প্রিয় ব্লগার রা কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।
এই ব্লগে অনেকেই আছেন যারা শেয়ার বাজারের সাথে সম্পর্কিত।বর্তমানে দ্রব্য মুল্যের উর্ধগতিতে মানুষ অনেকটাই দিশেহারা , বর্তমানে ৩০-৩৫ হাজার টাকা বেতনেও মানুষ সংসারের অনেক খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছেনা। বাড়তি আয়ের জন্য মানুষ কতো কিছুই না করছে, অফিসে ওভার টাইম, এক্সট্রা টিউশনি, ক্ষুদ্র ব্যাবসা ইত্যাদি। বাল সরকারের, ১০ টাকা কেজি চাল, ঘরে ঘরে চাকুরি শুধুই দুরাশা। তাই অনেকে একটু সুখ স্বাচ্ছন্দের আশায় অনেকের পারিবারিক সঞ্চয় পত্র ভেঙ্গে শেয়ার বাজারে নেমেছেন। উদ্দেশ্য বাড়তি আয়। বেচে থাকার জন্য স্ট্রাগল। আমি এটাকে সাধুবাদ জানাই। দুর্নীতি আর ঘুষ খাওয়ার থেকে সৎ ভাবে ব্যাবসাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
প্রথমেই আমার লেখা শুরু করার আগে কয়েকটি কথা বলি, শেয়ার বাজার যেমন আপনাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিতে পারে, তেমনি সব কিছুই ছিনিয়ে নিতে পারে। আপনাকে রাস্তায় নামিয়ে দিতে পারে। মতিঝিলের স্টক এক্সচেঞ্জের আশে পাশে একটি কথা ব্যাপক ভাবে প্রচলিত আছে
- এই ব্যাবসায় আজকের বাদশাহ, কালকে সে ফকির
- কালকের ফকির আজকের বাদশাহ।
অনেক দিন আগে একজন প্রবীন পাকা শেয়ার ব্যাবসায়ির সাথে পরিচয় হয়েছিলো। স্টক বিল্ডিং এর পাশে সিটি ব্যাংক এর এটিএম বুথের সামনে।
সে আমাকে তামাশা করে বলেছিলো,
“এই রাস্তায় অনেক সিঙ্গারা ওয়ালা আর ঝালমুড়ি বিক্রেতা পাবা যারা ৯৬ সালে কুটিপতি ছিলো। “ তার এই কথাটার অনেক ব্যাপক অর্থ ছিলো তখনো সেটা বুঝি নাই।
বর্তমানে অনেকেই না জেনে বুঝে , কারো প্ররোচনায় , হুজুগে শেয়ার ব্যাবসায় ঢুকে যাচ্ছে , যেটার পরিনতি হতে পারে মারক্তক ক্ষতিকর। যারা নতুন তাদের কে একটি কথা বলছি- না বুঝে শেয়ার বিজনেস করা একটি মারাক্তক বিপদের কারন, আপনার টাকা নিমিষেই হাওয়া যেতে পারে। শুধু কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবেন আপনার টাকা কি ভাবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের জন্য উপদেশ আগে শেয়ার ব্যাবসা বুঝুন, ক্যালকুলেশন করতে শিখুন। পিই,নেট এসেট ভ্যালু, ইপিএস, পেইডাপ ক্যাপিটাল, অথরাইজড ক্যাপিটাল সম্পর্কে জানুন। তারপরে ক্যাল্কুলেশন করে ব্যাবসায় নামুন। না জেনে ব্যাবসায় নামলে পরবর্তীতে আক্ষেপ করা ছাড়া কিছুই থাকবেনা। শেয়ার ব্যাবসা কে তখন আপনি গালী দিবেন। অথচ আপনার পরিনতির জন্য আপনিই দায়ী।
মিউচুয়াল ফান্ডে পুজি খোয়ান নাই এমন ব্যাবসায়ী খুবি কম আছে। অথচ এগুলো তাদের nav এর থেকে দ্বিগুন দামে ছিলো। একবছর আগে বন্ডের দামো তার ফেসভেলুর চাইতে দেড় গুন দামে ছিলো।
একটি দেশের শেয়ার বাজার সেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিক। ক্যাপিটালজমের যুগে পুজিবাজার বিকাশ লাভ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে নির্ভর করে। আজকের সম্পদশালী ইউরোপ আর আমেরিকার শিল্পে উতপাদন আর জায়ান্ট ভোগ বিলাস তা ক্যাপিটাল মার্কেটের কল্যানেই ।
বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্প কারখানা গুলো অচল, বিদ্যুত আর গ্যাসের অভাবে উতপাদন নিম্ন মুখি। বিশ্ব বাজারে আমাদের পন্য মার খাচ্ছে, প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ছে। অথচ আমাদের শেয়ার বাজার অত্যান্ত চাঙ্গা। এটা সত্যই অবাক ব্যাপার। মন্দা অর্থনীতি আর চাঙ্গা শেয়ার বাজার দুইটা অর্থনীতির বিপরীত সুত্রে অবস্থিত। আর এটা পুজিবাজারের জন্য বিরাট এক অশনি সংকেত। একটি দেশের অর্থনীতির ভিত আর মোট দেশজ উতপাদন কে যদি আমি একটি পুকুরের সাথে তুলনা করি, তাহলে শেয়ার বাজার হবে সেই পুকুরের বুদ বুদ (বাতাস)। কিন্তু সেই বুদ বুদ যখন পুকুরের চাইতেও বড় হবে তখন সেই ফানুস ফুটে যাবে।
বর্তমান শেয়ার বাজারে ক্ষুদ্র নতুন বিনিয়োগ কারীদের জন্য আমি কয়েকটি পোস্ট লিখবো। যেখানে তাদের কে গানিতিক ও লজিক্যাল ক্যাল্কুলেশনের মাধ্যমে তাদের কে কিছু জানানোর চেস্টা করবো। আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু পারি তা শেয়ার করবো।আশা করি সেই পোস্ট গুলো পড়লে তারা কিছু জানতে পারবে।নতুন নতুন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কে সচেতন করাটাই আমার অভিপ্রায়। যাতে কর্পোরেট গ্যাম্বলার রা তাদের নোংরা ইচ্ছা আমাদের মতন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন ধুলিস্মাত করতে না পারে। আমাদের স্বপ্ন ভংগ করতে না পারে। অর্থনৈতিক দুর্দাশায় জর্জরিত বেকার তরুন দের স্বপ্ন যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে।
সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


