আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হুমায়ুন ফরীদির ধানমন্ডির বাসভবনের কাছে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বেলা দুইটায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ও বাদ আসর এফডিসিতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর মৃতদেহ বারডেম হিমাগারে রাখা হবে। কাল সকাল ১০টায় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে।
এক দীর্ঘ কর্মময় বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন ছিল হুমায়ুন ফরীদির। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দেশ-বিদেশের লাখো-কোটি ভক্তের মনে আসন করে নিয়েছেন এ অভিনেতা।
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। শিক্ষাজীবনের একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যচর্চার পুরোধা ব্যক্তিত্ব নাট্যকার সেলিন আল দীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি।
১৯৭৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নাট্য উত্সব আয়োজনেরও প্রধান সংগঠক ছিলেন ফরীদি। এ উত্সবের মাধ্যমেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি গড়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে একজন মেধাবী ও শক্তিমান নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের জাত চিনিয়ে ছিলেন তিনি। অভিনয়ের অসাধারণত্বে যে আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন ফরীদি, তাঁর সেই উচ্চতায় এ দেশের খুব কম মানুষই পৌঁছাতে পেরেছেন।
বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সদস্য হিসেবে তিনি গ্রাম থিয়েটারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হিসেবে শুধু ঢাকাতেই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবান্বিত করার ক্ষেত্রেও অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
হুমায়ুন ফরীদি মঞ্চ নাটক, টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নির্মাণে সক্ষম হন। ফরীদি তাঁর কয়েক দশকের কর্মময় জীবনে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আহা!’, ‘হুলিয়া’, ‘একাত্তরের যিশু’, ‘দহন’, ‘সন্ত্রাস’ ও ‘ব্যাচেলর’। উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘নীল নকশার সন্ধানে’ (১৯৮২), ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ (১৯৮২), ‘ভাঙ্গনের শব্দ শুনি’ (১৯৮৩), ‘ভবের হাট’ (২০০৭), ‘শৃঙ্খল’ (২০১০)। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’ নাটকে ফরীদির অনবদ্য অভিনয়ের কল্যাণে ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে সংসার শুরু করলেও ২০০৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
অভিনয়ের অসাধারণত্ব আর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গুণগত পরিবর্তন অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ বছর পূর্তি উত্সবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
TV works
Nil Nakshar Shandhany (1982),
Durbin die dekhun (1982)
Bhangoner shabdha suni(1983)
Bakulpur koto Dur(1985)
Mohuar Mon (1986)
Sat Ashmaner Shiri (1986)
Akdin hohat (1986)
Chanmiar negative positive (1986)
Ojattra (1987)
Songsaptak (1987-88)
Pathar Shomoy(1989)
Dui bhai (1990)
Shiter Pakhi (1991)
Kothao Keu Nei (1990)
Shomudre Gangchil (1993)
Tini Akjon (2005)
Chandragrasto (2006)
Kachher Manush (2006)
Mohona (2006)
Vober Hat (2007)
Srinkhal (2010)
Cinemas
Hulia
Dohon
Shontrash
Bachelor
JoyJatra
Shamolchaya
Bhohubrihi
Ekattorer Jishu
Mayer Morjada
Aha!
Theatrical Plays
Montasir Fantasy
Kirtonkhola
Keramot Mongol
Durto wee
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


