রহস্য সাহিত্যের ক্যাপ্টেন- কাজী আনোয়ার হোসেন
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০১
ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ক্যাপ্টেন হবেন। বিশাল নীল মহাসাগরে জাহাজ নিয়ে পাড়ি দিবেন অজানা-অচেনা এক দ্বীপে। জগতের সব নিয়ম-শৃঙ্খলা, শাসন-শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঘুরে বেড়াবেন সারা পৃথিবীময়। কিন্তু হয়ে গেলেন লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক ও প্রকাশক। মনের গভীরের সেই সুপ্ত ইচ্ছেই প্রকাশ পেল তার লেখনীতে। লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করলেন তার কল্পনার সেই দূর্দান্ত লোমহর্ষক, রোমাঞ্চকর রহস্য কাহিনীগুলো। তিনি হলেন কাজী আনোয়ার হোসেন।
আমাদের প্রিয় মাসুদ রানা এবং বাংলা রহস্যসাহিত্যের স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন একটি স্বপ্ন জাগানিয়া নাম। ছেলে-বুড়ো সবার কাছে পরিচিত কাজীদা নামে। সেই নামের সাথে মিশে আছে একটি সমৃদ্ধ গল্প। তার বহুমূখী প্রতিভা মিশে আছে একটি কেন্দ্রে। লেখালেখির পাশাপাশি একসময় আনোয়ার হোসেনের খ্যাতি ছিল গায়ক হিসেবে। রেডিও, টিভি, সিনেমা, এইচ-এম-ভি সবখানে গান গেয়েছেন বাংলার রহস্য-এডভ্যানচার-থ্রিলার জগতের এই ব্যক্তিত্ব।
কাজী আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই রবিবার খুব ভোরে ঢাকার সেগুনবাগিচায়। তার বাবা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, দার্শিনক, সংস্কৃতিকসেবী ও দাবারু ড. কাজী মোতাহার হোসেন এবং মা সাজেদা খাতুন। তারা ছিলেন ৪ ভাই, ৭ বোন । কাজী মোতাহার হোসেন একজন মুক্তচিন্তা ও উদার মানষিকতার মানুষ ছিলেন। তিনি বুদ্ধির মুক্তি এবং বাংলার রেনেসা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা।
আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুখের সমন্বয়ে কেটেছে তার শৈশবকাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্ব সীমানায় উত্তর ও দক্ষিন কোণে যে দুটি দোতালা গেষ্ট হাউজ আজও দেখা যায়, সেখানেই উত্তরের দালানটিতে আনোয়ার হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাড়ি বদল করে তারা দক্ষিন দিকের গেষ্ট হাউসে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের কিছু অংশ দক্ষিন দিকে ছিল। ড. কাজী মোতাহার হোসেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। প্রায় বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে সামনের মাঠে ভাই-বোনেরা সবাই মিলে গোল্লাছুট খেলতেন। কখনো কখনো তাদের সাথে যোগ দিতেন বাবা মোতাহার হোসেন। সেখানে একটি আমগাছ ছিল। সেখান থেকে শুরু হত দৌড় এবং প্রতিপরে স্পর্ষ এড়িয়ে যদি কেউ বাউন্ডারির দেয়াল ছুতে পারে, তবে সে-ই হবে বিজয়ী। সেই আমতলাটি বিখ্যাত হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় । আর বাউন্ডারির দেয়াল ঘেষে তৈরী হয়েছিল মধুর ক্যান্টিন। পরে অবশ্য তারা বাসা বদল করে সেগুনবাগিচায় নিজেদের বাসায় চলে আসেন।
ভীষন ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় তার সেজো বোন খোরশেদা খাতুন একটি খাতা দিয়েছিলেন ডায়েরি লিখার জন্য। কিন্তু শর্ত ছিল খাতাটি সেজোদিকে পড়তে দিতে হবে। যেমন কথা তেমনি কাজ। ডায়েরিটা তিনি বোনকে পড়তে দিতেন সত্যি, কিন্তু ডায়েরির পাতায় লিখাগুলো থাকতো সব বানোয়াট, রোমহর্ষক ঘটনা। যেগুলো পড়ে সেজোদি ভয় পেয়ে যেতেন। তবে তার লেখালেখির ব্যাপারে বোনের অনুপ্রেরণা ছিল প্রচুর।
কিশোর আনোয়ার হোসেনের একদমই ভালো লাগতো না স্কুলে যেতে। তার জন্য স্কুল ছিল একটা জেলখানা। আর নিজেকে তিনি মনে করতেন তার কয়েদি। প্রায়ই সকালে দু ভাই মিলে রওনা দিতেন স্কুলের উদ্দেশ্যে, কিন্তু পথেই পল্টন ময়দানে শিমুল গাছের ছায়ায় বসে গল্পের বই পড়তেন। বিকেল হলে দু ভাই আবার একসঙ্গে বাসায় ফিরে আসতেন। মাঝে মধ্যে কোনো এক কাঠফাটা দুপুরে স্কুলের উচু পাচিলঘেরা প্রাঙ্গন দিয়ে উড়িয়ে দিতেন লাল-নীল-সবুজ রঙের কাটা ঘুড়ি। ঘুড়ির সাথে ভেসে যেত তার ছোট্ট উদাস বুকের চাপা দীর্ঘশ্বাস। নীল আকাশে মেঘের ভেলায় ঘুড়ির মত উড়তে না পারার দীর্ঘশ্বাস।
ছোটবেলা থেকেই কাজী আনোয়ার হোসেনকে রহস্য, রোমাঞ্চেকর কাহিনীগুলো আর্কষন করত। যখন যে গল্পের বই সামনে পেতেন, তা পড়তে ছাড়তেন না। তবে হেমেন্দ্রকুমার রায়, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, নীহাররঞ্জন গুপ্তর বইগুলো ছিল তার ভীষন পছন্দের। বছর ষাট আগের কথা কলাকাতা থেকে প্রকাশিত রবিনহুড নামের একটি বই তাকে ভীষনভাবে নাড়া দিয়েছিল। বইটির কাহিনীতে মহানায়কের মৃত্যু হয়। এটা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি । সেই মহানায়কের শোকে সেদিন গড়াগড়ি করে কেদেছিলেন। একবার একটি পয়েন্ট টু টু রাইফেল কেনার জন্য টাকার দরকার হল। টাকা যোগাড় করার আশায় শুরু করলেন উপন্যাস লেখা। কিন্তু উপন্যাসের বদলে মন থেকে বের হয়ে এল রহস্যোপন্যাস কুয়াশা।
১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে কাজী আনোয়ার হোসেন এসএসসি পাশ করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ ও বিএ শেষ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাশ করেন।
পড়াশুনা শেষ হওয়ার পর রেডিওতে তিনি নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন। নিয়মমাফিক কোনো ট্রেনিং না নিলেও বাড়িতে গানের চর্চা সবসময় ছিল। তার তিন বোন সানজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুন এখনও রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িত। ছোটবেলা থেকে আনোয়ার হোসেনের রক্তে ছিল গান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একবার বাংলাবিভাগ থেকে বনভোজনে গিয়েছিলেন জয়দেবপুরে। সেখানে চর্যাপদের হাজার বছরের পুরোনো একটি গান গেয়ে সবাইকে রিতীমত তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ গানটি ছিল- মবংকার দিঢ় বাখোড় মোড়িউ/বিবিহ বিয়াপক বন্ধন তোড়িই। দূর্বোধ্য এই বাংলা গান শুনে সেদিন ছাত্র-শিক্ষক সবাই খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথম রেডিওতে গান করেন। সেখানে পরিচয় কন্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনের সাথে। পরিচয় থেকে প্রনয়। এবং ১৯৬২ সালে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু রেডিও কিংবা টিভিতে গান গাওয়া এবং সিনেমার প্লে-ব্যাক কাজী আনোয়ার হোসেন ছেড়ে দেন ১৯৬৭ সালে। তবে এখনও মনের গভীরে কোনো সুর উকি দিলে সারাদিন তা গুন গুন করতে ছাড়েন না।
বাধা ধরা নিয়মের কখনোই তোয়াক্কা করেন নি কাজী আনোয়ার হোসেন। তাই মার্স্টাস পাশ করার পর তিনি নিজেই কিছুটা নিশ্চিত ছিলেন যে চাকরি করা তার পে সম্ভব না। বাবার কাছে টাকা চাইলেন ব্যবসা শুরু করার জন্য। প্রথমে তার সব প্ল্যান, উদ্দেশ্যের কথা শুনে বাবা কিছুটা আশ্চর্য হলেন, কিন্তু অমত করলেন না। ১৯৬৩ সালে মে মাসে বাবার দেয়া দশ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেসের যাত্রা শুরু করলেন। আট হাজার টাকা দিয়ে কিনলেন একটি ট্রেডল মেশিন আর বাকিটাকা দিয়ে টাইপপত্র। শুরু হল তার কর্মজীবন। সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রেসেই পরে থাকতে হতো তাকে। আর তার আগে ও পরে দু ঘন্টা করে চার ঘন্টা ব্যয় করতেন বই লেখায়। ব্যাপারটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে আসলে ততটা সহজ কিন্তু না। প্রেসটি দাড় করাতে তাকে রিতীমত যুদ্ধ করতে হয়েছিল। এরজন্য তাকে ভয়ানক খাটুনি খাটতে হয়েছে। প্রথমে তিনি অ-পাঠ্য একটি বই লিখতেন। তারপর হাতে কিছু টাকা জমলে সেটা প্রকাশ করতেন। এরকম করে ১৯৬৪ সালে জুন মাসে প্রকাশিত হল কুয়াশা-১ যার মাধ্যমে সেগুনবাগান প্রকাশনীর আত্মপ্রকাশ। তারপর ধীরে ধীরে কয়েকবছরের মধ্যে সেগুনের- সে, আর বাগানের- বা, মিলে হয়ে গেল সেবা প্রকাশনী। কুয়াশা প্রকাশিত হওয়ার পর মাহবুব নামের এক বন্ধু তার হাতে তুলে দিলেন ইয়ান ফেমিংয়ের ডক্টর নো বইটি। বইটি হাতে নিয়ে সেদিন তিনি বুঝতে পারলেন রহস্য-রোমাঞ্চ এডভ্যানচার কাহিনীতে বাঙালীরা অনেক পিছিয়ে আছে। ঠিক করলেন বাংলাতে ওই মানের থ্রিলার বই লিখবেন। বিদেশী বই পড়ার পাশাপাশি শুরু হল মোটরসাইকেল ভ্রমণ। তিনি চট্টগ্রাম, কাপ্তাই ও রাঙামাটি মোটরসাইকেলে করে ভ্রমন করলেন। এরপর ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হল বাংলায় প্রথম মৌলিক স্পাই থ্রিলার মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই ধ্বংস পাহাড়। বইটি প্রশংসিত ও সমলোচিত- দুটোই হয়েছে।তবে সিরিজের দ্বিতীয় বই ভারত নাট্যম প্রকাশিত হওয়ার পর সবাই যেন একটু নড়ে চড়ে বসলেন। কারও যেন আর তড় সইছিল না। বই বের হতে একটু দেরি হলেই চিঠির পর চিঠি আসতে লাগলো প্রকাশনীতে। এরপর স্বর্নমৃগ, দুঃসাহসিক, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ছেলেবুড়ো সবাই পড়তে শুরু করে এই রহস্য-রোমাঞ্চকর কাহিনীগুলো। নিয়মিত প্রকাশনা নিশ্চিত করতে তিনি মাসুদ রানা সিরিজে বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে লিখতে শুরু করেন। এক পযার্য়ে সিন্ডিকেট করে বই লেখার কাজটি গড়ে উঠে সেবা প্রকাশনীতে। বিভিন্নজন মাসুদ রানা ও কুয়াশা লিখতে থাকেন। তবে প্রতিটি পান্ডুলিপি প্রেসে যাওয়ার আগে কাজী আনোয়ার হোসেন নিজ হাতে সম্পাদিত করে দেন।
মাঝে ১৯৬৯-৭০ সালের দিকে সাংবাদিক রাহাত খানের অনুপ্রেরণায় রহস্য পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এবং পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে নভেম্বরে। চারটি সংখ্যা বের হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সময় পত্রিকাটির প্রকাশনা স্থগিত রাখা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে পত্রিকাটি প্রকাশ সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর ১৯৮৪ সালে রহস্য পত্রিকা আবার প্রকাশিত হয়। আজ পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।
কাজী আনোয়ার হোসেন এক মেয়ে ও দুই ছেলের বাবা। তার মেয়ে শাহরীন সোনিয়া একজন কন্ঠশিল্পী। বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং ছোট ছেলে মায়মুর হোসেন লেখালেখির এবং সেবা প্রকাশনীর সাথে জড়িত। তিনি শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে ১৯৭৪ সালে বাচসাস, সিনেমা পত্রিকা ও জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরুস্কার পেয়েছেন।
রহস্য-এডভ্যানচার-রোমান্স-থ্রিলার সাহিত্যের অন্যতম একটি স্বতন্ত্র ধারা। আর কাজী আনোয়ার হোসেন বাংলা রহস্য সাহিত্যের একজন প্রবাদ পুরুষ। তিনি এদেশের শিশু-কিশোরদের হাতে রহস্যভিত্তিক কল্পকাহিনীগুলো তুলে দিয়েছেন। আজ তা বাংলাসাহিত্যে জনপ্রিয় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। আর এই ধারাটি জনপ্রিয় করার জন্য সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কাজী আনোয়ার হোসেনের।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কাজীদাকে নিয়ে লেখার জন্য। ভাল থাকবেন। ৫
`হাসান বলেছেন:
এটাতো আগে কোথাই পরেছি
কিন্তু এখন সেই কাজীদা আর তেমন বই আর লেখেন না, নেই আগের মত থ্রিল, নেই কাহিনীর ব্যাপ্তি, মনে হ্য় অনেক ব্যবসায়ীক মানসিকতা চলে এসেছে! আর শুনলাম কাজীদআ নাকি মাসুদরানা সিরিজের গল্পও নিজে লেখেন না, তাই এটা তেমন পড়া হয়না আর!
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
কাজীদার মাসুদ রানা নিয়া কোন মন্তব্য করা যায়না। এর জন্য চাই পুরো একটা পোষ্ট। কত কাহিনী, কত ঘটনা....নস্টালজিক হইয়া গেলাম।
চতুরভূজ বলেছেন:
৫৫এইতো মাত্র চার/পাঁচ বছর আগেও আমি পাঠ্যপুস্তকের ভেতর লুকিয়ে রেখে পড়তাম ঐ বইগুলো আর হারিয়ে যেতাম ওয়েষ্টার্ন জগতে। মাঝে মাঝে ভাবতাম কাউ বয় হ্যাট পড়ে যেন ঘোড়ায় চড়ে দৌড়ে বেরাচ্ছি! কখনও কুয়াশা, কখনও তিন গোয়েন্দা আবার মাসুদ রানা! উহ কিযে ভিষন রকম ভাল লাগত সেসব বই! টিফিনের পয়সা জমিয়ে জমিয়ে কিনতাম ওসব, আবার পড়া হয়ে গেলে অল্প দামে বেঁচেও দিতাম। আমার বই পড়ার অভ্যেস কাজীদার অবদান। তাঁকে শ্রদ্ধা আর আপনাকে ধন্যবাদ আবার আমাকে ঐসব দিনে ফিরিয়ে নেবার জন্য।
প্রিয় পোষ্টে আ্যড করলাম।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
বিগ বস
কানা বাবা বলেছেন:
'রবিনহুড' অনুবাদও করেছিলেন উনি পরবর্তীতে; সেটাও যথেষ্ট টাচি...তাঁর ভাই; কাজী মাহবুব হোসেন; বাংলায় সফল ওয়েস্টার্ণ লেখার ক্ষেত্রে পাইওনিয়ার... মায়মূর এবং শাহনূরও কিছু ওয়েস্টার্ণ লেখার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কাজী মাহবুব হোসেনের লেখার তুলনায় সেগুলো ছিলো যথেষ্ট ম্লান...
স্বর্ণমৃগ নিষিদ্ধ হয়েছিলো... গুংগা নামের একটা স্যাডিস্ট চরিত্র ছিলো তাতে...
আমি 'মাসুদ রানা' সম্পর্কে (সম্ভবতঃ বিচিত্রায় বলেছিলেন, ঠিক মনে নেই) তাঁর একটা কথা অ্যাড করতে চাই... তিনি বলেছিলেন "আমি যা হতে পারিনি, তা-ই হচ্ছে মাসুদ রানা"।
আর জানেন নিশ্চয় ভারতনাট্যম নামকরনটা ভুল করে করা হয়েছে; শুদ্ধ শব্দটা হবার কথা ভরতনাট্যম...
প্রিয় এই লেখককে নিয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য আপনাকে বিশাল একটা ধন্যবাদ সহ ৫...
প্রচেত্য বলেছেন:
ধন্যবাদ
এম সাইদুর রহমান বলেছেন:
কাজী আনোয়ার হোসেন একজন সফল ডিটেকটিভ উপন্যাস লেখক। নতুন প্রজন্মের কাছে হয়তো অনেক কিছুই অজানা। তবে তাঁর লেখা মাসুদ রানা সিরিজ যিনি পড়েন বা পড়েছেন তারা অবশ্যই তাঁকে চিনবেন। যেমনি ছিলেন মরহুমা রোমেনা আফাজ। এদেশের প্রথম মহিলা ডিটেকটিভ উপন্যাসিক। কাজী সাহেব আমাদের অগ্রজ প্রতিম। তাঁর ব্যাপারে লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
আলী বলেছেন:
ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট কাজীদা ইজ বেস্ট
নিশাত বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ। হাসান ঠিকই বলেছেন আমার এ লেখাটি যায়যায়দিনে প্রকাশিত হয়েছিল।
বজলু মহাজন বলেছেন:
হসাইদুর ভাই ঠিক কইছেন। রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুরের কথা ভুইলা গেলে ঠিক হইবনা। আমার বাব চাচগো কাছে তিনিও আছিলেন একজন কাজী আনোয়ার হোসেন।
কানা বাবা বলেছেন:
হ, মহাজন;দস্যু বনহুর, নূরী, মনিরা, রহমান, কায়েস...
পিচ্চিবেলায় পড়তাম আর মনে অইতো চরিত্রগুলানরে জানি চউক্ষের সামনে দেখতাছি...
দস্যু মোহন সিরিজ... দস্যুরানী সিরিজ... আর কুয়াশা তো পড়তামই... মহুয়া নামডার পিরিতে পইড়া গেছিলাম তহন রীতিমতন...
আহ্, আছিলো দিন তহন...
কিরম রঙ্গিলা দিন!
রাকিব বলেছেন:
সরাসরি যায়যায়দিন থেকে পোষ্ট টা কপি করে দিলেন?..আশা করি এর পর থেকে আর এরকম করবেন না।
নীল জোছোনা বলেছেন:
৫
কালো প্রজাপতি বলেছেন:
রাকিব বলেছেন :২০০৭-১২-০৭ ১৩:৫৭:৩১
সরাসরি যায়যায়দিন থেকে পোষ্ট টা কপি করে দিলেন?..আশা করি এর পর থেকে আর এরকম করবেন না।
নিশাত বলেছেন :
২০০৭-১২-০৭ ১২:৫৪:৫৭
সবাইকে ধন্যবাদ। হাসান ঠিকই বলেছেন আমার এ লেখাটি যায়যায়দিনে প্রকাশিত হয়েছিল।
রাকিব সমস্যাটা কোন খানে?
নিশাত বলেছেন:
বিশেষ ধন্যবাদ কালোপ্রজাপতি কে। আশাকরি রাকিব উত্তর পেয়ে গেছেন।
নিশাত বলেছেন:
ভবিষ্যতে কাজীদার একটি সাক্ষাতকার দেয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ নীল জোছোনা কে।
মদনবাবু বলেছেন:
আহা !! পুরানো সেই দিনের কথা.....
রাশেদ বলেছেন:
আহ! সেবার কথা মনে করাইয়া দিলেন।
মানুষ বলেছেন:
প্রিয় পোষ্ট
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ভালো লাগলো... ৫
রাশেদ বলেছেন:
টপ রেটেড হওয়ার মত পোস্ট।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ কাজীদাকে নিয়ে লেখার জন্য।
নিশাত বলেছেন:
ধন্যবাদ মদনবাবু, রাশেদ, মানুষ, বিষাক্ত মানুষ, শামীম।
সোমেশ্বর অলি বলেছেন:
ছেলেবেলার নায়ক...
বিকেলবেলার সপ্ন বলেছেন:
৫
ভাইপার বলেছেন:
আমিও ভুল বুঝেছিলাম। যায়যায়দিন এ লেখাটি পড়েছিলাম। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লেখার জন্য। ৫ দিলাম। আপনার সব লেখাই পড়বো আশা রাখি।
মিরাজ বলেছেন:
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কাজীদাকে নিয়ে লেখার জন্য। কাজীদা আমার কৈশোর আর তারুণ্যকে অন্যরকম করে দিয়েছেন সেবা প্রকাশনীর মাধ্যমে।
বলতে দ্বিধা নেই আমি বিশ্বকে এবং বিশ্ব সাহিত্যকে প্রথম চিনেছি সেবা প্রকাশনীর মাধ্যমে ।
৫
নিশাত বলেছেন:
সেবা প্রকাশনীর কাজী আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে আমরা অনেকেই বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। ধন্যবাদ সোমেশ্বর অলি, বিকেলবেলার সপ্ন, ভাইপার এবং মিরাজ।
কানা বাবা বলেছেন:
এইধরনের পোস্ট ক্যান টপরেটেড হয়না?
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
সাক্ষাতকার শিগগিরি চাই......ভাল থাকবেন।
শরিফ রনি বলেছেন:
গুড পোষ্ট। রেটিং আগে যা দিতাম তা ই দিলাম।
নিশাত বলেছেন:
মাহবুব সুমন, শরিফ রনি, এখনও গল্প লিখি, সামী মিয়াদাদ ধন্যবাদ। কানা বাবা এবং জেবিনকেও ধন্যবাদ। খুব শিগগির সাক্ষাতকার দেয়ার চেষ্টা করবো।
মদনবাবু বলেছেন:
কানা বাবা বলেছেন :২০০৭-১২-০৮ ১১:১৬:৫৪
এইধরনের পোস্ট ক্যান টপরেটেড হয়না?
----------
টপরেটেড হয়ে গেছে । অভিনন্দন নিশাত কে ।
রিজভী বলেছেন:
অসাধারণ ভালো লেখা।৫
কানা বাবা বলেছেন:
অভিনন্দন, নিশাত।
নিশাত বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ।
সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন:
নিশাত আপু,লেখাটা অনেক ভালো লাগলো!যাযাদিতেও পড়েছিলাম,ঠিক?অবশ্য ভুলও হতে পারে!
শরীফ আবদুল্লাহ বলেছেন:
ধন্যবাদ । খুব ভাল লাগল লেখাটি পড়ে। কাজী আনোয়ার হোসেন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
নিশাত বলেছেন:
ধন্যবাদ সাতিয়া মুনতাহা নিশা। যাযাদিতে প্রকাশিত হয়েছিল এবং লেখাটি আমার লেখাই ছিল। শরীফ আবদুল্লাহ কে ধন্যবাদ।
সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন:
হুমম!আপু,আপনার লেখার মতই আপনিও কিন্তু ভীষণ সুন্দর!!!যাযাদি-তে গিয়ে বলেছিলাম....আমার নামও আগে নিশাত ছিল,পরে 'ত' কেটে দিয়ে নিশা করা হয়েছে।
ভালো থাকবেন।
বইপাগল বলেছেন:
৫
রাতুল" বলেছেন:
কাজীদাকে ধন্যবাদ ছোটবেলায় অল্প টাকায় অনেক অসাধারন বই পড়ার সুযোগ করে দেবার জন্য। সেই সাথে ধন্যবাদ আপনাকেও।
দুরন্ত পিথক বলেছেন:
আগে পড়ে মজা পেতাম কিন্তু একটু বড় হয়ে উনার কাট পেস্ট গুলো ধরার পর থেকে মাসুদ রানার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এই যেমন একবার দেখেছিলাম জেমস বন্ড সিরিজের দুইটা বই অর্ধেক অর্ধেক নিয়ে উনি গোটা একটা বই বানিয়ে ফেলেছেন। কোন বই নামটা মনে পড়ছেনা। দু:খিত। তবে এই কাজটাও অনেক বড়। মানে এটা করতেও যথেষ্ট জ্ঞানের দরকার হয়। তবে সেবার অনুবাদ গুলোর জন্য আমি উনার কাছে সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব কেননা এত সহজ ভাষায় গডফাদার,প্যাপিলন.দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কওয়াই,দ্য প্লেগ এর মত বই গুলো অনুবাদ করে প্রকাশ না করলে আমি সেগুলো পড়তে পারতামনা।
ধন্যবাদ কাজীদা।
নিশাত বলেছেন:
সাতিয়া মুনতাহা নিশা আপনার চোখ আর মন সুন্দর তাই হয়তো আমাকে সুন্দর লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে। বইপাগল, রাতুল, দুরন্ত পিথক, ফরিদ কে ধন্যবাদ।
ধ্রুব বলেছেন:
দারুন ৫+
নিশাত বলেছেন:
ধ্রুব ধন্যবাদ আপনাকে।
দ্বিধা বলেছেন:
ভারতনাট্যম, ধ্বংস্পাহাড় এগুলোর কপি হারাই ফেলছিলাম । পরে একটা পিজি ভার্সন বের হইছিল । প্রথমে তো বুঝি নাই, কিনে দেখি পুরা ধরা ।লেখা জটিল হইসে বস ।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
মাসুদ রানা ছিল আমার নায়ক, কাজীদা ছিলেন আমার অর্চা। সেবা প্রকাশনী না থাকলে আজ আমি যে অমিত আহমেদ হয়েছি তা না হয়ে অন্য কোনো অমিত আহমেদ হতাম। অসাধারণ লেখা। পূর্ণ রেটিং, প্রিয় পোস্ট।
নিশাত বলেছেন:
অনেক অনেক ধন্যবাদ দ্বিধা ও অমিত আহমেদ।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
আমাকে দুনিয়া যে চিনিয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম সেবা প্রকাশনী। রহস্য, ওয়েস্টার্ন, রোমান্টিক, কিশোর, হরর, ক্লাসিক, স্পাই থ্রিলার কি নেই সেবাতে।ক্লাস সেভেন থেকেই সেবা প্রকাশনীর সাথে দোস্তি। শেলফ ভর্তি সেবার বই। পরিবারের অগ্রজদের কল্যানে খুব সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাই দুনিয়া ঘোরার বাহন।
আর মাসুদ রানা..., হলপ করে বলতে পারে এমন স্পাই থ্রিলার কেউ কখনও কোনদিন লিখতে পারবেনা একমাত্র কাজীদা ছাড়া।
আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। মানুষকে ধন্যবাদ পোস্টটা তার শোকেসে রাখার জন্য। না হলে এটা হয়তো আমার চোখেই পড়তোনা। এখন থেকে এটা আমার শোকেসেও শোভা পাবে।
আই.কিউ. বলেছেন:
মাসুদ (জামান) রানা আমারও প্রিয় লেখক। আপনার বাকিগুলোও সুন্দর, আরো দেখতে চাই।
রাশেদ বলেছেন:
আর তো লেখা দিলেন না!
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
ঠিকই তো।আর লেখা কই?
রোদ্দূর মিছিল বলেছেন:
বাংলায় রহস্য গল্প, আমার কৈশোর আর কাজী আনোয়ার হোসেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমার জীবনে। এই প্রবাদ পুরুষকে নিয়ে লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। জয় হোক রহস্য গল্পের।
তানভীর চৌধুরী বলেছেন:
সেবা আর আমার কৈশোর মিলে মিশে একাকার। অনেক ধন্যবাদ ব্লগারকে।
বোকা মানুষ বলেছেন:
সেই ক্লাস সিক্স থেকে এখনো ...
চরিত্রহীণ বলেছেন:
5+
বিডিআর বলেছেন:
খুব ভাল লাগল
...অসমাপ্ত বলেছেন:
অনেননননককক ধন্যবাদ। প্রথম প্রেম আর খুব প্রিয় ভালবাসার কথা গোপন রাখাতেই বেশি আনন্দ আমার জন্য। ক্লাস ৫ থেকে সেবার কিশোর সিরিজ... এর পর তিনগোয়েন্দা, রহস্যপএিকা, ওয়েস্টার্ন, মাসুদ রানা, অনুবাদ...
অনেক কেই দেখি বড় হবার পরে সেবার পেপার ব্যাক পড়ত স্বীকার করতে কুন্ঠাবোধ করে...
আমি গর্ব অনুভব করি। ... বিশ্ব বিখ্যাত অনেক লেখার সাথে পরিচয় সেবার মাধ্যমে।
...আর পেছনের মানুষ কাজীদাকে ....
...নিশাতকে ধন্যবাদ। আর শুভকামনা রইল।
পুনশ্চ: ছবিটা উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া। কিন্তু আপনি সম্ভবত ভুলে গেছেন তার উল্লেখ করতে। অনুগ্রহ করে সেটি করুন।


















