এই রম্য কথোপকথনটি ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোর "রস+আলো" তে ছাপা হয়। তাই যারা পড়েছেন তারা দয়া করে পুরান জিনিস, আগেও দেখেছি টাইপ মন্তব্য করে নিরুৎসাহিত করবেন না। অনেক কষ্ট করে সময় নিয়ে লিখেছি। নতুন পাঠকেরা মজা পেলে সার্থক হবে। আপনাদের উৎসাহ কাম্য।
রহীমুদ্দীর ভাইয়ের বেটা
লেখক- জসীমউদদীন
চাচা আর ভাস্তে সন্ধাবেলায় দুইজনে আলাপসালাপ করিতেছে।
ভাস্তে: চাচা আজ বাজারে গিয়াছিলাম।
চাচা: যাবি না! তবে কি বাড়িতে বসিয়া থাকিবি নাকি?
ভাস্তে: একটা কুমড়া লইয়া গিয়াছিলাম।
চাচা: নিবি না? খালি হাতে বাজারে যাবি নাকি?
ভাস্তে: একটা লোক আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্গাসা করিল।
চাচা: দাম জিজ্গাসা করিবে না? তবে কি কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি?
ভাস্তে: আমি আট আনা চাহিলাম।
চাচা: আটানা চাহিবি না? তবে কি মাগনা দিবি অতবড় কুমড়াটা?
ভাস্তে: সে লোকটা দুই আনা বলিল।
চাচা: বলিবে না? অতটুকু কুমড়া তুমি আটআনা চাহিলেই সে নিবে কেন?
ভাস্তে: আমি বলিলাম বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইয়াছ কোনদিন?
চাচা: বেশ বলিয়াছিস। এত বড় কুমড়াটা বেটা দুই আনা মাত্র দর করিল!
ভাস্তে: এমন সময় এক পুলিশ আসিল।
চাচা: আসিবে না? তুমি ভদ্রলোকের ছেলেকে বলিয়াছ, বাপের পুষ্যি কোনদিন কুমড়া খাইয়াছ? দেখ না কি হ্য়!
ভাস্তে: পুলিশ আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্গাসা করিল।
চাচা: দাম জিজ্গাসা করিবে না? পুলিশ বলিয়া কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি?
ভাস্তে: আমি কুমড়ার দাম আটআনা চাহিলাম!
চাচা: বেশ! বেশ! আমার ভাস্তে! দাম চাহিবি না! পুলিশ দেখিয়া ডরাইবি না কি?
ভাস্তে: পুলিশ দুই আনা দাম করিল।
চাচা: করিবে না? পুলিশ দেখিয়া তাহারা জিনিসের দামদস্তর জানে না? অতটুকু কুমড়া তার দাম দুই আনার বেশি আর কত হইবে?
ভাস্তে: আমি বলিলাম বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইয়াছ কোনদিন?
চাচা: বেশ বলিয়াছিস! পুলিশ বলিয়া ডরাইবি কেন? বেটা আট আনার কুমড়াটা দুই আনায় লইতে চায়!
ভাস্তে: তখন পুলিশ আমাকে ধরিয়া খুব মার দিল।
চাচা: দেবে না? যত বড় মুখ নয় ততবড় কথা? পুলিশের সন্গে বাহাদুরি!
ভাস্তে: মারিতে মারিতে আমাকে থানায় লইয়া গেল।
চাচা: থানায় লইয়া যাইবে না? পুলিশকে তুমি অপমান করিয়াছ।
ভাস্তে: সেখানে গেলে বড় দারোগা আসিল।
চাচা: আসিবে না? দেখ তোমার ওপর আরও কি দুর্গতি হয়।
ভাস্তে: বড় দারোগা আসিয়া আমাকে ছাড়িয়া দিল।
চাচা: দিবে না? তুমি যে রহীমুদ্দীর ভাইয়ের বেটা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

