somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমকথা: তোমার দীঘল নিশ্বাস জুড়ে লেবুপাতার যে রঙ আছে

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১.
আমি রাতভর ভুলে থাকি রাত ভুলে থাকি
আমার করতলে শুধু হাওয়ার লীলা আঁকি
তোদের গ্রামে রাত কি ছিলো এমনই দীঘল
সারারাত ধূলিপথে বুঝি ঝরতো বটের ফল।
এসো তবে এইখানে। দেখো, আমি বুক চিরে প্রতীক্ষা হয়ে আছি অধীর; যদি পারো হাতড়ে নাও তোমার হারানো রুমাল। আমার রক্তের স্রোতে রেখো তোমার প্রথম আঙুল; দ্বিতীয় আঙুল রেখো অবিনাশী অশ্রুপত্রে। আমার রক্ত যদি তোমাকে গ্রাস করে তুমি কি বইবে আমার রক্তনদে, প্রাণ হবে কি তুমি সকরুণ শূন্যতার সখা চিরদিন?

০২.
জানলায় কিংবা ভাঙা কোনো ফুলদানিতে নয়; তুমি থাকবে আমার চোখের খোঁপায় কিংবা বুকের অন্ধকারে। আমি অন্ধকার, আসো আলো, আমার জোনাক, আমাকে আলোকিত করো সহসা। আমার ইচ্ছে করে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখি অসহ্যসুন্দর। কেনো আমার এমন হলো, আমার গোধূলিদিগন্ত?

০৩.
হ্যাঁ, একদিন, তোমাকে সত্যি সত্যি শাড়ি পরিয়ে দিবো। কখনো কোনো সমুদ্রের ধারে কোনো ঘরে তোমায় পরাবো নদীপাড় শাদাশাড়ি অথবা জলপাইবন। তুমি চোখ বুজে থেকো, ততোক্ষণ। তোমার সিঁথিপথে সিঁদুর দেবো আর পায়ে পরাবো অলক্তরাগ। তুমি ততোক্ষণ চুপিচাপ চোখ বুজে থেকো। আলতা শেষে তোমায় প্রণাম করবো, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।

০৪.
তুমি যা কিছু চাও, আমার যা কিছু সুন্দর এবং ইন্দ্রীয়ের গ্রহণযোগ্য সবকিছু তোমার। তুমি যেভাবে ইচ্ছে ভাঙতে পারো তোমার অন্ধকার। তোমাতে বিস্তারিত রামধনু আর রক্তে ছড়িয়ে দিই আমার প্লাবন। যদি কখনো জানতে পারো এমন প্লাবন তুমি নিজেকে চিনতে পারবে না আর। এমন সুন্দর হবে! পানি খেতে গিয়ে গ্লাসের পানিতে মুখ দেখে চমকে উঠবে। এবং নিজেকে পুজো দিবে নিজেই। এমনই সুন্দর আর ঐশ্বর্যময় হবে তুমি।

০৫.
আমার বুকের ভিতর একটি নদী গহন নদী
তোমায় ডাকে তোমায় ডাকে
জোনাক তুমি চৈত্ররাতের কেয়ার ঝোপে
বুকের একলা তারা জ্বেলে উড়ে উড়ে সাগর ডাকো
আজকে আমার বুকের ভাঁজে নদীগন্ধ তোমায় ডাকে
জোনাক আসো জোনাক আসো জোনাক আসো
আমার নদী তোমায় দেবে সমুদ্রজ্বর
জ্বরের সুরে তুমি পুড়ে রামধনুবন
বনের ভিতর একটি আগুন সরোবরে আমার সাঁতার
সন্তরণের নিয়ম ভুলে ডুবতে ডুবতে আশাবরি
আশাবরির চোখের ছায়ায় আরক্তভোর
ভোরের প্রথম রোদের পাতায় তোমার শিশির
একটি শিশির দুইটি শিশির লক্ষ শিশির
পরাগ ছুঁয়ে আমার মরণ
মরণ ক্ষণের শুক্ল প্রভাত অবিস্মরণ একটি প্রহর
প্রহর ছিলো কহর ছিলো
তোমার কাছে তোমার কাছে
তোমার দীঘল নিশ্বাস জুড়ে লেবুপাতার যে রঙ আছে
তোমার ত্বকের একটি গানে ছড়িয়ে দিয়ে আমি অমল
রোদের কাছেই ফিরে যাবো ফিরে যাবো
তখন কি আর ডাকবে আমায়
সৌদামিনী আলোয় ছায়ায়।
তোমার কি জ্বর নেমেছে? তোমার জন্যে অনেক দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
তুমি কি আমাকে জ্বালাও? তবে আমার জ্বলতেই আনন্দ।

০৬.
তুমি যখন ইচ্ছে যেভাবে ইচ্ছে আমাকে চাইতে পারো। আমি তো তোমার বন্ধু চিরদিন। তুমি ডাকলেই আসি। হয়তো কখনো সাথে সাথেই পারবো না আসতে, কখনো দেরি হতে পারে। কিন্তু আসবো আসবো আসবো... এই কথাটি জেনো।

০৭.
তুমিই আমার ঝড় আমার অবিনাশী সুন্দর
আর আমি তো নতজানু অরণ্য সমুদ্রবন্দর
আসো আমাকে বিনষ্ট করো আমূল উন্মূল
এই জন্মান্ধচোখে ঘষে দাও জোনাকবকুল।
আমার জোনাক, তুমি স্বপ্ন দেখবে আর সৃষ্টি করবে। আমার ঘুম পাচ্ছে, আমার ঘুম হরণ করো, আমাকে জাগাও, চুলে বিলি কেটে দাও।
আমিই তোমার দেয়াল। আমাকে বুকে চেপে ধরো। পারলে না? দেয়ালকে বুকে চেপে ধরা যায়? ভাবো। আসলেই যায় না। তবে? তবে আমাকে ভাঙো। ভেঙে বুকে চেপে ধরো।
তুই প্লাবন হলে আমি তোর রঙ। গোপনে বলি, আমি তোর পলি।
প্রথমে তোমার, এরপরে আমার এবং তারপর আমাদের অধ্যয়ন। তোমার আলতা থেকে সিঁদুর পর্যন্ত এঁকে দেবো দুইলক্ষ রক্তচুম্বন। তারপর তুমি ঘুমোবে যখন আমি জেগে জেগে দেখবো...

০৮.
আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, তোমার রক্তক্ষরণ আমার রক্তের ভিতর ক্ষরণ হচ্ছে ভীষণ... । তুমি বুঝতে পারছো? আমি জন্মান্ধরাতের আঁধার, তোমার কাছে এসেছি। প্লাবন হয়ে আসো তুমি; আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাও তোমার কাছে, নিবিড় পাঠে শুদ্ধ করো আমাকে।

০৯.
তোমার চিঠি পেয়েছি। এবং পড়েছি। ভাবলাম, একটা কবিতা লিখে তোমার চিঠির উত্তর দিবো। আর তুমি আমাকে দক্ষিণ করে দিলে? আসো, আমাকে মেরে ফেলো।

১০.
ঠিক আছে, তুমি সুন্দর নও। কেননা তুমি মহান সুন্দর। মহান সুন্দর কী জানো? যে সুন্দরের সংস্পর্শে সবকিছু সুন্দর হয়ে উঠে। আমি যেমন তোমার সাথে কথা বলতে বলতে সুন্দর হয়ে উঠি, একটি পাতার চেয়ে, কিংবা একটি পাখির চেয়ে সুন্দর। কাকচক্ষু দিঘি হয়ে উঠি ক্রমশ... সেতো কেবল তোমারই জন্যে।

১১.
যেদিন সত্যি সত্যি এই আমি তোমাকে অস্তিত্বের সাথে সমস্ত মিশিয়ে ফেলবো, যেদিন আমার রক্তের প্রতিটি ফুলদানিতে তুমি রক্তজবা হয়ে দল মেলবে সেদিন আমি আরো সুন্দর হবো। তুমি জানো না। সেদিন কি আমার রাত্রি নিভে যাবে, প্রিয়?

১২.
কেনো অমন করে বলো। তুমি তো কবিতা। আমি কবিতার কাছে যাই। তুমি তার জানো না কিছুই, যেদিন তোমার প্রতিটি রোমকূপে টের পাবে আমার দুর্নিবার পরমায়ু-- সেদিন বুঝবে তুমি কী অনির্বাণ সুন্দর। আর কখনো অমন করে ভেবো না। তোমার বুকে আলো আছে, জেনো। আলোকিত করো আমাকে, আমি জন্মান্ধরাতের আঁধার। আমাকে আলোর বানে প্লাবিত করো, প্রিয়তম সুন্দর।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩২
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×