বিকেলে আছরের নামাজের পর হেমায়েতপুর থেকে নন্দনের বাসে চড়ে বাসায় আসছিলাম। সুপার বাসে চড়ার সময় হালকা পাতলা গড়নের এক লোককে দেখলাম টিকিট বিক্রি করে যে ছেলেটা তার সাথে তর্ক করছে। কাছে গিয়ে শুনতে পেলাম লোকটি বলছে- সে মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর ভাড়া লাগবেনা।
আর টিকেট বিক্রেতা বলছে- এটা সরকারী বাস না, ভাড়া লাগবে। শেষ পর্যন্ত টিকেট ছাড়াই তিনি বাসে উঠলেন।
সাভার বাজারে আসার পর চেকার এসে লোকটির কাছে টিকেট চাইলে তিনি বললেন- তিনি মুক্তিযোদ্ধা। চেকার বললো- মুক্তিযোদ্ধা তো কী হইছে? ভাড়া দিতে হবে... এবং আরো এমন কিছু কথা বললো, যা শুনে আমার কান্না চলে এসেছিলো।
০২
যখন ছোট্ট এই ঘটনাটা ঘটছে তখন প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিলো, তারা বেশির ভাগই তরুন-যুবক। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। কিন্তু কেউ ই কিছু বলছিলোনা। একজন মুক্তিযোদ্ধা অপমানিত হচ্ছেন, অথচ সবাই নির্বাক চেয়ে দেখছে। আর আমিও ছিলাম সেই নির্বাকদের একজন...
কোনো এক অজানা সংকীর্ণতায় আমি চুপসে ছিলাম... ধীক, আমাদের এই সংকীর্ণতাকে! ধীক, আমাদের অন্ধ বিবেককে... আমাদের লোক দেখানো দেশপ্রেমকে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



