দিন অর্থকষ্টে খাইনি কিংবা দাতে দাত চেপে পরিশ্রম করে গিয়েছি।
আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পড়তে হয়েছে নিজের পয়সায়, সকাল ৮ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ক্লাস করেছি। দুপুর তিনটা থেকে কাজ করেছি একটা কারখানায়। নাপথা আর সিলিকনের গন্ধে মাঝে মাঝে মাথা গুলিয়ে গেচে, কিন্তু লক্ষ্য বিচ্যুতি হয়নি। লক্ষ্য বিচ্যুতি না হবার বড় কারন বাবার এ চিঠিটা। চিঠিটা পাই আমেরিকার আসার ঠিক এক মাসে পরে, এর আগে কোন দিন আমার বাবা আমাকে চিঠি লেখেননি। সেই থেকে চিঠিটা আমার ওয়ালেটে নিয়ে চলি।
মনে আচে, প্রতি সেমেষ্টার শুরু হবার আগের দিন রাতে ওয়ালেট থেকে চিঠিটা বার করে পড়েছি। বারবার কথা গুলোকে দিয়ে নিজের জীবনকে গড়ে তুলবার চেষ্টা করেছি। ব্যর্থতার সময় চিঠিরা দিয়েছে কাজ করবার নতুন প্রেরনা। সফলতার সময় চিঠিটা দিয়েছে আত্মপ্রসাদের উচ্ছাস। কিন্তু আমার কাছে একটি ধর্ম গ্রন্হের চেয়েও এ চিঠিটির গুরত্ব ছিল অনেক বেশী। আজ আমি সেই সতেরো বছরের কিশোর নেই, সেই চিঠিটি আমার কিশোরে সাহায্য করেছে, তারুন্য পথ দেখিয়েছি আর তিরিশের বেলাও সেই চিঠি একই কাজ করে যাচ্ছে।
আমি আজ যা কিছু হয়েছি তার জন্য সেই চিঠির গুরত্ব অপরিশীম, আমার আমি কে চেনাতে সাহায্য করেছে চিঠিটা। চিঠিটা আমাকে জীবনকে ভাগ করতে, উপভোগ করতে আর যুদ্ধ চালিয়ে যাতে সাহায্য করেছে। আমার বাবা, আমাকে আমেরিকাতে পাঠিয়েছিলেন মাত্র ৫০০০ ডলার দিয়ে, কিন্তু উনার চিঠির যে মুল্য তা সাত রাজার সম্পদ দিয়ে পরিশোধ করা যাবেনা। আমি আশা করি প্রতি নিয়ত যে আমি আমার সন্তানের জন্য সেই একই ধরনের সম্পদ রেখে যেতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


