আমি কোন লেখিকা নই। সুতরাং এখানে এসে আপনার মূল্যবান সময় অপচয়ে আমি দায়ী নই। শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-মানুষ-প্রকৃতি পরিবেশ-পরিস্থিতি কাল সবই আমার জীবনের মহৎ অংশ।

জাকাত প্রদান করলে মানসম্পন্ন টাই করূন; মন থেকে করূন
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৫:১৮
অনেক দিন পর গতকাল ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে ঢুঁ মারলাম। উদ্দেশ্য কিছু শাড়ি লুঙ্গী ক্রয় করা। যা আমাদের গ্রামের বাড়ির আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের জন্য দিব বলে ঠিক করেছি। যাদের উদ্দেশ্যে কিনব বলে লিস্ট করেছি তারা অপেক্ষা কৃত নিম্ন আয়ের আমাদেরই আত্মীয় -স্বজন, পাড়া -প্রতিবেশী। তারা খুবই সহজ সরল এবং অসম্ভব অতিথিপরায়ন। যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
দোকানিকে আমার চাহিদা বলা মাত্র "জাকাতের কাপড়" স্টিকার লাগানো সারি থেকে কাপড়ের স্যাম্পল দেখাতে লাগলেন। এ রকম কাপড় কেনার অভিজ্ঞতা আমার আগে ছিল না। প্রতিবার আম্মাই এসব সামলান। আমি আবার নিজের কাপড়ই কিনি চৌদ্দ দোকান ঘুরে। তার উপর এতগুলো কাপড় কেনার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে না...........আম্মা আমাকে। আমি নাকি কালার চয়েজে পটু(আসলে ছাই) ! আম্মার ফরমায়েশে মনে মনে রাগলেও সানন্দে রাজি হয়েছি সাথে আমার নিজের কিছু শপিং করব বলে। সে যাই হোক "জাকাতের কাপড়" দেখে আমার বুঝতে অসুবিধে হল না যে ইহা খুবই নিম্নমানের। তখন গ্রামের ঐ স্বজনদের চেহারা মনের পর্দায় হাজির হল। এ আমি কি করছি! ওদের সাথে প্রতারণা করাটা কি ঠিক হচ্ছে! কেনা কাটা না করে বাসায় চলে এলাম। আসার সময় মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানে "জাকাতের কাপড়" লেখা দেখে খুব এবং খুবই খারাপ লাগছিল। কারন কাড়গুলো খুবই নিম্নমানের।
জাকাত প্রদানকারী ব্যক্তিগণ প্রতিবছরই গরিব-দুঃখীদের মধ্যে জাকাতের কাপড় বিতরণ করেন। কিন্তুদুঃখের বিষয়, যে সমস্ত কাপড় দেওয়া হয় তা মানসম্মত নয়। খুব অল্প মূল্যের নিম্নমানের কাপড় দেওয়া হয়। অনেক সময় এ কাপড় পরে আব্রূ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেকে ভাবেন যে, অল্প মূল্যের কাপড় বেশি লোককে দেওয়া যায়। কিন্তু বেশি লোককে দিতে গিয়ে কারো কোনো উপকারই হয় না। কাপড়ের দোকানগুলোতে 'জাকাতের কাপড়' নামে এক প্রকার নিম্নমানের কাপড় বিক্রি হয়।
'জাকাতের কাপড়' নামের এ নিম্নমানের কাপড় উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। গরিবদের অপমান করার অধিকার কারো নেই। তাই বিনীত অনুরোধ, যারাই গরিবদের কাপড় দান করবেন তারা যেন মানসম্মত কাপড় দান করেন। লোক দেখানো দানে মনে শান্তি মিলে না কখনো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৫:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
আপনার বক্তব্য সমর্থন করছি , ধন্যবাদ সিমরান সুন্দর পোষ্টটির জন্য ।
অতিথি বলেছেন:
নিজেরই হয় না আবার জাকাত! ওইসব গরীব লোকের কাম। পারলে আমাগো মতো ধনীদের জন্য কিছু জাকাত সাপ্লাই দিয়েন।
সিমরান শিকদার বলেছেন:
আমিতো নিজেই গরীব। জাকাত দেয়ার সামর্থ্য এখনো হয় নাই।
হাবিবমহাজন বলেছেন:
সিমরান,ভাল একটি সাবজেক্ট তুলে ধরেছেন। আমাদের মনের শান্তির জন্য কাজ করাকে প্রাধান্য দিতে হইবে। লোক দেখানো জাকাত দেয়া ইসলাম সমর্থন করে না। জাকাত প্রদানে আগে নিয়ত ঠিক থাককে হবে।
অতিথি বলেছেন:
লাইনে থাকলাম। জাকাত দেয়ার সামর্থ হলে অবশ্যই দিয়েন। মিস যেন না যায়।
অতিথি বলেছেন:
আমিও জাকাত চাই।
অতিথি বলেছেন:
ভাই আপনে আবার কোথেথকে আইলেন। আগে আমি, তারপর আপনি লাইনে থাকেন.....
সিমরান শিকদার বলেছেন:
পোঁকা,আপনি জাকাত পাওয়ার জন্য নিজেকে ফিট মনে করেন? তাহলে চেষ্টা করে দেখুন ভাগ্য সহায় হলে তা পেতেও পারেন।
ওহঃ ভাল কথা- কথা বাতর্ায় সংযম পালন করি। কিছু বিষয়ে রস ঢাললেও তে ঁতো লাগে।
মদন বলেছেন:
সিমরান, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময়োপযোগী পোষ্টের জন্য।
জাকাত, ধনীদের সম্পদে গরীবের অধিকার। অথচ ধনীরা মনে করে তারা গরীবদের করুনা করে যাকাত দিচ্ছে
সিমরান শিকদার বলেছেন:
মদনঃ আপনি 100% রাইট।
অতিথি বলেছেন:
সিমরান, জাকাত এভাবে দিয়ে কোন লাভ নেই... জাকাত দেয়া নিয়ে কোয়ন্টাম ফাউন্ডেশনের একটা লিফলেট আমার খুব পসন্দ হয়েছিল... সেটি দিয়ে একটি পোষ্ট দেতে যাচ্ছি... লিংকটা পোষ্ট শেষ হলে দিচ্ছি...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ধিক আমাদের ধর্মবোধ!