somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুড়ি ছেঁড়ার দিন

২২ শে জুন, ২০১০ ভোর ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


০১.
বিকেলের কোল থেকে ঝুপ করে যখন নিস্তব্ধ সন্ধ্যাটা নেমে আসে চোখের পাতায় আমি তখন টানা বারান্দায় দুই পা মেলে স্থির হয়ে বসে চক্ষু মুদে বাঁশি বাজাই। সব সন্ধ্যার আকাশের রং আমাকে ছুঁতে পারে না। আমাকে ছোঁয় সাদা, ছোঁয় কালো আর ছোঁয় আলো। কখনো দূর থেকে ঝাপসা চোখে ছোপ ছোপ আলো দেখতে পাওয়া যায় কিছু পতঙ্গের শরীরে - তাদের নাম জোনাকি। কাছে গেলেই সে আলো উধাও। অনির্বাণ আলোর মশাল দেখতে পাওয়া দুরূহ। অন্ধকারের ভেতর দিনরাত্রির পালাবদলে আমার চোখ তাই অন্ধকারেই সমাহিত। অন্ধকারের রং কালো। এক হাজার একটা রাত্রি নিঃশব্দে জাগরণের কালে আমি রাতের আঁধারের বুক থেকে ছিনিয়ে নেই এক টুকরো জোনাক আলো আর তাকে বেঁধে রাখি চোখের কোটরে। সেই আলোয় আমি আঁধার দেখি,আঁধার চিনি,আঁধারকে ভালবাসি.........
শুধু তাকে ছুঁই না!

০২.
কেউ কেউ বলে তাদের চোখের ভেতর বাসা বেঁধে থাকে স্বপ্ন। আমি স্বপ্ন দেখতে পারি না। আমার চোখের ভাঁজে তারা বাসা বাঁধেনি কখনো। আমি শুধু কিছু চিত্রকল্প দেখি বা আঁকি। শরত আকাশের শাদা মেঘ থেকে কিছু শুভ্রতা আমি চুরি করে আনি তাদের গায়ে মাখাব বলে। তাদের গায়ে জলের দাগ থাকে না,থাকে না রাতচেরা অন্ধকার অথবা কোনো হিমশীতল বায়ুপ্রকোষ্ঠ। ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক আলোক অভিসারী সূর্য - আমি তাকে টাঙিয়ে দেই চেতনার শূন্য দেয়ালে, সেখানে সে ঝুলে থাকে অবিনাশী রাত জাগা নক্ষত্র হয়ে। নক্ষত্রেরও যেমন আছে মৃত্যু - তেমনি তাদের মৃত্যু হলে আমি ঘুম ঘুম চোখে জলের দাগ মুছে ফেনিল সাগরে ডুব দিয়ে তুলে আনি একরাশ মুক্তোবিহীন শামুক। শামুকের পিঠে লিখে রাখি স্মৃতিভ্রষ্টের তন্দ্রালিপি..........আর রংধনুর স্লেট থেকে মুছে দেই সব পটে আঁকা ছবি.........

০৩.
সবাই জানে পরমের অস্তিত্ব অনুপস্থিত পৃথিবীতে। মানে না প্রায় কেউই। পরমকে ভালবাসে সবাই এবং হতে চায় পরম - শুধু ভুলে গিয়ে যে আমরা জন্ম থেকেই এক একটি আপেক্ষিক উপাদান। এবং আপেক্ষিক আমাদের পৃথিবীও। যা নেই তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ স্বাভাবিক এবং তা দুর্নিবার। সুতরাং আমরা ভ্রান্তিতে ডুব দিয়ে কল্পনার বেনোজল থেকে অবাক জলপান করতে ভালবাসি। অবশেষে মরীচিকার কাচের দেয়ালে সশব্দে ধাক্কা খাবার পর আমরা অদৃষ্টকে অভিসম্পাত করে প্রমান করতে চাই - আমাদের পরম জীবন্ত ছিল।
মানুষ সবচাইতে ভ্রমগ্রস্থ প্রাণী।
আমি তা জানি।
তবু আমি মানুষ হয়ে রইলাম.......এবং আমরা মানুষই হয়ে রইলাম.......

০৪.
আমার হাতে তিনটে ঘুড়ি ছিল। সবুজ, শাদা ও নীল। আমি জানতাম আমি নাটাই ধরে রাখতে জানি শক্ত করে আর ঘুড়িগুলো সব উড়িয়ে দেই মুক্ত আকাশে ঝিলমিল তারার মত। ঘুড়িদের রং বদলানো আমার চোখে দুঃসহ তবু ঘরে ফেরার পর একদিন দেখি সবুজ ঘুড়ির রং কালো, শাদা ঘুড়ি বেগুনি আর নীল ঘুড়ি ফ্যাকাশে। আমি চেয়েছিলাম আমার শাদা ঘুড়ি হোক শাদা ,সবুজ ঘুড়ি সবুজ ও নীল ঘুড়ি নীল। আমার রঙের বাক্স হারিয়ে গিয়েছিল চিরতরে .....তাকে আমি আর খুঁজে পাইনি কখনো।
অতঃপর আমি নাটাই ফেলে ঘুড়িগুলো একে একে ছিঁড়ে চিরদিনের মত উড়িয়ে দিয়েছি আকাশে.........কেননা রং বদলানো ঘুড়ির নাটাই কখনো ধরে রাখতে নেই........তারা অভিশাপ হয়ে সর্পের মত দংশন করে!
এখন আমার হাতে ঘুড়ি নেই কোনো।
ঘুড়ি ছেঁড়ার দিনকে আমি ভয় করি।
কেননা দিনগুলি একফালি শিরীষের মত আমার সমস্ত রং নিংড়ে নিয়ে আমাকে নিঃশেষ করে রেখে গেছে শিউলিফুলের বনে..........
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১০ সকাল ১০:৩১
৬৭টি মন্তব্য ৬৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×