somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফয়সালের দূর্ঘটনা ও বার্ন ইউনিট ডি এম সি।

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৬ই নভেম্বর বৃহ: বিকালে আমার স্ট্রাকচার কুইজ ছিলো। কিছুই পড়ি নাই আগে। ফাইলও ইনকমপ্লিট। তাই সকাল সকাল রশীদ হলে চলে আসলাম। ২০১১ তে যেয়ে দেখি রুম বন্ধ। পোলাপাইন এক্সট্রা ক্লাসে গেছে। যারা নিয়মিত ক্লাসই করে না তাগো হঠাৎ এক্সট্রা ক্লাস করার ঝোঁক উঠলো ক্যান বুঝলাম না। কি করবো ৫০০৫-এ গিয়ে ফয়সাল এর রুমে বসলাম। ও তখন ফাইল লিখছিলো। আমার সাথে কথা হলো অনেকখন। বললো শুক্রবার ওর ছোট বোনের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা। সে আজ চট্রগ্রাম যাবে এবং তার বোনকে কেন্দ্রে নিয়ে যাবে। তারপর আমাকে রেখে সে চলে যায় স্যারের সাথে দেখা করতে। তখনো আমি জানি না ওর জন্য কি দূর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে।

রাতে নজরুলে গরু খাওয়া উৎসবে গিয়েছি। ওখানেই শুনি ফয়সালের দূর্ঘটনার কথা। আমরা তখনো জানি না এসিড ভর্তি ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষের কথা। শামসকে ফোন করে জানতে পারলাম ফয়সাল আউট অফ ডেন্জার। কুমিল্লার সি এম এইচে আছে। আমি মনে করেছি, হাত-পা বোধ হয় ভেঙেছে। অবশ্য শুধু আমি না, আমরা সবাই প্রথমে তাইই মনে করেছিলাম। রাতে দশটার দিকে খবর পেলাম ফয়সালের শরীর এসিডে পুরে গ্যাছে এবং তাকে ঢাকা মেডিকেলের ডি এম সি তে আনা হচ্ছে। এবং এই দূর্ঘটনায় ১০ জন মারা গেছে।

বার্ন ইউনিটে গেলাম। আগে কখনো যাইনি। চারটা এম্বুলেন্সে আহতদের আনা হলো। একটা বাচ্চা ও একজন মহিলাকে আনা হয়েছে চাটাই বেঁধে। তাদের শরীর এসিডে এমন ভাবেই ঝলসে গ্যাছে যে শরীর থেকে মাংস খুলে খুলে পড়ে এই অবস্থা।তাই চাটাই দিয়ে বাধা হয়েছিলো। এদের তুলনায় ফয়সালকে অনেক কম আহত মনে হলো। তবুও যা হয়েছে খুব একটা কম নয়। ফর্সা, গোলগাল শরীরটা পুড়ে কালো হয়ে গ্যাছে। তবুও সে আমাদের সহযোগিতায় হেটে বার্ন ইউনিটে প্রবেশ করে। বেড পেলাম না। মেঝেতে ব্যাবস্থা করতে হলো। আদনান সে তার বাসা থেকে তোষক, বালিস ইত্যাদি ব্যবস্থা করে। ডিউটিরত ডাক্তার বললেন, ৪০% বার্ন। শুধু একটা চোখ আশঙ্কাজনক, টেষ্ট করাতে হবে। আর আপাতত ড্রেসিং করে দিলেন্

পরদিন শুক্রবার গিয়ে দেখি আজব!! একটা ডাক্তারও নাই। চোখের টেষ্ট করাতে আই ইউনিটে নিতে হবে। কোন ওয়ার্ড বয় নেই যে ট্রলি ইত্যাদি ব্যাবস্থা করবে। আমরাই ট্রলি ব্যবহার করে ঠেলে ১৩ নং ওয়ার্ড। আই ইউনিটে নিয়ে গেলাম। এখানেও ডাক্তার নেই। নার্সের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ডাক্তারকে ফোন করা হলো। তিনি এসে একটা আই ড্রপ লিখে দিলেন।টেষ্ট আজকে করা যাবে না বলে জানালেন। শুক্রবারটা এমনি গেল। পিজিতে নিয়ে টেষ্ট করাতে চাইলাম। পিজিও বন্ধ শুনলাম।

শনিবার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া গেল। লবিং করে একটা বেড ম্যানেজ করা হলো। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানালেন আসলে চামড়ার ৬০% ডেপথ পুরে গ্যাছে। যেখানে ৫০-৫৫% হলেই কেস সিভিয়ার। একটা চোখ ৮০%। ৫ টি ইমিডিয়েট সার্জারী প্রয়োজন। এবং প্রায় ১০-ৃ৫ লাখ টাকা লাগবে। বর্তমানে সম্পূর্ন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ২০-২৫ লাখ টাকা। ওকে স্পেশাল কেয়ার ইউনিটে নেয়া হলো। কিন্তু ওর সেবা ঠিক মতো হচ্ছিলো না। দিনে একবার ড্রেসিং করতে বলা হলেও ওরা দুই দিন পর পর ড্রেসিং করছিলো। তাই গতকাল ওকে সিটি হসপিটালে ট্রান্সফার করা হয়।

এসিডের ব্যাপারে বলতে হয়, ফিল্টার পানির নীল প্লাস্টিকের বোতলগুলাতে করে এসিড নেয়া হচ্ছিল। ১০০% ওলিয়াম। ডায়ালুটেটেডও না। কি করে সম্ভব!!!!????? এ রকম একটা ব্যাস্ত মহাসড়কে!!!

যাই হোক বার্ন ইউনিটের গন্ধ আমার শরীরে এখনো লেগে আছে।
ফয়সালের জন্য দোয়া করবেন। ওর ফ্যামিলি ফাইনানসিয়ালি এত স্ট্রং না। বাবা প্যারালাইজস। দুই ভাইবোনের মধ্যে ও সবার বড়। থাকতো চট্রগ্রামে। এখানে রশীদ হলে ৫০০৫-এ থাকতো। বুয়েট লাইফ প্রায় শেষ…শুধু পরীক্ষা বাকি……জীবনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো হয়তো তার। তার স্বপ্নগুলোকে যে বাঁচাতেই হবে।
(বুয়েট যাচ্ছি…..রাতে আবার বসবো ইনশাল্লাহ।)
১৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×