প্রাপ্তবয়স্ক Maurice
এই ঘটনাটা হলো ১৯৮৫ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস এর। লোকটার নাম হলো Maurice Theriault। স্ত্রী ন্যান্সিকে নিয়ে ছিলো তার সংসার। তাদের দাবি প্রায় ৪০বছর ধরে নাকি একটি পিশাচ Maurice Theriault এর উপর ভর করে আছে। জীবন অতিষ্ট করে তুলেছে তাদের। সেই পিশাচের কিছু কান্ড শুনুন.......
১। মাঝে মাঝে Maurice Theriault এর পিঠে প্রচন্ড মারের রক্তাক্ত দাগ দেখা যেতে থাকে। সেই দাগ থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ হঠাৎ প্রচন্ড খিচুনি দিয়ে মরিস চিৎকার করতে থাকে। তখন দাগগুলো আরো ফুলে উঠে। অনেক মানুষ দেখেছে এই কান্ড।
২। কথাবার্তা ছাড়াই অনেক সময় Maurice রক্তবমি শুরু করতে থাকে। ডাক্তারের কাছে নিয়েও কোন প্রতিকার হয়নি।
৩। সবচেয়ে বেশী যেটা হতো সেটা হলো Maurice তার বাবার কবরের সামনে প্রার্থনা করতে গেলে কে যেন তার মুখে প্রচন্ড চপেটাঘাত করতে থাকতো।
যাইহোক এই পর্যায়ে এসে Maurice এর স্ত্রী বিখ্যাত সাইকিক Warren কে অনুরোধ করেন তাকে সাহায্য করার জন্য। Maurice কে সুস্হ জীবনে ফিরিয়ে দেবার জন্য। সবশুনে Warren বিখ্যাত ফাদার Homer এবং Bishop Timothy কে অনুরোধ করেন Maurice কে সাহায্য করার জন্য।
অবশেষে ১৯৮৫ সালের ৯ই এপ্রিল শহরের সেন্ট পলও ক্যাথলিক গির্জায় ফাদার এবং অন্যান্যরা মিলে Maurice এর উপর আশ্রয় নেয়া পিশাচটিকে তাড়ানোর জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। শহরের অনেক মানুষ সেদিন গির্জায় উপস্হিত ছিলেন এবং পুরো ২ ঘন্টার সেই ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়।
বাকিটুকু শুনুন সেখানে উপস্হিত Warren এর মুখ থেকে........
মাঝখানে Maurice কে বসানো হলো। তার চারপাশে আরো কয়েকজন ফাদার এবং আমি তাকে ঘিরে রাখি। ফাদার Homer যখন Maurice এর সামনে এসে দাড়ালেন তখন তার চেহারা ভয়ংকর বিভৎস হয়ে দাড়ায়। সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় তার মুখ। যেন প্রচন্ড বিস্ময়ে সে হতবাক হয়ে গেছে।
আমরা ভয় পাচ্ছিলাম কোন ভয়ংকর কান্ড না মরিস শুরু করে দেয়!! কারণ অনেক মানুষ সেখানে উপস্হিত ছিলো। কিন্তু আশ্চর্য রকমের শান্ত ছিলো তার আচরণ।
পিশাচ তাড়ানোর সময়ের একটি ছবি
শুধু চেহারাটাই বারবার ভয়ংকর হয়ে উঠছিলো তার।
তারপর ফাদার Homer তার সামনে এসে দাড়ালেন। তখন Maurice তার পাশে থাকা দুজন পুরোহিতদের দিকে হিংস্র চোখে তাকাতে লাগলো।
ফাদার Homer তখন গমগম কন্ঠে হাতে ক্রুশ নিয়ে Maurice কে হুকুম করলেন, ‘
"শয়তান পিশাচ!! তুই যত শক্তিশালী হয়েই থাকিস না কেন তোকে Maurice এর শরীর থেকে চলে যেতে হবে।”"
Maurice তখন হাসতে লাগলো শব্দ করে। হাসতে হাসতে বললো,
"কখনোই না। আমি যাবো না।"
তখন Maurice এর চোখ হঠাৎ করে সম্পূর্ণ সাদা হয়ে গেলো। ফাদার Homer তার সামনে এসে দাড়িয়ে বিড়বিড় করে কি যেন পড়তে লাগলেন। আর Maurice চিৎকার করে উঠতে লাগলো।
পুরোহিতদের মাঝে বসে আছে পিশাচ ভর করা Maurice
এমনিভাবে অনেকক্ষণ ফাদারের বিড়বিড় করে বলা এবং Maurice বিভৎস চিৎকার চলতে লাগলো। তারপর হঠাৎ করেই Maurice এর চিৎকার বন্ধ হয়ে গেলো। একদম চুপ হয়ে গেলো সবাই। Maurice তখন কাদতে লাগলো। কিন্তু সবচেয়ে অবাক লাগলো দেখে যে Maurice এর চোখ দিয়ে পানির বদলে অশ্রু হয়ে রক্ত পড়ছে। পুরোহিতরা তার চোখ মুছে দিতে লাগলো।
বেশ কিছুক্ষণ এভাবেই চললো। তারপর Maurice উঠে দাড়ালো এবং সামনে এগিয়ে গিয়ে মুখে হাসি দিয়ে তার প্রিয় স্ত্রী Nancy কে জড়িয়ে ধরলো। দুজনের চোখ দিয়েই তখন পানি পড়ছে।
তারপর Maurice ফাদারের হাত জড়িয়ে তাকে অনেক ধন্যবাদ দিলো এবং এই যন্ত্রনা থেকে মুক্ত করবার জন্য আবারো নিজের কৃতজ্ঞতা জানালো।
সেই পিশাচ তাড়ানোর ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ
এই কথাগুলো হলো ভিতরের রূমে Maurice এর সাথে থাকা Warren এর। উপস্হিত সবাই এই কথার সাথে নিজের একাত্মতা ঘোষণা করেছে। পুরোটো কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিলো মোট ২ঘন্টা। সম্পূর্ণ কার্যকমটিই ভিডিওতে রেকর্ড করে রাখা হয়। যা নিয়ে পরবর্তিতে অনেক ডকুমেন্টারী তৈরী করা হয়েছিলো।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পরার পর পুরো দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়ে যায়। অধিকাংশ মানুষ এই ঘটনাটিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিতে লাগলেন।
পৃথিবীতে অলৌকিক বলে কিছুই নেই। প্রমাণসহ সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা বের হয়েছিলো এই ঘটনার। এই লোকটি মানসিক ভারসাম্য হারানো অবস্হায় ছিলো অনেকদিন ধরে। তারপর সুস্হ হয়ে যায় ১৯৮৫সালে। কিন্তু শহরের কিছু লোক টাকা এবং খ্যাতির লোভে সবাই একসাথে আলোচনা করে একটি বুদ্ধি বের করে। তারা Maurice এর ব্যাপারে অদ্ভূত সব কথা ছড়াতে থাকে। শহরের কিছু প্রভাবশালী লোক নিজেদের শহরের নাম ফুটাবার জন্য এবং বিখ্যাত হবার জন্য এই সম্পূর্ণ কায়দাটি করেছিলো এবং ঘটনাটি ঘটিয়েছিলো। এমনকি তারা এটির ভিডিও করে রাখে। যাতে সবাইকে দেখাতে পারে। অথচ সম্পূর্ণ ঘটনাটি একদম ভূয়া। যা Maurice অনেকদিন পর সাক্ষাৎকারে স্বীকার করে নেয়।
সূত্র: 'অবিশ্বাস্য সত্য' বই এবং ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


