কামেহামেহা, মানোয়া পাহাড় এবং আলোহা। পর্ব-২(গ)।
১৯ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৭
স্বাগতিক ইঞ্জেকশন ও আলুথালু সহচরী
(আগের অংশটুকুর জন্যে এখান থেকে পড়ে আসতে হবে)
লাঞ্চের পর ভাবী তার কাজে চলে গেলেন। শুনলাম উনি ইউনিভার্সিটিতেই কোন অফিসে যেন কাজ করেন। আমি আর শামস ভাই চেয়ারে গা এলিয়ে দিলাম। অতিমাত্রায় খাওয়ার পর আমার আর নড়তে ইচ্ছে করছিল না।
শামস ভাই বললেন যে হনলুলুতে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বেশী না। আর যারা আছে তারা প্রায় সবাই আমাদের মতো ছাত্র। সব মিলিয়ে দশ বারোটি পরিবার হবে হয়তো। আমাদের ডরমিটরীতেই আরো চার-পাঁচ জন ছাত্র আছেন বাংলাদেশের।
আরো শুনলাম যে এখানে প্রতিটি দেশের ছাত্রদেরই একটি সংগঠন আছে, বাংলাদেশেরও আছে। আর প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি উপলক্ষে অনুষ্ঠান করে তারা। শুনে আমার কাছে ভালই লাগলো। যাক-তাহলে এখানে আরো কিছু দেশী ভাইবোনেরাও আছেন দেখা যাচ্ছে।
আমাদের কথার মাঝখানে হাজির হলেন আর এক বাংলাদেশী। তিনি পড়াশুনা করছেন পাবলিক হেলথে। তার বাচ্চাকাচ্চা আছে বলে তিনি হালে মানোয়ায় থাকেন না, বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকেন। তিনি এসে দুটো খবর দিলেন। ভাল খবরটা হচ্ছে যে তিনদিন পর একটা বাংলাদেশী গেট-টুগেদার হবে। সেখানে সবার সাথে নতুন ছাত্রদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে, এবং সেখানে আগামী বছরের স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট ইত্যাদি ঠিক করা হবে।
খারাপ খবরটা হল এখানকার নিয়মই হচ্ছে যে নতুনরাই এসে স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনটা চালায় এক বছরের জন্য। পরের বছর যখন আবার নতুন কেউ আসবে তখন তার হাতে (বা কাঁধে) চাপিয়ে দেয়া হবে স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের ভারটি।
কথাটি বলে তিনি আমার দিকে অর্থপূর্ণ ভাবে হাসলেন। ভাবখানা এই যে-প্রস্তুত হও। সামনে দায়িত্ব আসছে।
আমি কোনকথা না বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম, কিন্তু মনটি খুঁতখুঁত করতে থাকলো।
কথায় কথায় পড়াশুনার কথা উঠলো। আমি কঠিন বিজ্ঞানের ছাত্র এটা শুনে তারা বললেন যে সাধারণতঃ বাংলাদেশ থেকে হয় আর্টস বা ইঞ্জিয়ারিং এর ছাত্ররাই এখানে আসে। আমি যেহেতু কোন দলেই পড়িনা, তাই আমাকে কেইই বা তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে?
এমন সময় শামস ভাই বললেন,"ভাল কথা, তোমার বাডির সাথে যোগাযোগ হয়েছে নাকি ইতিমধ্যে?"
এই প্রশ্নে মেজাজ খারাপ হোল আমার। প্রথমতঃ বাডি আবার কি জিনিস? খায় নাকি মাথায় দেয়? দ্বিতীয়তঃ আমি তো এখানে ল্যান্ড করার পর থেকেই আপনার সাথে আছি। যোগাযোগ করবো কখন?
শামস ভাই ব্যাখ্যা করেন। "প্রতিটি নতুন ছাত্রের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একজন পুরনো ছাত্রকে ঠিক করে যে তাকে বিভিন্ন ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করবে। তাকে বলা হয় বাডি। বাংলায় বলা যায় বন্ধু, সহচর।"
"এ তো মহা ঝামেলার কথা। এখন আমি বাডি খুঁজে পাবো কোথায়?"
"তোমাকে ঢোকার সময় দুটো ঢাউস ফাইল দেয়া হয়েছিল না? ওখানেই বলা আছে কে তোমার বাডি।"
"তাই নাকি? ঘরে গিয়ে তাহলে তো পড়তে হবে ফাইলগুলো।"
আস্তে আস্তে বিকেল গড়িয়ে এলো। শামস ভাই একপ্রস্থ চায়ের আঞ্জাম করলেন। দুধছাড়া চা। এই জিনিসটি আমার দু চোখের বিষ। চা ই যদি খাবো, তাহলে দুধ চিনি যা আছে সব দিয়েই খাবো। কিন্তু ওখানে কেইই বা আমার পছন্দ মতো চা বানাবে? দীর্ঘশ্বাসের ফেনায় ভরে ওঠে বুক। শালা, এমন বিদেশে কেউ আসে?
শামস ভাই হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন,"ও ভাল কথা-তোমাকে নিয়ে একটু দোকানে যাবো ভেবেছিলাম। চলো-এখনই তাহলে যাই।"
"দোকানে যাবেন? কেন?"
"তোমার তো কিছু জিনিসপত্র কেনা দরকার।"
"আমি আবার কি কিনবো? সব কিছু তো দেশ থেকে নিয়েই এসেছি।"
"আচ্ছা-তাই নাকি? তা কাল সকালে তুমি ব্রেকফাস্ট কি দিয়ে করবে? তোমার ঘরে কি কিছু আছে? এই যেমন দেশ থেকে আনা চিঁড়ে-মুড়ি?"
ও হ্যা- তাইতো। খাবার-দাবারের তো কোন বন্দোবস্ত করাই হয়নি। চিরটা কাল খিদে পেলে আশেপাশে কোন না কেন খাবার দোকান পেয়েই গেছি দু চার পায়ের মধ্যেই। এখানে তো আবার যে সুবিধে নেই।
"খাবারের কথা একদম ভুলে গিয়েছিলাম শামস ভাই।"
"শুধু খাবার না। এই ধরো তোমার যদি পানির পিপাসা পায়, তাহলে কিসে করে পানি খাবে? হাতের আঁজলায়? ভাত খাবে কিসে করে? প্লেট-জাতীয় আছে কিছু?"
"ও হ্যাঁ-তাইতো।"
"গোসল করবে কি দিয়ে? সাবান শ্যাম্পু আছে কিছু সাথে?"
"ও হ্যাঁ-তাইতো।"
"সাথে খাতা-কলম কিছু এনেছো? সেগুলো কিনতে হবে না?"
"ও হ্যাঁ-তাইতো।"
"চুল আঁচড়ানোর চিরুনী? দাড়ি কামানোর রেজর? শেভিং ক্রীম?"
এবারে আমি হাতজোড় করি। "শামস ভাই-আর লিস্ট দেওয়া লাগবে না। আই গট দ্য পয়েন্ট। এখন তাড়াতাড়ি চলেন, দোকানে যাই।"
গাড়িতে করে গেলাম, মিনিট সাতেক লাগলো যেতে। পাশাপাশি দুটো বড় দোকান। প্রথম দোকানটির নাম লংস ড্রাগস। পাশেরটির নাম সেইফওয়ে। শামস ভাই আমাকে ঢোকালেন পরেরটাতেই। "এখানেই তোমার সবকিছু মিলে যাবে।"
পয়লা পেটের চিন্তা। পাঁউরুটি। দাম দেড় ডলার। মাথার মধ্যে ক্যালকুলেটরটি সজীব হয়ে উঠলো। তার মানে বিয়াল্লিশ টাকা। ওরে সর্বনাশ। এক পাউন্ড রুটির দাম বিয়াল্লিশ টাকা। এতো দেখি গলাকাটা দাম (সে আমলে আমরা মামারুটি বলে একটি পাঁউরুটি খেতাম ঢাকাতে যার দাম ছিল দু টাকার মতো।)
আমার মুখের অবস্থা দেখে শামস জিজ্ঞেস করেন,"কি ব্যাপার? এনি সমস্যা?"
"বিরাট সমস্যা শামস ভাই। এখানে জিনিসের দামতো দেখি ভয়াবহ। না খেয়েই মারা যেতে হবে দেখছি। আগে জানলে দেশ থেকে চাল-ডাল সব নিয়ে আসতাম।"
শামস ভাই সবজান্তার মতো হাসেন। "বুঝেছি, তুমি ডলারকে মনে মনে টাকায় কনভার্ট করছো নিশ্চয়ই। আমেরিকায় থাকতে হলে কয়েকটা জিনিস শিখতে হবে। তার প্রথমটি হচ্ছে ডলারকে টাকায় কনভার্ট করা যাবে না। কাজটি কঠিন। তবে সমাধান হচ্ছে যে তুমি কখনো ডলার শব্দটি উচ্চারন করবে না। দাম মনে করবে টাকাতে। এই যেমন পাউরুটি হচ্ছে দেড় টাকা, জ্যাম একটাকা নব্বই, টীব্যাগের প্যাকেট হচ্ছে দুই টাকা। দেখবে তখন কোনকিছু কিনতে আর অত খারাপ লাগছে না।"
বলা সহজ, কিন্তু করা কঠিন। তবুও মনে মনে আওড়াই, রুটি দেড় টাকা, জ্যাম এক টাকা নব্বই।
আস্তে আস্তে কেনা হয় অনেক কিছুই। জিনিসপত্রের ভারে নুয়ে পড়ি। এতসব জিনিস লাগে মানুষের!
সন্ধ্যেবেলা নিজের ঘরে ফিরে আসি। টেবিলের উপর রেখে গিয়েছিলাম ঢাউস ফাইল দুটোকে। এবারে সেগুলো খুলি। দেখি কি তথ্য লুকিয়ে আছে এর ভিতরে।
কিছুক্ষণ পর তথ্যের ভারে কান গরম হয়ে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে, বুক ধড়ফর করে। এতসব ইতিহাস পাতিহাস বয়ান করার কোন দরকার আছে? এর মধ্যেই অবশ্য খুঁজে পাই আমি যা খুঁজছিলাম। আমার বাডি, আমার সহচরী।
তার নাম এভেলিন কোয়ে, নামের পাশে ফোন নাম্বারটিও দেওয়া আছে। ঠিকানা দেখে বুঝলাম সে উনি হালে মানোয়াতেই থাকেন। যাক বাবা- এক ঝামেলা থেকে বাঁচা গেল। অফ ক্যাম্পাসে থাকলে তার সাথে দেখা করতে যেতাম কি করে।
আমার ঘরের বাইরেই একটি কমন ফোন রাখা আছে। শুধু মাত্র লোকাল কল করা যায় তাতে। সেটারই ডায়াল ঘুরাই দ্রুত।
"হ্যালো।" ওপাশের গলাটি কেমন যেন উদাস উদাস মনে হোল।
"হ্যালো, আমি কি এভেলিনের সাথে কথা বলতে পারি?"
"আমিই এভেলিন। তুমি কে?"
"আমি নির্বাসিত। আমি আজই এসেছি। আমাকে দেওয়া ফাইলে দেখলাম যে তুমি আমার বাডি। তাই তোমাকে ফোন করছি।"
মেয়েটি কেমন যেন অন্যমনস্ক গলায় বললো,"ও হ্যাঁ- আমাকে বলেছিল যে ওরা তোমাকে আমার নাম দিয়েছে। তা তুমি কি হনলুলুতে পৌছে গেছো?"
"হ্যাঁ, আমি এখন হালে মানোয়াতে আছি।"
"তাই নাকি! ভাল খুবই ভাল।"
"আমি ভাবছিলাম যে তোমার সাথে কথা বলতে বসবো।"
"ও হ্যাঁ-নিশ্চয়ই। কাল রাতের বেলাতে এসো।"
পরদিন সন্ধ্যেবেলায় হাজির হ'লাম তার ঘরের সামনে। একদম খালিহাতে যেতে নেই বলে দু ক্যান কোক সাথে নিয়েছিলাম। ডরমিটরীর নীচতলার ভেন্ডিং মেশিন থেকে সদ্য কেনা। বরফ-ঠান্ডা।
দরজায় টুকটুক করে নক করি। একটু পরে দরজা খুললো। সামনে দাঁড়িয়ে শ্রীমতী এভেলিন কোয়ে। আমার বাডি।
তাকে এবং তার ঘরের অবস্থা দেখে আমি মনে মনে শিউরে উঠলাম।
ঘরটি একটি ডাবলরুম। মানে আমার এক চিলতে ঘরের দ্বিগুণ। ঘরের দুপাশে দুটো বিছানা, দুটো পড়ার টেবিল। এর মধ্যেই আমি জেনেছি যে একবছর পর ছাত্ররা ডাবলরুম পায়। তখন একটু হাত-পা ছড়িয়ে থাকা যায়।
এভেলিনের ঘরের বিছানা এবং পড়ার টেবিলের উপর কোন ফাঁকা জায়গা নেই। ভর্তি বই, জার্নাল আর নানাবিধ কাগজ-পত্র দিয়ে। এমনকি ঘরের মেঝের অর্ধেকটাও ওই জাতীয় জিনিসে পূর্ণ। এই ঘরে ঢুকলে যে কোন সুস্থ মানুষের পাগল হ'তে মাত্র তিন মিনিট সময়ের বেশী লাগবে না।
ঘরের অবস্থা থেকে এবার চোখ ফিরাই আমার বাডির দিকে। যা মনে করেছিলাম, একদম তাই। এভেলিনকে দেখে কারো মনে কোন সন্দেহ থাকবে না যে মেয়েটির ভাবসাব স্বাভাবিক না। কথা-বার্তা এলোমেলো, চলাফেরার ভংগী আলুথালু, চোখের দৃষ্টি পাগলাটে।
কথায় কথায় জানলাম যে সে মালয়েশিয়ার মেয়ে। পিএইচডির থিসিস জমা দেবে মাস খানেকের মধ্যে। এখন থিসিস লেখার কাজ চলছে বলে তার ঘরের (এবং তার নিজের) এইরকম আলুথালু অবস্থা। আরো ভয়ের কথা হচ্ছে যে সে আমার ডিপার্টমেন্টেরই ছাত্রী। তার সাথে দু মিনিট কথা বলে আমার ভিতরটা আতংকে হিম হয়ে গেল। আমার অবস্থাও কি তাহলে এরকমই হবে? সর্বনাশ! এ আমি কোন দোজখে এসে পড়লাম রে বাবা!
আমি এভেলিনকে বললাম যে আমি তার বেশী সময় নেবো না, যদি সে কিছু তথ্য দিয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারে তাহলে বড় বাধিত হই।
"তুমি ভ্যাগাব্যানের সাথে দেখা করেছো?" এভেলিন শুধোয় আমাকে।
"ভ্যাগাব্যান? সে কে?"
"ডঃ ভ্যাগাব্যান। আমাদের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। মাস্তান লোক, ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রির টেক্সট বই লিখেছে। তোমাদের ওদিককারই লোক।"
আস্তে আস্তে সে রহস্য পরিষ্কার হোল। যার কথা এভেলিন বলছিল উনার নাম ডঃ এন ভি ভগবান। সাউথ ইন্ডিয়ার লোক, বহুদিন থেকে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। একটি বেশ চালু টেক্সট বইয়ের লেখক।
"নাহ- আমার সাথে কারোরই দেখা হয়নি। আমি ডিপার্টমেন্টেই যাইনি এখনো।"
"গুড। তাহলে তোমাকে কয়েকটা কাজের কথা বলি। তোমার উপকার হবে।"
আমি আধা-পাগল বাডির দিকে তাকিয়ে থাকি।
"তুমি অফিসে গেলেই তার সাথে দেখা হবে। কি কি কোর্স নেবে তার সাথে কথা বলে ঠিক করে নিও।"
"এটা আবার ঠিক করার কি আছে? সবাই যা নেবে, আমিও তাই নেবো, নয়কি?"
"না-না, ব্যাপারটা তুমি তোমার দেশের নিয়মের সাথে গুলিয়ে ফেলছো। তোমাদের ওখানে বোধহয় সবাইকেই একই কোর্স নিতে হয়। এখানে তা নয়। এখানে তুমি ইচ্ছেমত কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করতে পারো। তবে কোর্স নেবার আগে ভ্যাগাব্যান তোমাকে একটা পরীক্ষা দিতে বলবে।"
"পরীক্ষা? কিসের পরীক্ষা? আমিতো এখনো ক্লাশই করিনি, তার আগেই আবার কিসের পরীক্ষা?"
এভেলিন এবার একটু হাসে। "আমিও অবিকল তোমার মতই একই কথা ভেবেছিলাম। এই পরীক্ষার নাম প্লেসমেন্ট টেস্ট। ওরা জানতে চায় যে তোমার পড়াশুনার মান কতটুকু। যাই হোক- এই টেস্টের দুটো অংশ আছে। প্রথম পার্টটি বায়োকেমিস্ট্রি, পরেরটা ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি। আমি চোখ বুজে বলে দিতে পারি যে দ্বিতীয় অংশে তুমি ফেল করবে, কেননা আমি যতটুকু জানি এই অংশে কেউ পাশ করেনা তা সে যতবড় মাস্তানই হোক না কেন।"
আমি আবারও ভয় খেয়ে যাই। পরীক্ষার আগেই এজাতীয় ফলাফল শুনে কার না ভয় লাগে?
"পরীক্ষায় ফেল করার পর ডঃ ভ্যাগাব্যান তোমাকে একট আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি কোর্স নিতে বলবে। কেম৩৫১, এই কোর্সটি পড়ান জিম ম্যাকডোনালড বলে একজন। অসম্ভব খচ্চর লোক, আর কোর্সটিও সাংঘাতিক কঠিন। বেশীর ভাগ ছেলেপেলেরাই একবারে পাশ করতে পারে না। দুই-তিন বার নিতে হয় কোর্সটি।"
এতক্ষণে আমার ভয়ের মাত্রা 'অধিক শোকে পাথর' পর্যায়ে চলে গেছে। আমি নির্বিকার ভাবে বসে তার কথা শুনি।
এভেলিন এইবার সবচেয়ে দামী কথাটি বলে,"তুমি কিন্তু আমার মতো ভুল করবে না। ডঃ ভ্যাগাব্যানকে বলবে যে যেহেতু এটাই তোমার প্রথম সেমেস্টার,আর তাই তুমি কোন একস্ট্রা কোর্স নিতে চাওনা। এই ভাবে টালটু-বালটু করে দুই সেমেস্টার কাটাতে পারলে সবাই ভুলে যাবে যে তোমার ওই কোর্সটি নেবার কথা ছিল। তোমাকে তাহলে আর কেম৩৫১ নিতে হবে না।"
এতক্ষণে জানে পানি আসে। যাক- কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কথায় বলে এশিয়ান বুদ্ধি!
পরদিনই গেলাম ডিপার্টমেন্টে। এভেলিন যা যা বলেছিল, একদম ঠিক তাই তাই হোল (টেস্টের দ্বিতীয় অংশে ফেল করলাম, এবং ধানাইপানাই করে ডঃ ভগবানকে বুঝিয়ে দিলাম যে কেম৩৫১ কোর্সটি আমি পরে নেব)। বাছাই করলাম কি কি কোর্স নেব এই সেমেস্টারে।
এভেলিনের সাথে এর পর দু এক দিন এখানে সেখানে দেখা হয়েছিল। তেমন কোন কথা হয়নি। এর মাসখানেক পরেই সে তার থিসিস ডিফেন্ড করে তার দেশে ফিরে যায়। হয়তোবা সে এখনো মালয়েশিয়াতেই আছে। সে রাতে তার কাছ থেকে ঐ বুদ্ধিটি না পেলে আমার বোধহয় এখনো পর্যন্ত কেম৩৫১ ক্লাশটি পাশ করা হোতনা। আগেও বলেছি, ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রিকে আমি সাপের চেয়েও বেশী ভয় পাই।
দিন দশ-বারো পরে ক্লাশ শুরু হোল। আমি আবার শিং ভেঙ্গে ছাত্র হলাম। তখন কি আর জানতাম যে আমাকে আরো কতকিছু দেখতে হবে। জানলে বোধহয় পালিয়ে যেতাম পরদিনই।
(এরপর নতুন পর্ব।)
মেন্টাল বলেছেন:
*****
লেখক বলেছেন: আমারও।
লেখক বলেছেন: আমারও ভাল লাগেনা না।
অরুনাভ বলেছেন:
এক লাফে পড়ে ফেলেছি.............
লেখক বলেছেন: সাথে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।
মানবী বলেছেন:
"দাম দেড় ডলার। মাথার মধ্যে ক্যালকুলেটরটি সজীব হয়ে উঠলো। তার মানে বিয়াল্লিশ টাকা।"- অনেক বছর আগের ঘটনা মনে হচ্ছে!
পোস্টটি ভালো লেগেছে পড়ে, ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: এই সিরিজের একদম গোড়ার পর্বে লিখেছি যে ঘটনাগুলো আশির দশকের কাহিনী।
লেখাটি ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আকাশচুরি বলেছেন:
++++
বাংলার দাদা বলেছেন:
(আমার মন্তব্যটি এই পোস্ট সংক্রান্ত নয়)বড় ভাই আপনাকে প্রথমে সালাম জানাই। গত৪/৫দিন আগে আমি আপনার সুন্দর লিখাগুলির খোঁজ পেয়েছিলাম। সেদিন থেকে একটানা আপনার লেখা সবগুলি আমি পড়ে ফেললাম। আপনার লেখনি শক্তি আমাকে মুগ্ধ করেছে। একেকটি লাইন পড়ি আর কোথায় যেন হারিয়ে যাই। আর বের হয়ে আসে দীর্ঘস্বাস....। কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব ভাষা খুজে পাইনা। আমিতো আপনার খুব ঘনিষ্ট একজন হয়ে গেলাম। যদি আপনি ছোট ভাইয়ের মত দেখেন। কিভাবে আপনি বুকের ভিতর জমে থাকা জীবনের স্বর্নালী দিনগুলোর স্মৃতির এতগুলো কথা এত সহজে লিখতে পারলেন? প্রতিটি বাক্যের প্রতিটি শব্দ আমাকে দারুনভাবে নাড়া দিয়েছে। যদি কখনও কখনও হাই ()বলেন নিজেকে ধন্য মনে করবো।
জীবন কেন এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়? আমরা কেন রোবট হয়ে যাচ্ছি? সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনাকে ধন্যবাদ ও সালাম।
লেখক বলেছেন: আপনার কথার জবাব আমি নির্বাসিতের আপনজন (পর্ব-১৭গ)তে দিয়েছি।
ভাল থাকবেন। সামনের দিন গুলোতেও আপনাকে সাথে পাবো আশাকরি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মেহরাব!
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কত দিন আগের কথা কি সুন্দর লিখেছেন..........।ডাইরী লিখতেন?নাকি মনের খাতায় সব লেখা ছিলো?অনেক ভালো লাগে আপনার স্মৃতিচারণ.......
ভালো থাকবেন।শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: স্মৃতিতে এখনো যতটুকু টিকে আছে, সেটুকু নিয়েই লিখছি। কত কিছু ভুলে গেছি, বা পুরোটা মনে নেই।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এম্নিতেই বলেছেন:
ভাইয়া, আপনি কি এখনো হাওয়াইতে?? লেখক বলেছেন: নাহ-আমার হাওয়াই জীবনের পাট চুকেছে বহু আগে। কয়েক বছর আগে বেড়াতে গিয়েছিলাম অবশ্য।
আপনার পোস্ট পড়িনি এখনো, তবে নিশ্চয়ই পড়বো।
ভাল থাকুন।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
বেশকিছু বিষয় পড়ে মজা পাইছি। আমিও প্রথম প্রথম এখানে পাউন্ড থেকে টাকায় কনভার্ট করতাম।পুরা সিরিজটা অনেক ভালো লাগতেছে।
পরেরটি এখুনি পড়ছি।

















