তোমাদের এখান থেকে শেখার আছে অনেককিছু । ব্লগে তো তোমরা অভ্যস্থ নও ।
তবু যারা এখনও তাদেরই অনুসরনে আগামী প্রজন্মের ক্ষতিতে মগ্ন তাদের বলি ,তোমরা বালের রাজনীতি কর ।
বারাক ওবামার বিজয়-ভাষণ
ইলিনয়ের সমর্থকদের প্রতি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
শিকাগো, ইলিনয়, ৪ঠা নভে¤¦র -- আমেরিকান নাগরিকরা ইলিনয়ের সিনেটর বারাক ওবামাকে ৪৪তম
প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করেছে। শিকাগোর একটি পার্কে নির্বাচনের পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি এক
ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
ভাষণের ট্রান্সμিপ্ট নিচে দেওয়া হলো।
(ভাষণ শুরু)
হ্যালো, শিকাগো
আমেরিকা সব সম্ভবের দেশ নয় এতে সন্দেহ করার মতো এখনো যদি কেউ থেকে থাকেন, যিনি এখনো
সন্দিহান যে আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স¦পড়ব আজো বেঁচে রয়েছে কিনা, আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি নিয়ে প্রশড়ব তোলার
মতো এখনও যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে বলি আজকের রাত আপনাদের জবাব দিচ্ছে।
সে জবাব ছড়িয়ে পড়েছে স্কুল আর গির্জার চারদিকের দীর্ঘ সারিতে, জাতি এমন কখনই দেখেনি। যারা
তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকেছে, যারা চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছে, যারা জীবনে এই প্রথমবারের মতো, সেই সব
মানুষ তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ছড়িয়ে দিচ্ছে, কেননা, তারা বিশ্বাস করেছে এবার অবশ্যই ভিনড়ব রকম কিছু হতে যাচ্ছে,
তারা এবার ভিনড়বতার আওয়াজ তুলতে পারবে।
এই জবাব দিচ্ছেন জোয়ান-বুড়ো, ধনী-গরিব, ডেমোμেট-রিপাবলিকান, সাদা-কালো, হিস্পানিক-এশীয়,
আদি-আমেরিকান, সমকামী-বিষমকামী, সবল-প্রতিবন্ধী সকলেই। আমেরিকার নাগরিকেরা পৃথিবীর কাছে বার্তা
পাঠাচ্ছে যে আমরা শুধু কিছু ব্যক্তিমানুষের সমাবেশ নই, কিংবা আমরা লাল আর নীল অঙ্গরাজ্যের কেবল একটা
গুচ্ছ নই।
আমরা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, আর সব সময়ই আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো।
বহুজনই এতদিন বলে আসছিলেন নৈরাশ্যবাদের কথা, ভীতিগ্রস্ত আর সন্দেহবাতিকের কথা যে তাদের
হাতে এমন কী আমরা তুলে দিতে পারবো যা ইতিহাসের খিলানে লিখে রাখার মতো হবে, এমন কোন সমৃদ্ধ
জীবনের কাছে নিয়ে যাবার আশা দেখানোর মতো রয়েছে, আজ তারা তাদের প্রশেড়বর জবাব পাচ্ছেন।
২
সেদিন আসি আসি করছিল বহুকাল ধরে, আর তার আসা হলো এই আজকের রাতে। আজ আমরা তা
করেছি, এই নির্বাচনে। এই লগড়বনির্দ্ধারণী সময়ে। আমেরিকায় পালাবদলের কাল এলো।
খানিক আগে আজ সন্ধ্যায়, সিনেটর ম্যাককেইনের কাছ থেকে আমি এক অভাবিত রকমের হৃদয়
উষ্ণকারী ফোন পেলাম।
সিনেটর ম্যাককেইন এই নির্বাচনী যুদ্ধে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই করেছেন। তার প্রিয় দেশের জন্য তার
লড়াই আরো অনেক বেশি দীর্ঘ আর তীব্রতর। আমেরিকার জন্য তাঁর যে ত্যাগ, আমাদের অনেকের পক্ষে এমন
কি তা কল্পনা করাও কঠিন। এই সাহসী ও নিঃস¦ার্থ নেতার কর্মফলের কারণেই আমরা আজ এত সমৃদ্ধ অবস্থায়
রয়েছি।
তাঁকে আমি অভিনন্দন জানাই; অভিনন্দন জানাই গভর্নর পেলিনকে, তাঁদের যত অর্জনের জন্য। জাতির
প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার তা নতুনভাবে বাস্তবায়নে আগামী মাসগুলিতে তাঁদের সাথে মিলেমিশে কাজ শুরু
করার জন্য আমি অপেক্ষায় রয়েছি।
আমার এই পথযাত্রার সঙ্গীকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, যে মানুষটি সংগ্রাম করেছেন হৃদয় থেকে, যে
মানুষটি কথা বলেছেন স্কার্নটনের নরনারীর পক্ষে - যাদের সাথে তিনি মিলেমিশে বড় হয়েছেন, যাদের সঙ্গী হয়ে
ডেলাওয়ারের রেলে তিনি বাড়ি ফিরেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্বাচিত ভাইস-প্রেসিডেন্ট সেই জো বিডেনকে।
আর আজ রাতে এই যে আমার এখানে হাজির হতে পারার সুযোগ, এটি সম্ভবই হতো না যদি না আমি
μমাগত ষোলোটি বছর ধরে আমার শ্রেষ্ঠতম বন্ধু মিশেল ওবামার সাহায্য পেতাম, যিনি এ জাতির পরবর্তী
ফার্স্টলেডি হতে যাচ্ছেন, যিনি আমার পরিবারের শিলাস্তম্ভ, আর আমার জীবনের ভালোবাসা।
সাশা আর মালিয়া, কত যে তোমাদের ভালোবাসি আমি তোমরা তা ভাবতেও পারবে না। তোমরা এক
নতুন পাপি পেয়েছো যে আমাদের সাথে নতুন হোয়াইট হাউজে আসছে।
তিনি আজ নাই, কিন্তু আমি জানি আমাদের সাথে না-থেকেও আমার দিদিমা আজ সবকিছু দেখতে
পাচ্ছেন, বাড়ির আর সবার সাথে আমার এই আমিকে যারা গড়ে তুলেছেন। আজ এই রাতে তারা সাথে নাই, মন
বড় হাহাকার করছে। আমি জানি, তাদের কাছে আমার যে ঋণ তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
মায়া আর আলমা, আমার বোনেরা, আমার সব ভাইবোনেরা, তোমাদের ধন্যবাদ আর ধন্যবাদ। তোমরা
আমার জন্য অনেক করেছ। আমি সেজন্য কৃতজ্ঞ।
ডেভিড প−ুফ আমার নির্বাচনী কর্মাধ্যক্ষ, এই ক্যাম্পেইনে তিনি এক গুণকীর্তনহীন বীরপুরুষ; আমেরিকার
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম নির্বাচনী যুদ্ধের তিনি নির্মাতা, আমি তাই মনে করি।
৩
রণকৌশলের প্রধান রূপকার ডেভিড এক্সেলরড আমার যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে সাথী ছিলেন।
রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাচনী যুদ্ধের শ্রেষ্ঠতম দলটির প্রতি বলছি, তোমরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছ; এটি
ঘটিয়ে তুলতে তোমরা যে ত্যাগ স¦ীকার করেছ, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।
কিন্তু সবার উপর তাদের বলছি, যাদের আমি কখনও ভুলবো না, এই বিজয় সত্যিকার অর্থে যাদের
পাওনা। এই বিজয় তোমাদের, এই বিজয় তোমাদের।
এই পদমর্যাদার প্রার্থী হতে কখনই আমি যোগ্য ছিলাম না। শুরুতে আমাদের না ছিল টাকা-কড়ি, না ছিল
সমর্থকগোষ্ঠী। ওয়াশিংটনের কোনো সভাকক্ষে আমাদের নির্বাচনী যুদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রণীত হয় নাই। এই সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে ডেস ময়নেসের পিছনকার আঙিনায়, কনকর্ডের শোবার ঘরগুলোয় আর চার্লস্টোনের বারান্দায়
বারান্দায়। সেইসব মেহনতি মানুষ, শ্রমজীবী নারী ও পুরুষ এটির প্রণয়নকারী যারা তাদের সঞ্চয়ের পাঁচ ডলার
দশ ডলার বিশ ডলার খুঁড়ে খুঁড়ে বার করে এনেছেন, এই কাজ সম্ভব করার জন্য জমিয়ে তুলেছেন।
সেই তরুণদের কাছ থেকে শক্তি এসেছে যারা তাদের জমানার মানুষের উদাসীনতার মিথকে পরাজিত
করেছে, পরিবার-পরিজন ফেলে এমন এক কাজে তারা যোগ দিয়েছে যে কাজ তাদের দিয়েছে সামান্যই অর্থ,
ঘুমাবার জন্য সামান্যই সুযোগ।
শক্তি এসেছে সেসব অনতি-তরুণদের কাছ থেকে যারা তীব্র শীত আর কাঠপোড়ানো রোদ মাথায় করে
অজানা-অচেনা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দেবার সাহস করেছে এবং শক্তি এসেছে আমেরিকার লক্ষ-কোটি
বাসিন্দাদের কাছ থেকে যারা বিনা-পারিশ্রমিকে সংগঠিত হয়েছেন এমন একটি সরকার তৈরি করার জন্য, যে
সরকার সত্যিকার অর্থেই জনগণের মধ্য থেকে, জনগণের দ্বারা তৈরি হওয়া, আর জনগণেরই জন্য, দুই শত
বছরের বেশি সময় পার করে দেবার পরও যে সরকারের ধারনা মরে যায় নাই।
এই বিজয় আপনাদের।
আর আমি এটাও জানি, আপনারা শুধু নির্বাচনে জেতার জন্যই এটা করেন নি। এটা আপনারা আমার
জন্যও করেন নি।
আপনারা এটা করেছেন, কেননা, আপনারা জানেন কী বিশাল কর্মযজ্ঞ সামনে রয়েছে। আজ এই যে
বিজয়রজনী উদযাপন করছি আমরা, আমরা জানি, আগামী কালই আমাদের দাঁড়াতে হবে জীবনের তীব্রতম
চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করার জন্য, দুইটি যুদ্ধ আর ভয়ঙ্কর এক হুমকির জগৎ আমাদের সামনে রয়েছে; রয়েছে
শতাব্দির সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সঙ্কট।
৪
আজ রাতে আমরা এখানে সমবেত, আমরা জানি আমেরিকার সাহসী সৈনিকেরা এখন ইরাকের
মরুভূমিতে জেগে রয়েছে, তারা জেগে আছে আফগানিস্তানের পর্বতে পর্বতে, শুধু আমাদের জন্য তাদের জীবন
বিপনড়ব করছে তারা।
রয়েছেন সেসব মায়েরা আর বাবারা যারা তাদের ঘুমন্ত সন্তানের পাশে শুয়েও দুশ্চিন্তায় বিনিদ্র, কেমন
করে তারা মর্টগেজের কিস্তি মিটাবেন, কিংবা চিকিৎসা-খরচের বিল শোধ করবেন, কী করে সন্তানদের কলেজের
খরচ জোগাবেন, এই সব ভেবে ভেবে।
শক্তির নতুন উৎস কব্জা করতে হবে, নতুন কর্মসুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, নতুন নতুন ¯কুল স্থাপন করতে
হবে, আর মোকাবেলা করতে হবে যত হুমকির; বন্ধুদের সাথে টুটে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
সামনে পথ সুদীর্ঘ। উঠতে হবে আমাদের খাড়া পথ বেয়ে। এক বছরে, এমন কি এক বারের মেয়াদেও
আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না হয়তো। কিন্তু, আমেরিকা, আমরা যে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবো সে বিষয়ে
আজ রাতের মতো এত আশাবাদী আমি আগে কখনই হই নি।
আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আমরা একত্রিত জনগণ হিসাবে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবোই।
আসতে পারে বাধাবিপত্তি, ভুল যাত্রাও ঘটতে পারে। প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি যে সব সিন্ধান্ত ও নীতি
গ্রহণ করবো, অনেকেই হয়তো তার প্রত্যেকটি মেনে নেবেন না। আর আমরা এটাও জানি সরকারের একার পক্ষে
সমস্ত সমস্যা মিটানোও সম্ভব নয়।
কিন্তু বিপদ মোকাবেলা সম্পর্কে আমি সব সময়ই আপনাদের কাছে সততা রক্ষা করে চলবো। আমি
আপনাদের কথা শুনবো, বিশেষ করে তাদের কথা, যাদের ভিনড়বমত থাকবে। সর্বোপরি, আমি আপনাদের বলবো,
জাতির পুনর্গঠনের কাজে আসুন একসাথে যোগ দেই, ২২১ বছর ধরে একমাত্র যে উপায়ে তা করা হয়েছে,
ধুলাকাদা মাখানো হাতে ইটের পর ইট বসিয়ে একটির পর একটি ব−ক যেভাবে তৈরি করা হয়।
২১ মাস আগে আমরা গভীর শীতে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, এই শরতের রাতে তার সমাপ্তি টানা যাবে,
মোটেই তা হবার নয়।
আমরা পরিবর্তন চাই, কেবল আজকের এই বিজয়টুকু নয়। সেই পরিবর্তনকে সম্ভব করে তোলার জন্য
এই বিজয় একটা সুযোগ পাওয়া মাত্র। সেই পরিবর্তন আনতে হলে বিগত দিনগুলিতে যেমন করা হয়েছে সেসব
পন্থার কাছেও ফিরে যাওয়া যাবে না।
আপনাদের বাদ দিয়ে তা করা সম্ভব হবে না। নতুন উদ্দীপনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। প্রয়োজন ত্যাগ
স¦ীকারের নতুন মনোবল।
৫
কাজেই, চলুন, দেশপ্রেমের নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলি। নতুন দায়িত্ববোধের জন্য মনকে তৈরি করি।
নতুন কর্মক্ষেত্রে আরো অধিক কঠোর পরিশ্রম করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে আসুন আমরা প্রত্যেকেই দৃঢ় অঙ্গীকার
করি। আমরা কেবল নিজ নিজ দিকটাই দেখবো না, প্রত্যেকেই আমরা প্রত্যেকের স¦ার্থ দেখবো।
অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে যদি কোনো শিক্ষা আমরা পেয়ে থাকি, আসুন তা স¥রণ করি। কেবল ওয়াল
স্ট্রিটের সমৃদ্ধিলাভ ঘটলো আর প্রধান সড়ক হতদরিদ্র হয়ে থাকলো, তাতো হতে পারে না।
এই দেশে আমাদের যখন উত্থান হয়, সবাই মিলে তখন যেমন এক জাতি হিসাবেই থাকি, তেমনি যদি
পতনের ব্যাপারও ঘটে, তখনও আমরা একই জনগণ হিসাবে এককাট্টা থাকি। কেবল নিজ দলের স¦ার্থ দেখার
মতো লোভ যেন আমরা সামাল দেই, এই নীচ আর অপরিপক্ক মানসিকতা দীর্ঘদিন আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনকে
বিষময় করে রেখেছে।
আসুন স¥রণ করি যে, এই রাজ্য থেকে প্রথম এক ব্যক্তি রিপাবলিকান পার্টির পতাকা হোয়াইট হাউজে
নিয়ে যান, যে পার্টি আত্মনির্ভরতা, ব্যক্তিস¦াধীনতা আর জাতীয় ঐক্যের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সেই
মূল্যবোধে আমাদের সকলের দায়ভাগ রয়েছে। আজ রাতে ডেমোμেট পার্টির বিশাল বিজয়-উৎসব উদযাপিত
হচ্ছে, এই উৎসবে আমরা নিজেদের বিনম্র রাখবো; দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবো আমাদের বিভক্তি সারিয়ে তুলতে যা
আমাদের উনড়বতি আটকিয়ে রাখছে এতদিন।
আজকের দিনের চাইতে আমাদের জাতি যখন অনেক বেশি বিভক্ত ছিল, তখন লিঙ্কন যেমন বলতে
পেরেছিলেন, আসুন তেমনি বলি, আমরা শত্র“ নই, আমরা বন্ধু। যদিও আবেগ আমাদের বাধাগ্রস্ত করবে, কিন্তু তা
যেন কোনোভাবেই আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক টুটে না দেয়।
যেসব আমেরিকাবাসীর সমর্থন পাবার জন্য এখনো আমি অপেক্ষমান, আজ রাতে হয়তো আমি
আপনাদের ভোট পাই নি, কিন্তু আপনাদের কথা আমি শুনবো। আমি আপনাদের সাহায্য চাই। আমি তো
আপনাদেরও প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছি।
দেশের বাইরে সুদূর থেকে যারা আমাদের আজ দেখছেন, যারা আমাদের দেখছেন সংসদভবন কিংবা
প্রাসাদ থেকে, কিংবা যারা অনামা ভূখণ্ডে গাদাগাদি করে বসে আছেন রেডিওর চারপাশে, আমাদের প্রত্যেকের
সমস্যা ভিনড়ব ভিনড়ব রকমের, কিন্তু আমরা একই ভাগ্যের ভাগীদার। আমেরিকায় নতুন সকাল আনার নেতৃত্ব এখন
আপনার হাতের কাছে।
যারা চাচ্ছো, যারা চাচ্ছো পৃথিবীকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে, আমরা তোমাদের পরাস্ত করবো। যারা চাচ্ছেন
শান্তি আর নিরাপত্তা, আমরা তাদের সাহায্য করবো। যারা ভাবেন আমেরিকার আলোক-স্তম্ভের দ্যুতি এখনো
৬
আগের মতো উজ্জ্বল রয়েছে কিনা, আজ রাতে আমরা আরেকবার প্রমাণ দিলাম, আমাদের জাতির প্রকৃত শক্তি
অস্ত্রবল আর ধনবল থেকে আসে না, বরং μমাগত বয়ে চলা এক আদর্শ যা হলো - গণতন্ত্র, স¦াধীনতা, সুযোগ
আর অদম্য আশাবাদ - আমাদের শক্তির উৎস।
আমেরিকার প্রকৃত শক্তি এই যে আমেরিকা বদলাতে পারে। আমাদের রাষ্ট্রসংগঠনে আরো বেশি
সংশোধন আনা সম্ভব। আমরা ইতোমধ্যে যা অর্জন করেছি, তাই আমাদের আশাবাদী করছে যে আগামীতে আমরা
অনেক বেশি কিছু অর্জন করবো, এবং অবশ্যই তা আমরা পারবো।
এই নির্বাচন অনেকের জন্য প্রথমবারের, অনেক গল্প যুগ যুগ ধরে বলা হবে। কিন্তু আজ রাতে আমার
মনে রয়েছে আরেকজনের কথা, তিনি এক নারী। তিনি আজ আটলান্টায় ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাগ্য আরো
লক্ষজনের মতোই। তিনিও তাদের মতো এই নির্বাচনের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, নিজের কথা যেন নিজেই বলা যায়
এই একটি মাত্র কথা জানাবার জন্য: তিনি এ্যান নিক্সন কুপার, বয়স ১০৬।
দাসযুগ সমাপ্তির এক যুগ পরই তাঁর জন্ম। সে সময় রাস্তায় গাড়ি ছিল না, আকাশে ছিল না উড়োজাহাজ,
তাঁর মতো যারা তখন আরো ছিল, তারা ভোট দিতে পারতেন না। দুটো কারণে তা পারা যেতো না, একটি হলো
তারা নারী আর অন্যটি হলো তাদের চামড়ার রঙ।
তাঁর শতাব্দি জুড়ে তিনি আমেরিকায় কী কী দেখেছেন, আজ রাতে আমি সেসব কথা ভাবছি - মনের যত
কষ্ট আর যত আশাবাদ, যত সংগ্রাম আর উনড়বতি, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে মানুষ তখন বুকে ধারন করা
আমেরিকার এই বিশ্বাস বলতে পারে নি যে: আমরা পারি।
একটা সময় ছিল যখন মেয়েদের কন্ঠ নীরবতা দিয়ে চাপা দেওয়া হতো, তাদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা
বাতিল করে দেওয়া হতো। তিনি এখনো বেঁচে রয়েছেন এটা দেখার জন্য যে, মেয়েরা দাঁড়াতে পারছে, তারা কথা
বলতে পারছে, আর তারা ভোট দেবার জন্য হাজির হতে পারছে। হ্যাঁ, আমরা পারি।
ধূলিপাত্রে যখন হতাশার সঞ্চয়, বিষণড়বতা দেশজুড়ে বিস্তীর্ণ, তিনি এটাও দেখলেন একটি জাতি তার
ভয়কে জয় করছে নতুন উপায়ে, কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সাধারণ মানুষের স¦ার্থ চিন্তা করা হচ্ছে। হ্যাঁ,
আমরা পারি।
যখন আমাদের বন্দরে বোমা পড়লো, সৈ¦রাচার বিশ্বকে আতঙ্কিত করলো, গণতন্ত্রের মহত্ব রক্ষায় একটি
প্রজন্মের উত্থান হলো, তা দেখার তিনি সাক্ষী হয়ে গেলেন। হ্যাঁ, আমরা পারি।
৭
মন্টগোমারি শহরে কালোমানুষের বাসে চড়ার আন্দোলনে তিনি ছিলেন, বার্মিংহামের হোস আর সেলমার
ব্রিজের আন্দোলনে, আর তিনি সেই যাজকের দেখাও পেলেন, আটলান্টায় যিনি জনতাকে শোনালেন যে, "আমরা
করবো জয়।" হ্যাঁ, আমরা পারি।
মানুষ চাঁদের মাটি স্পর্শ করলো, বার্লিনের দেওয়াল ধ্বসে পড়লো, আমাদের বিজ্ঞান ও কল্পনা দুনিয়াকে
ছোট করে আনলো।
আর এ বছর, এই নির্বাচনে তিনি আঙুলে পর্দা স্পর্শ করলেন নিজের ভোট দেবার জন্য, কেননা,
অন্ধকারতম প্রহর আর শ্রেষ্ঠতম সময়গুলোর মধ্য দিয়ে যেতে যেতে ১০৬ বছর পরে তিনি জানতে পারলেন
আমেরিকা কেমন করে বদলে যায় ।
হ্যাঁ, আমরা পারি।
আমেরিকা, আমরা অনেক পথ অতিμম করতে পেরেছি, আমরা অনেক কিছু দেখেছি। কিন্তু আমাদের
অনেক কিছু আরো করার রয়েছে। আজ রাতে তাই, আসুন, আমরা নিজেদের কাছে জানতে চাই - আগামী শতাব্দি
দেখার জন্য আমাদের সন্তানদের বেঁচে থাকা দরকার আছে কি না। আমার মেয়েরা এ্যান নিক্সন কুপারের মতো
সৌভাগ্যবতী যদি হয়, কী কী বদল তারা দেখবে? কী কী উনড়বতি সাধন করা হবে?
এই প্রশেড়বর জবাব তৈরি করার জন্য আমাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই আমাদের লগড়ব এলো।
সময় হলো জনগণকে কাজে ফিরে যাবার, আমাদের শিশুদের জন্য সুযোগ অবারিত করার, সমৃদ্ধি ফিরিয়ে
আনার জন্য শান্তি স¤প্রসারণ করার; আমেরিকার স¦পড়ব পুনরোদ্ধারের যে মৌলিক সত্য তা আবার জোর দিয়ে বলার
সময় হলো যে: বহুজন নিয়েই আমরা একটি মাত্র সত্ত¦া, একসাথে আমরা বাঁচি আর স¦পড়ব দেখি। যেখানেই আমরা
নিরাশা আর সন্দেহের দেখা পাই, আমরা পারি না এমন কথা যারা বলে, সময়কে অতিμম করে আসা আমাদের
বিশ্বাসের মর্মকথা আমরা তাদের শুনিয়ে দেবো যে: আমরা পারি।
আপনাদের ধন্যবাদ। আল−াহ আপনাদের মঙ্গল করুন। আল−াহ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল করুন।
====================

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

