somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ নাবিলা কাহিনী ৩ - নিভৃত সঙ্গী (শেষ পর্ব)

০৭ ই মে, ২০১৯ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
যারা আগের পর্ব পড়েন নি তারা পড়ে আসুনঃ গল্পঃ নাবিলা কাহিনী ৩ - নিভৃত সঙ্গী (প্রথম পর্ব)



ছয়
আবিরকে বাইরে বসতে বলে নাবিলা অধরাকে নিয়ে তৃতীয় সেশনে বসল দুইদিন পরে। অধরা রেডী বলার পর নাবিলা উঠে যেয়ে টেবিলের উপর থেকে একটা কাগজ নিয়ে অধরার সামনে এসে বসল।
-আমি তোমাকে এখন কিছু খুব ব্যক্তিগত প্রশ্ন করব। তোমার হয়ত লজ্জা লাগবে কিন্তু আমাকে সঠিক উত্তর দেবে। প্রশ্নগুলি বাইনারি টাইপ হবে। উত্তর হবে শুধুই হ্যাঁ কিংবা না। বুঝতে পারছ?
অধরা মাথা নেড়ে সায় দিতেই নাবিলা প্রশ্ন শুরু করলঃ
-মন্দিরের ভিতরে যখন গিয়েছিলে তখন নিশ্চয় তোমার পিরিয়ড শুরু হয়নি।
-হ্যাঁ।
-তুমি তোমার ভিতরে আলাদা একটা সত্তার উপস্থিতি মাঝে মাঝে টের পাও।
-হ্যাঁ।
-মন্দির থেকে ফিরে আসার অন্ততঃ তিন বছর পর এই সত্তার প্রথম টের পাও তুমি।
-আমার ঠিক মনে নেই। তবে তিন বছরের কাছাকাছিই হবে।
-আবিরকে পছন্দ করা নিশ্চয় তোমার একক সিদ্ধান্ত।
-হ্যাঁ।
-এইজন্য তোমাকে কি কোন কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে।

এই প্রশ্নটা শুনে অধরা বেশ অবাক হয়ে নাবিলার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষন। তারপর অস্ফুটস্বরে বললঃ
-হ্যাঁ।
-আবিরের সাথে এখন পর্যন্ত তোমার কোন ফিজিক্যাল রিলেশন হয় নি।
-হ্যাঁ।
-তুমি এখনও ভার্জিন।
-হ্যাঁ।

এইভাবে নাবিলা আরও প্রায় একশটার মতো প্রশ্ন করল অধরাকে এবং অধরার উত্তরগুলি হাতের কাগজে প্রশ্নের পাশেই লিখে রাখল। ইতিমধ্যেই নাবিলার কপালে বেশ কয়েকটা ভাঁজ পড়েছে।

প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষ হবার পর নাবিলার চেহারায় হালকা অবিশ্বাসের ছায়া ফুটে উঠল তবে মুখে কিছুই বলল না। উঠে যেয়ে দেয়ালে টাঙানো একটা ক্যালেন্ডারের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললঃ
-অধরা, তোমার নেক্সট সেশনের ডেট আমি আজকে দিলাম না। আমাকে কিছু কাজ করতে হবে, যেটার জন্য সময় লাগবে। আমি আবিরকে ফোন করে পরবর্তি আসার ডেট জানিয়ে দেব।

সাত
সাতদিন পরে অধরাকে নিয়ে চতুর্থ সেশনে বসল নাবিলা। আবির আর অধরার মুখোমুখি বসে প্রথমেই কথা শুরু করল নাবিলাঃ
-অধরা, আমি তোমাকে হিপনোটাইজ করতে চাই। তোমার ভয়ের কোন কারন নেই। পুরো সময়টাতে আবির আমার পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করবে। এটা তোমার চিকিৎসার জন্য খুবই জরুরী।
-কেন ম্যাডাম? কি জন্য এটা দরকার?
-আমার দ্রুতই বাকি তথ্যগুলি দরকার। হিপনোটাইজড অবস্থায় মানুষের এমন অনেক ঘটনার কথাই মনে পড়ে যায় যার পুরোটাই তার অবচেতন মনে লুকায়িত থাকে কিংবা আর কোনভাবেই আর মনে করতে পারে না। এটা পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। আমি আগেরদিন যা যা শুনেছিলাম সেটার বাকি সব মিসিং পয়েন্টগুলি তোমার ভিতর থেকে বের করে আনব।
-আপনি পারবেন না। আবির কয়েকদিন আগে একই চেস্টা করেছিল, ও কিন্তু পারে নি।

নাবিলা হাসিমুখে বললঃ
-তোমার গলায় যে চেইন আর লকেটটা ঝুলছে সেটা কি তোমার খুব পছন্দের?
-জী ম্যাডাম। এটা বাসর রাতে আবির আমার গলায় পড়িয়ে দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত এটা আমি খুলি নি।
-এটা খুলে আমার হাতে দাও। আর তারপর ঔ সাদা চেয়ারটাতে যেয়ে বস।

পরবর্তি পাঁচ মিনিট পর নাবিলা দ্রুতই অধরার চোখের সামনে লকেট সহ চেইনটা ঝুলিয়ে দোল দিতে দিতে অধরাকে সম্মোহন বা হিপনোসিসের পর্যায়ে নিয়ে গেল। একটু সময় নিয়ে নাবিলা ধীরে ধীরে অধরাকে সম্মোহনের স্তম্ভন স্তরে নিয়ে গেল। এই স্তরে সম্মোহন চলাকালীন সময়ে মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ঐ সম্মোহিত ব্যক্তির বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে কেন্দ্রীভূত করা যায় এবং সম্মোহিত ব্যক্তির মনকে শিথিল করে দেয়া যায়। তখন এর মাঝে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন তার নাড়ীর স্পন্দন কমে যায়, শ্বাস প্রশ্বাসও কমে যায়। সেই সাথে তার মস্তিষ্কের আলফা স্তরে চেতনার ঢেউ খেলতে থাকে। এই সময়ে ঐ ব্যক্তিকে বিশেষ কোন নির্দেশ দিলে সে সেটা সাথে সাথেই পালন করে।

প্রায় পঁচিশ মিনিট ধরে অধরাকে নিয়ে নাবিলার প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর পর্ব চলল। আবির গভীর মনোযোগ দিয়ে সবকিছু দেখছে আর শিখে নিচ্ছে।

একদম শেষ পর্যায়ে এসে নাবিলা অধরাকে সম্মোহনের স্তম্ভন স্তর থেকে ত্রাটন স্তরে ফিরিয়ে নিয়ে এলো। তারপর একটা পোর্টেবল মিউজিক প্লেয়ার ব্যাগ থেকে বের করল এবং আবিরের সামনেই একটা মিনি কম্প্যাক্ট ডিস্ক এর ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ভিডিও রের্কডিং মেশিনটা একদম অধরার মুখের খুব কাছাকাছি নিয়ে সেট করল। আবিরের সামনেই মিউজিক প্লেয়ারটা অন করল। কিন্তু আবির কোন কিছুই শুনতে পেল না কিন্তু খুব অবাক হয়ে দেখল অধরা বেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাল। কখন জোরে দীর্ঘশ্বাস, কখন হাত পা নড়াচড়া কোন কিছুই বাদ গেল না। অস্ফুটস্বরে অধরা যা বলল সেইগুলি নাবিলা একদম কাছ থেকে সেইগুলি রের্কড করল।

সবকাজ শেষ হবার পর আবিরকে নিয়ম মতো অধরার জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে বলে নাবিলা নিজের ডেস্কের চেয়ারে যেয়ে বসল। এখন কিছুটা অন্যমনস্ক লাগছে নাবিলাকে। যেন মনে হচ্ছে কোন কিছু খুব গভীরভাবে নিজের মনের ভিতরে চিন্তা করছে ও……

আট
শুক্রবার, ছুটির দিন। সকালবেলা বাসায় নাস্তা করার পর নাবিলা আবারও অধরার প্রতিটা ভিডিও রেকর্ডিং খুব মনোযোগ দিয়ে বেশ কয়েকবার করে দেখল। অধরাকে নিয়ে লেখা ডায়েরীটা বের করে আন্ডারলাইন করা লাইনগুলি আবার পড়ল। এরপর বেশ আগের একটা পুরাতন ভিডিও বের করে সেটাও দেখল। নাবিলার মনে এতক্ষন যে দ্বিধা ছিল সেটা কেটে যেতেই দ্রুত একটা ফোন করল ও।

বেশ কিছুক্ষন ফোনে কথা বলার পর ওকে দেয়া সাজেশন মতো অধরাকে নিয়ে পরবর্তি ধাপগুলি নাবিলা ঠিক করে লিখে ফেলল।

প্রথমেই একটা তথ্য যোগার করা দরকার আর সেজন্য রূপমকে ফোন করে ওর সাথে পারলে আজকেই দেখা করতে বলল।

আবিরকে আগামিকাল চেম্বারে একা আসার জন্য ফোনে জানান হলো।

এরপরই নাবিলা খুব মনোযোগ দিয়ে ওকে ইমেইলে একটু আগে পাঠানো ডকুমেন্টগুলি কালার প্রিন্ট করে ষ্ট্যাডি রুমে ঢুকে গেল।

ঐদিন বিকালবেলা রূপম ওর সাথে দেখা করতেই নাবিলা একটা নির্দিষ্ট জায়গার ঠিকানা দিয়ে সেখানকার বিগত পাঁচ বছরের বিশেষ কিছু তথ্য যোগার করতে বলল। অধরা কেসের কিছু বিষয় নাবিলা রূপমের সাথে শেয়ার করতেই রূপম কেসের গুরুত্ব বুঝতে পারল। ঠিক দুইদিন সময় চেয়ে নিয়ে তখনই তড়িঘড়ি করে নাবিলার বাসা থেকে বের হয়ে আসল রূপম।

দুইদিন পরে রূপম নাবিলার সাথে ভার্সিটিতে দেখা করে। সেই পুরাতন মন্দিরটা বেশ কয়েকবছর আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে শুনে নাবিলা হতাশ হয়ে বাকি তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাইল রূপমের কাছে। এরপর রুপমের দেয়া রির্পোটটা ভালো করে পড়ার পর, রির্পোটে পেন দিয়ে তিনটা নাম মার্ক করল নাবিলা। সম্ভব হলে এই তিনজনের কোন হদিস পাওয়া যায় নাকি সেটা রূপমকে খোঁজ নিতে বলল।

নয়
পরেরদিন আবির নাবিলার চেম্বারে আসার পর আবিরের সাথে কথা বলে নাবিলা অধরার জন্য পরবর্তি কর্মপন্থাগুলি ঠিক করে ফেলল। শুরুতেই আবির নাবিলাকে অজানা একটা তথ্য জানালঃ
-সম্ভবত অধরার মা এই পুরো বিষয়টা খুব ভালো করেই জানেন। আপনি অধরার মা'র সাথে একবার কথা বলুন। আরও অনেক অজানা কিছু জানতে পারবেন। ঘটনাটা শুরু হবার পর থেকে প্রায় এক বছরের মতো সময় অধরা খুবই অসুস্থ ছিল। ঐসময়ে ঠিক কি কি ঘটেছিল সেটা ওর ভালো ভাবে মনে নেই। আমার ধারনা ওর মা সেটা জানেন এবং গোপন করে ফেলেছেন। ওর বাবা নেই। ওর মা আমাদের সাথেই থাকেন।
-একটা অপ্রিয় সত্য কথা তোমার জানা দরকার আবির। এই প্রভাব কেটে যাবার পর অধরাকে তোমার আর ভালো নাও লাগতে পারে। তবে প্রফেশনাল এথিকসের জন্য আমরা কেউ এই কেস ফিনিস না করে এর থেকে পিছু হটে আসব না। তোমাকে এটা কথা দিতে হবে।
-আমি সর্বোচ্চ চেস্টা করব আপনার কথা মতো চলার।
-আমি তোমার বাসায় যেতে চাই। অধরা এবং ওর মার সাথেও কথা বলতে হবে। অধরার হাতে খুব বেশি সময় নেই। হিসেব মতো এখন থেকে মাঝে মাঝেই ও এই রকম অসুস্থ হয়ে পড়বে।
-আপনি যদি চান তাহলে আজকেই আমার সাথে এখনই যেতে পারেন।

রিসেপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করে নাবিলা জানল যে আর মাত্র দুইটা পেশেন্ট ওয়েটিং রুমে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছে। নাবিলা আবিরকে একঘন্টা পরে আবার ফিরে আসতে বলল। আজকে নিজের বাসায় ফিরে যাবার আগেই নাবিলা অধরার বাসা একবার ঘুরে আসতে চাচ্ছে।

দশ
তিনদিন পরে অধরা এবং আবিরকে নিয়ে নাবিলা ওর নিজের বাসার স্ট্যাডি রুমে যেয়ে বসল। কম্পিউটারে স্ক্রীনে বেশ আগের একটা ভিডিও ছেড়ে দিয়ে সবাইকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে বলল। ভিডিওতে একটা মেয়ের সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছে, মেয়েটা নিউ মেক্সিকোতে থাকে। এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটা নাবিলা নিজেই করেছিল। প্রায় আধাঘন্টা ব্যাপি ভিডিওটা শেষ হবার পর নাবিলা কথা বলা শুরু করলঃ

আমেরিকায় লেখাপড়া শেষ করার পর আমি প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি একজন খুব অসাধারন সাইকোলজিস্টের আন্ডারে এপ্রেন্টিস হিসেবে কাজ শিখি। উনার নেশাই ছিল যত রহস্যময় ঘটনা কেউ সমাধান করতে পারে না সেগুলি নিয়ে কাজ করার। সেজন্য খুব কম সময়েই আমি দারুন দারুন সব কেস হ্যান্ডেল করতে দেখেছি। তবে এই সব কেসের মধ্যে একটা কেস আমাকে খুব অবাক করে দিত। আমার বস, ডঃ সিলভিয়া এই কেসের নাম দিয়েছিলেন সাইলেন্ট পার্টনার, বাংলায় বলা যায় নিভৃত সঙ্গী। আমি এখন যা যা বলব সেটা সবই ডঃ সিলভিয়ার হাইপোথিসিস। কারন এটা প্রমান করা কারও পক্ষেই সম্ভব না।

অধরা তোমার মতো আরও অনেক মেয়ে এই পৃথিবীতে একই সমস্যা নিয়ে বাস করছে। এটার জন্য কোন মেয়েকেই দায়ী করা যাবে না। এটা অনেকটাই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তোমাদের উপর।

এই পৃথিবীর মতো আরও অনেক গ্রহ আছে। সেখানে প্রানের অস্তিত্ব আছে বলে বৈজ্ঞানিক ভাবে বিশ্বাসও করা হয়। কিছু কিছু অস্তিত্ব মানব জাতীর চেয়েও অনেক বেশি প্রাচীন। ঠিক এই রকম একটা অস্তিত্ব এই কেসের সাথে জড়িয়ে আছে। ডঃ সিলভিয়ার ধারনা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারনে এই প্রজাতি বা অস্তিত্ব যাই বল না কেন, এদের প্রজনন ক্ষমতা আংশিকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এরা নিজেরা এখন আর পরবর্তি প্রজন্ম সৃষ্টি করতে পারছে না। আর ঠিক সেজন্য এরা এই পৃথিবীতে বংশ বৃদ্ধি করতে চলে আসে।

ঠিক একটা বিশেষ মুহুর্তে আগে থেকে ঠিক করা মেয়েদের দেহে এরা ইম-ম্যাচুউরড ভ্রুন প্রতিস্থাপন করে যায়। এই ভ্রুন খুব ধীরে ধীরে মেয়েদের দেহে বড় হতে থাকে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত।

এইসব পছন্দ করা মেয়েদের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। কেন যেন এদের ইম-ম্যাচুউরড ভ্রুন প্রতিস্থাপন করার সময় মেয়েদের পিউবার্টির আগের অবস্থা দরকার পরে। যতগুলি মেয়ে পাওয়া গেছে সবার একই অবস্থা। মেয়েদের বয়স যাই হোক না কেন, প্রতিস্থাপিত এই ভ্রুন মেয়েদের দেহে বড় হয়ে পরিপক্ক হতে প্রায় বার বছর সময় লাগে। প্রথম তিন বছর মেয়েরা কোন কিছুই টের পায় না। ভ্রুন অন্ততঃ তিন বছর পার হবার পর এইসব মেয়েরা টের পায় তারা অসম্ভব কিছু ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু এই সব মেয়েরা ঠিক আসলে জানেও না কত বিশাল ক্ষমতা এদের।

তবে এইসব মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন বলে কিছু থাকে না। এরা কখনই নিজেদের জন্য জীবন সঙ্গী বেছে নিতে পারে না। যদি নিতে চায় তাহলে একটা বড় স্যাক্রিফাইস করতে হয়, সেটা হলো সেই ছেলের সাথে কোন ভাবেই শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে না। যদি করে তাহলে সেই ছেলেকে নির্মম ভাবে এবং মেয়ে যদি কোনভাবে গর্ভবতী হলে সেই মানবভ্রুনকে সাথে সাথেই মেরে ফেলা হয়। আর এই ভয়েই এইসব মেয়েরা এদের জীবন সঙ্গী হিসেবে কাউকেই জড়ায় না। আমি খুবই অবাক হয়েছি অধরা, তোমার এত বড় রিস্ক নেয়া দেখে। সেই জন্যই তুমি আবিরের উপর সব সময় নিয়ন্ত্রন রাখতে।

সারা বিশ্বেই এই ধরনের ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। তবে এই দেশে এসে আমি এই ধরনের কেস পাব সেটা আশা করি নি। দুঃখজনক হলেও সেই মন্দিরটা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমি অন্তত আরও তিনজন তোমার মতো মেয়ের নাম পেয়েছি যারা একই সমস্যায় আছে। এদের খোঁজ আমি শীঘ্রই পেয়ে যাব।

এইসব মেয়ের দেহে এই ভ্রুন কিভাবে জায়গা করে নেয় সেটা অজানা। আমাদের দেহ ত্রিমাত্রিক। ধারনা করা হয় এই প্রজাতি পঞ্চম বা ষষ্ঠ মাত্রিক পর্যায়ের। সেইজন্য এদের সহজে টের পাওয়া যায় না। এরা খুব কমই সারোগেট মাদারের সাথে যোগাযোগ করে।


-ম্যাডাম, যোগাযোগ করার ব্যাপারে কিছুটা ভুল এই ধারনা। আমি যখন এদের অপছন্দের কোন কিছু করতে চেস্টা করি তখন টেলিপ্যাথির মাধ্যমে সাথে সাথেই আমাকে সাবধান করে দেয়। এমন কি আগামি কয়েক দিন আমি কিভাবে চলব সেটাও অনেক সময় বলে দেয়।

-আমি তো প্রথমেই বলেছি এদের নিয়ে পুরোটাই হাইপোথিসিস। তোমার মতো মেয়েরা যখন বাস্তব এবং সত্যগুলি তুলে ধর তখনই এইসব ভালোভাবে জানা যায়। তোমাকে নিয়ে যাবার ব্যাপারে কি বলা হয়েছে অধরা?

-এটা উপলব্ধির ব্যাপার। মুখে কিছু তো বলে না। আমি যা বুঝতে পেরেছি সেটা হলো, একটা সময় আসবে যখন আমার দেহের মধ্যে যেটা আছে সেটা বড় হবার পর বের হতে চাইবে। আমাকে বলা হয়েছে এই পৃথিবীতে কোথাও এই আলাদা করাটা সম্ভব না। সেই জন্য আমাকে অনেক দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে। আমাকে কিছু বলে নি কিন্তু আমার ধারনা আমি আর কখনই এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারব না। আমি আমার মা'কে ফেলে রেখে কোথাও যেতে চাই না।

-খুব দুঃখজনক হলেও তোমার ধারনাই ঠিক। একবার নিয়ে গেলে আর কখনই তুমি এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে না।

-এত নির্মম ভাবে মৃত্যু হবে আমার?

-আমি এই ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানি না। কিছু জ্ঞান মানুষের ধারনার বাইরে।

-আমার এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার কোনই উপায় নেই?

-সবাইকে সম্ভব না হলেও, তোমার নিজের বয়স এবং ভ্রুনের বয়স হিসাব করে আমি দেখেছি এটা মাত্র ৫ বছরের কাছাকাছি হয়েছে, এর প্রয়োজনীয় সময়েরও প্রায় অর্ধেক। হিসাব মতো তোমার এখনও বের হয়ে আসার ভালো সম্ভাবনা আছে। এর আগে সিলভিয়া বেশ কয়েকজনকে এই বয়সে বের করে আনতে পেরেছিল আবার অনেকেই এর পরে আর পারেন নি। আমি ইতিমধ্যেই উনার সাথে তোমার চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করেছি। উনি তোমাকে নিয়ে আশাবাদী। উনি তোমার কিউরের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমাকে ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে আমি তোমাকে আগেই সাবধান করে দিতে চাই। কিছু কনসিকোয়েন্স হয়ত তোমাকে মেনে নিতে হতে পারে, যেমন এদের জোর করে আলাদা করে দিলে, দেহ ছেড়ে যাবার সময় সারোগেট মাদারের দেহে মাতৃত্ব পদ্ধতি অনেক সময় আংশিক অথবা পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়ে যায় শাস্তি স্বরুপ। তুমি যদি এটা মেনেই চিকিৎসা নিতে চাও তবেই আমি এটা নিয়ে কাজ শুরু করব। একজন মেয়ে হয়ে আমার পক্ষে এই ভয়ংকর দায়ভার মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তুমি খুব ভেবে চিনতে আর আবিরের সাথে খোলামেলা আলাপ করে আমাকে তোমার সিদ্ধান্ত জানাও। এরপর আমি আমার সর্বোচ্চ চেস্টা করে যাব।

-আমাকে কি এখনই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে?

-না, তবে যত দ্রুত নেবে ততই আমার আর তোমার জন্য ভালো হবে। তোমার দ্বিতীয় বার অসুস্থ হবার আগেই আমি এই কাজটা শুরু করতে চাই!

অধরা আর আবির কিছু সময় চেয়ে নিয়ে নাবিলার বাসা থেকে বের হয়ে আসল।

এগার
আজকে নাবিলা ইচ্ছে করেই অধরা আর আবির ওর চেম্বারে আসার পর, বাকি সব পেশেন্টকে বিদায় করে দিল। খুব বড় ধরনের একটা কাজে হাত দিতে যাচ্ছে ও।

সাদা চেয়ারটাতে বসার আগে নাবিলা অধরাকে জড়িয়ে ধরল আর ওকে অনেক সাহস দিল। চেয়ারে বসার পর নাবিলা অধরার মন শান্ত হবার জন্য কিছু সময় নিল। অধরার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে আসলে কথা শুরু করল নাবিলাঃ
-আগামি ছয়দিন টানা প্রতিদিন একই সময়ে এই প্রক্রিয়া চালাতে হবে। আজকে এর প্রথম পর্ব আমি শুরু করতে যাচ্ছি। কিন্তু একবার শুরু করলে কোনভাবেই সেশন গ্যাপ দেয়া যাবে না। যত অসুস্থই হও তুমি এই কাজ থেকে পিছিয়ে যাবে না। তোমাকে অনেক বড় বড় ভয় দেখান হবে কিন্তু কোনভাবেই এটা থেকে পিছু হটে আসবে না। ছয়দিনে সর্বমোট ছয়বার এই সেশন একই সময়ে তোমাকে করতেই হবে। বুঝতে পারছ তোমরা দুইজন?

আবির এবং অধরা দুইজন সম্মত হলে নাবিলা আবার বলতে শুরু করলঃ
-পৃথকীকরনের এই হিপনোটিক থেরাপী পদ্ধতি আমি কিংবা সিলভিয়া কেউ আবিষ্কার করি নি। এই মনস্তাতিক পদ্ধতি কিভাবে উনার কাছে এসেছে আমাকে সেটা উনি বলেন নি। তবে আমার ধারনা অসম্ভব বুদ্ধিমতী এই মহিলাও তোমার মতো পর্যায়ে একসময়ে ছিলেন। কিভাবে কার সাহায্য নিয়ে উনি ফিরে এসেছেন আমি ঠিক জানি না। তবে এই পৃথিবীতে এখন অনেকেই আছেন যারা একইভাবে এই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এরা নিজেদের মধ্যে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন নতুন কোন তথ্যের জন্য। আমি তোমার চিকিৎসার পুরো তথ্য সিলভিয়া দেব এই প্রমিজ করেই এটা নিয়ে এসেছি, তুমি সুস্থ হবার পর তোমার জানা সবরকম তথ্য দিয়ে উনাকে এই বিষয়ের উপর উনার রিসার্চে তুমি সাহায্য করবে। যখন উনি চাইবে তখনই। তুমি কি সিলভিয়ার এই প্রস্তাবে রাজি আছ?

অধরা রাজি হতেই নাবিলা পুরো পদ্ধতিটা আবারও অধরা আর আবিরকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিল।

-অধরা তোমার দেহের ভিতরে যখন এই ভ্রুন প্রতিস্থাপন করা হয়, তখন তুমি রাজি কি, রাজি না এই ব্যাপারে কোন অপশন বেছে নেয়ার সুযোগ তুমি পাওনি ভাষা না বুঝার জন্য। এমনকি এই ভয়ংকর স্মৃতিটুকুও গোপন করে ফেলা হয়েছে, যাতে পরে বুঝতে পারার পর তুমি অস্বীকার করতে না পার। আমি তোমাকে সেই পুরানো স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। যখন সেই অপশন তোমার কাছে দেয়া হবে তুমি তখন না বলে দেবে। ঠিক কখন এটা বলতে হবে সেটাও আমি বলে দেব। তুমি শুধু আমি যা বলব সেটাই করবে দ্বিধাহীন ভাবে, মনে কোনরকম সন্দেহ না রেখে।
-কিন্তু এরা তো অবশ্যই এই কাজে বাধা দেবে। ইতিমধ্যেই আমার ভিতর থেকে আমাকে এখন ভয়ংকর সব ভয় দেখানো শুরু করেছে! আমাকে মেরে ফেলার ভয় পর্যন্ত দেখাচ্ছে। আমার ভয় লাগছে!

-ভয় কিছুটা লাগবেই তোমার, এটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু তুমি তোমার মনকে শক্ত কর। আমি খুব ভালো করেই জানি এটা স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের দুইজনকেই কাজে বাধা দেবে। তাই সম্মোহনের ত্রাটন পর্যায়ে নিয়ে এই কাজটা করব আমি। তোমার দেহের সাথেই এটার সব ক্ষমতা। এর কোন পৃথক অস্তিত্ব নেই। তুমি সম্মোহিত হয়ে গেল এটার নিজে থেকে কিছু করা সম্ভব না। আমার উপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখ। আমি বেশ ভালো করেই জানি কখন কি করতে হবে। ভয় পেও না। শুধু মনে মনে ভাবতে থাক, কি চমৎকার আনন্দময় একটা জীবন এই পৃথিবীতে তোমার জন্য ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছে। আমি এবং আবির সবসময় তোমার পাশেই থাকব! এখন আমি তোমাকে খুব তাড়াতাড়ি সেই পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। বেশি দেরী করলে এটা ভয়ংকর সব সমস্যা সৃষ্টি করে আমার কাজে বাধা দেয়া শুরু করবে।

কিছুক্ষন পরই নাবিলা হিপনোসিসের ঠিক বিশেষ সেই মুহুর্তে, অধরাকে সেই প্রতিস্থাপনের পূর্বের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেয়ে উচ্চ কন্ঠে অধরা'কে বলা শুরু করলঃ
-অধরা, তুমি এখন সেই মাটির মন্দিরের ভিতরে ভাঙ্গা বেদীটার কাছে দাঁড়িয়ে আছ। তুমি কি বেদীটা দেখতে পাচ্ছ?
-হ্যাঁ, আমি দেখতে পাচ্ছি।
-মাটির মন্দিরের ভিতরে বেদীর কাছে দাঁড়িয়ে তুমি শুনতে পাচ্ছ, কেউ যেন তোমাকে বামদিকের একটা ঘরে ডাকছে। তুমি কি সেই ডাক শুনতে পাচ্ছে?
-হ্যাঁ, আমি শুনতে পাচ্ছি।
-তুমি ছুটে চলে যাচ্ছ সেখানে। যেয়ে দেখলে খুব সাদা পোষাক পড়া কেউ একজন তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। তোমাকে কাছে যেতে বলছে। তুমি কি তাকে দেখতে পাচ্ছ?
-হ্যাঁ, আমি এখন তাকে দেখতে পাচ্ছি।
-তুমি তার কাছে যেয়ে দাড়ালে। সে তোমাকে কিছু বলছে, তোমাকে একটা উপহার দিতে চাইছে, তুমি কি সেই কথাগুলি শুনতে পাচ্ছ?
-হ্যাঁ, আমি তার কথা শুনতে পাচ্ছি।
-তার কথা কি শেষ হয়েছে?
-হ্যাঁ, তার কথা শেষ হয়েছে।
-সে কি তার দুইহাত তোমার দিকে এগিয়ে দিয়েছে?
-হ্যাঁ, দিয়েছে।
-এখন তুমি খুব জোরে চিৎকার দিয়ে বল, আমি চাই না।
অধরা বেশ জোরে চিৎকার দিয়ে বলল, আমি চাই না।
নাবিলা পরপর আর দুইবার অধরাকে দিয়ে একই ভাবে একই কথা উচ্চারণ করাল। অধরা'র দেহ প্রচন্ড ভাবে কেঁপে উঠার সাথে সাথেই ও কোন দুর্বোধ্য এক ভাষায় কথা বলা শুরু করল। এর সাথে অধরার সারা দেহ বারবার কাঁপতে লাগল। নাবিলা এটাকে পাত্তা না দিয়ে সেই পোর্টেবল মিউজিক প্লেয়ারটাতে নির্দিষ্ট একটা কম্প্যাক্ট ডিস্ক প্রবেশ করিয়ে সেটা অন করে দিয়ে অধরার খুব কাছে এনে রাখল। ভিডিও ক্যামেরাও অধরা'র একদম মুখের কাছে সেট করল।

আবির অধরার কাছে এসে ওকে কি শুনানও হচ্ছে সেটা শুনার চেস্টা করতেই, নাবিলা আবিরকে বেশ দূরে ডেকে নিয়ে যেয়ে বললঃ
-আবির, তুমি কিছুই শুনতে পাবে না। হিউমান বডির অডিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সী 20 to 20,000 Hz কিন্তু আমি যেটা ওকে শুনাচ্ছি সেটার ফ্রিকোয়েন্সী প্রায় 90,000 Hz to 120,000 Hz. এটা বাজানোর জন্য এই স্পেশাল প্লেয়ারটা বানানো হয়েছে। কিভাবে এটা সিলভিয়া পেল সেটা অনেকবার জিজ্ঞেস করার পরেও আমাকে বলে নি। এখানে কি বলা হচ্ছে সেটা শুধু আমাকে জানান হয়েছে। সেটা আমি তোমাকে পরে বলব।

ইতিমধ্যেই অধরা সাদা চেয়ারে বসা অবস্থাতেই বেশ জোরে ছটফট করতে লাগল তবে উত্তেজনা আস্তে আস্তে সময়ের সাথে কমে এক সময় বিলীন হয়ে গেল।

নাবিলা আরও পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে অধরাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসল।


বার
দশদিন পরে নাবিলার চেম্বারে-

অধরাকে পরীক্ষা শেষ করে হাসি মুখে নাবিলা ডেস্কে যেয়ে বসল। অধরা আর আবির ওর ডেস্কের সামনে যেয়ে বসতেই, নাবিলা অধরার সাথেই প্রথম কথা বলা শুরু করলঃ
-তোমার বর্তমান অবস্থা দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে। তোমার মেডিক্যাল রিপোর্টেও খুব ভালো রেজাল্ট এসেছে। আমি আশা করব খুব শীঘ্রই দারুন একটা সুখবর পাব। আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে সেই সুখবরটা শুনা আর বাচ্চাটা দেখার জন্য অপেক্ষা করে রইব। যত তাড়াতাড়ি অধরা তুমি এই কাজটা করতে পারবে, তোমার জন্য ততই নিরাপদ বাকি জীবনটা। কারন, আজ পর্যন্ত বাচ্চা হবার পর কোন মেয়েকে এরা আবার টার্গেট করে নি।

-তোমাকে আরেকটা ব্যাপারে সাবধান করে দিতে চাই। তুমি এটা থেকে আলাদা হবার পরেও তোমার দেহের ভিতর বেশ কিছুদিন কিছু কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা থেকে যেতে পারে। তুমি কোনভাবেই সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবে না। তাহলেই এইসব ক্ষমতা আস্তে আস্তে তোমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে।

-আবির, আমি খুবই খুশি হয়েছি সবকিছুর পরও তুমি অধরার পাশে থেকে গেছ। আমি মন থেকে চাইছি, সারাজীবনই যেন তোমরা এভাবে সবসময় একজন আরেকজনের বিপদের সময় পাশে থাক, একে অপরের বাকি জীবনটা মধুর আর ভালবাসাময় করে রাখ।

-আর সবশেষে, তোমাদের দুইজনের মধ্যে চমৎকার দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য শুভ কামনা রইল!

অধরার দুই চোখই নাবিলা প্রতি কৃতজ্ঞতায় আর্দ্র হয়ে উঠল। উঠে যেয়ে গভীর আবেগে নাবিলাকে জড়িয়ে ধরল ও……

তের
প্রায় দেড় বছর পরে-
অধরা নিজের কোলের থাকা বাচ্চা ছেলেটা আবিরের কোলে দিয়ে দোকানে কাঁচের ডিনার সেটগুলি এবার বেশ ভালো করে দেখা শুরু করল। বাচ্চাটার জন্য এতক্ষন হাতে নিয়ে কাঁচের জিনিসগুলি ও ভালো করে দেখতে পারছিল না। ওরা দুইজন এসেছে ঢাকা নিউমার্কেটের ভিতরে ক্রোকারিজ শপগুলিতে কেনাকাটা করতে। হঠাৎই অধরা চমকে উঠল আর ওর হাত থেকে কাঁচের একটা ডিশ মেঝেতে পড়ে জোরে শব্দ করে ভেঁঙ্গে গেল। শব্দ শুনে দোকানের আশেপাশের সবাই অধরার দিকে ঘুরে তাকাল, কিন্তু আবির অবাক হয়ে দেখল হাতের ডিশটা পড়ে যাওয়া নিয়ে অধরার কোন ভ্রুক্ষেপই নেই! অপলক দৃষ্টিতে ওর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল অধরা…….


উৎসর্গঃ
ব্লগে যিনি আমাকে বোনাই ডেকে আত্মীয়তার বন্ধনে ইতিমধ্যেই বেঁধে ফেলেছেন, সেই প্রিয় আরোগ্য ভাইকে। অল্প কিছুদিন আগে উনি আমাকে উৎর্সগ করে একটা গল্প দিয়েছিলেন। সেখানেই কথা দিয়ে এসেছিলাম আমি এর প্রতিদান দেব। উনার পছন্দের টপিক নিয়েই লিখেছি। এমনকি এই গল্পের নায়িকার নামও আরোগ্য ভাইয়ের কাছ থেকে ধার করা। মূল্যায়নের দায়ভার যথারীতি আমার সম্মানিত পাঠকদের কাছেই রেখে গেলাম।


এই সিরিজের আগের পর্ব যারা পড়তে চানঃ
১। গল্পঃ নাবিলা কাহিনী ১ - পরিণয়!
২। গল্পঃ নাবিলা কাহিনী ২ - হৃদয়ে রঙধনু!


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, মে, ২০১৯

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৪
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছেলেধরা গুজবে কান দিবেন না প্লিজ! দয়া করে কাউকে পিটিয়ে হত্যার মত জঘন্যতা পরিহার করুন।

লিখেছেন নতুন নকিব, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:২৩



মানুষের কী হল? কী হয়ে গেল আমাদের এই সমাজ, এই দেশটার? কী ভয়ানক অরাজকতায় ছেয়ে যাচ্ছে সমাজ-সংসার? ভয়ঙ্কর সব হত্যাযজ্ঞের নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি দিন! ছেলেধরা কল্লাকাটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বের শ্রমজীবি মানুষের ঐক্যকে সঙ্ঘবদ্ধ করে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতার নীতির বিরূদ্ধে সহযোগিতামুলক বিশ্বব্যাবস্থার তত্বকেই খাড়া করে তুলতে হবে

লিখেছেন এম. বোরহান উদ্দিন রতন, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩



২০শে জুলাই বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষেরা এই দিনটিকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিন হিসেবে পালন করে থাকে । লেনিন সহ বিশ্বের তদানিন্তন তাবড় কম্যুনিষ্টরা রুশ বিপ্লবের বহু পুর্বেই পুঁজিবাদের সর্ব্বচ্চ রূপ হিসাবে সাম্রাজ্যবাদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর কতটা অধ:পতন হলে জাতি হবে লজ্জিত? বুঝতে পারবে বাঙ্গালীর নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। খুবই বড় একটা সমস্যা আছে আমাদের সমাজে।

লিখেছেন নতুন, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:০৭


Something is very Wrong in our Society. কিছু দিন ধরে দেশে যেই সব ঘটনা আমরা ঘটিয়ে চলছি তা দেখে কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিনা।

* ৭ বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

» সোনারগাঁও-এ ভ্রমণ করেছিলুম একদা.....

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

সোনারগাঁ জাদুঘর ভ্রমন
=কাজী ফাতেমা ছবি=



কোন এক শীতের দিন অফিসের পিকনিক ছিলো, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। সেই সুবাদে দেখতে পেরেছিলাম পানাম শহর আর সোনারগাঁ জাদুঘর -শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর। ঢাকায় আছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি (প্রায়) মৌলিক গল্প

লিখেছেন মা.হাসান, ২২ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৮




নীল পাখি নাক বাহিয়া বাঁশ গাছের উপরে উঠিয়া তাহার তেলের ভান্ড দেখিয়া আসিল (কৈ মাছ কান বাহিয়া গাছে উঠিতে পারে, যেহেতু গল্প মৌলিক কাজেই নাক বাহিয়া উঠিতে হইবে)।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×