শবে বরাতের আদি রূপকে রক্ষা করুন
১৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
শবে বরাত একটি ফজিলতপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত যা রাসূলের (সাঃ) সেই স্বর্ণযুগ হতে শুরু করে শত শত বছর ধরে মুসলমানদের ঘরে ঘরে অতি শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়ে আসছে। প্রতিটি মুসলমান এই রাতটিকে অতি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে যুগ যুগ ধরে ইবাদত-বন্দেগী করে আসছে। এই রাতের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যাও অনেক। যার সারাংশ যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে এই রকম কথা ফুটে উঠে যে, এই রাতটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের রাত যে রাতটিতে জেগে জেগে ইবাদত-বন্দেগী করলে আল্লাহ তায়ালা ঐ বান্দার প্রতি সদয় হয়ে তার ছোট-বড় পাপগুলো মোচন করে দেন। আর এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন এবং হাজার হাজার ফেরেশ্তা নিয়োগ করেন বান্দাদের খেদমত করার জন্য এছাড়াও এই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর যে দিনটি আসে ঐ দিনে রোজা রাখার ব্যাপারেও রয়েছে অত্যাহিক তাকিদ। যাইহোক মুসলমানদের কাছে এই রাত ও দিনটি সর্বপরিভাবে অত্যন্ত সম্মানের ও মর্যাদার রাত ও দিন বলে পরিগণিত যা হাজার হাজার হক্কানী আলেম ও সুফী-সাধকদের কথাতেও প্রমাণিত। মুসলমান সমাজের অলি-আউলিয়া ও পীর কামেল এবং বড় বড় আধ্যাত্মিক সাধকগণ সাড়া বছর ধরে সাধ্য-সাধনার সাথে অপেক্ষা করতে থাকেন যে কবে এই মহিমান্বিত রাতটি আবার ফিরে আসবে। উল্লিখিত আলোচনা হতে পক্ষপাতহীন ব্যক্তিগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ১৫ই শা'বানের রাত ও দিনটি হচ্ছে অতি মর্যাদার ও ইবাদত-বন্দেগীর। কিন্তু অধুনা কিছু আলেম এই রাতের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে রাসূলের (সাঃ) বর্ণিত হাদিসকে মিথ্যা বলে নিজের অজান্তে রাসূলকে (সাঃ) মিথ্যাবাদী ও মূর্খ্য সাবস্ত্য করে ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছেন যে শবে বরাতের যে সকল ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে তা সঠিক নয় বা শবে বরাত নামে যে সব ইবাদত বন্দেগী করা হয় তা বিদআত। আর সাধারণ মানুষও ইসলামী জ্ঞান না থাকার কারণে এবং মনে পুষে রাখা ধর্মীয় চেতনার আবেগের কারণে তাদের ঐ পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজের সেই ধার্মিকতার কবর দিয়ে যাচ্ছেন। আর এর জন্য দায়ী মুসলমানরা নিজেরা কারণ মহানবী (সাঃ) বলেছেন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ অথচ সেই হাদিসের প্রতি নেই কোন ভ্রুক্ষেপ। আর এর কারণেই আজ মুসলিম জাতি চলে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। ১৫ই শা'বানের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বের প্রায় সকল মাজহাব বা ইসলামী দলগুলি একমত পোষণ করেন শুধুমাত্র ওহাবী মাজহাব বা দল ব্যতিত যা আহলে হাদিস নামেও খ্যাত যার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হল ড. আসাদুল্লাহ গালিব যাকে কুখ্যাত হিসেবে সবাই চেনে। তবে যদি আমরা এই মাজহাবের বা দলের গোড়া খুঁজে দেখি তাহলে মিস্টার হাম্ফারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায় যে, তাদের গোড়া বা ভিত্তি রয়েছে ইংল্যান্ডে। ইতিহাসটি হচ্ছে এরকম যে, যখন ইংরেজরা দেখল যে মুসলমানরা সকল ক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করছে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলাম ধর্মের দীক্ষা নিয়ে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে আর আমাদের কথানুযায়ী চলছে না তখন তারা আলোচনার বোর্ড বসায় যে কিভাবে এই সংকট থেকে কেটে উঠা যায়। বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যদি আমরা মুসলমানদের উপর কর্তৃত্ব করতে চাই তাহলে তাদের ভিতর ঐক্যের ফাটল ধরাতে হবে এবং এদেরকে এমনভাবে কিছু করতে হবে যাতে তারা একে অপরের শত্রু হয়ে যায় আর তা করতে হলে আমাদেরকে মুসলমান হয়ে তাদের ভিতর ঢুকতে হবে ও মুসলমানদের দূর্বল জায়গা খুঁজে বের করতে হবে তারপর সেই দূর্বল স্থানে আঘাত হেনে তাদের কাবু করতে ও ঐক্য বিনষ্ট করতে হবে। তাই তখন তারা এক ব্যক্তিকে এই কাজের জন্য নিয়োগ করে তাকে আরব রাষ্ট্রগুলোতে পাঠিয়ে দেয়। সে এসে নিজের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন মাজহাবের আলেমদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। যখন অন্যান্য মাজহাবের আলেমদের কাছে কোন ঠাঁই পায় না তখন আজকের সৌদি আরব ভূ-খন্ডের একজন সুন্নী আলেম তাকে জায়গা দেয় বা ঐ সুন্নী আলেম তার ফাঁদে প্রথম পা দেয়। আর ঐ সুন্নী আলেমটি ছিলেন আব্দুল ওহাব নজদী যার নামে আজকের ওহাবী মাজহাব প্রতিষ্ঠিত। যদিও আব্দুল ওহাব নজদী তার ছলনা প্রথম দিকে বুঝতে পারেন নি কিন্তু কিছু দিন কেটে যাওয়ার পর তার আলোচনা থেকে কিছু কিছু বিষয় তার কাছে স্পষ্ট হয়েছিল কিন্তু আব্দুল ওহাবকে যে ক্ষমতার লোভ দেখানো হয়েছিল তাতেই সে খুশি হয়ে ঐ ইংল্যান্ডের প্রেরিত ব্যক্তির সব কিছু মানতে রাজী হয় এবং ঠিক তার ষড়যন্ত্র অনুযায়ী স্বীয় অনুসারীদেরকে ফতোয়া বা হুকুম দিতে থাকে। যদিও ঘটনা অনেক দীর্ঘ আর এতদীর্ঘ ঘটনা এভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয় তাই সংক্ষেপে বলতে চাই যে, আজও ঐ ওহাবী বা আহলে হাদিস মাজহাবটি ঠিক ইসলামের শত্রু দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে সৌদি আরবে মার্কিন সৈন্যের অবস্থান। আমরা যদি ইসলামী ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখি দেখতে পাব যে, রাসূল (সাঃ) মক্কা ও মদীনা শহরকে কাফের-মুশরিক হতে পবিত্র করেছেন এবং আল্লাহও এ ব্যাপারে কোরআনে বলেছেন যে মক্কা ও মদীনা হচ্ছে পবিত্র দু'টি শহর। অথচ এই ওহাবীরা মক্কা-মদীনার নাম পাল্টে দিয়ে এখন নাম দিয়েছে সৌদি আরব। অর্থাৎ রাসূলের (সাঃ) "মদীনাতুর রাসূল" বা রাসূলের শহরকে এখন বানিয়েছে সৌদি আরব যা সৌদ বংশধরদের নামে এবং সেখানে সমাবেশ ঘটিয়েছে কাফের-মোনাফেক আর অপবিত্র ব্যক্তিদের। এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত তেলের পয়সা দিয়ে চালাচ্ছে আল্লাহ বিরোধী কাজ-কাম। ফতোয়া দিচ্ছে উল্টাপাল্টা এবং যে সব হাদিসে রয়েছে মুসলমানের কল্যাণ সে সব হাদিসকে বলছে মিথ্যা ও বানোয়াট যা ইতিপূর্বে কোন মাজহাবের কোন আলেম এ ধরণের ফতোয়া বা এ ধরণের কথা বলেনি বা বলতে সাহস করেনি। আজ এই ওহাবী চিন্তাধারা ধ্বংস করে দিচ্ছে পুরো ইসলামকে তারা আস্তে আস্তে ইসলামের গোড়া কাটার চিন্তা করছে। তার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে-যদি লক্ষ্য করেন দেখতে পাবেন যে, তারা সদা সর্বদা বলে থাকেন এটা করা বিদআত, ওটা করা হারাম, এ কাফের ও মোনাফেক ইত্যাদি। এ সব বলে প্রত্যেকটি মাজহাবের মধ্যে বাধিয়েছে গন্ডগোল। তারা কখনো ঐক্য হওয়ার শ্লোগান দেয় না। তারা কখনো কখনো বলে না যে, ফিলিস্তিনে এত মুসলমান শহীদ হয়ে যাচ্ছে আমাদের কিছু একটা করা দরকার। তারা তো উদ্যোগ নেয় না বরং বিধর্মীদেও চুক্তিতে সাক্ষও করে এই ভূ-খন্ড হতে মুসলমানকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। আমি ইতিপূর্বে এক আর্টিক্যাল এ লিখেছিলাম যে, যখন লেবাননের সাথে শত্রুরা আর পারছিল না ঠিক ঐ সময় এই ওহাবী আলেমরা ফতোয়া দিল যে, লেবাননকে যুদ্ধের জন্য সাহায্য করা যাবে না কারণ হিজবুল্লাহ হচ্ছে শিয়া। আর শিয়ারা কাফের। আমি আবারো বলতে চাই যে, তিনি এই ফতোয়া দিয়ে মূলতঃ মুসলমানদেরকে দমিয়ে রাখলো আর বিধর্মীদেরকে সাহায্য করলো মুসলমাদের উপর হামলা করার জন্য। এ থেকে কি বুঝা যায়, ওহাবী আলেম বা ওহাবী মাজহাব ইসলামের শত্রু রা বন্ধু? তারা শিয়াদেরকে কাফের বলে, সুন্নীদেরকে বিদআতী বলে অর্থাৎ বিদআত পালনকারী কাফের, তারা অন্যান্য মাজহাবকে বিভিন্ন মনগড়া ফতোয়া দিয়ে কাফের, মুশরিক বলে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তাই আমার আহ্বান যে, হে মুসলিম জাতি! এই ওহাবী বা আহলে হাদিসের হাত থেকে খাঁটি ইসলামকে রক্ষা করুন। তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে হক্কানী আলেম বা সঠিক আলেমের সাহচর্যে আসুন ও সঠিক ইসলামকে চিনে তার উপর আমল করুন। শবে বরাতকে সেই রাসূলের (সাঃ) মত, সেই রাসূলের (সাঃ) সাহাবীদের মত করে পালন করুন ও সবাইকে এই ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করুন। আমীন।
নিরপেক্ষ বলেছেন:
মাফ করবেন। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।
শিয়া বলেছেন:
সত্য কথা লিখুন তা যদি তিক্তও হয়। নিরপেক্ষকে ধন্যবাদ সত্য কথা লিখার জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আর আপনার মত যদি সবার একটুখানি সত্য কথা লিখার বা পক্ষপাতহীন লিখার ইচ্ছা থাকতো তাহলে আজ এই সমাজ হত দূনীতি মুক্ত।
এম এ রহমান বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাই নিরপেক্ষকে তার এই ইসলাম রক্ষা অভিযানের জন্য। আশাকরি, আরো লিখবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ইনশাল্লাহ যদি আল্লাহ তৌফিক দান করেন।
ওবায়েদ বলেছেন:
'শব' শব্দটি ফারসী শব্দ যার অর্থ রাত বা রজনী।আর 'বরাত' শব্দটিও ফারসী শব্দ যার অর্থ ভাগ্য। তাই দু'শব্দের অর্থ হলো: ভাগ্য রজনী।
অনেকে বরাত শব্দটিকে আরবী মনে করে থাকেন। যা সম্পূর্ণ ভূল; কারণ বরাত বলতে আরবী ভাষায় কোন বাক্য নেই।
আর যদি বরাত শব্দটি আরবী ভাষার বারা'আত শব্দটির অপভ্রংশ ধরা হয় তবে তার অর্থ হবেঃ সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুক্তিকরণ। কিন্তু কয়েকটি কারণে এ অর্থ গ্রহণ করা যায়না;
১. এর আগের শব্দটি ফারসী হওয়াতে তাও ফারসী শব্দ হিসাবে নেয়াই স্বাভাবিক।
২. আরবী ভাষায় শা'বানের মধ্যরাত্রিকে কেউই বারা'আতের রাত্রি হিসাবে ঘোষনা করেনি।
৩. রমযান মাসের লাইলাতুল কাদরকে কেউ কেউ লাইলাতুল বারা'আত হিসাবে নামকরণ করেছেন, শা'বানের মধ্য রাত্রিকে নয়।
লেখক বলেছেন: আপনার কথার সাথে আমার দ্বিমত নেই। তবে আমার কথা হচ্ছে নাম আর শব্দ নিয়ে এত গবেষণা না করে আসুন আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাত বলুন আর শা'বানের মধ্য রাত্রি বলুন আসল বিষয় নিয়ে গবেষণা করি। ঐ রাত্রের যে আমল বা কর্মগুলোর কথা বলা হয়েছে তা কি ইসলামের দৃষ্টিতে খারাপ বা সমাজ ও বিশ্বের দৃষ্টিতে কি তা অপছনীয়? আমার মনে হয় না। কারণ, যেমনভাবে ইসলাম গরীব দুঃখিদের পাশে দাঁড়াতে বলে ঠিক তেমনিভাবে বিশ্বের সবাই এবং সকল মানুষ তা বলে থাকে। আর ঐ দিনে আমরা সাধারণতঃ এ কাজটিই বেশী বেশী করে থাকি এতে দোষের কি। এ ছাড়াও ইবাদত বন্দেগী করা তো আর খারাপ নয় বা কারো অনিষ্ঠতা তো আর ডেকে আনে না তাহলে তার নাম নিয়ে এত কানা ঘোসা করার উদ্দেশ্য কি? সাধারণ মানুষ এমনিতেই অন্যান্য সময়গুলোতে ইবাদতে ততটা মনোযোগী হতে পারে না। তাই এ সকল বিশেষ বিশেষ রাতে যদি একটু মনোযোগের সহিত ইবাদত করে তা দোষের কি। এর নাম নিয়ে কানা ঘোসা করার উদ্দেশ্য কি তাহলে এ সব ভাল কাজের সৎ কাজের বিরোধীতা হিসেবে ধরে নিব না-কি সৎকাজের সহযোগীতা? আপনারা নিজেরদেরকে একবার ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে যাচাই করে দেখুন।
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
ওবায়েদ ভাই মনে হয় ঠিক বলেছেন
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় ওবায়েদ ভাই যদি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থাৎ সৎ কাজে বাধা দান করার উদ্দেশ্য নিয়ে লিখে থাকেন তাহলে তার কথাকে সার্পোট করা ঠিক হবে না। আর যদি না জানার কারণে এ কাজ করে থাকেন তাহলেও তার কথাকে সার্পোটের অর্থ হল একজন অজ্ঞ ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ করা আর ইসলাম এটাকে কখনোই সার্পোট দেয় না। তাই কোন বিষয়ের উপর ভোট দিতে হলে মনে হয় না বলে বলা উচিৎ আত্মবিশ্বাসের সাথে। যেমন ইবাদত করতে হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে করতে হয় তাহলে তা কবুল হয়।


















ভাল্লাগেনাই... তাই মাইনাস...