আমার প্রিয় পোস্ট

.... তবুও আমি স্বপ্ন দেখি ... (স্বপ্ন, বাস্তব এবং ব্লগের সর্বস্বত্ব ব্লগার কতৃক সংরক্ষিত)

অলগা কারেলেনকো - ইউক্রেনের সাগর কন্যা, পারবে কি হতে হলিউডের নুতন সূর্য?

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৬

শেয়ারঃ
0 0 0

দারিদ্র পিড়ীত দেশ ইউক্রেনের সাগর পাড়ের মেয়ে অলগা কারেলেনকো। বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় যখন অলগার বয়স মাত্র তিন বছর। মায়ের কাছেই বড় হয়েছে অলগা। ১৩ বছর পর্যন্ত মাত্র দুবার বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হয় তার। পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করতে করতেই যেন মা-মেয়ের বছরগুলো কেটে যাচ্ছিল। এরপর একদিন আসে সেই প্রহর। ১৬ বছর বয়সে অলগা মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল মস্কো। মেট্রো স্টেশনে হঠাৎ করেই যেন তাকে আবিষ্কার করেন এক মডেল স্কাউট। পরের গল্প রুপকথার মত। অলগা প্রধমে ট্রেনিং নিতে যায় মস্কো এবং এর পর স্বপ্নের নগরী প্যারিস। মডেল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে সময় লাগেনি খুব একটা। দ্রুতই বিশ্বের নাম করা দুটো ম্যাগাজিন এ্যালি এবং ভোগের কভার পেইজে চলে আসে অলগা। এরপর ফরাসী চলচিত্রে আত্মপ্রকাশ, আরো অনেক অনেক মডেলিং এবং সর্বপরি সুপার মডেলে পরিনত হওয়া।

যশ এবং খ্যাতি তখন অলগার হাতে ধরা দিতে শুরু করেছে সবে। নিয়তী অলগাকে ওখানেই থামাতে চায়নি। হলিউডের রুপালী জগৎ যেন অলগাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। ২০০৭ সনে হিটম্যান দিয়ে হলিউডে প্রবেশ। এরপর ২০০৮ এর সুপার হিট বন্ড মুভি কোয়ান্টম অব সোলেস-এর বন্ড গার্ল, সাথে আরেক সুপার হিট ম্যাক্স পেইনের নাতাশা। অলগা যেন আকাশে উড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ইন্টারভিউ আর আন্তর্জাতিক কভারেজের বন্যার মাঝে অলগা আবিষ্কার করে ফেলেছে এক নুতন জগৎ যা দরিদ্র স্বদেশের সাথে পুরোই বেমানান। ইউক্রেনের সেই সাগর কন্যা যেন আজ হতে চলেছে হলিউডের নুতন সূর্য।

তবে সাফল্যের গল্প শুনতে যত সহজ শোনায়, বাস্তবে অর্জন করতে তত সহজ ছিলনা মোটেও। বন্ড গার্ল হতে অলগাকে তিনবার ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। প্রথমে প্যারিসে। অলগার ভাষায়, সে ধরেই নিয়েছিল হবে না। কোন ত্রুটির কারনে স্ক্রিপ্টের অর্ধেক তাকে দেয়া হয়নি। ফলে অডিশনের সময় সে ঠিকমত পারফর্মই করতে পারেনি। তবুও তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়ে লন্ডনে ডাকা হয়। এবার অলগা বুঝতে পারে হয়তো রোলটা সে পেলেও পেতে পারে। তবে তবুও তাকে চুড়ান্তভাবে কিছু না জানিয়ে তৃতীয়বার অডিশনে ডাকা হয়। সিএনএন-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে (ক্লিপ - ১) অলগা বলেছিল "ইট ওয়াজ সো ক্লোজ, বাট টু ফার এ্যাওয়ে"। এরপর যখন অলগাকে চুড়ান্তভাবে বন্ডগার্ল হিসেবে নির্বাচিত করা হলো, তখন যেন হলিউডের সোনার কাঠি অলগার হাতে দিয়েই দেয়া হলো। অলগার জন্য মুহুর্তটা ছিল আরো স্মরনীয় কারন এবারের বন্ডমুভি বিশ্বব্যাপি মুক্তি দেয়া হয়েছিল ১৪ নভেম্বর (যদিও বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডে সীমিত ভাবে ৩১ অক্টোবর মুক্তি দেয়া হয়েছিল) যা অলগার জন্মদিন। কোয়ান্টম অব সোলেস ছাড়াও বছরের আরেক সুপার হিট মুভি ম্যাক্স পেইনে অলগা একটা ছোট কিন্তু দাগ কেটে যাওয়া চরিত্রে অভিনয় করে। নাতাশার ভুমিকায় ম্যাক্স পেইনে অলগার অভিনয় ছিল রীতিমত মোহনীয়। ইতিমধ্যে অলগা সাইন করেছে আরো দুটো মুভিতে অভিনয় করার জন্য এবং ওর পেছনে পরিচালকের লাইন দেখে মনে হচ্ছে দুই-এর পাশে শুন্য বসতে সময় নেবে না।

হলিউডের সাফল্যর পরও অলগা যেন সেই ইউক্রেনের সাগর কন্যাই রয়ে গিয়েছে। ইন্টারভিউ এবং টিভি এপিয়ারেন্সে তেমন কোন অতিরিক্ত অহঙ্কার নেই তার মধ্যে। অলগার সাথে তাই কথা বলতে বলতে (ক্লিপ - ২) ফক্স টিভির উপস্থাপকরা যেন নিজের পাশের বাড়ির মেয়ের সাথে কথা বলার মত স্বাচ্ছন্দবোধ করছিল। আসলে অলগা এমনই; মিলিয়ন ডলারের রোলে অভিনয় করেও এখনও নিজের স্বাতন্ত্রকে ঠিকই ধরে রেখেছে। ঘর বানিয়ে নিয়েছে প্যারিসকে তবুও ভোলেনি নিজের দেশ ও দেশের মানুষকে। ফিরে গিয়েছিল ইউক্রেনে। প্রেসিডেন্টের কান্ট্রি হাউজে একান্তে অলগাকে আমন্ত্রন জানিয়েছিল ইউক্রেনের ফার্স্টলেডী। অলগার শহর বার্ডিয়ান্সক-এর মেয়র ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছে অলগার নামে সড়কের নামকরন করার। বলার অপেক্ষা রাখেনা সময়টা বেশ কাটছে অলগার। এখন দেখার বিষয়, এই উড়ন্ত সূচনাটাকে ধরে রেখে অলগা কি হলিউডের আগামী সূর্য হবে নাকি উল্কার মত ক্ষনিক আলো ছড়িয়েই হারিয়ে যাবে।

(আগ্রহী পাঠক ইউটিউব থেকে সংযুক্ত ক্লিপগুলো দেখতে পারেন।)

১৬ নভেম্বর ২০০৮
ডাবলিন, আয়ারল্যন্ড।

তথ্য সূত্র
১. Talking Shop: Olga Kurylenko (বিবিসি থেকে)
২. হোম সাইট

ক্লিপ সমূহ
ক্লিপ - ১ : সিএনএন ইন্টারভিউ


ক্লিপ - ২ : ফক্স ইন্টারভিউ

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ফিচার  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:১৮
শিবলী বলেছেন: অতিরিক্ত অহঙ্কার নেই---

এই জিনিষ টাই তাকে হ্য়তবা আরো উপরে নিয়ে যাবে
৩. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫০
রাইডার বলেছেন: ইউক্রেনের মাইয়াগো ভালা পাই
নিচে আর দুই ইউক্রেনের নায়িকার ফটুক দিলাম

মিলা কুনাস

মিলা জভোভিছ
৪. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০৫
অলস ছেলে বলেছেন: রাইডার ভাই, ইউক্রেন যাইবার চাই। আমারে ক্রেন দিয়াও আটকানো যাইবোনা মনে হইতাচে।
৫. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:২১
হাইগ্যানী হাবাজন ব্যবিলন বলেছেন: ফুটো ভালো লাগিয়াছে। একেবারে লারেলাপ্পা হইয়াছে। চালাইয়া যাও ভাইগনা।
৬. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৮
কানা বাবা বলেছেন:
ভাল্লাগচে...
পিলাচ্...
৮. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২৬
আকাইম্মা বলেছেন: ইউক্রেনের মাইয়াগুলা দেখতে ভালা :D
১০. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০৭
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: পারবো । দেইখা শুইনা মিইশা আমার মনে হইছে পোল্যান্ড আর ইউক্রেনের মাইয়ারা এভারেজে ইউরোপের সবচাইতে সুন্দর আর মিশুক (সবচাইতে গ্ল্যামারাস নাও হইলোবা )। আর এরা যথেষ্ট বেশী স্বাভাবিক - ভাবপ্রকাশ , আচরণ আর চিন্তাভাবনার দিক থেকেও।

অফটপিকঃ
পার্থ ভাই কি আপনার কাজিন নাকি?
১১. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৪
ময়ুরবাহন বলেছেন: আরব মেয়েরা হলিউডে গেলে অন্য নায়িকাদের কেরিয়ার নস্ট হয়ে যেত ৷ বিশ্বের সেরা সুন্দরী আরব মেয়েরা ৷ তবে অভিনয়ের মান কেমন হত সেটা বিবেচ্য
১২. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ। কিছু গাধার দল সব জায়গায় থাকে যারা বোঝেই নাই পোস্ট কাকে বলে। সাহস থাকলে একটা কমেন্ট দিয়ে মাইনাস দেন :) (ব্লক করতে সুবিধা হবে)
১৩. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৬
শিবলী বলেছেন: আমি পিলাচ দিসিলাম

:)
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: যাকে ইঙ্গিত করে বলেছি, তিনি বুঝেছেন। :)
কেমন আছে? অনেক দিন পর এখানে আসলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৮৯৫৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
বলার নেই তেমন কিছু!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ