:
ইদানিং কালে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখ থেকে শোনা যাচ্ছে যে সরকারের মন্ত্রীরা কাজ করে ফল দেখাতে পারেন নাই। তাই তাদের ভেতর থেকে কাউকে কাউকে সরিয়ে দেওয়া হোক। এতে করে হয়তো আর তিন বছর পরে যে নির্বাচন আছে, তার আগে সরকারী দল হিসাবে তারা অনেক খানি ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। রেফারেন্স দিলাম না, কেননা অনেক পেপারেই খবরগুলো বেরিয়েছিল।
আমরা একটু খতিয়ে দেখতে চাই, কোন কোন ব্যর্থ মন্ত্রীর উপরে আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। প্রথমেই নাম চলে আসে যোগাযোগ মন্ত্রী আর বাণিজ্য মন্ত্রীর। এর পরে আসা উচিৎ অর্থমন্ত্রীর আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম। এর পরে সিরিয়ালি আসবে পানি সম্পদ মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রী, এবং সবশেষে সংবিধান কেলেংকারীর জন্য আইন মন্ত্রীর নাম। হাফ মন্ত্রীদের নাম নিলাম না এইখানে।
এখন শেখ হাসিনা যদি মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনতে চান, তা হলে এই মন্ত্রীদের সরাতে হবে, নতুন মুখ আনতে হবে। এর মানে জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে শেখ হাসিনার ‘চমক’-দেওয়া মন্ত্রীসভা পুরোপুরিই চমকে দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে, আর এর মানে দাড়াচ্ছে সেই মন্ত্রীসভার সদস্যদের নির্বাচনে শেখ হাসিনা নিজেও ভুল করেছিলেন।
এতে করে সরকারের উপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে যাবে। আর ঠিক এই সুযোগটাই বিএনপি নিতে পারে। তারা ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ দাবী করে বসবে।
আর নতুন যে সব মন্ত্রী আসবেন, [যদি তেমন কিছু ঘটেও] তাঁরা রাতারাতি তো আর কাজ দেখাতে পারবেন না। ফলটা হবে আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত মন্দ।
তারা যেন ভোটের আগেই অনেকটা হেরে বসে থাকেব!
এরপরে আছে প্রধান উপদেষ্টার পদ। আওয়ামী লীগ বিচারপতি খায়রুল হককে এই পদে দেখতে চাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি তাদের ক্ষতটা যদি না ভুলে থাকে, তা হলে বিচারপতি হাসানের কাতারে ফেলে এই বিচারপতিকেও ‘বিব্রত’ করিয়ে ছাড়া হবে।
এইটি হবে আওয়ামী লীগের আরেকটি পরাজয়।
এখন দেখা যাচ্ছে দুইটি সম্ভাবনার কথাঃ (এক) মন্ত্রীসভায় পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্র উম্মোচিত হওয়া, এবং (খ) প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহন থেকে বিচারপতি খায়রুল হকের ‘বিব্রত’ হওয়া। তা হলে কিন্তু ২০০৬ সালের শেষের দিককার পরিস্থিতি আবারো ফিরে আসতে পারে।
আওয়ামী লীগ জানে মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন মানেই সরকারের মেয়াদ আগেভাগেই কমিয়ে আনা। কিন্তু সফল সরকারের জন্য মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন করাটাও দরকার হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দলীয় উৎসাহীদের ঠেলায় খায়রুল হক হয়ে গেছেন বিতর্কিত।
মোটা দাগে এ কথা বলা যায়, নির্বাচনের তিন বছর আগেই আওয়ামী লীগ নিজেদের কবর খোঁড়া শুরু করেছে – এবং সাফল্যজনকভাবেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



