সকাল থেকেই পিসির সামনে গ্যাট হয়ে বসে ছিলাম। নিয়ত ছিল ভোট দিতে যাবো না। গ্যালেও "না" ভোটই ভরসা। দুপুর পর্যন্ত ভালই চলছিল। হঠাৎ আম্মাজানের আবির্ভাব।
- তুই ভোট দিতে যাবি না?
- না
- প্রথম ভোটটা নষ্ট করবি?
- দেখি
- ফাযিলের ফাযিল তোর বউ পুলাপাইন কি কইবো?
- বলো কি? বিয়েইতো করি নাই?
- ভোট না দিলে তোর খাওন নাই! আমার ঘর থেকে বের হয়ে যাবি
দুপুর পর্যন্ত তোয়াক্কা না করলেও পরে দেখলাম নাগরিক অধিকার পূরণ না করা পর্যন্ত মা বোধহয় আর খেতেই দিবে না। যাই হোক, মায়ের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। বের হলাম, তার আগে উনি বলে দিলেন কাকে ভোট দিতে হবে, অমুক প্রার্থী কেন যোগ্য। কষ্ট-বেনিফিট এনালাইসিস করে দেখলাম মায়ের বিশ্লেষণ খারাপ না। এলাকার পোলাপাইন আমাকে আবার ভালো পায়, তাই বিপদের চিন্তা করে ফ্রুটিকা চুক্তিতে পাড়ার মামারে নিয়া বাইর হইলাম খালি প্যাটে ভোট দিতে।
বিশাল লাইনে দাঁড়াতে হবে এই ভয়ে চুপসে গ্যালেও গিয়ে দেখি লাইন-টাইন নাই। দুপুর বলে হয়তো। আরামসে গিয়ে ভোটটা দিয়ে আসলাম। সিল মারার আগে হাতটা ক্যান জানি একটু কেঁপে উঠলো, নতুন ভোট দেয়ার রোমাঞ্চে নাকি আগত বিপদের লক্ষণ হিসেবে ঠিক বুঝলাম না।
ভালই লাগছে। অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যুতে নিজেও জড়িত এটা ভেবে নিজের মাঝে একটা চাপা উত্তেজনা। না গ্যালে বোধহয় মিস করতাম। মায়ের খুশিই আমার খুশি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


