ধর্মনিপেক্ষতা বিষয়ে তালাল আসাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নার্মিন শেখ
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
পূর্বের পরে
ধর্মনিরপেক্ষতা দীর্ঘদিন থেকে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক বিবেচনা হিশেবে আলোচিত হয়ে আসছে। এই প্রেক্ষিতে ধর্ম এবং ধর্মনিপেক্ষতার সম্পর্ককে আপনি কিভাবে দেখেন?
ধর্মনিরপেক্ষতার গড়ে ওঠা- গ্রন্থে আমি মানুষের সংবেদনশীলতা, অভিজ্ঞতা এবং পারিপার্শ্বিক নানা ধারনা (concepts) সমূহ মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়ে বিষয় (subjects) হিশেবে অভিযোজন করবার প্রসঙ্গটিতে দৃষ্টি দিয়েছি; যাকিনা মানুষের সত্য বুঝবার পথ নিয়ন্ত্রন করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মতবাদ হিশেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বুঝতে চেয়েছি। আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের ধর্মনিরপেক্ষকরণ এবং নৈতিকতার প্রসঙ্গ সমূহও এক্ষেত্রে বিবেচ্য হয়েছে। ফলে, এটি একটি জটিল প্রশ্ন হিশেবেই আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। এছাড়া অন্য কোন ভাবে আমরা আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ নিত্য রাজনৈতিক বাস্তবতাকে তার সার্বিক গূঢ়ার্থসহ বুঝতে অসমর্থ হব। আমার মনে হয় এসকল বিষয়ে মানব বিজ্ঞান সমূহে আরো অধিক ভাবনা ও মনযোগিতা প্রয়োজন, এবং অতঃপর এগুনো যাবে আরো।
ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অন্য’ হিশেবে চিহ্নিত, আর তাই রাজনৈতিক মতবাদ হিশেবে এটি ধর্মের গড়ে ওঠার সাথে নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত হয়। ধরে নেয়া হয়, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট ভাবে ধর্ম হতে সম্পূর্ণতঃই আলাদা হবে। ফলে রাষ্ট্রকে প্রতিনিয়তই তার আইনী নীতি-প্রক্রিয়া‘র নির্ধারণ/পূণঃনির্ধারণ জরুরী হয়ে পড়ে; কোনটি প্রকৃতই ধর্মীয় আচরণ এবং কতটুকুইবা এর পরিধি তা নির্ধারণ করা বা আইনী সংজ্ঞা প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের একটি নৈমিত্তিক কাজ হয়ে পড়ে। অন্য ভাবে বললে, রাষ্ট্রকে এর থেকে কোন ভাবেই আলাদা করা যায়না। আত্মবিরোধী সত্য হিশেবে (Paradoxically) আধুনিক রাজনীতি কোন ভাবেই ধর্ম থেকে আলাদা বা স্বাধীন আবস্থান নিতে পারেনা; যেমনি করে ধর্মনিরপেক্ষতার একধরনের মামুলি মতবাদ দাবী করে থাকে। তারা মনে করে, ধর্ম ও রাজনীতির নিজেদের জন্য আলাদা আলাদা পরিসর তৈরী করে নেবে। একটি রাজনৈতিক স্বত্তা বা বাস্তবতা হিশেবে রাষ্ট্র‘র কাজ হচ্ছে কেবল ধর্মের জন-গ্রহণযোগ্য কোন গড়ন দাঁড় করা।
ধর্মনিরপেক্ষতার গড়ে ওঠা- গ্রন্থে আপনি লিখেছেন ‘যুদ্ধ এবং শান্তির মতবাদ হিশেবে ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমীয় (এবং অপশ্চিমাদের জন্য অপরিচিত এমন) নয়। বরং ধনতান্ত্রিক জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠার সাথে এটি নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত, পাশাপাশি ক্ষমতা ও সাফল্যের ক্ষেত্রে ধর্ম ও রাষ্ট্র উভয়ের মধ্যে এটি প্রশ্ন-সাপেক্ষ ও অসম সম্পর্কের সৃষ্টি করে; যা মূলতঃ বিবিধ সমঝোতার ভিত্তিতে, গ্রহণযোগ্যতায় এবং হুমকি নিয়ে একটি সমবেত-ব্যক্তিত্ব অধিগ্রহণ করে’। ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্ব রাজনীতি বিবেচনায় আপনি কিভাবে এই অসামঞ্জস্যতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন?
তৃত্বীয় বিশ্বে আরবদেশ সমূহে ধর্মনিরপেক্ষতার একটি সাধারণ সমলোচনা হচ্ছে- এটি মতবাদ হিশেবে বাইরের বা আরবদেশ গুলোর জন্য অপরিচিত এবং মুসলিম সমাজের জন্য অগ্রহণযোগ্য। আমার কাছে এটি এমন কোন বাঙ্ময় বিতর্ক বলে মনে হয়নি। পূর্ব থেকেই আরব সমাজ ও এর জনগোষ্ঠি বাইরের বিভিন্ন ধারনা ও চর্চা সমূহকে নিজেদের মধ্যে অভিযোজন করে নিয়েছে। এমন কি আমরা এও জানি, মুসলিম দুনিয়া পূর্বের অনেক ধ্যান-ধারনা ও জীবন-যাপন রীতির-ই সমন্বিত ও উন্নত রূপ; এবং এভাবেই তাদের বর্তমান সময়ের চিন্তা-ভাবনা, জীবন-যাপন ইত্যাদি তৈরী হয়েছে। এছাড়া সবসময়ই তারা চিন্তা ও চর্চার ক্ষেত্রে উদারতার সাথে ঋণী হয়েছে। এখন তাই প্রশ্ন হচ্ছে- তাদের কাছে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এমন কোন্ সমস্যা তৈরী করে যার সমাধান হওয়া প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে? আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ক্ষমতায়নের বিবিধ সমস্যাবলীই ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে জটিলতার সূত্রপাত করে। আধুনিক রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত শাসন প্রক্রিয়া, সহিংসতায় রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার, একমাত্র রাষ্ট্র‘র-ই আছে অভ্যন্তরীন ভাবে ক্ষমতা-চর্চা বা শক্তি প্রয়োগের বৈধ নিশ্চিদ্র অধিকার (স্বত্তাধিকার)- এমনসব পূর্বধারণা এবং বহির বিশ্বের সাথে একমাত্র রাষ্ট্রই যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে ও একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠিকে সমরূপ শৃংখলায় আগলে রাখতে পারে- মূলতঃ এ সমস্ত কিছুই একটি প্রকল্প হিশেবে কাজ করছে যার মধ্যদিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার ক্রমবিকাশ সম্ভব হয়ে ওঠেছে। আমরা জানি, পশ্চিম ইউরোপে শুধুমাত্র একটি একক ধর্মকেই কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র সমূহের আত্মপরিচয়ে একমাত্র বিবেচ্য বানানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল একসময়। বিফলে চেষ্ঠা করা হয়েছিল মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিশেবে গন্য করবার। এটি ছিল মূলতঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রচল-আলাপচারিতার (discourse) ভিত্তিতে রাষ্ট্রের মাধ্যকার বিভিন্ন গড়ন গুলো তৈরী করে নেয়ার-ই একটি প্রক্রিয়া। অন্যদিকে একটি রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্রিয়াশীলতাকে (এ্যাকটর হিশেবে ব্যক্তির ঝোঁক বা প্রবনতাকে) অবিবেচ্য রেখে রাষ্ট্রের মধ্যকার সামাজিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব‘র পূণব্যবস্থাপনাকে তারা তাদের প্রধান সমস্যা হিশেবে মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এসমস্ত কিছুই তাদের নিজেদের মধ্যকার (আত্ম‘র) অন্তর্ভূক্ত বিষয় হিশেবে আসেনি; বরং বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতা হিশেবেই ছিল। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চিন্তুকেরা অন্য কোন রাষ্ট্রে রাজনৈতিকদের সাথে নানান সমঝোতা ও মিথষ্ক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতো- এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দেশের বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিম ইউরোপিয়ান অন্যান্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করতো নিজেদের অভ্যনত্মরীণ সমস্যাবলী নিয়ে। এবং প্রিন্সরা নিজেদের মধ্যে মাঝে মাঝে একধরনের ঐক্য গড়ে তুলতো; আবার ঝগড়া করতো একে অন্যের সাথে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থেকে তারা নিজেদের স্বরাজ টিকিয়ে রাখতে সমস্ত বৈদেশিক কার্যক্রমকেই প্রতিহত করতো। ইউরোপের জাতিরাষ্ট্র গুলোর মধ্যকার সম্পর্ক ও টানাপোড়নের ভিত্তিতেই উদ্ভব হয়েছিল আন্তর্জাতিক আইন (international law)| কিন্তু পরে বিশ্বব্যাপী, বিশেষতঃ উপনিবেশিক চর্চা ও বানিজ্যিক সাম্রাজ্য গঠিত হওয়ার সময়ে আমেরিকা ও এশিয়ার দেশ সমূহের জন্যও এটি সম্পর্কিত হয়ে উঠে। (এ পরিসরে আফ্রিকার ইউরোপিয়ান উপনিবেশ অন্তর্ভূক্ত হয় আরো পরে।) আন্তঃর্জাতিক বাজারে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বৈধতা বিষয়ে একটি বিখ্যাত বিতর্কে একসময় বিশেষ ভাবে জড়িয়ে পড়েন আন্তঃর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠাতা হুগো গ্রোজিয়াস (Hugo Grotius); যেখানে ইউরোপিয়ান খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মধ্যে গঠিত বানিজ্যিক চুক্তি সমূহ ছিল এ বিতর্কের মৌলিক/ সমস্যাসঙ্কুল জিজ্ঞাসা। আর তাই ধর্মনিরপেক্ষতা- যে পদ্ধতি বা উদ্দেশ্যেই ক্রিয়াশীল হোকনা কেন- রাষ্ট্রের ক্ষমতা চক্র কি কোন ভাবেই ধর্মীয় বৈসাদৃশ্যকে এড়িয়ে যেতে পারে? উনিশ এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে উপনিবেশ সরকারের বিবর্তনে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় ‘স্থানীয়’দের ধর্ম এবং খ্রীষ্টান মিশনারীর ধর্ম প্রচারের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে আমেরিকা সক্রিয়ভাবে তৃত্বীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক নীতিমালা (ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে মুক্ত) প্রয়োগে আগ্রহী; এবং সেটি এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে ধর্মনিরপেক্ষতা গনতন্ত্র ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। ধর্মনিরপেক্ষতার গড়ে ওঠা গ্রন্থে আমি বলেছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকান ইন্টারনেশন্যাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম এ্যাক্ট ২০০৮- এর কিছু প্রয়োগ লক্ষণীয় এবং এটি রাজনৈতিক পূণরুদ্ধার প্রচেষ্ঠারই একটি অংশ যা ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে মৌলিক ভাবে সম্পর্কিত।
যদিও আধুনিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে যৌথভাবে কখনো কখনো গঠনমূলক মনে হয়; কোন একটি জায়গায় আপনি এমনটি উলে¬খ করেছেন যে, আধুনিকতার জন্য ধর্মের প্রাতিস্বিকীকরণ (privatization of religion) ধর্মনিরপেক্ষতার নিজস্ব পরিসরেও (যাকে ধর্মনিরপেক্ষকরণ প্রক্রিয়া বলি) গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার চেয়ে বরং, ধর্ম কি করে জনপরিসরে বারবার ফিরে আসে এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এটি অনেক জরুরী বিষয়। এক্ষেত্রে উপনিবেশিকতার ভূমিকাকে আপনি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আপনি কি বিষয়টি আরো একটু খোলাসা করে বলবেন?
আমার মনে হয়, জোস কসানোভা (Jose Casanova) বিতর্কে আমার যে মন্তব্য ছিল সে সম্পর্কেই আপনি ইংগিত করছেন এখানে; যেখানে বলা হয়েছিল- আধুনিকতার জন্য ধর্মকে ব্যক্তি পর্যায়ে সংক্ষিপ্ত করবার কোন প্রয়োজন নেই; যেভাবে মতবাদ হিশেবে ধ্রুপদি ধর্মনিরপেক্ষতা ভাবতে আগ্রহী হয়। কসানোভার বক্তব্য ছিল- কিছু কিছু ক্সেত্রে ধর্মকে গনতন্ত্র ও আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় সহায়ক হিশেবে দেখা যেতে পারে, যেমন কমিউনিষ্ট শাসিত পোলান্ডে ক্যাথলিক চার্চের নীতি প্রচলিত থাকা; এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে চার্চ কখনো কখনো ‘অগ্রবর্তী’ রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে। উনার ইতিবাচক উদাহরণ ও বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনায় আমার আলাপ ছিল- উলে¬খিত গুলো ধর্মের এমন কিছু নির্দিষ্ট গড়ন যেগুলো ছিল উদারীকৃত, ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মীয় আন্দোলন; এবং যা মোটেও ‘সমস্যাসঙ্কুল’ ছিলনা। ভিন্ন ভাবে, আধুনিকতার অগ্রযাত্রায় ধর্ম প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সমস্ত মূল্যবোধ গুলোকে এটি অনেকাংশে প্রতিনিধিত্ব করে এবং এ বিষয়ে ধর্ম সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী ও গড়ন তৈরী করে দিতে সহায়তা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা যেটি দেখি, ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে ফ্রান্সের সামপ্রতিক যে মূল্যায়ন এটি তেমনও নয়।
প্রকৃত অর্থে বিষয়টি কি এভাবে হাজির নয় যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র নিজস্ব একটি অনুধাবনা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের ইতিহাসে প্রক্রিয়াটি কখনোই সেভাবে উপস্থিত ছিলনা? ধর্মনিরপেক্ষকরণের সময়কালে ‘ইহুদি-প্রশ্ন’, বিশেষ করে ইউরোপে এসময় ব্যপক ভাবে ইহুদিদের খ্রীষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরের বিষয়টিও এক্ষেত্রে নির্বন্ধ উদাহরন হতে পারে। এছাড়া উপনিবেশকালে, বিশেষতঃ যখন ধর্মনিরপেক্ষকরণ প্রক্রিয়াটিও শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ে পশ্চিমারা সারাবিশ্ব জুড়ে খ্রীষ্টান মিশনারী প্রেরণের কাজটি শুরু করেছিল; এবং এখনো কাজটি চলছে সভ্যতা ও সভ্যতা-প্রকল্পের সমার্থক হয়ে। ভিন্ন ভাবে বলা হলে বিষয়টি কি এমনও নয় যে, ধর্মনিরপেক্ষকরণ প্রকল্পে ধর্মীয় বিষয়াবলী ম্রীয়মান হয়ে যাওয়া দূরে থাক, খ্রীষ্টান ধর্ম এবং ধর্মতত্ত্বের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এবং এটি মূলতঃ নাটকীয় ভাবেই আধুনিকতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও বানায়?
না, আপনার এমন প্রারম্ভিক মন্তব্য‘র আমি দ্বিমত পোষন করছি। মনে রাখতে হবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ মূলতঃ একটি প্রক্রিয়া; সম্পূর্ণভাবে পরিসমাপ্ত কোন অবস্থা নয়। এবং নিশ্চিত ভাবে এটি পশ্চিমের ’স্ব-বোধগম্যতা’ থেকে উদ্ভুত। কিন্তু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি বিভিন্ন গড়ন নিয়েছে, এবং সর্বোপরি এটি তৈরী করেছে নানান বৈপরীত্ব ও টানাপোড়ন। সমপ্রতি ফান্সের ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে আমার লেখা একটি প্রবন্ধে আমি বিশদ ভাবে এই বিষয়টিই উপস্থাপন করেছি যে, প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতার এমন একটি উদাহরণও খোঁজে পাওয়া যাবেনা যাকে আদর্শ (ideal) বলা যায়। তবে আপনার শেষ প্রশ্নে‘র প্রতিউত্তরে আমি বলতে চাই- হ্যাঁ, অবশ্যই ইউরোপে খ্রীষ্টান ধর্ম এখনো সজীব (এবং ভূমিকা রাখছে দেশের অভ্যন্তরে আর বাইরেও) এবং অবশ্যই এটাও স্বীকার্য যে, আধুনিক সময়ে খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্বে অনেক নিবিড় সংস্কার এসেছে। কিন্তু তাতে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন প্রকরণ ইউরোপে নেই বলে প্রমানিত হয়না। আমার বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, ইউরোপে প্রকৃতই ধর্মনিরপেক্ষ কোন রাষ্ট্র নেই- এমন প্রচল ধারনাকে বাতিল করা। আমি মনে করিনা এখানে ‘প্রকৃত’ কোন ধর্মনিরপেক্ষ বিষয় বর্তমান আছে। বরং আছে ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহাসিকতাপূর্ণ কিছু গড়ন যাকে ইতিহাসে আধুনিক সমাজে ক্ষমতা-সম্পর্কের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও প্রগতি‘র ক্ষেত্রে জনধর্মের হুমকি স্বরূপ।
আপনি বলেছেন, ‘কোন বিপ্লব নিতান্ত বিশ্বাস থেকে চালিত হয়না অথবা ইউরোপে জনপরিসরের অযৌক্তিক আলাপচারিতা কোন ভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ নয়’। এটি যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে কেন বলা হয় যে, ইসলামপন্থিরা ধর্মের ‘রাজনীতিকীকরণ’ ঘটাচ্ছে?
সংক্ষিপ্ত ভাবে বললে, ইসলামপন্থিরা কোন ভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতার উর্দ্ধে কিছু নয়, তারা চাননা জিহাদ কেবল ব্যক্তিবিশ্বাসের (mere personal belief) তলানি হিশেবে থাক।
আপনি আরো বলেছেন, ‘(প্রত্যাশানুযায়ি) ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র সার্বিক সহিষ্ণুতার দায়ভার গ্রহণ করেনা; বরং যাবতীয় উচ্চাকাংখা ও উদ্বেগ নিয়েই এটি সচেষ্ট/সচেতন থাকে’। এমন ভাবনা দিয়ে- ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ যেকোন ধর্মভিত্তিক সমাজের চেয়ে কম সহিংস ও কম দ্বন্ধ মূখর- এই পূর্বধারনাকে কি করে অমীমাংসিত অবস্থায় উপস্থাপন করতে পারে? ধর্মীয় সহিংসতা নিয়ন্ত্রন, লালন ও এড়ানোর ক্ষেত্রে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভূমিকা-ইবা কি?
অন্যান্য‘র মতন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নিজেও এধরনের কিছু দায়ভার নিয়ে থাকে, তবে অন্যের দায় থেকে সে মুক্তই থাকে। এটি যেকোন ধরনের প্রতিবন্ধতকা ও গোপনীয়তা ব্যতিরেখে রাষ্ট্রের জনমানুষের ধর্ম ও বিশ্বাস চর্চার অধিকারকে নিশ্চয়তা প্রদান করে। এবং রাষ্ট্র এই-নিশ্চয়তা ততক্ষণ পর্যনত্মই দিতে থাকে যতক্ষণ না এটি রাষ্ট্রের অখন্ডতায় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ‘হুমকি’কে কোন সুনির্দিষ্ট অর্থে ধরা যায়না এখনে। দ্বন্ধ ও সহিংসতায় সত্যিই কি একটি ধর্মনিরপেড়্গ সমাজ কম পড়্গপাত পোষন করে? সহিংসতা আর দমন প্রক্রিয়ার কিছু প্রসিদ্ধ গড়ন আপনি হয়তো পাবেন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কম-সহিংসতা-ব্রতকে ব্যাখ্যা করবার জন্য; যে গড়ন গুলোকে খোদ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রই সংঙ্গায়িত করে থাকে, যেমন রাষ্ট্রে অভ্যন্তরে- রেস, জেন্ডার, ক্লাস ইত্যাদি এইসব; এবং বহির্বিশ্বে নব্য-সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব, বিদ্রোহ দমন ইত্যাদি। দেশের অভ্যনত্মরে এবং বাইরের সহিংসতা, দমন, দ্বন্ধ-এসকল বিষয়ে উদার গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহ রাজনৈতিক ভাবে বরং এখন অনেক সচেতন।
মূল
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্মনিপেক্ষতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কৌতুক বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আপাতত শোকেসে। পরুমনে
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। আমার বাড়ী আইসো ভ্রমর .....
এর মানে হলো, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ-বাদীরা চিন্তায় বা ইডিওলজিক্যাল পজিশনে ধর্মনিরপেক্ষ-বাদী নয়। বাস্তব সুবিধার কারণে ধর্মনিরপেক্ষ-বাদী। মুদি দোকানের নগদ খদ্দের। ধুমপায়ী তবে, পকেটে সিগারেট প্যাকেট রাখেন না, রাস্তার পাশের খুচরা খদ্দের।
লেখক বলেছেন:
ইহারা ধুমপান করিবেক লাই, ভদদর হইবেক আবশ্যি, যদি কেহ পাড়াত মুদি দোকান না স্থাপন করে। তাহাদের ভদদর করিবাগ আশাত মোগা চাল কিনিবেক লাই।
লেখক বলেছেন: লিংকটি দিলাম এখানে
প্রসঙ্গতঃ বলছি, সাক্ষাৎকারটি মানস চৌধুরী অনুবাদ করেছেন ঢের আগে। সমাজ নিরীক্ষনে ছাপাও হয়েছিল। ফেইস বুকে তিনি আমাকে জানান। এখানে শুধু আমার চর্চার অংশটি/হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
লেখক বলেছেন:
এখন করছে কাজ। ঠিক করে দিলাম। দুঃখিত।
খারেজি বলেছেন:
"...বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ-বাদীরা চিন্তায় বা ইডিওলজিক্যাল পজিশনে ধর্মনিরপেক্ষ-বাদী নয়। বাস্তব সুবিধার কারণে ধর্মনিরপেক্ষ-বাদী। মুদি দোকানের নগদ খদ্দের। ধুমপায়ী তবে, পকেটে সিগারেট প্যাকেট রাখেন না, রাস্তার পাশের খুচরা খদ্দের। ...."
'বাস্তব সুবিধার কারণ ছাড়া'ই ধর্মনিরপেক্ষ কোথায় পাওয়া যায়, মুন্সী? চাঁদের দেশে অবশ্য আমি যাই নাই।
মনজুরুল হক বলেছেন:
আমি যদি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী না হয়ে "ধর্মহীনতাবাদী" হই তাহলে ট্যাগিং কি হতে পারে? খুঁচরো না হোল পারচেজার?
খারেজি বলেছেন:
মুন্সীজী নিজেও লেখাটার কন্টেন্ট নিয়েও কোন আলোচনা করলেন না, কেবল পোস্টটিতে কেন লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েনি, তাই ওনার দুঃখ!!
প্রতিদিন বলেছেন:
@ খারেজি ভাইজান, মুন্সীজী কখনোই নিজেরে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কইসেন বইলা মনে পড়ে না। তাই উনার এই বিষয়ে আগ্রহ না থাকনেরই কথা।
আপনার পোষ্ট টা দেখে আমার এটাই মনে হয়েছিল। ব্লগে অনেককেই ধর্মনিরেপক্ষতার অবস্হান নিয়ে কথা বলতে দেখি। কিন্তু তালাত আসাদের ধর্মনিরেপক্ষতার চিন্তাকে সমালোচনা নিয়ে এই পোষ্ট সেই পরিমাণ ধর্মনিরেপক্ষতা অবস্হানের ব্লগারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারল না কেন? ওদের তো ঝাপিয়ে পড়ে এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কথা। এর কারণ কী - এটা নিয়ে আমার অবজারভেশনমূলক মন্তব্য করেছিলাম আগে, উপরে। আমার মনে হয়েছে, যারা ধর্মনিরেপক্ষতার অবস্হানে স্বস্তিবোধ করেন তারা গভীর চিন্তা করে নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে সম্ভবত ধর্মনিরেপক্ষতাকে গ্রহণ করেন নাই। করেছেন, এতে নগদ বৈষয়িক সুবিধা বেশি এই বিবেচনা করে, চিন্তার দিক থেকে না। যেমন মনজুরুল মত অনেকে চিন্তার দিক থেকে "সমাজ পরিবর্তনের" দায় বোধ করেন। মনজুরুলের সমাজে বৈষয়িক অবস্হান বিবেচনায় তাঁর এই দায় বোধ করার কথা না। ফলে মনজুরুল অবস্হানটাকে আমরা নগদ বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে নয় নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়া বলে বুঝতে পারি। এই হোল, অবস্হান নেবার দুই তরিকা। "বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে" অথবা "নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়ার" দিক থেকে।
যেহেতু "বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে" ধর্মনিরপেক্ষতা অবস্হানে তাঁরা এসেছেন ফলে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে তত্ত্বীয় চিন্তাগত কোন আলোচনায় তাঁদের অংশগ্রহণ ঘটে নি। এভাবেই আমি ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম।
ব্যাপারটা যেন নগদ খদ্দেরের মত। ধর্মনিরপেক্ষতা আমার দরকার। দোকানে আসলাম, নগদে কিনলাম, চলে গেলাম। অবস্হান নিয়ে নিলাম। এনগেজমেন্ট বলতে এতটুকুই।
'বাস্তব সুবিধার কারণ ছাড়া'ই ধর্মনিরপেক্ষ কোথায় পাওয়া যায়, মুন্সী? - খারেজির এই প্রশ্নের সুরাহা করতে এত কথা বলতে হলো।
তবে আপনার "চাঁদের দেশে অবশ্য আমি যাই নাই" - কথাটার মানে কী? ইসলাম বা ধর্মকে বুঝালেন? আমি স্পষ্ট বুঝিনি মনে হচ্ছে।
খারেজিকে আরও বলছি। এখানে মন্তব্য করতে এলেই যে কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা করতে হবে - আমার ধারণা, এমন কোন মানে নাই। আমরা সব সময় তা করিও না। যেমন আপনার মন্তব্যটা দেখেন আপনিও করেন নি। যদিও খারেজি কী আমার আলোচনা দেখতে পান নি বলে অভিযোগ করলেন কী না জানি না। তবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে পোষ্টের সমালোচনা না করাতে দুঃখ পেয়েছিই বটে।
আমি ভেবেছিলাম, এই পোষ্টে পাঠকের প্রথম উৎসাহের পর্যায়টা শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রথম মন্তব্যের পর তাই আর ফিরে আসিনি। এখন দেখছি, আমি ভুল। খারেজি বা মন্জুর আগ্রহ যায় নাই। তাই দেরিতে হলেও ফিরে আসতে হলো।
"ধর্মহীনতাবাদী" বলে বাস্তবে দুনিয়ায় কোন কোণে কোন সমাজ নাই। ফলে আমি দেখি নাই। যদিও "ধর্মহীনতাবাদী" বলে কারও কারও একটা কল্পনা আছে জানি।
একটা আছে আমার বিশ্বাস, কনভিকশন। এটা বিশ্বাস হিসাবে শুনাই ভাল। এখানে তর্কের কিছু নাই, বিষয়ও নয়। আর একটা হলো, সক্রিয় চিন্তা, দার্শনিক-রাজনৈতিক অবস্হান। এটা নিয়ে তর্ক আলোচনা ক্রিটিক হতে পারে। তবে এই আলোচনায় আবার সমস্যা হলো বিশ্বাস আর সক্রিয় চিন্তা মাখায়ে ফেলা। বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে তর্ক শুরু করি বা করতে প্ররোচিত করে ফেলি। ফলে কিছুই আগায় না। নিস্ফল সময় নষ্ট হয়।
খারেজি বলেছেন:
"...আমার মনে হয়েছে, যারা ধর্মনিরেপক্ষতার অবস্হানে স্বস্তিবোধ করেন তারা গভীর চিন্তা করে নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে সম্ভবত ধর্মনিরেপক্ষতাকে গ্রহণ করেন নাই। করেছেন, এতে নগদ বৈষয়িক সুবিধা বেশি এই বিবেচনা করে, চিন্তার দিক থেকে না। যেমন মনজুরুল মত অনেকে চিন্তার দিক থেকে "সমাজ পরিবর্তনের" দায় বোধ করেন। মনজুরুলের সমাজে বৈষয়িক অবস্হান বিবেচনায় তাঁর এই দায় বোধ করার কথা না। ফলে মনজুরুল অবস্হানটাকে আমরা নগদ বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে নয় নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়া বলে বুঝতে পারি। এই হোল, অবস্হান নেবার দুই তরিকা। "বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে" অথবা "নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়ার" দিক থেকে। ..."মুন্সী, এবারও আপনার বক্তব্য আধাসম্পূর্ণ। নগদ সুবিধা পাওয়া যায় বলেই তা একসময় চিন্তারও অংশ হয়ে ওঠে। নগদ সুবিধা পাওয়া না যাওয়া চিন্তাটাই বরং আকাশকুসুম (সেই অর্থেই চাঁদের দেশে পাওয়া যায়... উইটের বৃথা চেষ্টা ছিল আরকি, ওর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।)
যেমন ধরেন এদেশে উপনিবেশ বিরোধী বহু সংগ্রাম হয়েছে ধর্মের আবরণে, ধর্মনিরপেক্ষ ভাবেও হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাদের অপেক্ষাকৃত বিকাশের পর্বটাতে ধর্ম তুলনামূলকভাবে অনেক কম গূরুত্বপেল শ্রমিক আন্দোলেন, কম্যুনিটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিক নগদ সুবিধার কারণেই ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে উঠল, তার চিন্তারও অংশ হল তাই। ধর্মহীন হয়েছে, তা বলতে চাইছি না।
খারেজি বলেছেন:
আর আপনার উদ্ধৃত অংশের দ্বিতীয় অংশটি তো রীতিমত আপত্তিকর, যদি আমি শ্লেষ কিংবা বিদ্বেষ টা ঠিকমতো বুঝে থাকি।"মনজুরুলের সমাজে বৈষয়িক অবস্হান বিবেচনায় তাঁর এই দায় বোধ করার কথা না। ফলে মনজুরুল অবস্হানটাকে আমরা নগদ বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে নয় নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়া বলে বুঝতে পারি।" কি অর্থ এর? নৈব্যক্তিক চিন্তা কি জাগতিক বিষয়োর্ধ হয়ে উঠছে আজকাল ব্লগে? দায় কেন বোধ করার কথা না, কে মালিক এ সিদ্ধান্ত নেবার?
"এই হোল, অবস্হান নেবার দুই তরিকা। "বৈষয়িক সুবিধা দিক থেকে" অথবা "নৈব্যক্তিক চিন্তার সিদ্ধান্ত হিসাবে নেয়ার" দিক থেকে। ..."
আপনার বাক্যগঠন ভালোই, পড়াশোনাও তো মন্দ নয়, তবে জলের মত অবিরত বাক্যবর্ষণ চিন্তার সুস্থ্যতার জন্য ক্ষতিকর। ভাবা বাক্যটাকে বলার আগে আরেকটু ভেবে নেয়া দর্কার, তারপরও ভুল হতে পারে, কিন্তু দায় অনেকটা কমে তাতে।
খারেজি বলেছেন:
আর প্রতিদিন ই বা কি বললেন? ,মুন্সী ধর্মনিরপেক্ষ নন বলে তালাল আসাদের লেখা নিয়ে তার আগ্রহ থাকবে না?ধর্মনিরপেক্ষতার প্রধানতম পর্যালোচকদের একজনের লেখা বিষয়ে আগ্রহ না থাকাটা তো কেমন যেন! তবে ধর্মনিরপেক্ষতা-বদীদের কেন আগ্রহ থাকতেই হবে তালাল আসাদের লেখায়?
আমার ব্যক্তিগত ধারণা, আগ্রহ অনাগ্রহ বিষয় না, মুন্সী এখানে স্রেফ তার পুরোন রাগাটাই অকারণেই একটা আধাসাম্প্রদায়িক লোকের পোষ্টে এসে ঝেড়েছেন। হয়তো এটাও হেজিমনিভুক্ত করার ওনার বিশিষ্ট কায়দার অন্তর্ভূক্ত।
মনজুরুল হক বলেছেন:
এখানে যে এত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হচ্ছে জানতে পারিনি! মুন্সী'র কমেন্টের জবাব যদিও খারেজি যথাযথভাবেই দিয়েছেন, তবুও তার এই "যথাযথ" পি মুন্সী বা আর কেউ যথাযথ নাও ভাবতে পারেন। ধরে নেয়া যাক সেই দায় থেকেই আমি আমারটুকু বলার চেষ্টা করছি.....
"মনজুরুলের "ধর্মহীনতাবাদী" প্রসঙ্গে। এটা খুঁচরো বা পারচেজার কিছুই হয় নাই। স্বপ্নে কল্পনায় কিছু একটা কিনছেন - এমন খরিদ্দার।
"ধর্মহীনতাবাদী" বলে বাস্তবে দুনিয়ায় কোন কোণে কোন সমাজ নাই। ফলে আমি দেখি নাই। যদিও "ধর্মহীনতাবাদী" বলে কারও কারও একটা কল্পনা আছে জানি।"
মুন্সীর সাথে আমিও একমত। বাস্তব দুনিয়ায় আসলেই "ধর্মহীনতাবাদী" বলে কোন শব্দ নেই, কার্যত এধরণের কোন মতবাদও নেই। এটা স্থির সিদ্ধান্ত। তবে মুন্সী বর্নিত (যদিও "ধর্মহীনতাবাদী" বলে কারও কারও একটা কল্পনা আছে জানি।")
এটা কি হতে পারে? কল্পনায় বাদ আবিষ্কার করা যায় জানতামনা! বাদ নিয়েও এখানে কিছু বলা দরকার(যদিও সবই অমীমাংশিত)। আমরা জানতাম "মাও সে তুং চিন্তাধারা" নামে একটা ভাবদর্শন সত্তরের দশক থেকে পরিচিতি পাচ্ছিল। নব্বইয়ের দশকের গোঁড়ায় জানা গেল - মাওবাদ। যদ্রি এডগার স্নো'র সাথে মৃত্যুর আগে শেষ স্বাক্ষাৎকারে মাও অনেক ভাববাদী কথাবার্তা বলেছিলেন, কিন্তু কোথাও বলেননি, তাঁর চিন্তাধারাকে "মাওবাদ" বলতে হবে! আর সি পি যখন মাওচিন্তার স্বপক্ষে একটা আন্তর্জাতিক ফোরাম গড়ে তোলে, সেখানে বব এভাকিন, নিনা আন্দ্রিয়েভা প্রমূখেরা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের পর বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনকে একসূত্রে গ্রথিত করবার জন্য মাও চিন্তা কে সামনে তুলে আনেন। সে সময় লেনিন পরবর্তী কমিউনিস্ট আন্দোলনে মৌলিক চিন্তা বা সিদ্ধান্ত হিসেবে যোগ হয় মাও চিন্তা। যে যে কারণে লেনিনের পদ্ধতি বা চিন্তা বা দর্শন মার্কসবাদকে সমৃদ্ধ করার ফলে "লেনিনবাদ" প্রতিষ্ঠা পায়, সে রকম মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দিক নির্দেশনা মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে আরো সমৃদ্ধ করে, আর সেই সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে "বাস্তব অবস্থার মার্কসবাদী ত্বত্ত্ব সমৃদ্ধিকরণ ধরে নিয়ে এভাকিনরা মাও চিন্তাকে "মাওবাদ" বলে পাদপ্রদীপের আলোয় আনেন।
এত কথা বলা একারণেই যে, আজ যে চিন্তা বা দর্শনের দ্বান্দ্বিকতার দুটি দিকের প্রধান দিক হিসেবে ধর্মহীনতার কথা উচ্চারিত হচ্ছে, সেটা আপাতঃ"স্বপ্ন" মনে হলেও তার পেছনে বাস্তবের যে কিছু পরিমানে হলেও সাজুয্য আছে সেটি হয়ত পি মুন্সীর নজরে আসছে না, তার মানে তো এটা নয় যে তা কেবলই স্বপ্ন!
কোন গোঁড়া মুসলিম দেশে কমিউনিস্ট বিপ্লব সফল হয়নি(আলবেনিয়ার প্রসঙ্গ ভিন্ন)।
কেন হয়নি? সেটা নিশ্চই আমরা বুর্জোয়া চিন্তাধারা দিয়ে বিচার করতে যাব না। আমি যেটা বুঝি-- দ্বদ্বের নিয়ম হচ্ছে "এক কে ভেঙ্গে দুই করা"। এর বিপরীতে ধর্মের (ইসলাম) নিয়ম হচ্ছে "দুইকে সন্নিবেশীত করে এক করা"। এই চরম বৈপরিতত্বের কারণে এযাবত গোঁড়া মুসলিম দেশে কমিউনিস্ট বিপ্লব দানা বাঁধলেও সফল হয়নি। আগামীতেও সফল হওয়ার সম্ভবনা কম। এই বিষয়ের পর কি আমরা এভাবে দেখতে পারি যে ধর্মময়তাকে পুরোপুরি খারিজ না করা পর্যন্ত কমিউনিস্ট সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
এবং সেই পুরোপুরি খারিজ চিন্তা থেকেই আমি বলেছি ধর্মহীনতাবাদী। এর সাথে নাস্তিকতার কোনই সম্পর্ক নাই কিন্তু।
মনজুরুল হক বলেছেন:
"ধর্মনিরপেক্ষতা" বৈষয়ীক সুবিধার দিক থেকে কি ভাবে নেওয়া যায় তা আমার মাথায় এলো না। এ বিষয়ে মুন্সীর বয়ান কি আরো একটু সরলিকরণে আনা যায়?
কিন্তু সমাজ, রাজনীতি কিভাবে এর মোকাবেলা করবে ?
এই বাক্যটা খারেজি আপনার ১৪ নম্বর মন্তব্য থেকে নিয়েছি। এখানে আপনার "চিন্তা" শব্দ আর আমার যে কোন মন্তব্যে "চিন্তা" শব্দ ব্যবহার একই অর্থ নয়। শব্দে এক হলেও আপনারটা সাধারণ অর্থে, আমারটা একটা বিশেষ অর্থে। ভেবেছিলাম, বাক্যগঠন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার কাছে পৌছাতে পারব। কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝলাম বুঝাতে পারি নাই। আসলে বাংলায় বাক্যে সহজ করতে "চিন্তা" বলেছিলাম। বলতে চেয়েছিলাম দর্শন বা আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, রাজনীতি; রাজনীতি মানে প্রাকটিক্যাল ফিলসফি বা দর্শন। চর্চা ও চিন্তার সক্রিয় তৎপরতার ভিতরে দিয়ে যে দর্শন - সেই অর্থে রাজনীতি। বুলি না, করে দেখানো দর্শন।
দেখেন, এক "চিন্তা" শব্দ ব্যাখ্যা করতে কতদূর এসে পড়েছি। চিন্তা দর্শন হয়ে উঠতে বহু পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এরপর দর্শন আবার রাজনীতি হয়ে উঠা সে আরও বহু পথ।
এতটুকু যদি বুঝাতে পেরে থাকি (বা আপনি বুঝে থাকেন) তবে এবার আবার একটু কষ্ট করে পড়ে দেখুন সম্ভবত দেখবেন ভিন্ন অর্থ পেতে পারেন। আপনি আগে যে অর্থ করেছেন, বুঝেছেন তার চেয়ে ভিন্ন পাবেন এবার।
খারেজি বলেছেন:
দর্শন, মানে রাজনীতিও শেষতঃ জাগতিক সুবিধা অসুবিধার দ্বারাই, আর তাকে ক্রমাগত ছাপিয়ে যাবার চেষ্টার ই নাম বলেই জানি।
এখানে 'সাধারণ' আর 'অসাধারণ' চিন্তার পার্থক্য কেবল মাত্রায়, কেউ নগদ ক্রোধে মিছিলে নামে, কেউ দার্শনিক প্রত্যয় থেকে।
কাজেই, জনাব মুন্সী, আপনি এখনও আমাকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি আপনার কথাটার তাৎপর্য, কিংবা উল্টোটাও হতে পারে।
কাকতালীয় বটে, খলদুনের কথাটার বাংলা করলে একার্থে যতদূর মনে পড়ে সুবিধা-অসুবিধা শব্দদিয়েও করা যায়: উত্তর আফ্রিকার তার দেখা সবগুলো ধর্মীয় আন্দোলনের সারমর্ম করতে যেয়ে তিনি তার মাঝে সুবিধা-অসুবিধাই দেখেছিলেন।
একই কথা এবার কমিউনিষ্ট বয়ানে বলব। অনেকভাবে বলা যায়। শ্রেণী হয়ে থাকা আর শ্রেণী হয়ে উঠা। বৈষয়িকভাবে বিষয়-আশয়ের জীবনে (মেটারিয়েলি) শ্রেণী হয়ে থাকে আর ইডিওলজিক্যালি বা পলিটিক্যালি শ্রেণী হয়ে উঠে। মনজুর দায় বোধ করা মানে বিষয়-আশয়ের জীবনে (মেটারিয়েলি) শ্রেণীর দিক থেকে যা ওর স্বার্থ তার উর্ধে উঠে নিজের চিন্তার (অ-পরের প্রতি দায়বোধের চিন্তা নিজের বিষয়-আশয়ের জীবনটার পক্ষের স্বার্থ-চিন্তা নয়) প্রসারণ দার্শনিক-রাজনৈতিক শ্রেণী হয়ে উঠার চেষ্টা।
মজার ব্যাপারা হলো, খারেজি আপনি ননাই কে "আধাসাম্প্রদায়িক" বলে চিনিয়েছেন। অথচ ওরও অ-পরের প্রতি দায়বোধের একটা চিন্তা আছে। মনজুর সাথে এই মিলটা কাকতলীয় নয়।
ননাই ওর দায় মেটতে চায় সবাই নিয়ে একটা আধ্যাত্মিক অর্থে স্পিরিচুয়াল মুক্তির পথে। ভাবজগতের মধ্যে। আর মনজুরটা একটা বৈষয়িক বিষয়-আশয়ের বাস্তব জগতে, প্রাচুর্যে। বৈষয়িক নতুন সমাজে। আমার দুটোই চাই। যেখানে একদিক থাকে দেখলে মনে হবে এটা ভাবজগতের মুক্তি আর একদিক থেকে দেখলে মনে হবে এটা বৈষয়িক মুক্তি। যেখানে ভাব ও বৈষয়িকতা আলাদা নয়। আমি এই মাঝখানে একাকার হয়ে দাড়িয়ে।
কাউকে "হেজিমনিভুক্ত করা"টা আমার কোন "বিশিষ্ট কায়দার" উপর নির্ভর করে না। চিন্তা নিজ গুণ, মুরোদ থাকলে শাসক হতে পারে, হেজিমনি আনতে, ভুক্ত করতে পারে। আইডিয়া রুলস। আমি চিন্তার হেজিমনিতে বিশ্বাস করি, কোন "বিশিষ্ট কায়দার" না। । অন্য চিন্তা যদি চিন্তার লড়াইয়ে হার স্বীকার করে আমি তো শাসন করবই।
আজ এপর্যন্ত।
খারেজি বলেছেন:
কথা সত্য, আইডিয়া রুলস।
তাহলে পয়লা কথায় আবার ফেরত যাই, ব্লগে যদি ধর্মনিরপেক্ষদের প্রাধান্য থাকে, আর তারা ভিন্ন হেজেমনির অংশ হয়, তবে আপনার নয়, অন্য কোন আইডিয়া ইজ রুলিং দেয়ার।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানব মুক্তি, কিন্তু ইতিহাসের একটা পর্বে তা রাজনৈতিক মুক্তির একটা ধরন তো বটেই। আমি এটা মনে করি না যে ব্রগের ধর্মনিরপেক্ষরা সকলেই এক কাতারের, কিন্তু তারা অন্তত পরধর্মপীড়ন বা জনগণের মুক্তির প্রশ্নকে অন্যকোন স্রোতে প্রবাহিত করছে না। অন্যান্য রাজনৈতিক প্রশ্নে তারা ভুল-শুদ্ধ বহু তরিকার।
ফলে আপনি রুল করছেন এই আধা সাম্প্রদায়িক ননাইকেই। আপাতত আপনার হেজিমনির দৌড় এদ্দূর।
তো আরেকদিন দেখা হবে। ততক্ষণ ভাল থাকবেন।
আপনার এই পোষ্টের সূত্র ধরে খারেজি (নিচে দেখুন) একটা পোষ্ট দিয়েছিল। আমি দেরীতে দেখেছি। আপনার পোষ্টের প্রসঙ্গে আমার আরও মন্তব্য আছে ওখানে, দেখতে পারেন।
Click This Link
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ লিংকটি দেয়ার জন্য। পড়েছিও।
রিফাত হাসান বলেছেন:
বহুত কাইজা হয়ে গেল দেখি এখানে। পড়ে দেখিতো। আর ননাইয়ের প্রতি: লেখার শেষেই লিঙ্কটা যোগ করে দিন। তাহলে আমরা পাঠকদের সুবিধা হবে।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। লিংকটি দিয়ে দিলাম।
ননাই বলেছেন:
নিজেই নতুন বলে, এখানে যারা এসছেন তারা সকলেই নতুন হিসেবে আমার ব্লগে স্বাগতম। ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়া এই পোষ্টে অনেকটা বিতর্কের মতনই হইয়্যা গেল এখানে। যেভাবেই হোক, অংশ নেয়ার জন্য সকলরে ধন্যবাদ।লেখাটা পোষ্টাককারে এখানে কেন হান্দাইছি তার একখান ওজর আগেই বলি রাখিছিলাম। বলেছিলাম, এখানে আমার শুধু চর্চার অংশটুকু তুলে দেওয়া। তয় কেবলই তুলে দেওনের ফাঁকে এমনও ভাবিছি যে কিছু কথা এই লয়ে হইবে। তবে ইহা হুমড়ি খেয়ে পড়ানোর বাসনা মোটেও নয়। দেখলাম, হুমড়ি খেয়ে পড়ন থাক, কিছু কথা এই লয়ে হয় নাই। বোধ করি এই জন্যি পি মুন্সী খানিকটা উস্কে দিয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষ-বাদী কয়ে। এই কওনে যাহা কিছু আদতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তাহা ধর্মনিরপেক্ষ-বাদীতা কিনা জানিনা; তয়- কথা কিছু এই লয়ে হয় নাই। কিন্তু যাহা কিছু হইলো- এইটুকু হয়ে যাওয়া দরকার আছিল নিশ্চয়। নয়তো পরে এইটে আবারো টানিতে হইবে। বিশেষতঃ মুন্সী যে বিতর্ক তুলিছে সেটির আলোচনা করে রাখা জরুরী আছিলো। নৈর্য্ ত্তিক চিন্তার তাগিদ বা শ্রেণী হয়ে উঠিবার আকুলি ছাড়া চিন্তা-কার্য কেবলই বাহ্য হইয়্যা পড়ে- যেই বাহ্য নগদ সুবিধাদি দিতে পারে। কিন্তু আবার বাস্তব সুবিধা ছাড়া চিন্তাও আগাইতে চায়না। নিজের স্বার্থ-সুবিধা জন্যই একটা পথ চিন্তা করি বাহির করন লাগে।
মনে হইতেছে সুবিধা লইয়্যা তর্কের জায়গাটা রইয়্যা গেল। দায় আর বাস্তব সুবিধা আদায় নিশ্চয় এক জিনিষ নয়। নৈর্য্ুত্তিক চিন্তা দায় থিকা উদিত হয়, আর স্বার্থ-সুবিধা-চিন্তা শরীরের মানুষটারে বাঁচায়ে রাখনের কাঙখার অধিক কিছু হয়না। এই জন্যি দায় ঘুচানোর লাগি নিজেরে বিবেকী সত্ত্বা (হয়তো শ্রেণীবোধ সম্পন্ন) হইয়্যা উঠতে হয়।
ধর্মনিরপেক্ষতার চিন্তাটা নৈর্য্বত্তিক চিন্তা থিকা হওনের প্রয়োজন আছে, এতে হুমড়ি খেয়ে পড়নের চেয়ে ধর্নিরপেক্ষ-বাদী ও ধর্মপ্রান মানুষ সকলে নিরপেক্ষ-দায় থিকা আলোচনায় অংশ নিতে পারবে, তৈরী হবে দার্শনিক-রাজনৈতিক অবস্হানও। কেহ কোন সম্প্রদায়ের কয়ে ধর্মনিপেক্ষতার আলোচনায় ত্যাহ্য জ্ঞান করা নিরপেক্ষ-দায় থিকা উদ্ভুত চিন্তা নয়।
আপনার ভাষাটা ইনটারেষ্টিং। তবে বানানের দিকে নজর দিতে বলব।
লেখক বলেছেন:
শেষ বেলাতেও আপনার ফিরি মন্তব্য করন দেখি বুঝিত পারন যায় এই শেষ-বেলা অবেলা হয়ে যায় নাই। আপনিকে ধন্যবাদ।
শেষের দিকে বইলে সারসংক্ষেপই করিত হইল। আমারে পরিস্কার করতে সকলের কথা একবার কয়ে নিতে হইল।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
অদূর ভবিষ্যতে এই নিয়া বাতচিত করনের ইচ্ছা আছে।
লেখক বলেছেন:
ঠিক আছে, বাতচিত ভালা কাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















++