somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুব কাছের একজন মানুষকে আজ আমি খুন করতে যাচ্ছি.....

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নামটি কি বলবো? থাক নামটা জেনে লাভ নেই। আমি আমার ৩জন খুব কাছের বন্ধুর সাথে বসে আছি। আমরা চারজন টিএসসির মাঠে বসে গল্প করছি। কি সুখেই না ওরা একে অপরের সাথে গল্প করছে!! ওরা কি ভুলেও টের পেয়েছে আমি আজ এই ৩জনের মাঝে একজনকে খুন করবো।
কি!! চমকে উঠলেন!!!
চমকে যাবারই কথা। আমি নিজেও অবাক হয়ে আছি আমার সিদ্ধান্তে। জানতে চান কাকে খুন করবো বা কেন খুন করবো??? এখন এই কথাটি শুনে আরও অবাক হয়ে যাবেন। আমিও নিজেও ভুলে গেছি আজ কাকে এবং কি কারণে খুন করতে যাচ্ছি?? অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে গতকাল রাতে আমি সব কারণ ভেবে চিন্তেই ঠিক করে রেখেছিলাম কাকে খুন করছি। অথচ এখন কেন মনে পড়ছে না????
হাসান,মারূফ ও নাফিজ.....আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই তো আমার সামনে বসে আছে ওরা। এখন ‘কে সেরা অভিনেতা’ এই বিষয় নিয়ে তুমুল তর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা ওরা কি বলতে পারবে আমার ব্যাগে একটি গুলিভরা পিস্তল আছে?? না মনে হয় না এটা ওদের কল্পনাতেই আছে।
“দোস্ত আমাকে যেতে হবে। একটা কাজ আছে.....বিদায় দে।”, বলে আমি আর অপেক্ষা করলাম না। উঠে দাড়ালাম।
হাসান বললো, ‘থাক না রে। একসাথেই যাই।’
‘না রে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। যেতে হবে।’
‘আচ্ছা যা তাহলে। আমরা একটু পড়েই উঠবো।’, মারূফ ও নাফিজও যেন সায় দিলো।
ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি হাটতে লাগলাম।
আচ্ছা আমি কি মারূফকে খুন করার কথা ভাবছি?? নাহ.....মারূফ তো আমার সেই ছোটবেলার বন্ধু। তাহলে কি হাসান??? আরে ধূর.......হাসান হবে কেন??? ওর জন্য তো আমি জীবন দিতে পারবো। আর নাফিজ?? ওতো আমার আপন ভাইয়ের থেকেও বেশী।
একি বিপদে পড়লাম!!! হাসান না মারূফ না নাফিজ....তাহলে কে??? এদের মাঝেই তো একজন। না মানুষটিকে মনে পড়ছে না কারণটি মনে পড়ছে। কি হলো আমার??
হাটতে হাটতে রমনা পার্কের ভিতরে নির্জন জায়গায় চলে আসলাম। চারিদিকে অন্ধকার। কেউ নেই আশেপাশে। ব্যাগ থেকে পিস্তলটি বের করলাম। কি ঠান্ডা!!! কিছুক্ষণ পড়েই এটি একজনের জীবন কেড়ে নিবে। ভাবা যায়???
হাসানের বাসার সামনে দাড়িয়ে আছি। হাসান দরজা খুলে দিলো।
‘কিরে দোস্ত!! এত রাতে!! কি মনে করে। ভিতরে আয়।’
ভিতরে ওর রূমে গিয়ে বসলাম। হাসান ওর পিসিতে কাজ করছে। আমি ওর পিছনে বিছানায় বসে আছি। কি হাসিখুশি আছে ছেলেটা। জানে না কি ঘটতে যাচ্ছে আজকে। ব্যাগ থেকে আস্তে আস্তে বন্দুকটি বের করলাম। এখনো দেখি ঠান্ডা!!!! উঠে দাড়ালাম। আস্তে আস্তে হাসানের দিকে এগিয়ে আসলাম।
হঠাৎ করে কি জানি হলো!!
কে যেন মনের মাঝে চিৎকার করে বললো ‘এই কি করছিস!! হাসান সারাজীবন তোর ভালো চেয়ে এসেছে। একে মারবি কেনো?’
সাথে সাথে পিস্তলটি ব্যাগে রেখে দিলাম। না হাসানকে খুন করার প্রশ্নই আসে না। আমি কি করে ওকে খুন করতে পারি??? ও তো আমার ভাইয়ের মতো।
কিন্তু মনেই যে পড়ছে না কাকে খুন করবার কথা। তাহলে কি মারূফ নাকি??? মনে হয় তাহলে মারূফই। যাক কাজটি করে আসা যাক। মারূফকে মারতে আমার বেশি ঝামেলা হবে না। ও একা থাকে। আর ওর বাসার একটি ডুপ্লিকেট চাবিও ও আমাকে দিয়ে রেখেছে।
আমার সামনে মারূফ ঘুমিয়ে আছে। আমি পিস্তল হাতে ওরদিকে তাক একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। কি নিষ্পাপ ভাবেই না ঘুমাচ্ছে ছেলেটা!! নিজের এত ভালো বন্ধু যে তাকে এখন মেরে ভুলেও সে জানতো না।।
আমি মুখ দিয়ে কোন শব্দ করলাম না। একটু হাসি এসে গেলো মুখে। পিস্তলটির ট্রিগার টানতে যাচ্ছি আমি।
হঠাৎ করে সব মনে পড়ে গেলো!!! আমার খুন করার কথা নাফিজকে। কি বড় ভুলটাই না আমি করতে বসেছিলাম আজ। নিজের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নাকি আমি মেরে ফেলতে গেলাম!!!!
ঘুমন্ত মারূফকে আর না জাগিয়ে আমি বের হয়ে নাফিজের বাসায় রওনা দিলাম। নাফিজ ছোটবেলা থেকেই আমার সাথে আছে। কিন্তু আমার সব ভালো কাজে সবসময় আমাকে বাধা দিয়ে আসছে ও। ওর জন্য আমি কোনকাজেই সফল হয় নি। যে মেয়েটিকে খুব ভালোবাসতাম সেই মেয়েটিকেও ও কেড়ে নিলো!!! তারপরও কিছু বলিনি। কিন্তু ওর সাহস কত বড়!!! মেয়েটিকে সে কিভাবে এত দু:খ দিতে পারলো???? অবশ্যই সে ভয়ানক কষ্ট দিয়েছিলো। নইলে মেয়েটি এভাবে মারা যাবে কেন??
রাগে ক্ষোভে মনটা বিকৃত হয়ে গেলো। আজ ওকে আমি মেরেই ফেলবো। এর কোন ক্ষমা নেই।
আমার সামনে নাফিজ দাড়িয়ে আছে। কি নির্লিপ্ত দৃষ্টি ওর। যেন ভয়ই পাচ্ছে না। আমি আস্তে আস্তে পিস্তলটি ওর দিকে তাক করলাম। এইতো ওকে ঘামতে দেখলাম। চোখে মনে হয় একটু পানিও দেখতে পাচ্ছি। মুখে আমার খুশিতে বিকট হাসি চলে আসলো। আমি পিস্তলটি ওর মাথায় রেখে গুলি করে দিলাম। তারপর............।

পরদিন সকাল বেলা নাফিজের লাশ পাওয়া গেল ওর বাসায়। বড় একটি আয়নার সামনে মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে আছে। আয়নার দিকে তাকালে লাশটি অদ্ভূত লাগে। মুখে কেমন জানি নিষ্ঠুর হাসি। নাফিজের হাতেই পিস্তলটি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ও আত্মহত্যা করেছে। হাসান ও মারূফ লাশের সামনে বসে কাদছে। ‘উপমা’ মারা যাবার পর নাফিজ সবসময় নিজেকে দোষ দিয়ে আসছিলো। সেদিন নাফিজ ও উপমা ঝগড়া করেছিলো ঠিকই এবং কাদতে কাদতে রাগ করে উপমা চলে গেল। কিন্তু রাস্তা পার হতে গিয়ে দূর্ঘটনায় উপমা মারা যায়। তারপর থেকেই নাফিজের এমন মানসিক ভারসাম্যবিহীন আচরণ। তার ধারণা উপমাকে সেই মেরে ফেলেছে। কেন ওরা এই পাগল বন্ধুটিকে আরেকটু বোঝালো না?? হাসানের বাসায় কালকে রাতে নাফিজ যখন গেল তখন কেন সে কিছু বুঝতে পারলো না???
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৮
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×