(কাহীনি-১)
রাত ২.৩০
ুত্তালীগঃঐ হারামজাদারা দরজা খোল।
রফিকঃ কে??
ুত্তালীগঃ তোর বাপ, শালা তারাতারি দরজা খোল
ঃ ও বাপ্পি ভাই? খুলতাছি
(লুঙ্গি টানতে টানতে দরজা খুলে দিল)
(দরজা খোলার সাথে সাথেই বাপ্পি ঐ আধা ঘুমন্ত ছাত্রটার মুখের উপর বসিয়ে দিল দুই চড়)
বাপ্পি (ুত্তালীগ)ঃ ঐ, তুই মিছিলে যাস নাই ক্যান? (সেদিন হলে হরতাল বিরোধী মিছিল হচ্ছিল)??
ঃ ভাই আমার গায়ে জ্বর আসছে তো তাই।
ঃ জ্বরের গুষ্টি মারি, জ্বর জ্বর করবি, হলের বাইরে গিয়া কর, তোরে সকালে উঠে যেন আর এই হলে না দেখি।
(কাহীনি-২)
রাত ৩ টা
ঃ এই দেখতো এই রুমে কোন কোন বাইনাোদ থাকে??
ঃ ভাই এখানে রবিন, অনিক, রফিক আর শ্যামল থাকে।
ঃফকিন্নির পো গো ডাকতো,
(ঘুম থেকে ডেকে উঠানোর পর)
ঃকিরে তোরা মিছিলে যাস নাই ক্যান??
ঃভাই, আমাদের কালকে ফাইনাল পরীক্ষা তো তাই একটু পড়াশোনা করতেছিলাম।
ঃ পড়াশোনা করবি তো হলের বাইরে গিয়া কর। হলে থাকতে হইলে রাজনীতি করতে হইবো। কাল সকালে তোগো যাতে এই হলে না দেখি।
(কাহীনি-৩)
হলের গেস্ট রুমে কয়েক ছাত্রলীগ নেতা বসে আছে।
ঃ এই, রুমমরে ফোন দিয়া একটু এখানে আইতে ক তো।
(রুপম, কই তুই একটু গেস্ট রুমে আয়)
(রুমর ঘুমাচ্ছিল, চোখ মুছতে মুছতে গেস্ট রুমে আসল)
ঃকিরে কুত্তার বাচ্চা তোর আসতে এত সময় লাগে?? তোর বাপরা যে এখানে বসে আছে?? পছন্দ হয়না?? আর লূঙ্গি পইড়া আইছস ক্যান?? শালার লুঙ্গি খুইলা ফালামু। যা এক মিনিটের মধ্যে প্যান্ট পইড়া আসবি। মিছিলে যাইতে হইবো এখন।
(কাহীনি-৪)
ঃ কিরে জসিম, মিছিলে যাস নাই ক্যান?
ঃ ভাই আমার কালকে একটা ্অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে তাই ঐটা প্রস্তুত করতেছিলাম।
ঃ শুনলাম তুই নাকি গোপনে গোপনে শিবির করস?? তুই তো জাবিতে থাকার অযোগ্য, তুই দুই ঘন্টার মধ্যে এই রাতেই হল ছাইড়া দিবি। তোরে যেন ঘুম থেকে উইঠ্যা হলে না দেখি। (উল্লেখ্য যে জাবিতে শিবির নামে কাউকে মারলে তাকে কেউ বাচাতে আসেনা কারণ প্রশাসন কর্তৃক এইখানে শিবির নিষিদ্ধ)
এমন জানা অজানা হাজারো কাহিনী প্রতি মুহুর্তে ঘটে যাচ্ছে।
আজ জাহাঙ্গীরনগরের হলগুলোতে এভাবেই হাজারো রবিন, শ্যমল, অনিক, জসিম কুত্তালীগের অমানবিক নির্যাতনের শিকার। সাধারণ ছাত্র হিসেবেও নাকি হলে অবস্থান করা যাবেনা এইখানে। হলে থাকলেই কুত্তালীগের রাজনীতি করতে হবে সবাইকে, তা না হলে হলের বাহির। আর সিট বন্টন নিয়ে তো প্রতিদিন রাত তিনটা চারটা পর্যন্ত চলে কুত্তাদের মহড়া, আজ ও কে এ রুমে, এ কে ও রুমে, মনে হয় কুত্তাদের এইটা ছাড়া আর কোন কাম নাই। জাবির সাধারণ ছাত্ররা কুত্তালীগের এই ধরনের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এক ছাত্র কান্না জড়িত কন্ঠে বলতেছিল “ভাই বড় ভাইয়েরা যা শুরু করছে, আমি আর এইখানে পড়বোনা”।
অথচ বাকশালী প্রশাসন এইখানে নির্বাক।
আজ পোলাপান কি বিশ্বাবিদ্যালয়ে
ওদের বাপ ডাকতে আসছে??..............ওদের শালা ডাক শুনতে আসছে?? ওদের বাইনাোদ হারামজাদা মার্কা গালি শুনতে আসছে??................. ওদের মিছিল করতে আসছে??................... ওদের রাজনীতি করতে আসছে???
নাকি পড়াশোনা করতে আসছে???
প্রশ্ন জাতির কাছে. . . . .
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


