আমার প্রিয় পোস্ট

If you donot see bangla, download: http://www.omicronlab.com/avro-keyboard-download.html

আর কত কেনাকাটা?

১৮ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

অনলাইনে হোক আর সামনা সামনি, যাদের সাথেই দেখা হচ্ছে সবারই একই প্রশ্ন- 'কী প্রিপারেশন কেমন? কেনাকাটা সব শেষ?' সবাইকে একই উত্তর দিচ্ছি- 'কেনাকাটা শেষ না- তবে টাকা সব শেষ।' কথা সত্য। বিশাল বিশাল লিস্ট করে, কঠিন বাজেট করে, দিনের ব্যস্ততার ফাঁকে প্রায় প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছি এলিফ্যান্ট রোড, বঙ্গ কিংবা নিঊমার্কেটে। তারপরও লিস্টের মাঝে টিক চিহ্ন বসাতে গিয়ে দেখছি অনেক কিছুই কেনা বাকি। যা কেনা হয়েছে সেটাই আরেকবার কিনে নিয়ে আসছি, আর যেটা কেনা বাকি সেটা বাকিই থেকে যাচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের তুলনায় বঙ্গে জিন্সের দাম বেশ সস্তা। আমাকে ওরা ২৫০-৩০০ তেই একেকটা দিয়ে দিচ্ছে যেটাকিনা এলিফ্যান্ট রোডে ৬০০-৮০০ এর নিচে দেবেই না। তারপরও বাজেটে কুলোচ্ছে না। কারণ সস্তা দেখে আমিও একটা প্যান্টের জায়গায় দুটো দাম করছি আর দোকানদার লাভ ঠিক রাখতে জোর করে আরও দুটো প্যান্ট প্যাকেট করে দিচ্ছে। এই করে সব সমেত প্রায় ২৫ টি প্যান্ট কিনে ফেলেছি। বাংলাদেশে আবার হয়ত ২০১১ তে আসব, আমেরিকায় জিন্সের দাম অনেক বেশি- এসব চিন্তা করতে করতে এত বেশি কিনে ফেলেছি যে মনে হচ্ছে বাকি জীবনটা নিমিষে কাটিয়ে দিয়েও নাতি পুতিদের ঊইল করে দিয়ে যেতে পারব- 'নে বাবারা এই সেই জিন্স যা ফকরুদ্দিনের আমলেও ১ টাকায় ১ মন (সরি, ১ ডলারে ১ পিস) পাওয়া যে (ধরে নিচ্ছি ১ ডলার তখন ২৫০ টাকা হয়ে যাবে)। এদিকে প্যান্টের সাথে পাল্লা দিয়ে গেঞ্জি কিনতে পারছি না। কারণ দেখতে ভালো, উদ্ভট নয়, যেটাকে পরে আমেরিকার রাস্তাঘাটে হাঁটাহাঁটি করলেও কেউ কৌতূহল নিয়ে তাকাবে না- এমন গেঞ্জি খুঁজে পেতে অনেকক্ষণ বঙ্গের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতে হয়। সবশেষে যদি কোন এক দোকানে ১ টা পছন্দের গেঞ্জি পাওয়াও যায়, দোকানদার তার সাথে আরও ৫টা প্যান্ট/গেঞ্জি জোর করে ধরিয়ে দিতে চায়- 'বস, একবার আমার থেইকে লয়া যান, মুরিদ না বানায় দিলে এই ব্যবসায় লাথি।' বুঝিয়ে বললাম যে, বাকি কেনাকাটা শেষ। পরক্ষণেই জিজ্ঞাসা করল- 'বস, ওই খানে প্রচুর বৃষ্টি হয়- রেনকোট লইতেই হইব'। ভাবখানা এমন যে ভার্জিনিয়াতে বছর দশেক ছিল এমন কেউ অ্যাডভাইস করছে। তবে এটা শুনেছি ওখানে বৃষ্টি হয় ভালোই। এই ইনফরমেশনটা তার কাছে দিতে না দিতেই দেখি আমার হাতে দুটো রেইনকোটের একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বলছে- 'ইনসাফ করে দিয়েন'। 'ইনসাফ' আর কি করব, একেবারে ইনসাইডের পকেটে যা টাকা ছিল সব সাফ করে দিয়ে আসলাম। ২টা রেইনকোট আর ৬টা গেঞ্জি সহ ১০০০ টাকা দিয়ে আসলাম। আসার সময় বলতে লাগলো- 'জিতছেন বস, ভালো জিতছেন'। কথাটা শুনে ভালো লাগলেও চিন্তার বিষয় এখানেই- জিতলাম আমি অথচ তার মুখে হাসি?






 

 

  • ২ টি মন্তব্য
  • ১৫৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:৪১
comment by: অযৌক্তিক বলেছেন: জুতা কিনসেন ? কয় পিস ?
২. ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৪৬
comment by: শাহরিয়ার নির্জন বলেছেন: না, ওই জুতা কিনতে পারিনাই। বাটা দোকানের জনাব রিউন্তু সাহেবের মতে ওটা আর নাকি পাবার কোন চান্স নেই।

 



 

comment by:
আমি নির্জন। বুয়েট থেকে কোনমতে কম্পিউটার ইঞ্জিঃ পাস করে এখন ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াতে পি.এইচ.ডি করার চেষ্টা করছি। আমি সকলের দোয়াপ্রার্থী।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৯০৮২