.... তবুও আমি স্বপ্ন দেখি ... (স্বপ্ন, বাস্তব এবং ব্লগের সর্বস্বত্ব ব্লগার কতৃক সংরক্ষিত)

লিস্ট অব ইউনিভার্সিটিজ ইন বাংলাদেশ - একটি স্বপ্ন পূরণের গল্প

১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

(এই ব্লগ-পোস্টটি গত ৮ এপ্রিল ২০০৮ লেখা। উইকিপিডিয়াতে বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলো কিভাবে তৈরী হচ্ছে, আমরা নিজেদের মাঝে কিভাবে সমন্বয় করি ইত্যাদি বিষয়ে একটা ধারনা হয়তো এখান থেকে পাওয়া যাবে। - লেখক)

আজ আমার জন্য একটা বিশেষ দিন। উইকিপিডিয়া-জীবনে প্রথমবারের মত অনুভব করলাম "ফিচার্ড" শব্দটার স্বাদ। নিজের ব্যাপক ভাবে কাজ করা কোন আইটেম ফিচার্ড হলে কেমন লাগে, তাও আবার যদি হয় প্রথমবার, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

এমন নয় যে আমি উইকিপিডিয়াতে নুতন। এখানে কাজ করছি বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কিন্তু আজ যেন প্রথম বারের মত মনে হলো আমি উইকিপিডিয়ার খুব কাছের মানুষ হতে পেরেছি। আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস স্বীকৃতি পেয়েছে। "লিস্ট অব ইউনিভার্সিটিজ ইন বাংলাদেশ " - যে তালিকাটি নিয়ে আমরা বাংলাদেশী উইকিপিডিয়ানরা গত আট মাস রিতিমত যুদ্ধ করছি, সেটি আজ অফিসিয়ালী ফিচার্ড হলো। ফিচার্ড সম্পর্কে যাদের ধারনা নেই তাদের জন্য উইকিপিডিয়া থেকেই কপি করছি - List of universities in Bangladesh is a featured list, which means it has been identified as one of the best lists produced by the Wikipedia community.

এ যুদ্ধের সূচনা প্রায় আট মাস আগে। ১৪ অগাস্ট ২০০৭ আমি প্রথম লক্ষ্য করি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যলয়ের তালিকা রয়েছে উইকিপিডিয়াতে, কিন্তু বাংলাদেশের নেই। ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু ঘাটাঘাটির পর দেখতে পাই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা তালিকা ছিল যা পরবর্তিতে বন্ধ (উইকিপিডিয়ার ভাষায় যাকে আমরা বলি রিডায়রেক্ট) করে দেয়া হয়েছে। কেন বন্ধ করা হলো তার কোন কারন টক পেইজে ছিল না।

সেদিনই আমি যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন সহ বিভিন্ন দেশের উদাহরন দিয়ে চ্যালেঞ্জের সুরে একটা অনুরোধ পোস্ট করি "ইউনিভার্সিটিজ ইন বাংলাদেশ" আর্টিকেলের টক পেইজে, যার সাথে এই তালিকাটি রিডায়রেক্ট করা ছিল। আমি প্রধানত বোঝাতে চেয়েছিলাম বন্ধ করে দেয়া তালিকাটি আমি আবার খুলতে চাই এবং প্রস্তুত করতে চাই। একাদিন অপেক্ষা করার পরও যখন কেউ কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করলো না, তখন আমার মনে হলো সবার হয়তো মৌন সম্মতি রয়েছে। ফলে ১৫ অগাস্ট আমি তালিকাটি পুনরায় খুলে তৈরী করা শুরু করি।

প্রথম দিকে আমার লক্ষ্য ছিল শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামগুলো তালিকাভুক্ত করা। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মাধ্যে আমি কিছু চমৎকার এবং তথ্যপূর্ন তালিকা দেখতে পাই যেগুলো আমাকে বেশ আকর্ষন করে। সে সময় উইকিপিডিয়ায় আমাদের বাংলাদেশী পরিবারের একনিষ্ঠ তিন সম্পাদক - নাহিদ, আরমান ভাইয়া এবং আদিত্য ভাইয়া আমার সাথে এই তালিকা প্রস্তুত করার কাজে হাত দেন। ফলে আমার আগ্রহ এবং অনুপ্ররনা বেড়ে যায় বহুগুনে এবং প্রথমবারের মত এই তালিকাটিকে একটি ফিচার্ড লিস্ট করার পরিকল্পনা মাথায় আসে।

আমি তখন উইকিপিডিয়াতে টেবিল তৈরী করার কোড শেখার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে শুরু করলাম। খুব দ্রুত সাধারন ধারনা অর্জন করতে পারলেও, খুটিনাটি জটিল বিষয়গুলো আমার সীমার বাহিরেই থেকে গেলো। একটা সুন্দর এবং তথ্য সমৃদ্ধ তালিকা তৈরী করতে গেলে যে শুধু সাধারন ধারনায় কাজ হবে না, আমাকে যে আরও গভীরে জানতে হবে, সেটা বুঝতে তখন আমার আর বাকি নেই। কিন্তু ইংরেজী উইকিপিডিয়ায় টেবিল তৈরীর উপর বিষদ আলোচনা খুঁজে পেলাম না একটাও। অতঃপর একটা অদ্ভুত কাজ করলাম। ভিন্ন ভাষার উইকিপিডিয়াগুলোয় টেবিলের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। আমার শ্রম বৃথা যায়নি; ফ্রেঞ্চ এবং কোরিয়ান উইকিপিডিয়াতে বেশ ভালো দুটো টিউটোরিয়াল পেলাম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভাষার মাথামুন্ডু আমি কিছুই বুঝি না। প্রথম দিকে একটু হতাশ হলাম। কিন্তু তার পরপরই নিজেকে বোঝালাম, আমি এখানে প্রোগ্রামিং-এর ভাষা শিখতে এসেছি, ফ্রেঞ্চ বা কোরিয়ান নয়। যেহেতু আমি একজন প্রোগ্রামার, অতএব যে ভাষাতেই টিউটোরিয়াল লেখা থাকুক, আসল যে ভাষা তথা কোড, সেটা ইংরেজীতেই লেখা আছে এবং সেটা বুঝতে আমার সমস্যা হবার কথা নয়। পুনরায় অত্মাবিশ্বাসের সাথে টিউটোরিয়ালগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম এবং অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আমি টেবিল সংক্রান্ত ট্যাগগুলো শিখে ফেললাম।

টেবিল বানানো শেখার পর আমার কাজ এগিয়ে যেতে লাগলো সুপারসনিক গতিতে। সবগুলো টেবিল তৈরী করে দেয়ার পর অন্যান্য সম্পাদকরা খুব দ্রুত টেবিলগুলো পূর্ন করে ফেলতে শুরু করে। এসময় আরমান ভাইয়া এবং আদিত্য ভাইয়া মিলে কিছু রেফারেন্স এবং প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব-পেইজ অন্তর্ভুক্ত করেন এই তালিকায়। বলাইবাহুল্য নাহিদের অবদান এই তালিকা তৈরীতে ব্যাপক। এর কারন শুধু এই নয় যে সে সরাসরি টেবিলগুলো পূর্ন করতে সাহায্য করেছে, বরং এই তালিকা তৈরীর যে ভিত্তি অর্থাৎ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্টিকেল তৈরী করা, সে কাজের সিংহভাগই তার করা। তাছাড়া কিছু নুতন মুখ যারা খুব সম্প্রতি এসেছে, তারাও কাজ করতে শুরু করে এই তালিকায়। সবার যৌথ প্রয়াসের ফলস্বরুপ কিছুদিনের মধ্যে তালিকাটি একটা চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ তালিকায় পরিনত হয়।

নভেম্বরে আমি ডাবলিন চলে আসি। ফলে উইকিপিডিয়াতে কাজ করতে পারিনি প্রায় এক মাস। বিচ্ছন্ন ভাবে কয়েকবার এখানে কাজ করলেও আগের সেই উৎসাহে কেন যেন তখন ভাটা পড়ে গিয়েছিল। এক সময় লক্ষ্য করলাম অন্যরাও এই তালিকায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আসলে এখানে আমরা এত কাজ করে ফেলে ছিলাম যে সবাই সম্ভবত বিরক্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে তালিকার অগ্রগতিও থমকে গেল ব্যাপক ভাবে।

ডাবলিনের নুতন জীবনের সাথে কিছুটা মানিয়ে ওঠার পর আমি আবার উইকিপিডিয়াতে ফিরে আসি। তখন এই তালিকাটি নিয়ে আবার চিন্তা ভাবনা শুরু করি। কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলাম না ঠিক কোথায় পরিবর্তন দরকার। এদিকে বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু নুতন ছেলে আমাদের সাথে যোগ দিয়ে ছিল। সবাইকে নিয়ে আমি উইকি-প্রোজেক্ট বাংলাদেশী ইউনিভার্সিটিজ-এ একটা আলোচনার আয়োজন করি। সেখানে এই তালিকাটি নিয়েও আমাদের কথা হচ্ছিল - কোথায় পরিবর্তন দরকার, কিভাবে করা উচিত ইত্যাদি নিয়ে। ফলস্বরুপ কিছু কিছু ভুল বের হয়ে আসছিল যেটা আমরা দ্রুত ঠিক করে নিচ্ছিলাম। এরকম একটা সময়ে আদিত্য ভাইয়া প্রথম প্রস্তাব করেন তালিকাটিকে ফিচার্ড লিস্টের জন্য মনোনিত করার যেটা আরমান ভাইয়া জোরালো সমর্থন দেয়। ফলে আমি ২৫ মার্চ রাতে এই তালিকাটিকে ফিচার্ড লিস্টের জন্য মনোনিত করি - যার সরল অর্থ হচ্ছে অন্য উইকিপিডিয়ানদের অনুষ্ঠানিক ভাবে আহবান জানানো তালিকাটির খুটিনাটি পরীক্ষা করে মতামত দেয়ার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে উইকিপিডিয়ায় সংখ্যা ভোট-কে প্রাধান্য না দিয়ে মতঐক্য তথা কনসেনসাসকে প্রধান্য দেয়া হয়। অর্থাৎ সবাই যদি কোন ব্যাপারে একমত না হয় তাহলে স্বীদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। এটা কোন প্রবন্ধ মুছে ফেলা থেকে শুরু করে কোন প্রবন্ধকে গুড বা ফিচার্ড স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। অতএব আমি সেদিন রাতেই মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলাম একটা চরম ব্যাস্ত সপ্তাহের।

২৬ মার্চ ২০০৮ - স্বাধীনতা দিবস। জাতীয়তাবোধে উদ্ধুদ্ধ হয়ে কম্পিউটারের সামনে বসলাম এবং সাথে সাথেই একটা ধাক্কার মত অনুভব করলাম। দুইজন উইকিপিডিয়ান মতামত দিয়েছে, দুজনই বলেছে এটি ফিচার্ড হবার যোগ্যতা রাখে না। তাদের মাঝে একজন রিতিমত কমেন্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছে। এটা ঠিক হয়নি, ওটা ঠিক হয়নি - হাজার ভুল বের করেছে। আমার আগেই আদিত্য ভাইয়া এসে কিছু সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। আমি যখন শুরু করলাম, রিতিমত সমুদ্রে সাতার কাটার মত অবস্থা। এদিকে আমার একটা প্রেজেন্টেশন বাকি ছিল যেটা দু-একদিনের মধ্যে দিতে হবে। আমার সুপারভাইজার বেশ কিছু পেপার পড়তে দিয়েছেন। সেগুলো পড়ে, বুঝে আমাকে প্রেজেন্ট করতে হবে। কি করবো বুঝে উঠিতে পারলাম না। কিছু ভুল ঠিক করে তাড়াতাড়ি বের হলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে।

ট্রিনিটিতে এসে একটু সুস্থির ভাবে বসতে পারিনি, তার আগেই দেখি আবার কমেন্ট। টেবিলটা বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা ভাবে সাজানো যায় না। তাছাড়া ডিভিশন বলতে কি বোঝানো হয়েছে এটা বোঝা যাচ্ছে না। রেফারেন্সও অনেক কম। প্রতিষ্ঠা হবার বছর নেই বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের। এরকম আরও অনেক সমস্যা। প্রথমে আমি যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আদিত্য ভাইয়া এসে বললেন যুক্তি দেয়ার থেকে, সমস্যাগুলো সমাধান করাই ভালো। ভেবে দেখলাম কথাটা ঠিকই বলেছেন। ফলে শুরু করলাম যুদ্ধ। প্রথমে রেফারেন্স যোগ করা। বাংলাপিডিয়া থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধ রেফারেন্স হিসেবে যোগ করলাম। কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাপিডিয়াতে শুধু পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর প্রবন্ধ আছে, নুতনগুলোর নাম গন্ধও নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ওয়েব পেইজ থেকে রেফারেন্স নেয়া শুরু করলাম। কিন্তু সমস্যা এখানেও। এরা নুতন ওয়েব পেইজ বানাচ্ছে। ফলে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর তথ্য নেই। তাছাড়া আই. ইউ. টি. যেহেতু অর্ন্তজাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, সেটার ব্যপারে এখানে কিছু না থাকাই স্বাভাবিক।

আমি যখন হন্য হয়ে রেফারেন্স খুঁজছি, তখন আমার সুপারভাইজার বেশ কয়েকবার টেবিলের পাশ দিয়ে হেটে যান। প্রতিবারই দেখতে পান আমি পড়ার পরিবর্তে উইকিপিডিয়াতে কাজ করছি। শেষবার যে দৃষ্টিটা দিলেন তার অর্থ হচ্ছে "সি ইউ ইন দ্যা প্রেজেন্টেশন।" আমি পড়লাম মহা বিপদে। পড়বো নাকি রেফারেন্সগুলো ঠিক করবো। এক সময় মনে হলো একটা চ্যালেঞ্জ যখন করেই ফেলেছি, এটাকে সফল করবো। আবার ফিরে গেলাম উইকিপিডিয়াতে। ভার্সিটি-এডমিশন নামে একটা পোর্টাল আছে। ওখান থেকে নিলাম বেশ কিছু রেফারেন্স, ও.আই. সি -এর পেইজ থেকে নিলাম আই. ইউ. টি'র টা, বাংলাদেশ ব্যুরো অব এডুকেশন ইনফরমেশন স্টাটিসটিকস থেকে নিলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরটা। এভাবে ধীরে ধীরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যপারে রেফারেন্স যোগ করে ফেললাম। এর মাঝে আদিত্য ভাইয়া এসে লিড সহ বিভিন্ন টেক্সট সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করলেন এবং আমাকে জানালেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশে কিছু বাকি আছে; আমি যেন সেটা ঠিক করি। তাছাড়া দুটা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল। সেগুলোর মূল আর্টিকেল খুলে এখানে সংযুক্ত করতে এবং কোডে পরিবর্তন করে বিভিন্ন তথ্যের উপর সাজানো (সর্ট) যায় এমন ভাবে তালিকাটিকে প্রস্তুত করতে বললেন। এছাড়াও একটা বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ এখনও চলছে কিনা সেটার ব্যপারে তথ্য সংগ্রহ করতে বললেন।

বুঝলাম অনেক কাজ বাকি, কিন্তু শেষ করতেই হবে। এটা আমার জন্য তখন স্বপ্নের পর্যায়ে পৌছে গিয়েছে। খানিকটা নেশাও বলা যেতে পারে। বাসায় ফেরার পথে চিন্তা করলাম, আজকে রান্না করার সময় নেই। অতএব সহজ সমাধান, একটা দোকান থেকে ডিনার কিনে নিলাম। বাসায় গিয়ে কোনক্রমে খেয়েই ল্যাপটপের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। প্রথমে সর্ট করার কোড ঠিক করলাম। এর পর ধীরে ধীরে আরও রেফারেন্স, টেক্সট এবং বাকি দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিকেল তৈরী করে সংযুক্ত করলাম। কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয়টা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল, সেটার ব্যপারে কোন তথ্য পেলাম না। অতপর ফোন নাম্বার খুঁজে বের করে কল করতে গেলাম। হঠাৎ মনে হলো আমিতো ইউরোপে। ঢাকায় এখন মধ্যরাত। তাই আদিত্য ভাইয়াকে নাম্বারটা দিয়ে অনুরোধ করলাম জেনে আমাকে জানাতে। খুটিনাটি আরও সমস্যা ছিল, সব ঠিক করলাম। যখন ঘুমাতে গিয়েছিলাম তখন রাত প্রায় তিনটা।

পরদিন রাগীব ভাইয়া এসে তার সমর্থন জানান, সাথে কিছু ব্যাপার ঠিক করার জন্য পরামর্শ দেন। এদিকে একে একে আরমান ভাইয়া, আদিত্য ভাইয়া, তানভির, নাহিদ এবং যে দুজন আগে সমর্থন দেয়নি, তাদের একজন সমর্থন দিয়ে যায়। বাকি একজন এসে জানায় সে আরও কিছু সমস্যা দেখতে পাচ্ছে যেটা ঠিক না করা হলে সে সমর্থন দিবে না। কি আর করা, তার পরামর্শ মত বাকি সমস্যাগুলোও সমাধান করলাম। এদিকে আদিত্য ভাইয়া জানালেন সেই বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাদ দেয়াই ভালো। ফলে সেটাকে বাদ দিয়ে তালিকার ক্রমগুলো আবার ঠিক করলাম। খুব অল্প কিছু সমস্যার সমাধান ছাড়া সিংহভাগই ঠিক করতে পেরেছিলাম। পাঠক এই লিঙ্কের নীচের দিকের চেক-লিস্টটা দেখলে বুঝতে পারবেন কি ঝড়টা গিয়েছে ২৬, ২৭ এবং ২৮ মার্চ। সম্ভবত একদিন পরই সর্বশেষ ব্যাক্তি যে এর বিরোধীতা করেছিল সে তার অবস্থান পরিবর্তন করে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহন করে, অর্থাৎ সে সমর্থনও দিচ্ছে না আবার বিরোধীতাও করছে না। ফলে এই তালিকাটির ফিচার্ড হবার পথে আর কোন বাধাই থাকলো না এবং সময়ের ব্যাপারে পরিনত হলো।

অতঃপর আজ আসলো সেই মুহুর্ত। সকালে যখন দেখলাম এটা ফিচার্ড হিসেবে পাশ হয়েছে, অদ্ভুত একটা অনুভুতি কাজ করছিল আমার মনে যেটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাই সে চেষ্টা করে বৃথা সময় নষ্ট করবো না। তবে এতটুকু শুধু বলবো, এই ফিচার্ড লিস্টটা উইকিপিডিয়াতে আমার কাজ করার আগ্রহ আর উদ্দিপনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন। আমার পরবর্তি টার্গেট, ব্যাঙ্গলী লিটারেচার । এক বুক আশা নিয়ে আমি সেখানেও সমান সফলতার জন্য অপেক্ষা করছি।

একটি স্বপ্ন শেষ হতে না হতেই আরেকটি স্বপ্ন। খানিকটা বাড়াবাড়ির মতই শেনাচ্ছে। কিন্তু কি করবো? এই এক জ্বালা। স্বপ্ন ব্যাপারটাই এমন, মানুষ দেখতেই থাকে, দেখতেই থাকে। সফল হলেও দেখে, ভেঙ্গে গেলেও দেখে। সম্ভবত এজন্যই আমরা মানুষ যারা অসীমকে স্বপ্নের মাঝে ধারন করে বেঁচে থাকি। মাঝে মাঝে সেই অসীমকে ছুঁয়েও ফেলি, তখন আমরা তাকে বলি স্বপ্ন পূরণের গল্প!

৮ এপ্রিল ২০০৮

 

প্রকাশ করা হয়েছে: উইকিপিডিয়া  বিভাগে ।

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ২৮৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:২৯
comment by: রাতমজুর বলেছেন:
ধন্যবাদ এরকম একটা কাজের জন্যে।
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ, উৎসাহের জন্য।

২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
comment by: কেএসআমীন বলেছেন: মাথামু্ন্ডু বুঝি নাই....
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: তবুও যে পড়েছেন, তাতেই খুশি!

৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
comment by: ভাঙা চাঁদ বলেছেন: ভালো একটা কাজ করছেন
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে কৃতিত্ব আমাদের পুরো বাংলাদেশী উইকিপিডিয়া পরিবারের। এখানে কেবল আমার দিকের কথাগুলোই তুলে ধরতে পেরেছি। অন্যান্যদেরও ঠিক একই অবস্থা।

৪. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫০
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

অভিনন্দন । আপনার নতুন স্বপ্নটিও পূরণ হোক ।
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৪১

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। যদিও না না অসুবিধার কারনে গুছিয়ে কাজে হাত দিতে পারছি না, তবে হাত দিব কিছুদিনের মধ্যে।

৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫০
comment by: কেএসআমীন বলেছেন: এ দেখি আমাদের রন্টু ভাই। তাই না? আপনাকে রাত ৯ টা থেকে খুজতেছি...
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৪১

লেখক বলেছেন: কি দেখে মনে হলো আমি রন্টু ভাই? :-)

৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৪৪
comment by: বায়েজীদ বলেছেন: চমৎকার। আপনার পরবর্তী স্বপ্নও নিশ্চয়ই সফল হবে।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: কাজ শুরু করি করি করে হচ্ছে না। দোয়া করবেন যেন সেটাকেও সফল করতে পারি।

৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা,এমন একটা কাজের জন্য। আপনাদের মত মানুষদের জন্যই বাংলাদেশের নাম আরো কিছু লোক জানে,বিরাট পাওয়া।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৫০

লেখক বলেছেন: অসংখ্যা ধন্যবাদ। দোয়া রাখবেন যেন আরো কিছু ভালো আর্টিকেল তৈরী করতে পারি।

৮. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ভালো লাগলো।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৬
comment by: রবিউলকরিম বলেছেন: অভিনন্দন রইল আপনাকে সহ পুরো পরিবারটির প্রতি।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন: পুরো পরিবার নিয়ে একটা লেখা লিখবো। এ মাসে হয়তো হবে না, চেষ্টা থাকবে আগামী মাসে লেখার। পড়ার আমন্ত্রন রইলো।

১০. ১৯ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:০৮
comment by: স্বপ্নীল আকাশ বলেছেন: CONGRATULATIONS. Nice Works :)
১৯ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।

 



 


আমি নিয়াজ, একজন খুব সাধারন মানুষ যার রয়েছে অসাধারন কিছু রঙ্গিন স্বপ্ন। আমি গর্ববোধ করি আমার বাঙালী এবং বাংলাদেশী পরিচয়ে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩০৮১১