০১.
আজ আবার মাথার ভিতর ঘুরছে তেলাপোকার তেরো নম্বর সংস্করণ এবং লিথি এবং লক্ষ্মীর হারিয়ে যাওয়া ভ্রূণের কান্নাভোর। আমি কাউকে বলি নি ফুল সুন্দর। তারপরও ফুল সুন্দর হলো।
০২.
আমাদের প্রিয় চট্টগ্রামে রাস্তায় বড় বড় ডেকসিতে বিরিয়ানি বিক্রি হয়, পাঁচ টাকা ছোটো প্লেট, দশটাকা বড় প্লেট। ঘ্রাণটা অসাধারণ এইকথা মনে হয় তোমাকে আরো একবার বলেছি।
০৩.
যদি শাদার কথা বলেন, তবে বলবো সাদা এবং শাদা দুটোই অভিধানে আছে। শুরু থেকেই। স এর উচ্চারণ অনেকটা চ এর কাছাকাছি তাই, স দিয়ে লিখলে মনে হয় এইটা ওয়াশিং পাওডারে শার্ট ধোয়ার পর ধবধবে সাদা। কিন্তু শরতের মেঘের মতো কিংবা কাশবনের মতো শাদা নয়। তাই সৃজনশীল রচনা বিশেষ করে কবিতার ক্ষেত্রে আমি শাদা বানানের পক্ষপাতি।
আর আমার দুইজন নমস্য কবি জীবনানন্দ এবং জ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ কখনোই সাদা লিখতেন না, লিখতেন শাদা। হিসেবে না লিখে হিশেবের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।
০৪.
অবশ্যই কবি শামসুর রাহমান তার সময়কার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। তিনি ফুরিয়ে গিয়েছিলেন কথাটির অর্থ তার শেষজীবনের কবিতাগুলি পড়লে বুঝতে পারবেন। কবিতাগুলি রৌদ্রকরোটিতে কিংবা প্রথমগান দ্বিতীয়মৃত্যুর আগে কাব্যগ্রন্থের কবিতাবলির ধারে কাছেও যেতে পারবে না।
আর প্রত্যেক কবিই তার সময়ের আধুনিক কবিতাই লিখেন। এইজন্যে আমরা দশক বিচার করি। কারণ সময় চিন্তা প্রবণতা সব কিছু পাল্টায়, ধরন এবং প্রকরণও পাল্টায়। সময় হচ্ছে এইখানে ফ্যাক্ট।
০৫.
আমি যদি জলের সাথে যোনি শব্দের তালমতো প্রয়োগ করতে না পারি তবে বাক্য শব্দদুটিকে বমি করে বিচ্ছিন্ন করে দেবে, সত্যি।
কবিতায় শুধু নয় আধুনিকতা- উত্তরাধুনিকা সবখানেই আছে। আধুনিকতা কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এটি সময়। কিন্তু উত্তরাধুনিকতা একটি দৃষ্টিভঙ্গি।
০৬.
চতুষ্কোণ নামে আমার একটা প্রিয় উপন্যাস আছে। উপন্যাসটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা। তার লেখা প্রথম পড়েছি পুতুলনাচের ইতিকথা। কুসুমের প্রেমে পড়ে সে কী বেহাল অবস্থা আমার! তাও প্রায় দশবছর আগের কথা। কুসুমের প্রেমে আমি এখনো চুর হয়েই আছি। আহা কুসুম। ডাক্তারের কাছে কেনো যাও, ডাক্তার ধরা দেয় না বলে?
০৭.
হ্যাঁ চুরি করেছি। অন্ধকার চুরি করতে ভালো লাগে। বই আর ফুল চুরি করতেও ভালো লাগে। এইবার জীবনানন্দ শোনাই, এখানে পালঙ্কে শুয়ে কাটিবে অনেকদিন জেগে থেকে ঘুমাবার সাধ ভালোবেসে...
স্বাতী, এখন রাত্রি তৃতীয়প্রহর, শামসুর রাহমানের লেখা আমার খুব প্রিয় একটা লাইন মনে পড়ছে, আমি দেখছি তোমার সিঁথি দিয়ে বেরিয়ে গেছে অন্তহীন উদ্যানের পথ...
আর সুধীনদত্ত অসাধারণ কখনো। মনে পড়ে, একটি কথার দ্বিধা থর থর চূড়ে ভর করছিলো সাতটি অমরাবতী। এমন কম্প্যাক্টনেস আর হয় না।
০৮.
আমি কিছুই ছিলাম না। কিছুই নই। এবং কিছুই হবো না। তাই শূন্যতাই পরিণতি। আমি দর্শনের ছাত্র নই। যদি মনে করি সব কিছু মায়া কিংবা যদি মনে করি সবি বাস্তব। তাতে কী আসে যায়? সবি ভিত্তিহীন। সম্ভবত ইমাম ফারাবি, যেখানে কোনো হিশেব মিলে না সেখানে কিছু খুঁজেছিলেন।
০৯.
আত্মহত্যার সবচে সহজ উপায় হচ্ছে চল্লিশটা ঘুমের বড়ি খেয়ে দিঘি কিংবা পুকুরের জলে ঝাঁপিয়ে পড়া। ঘুমাতে ঘুমাতে ডুবিডুবি। এইরকম শান্তির মৃত্যু আর হয় না।
এই রেসিপি ধরে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহত্যা করলে লেখক দায়ী থাকবে না।
১০.
একটা চন্দ্রবিন্দু না থাকলেও জ্ঞানীরা স্বমহিমায় অধিষ্ঠ থাকেন। এইটা প্রকাশ করার জন্যে আমি ইচ্ছে করেই চন্দ্রবিন্দু ফেলে দিয়েছি। তার কে তাঁর লেখা মানেই সম্মান দেয়া নয়।
মুহতরাম, আপনি বিসমিল্লাহ... লিখতে ভুলে গেছেন। পাককালামের যেকোনো আয়াত শুরুর আগে বিসমিল্লাহ করতে হয়। আল্লাহ আপনাকে হেদায়ত দান করুন। আমিন।
১১.
আমি কখনোই বলছি না নো ম্যান্স ল্যান্ড ভালো ছবি নয়। তার মানে এই নয় যে লগন খারাপ ছবি। দুইটা দুই ধরনের। আর অস্কার পাওয়া সব মুভিই যে ভালো তাও কিন্তু ঠিক নয়। অস্কার হলো ড. ইউনূসের নোবেল জেতার মতো ব্যাপার।
আর বাঙলা আর হিন্দি ছবিতে এমন পরিচালকও আছেন, হলিউডের অনেক নামী পরিচালক তাদের ধারে কাছেও যেতে পারবে না।
ট্যাঙ্গু, বল কিংবা সালসার সাথে তো ভারতনাট্যম, কথাকলি এইসবকে গুলিয়ে ফেলা যায় না। স্লামডগ মিলেনিয়ার হলিউড প্রোডাকশন। ইন্ডিয়ান নয়।
ইংজিরি উচ্চারণ? বাঙালি কিংবা ইন্ডিয়ানরা কেনো আমেরিকান কিংবা ইংলিশদের মতো উচ্চারণ করবে? তাদের অ্যাকসেন্ট তো ভিন্ন হবেই। মিস্টার এন্ড মিসেস আয়ারে কঙ্কনার ইংরিজি উচ্চারণের জন্যেই মুভিটিকে ইন্ডিয়ান মনে হয়েছে। এবং এই জন্যেই অসাধারণ।
হলিউডেও প্রতিদিন শখানেক অখাদ্য তৈরি হচ্ছে যেগুলার মান ঢাকাই ছবির চেয়ে খারাপ। আমি কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মানি না। যেখানে সুন্দর সেখানেই আমি যাবো।
একটা বাঙলা ছবি, নাম-- চতুর্থমাত্রা। পরিচালক নুরুল আলম আতিক। কাহিনি শহীদুল জহির। হলিউডের অনেক ছবিই এর ধারে কাছে যেতে পারবে না।
বেদের মেয়ে জোসনা অসামান্য। এইটা আমার কাছে রোমান হলি ডের চাইতে আপন মনে হয়েছে।
১২.
স্বাতী, তাদের সাথেও কিছু কথা বললাম। যেমন গতরাতের রবীন্দ্রনাথ। অথবা অস্তিত্বের যন্ত্রণা। যেমন পোস্টমর্টেম। ভাবছি পোস্টমর্টেম নিয়ে একটা গল্প লিখবো। আমার একবার মর্গের এক ডোমের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছিলো। সে সকাল বিকাল মদ খেতো। না হলে লাশকাটার মতো কাজ সে করতে পারে না। মদের টাকা অবশ্য তাকে থানা থেকেই দেয়া হতো।
মর্গকে জীবনানন্দ বলেছিলেন লাশকাটা ঘর আটবছর আগের একদিন, শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে কালরাতে... এইসব।
১৩.
তুমি কি তেলাপোকা দেখলে ভয় পাও? তবে তোমার গায়ে সব তেলাপোকা ছেড়ে দিতে হবে। ইহা সাইকোথেরাপি। কাফকার ছেলেটা যে তেলাপোকা হয়ে গেলো, মনে আছে তোমার? সেই থেকে ঘুমোতে ভয় পাই, যদি ঘুম ভেঙে নিজের শরীরের অন্যরূপ দেখি!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


