somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বৃহত্তর নোয়াখালীর সংবাদ, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের উন্নয়নে নোয়াখালী ওয়েব http://www.noakhaliweb.com.bd :: নোয়াখালী বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি জেলা। প্রশাসনিক ভাবে বর্তমানে নোয়াখালী (নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর) তিন জেলায় বিভক্ত হলেও এ অঞ্চলের মানুষের কৃষ্টি কালচার একই রকম এবং সারাবিশ্বে 'নোয়াখাইল্লা' হিসাবেই এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষভাবে পরিচিত। মেধাবী ও সৃষ্টিশীল হিসাবে এ অঞ্চলের মানুষের রয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রশাসন, ব্যবসা-বানিজ্য সর্বক্ষেত্রে নোয়াখালীর মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। কথিত আছে জাতীয় অর্থনীতির ৩৫% নিয়ন্ত্রন করে নোয়াখালীর লোকজন। শুধু দেশে নয় বিদেশেও সমান কৃতিত্বের সাথে নোয়াখালীর মানুষ বরাবরের মত বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে দেশে এবং বিশ্বের সর্বত্র এ অঞ্চলের মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু যে যেখানেই অবস্থান করুকনা না কেন নিজ এলাকার প্রতি টান এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। ফলে বৃহত্তর এ জনগোষ্ঠীর তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে স্থানীয় ও কমিউনিটির খবরা-খবর তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিক খালেদ সাইফুল্যাহ'র ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০০৫ সালে অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েবের যাত্রা শুরু হয়।

নোয়াখালী ওয়েব যখন কাজ শুরু করে তখন বাংলাদেশে অনলাইন পত্রিকার ধারনাটা একেবারেই নতুন এবং তখন পর্যন্ত বিডিনিউজ২৪.কম অনলাইনে তাদের নিউজ প্রকাশ করত। এজন্য প্রায় ১ বছর নোয়াখালী ওয়েব মানুষের মাঝে ইয়াহু অনলাইন গ্রুপ পরিচালনা সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র অনলাইন পত্রিকা সম্পর্কে ধারণা/সচেতনতা তৈরী করার জন্য কাজ করে। ২০০৬ সালের শুরু থেকে পত্রিকাটি নিউজ প্রকাশনা শুরু করে। সংবাদ প্রকাশনা শুরু করার খুব অল্প সময়ের মধ্যে নোয়াখালী ওয়েব বৃহত্তর নোয়াখালীসহ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশেষভাবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক এটাই প্রথম কোন অনলাইন পত্রিকা যারা ২৪ ঘন্টা সংবাদ প্রদান করছে। অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি বর্তমানে নোয়াখালী ওয়েব স্থানীয় দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক পত্রিকাগুলোকে ফ্রি! নিউজ সার্ভিস প্রদান করছে। এতে করে স্থানীয় পত্রিকাগুলো আরো বেশি তথ্য সমৃদ্ধ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রথম দৈনিক জাতীয় নিশান ও দৈনিক লক্ষ্মীপুর কন্ঠসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব'র নিউজ সার্ভিস গ্রহণ করছে।

২০০৭ এর ১৫ই আগষ্ট নোয়াখালী ওয়েব এর সাইটটি হ্যাকার দ্বারা আক্রান্ত হয়। নোয়াখালী ওয়েব এর অগ্রযাত্রায় ইশ্বান্বিত হয়ে স্থানীয় ও আন্তজার্তিক একটি গোষ্ঠী নোয়াখালী ওয়েবসাইট কে আক্রমন করে এবং সাইটে পর্ণ ছবি জুড়ে দেয়। যা তখকার সময়ে ব্যাপক মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ নিয়ে তখন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফলাওভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ থেকে নতুন ওয়েব ঠিকানায় নোয়াখালী ওয়েবের পূনরায় প্রকাশনা শুরু হয়। দেশ বিদেশে বৃহত্তর নোয়াখালীর অগনিত মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় মাত্র ছয়মাসের মধ্যে নোয়াখালী ওয়েব আগের তুলনায় আরো অনেক বেশি পাঠক প্রিয়তা অর্জন করে। ইতোমধ্যে পাঠক চাহিদার কথা বিবেচনা করে নোয়াখালী ওয়েব স্থানীয় সংবাদের পাশাপাশি জাতীয় সংবাদও প্রকাশ করা শুরু করে। এতে করে বৃহত্তর নোয়াখালীর বাহিরে অন্যান্য জেলার মানুষের কাছেও নোয়াখালী ওয়েব ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত এলাক্সা র্যাংকিং অনুযায়ী নোয়াখালী ওয়েব বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন পত্রিকা (প্রথম : বিডিনিউজ২৪.কম, তৃতীয় : দি-এডিটর)। যা নোয়াখালীবাসীর জন্য গর্ব করার মত একটা বিষয়।

আপনার এলাকা, আপনার সংবাদ এ শ্লোগানকে ধারণ করে বর্তমানে নোয়াখালী ওয়েবের পাঠক সংখা দৈনিক প্রায় ২১,০০০ (একুশ হাজার, গত ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী) এবং প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে। গত ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে নোয়াখালী ওয়েব পাঠকদের জন্য নিবন্ধন সিস্টেম চালু করলে বর্তমানে প্রায় ২০০০ পাঠক নিবন্ধিত হয়েছেন। এ পাঠক সংখার ৩০% আমেরিকা থেকে, ৩৫% মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে ৩৫%।

নোয়াখালী ওয়েব এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : (১) বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় এবং দেশ বিদেশের বৃহত্তর নোয়াখালীর কমিউনিটির খবর তাৎক্ষনিকভাবে অনলাইনে প্রকাশ করা। এক্ষেত্রে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি হচেছ বেশি বেশি ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা, যে সংবাদ মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগায়। (২) স্থানীয় পত্রিকাগুলোর মান উন্নোয়নে ফি! নিউজ সার্ভিস প্রদানের মধ্যদিয়ে তাদের প্রকাশনায় সহায়তা করা এবং স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু যেমন শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি, মানবাধিকার, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে সমন্বিত লেখা প্রকাশ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করে তোলা। যাতে করে জনসাধারণ গণ মাধ্যমের সত্যিকারের সুফল ভোগ করতে পারেন। (৩) দেশে এবং বিদেশে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষে মানুষে, কোথাও কোথাও সংগঠনের সাথে সংগঠনের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সেতু বন্ধন তৈরী করা যাতে করে আঞ্চলিক উন্নয়ন সহজ থেকে সহজতর হয়।

সবমিলিয়ে দেশে বিদেশে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের তাৎক্ষনিক তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাসহ নোয়াখালী ওয়েবের কমন ফ্লাটফর্মে বৃহত্তর নোয়াখালীর কমিউনিনিটিকে শক্তিশালী করা নোয়াখালী ওয়েবের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। যার মধ্য দিয়ে দেশে বিদেশে নোয়াখালীর মানুষ সম্পকে নেতিবাচক ধারনার পরিবর্তন হয়ে সবসময় ইতিবাচক ধারনা তৈরী হবে। এতে করে আমরা নোয়াখালীবাসীর স্বর্কীয়তা, নিজস্ব সংস্কৃতির ভালোদিকগুলো সবার সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হবে। এছাড়া নোয়াখালী ওয়েব নিয়মিত এককভাবে অথবা নিউজ পার্টনারদের সাথে যৌথভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতামূলক, সভা, সেমিনার, গোল টেবিল আলোচনা, কর্মশালা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিযৌগিতার আয়োজন করবে।

নোয়াখালী ওয়েব যেহেতু অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকা সেহেতু ইন্টারনেটের প্রসার এর সাথে সাথে নোয়াখালী ওয়েবের অগ্রযাত্রা অনেকটাই নির্ভরশীল। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা অনেকেই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে অনেক কম। ২০০৬ সালে গ্রামীন ফোন যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রসারের লক্ষ্যে কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (সিআইসি) এর কাজ শুরু করে তখন নোয়াখালী ওয়েব বৃহত্তর নোয়াখালীতে ইন্টারনেট প্রসারের জন্য সিআইসির পার্টনার হিসাবে কাজ করে। এসকল কাজের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের শেষ পর্যন্ত পুরো বৃহত্তর নোয়াখালীতে ইন্টারনেট এর ভালো একটা ইউজার/পাঠক গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে।

সহযোগী পোর্টাল : নোয়াখালী ওয়েবের সহযোগী পোর্টাল গ্রেটারনোয়াখালী.কম.বিডি তে বৃহত্তর নোয়াখালীর জেলা টু গ্রাম পর্যন্ত সব ধরনের ইনফরমেশন প্রকাশ করা হবে। যেখান প্রতিটি জেলার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মানচিত্র, এখানকার ঐতিহ্য, বিশেষ ব্যক্তিদের প্রোপাইল 'আমাদের কৃতি সন্তান', প্রবাসীদের জন্য 'আমরা প্রবাসী' ডাটাবেইজ, সাধারণ মানুষের জন্য 'পাবলিক ডিরেক্টরি' এবং প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য সব ধরনের তথ্য থাকবে, যা সার্বক্ষণিক ভাবে আপডেট হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও আমাদের বর্তমান ও পরবর্তী প্রজম্ম এর মধ্য দিয়ে অনলাইনে বৃহত্তর নোয়াখালীর একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য ভান্ডার পাবে বলে নোয়াখালী ওয়েব বিশ্বাস করে।

http://www.greaternoakhali.com.bd
http://www.greaternoakhali.com
http://www.greaternoakhali.net
http://www.greaternoakhali.org

সহযোগী প্রকাশনা : শুধু অনলাইন নয় অফলাইনের মানুষদেরকেও সঠিক তথ্য সেবা প্রদান করা এবং এ অঞ্চলের নতুন লেখক সৃষ্টির লক্ষে 'আমাদের নোয়াখালী' নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রতিদিনকার সংবাদ প্রবাহ ছাড়াও এ অঞ্চলের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের কৃতি সন্তানসহ নিত্যনতুন বিভাগ সমৃদ্ধ হয়ে ম্যাগাজিনটি শীঘ্রই নিয়মিতভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছবে।
http://www.amadernoakhali.com

ব্যাবস্থাপনা : সম্পাদকীয় বোর্ড কতৃক নোয়াখালী ওয়েব'র মূল ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে। তবে পত্রিকাটির মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পত্রিকাটির একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কাজ চলছে। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর তিন জেলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনকারী এবং নিজ এলাকার উন্নয়নে আন্তরিক এরকম ১১-১৫ জনের সমন্বয়ে একটি গ্রহনযোগ্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হবে এবং প্রতিবছর এ পরিষদ নতুনভাবে /পূণঃ মনোনীত হবে।

জনবল : দেশে এবং বিদেশে নোয়াখালী ওয়েব এর বর্তমান সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৫৫ জন।

ব্যয় নির্বাহ : নোয়াখালী ওয়েব ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিডিএফ) এর অধীনে একটি অলাভজনক প্রকল্প। শুরু থেকে নোয়াখালী ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এর ব্যক্তিগত ও পরবর্তীতে তার পরিচালনাধীন ডিডিএফ এর অর্থায়নে এখন পর্যন্ত নোয়াখালী ওয়েবের ব্যয় নির্বাহ চলে আসছে। তবে প্রকল্পটিকে টেকসই করার লক্ষে নোয়াখালী ওয়েব একটি সহযোগী পরিবার গঠনের কাজ শুরু করছে। মূলত সহযোগী পরিবারের সদস্যদের মেম্বারশীপ ফি এবং কিছু বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে পত্রিকা/সংবাদ মাধ্যমটির ব্যয় নির্বাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা একান্ত কাম্য।

পরিশেষে আপনার প্রতিষ্ঠানের/সংগঠনের ইতিবাচক কর্মকান্ডের খবর পাঠিয়ে নোয়াখালী ওয়েবের প্রকাশনাকে সমৃদ্ধ করার আহবান রইল।

সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১০/সি নয়াপল্টন (নীচতলা), ঢাকা-১০০০। ফোন-ফ্যাক্স : ৮৮০ ২ ৮৩১১৫৩৭, মোবাইল : ০১৭২০১২৪২০৪


আঞ্চলিক অফিস : মাওলা শফিং সেন্টার (দ্বিতীয় তলা), বসুরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী-৩৮৫০। ফোন-ফ্যাক্স : ৮৮০ ৩২২৩ ৫৬০২৯, মোবাইল : ০১৭১২৯১০৬৮২

http://www.noakhaliweb.com.bd/contacts.html

http://www.noakhaliweb.com.bd]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28864284 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28864284 2008-11-04 01:20:08
ভেতরে বাইরে নোয়াখাইল্যা
নোয়াখালীর ইতিহাস অনেক প্রাচীন, ঐতিহ্য মন্ডিত এবং বর্ণাঢ্য। সেই সমতট থেকে কুসুরা তারপর নোয়াখালী­ হাজার হাজার বছরে হয়েছে অনেক পরিবর্তন। ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক দিক থেকে অন্যান্য স্খানের মতো নোয়াখালীরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু অনেক কিছুই রয়েছে এখনো অপরিবর্তিত। মানুষের আচার সৌজন্যবোধ, পরিশ্রম ও কষ্ট সহিষ্ণুতা, ধর্মানুরাগ, শিক্ষার প্রতি ‘আগ্রহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আগের মতই আছে। তবে নোয়াখালীর মানুষের মধ্যে যে প্রবণতাটি আবহমানকাল থেকে সক্রিয় থেকে সক্রিয়ভাবে হচ্ছে তা হলো বহি:মুখীতা। বিদেশে তো বটে দেশেও এমন কোন জেলা নেই যেখানে নোয়াখালীর অসংখ্য লোক সেটেল করেননি। সেখানে তারা সামাজিক ও রাজনৈতকি প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে নিয়েছেন।

নোয়াখালীর মানুষ চাঁদেও আছে’­এটি বহুল প্রচলিত একটি জাতীয় উদ্ধৃতি। এ কথাটি হাল্কা ভাবে বলা হলেও আসলে তাৎপর্যবহ। এতে নোয়াখালীর মানুষের সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি, সংকীর্ণতার সীমারেখা অতিক্রম করে বিশ্বজনীয়তা এবং উদার মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে। নোয়াখালীর মানুষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। এবং সেই সুবাদে দেশের অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত সহায়তা দিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ছাড়াও দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে নোয়াখালীর মানুষ যথেষ্ট সচেতন। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নোয়াখালীর মানুষ মূলত: শান্তি ও সম্প্রীতিপ্রিয়। অন্য দিকে সময়ের প্রয়োজনে অন্যায়, অত্যাচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয়। যখনই জাতি স্বার্থে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রয়োজন হয় তখনই তারা উদ্যোগী হয়েছে এবং নেতৃত্ব দিয়েছে শপথে ও সংগ্রামে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যান্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিল নোয়াখালীর মানুষ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তুলনামূলক অন্যান্য জেলার চাইতে তারা অনেক এগিয়ে। জনসংখ্যার তুলনায় ভূমির সীমাবদ্ধতার কারণে কেবলমাত্র কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল না থেকে চাকুরী ও বহি:গমন এবং ভেতরে ও বাইরে ব্যবসা পাণিজ্যে তাদের লিপ্ত হতে হয়। শিক্ষা দীক্ষায় অতি অগ্রসর বলে সরকারী ও বেসরকারী চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তারা এগিয়ে ছিল। ‘তৎকালীন পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষ অনেক পদে নোয়াখালীর মানুষ যোগ্যতা বলে আসীন হয়েছিল। এখনো নোয়াখালীর অনেক কৃতি সন্তান সরকারী ও বেসরকারী পদে আসিন থাকলেও সংখ্যা ক্রমশ: হ্রাস পাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে প্রথমত: জেলাভিত্তিক কোটা সংরক্ষণ, দ্বিতীয়ত: নোয়াখালীর মানুষের প্রতি অন্যান্য জেলার লোকজনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তৃতীয়ত: অন্যান্য জেলার লোকজনও পড়াশুনায় অনেক এগিয়ে গেছে।

নোয়াখালীর মানুষ ব্যবসার চাইতে চাকরিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। ঐতিহাসিক ভাবে রাজ-রাজরা ও জমিদার শোষিত মানুষের পুঁজি ধার করে ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে এসে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। বর্তমানে অবশ্য পরিস্খিতির ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে এবং বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষঠান ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি পেয়েছে।

এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে ধর্মপ্রচার বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে নোয়াখালীর মানুষের অবদান অপরিসীম। পাক-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ম প্রসার ও শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে নোয়াখালীর বিশিষ্ট আলেমদের (উল্লেখ্য আমার পিতা, বড় চাচা, দাদা, নানা এবং আরো অনেক আত্মীয়স্বজন ভারত পাকিস্তানে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন এবং অধ্যাপনা করেন। ভূমিকা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ইসলামী শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে নোয়াখালীর অনেক ওলামাদের নিরলস সাধনা ও চেষ্টার ফলে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় চেতনা সম্পন্ন হতে পেরেছে। এ জন্য এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ কিছু আক্ষেপের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। আবহমানকাল ধরে নোয়াখালী সমগ্র দেশকে শিক্ষা দীক্ষা, অর্থনীতি-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিয়েছে অনেক কিন্তু সে তুলনায় তেমন কিছু পায়নি। এখনো উন্নয়নের দিক থেকে নোয়াখালী অনগ্রসর। এখানে শিক্ষা ও বাণিজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্খাপন করা হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্খাও আগের মতই। নোয়াখালী শহর যেন একটি উপজেলা শহর। বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে একসময়, সারা দেশে চৌমুহনীর নাম ও ভূমিকা ছিল। বর্তমানে তা আর নেই। একমাত্র পাটকল ডেল্টা জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে নেয়াখালী এবং নোয়াখালীবাসী ভাল নেই। তারপরও বলবো ভেতরে-বাইরে এবং দেশে বিদেশে নোয়াখাইল্যাদের সুনাম অনাগত ভবিষ্যতেও সমুন্নত থাকবে।

ড. মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান মোরশেদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28858966 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28858966 2008-10-24 09:07:03
নোয়াখালীর এক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নোয়াখালী টাউন হল ছিলো মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রন করা হতো। শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার দায়িত্ব পেয়ে টাউন হলেই তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। এপ্রিলের শেষে পাক হানাদার বাহিনী এ শহর দখল করলে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন দিকে মুক্তাঞ্চলে চলে যায়। তখন শহীদ ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শহরের পূর্বাঞ্চলে কাদিরপুরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি গড়ে তুলেন। তিনি ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এটিএম হায়দারের অধীনে ছিলেন। সে সময় কাদিরপুরে তাঁদের পৈত্রিক বাড়ির কাছে ডা:রজনী কুমার দাসের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন সভা অনুষ্ঠিত হতো। উত্তর কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি । ৫ সেপ্টেম্বর সেই ঘাঁটির উপর দিয়ে একটি পাকিস্তানী ফাইটার বিমান খুব নীচু হয়ে উড়ে যায়। সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিমান লক্ষ করে মেশিন গান থেকে গুলি ছুঁড়ে। এদিকে স্থানীয় রাজাকাররা গোপনে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটির সঠিক খবরাখবর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে জানায়। আগরতলার এক তরুণ নবীন ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। তাঁর নাম ছিলো অমল নাগ। তিনি ক্যাপ্টেন নাগ বলে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে পার্শবর্তী বসুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শহীদ ভুলু ও ক্যপ্টেন নাগ অন্য সহযোদ্ধাদের সাথে গভীর রাতে কাদিরপুর ক্যাম্পে ফিরে আসেন। সেই ক্যম্পের পাশে খালের মধ্যে নৌকা বেঁধে তাঁরা নৌকার মধ্যেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর খুব প্রত্যুশে বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের পাক বাহিনীর ক্যাম্প থেকে ছয়টি নৌকা বোঝাই এক প্লাটুন পাকিস্তানী সৈন্য অতর্কিতে এসে সমগ্র এলাকা ঘিরে ফেলে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা হতচকিত হয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারলেও সে সময় শহীদ ভুলু ও ক্যাপ্টেন নাগ গভীর ঘুমের মধ্যে ছিলেন। ত্বরিৎ বেগে হানাদার পাক সৈন্যরা তাঁদের নৌকা ঘিরে ফেলে। ঘুম থেকে জেগে উঠেই তাঁরা পাক সৈন্যদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধে লিপ্ত হন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পাক সৈন্যদের একটি গুলি সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলুর বাম বাহুতে এসে লাগলে তিনি মারাত্মক আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ও ক্যাপ্টেন নাগ পাক সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। হানাদাররা তাঁদেরকে পার্শবর্তী স্কুলের বারান্দায় এনে হাত পিছমোড়া করে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। পাক সেনারা বারবার জানতে চায়, কে সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু। তখন সেখানে উপস্থিত দুই ঘৃন্য রাজাকার কাজী অবুবকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান শহীদ ভুলুকে দেখিয়ে দেয়। তখন তারা উভয়কে বেগমগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু রাজাকাররা তাঁদের দুজনকে এখানেই হত্যা করতে পিড়াপিড়ি করে। এ নিয়ে রাজাকার ও হানাদার বহিনীর অফিসারের সাথে উত্তপ্ত বাক্যও বিনিময় হয়। তখন শহীদ ভুলু বার বার জয় বাংলা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পাক সৈন্যরা বেয়নেট দিয়ে তাঁর কণ্ঠনালী কেটে ফেলে। এরপর তাঁকে পিছন দিক থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হতে হায়নারা তাঁকে বেয়োনেট দিয়ে বার বার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে। সে অবস্থায় তাঁর লাশ সেখানে পড়ে থাকে। শহীদ ভুলুর লাশ সেখানে ফেলে রেখেই পাক বাহিনীরা ক্যাপ্টেন নাগকে নিয়ে বেগমগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরে যায়। ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন নাগের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দেশ স্বাধীন হলে অর্ধমৃত অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।

হানাদার বহিনীরা কাদির পুর ছেড়ে চলে গেলে মুক্তি বাহিনীরা এসে শহীদ ভুলুর লাশ উদ্ধার করে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর বাড়িতে এনে তাঁর বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করে। এর কয়দিন পর সেনবাগে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক যুদ্ধে কজন রাজাকার সহ শহীদ ভুলুর হত্যার সহযোগি দুই রাজাকার কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান মারা পড়ে।

সাহাব উদ্দিন ভুলু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর তিন ছেলে ছিলো একেবারেই শিশু। তখন বড় ছেলে জুয়েল চার বছর, মেঝো ছেলে সোহেল আড়াই বছর ও ছোট ছেলে দীপেলের বয়স ছিলো মাত্র ছয়মাস। তাদের মাইজদী শহরের লক্ষীণারায়ন পুরের বাড়িটি ছিলো রাজনীতির নানান স্মৃতিতে ঘেরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানী, সোহরাওয়ার্দী, পাকিস্তানের বিরোদীদলের নেতা আজম খাঁন প্রমুখ দেশ বরেণ্য নেতাদের পদচারনায় এলাকাটি ছিলো সদা মুখরিত। সে স্মৃতিময় বাড়িটিও পাক হানাদারেরা পুড়িয়ে দেয়। সেই থেকে নানান ঘাত প্রতিঘাতে আত্মীয়স্বজন পাড়াপড়শীদের সহযোগীতায় তারা আজ মানুষ হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু নোয়াখালীতে এসে শহীদ ভুলুর বৃদ্ধা মা আজমুদা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, আপনার এক ছেলে যুদ্ধে হারিয়ে গেলেও আমিতো আপনার আর এক ছেলে আছি। পঁচাত্তর পরবর্তীতে এই পরিবারের উপর সরকারি ভাবে নেমে এসেছিলো বঞ্চনা আর অবহেলা। সবচেয়ে আশ্চর্য ও গ্লানিকর দিক হলো, যে দুই রাজাকার শহীদ ভুলকে হত্যার সহযোগীতা করেছিলো কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান দুজনেই একসাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অত্যন্ত ঘৃনিত ভাবে মৃত্যু বরণ করলেও দীর্ঘদিন থেকে শহীদ পরিবার হিসাবে তাদের পোষ্যরা ভাতা পেয়ে আসছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তাদের নামে এ বরাদ্ধ এতো দিন দিয়ে আসছিলো বলে শহীদ ভুলু পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নোয়াখালীর ক্রীড়া জগতের এক সময়ের এ অনন্য সংগঠকের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধে তাঁর মহান অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলাবাসি এ এলাকার একমাত্র ষ্টেডিয়ামের নাম করণ করে,শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়াম। এটি এখন আন্তর্জাতিক মানের ষ্টেডিয়াম হিসাবে গড়ে উঠছে।

নোয়াখালীবাসি এই অকুতভয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


লেখক : মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
ফিচার এডিটর, নোয়াখাখালী ওয়েব]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28851139 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28851139 2008-10-05 12:38:42
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অবারিত দ্বার নোয়াখালী নোয়াখালীর ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষিজীবি। প্রকৃতিকে নির্ভর করে গ্রামের বনেদীগৃহস্থ পরিবার ছিল স্বয়ম্ভর। তবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সুযোগের অভাবে কৃষিতে এসেছে সংকট। সে সংকট অব্যাহত। গত দু'দশক ধরে নতুন সর্বনাশ জলাবদ্ধতা জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে কেবল ধ্বংস করেনি, বিরাণ করেছে গ্রামীন অর্থনীতিকে। বাড়িয়েছে বেকারত্ব। সম্পন্ন কৃষক ও কৃষি পরিবার হয়েছে সর্বশান্ত। পেশা বদল করে অনেকে কৃষি বিমুখ হওয়ায় কৃষিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে নোয়াখালীর বিদগ্ধ সন্তানদের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকলেও কৃষি নির্ভর জেলার কৃষিখাতে সংকট সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি।
সাবেক ৬ উপজেলা এখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে ৯ উপজেলায় রূপান্তরিত। তাতে মানুষের উন্নয়ন হবে এ আশাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়া উপজেলা ছাড়া বাকী ৭ উপজেলা বর্ষা মৌসুম ও মৌসুম পরবর্তী ২ মাস জলাবদ্ধ থাকে কৃষি জমি। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষির যে বিপর্যয় এনেছে তা থেকে উত্তোরনের কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের আগুনের লেলিহান শিখার মত দ্রব্য মূল্য যখন মানুষকে সর্বাঙ্গে পুড়তে শুরু করেছে তখন আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার টনক নড়েছে। গত দু'দশকে কৃষি আর কৃষকের প্রতি যে অবহেলা তার প্রতিশোধ নিচ্ছে দ্রব্য মূল্য। সুজলা, সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের কৃষিকে কার স্বার্থে বিদেশী বাজারে পরিণত করে এর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করেছে তার মূল্যয়ান করা সময়ের দাবী।
নোয়াখালীর কৃষির বিশাল সম্ভাবনা হলেও প্রায় ৬৫ হাজার একর জমি এখনো সারা বছর পতিত থাকে। একফসলী জমির পরিমাণ ৪৭ হাজার একর। কৃষি জমির বিশাল ভান্ডার উপকূল জুড়ে। সেখানে সীমিত সুযোগ নিশ্চিত হলে ৮০হাজার একর জমিকে ত্রি-ফসলী করা সম্ভব। অথব জলাবদ্ধতা, সেচের অভাব, সার সংকট, কীটনাশক সংকট ছাড়াও ভেজাল বীজ, সার, ঔষধ কৃষি এবং কৃষকের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলেছে।
এ জেলায় মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী। পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা সেভাবে গড়ে উঠেনি। গত তিন দশকে উন্নয়নের জোয়ারে পুল, কালভার্ট, রাস্তা অবকাঠামতে হয়নি তা বলা যাবে না, তবে মূল বিষয় খাল সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী পুরোপুরি উপেতি হয়েছে।
মেঘনা আর ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযোগে খালগুলো মরে যাচ্ছে, বেদখল হয়েছে প্রভাবশালীদের দ্বারা অথচ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টরা এগুলোকে আমলে নেয়নি। বরং কতিপয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার একর অনাবাদি জমি পতিত পড়ে রয়েছে। সেচ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর ৭০ হাজার একর জমিতে ফসল বুনন হয় না। হাতিয়া ভাঙছে গত তিন দশকের বেশী সময় ধরে, দেখার কেউ নেই। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অসাধু সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও প্রভাবশালীদের মদদে ৫০ হাজার হেক্টরের বনাঞ্চল উজাড় হয়েছে। ঝড় জলোচ্ছাসে উপকূলের কতিপয় অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তাদের থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। গরু, মহিষ, ভেড়া তথা পশু সম্পদ সম্বৃদ্ধ উপকূলে এখন পশুর অভাব। কথিত ভূমিহীন ও মৎস্য চাষীরা খাস জমি দখল করে ফেলছে। অথচ পশুদের জন্য চারণভূমি নেই।
সরকারের পরিকল্পিত উপকূল উন্নয়নের ফাইলে উই পোকা ধরেছে। এ কারণে উপকূলের কথিত উন্নয়ন এখন শীতাতপ হলঘরে, সেমিনার, টকশোতে সীমাবদ্ধ।
উপকূলের কৃষক নতুন ফসলে উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে। গত ১০ বছরে উপকূলীয় এলাকায় তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, বাদাম, ভূট্টা ও গমের চাষ হচ্ছে। সবজি চাষে আগ্রহী কৃষক আগাম শীতের সবজি বাজারে নিয়ে আসছে। অথচ তাদের জন্য প্রযুক্তি, বীজ, সার, প্রয়োজনীয় তথ্য, সেচ ব্যবস্থা ইত্যাদি সুযোগ খুবই সীমিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগে লোকবল সংকটও রয়েছে। প্রান্তিক চাষীর জমি নেই। অথচ তার উদ্যোগ ও মেধা আছে। তা কাজে লাগানোর নিশ্চয়তা চায়। চায় উৎপাদিত পণ্যের মালিকানা ও খাস ভূমি।
সরকার বলছে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। অথচ এর জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পায় না কৃষক। ব্যক্তি মালিকানা ও খাস ভূমির মালিকানা সামন্ত প্রভু ও প্রভাবশালীদের। তারা চাষ করে না। এ জন্য জমি চাষে বাধ্য করার আইন প্রয়োজন। এ জেলায় খামার ভিত্তিক গবাদি পশু, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী, মৌসুমী ফল ও সবজি চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। তবে এর উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া যায় না। মৎস্য চাষে উপকূলীয় অঞ্চলে আরেকটি নতুন বিপ্লব ঘটেছে। সরকারী খাস জমি ও ব্যক্তিগত জমিতে বৈধ অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টন মাছ বাজারে আসছে। এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে আধুনিক হ্যাচারী, দুগ্ধ খামার, ফিড প্রসেসিং কারখানা সবই হচ্ছে পরিকল্পনাহীন ভাবে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি ফিশ প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে, যা শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধরনের প্রকল্পগুলোকে পরিকল্পিত ভাবে এবং সুচিন্তিত ভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সুচিন্তা প্রসূত ফোর কাউ, গুটি ইউরিয়া, জৈব সার, বায়োগ্যাস প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সমবায় ভিত্তিক প্রকল্পগুলো গ্রামীন জনপদের কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। সেনাবাহিনীর কারিগরী সহযোগিতায় এই ধরনের প্রকল্প বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নোয়াখালীর পর্যটন শিল্প সম্ভাবনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো একটি উদ্যোগ হতে পারে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যŸস্থা নিশ্চিত করা গেলে নিঝুম দ্বীপ, চরকার্ক-সন্দ্বীপ চ্যানেল, কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর সহ বিশাল অঞ্চল জুড়ে পৃথক পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব। এছাড়া ৪৩ কিলোমিটার লম্বা ঐতিহাসিক নোয়াখালী খালটি হতে পারে পর্যটন শিল্প বিকাশের আরেকটি অন্যতম উপাদান। জেলার উপকূলের ১৫শ বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে তুলতে হবে পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। পরিবেশের জন্য যা হবে খুবই প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রকৃতির এ দেয়াল গড়ে তোলার বিকল্প নেই। একই সাথে পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীব বৈচিত্রকে রক্ষা করার জন্য বনায়ন, বিশাল বিশাল জলাশয় খনন খুবই জরুরী, যা পাল্টে দেবে এ জনপদের মানুষের জীবন যাত্রাকে।
নোয়াখালীতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার অন্যতম। তবে জনসংখ্যার বিচারে এবং আয়তনের বিশালতায় সেই হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন উন্নতি ঘটেনি। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে প্রতিবছর বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী শি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তোরনের প্রয়োজন, প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি নোয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড, নৌ বন্দর, সুবর্ণচর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ ও নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে; যা হবে স্থল ও নৌ পথে বহুমুখী বাণিজ্য প্রসারের একটি বিশাল উদ্যোগ।
নোয়াখালীর জেলার সন্তানরা যারা উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তারা বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেন-দরবার করে এ উদ্যোগ গুলোর সফল বাস্তবায়ন করবেন- এ প্রত্যাশা জেলাবাসী করে। অবশ্যই বিষয়গুলো করুণা নয়, নোয়াখালীর মানুষ ইতিহাসে অনেক পংকিল পথে সাহসী ভূমিকা নিয়ে মানুষের পক্ষে দেশের পক্ষে দাড়িয়েছে, হারিয়েছে অনেক কিছু, সে তুলনায় পায়নি কিছুই। যে উদ্যোগ গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে তা হবে দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। এগুলো বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই করতে হবে।

লেখক : বিজন সেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি, চ্যানেল আই ও দৈনিক ভোরের কাগজ
নিয়মিত লেখক, নোয়াখালী ওয়েব]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28851137 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28851137 2008-10-05 12:36:04
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিজেম হবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি আর্দশ প্রতিষ্ঠান -নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদের
তিনি আরো জানান, ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি গভর্নিং বডি ও একটি উপদেষ্টা পরিষদ। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, বিদোৎসাহী ও সমাজসেবক জনাব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্পপতি জনাব এস.এম.এমদাদুল ইসলাম ও শিল্পপতি জনাব নিসার আহমেদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দি নিউজ টুডে সম্পাদক জনাব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, এটিএন বাংলার চীফ এ্যাডভাইজার জনাব সাইফুল বারী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব শওকাত মাহমুদসহ আরো কয়েকজন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিদোৎসাহী।

ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য : এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে সাংবাদিকতা, জনসংযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সম্পাদনা ও প্রকাশনা, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনকলা, ফটোগ্রাফী প্রভৃতি বিষয়ে কর্মমুখী, আধুনিক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, মৌলিক গবেষণা পরিচালনা এবং উল্লেখিত বিষয়ের উপর গ্রন্থ ও জার্নাল প্রকাশ করা।

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম) : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৪-৫ শিক্ষাবর্ষ হতে বিজেম সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। প্রথম ব্যাচে ৪ জন ছাত্রীসহ মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী কোর্সটি সম্পন্ন করেছে।

প্রশিক্ষণ কোর্স : ডিপ্লোমা ছাড়াও এই ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগের বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সমাপ্ত করেছে। এসব কোর্সের মধ্যে রয়েছে, বেতার ও টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনা, টেলিভিশন সাংবাদিকতা, আধুনিক জনসংযোগ ও জনসংযোগের কলাকৌশল, ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিকতা, কলাম লেখার কলাকৌশল, প্রেস রিলিজ লিখন কৌশল ও ছবি সম্পাদনা, ফটো সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল ফটোগ্রাফী, লেখালেখির কলাকৌশল, স্পোকেন ইংলিশসহ অন্যান্য কোর্স। এসব কোর্সের প্রত্যেকটিই শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।

অর্জন ও সাফল্য : প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিজেম ইতোমধ্যে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। বিগত ৫ বছরে কোন প্রকার সরকারি ও বিদেশী দাতা সংস্থার সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৫শ' শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। প্রশিক্ষণ লাভকারীদের মধ্যে রয়েছেন চাকুরীজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, জনসংযোগ কর্মকর্তা, গৃহিনী, সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা। এদের প্রায় ১শ' জন এখন বিটিভি, এনটিভি, এটিএন বাংলা, ইটিভি, আরটিভি, চ্যানেল আই, চ্যানেল ওয়ান, বৈশাখী টেলিভিশন, বাংলাভিশন, দিগন্ত টিভিসহ অন্যান্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারী রেডিওতে টিভি সাংবাদিকতা, সংবাদ উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে স্টাফ রিপোর্টার, কন্ট্রিবিউটর, কলামিস্ট, ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে কাজ করছেন; যা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এ ইনস্টিটিউটের সফলতাই প্রমাণ করে।

প্রকাশনা ও গবেষণা : প্রকাশনা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিজেম ইতোমধ্যে 'জনসংযোগ ও প্রকাশনা' শীর্ষক একটি বৃহৎ সংকলন গ্রন্থ (৫২০ পৃষ্ঠা) প্রকাশিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদের। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে 'পাবলিক রিলেসন্স এন্ড মিডিয়া ডাইরেক্টরী' (২০০৪ ও ২০০৫)। এ ২টি প্রকাশনাই সুধীজন ও পাঠক কর্তৃক ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

রিসোর্স পার্সন ও প্রশিক্ষক : কোর্স পরিচালনার জন্য ইনস্টিটিউটের রয়েছে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষিত প্রশিক্ষক। নিজস্ব প্রশিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন: প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্বনামধন্য সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক, খ্যাতনামা সংবাদ উপস্থাপক ও টিভি ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত লেখক, উচ্চারণ বিশেষজ্ঞ, ক্যামেরাম্যান, ভিডিও এডিটর এবং তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞগণ।

শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত সুবিধা সমূহ : ইনস্টিটিউটের রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সনি হ্যান্ডিক্যাম, প্যানাসনিক ডিভি ক্যাম, ওভার হেড প্রজেক্টরসহ আধুনিক ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জামাদি, সাউন্ড সিস্টেম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুম ও ক্লাশ রুম। এছাড়াও রয়েছে দেশী-বিদেশী বইয়ে সম্মৃদ্ধ আধুনিক লাইব্রেরীসহ ইন্টারনেট সুবিধা। আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী এমন ছাত্র-ছাত্রী, লেখক ও সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে কতৃপক্ষ কোর্স ফি'র একটি নির্দিষ্ট অংশ ছাড় দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও উৎসাহিত করে।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা : সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ছাড়াও ভবিষ্যতে বিজেম আরো কয়েকটি কোর্স পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে একটি হলো গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স চালু। এছাড়া ডিজিটাল ভিডিও এডিটিং, ক্যামেরা অপারেশন্স, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, বিজ্ঞাপনকলা, চলচ্চিত্র নির্মাণ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার কলাকৌশল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে নতুন নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বিজেম এর সাথে যোগাযোগ করা যাবে, নির্বাহী পরিচালক, বিজেম, ২৫৭/৮ এলিফ্যান্ট রোড, কাটাবন ঢাল, ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৮৬১৭৯১২, ৯৬৭৪২২৪, ০১৭১৫- ৮২২৭৭৮ এ ঠিকানায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28846885 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28846885 2008-09-23 13:36:43
সাংবাদিক কামাল ভাইদের মনে রাখা দরকার বাংলাদেশের মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন প্রথিত যশা সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম কামাল ভাই। তাঁর অনুজপ্রতিম মোনাজাত উদ্দিনের অকাল মহা প্রয়ানের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সাংবাদিকতার মহীরুহদের মহা প্রয়ান শুরু হয়। এর পর আততায়ী কেড়ে নেয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অগ্রজ সাংবাদিক সামসুর রহমান, দৈনিক রানার সম্পাদক খুলনার বালু ভাই, রতন সাহা প্রমুখকে এভাবে একে একে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ সাংবাদিকদের অহংকার করার মত কয়েকজন।
কামাল ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সাহসী সাংবাদিকতার শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এতদ্ অঞ্চলের আরেকজন সাংবাদিক যিনি সম্প্রতি পরলোকে গেলেন তিনি হলেন কুমিল্লার প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা। কামাল ভাইয়ের সমসাময়িক সাংবাদিকতার এই অগ্রজ সাংবাদিক ছিলেন পরার্থে নিবেদিত। কুমিল্লার বহু সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অনন্য।
কামাল ভাইয়ের মত তিনিও ছিলেন সাহসী সাংবাদিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মনে পড়ে ২০০৪ সালে কুমিল্লা ব্র্যাকে ইউনিসেফ-এর এক কর্মশালায় আমাদের সাথে মোস্তফা ভাই ছিলেন কুমিল্লা থেকে অংশগ্রহণকারী। প্রথম দিনে কামাল ভাই সহ চা বিরতিতে অনেক আলাপ হলো। কামাল ভাই কে দেখিয়ে রসিকতা করে আমাদের বলেছিলেন, তোরা বুড়োটাকে দেখে রাখিস। কামাল ভাই মোস্তফা ভাই’র উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমাকে কে দেখছে। মোস্তফা ভাইয়ের গভীর গোঁফের ফাঁকে হাসি মুখ থেকে এর উত্তর আমরা খুঁজে পাইনি। তবে আমরা যেমন কামাল ভাইকে দেখে রাখিনি তেমনি কুমিল্লার সতীর্থ বন্ধুরাও মোস্তফা ভাইকে দেখে রাখেনি। কর্মশালার শেষ দিনে লনে এসে কামাল ভাইয়ের সাথে যৌথ ছবি তোলার আবদার করেছিলেন মোস্তফা ভাই। আমরা তাদের যুগল ছবি তুলেছিলাম। আগ্রহ করে বলেছিলেন ছবিটা পাঠিয়ে দিস। মোস্তফা ভাইয়ের সাথে এরপর কুমিল্লায় শেষ দেখা ২০০৭ সালে। তবে কুশল বিনিময় ছাড়া কোন কথা হয়নি।
মোস্তফা ভাই গ্রাম বাংলার সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বশেষ বিদায়ী অগ্রজ। আমরা কামাল ভাই, মোস্তফা ভাই, সামসুর রহমান, বালু ভাই, রতন সাহাদের হারিয়ে কেবল মফস্বল সাংবাদিকদের ঐতিহ্যের ধারকদেরকে হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের ঠিকানাকে। ঢাকার বড় মাপের সাংবাদিকদের সাথে কামাল ভাই, মোস্তফা ভাইদের দুরত্ব ছিলনা এ কথা বলা যাবে না। তবে অনেক গুণী সাংবাদিক তাদের সমীহ করতেন এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। ঢাকায় মিডিয়া মহলে সিনিয়র কারো সাথে পরিচিত হলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করতেন কামাল ভাই কেমন আছেন। এ প্রশ্ন এখন কেউ করেনা। প্রয়াত কামাল ভাই আমাদের গর্বিত সাংবাদিকতার অঙ্গন থেকে হারিয়ে যাবেন এমন কথা বলা যাবে না । তবে তাদের স্মৃতি সংরণ না করা হলে আমাদের আগামী ইতিহাস এবং প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমাদের স্বার্থে কামাল ভাইদের কথা মান রাখা উচিত। তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য। (লিখেছেন : বিজন সেন, সাংবাদিক ও চ্যানেল আই’র নোয়াখালী প্রতিনিধি।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28828845 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28828845 2008-08-08 22:29:01
সংবাদ পরিবেশনার ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়েছে ইন্টারনেট, ভালো নয় সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ সোজা কথায়, অবস্থা মোটেই ভালো নয়। ওয়াশিংটনের পিউ রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাদের ২০০৮ সালের ‘আমেরিকার সংবাদপত্রের অবস্থা’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ২৫০টি পত্রিকার চলতি হাল নিয়ে গবেষণার পর এ প্রতিবেদনে মন খারাপের মতো অনেক খবরই আছে, কিন্তু পুরোটাই যে খারাপ তা নয়। পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কমলেও পাঠক কিন্তু কমেনি। এর কারণ, এখন পাঠক ক্রমবর্ধমান হারে ইন্টারনেট থেকে তাদের প্রয়োজনীয় খবর সংগ্রহ করছে। যেসব সংবাদপত্র ইন্টারনেট মাধ্যমকে সফলভাবে ব্যবহার আয়ত্ত করেছে, প্রতিযোগিতায় তারাই সবচেয়ে এগিয়ে। প্রকৃতপক্ষে, ইন্টারনেটের আগমনের ফলে সংবাদপত্রের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, হ্রাস পায়নি। একসময় সবাই সংবাদ ও সংবাদপত্রকে একটি ‘প্রডাক্ট’ বা পণ্য হিসেবে বিবেচনা করত। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে সংবাদমাধ্যমের আসল কাজ সার্ভিস বা সেবা দেওয়া; পাঠক বা ক্রেতা কী চায়, তা মাথায় রেখে তাকে সেই সেবার সঙ্গে যুক্ত করা। আগে যেমন খবর পরিবেশন করেই পত্রিকা ভাবতে পারত তার দায়িত্ব ফুরাল, কিন্তু এখন তা নয়। পাঠক তথ্যের গভীরে যেতে চায়, তথ্যকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে আবিষ্ককার করতে চায়। ইন্টারনেটের ফলে এখন সেই সংযুক্তি মোটেই কঠিন কোনো ব্যাপার নয়। এই যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে, সংবাদপত্রের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ হলো এর সফল প্রয়োগ।
পিউ তাদের এই প্রতিবেদনে আমেরিকার সংবাদপত্রের চারটি প্রধান লক্ষণ চিহ্নিত করেছে।
১। অধিকাংশ পত্রিকাই তাদের কর্মীর সংখ্যা কমিয়েছে এবং প্রকাশিত খবরের পরিমাণ হ্রাস করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব পত্রিকা, যাদের প্রচারসংখ্যা এক লাখের ওপর।
২। প্রায় সব পত্রিকাই বিদেশি খবরের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে, এমনকি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন খবরের পরিমাণও কমে গেছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন খবরের পরিমাণ বেড়েছে।
৩। অধিকাংশ পত্রিকাই পুরোনো ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের ছাঁটাই করে তরুণ, কম অভিজ্ঞ কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে চালাক-চতুর সংবাদকর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে।
৪। ইন্টারনেটের আবির্ভাবের ফলে সংবাদ পরিবেশনার সব ধ্যান-ধারণা বদলে গেছে। এই প্রযুক্তি এখন বিপুল সম্ভাবনা উন্নুক্ত করেছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ভয়ের কথাও আছে। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে তা প্রকাশের যে অব্যাহত চাপ, তা মানতে গিয়ে প্রকাশিত সংবাদের মান হ্রাস পাচ্ছে, কখনো কখনো ওই সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
পিউয়ের এ প্রতিবেদনে একটা জিনিস খুবই স্পষ্ট। আমেরিকার সংবাদপত্রের জন্য অর্থনৈতিক চাপটিই মুখ্য। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে গেছে, কারণ অনেক বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিতে বেশি আগ্রহী। ইন্টারনেটের অধিকাংশ পাঠক বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ। তারা অধিক শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে অধিক সচ্ছল। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এই বয়সী ও এই আয়ের পাঠকই বেশি লোভনীয়। ফলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিয়ে তারা ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিতে বেশি আগ্রহী। এ অবস্থায় টিকে থাকার জন্য পত্রিকাগুলোকে একদিকে নিউজরুমে সম্পাদক ও সংবাদপত্রকর্মীর সংখ্যা কমাতে হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ইন্টারনেট সংস্করণের জন্য কারিগরি-কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হচ্ছে।
ইন্টারনেটের যুগে সংবাদপত্রকে টিকে থাকতে হলে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যত দ্রুত সম্ভব খবর ওয়েবে পৌঁছে দেওয়া। পত্রিকাগুলোকে এখন শুধু একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় না। তাদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিচ্ছে সিএনএন, সিএনবিসির মতো চব্বিশ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেলগুলো। তার ওপর আছে ওয়েব ব্লগ। এখন যে কেউ একটা ল্যাপটপ বগলদাবা করে ইন্টারনেটে ব্লগ চালাতে পারে। অধিকাংশই একদম খবরের উৎসের কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে ‘প্রত্যক্ষদর্শী’র মতো তাৎক্ষণিকভাবে এরা খবর ও মতামত পৌঁছে দিতে পারে। এ কারণেই এসব ব্লগারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’। খুব নির্ভরযোগ্য না হলেও অনেক ব্লগই এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। (নিজের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, আগে প্রতিদিন নিউইয়র্ক টাইমস পড়ে আমার দিন শুরু হতো। এখন ‘টকিংপয়েন্টস মেমো ডটকম’ নামের একটি ব্লগ না পড়া পর্যন্ত আমার স্বস্তি নেই।) এসব ব্লগের রাজনৈতিক গুরুত্বও এখন আর অস্বীকার করার জো নেই। যে ব্লগ যত বেশি পাঠক জোগাতে পারছে, বিজ্ঞাপনদাতারাও তাদের কাছে তত ভিড় জমাচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই ‘একাই এক শ’ সংবাদপত্রের সঙ্গে পাঁচতলা বাড়ি নিয়ে দুই হাজার কর্মীর সংবাদপত্রের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা খুব সহজ নয়।
ফলে, ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’দের প্রতিযোগিতার চাপেই হোক আর নিজের ব্যবসায়িক চাপ ও পেশাদারি স্বার্থের কারণেই হোক, সংবাদপত্রকে তার পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলাতে হচ্ছে। তাকে অনেক বেশি ‘স্পেশালাইজড’ হতে হচ্ছে, অনেক বেশি ‘স্নার্ট’ হতে হচ্ছে। ইন্টারনেট থেকে এক বড় ফায়দা হলো, পাঠক কী চায় তা নির্ণয় করা এখন অনেক সহজ। পত্রিকার কোন খবর কতবার পড়া হচ্ছে, তার হিসাব রাখা এখন আর মোটেই কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। ফলে একদিকে পত্রিকার ব্যবস্থাপকেরা যেমন পাঠক কী চায় তা বুঝে তেমন খবর পরিবেশন করতে পারেন, তেমনি বিজ্ঞাপনদাতারাও কোন পত্রিকায় তাদের ‘প্রডাক্ট’-এর প্রতি আগ্রহী এমন পাঠক/ক্রেতা বেশি, সে কথা আগেভাগেই ঠিক করে নিতে সক্ষম। প্রথাগত সংবাদপত্রের পাঠকেরা অবশ্য এতে কিঞ্চিৎ ভীত হতে পারে। খবরের গুণাগুণ নয়, ব্যবসায়িক সাফল্যই যখন কোন খবর কী পরিমাণ ছাপা হবে তা নির্ধারণ করে, তখন উদ্বিগ্ন হতে হয় বৈকি। তবে ইন্টারনেটে মজা হচ্ছে এর প্রায় সবটাই বিনা পয়সায় এবং পছন্দমতো খবর বাছাইয়ের সুযোগ প্রায় অফুরন্ত।
ইন্টারনেট আরও একভাবে খবরের কাগজকে প্রভাবিত করা শুরু করেছে। সেখানে খবর লেখা ও পরিবেশন করা হয় ভিন্নভাবে। ইন্টারনেটের পাঠকের ধৈর্য কম, সে চায় কম কথায় মোদ্দা খবরটা জেনে নিতে। এর ফলে কম কথায় কার্যকর সংবাদ পরিবেশনা সংবাদপত্রকর্মীদের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তিকে যারা ভয় পায়, ইন্টারনেটের এই আগ্রাসন তাদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের কারণ, কিন্তু যারা ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করতে শিখেছে, তারা একই সঙ্গে কাগজের পত্রিকা ও কাগজবিহীন পত্রিকাকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করে এর ফায়দা তুলে নিচ্ছে। সবচেয়ে এগিয়েছে সেসব পত্রিকা, যারা মুদ্রিত কাগজের পাশাপাশি ইন্টারনেটে ‘মাল্টিমিডিয়া’ সংযোজন করতে শিখেছে। আজকের পাঠক কেবল খবর পড়েই সন্তুষ্ট নয়, তারা যাদের নিয়ে খবর, তাদের ছবি দেখতে চায়, তাদের কথাও শুনতে চায়। এ জন্য অনেকেই এখন খবরের পাশাপাশি অডিও-ভিডিও জুড়ে দিচ্ছে। অনেক পত্রিকা, যেমন মায়ামি হেরাল্ড ট্রিবিউন, এখন তাদের সংবাদপত্রকর্মীদের শুধু টেপরেকর্ড নয়, ভিডিও ক্যামেরাও সরবরাহ করছে। নিউজ বিটে যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রায় সবাই ভিডিওতে তাঁদের খবর ধারণ করছেন এবং চোখের পলক পড়তে না-পড়তেই তা ‘এডিট’ করে পত্রিকার পাতায় ‘পোস্ট’ করে দিচ্ছেন। আবার ইন্টারনেটের ফলে এখন অধিকাংশ পত্রিকাই ‘ইন্টার‌্যাক্টিভ’ হয়ে উঠেছে। আগে পাঠক চিঠি লিখে তার মতামত জানাত। এখন খবর ছাপা হতে না-হতেই ইমেইল করে পাঠক তার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। অনেক পত্রিকা প্রকাশিত সংবাদের পাশাপাশি সংবাদদাতার নিজস্ব ‘ব্লগ’-এর জন্যও জায়গা ছেড়ে দেয়। এসব ব্লগে একজন সাংবাদিক ‘সংবাদের পেছনে যে খবর’ তা তুলে ধরেন এবং কখনো কখনো নিজেদের ব্যক্তিগত অভিমতও জানিয়ে থাকেন। যারা খবরের গভীরে যেতে চায়, তাদের এসব ব্লগ খুব পছন্দ। মন্তব্য করার সুযোগ থাকায় এই ব্লকের মাধ্যমে পাঠক সংবাদদাতার সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগও পেয়ে যায়।
আজকের সংবাদপত্রের জন্য এই চ্যালেঞ্জ শুধু আমেরিকা বা পশ্চিমের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশেও সংবাদপত্রকে কমবেশি এ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমাদের দেশেও নতুন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এই প্রযুক্তি যে সম্ভাবনার দ্বার উন্নুক্ত করেছে, তার সুযোগ গ্রহণ করতে যারা ব্যর্থ হবে, এখন থেকে ১০ বা ১৫ বছর পর তারা বহালতবিয়তে টিকে থাকবে, তা ভাবা খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না। (লিখেছেন : হাসান ফেরদৌস, নিউইয়র্ক)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28828843 http://www.somewhereinblog.net/blog/noakhaliwebblog/28828843 2008-08-08 22:27:36
এ কেমন সাংবাদিক সমাজ ? একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে মনে হলুদ সাংবাদিকতার প্রশ্রয়দাতা কারা? হ্যাঁ, আমার মতেই স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনই এদের প্রশ্রয়দাতা। বিব্রতবোধ হচ্ছেন তাই না...। গত ২১জুলাই চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর পাতায় যখন পড়লাম ‘মদ খেয়ে থানায় মাতলামি : ধরা পড়লো কথিত সাংবাদিক জনি’ শিরোনামটি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিলাম তখন। আর তখন শংকাও ছিল নাকি এই জনিই মুক্তি পেয়ে পুলিশ কমিশনারের হাতে দুটি ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানাবে আর পত্রিকাগুলো প্রেস সংবাদ দিবে। না তেমনটি দেখতে হলো না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো শিরোনামে আসলো সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি। এবার কিন্তু থানায় গিয়ে নয় একেবারে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের কাছেই চাঁদা চেয়ে বসলো ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কথিত এক সম্পাদকসহ তার তিন সহযোগী। তাদের সাহসের প্রশংসা না করে আর থাকতে পারলাম না। সত্যিই তারা বীর বাহাদুর, সাহসী চাঁদাবাজ। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেই পারতো, কেন শুধু সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে গেল- এ প্রশ্ন তাদের কাছে।
প্রতিদিনের মতোই গত ২৮জুলাই অনলাইনে সুপ্রভাত বাংলাদেশ পড়ার সময় দৃষ্টি যেন আটকে গেল সরতেই চায় না। সুপ্রভাতের নিজস্ব প্রতিবেদকের লেখা প্রতিবেদনটি শুরুতেই একজন ব্যক্তির কথা দিয়েই শুরু করেছে আর তা হলো ‘এবার যদি বোধোদয় হয় পুলিশের। সাংবাদিক নামধারী অপরাধীরা কতোটা বেপরোয়া হলে সরাসরি চাঁদা চেয়ে বসতে পারে পুলিশ কমিশনারের কাছে। তাও দলবল নিয়ে গিয়ে। যাদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এসব অপরাধীরা সমাজে দাবড়ে বেড়াচ্ছে সেই পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাই যখন এদের চাঁদাবাজির কবলে পড়লেন তখন তাদের স্বরূপ চিনতে আর বাকি কী। কিন্তু তারা কী তা উপলব্ধি করতে পারবেন। "ইন্ট্রো"টা আকর্ষনীয় বলে পড়া থেকে বিচ্যুত হলাম না। পুরোটা পড়ার পর মনে পড়লো আরে এটাতো সেই পত্রিকার সম্পাদক যে পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস উদ্বোধন করেন স্বয়ং সিএমপি পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলী খান। বেশী দিনের কথা মাত্র মাস তিনেক আগের কথা এটি। একই টেবিলে বসে পুলিশ কমিশনার ও কথিত সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ সম্পাদক মুকুল খোশগল্পে মেতে ছিল তারা দুজনে। হয়তো সেই সুবাধে পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলীর দপ্তরে গিয়ে মুকুল সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলে টাকা চেয়ে বসেছিলেন পুলিশ কমিশনার এম আকবর আলীর দপ্তরে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলে তার কাছে টাকা দাবি করে বসে। আর টাকা চাওয়ার এই প্রশ্রয়টা তিনি কিন্তু পেয়েছিলেন চট্টগ্রামের ব্যুরো অফিস উদ্বোধনের সময়।
এমনই হাজারো খোশগল্পে মেতে থাকার পর সরাসরি প্রশাসনের প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি যারা কিনা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে। চট্টগ্রামের পত্রিকাপাড়া হিসেবে খ্যাত চেরাগীপাহাড়ে আস্তান পেতেছে এমনই নামধারী সাংবাদিকদের অনেকে। জাহাঙ্গীর আলম জনিও আত্মরক্ষার জন্য একটি নামসর্বস্ব পত্রিকার প্রেস কার্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হোতাও ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পড়ে জানতে পাড়লাম। তারও অফিস ছিল চেরাগী পাহাড়ের বঙ্গবন্ধু ভবনে। প্রায় প্রত্যেক থানাতেই এসব সাংবাদিকদের ভয়ে তটস্থ থাকে পুলিশ কর্মকর্তারা। দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্য গড়ে তুলেই তারাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদেরও জিম্মি করে কখনো মাসোহারা ভিত্তিতে টাকা আদায় করে আসছে বলেও বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত হয়। একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারলাম যে অতীতে নগর গোয়েন্দা শাখা থেকে অপসাংবাদিকদের একটি তালিকা নগরীর বিভিন্ন থানায় দেয়া হয়েছিল, যাতে এদের ব্যাপারে সবাই সজাগ থাকে। তালিকা করার খবর শুনে অবশ্য তখন অনেক অপ সাংবাদিক ভয়ে ছিল সেটা আমি নিজেও দেখেছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত রহস্যজনক কারণে নাকি বাড়তি দায়িত্ব চাপের কারণে সেই তালিকার আর কোন অগ্রগতি হয় নি। তালিকাটি দেওয়া হয়েছিল প্রতিটি থানাতেও। যাতে করে এদের ব্যাপারে সাবধান থাকা যায়। কিন্তু সেই তালিকার এখন কোন খবর নেই।
শুধু কি প্রশাসন দায়ী - না তা কিন্তু নয়? দায়ী আমরাও যারা কাজ করছি বিভিন্ন মিডিয়াতে। আমাদের কলম স্বোচ্ছার করতে হবে তাদের বিরুদ্ধে, চিহ্নিত করতে হবে তাদের যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে নির্দ্বিধায় বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। কেন আমরা দায়ী? হ্যাঁ, কারণ আমরা প্রায়ই সময় হলুদ সাংবাদিকদের অপর্কম দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। যদি তাদের বিরুদ্ধে লিখি তবে উল্টো না আমাদের সুনাম নষ্ট হয়। এককালে সাংবাদিকরা ছিল সাধারণ মানুষের শদ্ধার পাত্র আর তারাই নাকি এখন সাংঘাতিক। ভাবতে শরীর কেঁপে উঠে, থামিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় হাতের কলম।
বছর খানেক আগের কথা, আমার এক আত্মীয় আমাকে অনুনয় করে বলে ভাই আমার যে মোটর সাইকেলটা আছে তার তো লাইসেন্স নাই আমাকে যদি একটা প্রেস কার্ড সংগ্রহ করে দেন একটু সুবিধা হতো। আমি সাথে সাথে না বলে দিই। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখলাম সে ঠিকই ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকার প্রেস কার্ড সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের সামনে ‘সাংবাদিক’ লিখে দেদারচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ সংবাদ লেখা বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র কোন জ্ঞান নেই বললেও চলে। এমন করে যদি সাংবাদিক সৃষ্টি হয় তবে কি প্রয়োজন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার। শিক্ষাগত কোন যোগ্যতা ছাড়াই অনেকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে প্রভাব খাটিয়ে চলছে থানাগুলোতে, আর সাংবাদিকতার উপর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পরও অনেককে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পড়তে বিব্রতকর অবস্থায়। কারণ, প্রশাসনগুলোতে হলুদ সাংবাদিকদের ভিড়ে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের চেনা কষ্টকর হয়ে পড়ে ।
আমাদের এই সাংবাদিক সমাজ থেকে কি হলুদ সাংবাদিক বিতাড়িত করার কোন উপায় কি নেই, নেই কি কোন প্রচেষ্টা? যদি আমরা সবাই একটু সচেতন হই তবে তাদের তৎপরতা কমে আসবে বলে আমি মনে করি। (লিখেছেন : সোয়েব উদ্দিন কবীর সোহেল, লন্ডন।)
]]>
<