হাতে আজকে আর একটুও সময় নেই। এখনই বের না হলে পড়ে সমস্যা। আজকের দিনটি ওর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কাজ করতে হবে আজকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি সেটি হলো অবশেষে আজ সে উপমাকে তার মনের কথা বলতে যাচ্ছে। বুক এখনো ঢিপ ঢিপ করে উঠলো এই কথাটা মনে পড়তেই। যদি না করে দেয় মেয়েটি ?? তাহলে তো সব শেষ। ৩বছর ধরে মেয়েটির জন্য ও পাগল হয়ে আছে। গতকালও ওর সাথে অনেকক্ষণ গল্প করলো। অর্কর যা ধারণা উপমা ওকে নিজেও পছন্দ করে। সে আর দেরী করতে চাইছে না।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে অর্ক উপমাকে ফোন করবে নাকি ভাবলো!! একি অবস্হা ওর!!! গলা শুকিয়ে, বুক এমনভাবে ধড়ফড় করছে কেনো??? ফোন করার আগেই যদি এই অবস্হা হয় তাহলে সামনা সামনি কি করে বলবে???
ভাইয়া। আজকে আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিবে। আম্মু যেতে পারবে না।, অর্কর সবচেয়ে ছোটবোন রাইসা বললো।
আরে না। আজকে আমি পারবো না। কাজ আছে। আম্মা তুমি নিয়ে যাও আজকে। প্লীজ।, অর্ক প্রায় মিনতি করে বললো।
তোমার কাজ তো একটাই!! কার সাথে দেখা করবে জানি না!!! পরের ঘরের মেয়ের জন্য নিজের বোনকে সময় দিতে পারো না।
অর্ক কটমট করে রাইসা দিকে তাকিয়ে রইলো।
রাইসা চালাক মেয়ে। কিছুই যেন হয়নি এমনভাবে নাস্তা খেতে লাগলো।
ওদের আম্মা একটু মুচকি হাসি দিলেন। ছেলে যে উপমা নামের একটি মেয়েকে খুব পছন্দ এই খবর কিন্তু মা জানেন।
এই শোন। মেয়েটিকে কখনো বাসায় আনলি না। একবার নিয়ে আসিস তো। একটু পরিচয় হলো।
আমি গেলাম অফিসে।, অর্ক সাথে সাথে দাড়িয়ে রওনা দিয়ে দিলো। বেচারা আজ খুব লজ্জা পেয়ে গেছে।
অফিসে অর্ক উদাস হয়ে বসে আছে। কোন কাজ ভালো লাগছে না। মনের পুরোটা জুড়ে আছে আজকের দুপুর। আচ্ছা উপমা যদি রাজি হয়ে যায়??? তখন ওর কি অবস্হা হবে??? খুশিতে আবার পাগল হয়ে যাবে নাতো?? এইসব ভাবতে ভাবতেই টেবিলের লকারটি খুলে উপমার জন্য কিনা আংটিটি বের করলো অর্ক।
এই যে অর্ক সাহেব!! কি খবর আপনার!! আরে!!! এই আংটি আবার কার জন্য???
যাহ.....অর্কর কলিগ আনন্দ আংটিটা দেখেই ফেললো!!!
না না.....কিছু না এটা।
আরে মিয়া নাটক রাখেন। এটা কি আমাদের সেই বিখ্যাত উপমা ম্যাডামের জন্য নাকি?? ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবেন নাকি আজকে??
আর লুকিয়ে লাভ নেই। অনেকটুকুই জানে আনন্দ।
ভাই কাউকে বলবেন না এখনো। আজকে উপমাকে প্রপোজ করতে যাচ্ছি। একটু দোয়া করবেন রে ভাই।
আরে বস!!! সাবাস!!!! করে ফেলেন। আপনাকে কেউ কখনো না করতেই পারবে না। কাহিনী কখন ঘটবে????
এই তো আনন্দ ভাই...এখন বাজে ১২.৩০টা। ২টা বাজে বনানীতে দেখা করার কথা। কিন্তু স্যারের কাছে কি বলে যে ছুটি নিবো!!!! বুঝতে পারছি না।
আরে স্যারের কাছে সত্যি কথাটাই বলে ফেলুন। স্যার না করবেন না। উনি কিন্তু আপনাকে এমনেই পছন্দ করেন। আর শোনেন আজ সব ঠিক থাকলে কালকে বিশাল বড় পার্টি দিতে হবে। ভাবী সাহেবের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিবেন।
কি??? হঠাৎ ছুটি কি জন্য???, আজব! বস এর গলা সবসময় এমন গম্ভীর থাকে কেন??
বসের সামনে অর্ক বসে আছে। শুধু আজকে এখন ছুটি লাগবে এই কথাটি শুধু মুখ দিয়ে বের হয়েছে। আর কথা বলতে পারছে না।
স্যার মানে....আজকে একজনের সাথে একটু দেখা করতে হবে।
প্রেমঘটিত কোন ব্যাপার হলে যাবার দরকার নেই। অন্য কোন কাজ থাকলে যেতে পারেন। হুমমম দাড়ান......আচ্ছা ঠিক আছে। চলে যান আজকে।, বস বললেন।
অনেক অবাক হয়েই অর্ক অফিস থেকে বেড়িয়ে পড়লো। বস লোকটিকে যত খারাপ মনে করেছিলো আসলে উনি এত খারাপও না। কোনকিছু না জিজ্ঞাসা করেই এভাবে ছুটি দিয়ে দিবেন ভাবতেই পারেনি অর্ক।
গুলশান থেকে বনানীর দিকে যাওয়ার জন্য একটি রিকশা নিয়ে নিলো। মনটা আজ খুব ভালো। সব কিছু আজ ভালোমতোই হচ্ছে। ওর মন বলছে শেষটা আরো ভালো হবে।
এই সময় সিগন্যালে পড়ার পর ১০/১২বছরের এক পিচ্চি মেয়ে ১৫/২০ গোলাপ নিয়ে ওর সামনে পড়ে গেলো।
স্যার....গোলাপ ফুল নিবেন নি স্যার???
এই যা!!! আংটি মনে থাকলেও ফুলের কথা মনেই নেই।
অর্ক একেবারে সবগুলো ফুল কিনে নিয়ে মেয়েটির হাতে একটি ৫০০টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে রিকশাকে সামনে এগুতে বললো। কিছুদূর যাবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে মেয়েটি এখনো মুখ হা করে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। অর্ক হাত নেড়ে মেয়েটিকে বিদায় জানালো।
বনানীতে এসে থামলো রিকশা। ভাড়া মিটিয়ে অর্ক কিছুক্ষণ দাড়িয়ে রইলো। ঘামতে শুরু করলো সে। বুক বিশাল শব্দ করে ঢিপঢিপ করছে। একি ঝামেলা????
পকেটে আংটি আর হাতে ফুল নিয়ে অর্ক ভিতরে ঢুকে গেলো।
ও যে!!!! উপমাকে দেখা যাচ্ছে!!!!!!! উফ!! কি সুন্দরই না লাগছে আজ ওকে। হঠাৎ করে সব ভয় দূর হয়ে গেলো। অর্ক উপমার সামনে এগিয়ে আসলো।
উপমাকে ফুল দিয়ে অর্ক উপমাকে প্রপোজ করার জন্য হাটুগেড়ে বসে পড়লো।
পিচ্চি সেই মেয়েটি তার বাবাকে নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে গেটের সামনে এসে দাড়ালো। মেয়েটির বাবা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না কেউ এই কয়েকটি গোলাপের জন্য এত টাকা দিতে পারে। তাই মেয়েকে সাথে নিয়ে রিকশার পেছনে দৌড়িয়ে এসেছে লোকটিকে দেখার জন্য।
ঐ যে আব্বা!! ঐ স্যারে দিছেন ট্যাকা।, মেয়েটি চেচিয়ে বললো।
লোকটা পাগল নাকি। এই ভরদুপুরে এখানে করছেটা কি???? আবার বিড় বিড় করে কথাও বলছে?????
জায়গাটি হলো "বনানী কবরস্হান”"। অর্ক একটি কবরের সামনে হাটুগেড়ে বসে আছে। কিন্তু কারো কোন কথা অর্কর কানে আসছে না। সে এখন খুব টেনশনে আছে। উপমাকে আজ মনের কথা বলতে যাচ্ছে।কি হবে কে জানে????????
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


