
হঠাৎ ঘরটা গুম গুম শব্দে কেপে উঠলো। আমি চমকে উঠলাম। ঘাড় ফিরিয়ে দেখি ঘরের এককোনে ধোয়া, আর চৌকোনামত একটি জিনিসের অবয়ব আস্ত আস্তে প্রস্ফুটিত হচ্ছে। জংবাহাদুরকে দেখলাম আবার ত্যাক্ত হতে। সে বিরক্ত মুখে চায়ের মগটা নামিয়ে লাফ দিয়ে উঠে ফ্যানে ঝুলে ডিগবাজী দিয়ে পৌছে যায় ঘরের অপর দিকে একটা কি বোর্ডের মত মেশিনের কাছে। তারপর কি যেন টিপাটিপি করে, একটা লিভার ঘটাং করে টেনে দেয়।
আমি অবাক হয়ে দেখলাম চৌকনা জিনিসটা আস্তে আস্তে পরিস্কার হচ্ছে। শব্দও কিছুটা কমে যাচ্ছে। তারপর খেয়াল করলাম জিনিসটা একটা লিফটের মতো ধাতব বাক্স। আমি কৌতুহলী চোখে জংবাহাদুরের দিকে তাকালাম। সে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে ছিলো কি ঘটে সেই দিকে।
হঠাৎ করে নিরবতা নেমে আসে। আমি ততক্ষনে উঠে দায়িয়েছি। জিনিসটা এবার স্পষ্ট। একটা লিফটের মতো ধাতব মেশিন। দড়জাও আছে মনে হয়। সে ধাতব মেশিনের ভেতর হতে ধুরুম ধারুম আওয়াজ আসতে থাকে। আমি এগিয়ে যাই ভয়ে ভয়ে। ঠিক সে সময়ই মেশিনের দড়জা খুলে গেল আর একরাশ ধোয়ার কুন্ডলী পেচিয়ে বেড়িয়ে আসলেন সফদর আলী। তার কপালে ঘাম চিক চিক করছে। কিছুক্ষন আমার দিকে পিট পিট করে তাকিয়ে থাকার পর তার মুখে হাসি ফুটলো।
-এসেছেন, একটু কষ্ট করে ধরুন তো ভাই।
কি জিনিস ধরতে বলছেন, সেটা বুঝলাম না। তবে একটু এগিয়ে বুঝলাম মেশিনের ভেতরে এটা একটা চালের বস্তা।
আমি জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতেই, সফদর আলী লাজুক হেসে বললেন, শায়েস্তা খার আমলে গিয়েছিলাম তো!! সস্তায় পেয়ে গেলাম। এখন চালের যে দাম!!
আমি এখনো হা করে তাকিয়ে আছে দেখে বললেন, কি হলো ....ও!! বুঝেছি....এইটা আমার নতুন আবিষ্কার। কালভোম। মানে আপনাদের ভাষায় টাইম মেশিন।
আমার হা টা একটু বড় হলো............
চলবে..........
চরিত্র পরিচিতি
সফদর আলীঃ একজন নিভৃতচারী বিজ্ঞানী
জংবাহাদুরঃ জাতিতে হনুমান। সফদর আলীর ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট
আমিঃ লেখক, মুহম্মদ জাফর ইকবাল(এই গল্পে আমি নকীব)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



