Click This Link খবরটা খুবই চমৎকার। সেই সাথে উদ্বেগজনকও। মন্ত্রী নিজে চার কার্টন 'টাকিলা' নামের এক ধরনের মদ নিয়ে নামলেন।
উনি অবশ্য চালাক মানুষ। এই সব 'চালান' আনার জন্য বেছে নিয়েছেন শুক্রবার-কে। আর নেমেছেন আরো পূণ্যবান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। দুই দিক দিয়েই পূণ্যের অভাব নাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপ্নের চোখে কি এই সব পড়ে না? নাকি আপ্নেও 'টাকিলা' পাইবেন এই আশায় বইসা আছেন?
যদি উপরের লিঙ্কে যেয়ে না পড়তে চান, তাইলে নীচেই পড়তে পারেন খবরটা।
-------------------------------------------------------------------------------
গত শুক্রবারের শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সকাল সাড়ে আটটা। দুবাই থেকে নামলো এমিরেটসের একটি ফ্লাইট। দেশে ফিরলেন সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রী। ইমিগ্রেশনের সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ হলো। এবার শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পালা। মন্ত্রীর ব্যাগেজ এলো। কী আশ্চর্য! শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা চার কার্টনভর্তি কিছু মালামাল আটকে দিলেন।
কী ব্যাপার? মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তার চোখে-মুখে ক্রোধের আগুন। কার ল্যাগেজ? আর এতে মদ জাতীয় দ্রব্য টাকিলার বোতলইবা কেন? মগের মুল্লুক নাকি? শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা উচ্চস্বরে বলতে শুরু করেছেন আরও অনেক কিছু। তাদের থামালেন এক কর্মকর্তা। বললেন, চুপ থাকেন। 'টাকিলা'র মালিক একজন মন্ত্রী। কোনো কথা বলবেন না। দ্রুত ছাড়েন। হকচকিয়ে গেলেন শুল্ক কর্মকর্তারা। এদিক-ওদিক একবার তাকালেন। এরপর ছেড়ে দিলেন টাকিলাভর্তি কার্টনগুলো। মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দরে ছড়িয়ে গেল পুরো ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, একাধিকবার সংসদ সদস্য হওয়া ওই মন্ত্রী ঢাকায় ঘনিষ্ঠজনদের উপহার দেওয়ার জন্যই না-কি কয়েক কার্টন টাকিলা নিয়ে এনেছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক বলে পরিচিত ওই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরা জানান, এর মধ্যে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে উপহার হিসেবে টাকিলা পাঠানোও হয়েছে।
মন্ত্রীর হওয়ার পর থেকে বারবার বিদেশ ভ্রমণ করে ইতিমধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছেন ওই মন্ত্রী। ঢাকার অভিজাত একটি ক্লাবের সদস্য হিসেবে এমনিতেই সমাজের বিভিন্ন মহলে তার পরিচিতি রয়েছে। আলোচনা আছে সচিবালয়ে অফিস করার চেয়ে ক্লাবে সময় কাটানোই পছন্দ ওই মন্ত্রীর। এমনকি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সচিবালয়ের পরিবর্তে অভিজাত ক্লাবে বৈঠক করতেও না-কি পছন্দ করেন ওই মন্ত্রী। এ নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেও নানা আলোচনা আছে।
তবে আলোচিত ওই মন্ত্রী আবার এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন। সম্প্রতি দম্ভ করে তিনি তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, সাংবাদিকরা তার কিছুই করতে পারবে না। তিনি তার স্টাইলেই চলবেন। বিস্ময়কর হলো, এই মন্ত্রী এমনই এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সরকারের ভিশন-২১ বাস্তবায়নে যে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



