আমার প্রিয় পোস্ট

আমি কোন লেখিকা নই। সুতরাং এখানে এসে আপনার মূল্যবান সময় অপচয়ে আমি দায়ী নই। শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-মানুষ-প্রকৃতি পরিবেশ-পরিস্থিতি কাল সবই আমার জীবনের মহৎ অংশ।

বর্তমানে মোবাইল ফোনের দাপটে চিঠি লেখার প্রবণতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে

১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৪:৫৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

বর্তমান যুগটাকে মোবাইলের যুগ বললে হয়তো ভুল হবে না। আর এই মোবাইলের কারণে চিঠি লেখা হয়ে ওঠে না। প্রিয়জনের কাছে মোবাইলে এক মিনিটে সরাসরি দু্থটি কথা বললেই যথেষ্ট যেন। কিন্তু এটাও এখন আর অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, চিঠি লেখার আনন্দটা এখন আর কারো মনে দাগ কাটে না। আমার মতো হয়তো অনেকেই এ কথাটি স্বীকার করবেন।

আগের মতো এখন পোস্ট অফিসগুলোতে ভিড় লক্ষ করা যায় না। চিঠিপত্র তেমন একটা বিলি করা হয় না। শুধু অফিসিয়াল কিছু চিঠি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সরকারের আয়ও এ দিক দিয়ে কমে গেছে। অর্ধেকেরও কম চিঠি বিলি হয়। এমন একদিন আসবে যখন বিলি হবেও না।

মনে হচ্ছে সে দিনও মানুষ আপনজনার খবর নিতে চিঠি লিখতে বসত। কোনো প্রিয়জনের কাছে চিঠি লিখত সুন্দর কাগজে সুন্দর কলমের ছোঁয়ায়। অনেকে ভেবে ভেবে প্রতিটি লাইনে সাজিয়ে রাখত নিজের কথাগুলো। আবার মানুষ চিঠি পড়াও দারুণ পছন্দ করত। প্রিয়জনের চিঠির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করত। আর ভাবত্ল কেমন আছে, কী করছে, কী খাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এসব জানতে মানুষ চিঠি লিখত। কিন্তু মোবাইল আসায় সেই চিঠি লেখার যেন মৃত্যু হয়েছে। তবে এ কথা অনেকেই স্বীকার করবেন যে, চিঠিতে যে ভাব প্রকাশ করা যায় মোবাইলে সরাসরি কথা বলে নগদে সেই ভাব প্রকাশ করা যায় না। চিঠির প্রতিটি লাইনে মিশে থাকে ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি, স্নেহ, প্রেম, প্রিয়জনের স্পর্শ। আর এই চিঠি একবার নয়, বারবার মানুষ পড়ে থাকে। যত্ন করে রেখে দেয় অনেক দিন স্মৃতি হিসেবে। আর প্রিয়জনের উপস্খিতি উপলব্ধি করে। জীবনের ডকুমেন্ট হিসেবে চিঠি থেকে যায়। মন নেচে ওঠে কোনো প্রিয়জনের চিঠির প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে। প্রতীক্ষার পালা যখন শেষ হয় তখন চলে আসে কাপ্সিক্ষত চিঠিখানা।
কিন্তু বর্তমান অবস্খাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভাইরাসের মতো মানুষকে আক্রমণ করেছে এই মোবাইল।

মোবাইল এখন অবশ্য প্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এখন কারো কাছে বিরক্তিকর, কারো কাছে হাতিপোষার মতো, কারো কাছে বাড়তি ঝামেলার মতো। সাংসারিক জীবনে ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয়যুক্ত হয়েছে এই মোবাইল। কারণ, আগে মানুষ দুয়েক টাকায় অনেক কথা চিঠিতে লিখে জানাতে পারত। কিন্তু এখন মোবাইলের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলছে। আর এ কথা বলতে গিয়ে খরচ হচ্ছে সাংসারিক জীবনের একটি বিরাট অঙ্কের টাকা। এই যান্ত্রিক যুগ ও ব্যয়বহুল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়েও মানুষ মোবাইল ছাড়া চলতে পারে না।

তা ছাড়া চিঠির চেয়ে মোবাইল অনেকটা আর্থিক অপচয় ঘটায়। তাই আসুন চিঠি লিখি। তাতে হাতের লেখাও সুন্দর হবে। আমাদের বাংলা সাহিত্য বাঁচবে। আমরা ফিরে পাব অতীত ঐতিহ্য।

 

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ৩২৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:২৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আজাইরা প্যাচাল.........
২. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:৫৩
comment by: মদন বলেছেন: চমৎকার লেখা। ধন্যবাদ।
আগে সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারতাম এবং অনেককেই লিখতাম কিন্তু মোবাইল এসে সব শেষ। চিঠির আবেগ মোবাইলে নেই। তবে বড় কথা, কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হবেই।
৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:১৬
comment by: সিমরান শিকদার বলেছেন: আলেক্সান্দার দ্যুমাঃ আমি দুঃখিত।
মদনঃ কারেক্ট কথা ।
৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৩২
comment by: অতিথি বলেছেন: সময়োপযোগী লেখা। ধন্যবাদ।
৫. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৩৯
comment by: সিমরান শিকদার বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল ভাইয়া।
৬. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১:২৬
comment by: পথিক!!!!!!! বলেছেন: ঠিকানা পাঠায়ে দেন দেখি জীবনে একটা চিঠি লেখা যায় কিনা।
৭. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৩:৪৬
comment by: ভাসমান বলেছেন: আমার মনে হয় মোবাইলের চাইতে ইমেইলটাই বেশী দায়ি।
৮. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৭
comment by: সিমরান শিকদার বলেছেন: পথিক ,
আপনি মনে হয় পথে পথে থাকেন তাই আপনারে চিঠির মাধ্যমে আমার ঠিকানা দেয়ার জন্য ইনভেলপের উপর ঠিকানা লেখলেতো কাজ হবে না

ভাসমানঃ মতামতের জন্য ধন্যবাদ
৯. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাল লেগেছে। কিপ ইট আপ!
১০. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:১১
comment by: অতিথি বলেছেন: এইটা কি ফন্ট, দাড়ি গুলো এমন দৌড় পারে কেন?
১১. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১:২৮
comment by: অনিক বলেছেন: আগের দিনে যে কোন পরিবারের মধ্যে বিশেষ করে রক্ষণশীল পরিবারের মধ্যে একে অপরের মনের কথা বলার একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। দীর্ঘ চিঠির অনেক কথার মতো প্রেম/ভালবাসার স্থায়ীত্ব ছিল অনেক বেশী নিবিড়, আবেগঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী। ইদানিং মোবাইল যুগের প্রেম/ভালবাসা মিস কলের মতোই ক্ষস্থায়ী। মোবাইল সেটের মডেলের মতই সব সময় তা অদল বদল হয়। চিঠির মতো গোপনীয় ও লজ্জা ভাবটা আজকালের ভালবাসায় একদম নেই। সবকিছু এসএমএস-এর মতই ওপেন, খোলামেলা।
১২. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:২৫
comment by: সিমরান শিকদার বলেছেন: অনিক আপনি সুন্দরভাবে /গুছিয়ে বলেছেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১৩. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: অনিক ভাল বলেছেন... তবে এর একটি ভাল দিকও রয়েছে। খুব সহজে যাচাই করা যাচ্ছে কে কেমন মানসিকতার... সুতরাং যে সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে তা ভেঙ্গে যাওয়াই উচিত।
সব সম্পর্কই যে ভেঙ্গে যাচ্ছে বা গভীরতায় যাচ্ছে না তা কিন্তু ভুল।

আমার এক বন্ধু সারা দিন রাত ফোনে কথা বলেও গত চার বছর ধরে একজনের সাথেই ঝুলে আছে। :)

সিমরান, সুন্দর টপিক। কিন্তু আমি চিঠির চেয়ে ইমেইলকেই বেশী লাইক করি। ইমেইলকে প্রিন্ট করে নিলেই চিঠি হয়ে যায়.. :)
১৪. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:১১
comment by: অতিথি বলেছেন: হাতে লেখা আর কম্পুটারে লেখার দরদ উঠা নামা করেরে ভাই।
১৫. ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২৪
comment by: মদন বলেছেন: ত্রিভুজ,
ই-মেইলকে প্রিন্ট নিলেই চিঠি হয় ঠিকই কিন্তু হাতে চিঠি লিখে খামে করে পাঠানোর আবেদন অতুলনীয়, আর প্রিয় কারো হাতের লেখার মাঝে তারই স্পর্ষ খুজে পাওয়া যায় যেটা ইমেইলের চিঠি প্রিন্ট দিলে আসার কথা না।
(আমার এসএমএস লিখতেও কষ্ট লাগে, এর থেকে ফোন করা অনেক সহজ:P )
১৬. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: :-* তাই????? :-*
১৭. ১৫ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪০
comment by: রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: চিঠি লেখার প্রবণতা শুধু হ্রাস-ই পায়নি... চিঠি শব্দটা ডিকশনারিতে থাকবে শুধু। প্রযুক্তির ভালো দিক যেমন আছে, খারাপ দিকও আছে। অনেকেই মিসইউজ করে মোবাইল ফোন-এর। মেয়েদের উত্যক্ত করে নানাভাবে। এতে করে চিঠি'র মতো সাবলীল মাধ্যম ধ্বংস হয়ে গ্যাছে এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় বৃদ্ধি পেয়েছে। চিঠি নিয়েই লিখেছি :

Click This Link

 



 


পেশাঃ চাকুরী (কম্পিউটার প্রোগ্রামার)
বয়সঃ 21
ঠিকানাঃ ঢাকা
--------------------
ভালো লাগেঃ পড়তে, গান শুনতে, বেড়াতে
খারাপ লাগেঃ কেউ আঘাত পেলে, কাউকে আঘাত দিলে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩০৮৪