গল্প: বেহালার বাক্স
১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৪১
এখনো বৃষ্টির দাগ লুকিয়ে রেখেছি বাঁশবনের একটি পাতায়। একটি পাতায় চিরদিন কাঁপে জল আর জলের কুসুম। জলের ইঁদারায় ধূপের গ্রামখানি ঝিমধরা মুহূর্তের দেয়াল-- আটকে রাখে অহমিকা আর জন্মান্তর। তিন প্রান্তরের তিনটি শাদাফুলে অনাবৃষ্টির চিহ্ন-- এই চিহ্ন কেবলই বাঁশবনের প্রতীক্ষায় রত। আমার আরতি চিরদিন লুকিয়ে থাকে বাঁশের ফুল। তেপান্তর জানবে না বাঁশবন আমার মাথার চুল। শাদাফুল বাঁশের, শাদাফুল জবাকুসুম।
এই ছবিটা কিভাবে আঁকা যায়? কখানি ক্যানভাসে ধরবে দৃশ্যসকল? কী রঙ, কী কালার প্যালেট? শাদা হলুদ সবুজ নীল ধূসর, ধূসর মানে ছাই, ছাই মানে ভস্ম, ভস্ম মানে আষাঢ়ের মেঘ; তারপর গাঢ় সবুজ রঙ। এই বিক্ষিপ্ত দৃশ্যসমগ্র কিভাবে বাঁধা যায়? ঝিমধরা মুহূর্তের দেয়ালের ঘরখানি কেমন হবে? আয়নায় মুখ দেখি; আয়নায় আমার মুখ, চোখ; চোখের মধ্যে আরেক আয়নায় আবারও আমি। এইসব গভীরতর পথের স›ধান কখন ফুরোবে! অ›ধকার জ্বলে উঠো, জ্বলে উঠো গাঢ়তর বেগুনি-নীল...
আমি অনেকদিন আগে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম শরীরে জ্বর নিয়ে। আমার শরীরের জ্বর মাথার ভিতর সূক্ষ্ম একটা ঢেউয়ের মতো উঠা-নামা করছিলো। জলের ভিতর চোখ খুলে সবুজাভ আলোয় আমি যেনো একটা স্বপ্নকে উল্টে পাল্টে দেখছিলাম। স্বপ্নের রঙ লাবণ্যময়, নোনতা। আমার শরীর স্যাঁতসেতে, পিচ্ছিল। একটি মাছের চোখে দুইটি জবাফুল ফুটে উঠেছিলো। মাছটি এলো; ডানা ঝাপটালো, চোখ টিপলো; চোখ হতে খসে পড়লো একটি ফুল। ফুলটি ভেসে উঠে যাচ্ছিলো-- আমি হাতে নিলাম জবাকুসুম। মাছটি থামলো, তার বুদ বুদ থামলো না...
তোমার রঙ কী?
রূপোলি।
তোমার রঙ কী?
সবুজাভ।
তোমার রঙ কী?
হলুদাভ।
তোমার রঙ কী?
ধূপছায়া।
তোমার রঙ কী?
নীলাভ, সোনালি, কচি লেবুপাতা...
বলতে বলতে মাছটি সবকটি রঙে পরিবর্তিত হলো পরপর।
একটি পাতায় কাঁপে চিরদিন জল। কিসের পাতা? বাঁশের, ঘাসের, চোখের, জবার, লেবুর...? মাছটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে আবর্তিত হচ্ছে। শুধালাম, জবাফুল কেনো?
এই জবা শাদা।
জবা শাদা হওয়াই ভালো। দূর থেকে বরফকে শাদা মনে হয়।
উত্তরের ইতিহাসে শাদা ছাড়া কিছু নেই। বুদ বুদ, বুদ বুদ...
আমার মাথার ভিতর খট খট শব্দ হলো। মাথার ভিতর থেকে শব্দদল কানের দিকে যাচ্ছে, আমি দেখতে পাচ্ছি, শব্দের শরীর আমার হাতে ধরা জবাফুল।
শব্দদল কানের দোরগোড়ায় আসতেই আমি চোখ খুললাম। আমি চোখ খুললাম সূর্যের ভিতর। আমার ঘরভর্তি সূর্য। আমার বিছানা, বালিশ, আধখাটানো মশারির একাংশ কুরে কুরে খাচ্ছে সকালের সস্তা রোদ। শব্দেরা এখন দরজার ওপাশে-- খট খট, খট খট...
দরজা খুললাম। চোখ কচলে তাকালাম-- বাবা। একহাতে লেবুগাছ, ঠিক লেবুগাছ নয়, লেবুগাছের কলম। আর হাতে টব।
কটা বাজে?
দশটা-টশটা হবে।
মানে কী?
রাতে ঘুমাই না।
ভালো। তোর মা-ও রাতে ঘুমাইতো না।
ভিতরে আসো।
রাতে কী করিস? বাবা ঢুকেই মেঝেতে বসলেন। তার হাতে এখনো লেবুগাছ আর টব।
কিছু করি না। শুয়ে থাকি। এপাশ-ওপাশ করি।
লেবুগাছ নিয়ে এলাম। টবে লাগালেই লেবু হবে। দ্যাখ, ফুল পড়েছে। বাবা মুখ টিপে হাসলেন। তুই চিঠিতে লেবুপাতার কথা লিখেছিলি; তোকে কে যেনো একটা লেবুপাতা দিয়েছে-- আর তুই সেটা গীতবিতানের ‘আমার নিশীথরাতের বাদলধারা’ গানের উপর রেখে দিয়েছিস! তাই নিয়ে এলাম। তোর মা কলম করে রেখেছিলো। লেবু না হোক, বোতলের পানিতে দুইটা লেবুপাতা কচলে দিবি। লেবুপাতার ঘ্রাণ লেবুর চেয়ে ভালো।
আমার এখনো স্বপ্নের ঘোর কাটে নি। মনে হচ্ছে বাবা নয়, এখনো সেই বাহারি মাছটাই আমার সাথে কথা বলছে।
যা, মাটি জোগাড় কর।
মাটি কই পাবো? এইখানে ইট আর সিমেন্ট ছাড়া কিছু নাই।
কুমোরপাড়ায় যা, মাটি কিনে নিয়ে আয়। বাবা পঞ্চাশটাকার একটা নোট বের করে দিলেন।
টাকা লাগবে না, আছে।
আরে! নে নে। লাগলে আরো নে। টাকার অভাব নাই। ঘর বেইচ্চা দিছি।
সরল দেহাতি টোনে কথাগুলি বলে যেনো বাবা খানিকটা লজ্জা পেলেন। নতমুখে মুখ টিপে হাসলেন। আমি অবাক হলাম না। আড়মোড় ভাঙলাম।
কই থাকো এখন?
মন্দিরে মসজিদে থাকি। মন্দিরে থাকলে নিজেরে হিন্দু হিন্দু লাগে। আর মসজিদে থাকলে মুসলমান মুসলমান লাগে। তবে মসজিদে শান্তি নাই। শ্যাষ রাইতে মুয়াজ্জিনের বেটা ঘুম ভাঙাইয়া দেয়, অযু করতে কয়। আমি বাইর হইয়া রাস্তায় হাঁটাহাটি করি, ভালাই লাগে। মইধ্যে মইধ্যে শালবনে চইলা যাই, শালপাতার গ›ধ শুঁকি। শুকনা পাতার উপর হাঁটি, মর্মর বাজে। শালবনের ওপারে ল্যান্ডস্কেপ দেখি। আইচ্ছা, দিগন্তের ওপারেও কি ল্যান্ডস্কেপ আছে?
বাবা থামলেন। আমি চুপ করে আছি, চুপিচাপ। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, দিগন্ত বইলা কিচ্ছু নাই রে, কিচ্ছু নাই...
আমি তার চোখের ভিতর তাকালাম, কেমন খা খা করছে!
তুই ল্যান্ডস্কেপ আঁকিস না?
না।
ক্যান?
ভাল্লাগে না।
কবিতা তো লেখিস, আগের মতো...
আগের মতো না, দুয়েকটা লিখি মধ্যে মধ্যে।
যা, মাটি নিয়া আয়।
তুমি খাইছো কিছু?
হ, খাইছি তো। এইখানে একটা দোকানে ভালা তেহারি বানায়।
আমি চাবির রিং হতে একটা চাবি খুললাম, এইটা রাখো। আমার আসতে দেরি হবে।
বাবা অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর সহসা আমাকে দুহাতে বুকের সাথে চেপে ধরলেন। আমি এইবার অবাক হলাম। ছেলেবেলায় কবে শেষবার বাবা আমাকে বুকে চেপে ধরেছিলেন মনে নেই।
একা একা ঘর পাহারা দিতে ভাল্লাগে না। তাই বেইচ্চা দিছি।
কৈফিয়ৎ দিচ্ছো কেনো? তোমার ঘর তুমি বেচবা, সেইটা তোমার ব্যাপার।
গাছগুলার জন্য মায়া লাগতাছে। কতো কষ্ট করে তোর মায়ে গাছগুলারে লাগাইছিলো। কতো আলাইয়ে বালাইয়ে পাশে দাঁড়াইছে...
আমি কী বলবো ভেবে পাচ্ছি না। বাবা অকস্মাৎ আমাকে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ালেন। কেমন করে যেনো বললেন, ছবি আঁকা ভুইলা গেছি; আমারে ছবি আঁকতে শিখাবি?
বাবার জন্যে ভয়ানক মায়া হলো আমার, হ্যাঁ, শিখাবো।
যা যা, মাটি নিয়া আয়। লেবুগাছটারে আমি নিজের হাতে লাগাইয়া দিয়া যাবো।
আমি চোখে মুখে একটু পানির ঝাপটা দিলাম। তারপর বের হলাম। মোড়ের দোকান থেকে দুইটা সিঙ্গারা কিনে হাঁটতে হাঁটতে খেলাম। বাসে উঠার আগে একটা ডাব কিনে খেলাম। বাসের সিটে বসে বুঝলাম আমার ঘুম পুরো হয় নি।
ঝুমঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। অবিশ্রান্ত বর্ষায় আমি হাঁটছি। একটি মাঠ পার হচ্ছি। মাঠে ঘাসবন। একটুও কাদা নেই। স্বচ্ছ জলে আমি পা ডুবিয়ে হাঁটছি। আমার খালি পা। বৃষ্টির দংশনে আমি ক্রমশ সবুজ এবং সুন্দর হচ্ছি। হাঁটতে হাঁটতে কখন যে ঘাসবনে বসে পড়েছি আমি টের পাই নি। অভাবনীয় সৌন্দর্য আমাকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে আমি স্পষ্ট টের পাচ্ছি। আমি প্রতিটি ঘাসকে আলাদা করে দেখছি। স্পষ্ট শুনতে পেলাম দুইটা দূর্বাঘাস পরস্পর কথা বলছে।
তুই সখি এতো সবুজ কেনো?
তুই এতো হরিৎ কেনো?
সবুজ আর হরিৎ কি এক জিনিশ?
তোর তো চিকন কোমর।
তোর তো কাঁপছে অধর।
তোর চূড়িদার কই?
বর্ষায় কিসের চূড়িদার?
তোর তো গা কাঁপছে।
যাহ্! শিশির পড়ছে।
শিশির না ছাই, বৃষ্টি হচ্ছে।
তোর চোখ তো লেবুপাতা রঙ।
কচি লেবুপাতা রঙ?
যা যা, কাদা নিয়ে আয়।
কাদা দিয়ে কী হয়?
কাদা দিয়ে মূর্তি হয় লো, মূর্তি হয়।
এইখানে তো কাদা নাই।
যা তবে কুমোড়পাড়ায় যা।
কুমোরপাড়া তো বহুদূর, বহুদূর।
এই মাঠ শেষে আর দুইটা মাঠ
তারপর...
তেপান্তরের মাঠ যে দীর্ঘ পথ।
বৃষ্টিতে দীর্ঘপথ পলকেই শেষ হয়।
যাই তবে, যাই।
তোর গায়ে তো লেবুপাতা ঘ্রাণ।
তোর চোখের পাতা গীতবিতান...
একটা ঘাসফড়িং আমার হাতের পিঠে এসে বসলো। আমি উঠে দাঁড়ালাম। আমার মনে পড়লো, বাবা আমার জন্যে বসে আছেন। বৃষ্টি থামছে না। ঝমঝম মেঘমল্লার কানে বাজছে। আমি হাঁটতে হাঁটতে চোখ বুজলাম। আমার চোখের পাতায় বৃষ্টির ছাট লাগছে। চোখের পাতায় কম্পমান চিরদিন জলের কাজল। কী সুন্দর! কী সুন্দর!
ঘাসফড়িংটা মনে হয় হূল ফোটাচ্ছে। মৃদু ব্যথা লাগছে। আমি চোখ খুললাম। বাসের এসিস্টেন্ট ভাড়া চাচ্ছে। ভাড়া দিতে গিয়ে জানলাম আমার গন্তব্য পার হয়ে এসেছে বাস। বেশি দূর না। হেঁটেই যাওয়া যাবে নামলে। আমি নেমে পড়লাম। আর বৃষ্টি শুরু হলো।
সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে মনে হলো মাটির ব্যাগটা ক্রমশ ভারি হচ্ছে। ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালাম যখন-- দেখলাম দরজায় তালা। ব্যাগটা একপাশে নামিয়ে রেখে দরজা খুললাম। বাবা কি খেতে গেলেন? মনে হয় না। ঘরে ঢুকে অবাক হলাম; সমস্ত পরিপাটি, গোছানো। দড়িতে ঝুলানো কাপড় জামা ভাঁজ করা, ইজেল, কালার প্যালেট, রঙের টিউব, ব্রাশ, পেন্সিল প্রতিটি কিছু গোছানো। বিছানার চাদরটা উল্টিয়ে বিছানো। এ কী! বিছানার উপর একটা মোটা খাম পড়ে আছে একপাশে। বুকের ভিতরটা ধক করে উঠলো আমার। খামটা খুললাম, যা আশঙ্কা করেছিলাম তাই-ই, টাকা। গুনলাম। ঘর বিক্রির টাকা।
মেঝেতে একটা ছবি এঁকে রেখে গেছেন, বাবা। দেখলেই বুঝা যায় আনমনে এঁকেছেন। প্যাস্টেল ঘষে আঁকা। ধানক্ষেতের উপর দিয়ে কাক উড়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে দিগন্তে। আমার সমস্ত মূন্য মনে হলো। এইরকম ভিনসেন্টের একটা পেইন্টিং আছে। গমক্ষেতের উপর দিয়ে কাক উড়ে যাচ্ছে। তার ছবিতে সূর্য দুইটা, আর বাবার ছবিতে তিনটা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্প ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১২:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
চমৎকার। পড়তে পড়তে বিস্ময় আর অনুভবের অনেক গোপন কূঠার যেন উঠে এলো। ঘা মেরে যাচ্ছে...
লেখক বলেছেন:
যদিও গল্পটা পুরোটাই আমার কল্পনা। তারপরও লেখার সময় আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম, শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত নড়ি নি। এবং গল্পটা শেষ হওয়ার পর পড়ে কেন জানি না আমার ভয়ানক কষ্ট হচ্ছিলো।
পাঠ করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ, মুক্তিদা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, দিদি।
লেখক বলেছেন: শ্রাবণসন্ধ্যা ঝরো
লেখক বলেছেন: এটা আমার সবচে' প্রিয় পেইন্টিং।
ভোর হলো গায়ত্রী।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
এটা পড়েছি অফলাইনে। ভালো লেখা, চমৎকার। তবে প্রথমাংশ ভাষিক কোরাসে আক্রান্ত, অর্থ্যাৎ, উপমাবহুল হয়ে গেছে। তাছাড়া জ্বরের ঘোরটা জলসে উঠে নাই পুরোপুরি।লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, অভি।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, দিদি
লেখক বলেছেন: আচ্ছা
আকাশ অম্বর বলেছেন:
চমৎকার !
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
আহসান জামান বলেছেন:
চমৎকার।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জামান ভাইয়া
সোহানা মাহবুব বলেছেন:
আপনার গদ্য কবিতাক্রান্ত। শেষটুকু খুব চমৎকার লাগল। ++
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সোহানা। আমি এইভাবেই লিখি।
লেখক বলেছেন: মম
লেখক বলেছেন:
লেখক বলেছেন: মিল্টন দা ধন্যবাদ পাঠ করার জন্যে
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, দাদা
লেখক বলেছেন:
আমি জেনেছি...
------------------------------------
গীতবিতান
সবজের সাথে কথোপকথনের পর্বে সত্যিই হারিয়ে গিয়েছিলাম ক্ষণিকের জন্য। ইচ্ছা হল হঠাৎ ওভাবেই হারাতে...
এভাবেই লিখুন।
লেখক বলেছেন: নক্ষত্র
পাথুরে বলেছেন:
পড়তে পড়তে ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। অসাধারণ।+
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ।
আমিও ঘোরের মধ্যে লিখছিলাম
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
আয়নায় মুখ দেখি; আয়নায় আমার মুখ, চোখ; চোখের মধ্যে আরেক আয়নায় আবারও আমি। এইসব গভীরতর পথের সন্ধান কখন ফুরোবে! অন্ধকার জ্বলে উঠো, জ্বলে উঠো গাঢ়তর বেগুনি-নীল...
গল্পটা অসাধারণ-আর কিছু বলার নেই-আপাতত। তবে বাবার মুখে ল্যান্ডস্কেপ কথাটা কানে লেগেছে।
লেখক বলেছেন:
নিবিড়পাঠের জন্যে অনেক ধন্যবাদ, শুভ্র।
ল্যান্ডস্কেপ কেনো কানে লাগছে বুঝতে পারলাম না।
হয়তো বাবার কাছেই ছবি আঁকার হাতেখড়ি। বাবা একসময় হয়তো নিয়মিতই আঁকতেন।
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
অনবদ্য। অফলাইনে পড়েছিলাম, অনেকটা সময় নিয়ে। বারবার পড়েছি। মুগ্ধতা.....
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ, সাদাত?
নম্রতা বলেছেন:
~আমি প্রতিটি ঘাসকে আলাদা করে দেখছি।~ঐ দৃশ্যটা কতটা সুন্দর তাই ভাবছিলাম।
-----------
থমকে গেছি গল্পের অনেক জায়গায় , তবে 'বাবা' কে নিয়ে লেখা বলে আরো বেশি ভালো লাগার।
চারকোলে আঁকা ছবির কথা এলে...মনে হলো ...তারপর কি হতে যাচ্ছে গল্পটার .....আমি অবুঝ পাঠকের মতই হাতড়েছি আরো কিছু সময় , শাদাপাতা !
লেখক বলেছেন: আমিও আপনারই মতো...
------------------------
থ্যাংক্স
নীরজন বলেছেন:
আমি সাহিত্যের কিছু বুঝি না............পোস্টা পড়তে পড়তে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম..........পড়া শেষ হবার পর কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে..........প্রিয়তে নিলাম।ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: নীরজন
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা, সহেলী
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
চমৎকার লেখনীর জন্য প্রথমেই + প্রাপ্য ।
তবে, আমার কাছে এটাকে পদ্যই মনে হচ্ছে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, শিপন। আপনি যা বলেন।
লেখক বলেছেন: বানানটা অতঃপর হবে।
ভালো নেই
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, সালেহ ভাইয়া
মেহবুবা বলেছেন:
এটা কি সত্যি নয় ? তারার হাসির প্রিয় পোষ্টে দেখে এখানে এসে ভাল একটা লেখা পড়তে পারলাম । ধন্যবাদ তারার হাসি , ধন্যবাদ আপনাকেও ।
লেখক বলেছেন:
পৃথিবীতে কিছুই সত্যি নয়।
আপনার বাবা যে মিথ্যে বলেছিলেন, সেটাও সত্যি নয়।
কেননা আপনার মধ্যেই তার বসবাস।
পাঠ করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।
প্রাকৃত বলেছেন:
আপাতত গল্পের ভেতরে আছি। ঘোর ভাঙলে বলে যাবো........
লেখক বলেছেন: প্রাকৃত
লেখক বলেছেন:
মাঝে মাঝে ঘোরসংসারী মানুষেরও ইচ্ছে করে সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে কোথাও বহুদূরে চলে যেতে।
কিছু কিছু মানুষ তো এমন থাকে। শূন্যতা এসে টেনে নিয়ে যায়।
তার সম্পদ বলতে ভিটেবাড়ি টা ছাড়া তো কিছুই ছিলো না। ওখানে তিনি একাই থাকতেন। ভিটেবাড়িটা বিক্রি করে টাকাটা একমাত্র সন্তানের কাছে দিয়ে তিনি মুক্ত হয়ে গেলেন। হয়তো কোথাও চলে গেছেন, দূরে কোথাও। জানি না।
আপনি চাইলে যা ইচ্ছা তার গন্তব্য ভেবে নিতে পারেন।
অনেক শুভেচ্ছা, তারা।
ভালো আছেন, আপনি?
অদৃশ্য বলেছেন:
নির্ঝর দা..................লিখাগুলো আগেই পড়েছিলাম। আবার পড়লাম। আমার খুব ভালো লেগেছে। চমৎকার লিখেছেন।আমার ঘরে গেলে ভালো লাগতো।
শুভকামনা রইলো...........
লেখক বলেছেন: যাই
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: টুশকিমণি
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, বস্।
লেখক বলেছেন: ![]()
দ্রোহি বলেছেন:
কোন মন্তব্য নেই। প্রিয়তে গেল।
লেখক বলেছেন: নিবিষ্ট পাঠের জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
আপনার পিছনের দিকের পোষ্টগুলো একে একে পড়ছি ...... এত অসাধারন লিখেন কিভাবে ? ঈর্ষা হচ্ছে .....আপনার এই গল্পের স্টাইলটা খুব ভালো লাগলো, প্রথম অংশে কিছু চমৎকার উপমা সমৃদ্ধ ছন্দময় কিছু বাক্য, এটা পাঠকে নিয়ে যায় একটা ঘোরের মধ্যে, তারপর টুপ করে গল্পের মুল অংশে একটা ঝাকুনি দিয়ে পাঠককের ঘোর কাটানো, ব্যাকগ্রাউন্ডে বেহালাতে বাজতে থাকে করুন রাগ। একেবারে শেষে এসে প্রথম অংশের মত পাঠককে আবার নিয়ে গেলেন ঘোরের রাজ্যে, এতে গল্প শেষ হলেও চমৎকার একটা আবেস জড়িয়ে থাকে মনে প্রাণে ...... অদ্ভুত সুন্দর, অদ্ভুত .....
লেখক বলেছেন:
অনেক শুভেচ্ছা, দেবদূত। পাঠ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Click This Link
মেটালিফেরাস বলেছেন:
গদ্যকাব্য কি? তাও ভাল। বেশ ভাল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ইহা গল্প।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...























