কী খবর!
কেমন আছো? নিশ্চয়-ই ভালো। কারণ ভালো থাকাই তো তোমার স্বভাব। তোমাকে কি তুমি করেই বলবো নাকি আপনি করে! বুঝতে পারছিনা। তুমি করে বলার সব রকম অধিকারই গত রাতে শেষ হয়ে গেছে। আমার এখন আপনি করেই বলা উচিৎ। তবুও আমি তুমি করেই বলবো। কারণ; আমি তো আমার অধিকার সব সময়ই চেয়েছি। বঞ্চিত হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার ছিলোনা। তুমিই আমাকে ফেলে গেছো। আমি আগে যেমন ছিলাম- আজো তেমনই আছি।
ঠিক কোন কারণটাকে তুমি শেষ পর্যন্ত বড় করে দেখলে বুঝতে পারলামনা। প্রত্যেকটা সম্পর্কই মনে হয় এভাবে কিছু কথা না বলা থাকতেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এটাকে কি শেষ হওয়া বলে! চোখের সীমা থেকে হয়তো বহুদূরে তুমি চলে গেলে। হয়তো তুমি এখন অন্য কোথাও সুখের খোজ করবে; অথবা আমাকে ভুলে যাবার জন্য হলেও অন্য একটা বুকে তুমি মাথা লুকাবে। কিন্তু তাতেই শেষ হয়ে যায় সব! নাহ... কখনোই না। এই যে বুকের ভিতরের প্রতিটি স্পন্দনের সাথে তোমাকে মনে পড়ে, এটাকে তুমি কিভাবে নিয়ে যাবে? কিভাবে নিয়ে যাবে সারা শরীরে তোমার বিশৃংখল স্পর্শদের?
বিচ্ছেদ বা দূরত্বের মাধ্যমে কিছুই শেষ হয়না। তোমার কাছে আমি এখন অতীত। কিন্তু আমার কাছে তুমি স্পষ্ট বর্তমান। তোমার মতো করে সুখের পাগল হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি এই-ই থাকবো।
মানি খুবই খারাপ ছিলাম
আমি গত কয়েকদিনের মতো আজো নতশীরে মানি- আমি জঘন্য রকম খারাপ হয়ে গিয়েছিলাম। তুমি যে আমার জন্য পাগল ছিলে, সেই আমিটা বদলে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তোমার প্রতি আমার ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি হয়নি। তবে ভালোবাসাটা ভয়ংকর রকম হিংস্র হয়ে উঠেছিলো। এত কিছুর পরও- মনের খুব গভীর বিশ্বাস ছিলো সব একদিন ঠিক হয়ে যাবে। আবারও হাজার বার তুমি আমার জন্য পাগল হয়ে যাবে। আমার স্পর্শের আশায় মাতাল হয়ে ছুটে আসবে। এই বিশ্বাসের প্রতি আমার এক ধরণের অন্ধত্ব ছিলো। গত রাতে তুমি প্রমাণও করে দিলে- আমি আসলেই অন্ধ ছিলাম। প্রকৃতপক্ষেই হয়তো আমি এখন অন্ধ।
কিন্তু আসলেই কি তুমি চলেই গেলে। শেষ পর্যন্ত আবার আমি সেই অসীম শূন্যতায় পড়ে গেলাম!? মানতেই পারিনা!
তুমি ছাড়া শূন্যতা ছিলো। তবে তাতে তোমার জন্য পেতে রাখা সৌন্দর্যমন্ডিত আসনও ছিলো। কিন্তু এখনকার শূন্যতা যে, ধুধু মরুভূমীর শূন্যতার চেয়েও বেশি! এখনকার শূন্যতায় যে সব সম্ভাবনার মৃত্যু! তুমি বুঝতে পারোনি আমি এতো বেশি পরিমাণ শূণ্য হয়ে যাবো, তাই না?
ভালোবেসে দিনে রাতে দু:খের ছড়াছড়ি,
একদিন তো মরতেই হবে ভালোবেসেই মরি...
আমার যে কথাটা তোমাকে বিরুক্তির চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতো গত কয়েকদিন, আজো সেই কথাটা তোমাকে বলি- আমি এখনও তোমাকেই ভালোবাসি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেসেই যাবো। কেনো জানো? বুঝো কি কেনো এমন করবো? কারণ; আমার কাছে তোমার এমন বিষয় নেই, যে বিষয়ের কারণে তোমাকে নূন্যতম ঘৃণা করা যায়। বলতে চাচ্ছি- তুমি আমার কাছে আগের সেই মানুষটাই আছো...
শেষ দিকে তুমি অনেকবার বলেছো- আমাকে প্রথমবার দেখেই তোমার পছন্দ হয়নি। দয়া করে সেদিন কাছে নিয়েছিলে। আমি বিশ্বাস করিনা। আমার জন্য তোমার যে অস্থীরতা ছিলো, যে আকুলতা ছিলো- তা অভিনয় না। প্রহসনও না। কিন্তু কী যে, তা অবশ্য আমি জানিনা। হয়তো তুমিও জানোনা...
জানি, কোনো পথ বা সম্ভাবনাই আর তোমাকে আমার কাছে আনতে পারবেনা। তবুও আমি তোমাকেই অনুসরণ করবো। তোমার নি:শ্বাসের ঘ্রাণে মাতাল হওয়ার বিলাসী স্বপ্ন আজ আর বাকি নেই। তবুও তোমার ছায়া দেখার লোভ আমার রয়ে গেছে... জানি একদিন না একদিন, এটা তুমি পড়বেই... তোমার আলো এখানে আসবেই... তাই লেখে রাখলাম।
কিছুই শেষ হয়না; থেমে থাকে
তুমি ধরেই নিয়েছো- সব শেষ। কিন্তু না। কিছুই শেষ হয়নি। তবে থেমে গেছে চিরদিনের জন্য। আমি তাই ভাবি- তোমার স্বর্ণালী দিনেরা ভালোই ছিলো-আছে এবং থাকবেও। আমাদের দিনগুলোকে আমরা আর হেলায় কষ্ট দিবোনা। দিনগুলো তোমার আমার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলো...
দিনেদের জন্য তাই অনেক ভালো লাগা।
একটু ভেবে দেখো- জাকারিয়ায় কতোগুলো অসম্ভব ভালো দিন গেছে। প্রথম দিনটার কথাও মনে করে দেখো সময় পেলে। প্রথম বৃষ্টি রাতের কথা। প্রথম সিএনজি ভ্রমন। প্রথমবার আমার হাত থেকে খাবার খাওয়ার কথা।
সময় পেলে একটু ভেবো- আমার তোমার থেমে যাওয়া দিনেরা কেমন আছে। কেমন ছিলো... খুবই ভালো লাগবে। তোমার মন খারাপের দিনগুলো একটু হলেও শান্ত্বনা প্রলেপ পাবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



