ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াকে বেছে নেবার আগে ও পরে অনেকের সাথেই কথা বলেছি। ইউনিভার্সিটিটি কেমন? কিসের ওপর রিসার্চ হয়? কি কি ফ্যাসিলিটি দিচ্ছে? জায়গাটা কেমন? আবহাওয়া কেমন? স্কলারশিপের মারপ্যাচ? ইন্টার্নশিপের সুবিধা?- এসব নিয়ে প্রতিটি ডকুমেন্ট ও ইউনিভার্সিটির প্রতিটি পেজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। সেখানকার এ্যালামনি (দেশি-বিদেশি) যার সাথেই পেরেছি তার সাথেই আলাপ করেছি। তারপরও প্রশ্ন রয়েই যায়। প্রায়ই মনে হত, এমন একজন যদি আমার সাথে থাকত যাকে আমি ইউ,ভি,এ নিয়ে যা জিজ্ঞাসা করবো সে সেটার উত্তর সঠিক ভাবে দিয়ে দেবে তাহলেই আর কোন দুশ্চিন্তা থাকেনা। আমার মনের কথাটা ওরা কি করে বুঝতে পারল তা বলতে পারবনা- সপ্তাহ দুয়েক আগে ইউনিভার্সিটি থেকে পাঠানো একটা ইমেইলে জানতে পারলাম, ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ নতুন ২৪ জন গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টের প্রত্যেকের জন্য ১ জন করে 'মেন্টর' অ্যাসাইন করেছে। এই মেন্টররা প্রত্যেকেই একজন গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট, যাদের কাজ হলো তাদের প্রতি অ্যাসাইন করা ছাত্র বা ছাত্রীর প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেয়া। সেখানেই জানতে পারলাম, আমার মেন্টরের নাম- জোয়েল কফম্যান।
জোয়েলকে আমিই প্রথম এক লাইনের একটি ইমেইল পাঠাই। তার একদিন পর সে আমাকে বিশাল এক রিপ্লাইতে প্রথমে তার নিজের সম্পর্কে এবং পরে আমার সম্পর্কে সে যা যা জানে তা লিখে পাঠায়। ছেলেটা জাতে আমেরিকান। সাউথ ক্যারোলিনাতে বড় হয়েছে এবং সেখানেই আন্ডারগ্রাড করেছে। ভার্জিনিয়াতে সেও নতুন। মাত্র গত বছর পি,এইচ,ডি শুরু করেছে। আমাকে অত্যন্ত বিনয়ী ভাষায় সে যা জানাল তার অর্থ একটাই- পি,এইচ,ডি করতে গিয়ে তার জান বেরিয়ে আসছে। ইউ,ভি,এ- এর লেখাপড়া তার কাছে খুবই কঠিন মনে হচ্ছে এবং সে এখনও আন্ডারগ্রাড ও গ্রাড লাইফের মাঝে সামঞ্জস্য করতে পারছেনা। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের মিডটার্ম ও টার্মফাইনাল তার কাছে এক রকম দুঃস্বপ্ন মনে হয়েছে। তার কাছে সবচাইতে ভয়ঙ্কর মনে হয়েছে টার্ম প্রজেক্ট গুলোকে। এই সামারেও সে রেহাই পায়নি তার সুপারভাইজারের কাছ থেকে। অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে কোন এক জার্নালে তার গবেষণাপত্র পাঠাবার কাজে সে রাত-দিন খাঁটাখাঁটনি করছে। আমার ওয়েব সাইট দেখে আমার সম্বন্ধে জানতে পেরেছে যে, আমি বুয়েট নামক এক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। সে আমাকে আমার জীবনের সর্বশেষ আরাম দায়ক সামারটিকে 'এনজয়' করার পরামর্শ দিল। ভার্জিনিয়া আসলে আমার সাথে দেখা হবে এসব কথা বলে তার চিঠিটি সমাপ্ত করলো।
আমি শুনেছি ইউ,ভি,এ তে অনেক পি,এইচ,ডি ছাত্র আছে যারা পড়াশোনার চাপে সারা সপ্তাহ শুধুমাত্র 'কাপ নুডুলস' নামক কি যেন একটা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। এধরনের ছাত্রদের জন্য প্রতি শুক্রবার বিকেলে একটা টী-পার্টির ব্যবস্থা করা হয় যাতে করে তারা সুস্বাদু খাবার বলতে কি বোঝায় ব্যাপারটা যেন একেবারে ভুলে না যায়। আমার ধারনা জোয়েলের সাথে ওখানেই আমার পরবর্তিতে নিয়মিত দেখা সাক্ষাত হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

