জয় শেষ পর্যন্ত নুতন দিনেরই হলো। ২০০৮ সনের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এখন স্পেন। এমন নয় যে স্পেন আগে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় আসরেই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৬৪ সনে। তবে সে গল্প এখন স্প্যানিশ নাতি-নাতনীদেরও সম্ভবত দাদীরা আর শোনায় না। রুপকথার থেকেও প্রাচীন। এবার চ্যাম্পিয়ান হয়ে স্পেন আরেকটা নুতন দিনের সূচনা করলো সাথে এটাও জানালো ইউরো এর সর্বকালের সফল দলও এখন ওদের হাতে খেলার পুতুল।
স্বপ্ন দেখে ছিলাম তিনটা দলকে নিয়ে, নেদারল্যান্ডস্, পর্তুগাল এবং স্পেন। মিথ্যে বলবো না, স্পেনের প্রতি স্বপ্নটা একটু দুর্বল ছিল। তাছাড়া তাদের শুরুর তুলনায় নেদারল্যান্ডস্ এবং পর্তুগালের সূচনা ছিল রীতিমত উড়ন্ত। কিন্তু উড়ন্ত-চাকতির মতই দল দুটো যখন ভুমিমুখী হয়ে কুপোকাত হলো, তখন স্লো এন্ড স্টেডি উইনস দ্যা রেইস নীতিতে স্পেন এগিয়ে চলেছে একটু একটু করে।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে পুরোনো দিনের দুই ভায়েগ্রাসেবী(!) দল, ইটালী এবং জার্মানীও এগিয়ে এসেছিল বেশ খানিকটাই। জার্মানী হলো ইউরো'র ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল যারা তিনবার (৭২, ৮০, ৯৬) এই ট্রফিটা ঘরে নিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে ইটালী বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। যদিও বিশ্ব-রানার্স আপ ফ্রান্স আগেই বিদায় জানিয়ে ছিল টুর্নামেন্টকে, তবে ইটালী এবং জার্মানীর এগিয়ে আসা মনে ভয় জাগিয়ে ছিল; তবে কি সেই পুরোনো চিত্রই দেখতে হবে? বিশ্বকাপের মত ভালো না খেলেও এ ট্রফিটাও জায়ান্টরা নিয়ে যাবে? সেমিতে ইটালীকে এবং ফাইনালে জার্মানীকে হারিয়ে যখন স্পেন চ্যাম্পিয়নের খাতায় নাম লেখায় তখন বুকে একটা শান্তিময় অনুভুতির ছোঁয়া পেলাম। শেষ পর্যন্ত নুতন দিনের দেখা পাওয়া গেল!
এছাড়াও আরেকটা বিষয়ে এবার স্প্যানীশরা তাদের দূর্নাম ঘোচাতে পেরেছে। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা ফুটবল-লীগ (স্প্যানিশ লা লিগা) যাদের, তাদের শূন্য ভান্ডারে এরকম একটা ট্রফির বড়ই দরকার ছিল। রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সিলনার দাপটে যখন পত্রিকার পাতা কাঁপে, তখন তাদের জাতীয় দলের সাফল্যের ভান্ডারটা রীতিমত করুন। এটা ঠিক এই দলদুটো সহ অন্য স্প্যানীশ দলগুলো বিদেশী খেলোয়াড়দের দাপটেই উজ্জ্বল, তবুও কথা থেকেই যায়; তাহলে ওদের ছেলেরা বিদেশীদের দেখে শিখলোটা কি? তাছাড়া স্পেনের স্ট্রাইকার বা মিডফিল্ডাররা কিন্তু অন্য দেশের লিগ কাঁপাচ্ছে। কিন্তু যখনই জাতীয় দলের খেলা থাকে, তখনই তাদের পারর্ফম্যান্সের আর খবর থাকে না। যাইহোক, এ কলঙ্কের দাগটাতেও এবার তারা মলম লাগাতে পেরেছে।
সবশেষে বলবো, এ প্রত্যাশা কখনই করি না যে আজ থেকে অনেক বছর পর কেউ ব্লগ লিখতে গিয়ে স্মৃতির পাতা ঘেটে লিখুক স্পেন ২০০৮ সনে ইউরো জিতেছিল! বরং প্রত্যাশা করি, যে নুতন দিনের সূচনা আজ তারা করলো সেই দিনকে যেন তারা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ ২০১০ এবং ইউরো ২০১২-তেও। জয় স্পেন, জয় নুতন দিনের!
২৯ জুন ২০০৮
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

