কষ্ট পর্ব
অফিসে মস্ত বড় একটা ঘন্ডগোল লেগেছে।
সমস্যাটা ধরতে পারছে না নেছার নাইম মীর।
একটার পর একটা উইকেট পড়ে যাচেছ। শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড দলে যেভাবে ডাইরিয়া লেগেছে ঠিক সেভাবে।
বাঘের বাচ্চারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে হোয়াইশ ওয়াশ করল ক্যাঙ্গারুদের।
অফিসটাকে একবার হোয়াট ওয়াশ করে দেয়া যায় না।
যাবেই বা কেমন করে । সারাদিন শুধু কাজ কাজ। কাজের শুরু আছে শেষ নাই। প্রতিদিনই মনে হয় গোল হবে গোল হবে।
কিন্তু না শেষ পর্যন্ত বল চলে গেল মাঠের বাইরে।মাঝে মাঝে সিডর বয়ে যায়।
মীর ভাবে চাকুরীতে জয়েন করে সে কড়াই সিদ্ধ হওয়া মাছে মতোর মতো লাফিয়ে অগুনে পড়ল।
চিত্তের আগুন তাকে চিতার আগুনের মত পুড়ে চাই করে দিচ্ছে। রক্ত মাংস আর চর্বি পুড়লে যেমন গন্ধ ছড়ায় ঠিক তেমনি গন্ধ ছড়াচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায়।
বিনা কারনে তার মন খারাপ।
তাকে মূল্যায়ন করছে না কেউ। পিএইচডি করে এসে এই পচা নর্দমার গন্ধ তার্ একটু্ও ভালো লাগে না।
তার ভাগ্য খারাপ। সে ভাবে একটা আর হয় আর একটা।
মীর অফিস থেকে বের হয়ে রোবটের মত ছুটছে একটি বিড়ি ফুকতে।
মোড়ের দোকান থেকে ব্লাক সিগারেটটি হাতে নিয়ে ঠংয়ের চায়ের দোকানে গিয়ে বসে।
আনমনে চায় চুমুক দেয়। ফুটন্ত চায়ের উত্তাপ ঠোট ও জিব পুড়িয়ে দেয়।
ওয়াক করে চা ফেলে দেয় পাশের ডোবায়।
পুড়ে যাওয়া জিব তালুর সাথে লেগে জ্বলে উঠে বারুদের মত।
গাইল পাড়ে গরীব তবিজ আলীকে। এই ব্যাটা কি চা বানিয়েছিস জিব পুড়ল কেন।
গাইল খেয়ে তবিজ আলী চুপ মেরে যায়।
মীর রাগে কাপটা ছুড়ে মারে ডোবায়।
হা করে দম নিতে থাকে। অফিসে বসের দমকি খেয়ে বেহুদা রাগ ঝারে গরীব টং দোকানীর উপর।
চায়ের দাম না দিয়ে চলে আসে।
চায়ের দাম চাইতেও সাহস পায় না তবিজ আলী।
তবিজ আলী বয়স ষোল কি সতের।
সারাদিন চা বানায়।
কম দামে চা বেচে।
কম লাভ অধিক বিক্রি অধিক মুনাফা পদ্ধতিতে চলে সে।
এখনও দুই টাকা কাপ চা পাওয়া যায় এটা ভাবতে পারেনি এন এন মীর। খোলা বাজারে চা খেতে তার রুচি হয় না।
একটা কাপে কতগুলো লোকের ঠোট লাগে। থুথু লাগে। এভাবে সংক্রমাক রোগ ছড়াতে পারে।
সে চা খেতে গেলে চিতকার দিয়ে বলে
এই ব্যাটা তবিজ
কাপটা
গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দে।
চা খায় আর ভাবে
কোথায় আসলাম।
মনে মনে বলে, এক আজব দেশ রে বাপ।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা নৌকায় করে টয়লেট করতে যায়। নৌকায় করে বাড়ী থেকে আসে।
নৌকাই জীবন।
চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
বুনো জঙ্গলের মাঝে সাদা বকের ঝাক এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়।
গত সপ্তাহে মীর বাজারে গিয়ে পাখিয়ালকে বক আনতে বলে। অথচ সে ঘুম থেকে উঠে বেলা বারোটায। ততক্ষনে বেচারা বাড়ীতে।
জুমারা নামাজটাও মিস হয়ে গেল।
সারস পাখির মাংস খাওয়া ইচ্ছা শিকায় তোলা রইল।
(এই লেখার প্রতিটা চরিত্র কাল্পনিক। জীবিত বা মৃত কোন ব্যাক্তি কোন ঘটনার সাথে মিল খুজে পেলে কাকতালীয় ব্যাপার মাত্র। এর জন্য লেখক দায়ী নয়।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

