আমার প্রিয় পোস্ট
- বাংলা বানান নিয়ে যারা সমস্যায় আছেন, তাদের জন্য - ত্রিভুজ
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- একদিন বুঝবে (উৎসর্গ মহাকবি মাইকেল মেহেদী) - হাসান বিপুল
- মাছের কাটলেট - জরিণা
- কাঙাল, আলেয়ার সন্ধানে - নীল নিঃসঙ্গতা
- বাবা (বাবা'র স্মরণে) - কালপুরুষ
- আরও একটি ভদ্রগোছের এ্যাডাল্ট জোক ১৮+ - বহুরূপী মহাজন
- হে কবরবাসীরা,তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক - ফারহান দাউদ
- মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন - ফারহান দাউদ
- ইসলাম শান্তির/অশান্তির ধর্ম নিয়ে ব্লগার আরিফুর রহমানের সাথে আলোচনা। - হ্যারি সেলডন
- একজন মুমূর্ষ রোগীকে বাচাতে এগিয়ে আসুন। - মাহিরাহি
.... তবুও আমি স্বপ্ন দেখি ... (স্বপ্ন, বাস্তব এবং ব্লগের সর্বস্বত্ব ব্লগার কতৃক সংরক্ষিত)

বাংলা নববর্ষ এবং আমাদের অজ্ঞতা
১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:৫৮
প্রশ্নটা দেশে থাকতে অনেককে করতাম। বলুন তো বাংলা প্রথমবর্ষ তথা বাংলা ১ সনে কী হয়েছিল? বেশীর ভাগ মানুষ একটু বিব্রত বোধ করতেন। কেউ কেউ উৎসাহী হয়ে বলতেন হয়তো অনুষ্ঠান বা মেলা হয়েছিল। কারো কারো অনুমান রীতিমত 'ওয়াইল্ড গেস'-কেও হার মানাতো। কিন্তু সঠিক উত্তরটা খুব কম মানুষ দিতে পেরেছিলেন। সেটা হলো বাংলা ১ সন বলে আসলে কিছু নেই।
আজ ১৪১৬ সনের প্রথম দিন। পেছন দিকে গুনতে থাকলে একটা ১ সন আসবে, এটাই স্বাভাবিক ধারণা। সৌর বছর অনুযায়ী তৈরি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার (আমরা যেটাকে ইংরেজী ক্যালেন্ডারও বলে থাকি) বা হিজরী ক্যালেন্ডার বা অন্য কোন ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে এ কথাটা সত্য হলেও বাংলা সন ব্যতিক্রম। বাংলা ক্যালেন্ডারের সূচনাকারী সন ১ থেকে শুরু হয় নি বরং অনেকটা মাঝ থেকে হঠাৎ করে লাফ দিয়ে বাংলা ক্যালেন্ডার তার যাত্রা শুরু করেছে।
সম্রাট আকবরের সময় কৃষকদের থেকে কর আদায় করা হতো হিজরী সন অনুযায়ী। কিন্তু লুনার ক্যালেন্ডার (চন্দ্র বছর) অনুসরণ করা হিজরী সনের প্রথম দিন একেক বছর একেক সময়ে আসতো। ফলে অনেক সময় কৃষকদের ফসলহীন মৌসুমে কর দিতে হতো যা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যেতো। সম্রাট আকবর এই সমস্যার সমাধান করার জন্যে সে সময়ের বিশিষ্ট পণ্ডিত ফতেউল্লাহ সিরাজীকে একটা নূতন ক্যালেন্ডার তৈরির আদেশ দেন। পরবর্তীতে ফতেউল্লাহ সিরাজী হিজরী ক্যালেন্ডার এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটা 'স্মুধ ট্রানজেশন' ঘটান অর্থাৎ লুনার ধারণা অনুসরণ করা হিজরী সনকে গ্রেগরিয়ান ধারণায় রূপান্তর করেন। যদিও এই ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করা হয় ১৫৮৪ খৃষ্টাব্দের ১০ (অথবা মতান্তরে ১১) মার্চ, তবে হিসেব গণনা করা শুরু করা হয় (ব্যাক ডেটে) ১৫৫৬ সন থেকে, যা আকবরের সিংহাসন আরোহনের সন। ঐ বছরের (১৫৫৬) হিজরী সনকে ফতেউল্লাহ সিরাজীর তৈরি করা গ্রেগরিয়ান হিসাব অনুযায়ী বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হয়। সে হিসেবে পেছন দিকে গুনতে থাকলে বাংলা ৯৬৩ সনের আগে আর কোন সন পাওয়া সম্ভব নয়। আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করে থাকবেন হয়তো পাঠক, বাংলা সন এবং হিজরী সন খুব কাছাকাছি বিরাজ করছে। বর্তমানে ১৪৩০ হিজরী সন চলছে এবং বাংলা শুরু হলো ১৪১৬। আজ থেকে ৪৫৩ বছর আগে ৩৫৫ দিনের (প্রায়) হিজরী সনকে ৩৬৫ দিনের (প্রায়) বাংলা সনে রূপান্তর করা হয়। ফলে অতিরিক্ত ১০ দিনের কারণে বাংলা সন ১৩ বছরের বেশী পিছিয়ে গিয়েছে হিজরী সন থেকে (453x10 = 4530। 4530/365 = 12.41)। তাছাড়া বাংলা সন সব সময় গ্রেগরিয়ান/ক্রিস্চিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে ৫৯৩ বছর পিছিয়ে থাকবে। সেজন্যে বর্তমানে কত বাংলা সন চলছে সেটা জানার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো গ্রেগরিয়ান সন থেকে ৫৯৩ বিয়োগ করা।
এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ সব সময় ১৪ এপ্রিল পড়ে; কিন্তু ভারতে সেটা কখনও ১৪ আবার কখনও ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। এর কারণ বাংলাদেশে যে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয় সেটাকে ১৯৬৬ সনের ১৭ই ফেব্রুয়ারী ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লার নেত্রীত্বে গঠিত বাংলা একাডেমীর একটা কমিটি সংশোধন করেছিলেন। তখন বাংলা ক্যালেন্ডারে কোন লিপ ইয়ার ছিল না। ফলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে বাংলা ক্যালেন্ডারের একটা অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হতো। সেই কমিটি ক্যালেন্ডারটিকে সংশোধন করে মাসের দিনগুলো পুনঃনির্ধারন করেন এবং গ্রেগরিয়ান লিপ ইয়ারের বছরে ফাল্গুন মাসে একটা অতিরিক্ত দিন যোগ করে দিন সংখ্যাকে ঠিক রাখার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সন থেকে বাংলাদেশে এই ক্যালেন্ডারটি অনুসরণ করা হচ্ছে যদিও ভারতে সনাতন ক্যালেন্ডার মেনে এখনও নববর্ষ পালন করা হয়। তাছাড়া ভারতে আকবরীয় ধারণার বিষয়টাকে বাংলা নববর্ষের প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে মানা হয় না বরং রাজা শশাঙ্কের সময়ের (যার শাসনকাল ছিল ৫৯০ থেকে ৬২৫ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি) ইতিহাসকে তারা বাংলা ক্যালেন্ডারের ইতিহাস মনে করে। মজার বিষয় হলো সেই ইতিহাস অনুযায়ী বাংলা নববর্ষের সূচনা ১৪ এপ্রিল ৫৯৪ খৃষ্টাব্দ, যা বর্তমান ক্যালেন্ডারের সাথে হুবাহু মিলে যায়। অন্যদিকে আকবরীয় ইতিহাসে সূচনাকারী দিনটি একটা বড় ত্রুটি।
আরেকটি বিষয় এখানে একটু ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন বোধ করছি। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে মানুষ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। এই রীতিটা সম্পূর্ণ ভুল। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন শুরু হয় রাত ১২টার পর থেকে কিন্তু বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের পর। ঠিক যেমনটা হিজরী ক্যালেন্ডারে দিন শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকে। ফলে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো উচিত সকালে সূর্যোদয়ের সময়। বিষয়টা আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও আমরা আসলে দিনের পুরো এক চতুর্থাংশ তথা ছয় ঘণ্টার হেরফের করে ফেলছি। তাছাড়া শুভেচ্ছা যখন বাংলা নববর্ষের জানাচ্ছি তখন এই সামান্য অজ্ঞতাটুকু থেকে বের হয়ে আসতে দোষ কোথায়? আগামী বছর যদি লন্ডনের বা সিডনীর বিখ্যাত বর্ষ বরণ ফায়ারওয়ার্কস সন্ধ্যা ছয়টায় করা হয় সেটা কি হাস্যকর হবে না? আমাদের নববর্ষ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত নয় বলে কি আমরা একটা ভুল রীতিকেই অনুসরণ করে যাবো? তাহলে ভিনদেশীরা আমাদের থেকে সঠিকটা শিখবে কি করে? তাছাড়া বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত নয় কথাটাও সম্ভবত ঠিক নয়। লন্ডনে অনুষ্ঠিত বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান পুরো ইউরোপে অনুষ্ঠিত সর্ব বৃহৎ এশিয়ান ফেস্টিভেল এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বাহিরে সর্ব বৃহৎ বাঙালী অনুষ্ঠান। ফলে আমাদের এই চর্চাগুলো হওয়া উচিত নির্ভুল যাতে আমাদের পরবর্তী বংশধর এবং ক্ষেত্রে বিশেষে ভিনদেশীরাও আমাদের থেকে সঠিকটা দেখতে এবং শিখতে পারে।
আসুন, আমরা আমাদের অজ্ঞতাগুলো ঝেড়ে ফেলে নিজের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে জানার চেষ্টা করি এবং আগামী বছর থেকে সকালের সূর্যোদয়ের পর সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। আপনার জীবনে নববর্ষ বয়ে আনুক নূতন সুখ এবং সমৃদ্ধি। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছ - শুভ নববর্ষ।
১৪ এপ্রিল ২০০৯ / পহেলা বৈশাখ ১৪১৬ (বাংলাদেশ সময়)
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।
প্রকাশ করা হয়েছে: ফিচার বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৩৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এবং শুভে নববর্ষ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। সাথে রইলো নববর্ষের শুভেচ্ছা।
আমি একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপনার কমেন্টের নিচে লেখা 'আমার বউ কই'। ভাবলাম আমাকে মনে হয় জিজ্ঞেস করছেন!
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক শুভ নববর্ষ।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
ওই ভোরে শুভেচ্ছা ব্যাপারটা অনেকেই জানে না। কাল রাতে অনেককে শুধরে দিয়েছি। ধন্যবাদ ব্যাপক তথ্যের জন্য
লেখক বলেছেন: আমিও কাল একই সমস্যায় পড়েছিলাম। সবাই মধ্যরাতে উইশ করে। পরে ভাবলাম একটা পোস্ট লিখে ফেলি।
শুভ নববর্ষ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
পোস্টটা আজকের জন্য স্টিকি হবার মতো।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক শুভ নববর্ষ।
লেখক বলেছেন: শুভ নববর্ষ আপনাকেও।
বিলাল বলেছেন:
প্রিয়তে
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।
সেলটিক সাগর বলেছেন:
তথ্যবহূল পোস্ট...
লেখক বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো।
লেখক বলেছেন: শুভ নববর্ষ ![]()
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
এই পোষ্টের প্রথম দিকের তথ্য গুলো নিয়ে আর ও কয়েকটি পোষ্ট দেখেছি....কিন্তু গুছিয়ে লিখা বা আমি যেভাবে তথ্য গুলো চাই, সেটা এই খানেই পেলাম....আপনার লেখনী আমার খুব পছন্দ....লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।শেষের দিকের বক্তব্যের সাথে কিছুটা দ্বিমত প্রকাশ করছি....অন্তত আমি খুব কম লোককেই বাংলা দিন শুরুর সময় মাঝরাতে'র সাথে গুলিয়ে ফেলতে দেখেছি ।কিন্তু এক এক জনের ব্যাপারে এক এক রকম ঘটতেই পারে ।
চমৎকার লেখার জন্য অবশ্যই প্লাস ।
লেখক বলেছেন: আনেক শুভেচ্ছা এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা।
আসলে আমি কাল অনেকের কাছ থেকে বাংলাদেশী সময় রাত ১২টা এক মিনিটে শুভেচ্ছা পেয়েছি। সেজন্যই মূলত লেখা।
প্লাসের জন্য আবারও অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
কক বলেছেন:
তথ্যবহুল একটি পোস্ট......বাংগালী হিসেবে জিনিষ গুলো আমাদের জানা দরকার।নববর্ষের শুভেচ্ছা ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা।
শুভ নববর্ষ,সব কিছুর মত এইটাও দেরিতে দিলাম।
লেখক বলেছেন: আমারও যা অবস্থা হচ্ছে। ৩ দিন দেরীতে উত্তর দিচ্ছি :-(।
আমিও কয়েক ফ্রেন্ডকে দাবড়ানী দিয়েছি। সম্ভবত আর শুভেচ্ছা জানাবে না ভবিষ্যতে। ![]()
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
ধন্যবাদ এমন একটা লেখার জন্য ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।
সরকার সেলিম বলেছেন:
ধন্যবাদ..
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা রইলো।
রাজা রায় বাহাদুর যদুনাথ বলেছেন:
নিয়াজ ভাই, আপনার লেখাটায় 'জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার' কথাটা দেয়া আছে। আবার একই বিষয়টা উইকিপিডিয়ার পয়লা বৈশাখের লেখাটায় 'গ্রেগরিয়ান' হিসেবে দেয়া। প্রশ্ন হলো ২টোই কি একই? এবছর আপনার লেখাটা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলাম। আপনার লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ। নববর্ষের শুভেচ্ছা ১৪১৭।
রাজা রায় বাহাদুর যদুনাথ বলেছেন:
নিয়াজ ভাই, আপনার লেখাটায় 'জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার' কথাটা দেয়া আছে। আবার একই বিষয়টা উইকিপিডিয়ার পয়লা বৈশাখের লেখাটায় 'গ্রেগরিয়ান' হিসেবে দেয়া। প্রশ্ন হলো ২টোই কি একই? এবছর আপনার লেখাটা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলাম। আপনার লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ। নববর্ষের শুভেচ্ছা ১৪১৭।
লেখক বলেছেন: ভুলটা আমারই। ঠিক করে দিলাম এখন। ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্যে এবং শেয়ার করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইলো। শুভ নববর্ষ।
নষ্ট ছেলে বলেছেন:
সূর্যোদয়ের পর বাংলা নববর্ষ শুরু হয় এটা জানতাম তবে বাংলা সনের পুরো ইতিহাসটা জানতাম না।দেরিতে হলেও নববর্ষের শুভেচ্ছা।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
সেদিন পশ্চিম বংগীয় বাঙালী এক ভদ্রলোকের সাথে কথায় কথায় বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমি যখন কথা পাড়লাম যে সম্রাট আকবর ই এই বাংলা সালের গোড়াপত্তন করেছেন, ভদ্রলোক আপত্তি জানিয়ে বললো, আমার সে ধারণা ভূল। আকবরই প্রথম শাসক যিনি এই বাংলা সনকে “স্বীকৃতি” দিয়েছেন। কারণ ফসল আদায় নিয়ে জটিলটার কারণে লোকসানটা তাদেরই হচ্ছিল। এবং তিনিই প্রথম শাসক যিনি এই সমস্যাটার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। নইলে বাংলা সাল বাঙ্গালীদের মাঝে আকবরের আমলের অনেক আগে থেকেই প্রচলন ছিল। আকবর শুধু শিক্ষিত সমাজে এর নবসূচনা করেছেন মাত্র। ভদ্রলোকের ব্যাখ্যাটা আমার কাছে মনে হয়েছে ভেবে দেখবার মতোন। কারণ তখন যদি ফসল আদায়ের জন্য আলাদা করে বাংলা সনের কথা ভাবা হয়ে থাকে তার মানে বাঙলা ভাষাভাষী নিশ্চই তখন প্রচুর ছিল। আর আকবরের বাংলা সন চালনা করার আগে নিশ্চই তাদের পঞ্জিকা গণনার জন্য অন্য কোন একটা মাধ্যম ছিল (সেটি হিজরী ক্যালেন্ডার নাও হতে পারে)।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
সেদিন পশ্চিম বংগীয় বাঙালী এক ভদ্রলোকের সাথে কথায় কথায় বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমি যখন কথা পাড়লাম যে সম্রাট আকবর ই এই বাংলা সালের গোড়াপত্তন করেছেন, ভদ্রলোক আপত্তি জানিয়ে বললো, আমার সে ধারণা ভূল। আকবরই প্রথম শাসক যিনি এই বাংলা সনকে “স্বীকৃতি” দিয়েছেন। কারণ ফসল আদায় নিয়ে জটিলটার কারণে লোকসানটা তাদেরই হচ্ছিল। এবং তিনিই প্রথম শাসক যিনি এই সমস্যাটার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। নইলে বাংলা সাল বাঙ্গালীদের মাঝে আকবরের আমলের অনেক আগে থেকেই প্রচলন ছিল। আকবর শুধু শিক্ষিত সমাজে এর নবসূচনা করেছেন মাত্র। ভদ্রলোকের ব্যাখ্যাটা আমার কাছে মনে হয়েছে ভেবে দেখবার মতোন। কারণ তখন যদি ফসল আদায়ের জন্য আলাদা করে বাংলা সনের কথা ভাবা হয়ে থাকে তার মানে বাঙলা ভাষাভাষী নিশ্চই তখন প্রচুর ছিল। আর আকবরের বাংলা সন চালনা করার আগে নিশ্চই তাদের পঞ্জিকা গণনার জন্য অন্য কোন একটা মাধ্যম ছিল (সেটি হিজরী ক্যালেন্ডার নাও হতে পারে)।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















জানা-আজানা অনেক তথ্য নতুন করে জানালেন।
ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য!
শুভ নববর্ষ!