আমার প্রিয় পোস্ট

আপনার এলাকা, আপনার সংবাদ

এ কেমন সাংবাদিক সমাজ ?

০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

অবাক লাগে যখন জাতির বিবেক সাংবাদিকরাও জড়িয়ে পড়ে চাঁদাবাজিতে। যাদের কলম লিখে যাবে অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আর তারাই নাকি স্বয়ং জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধে। ভেবেছিলাম লিখবো না, কিন্তু লিখতেই হলো আমাদের স্বজাতি ভাইদের বিরুদ্ধে। স্বজাতিও বলতে তাদের ঘৃণা হয় যারা নাকি চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়, মদ্যপ অবস্থায় থানায় গিয়ে মাতলামি করে তাদের। খুব ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির নেশা থেকেই আমি নেশাগ্রস্ত হয়ে যাই সংবাদপত্রের উপর। একটি মুহুর্তও বিচ্ছিন্ন হতে পারি নি এই জগত থেকে। ক্ষুদ্র এই পরিসরে জেনেছি, দেখেছি ও শিখেছি অনেক কিছু। ক্ষুদ্র এই অভিজ্ঞতার আলোকে কখনো প্রশ্রয় দিই নি তাদের যারা সাংবাদিকতাকে হলুদ করার মানসে লিপ্ত।
একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে মনে হলুদ সাংবাদিকতার প্রশ্রয়দাতা কারা? হ্যাঁ, আমার মতেই স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনই এদের প্রশ্রয়দাতা। বিব্রতবোধ হচ্ছেন তাই না...। গত ২১জুলাই চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর পাতায় যখন পড়লাম ‘মদ খেয়ে থানায় মাতলামি : ধরা পড়লো কথিত সাংবাদিক জনি’ শিরোনামটি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিলাম তখন। আর তখন শংকাও ছিল নাকি এই জনিই মুক্তি পেয়ে পুলিশ কমিশনারের হাতে দুটি ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানাবে আর পত্রিকাগুলো প্রেস সংবাদ দিবে। না তেমনটি দেখতে হলো না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো শিরোনামে আসলো সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি। এবার কিন্তু থানায় গিয়ে নয় একেবারে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছেই চাঁদা চেয়ে বসলো ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কথিত এক সম্পাদকসহ তার তিন সহযোগী। তাদের সাহসের প্রশংসা না করে আর থাকতে পারলাম না। সত্যিই তারা বীর বাহাদুর, সাহসী চাঁদাবাজ। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেই পারতো, কেন শুধু সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে গেল- এ প্রশ্ন তাদের কাছে।
প্রতিদিনের মতোই গত ২৮জুলাই অনলাইনে সুপ্রভাত বাংলাদেশ পড়ার সময় দৃষ্টি যেন আটকে গেল সরতেই চায় না। সুপ্রভাতের নিজস্ব প্রতিবেদকের লেখা প্রতিবেদনটি শুরুতেই একজন ব্যক্তির কথা দিয়েই শুরু করেছে আর তা হলো ‘এবার যদি বোধোদয় হয় পুলিশের। সাংবাদিক নামধারী অপরাধীরা কতোটা বেপরোয়া হলে সরাসরি চাঁদা চেয়ে বসতে পারে পুলিশ কমিশনারের কাছে। তাও দলবল নিয়ে গিয়ে। যাদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এসব অপরাধীরা সমাজে দাবড়ে বেড়াচ্ছে সেই পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাই যখন এদের চাঁদাবাজির কবলে পড়লেন তখন তাদের স্বরূপ চিনতে আর বাকি কী। কিন্তু তারা কী তা উপলব্ধি করতে পারবেন। "ইন্ট্রো"টা আকর্ষনীয় বলে পড়া থেকে বিচ্যুত হলাম না। পুরোটা পড়ার পর মনে পড়লো আরে এটাতো সেই পত্রিকার সম্পাদক যে পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস উদ্বোধন করেন স্বয়ং সিএমপি পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলী খান। বেশী দিনের কথা মাত্র মাস তিনেক আগের কথা এটি। একই টেবিলে বসে পুলিশ কমিশনার ও কথিত সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ সম্পাদক মুকুল খোশগল্পে মেতে ছিল তারা দুজনে। হয়তো সেই সুবাধে পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলীর দপ্তরে গিয়ে মুকুল সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলে টাকা চেয়ে বসেছিলেন পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলীর দপ্তরে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলে তার কাছে টাকা দাবি করে বসে। আর টাকা চাওয়ার এই প্রশ্রয়টা তিনি কিন্তু পেয়েছিলেন চট্টগ্রামের ব্যুরো অফিস উদ্বোধনের সময়।
এমনই হাজারো খোশগল্পে মেতে থাকার পর সরাসরি প্রশাসনের প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি যারা কিনা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে। চট্টগ্রামের পত্রিকাপাড়া হিসেবে খ্যাত চেরাগীপাহাড়ে আস্তান পেতেছে এমনই নামধারী সাংবাদিকদের অনেকে। জাহাঙ্গীর আলম জনিও আত্মরক্ষার জন্য একটি নামসর্বস্ব পত্রিকার প্রেস কার্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হোতাও ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পড়ে জানতে পাড়লাম। তারও অফিস ছিল চেরাগী পাহাড়ের বঙ্গবন্ধু ভবনে। প্রায় প্রত্যেক থানাতেই এসব সাংবাদিকদের ভয়ে তটস্থ থাকে পুলিশ কর্মকর্তারা। দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্য গড়ে তুলেই তারাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদেরও জিম্মি করে কখনো মাসোহারা ভিত্তিতে টাকা আদায় করে আসছে বলেও বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত হয়। একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারলাম যে অতীতে নগর গোয়েন্দা শাখা থেকে অপসাংবাদিকদের একটি তালিকা নগরীর বিভিন্ন থানায় দেয়া হয়েছিল, যাতে এদের ব্যাপারে সবাই সজাগ থাকে। তালিকা করার খবর শুনে অবশ্য তখন অনেক অপ সাংবাদিক ভয়ে ছিল সেটা আমি নিজেও দেখেছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত রহস্যজনক কারণে নাকি বাড়তি দায়িত্ব চাপের কারণে সেই তালিকার আর কোন অগ্রগতি হয় নি। তালিকাটি দেওয়া হয়েছিল প্রতিটি থানাতেও। যাতে করে এদের ব্যাপারে সাবধান থাকা যায়। কিন্তু সেই তালিকার এখন কোন খবর নেই।
শুধু কি প্রশাসন দায়ী - না তা কিন্তু নয়? দায়ী আমরাও যারা কাজ করছি বিভিন্ন মিডিয়াতে। আমাদের কলম স্বোচ্ছার করতে হবে তাদের বিরুদ্ধে, চিহ্নিত করতে হবে তাদের যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্দ্বিধায় বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। কেন আমরা দায়ী? হ্যাঁ, কারণ আমরা প্রায়ই সময় হলুদ সাংবাদিকদের অপর্কম দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। যদি তাদের বিরুদ্ধে লিখি তবে উল্টো না আমাদের সুনাম নষ্ট হয়। এককালে সাংবাদিকরা ছিল সাধারণ মানুষের শদ্ধার পাত্র আর তারাই নাকি এখন সাংঘাতিক। ভাবতে শরীর কেঁপে উঠে, থামিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় হাতের কলম।
বছর খানেক আগের কথা, আমার এক আত্মীয় আমাকে অনুনয় করে বলে ভাই আমার যে মোটর সাইকেলটা আছে তার তো লাইসেন্স নাই আমাকে যদি একটা প্রেস কার্ড সংগ্রহ করে দেন একটু সুবিধা হতো। আমি সাথে সাথে না বলে দিই। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখলাম সে ঠিকই ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকার প্রেস কার্ড সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের সামনে ‘সাংবাদিক’ লিখে দেদারচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ সংবাদ লেখা বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র কোন জ্ঞান নেই বললেও চলে। এমন করে যদি সাংবাদিক সৃষ্টি হয় তবে কি প্রয়োজন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার। শিক্ষাগত কোন যোগ্যতা ছাড়াই অনেকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে প্রভাব খাটিয়ে চলছে থানাগুলোতে, আর সাংবাদিকতার উপর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পরও অনেককে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পড়তে বিব্রতকর অবস্থায়। কারণ, প্রশাসনগুলোতে হলুদ সাংবাদিকদের ভিড়ে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের চেনা কষ্টকর হয়ে পড়ে ।
আমাদের এই সাংবাদিক সমাজ থেকে কি হলুদ সাংবাদিক বিতাড়িত করার কোন উপায় কি নেই, নেই কি কোন প্রচেষ্টা? যদি আমরা সবাই একটু সচেতন হই তবে তাদের তৎপরতা কমে আসবে বলে আমি মনে করি। (লিখেছেন : সোয়েব উদ্দিন কবীর সোহেল, লন্ডন।)

 

 

  • ০ টি মন্তব্য
  • ৩৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

 



 


noakhaliweb.com.bd
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৬২৬২