somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... শিশুদের মাঝে গড়ে তুলুন পড়ার অভ্যাস
আসলে না পড়তে চাওয়া বিষয়টি শুধু শিশু নয়, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও বিদ্যমান। মন থেকে আন্তরিকভাবে কোন কিছু পড়ার অভ্যাস আমাদের যেন দিনকে দিন কমেই চলেছে! বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক তরুণ-তরুণী খুব আগ্রহের সাথে পড়ছে পৃথিবীর বিখ্যাত সব লেখকদের লেখা গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, কিংবা কবিতা; খুব কম সংখ্যক ছেলে-মেয়েই পড়ছে নামীদামি সব ম্যাগাজিন, জার্নাল, কিংবা রিসার্চধর্মী বই।

তাছাড়া এই কথাটিতো কমবেশি সবারই জানা যে, দি মোর ইউ রিড, দি মোর ইউ লার্ন! অর্থাৎ, যত বেশি তুমি পড়বে, তত বেশি তুমি জানবে! অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এই পড়ার অভ্যাসটি যদি শৈশব থেকেই সন্তানদের মধ্যে গড়ে তুলে দেয়া যায়, তাহলে প্রথম থেকেই ক্লাসে তাদের রেজাল্ট আশানুরুপ হবার পাশাপাশি তাদের যেমন গড়ে উঠবে নিয়মিতভাবে ভালো ভালো সব লেখা পড়ার অভ্যাস, তেমনি প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকবে তাদের জ্ঞানের পরিধি। আর পড়ার অভ্যাসটি একবার ভালোমতো গড়ে উঠলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সারাজীবনের জন্য ব্যক্তির মধ্যে রয়ে যায়।

এখন তাহলে জেনে নিন, শিশুদের মাঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বাবা-মায়েরা কী করতে পারেন, সেই বিষয়ে সেরা ১০ টি টিপস।

১. সবার আগে নিশ্চিত হোন যে আপনার শিশুর বর্ণমালা সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রয়েছে:
আপনার শিশুকে স্কুলে ভর্তি করার আগেই বাসায় খেলতে খেলতে বর্ণমালা সম্পর্কে ধারণা দিন। তাকে অক্ষর শেখান। ইংরেজী অক্ষরগুলি শেখানোর সময় বিশেষ করে ছোট হাতের ও বড় হাতের অক্ষরগুলির পার্থক্য ধীরে ধীরে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিন। তাতে, স্কুলে ভর্তির পর যখন সে দেখবে সে বেশ ভালো পারছে, তখন তার আত্মবিশ্বাসও যেমন বাড়বে, দূর হয়ে যাবে স্কুল ভীতিও। আর পড়ার পূর্বশর্ততো অবশ্যই অক্ষর ও শব্দগুলি ঠিকভাবে পড়তে পারা।

২. প্রতিদিনই শিশুদের সাথে কিছু না কিছু পড়ুন ও পড়ান:
প্রতিদিনই শিশুর সাথে কিছু না কিছু পড়ার চেষ্টা করেন। পড়ার জন্য এমন কোন বিষয় বেছে নিন যা শিশুর সাথে সাথে আপনারও ভালো লাগবে। সেটা হতে পারে অত্যন্ত ছন্দময় মজার কোন সহজ কবিতা, হতে পারে ছোট কোন গল্প বা রূপকথা; কিংবা হতে পারে টিনটিন-এর মতো মজার ও জনপ্রিয় কোন চরিত্রের কার্টুন বই। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যে, একই বই যেন বারবার না পড়ানো হয়ে যায়। একই বই বারবার পড়ালে তাদের কাছে বিষয়টি বোরিং হয়ে যেতে পারে।

৩. নার্সারি লেভেলের ছড়াগুলি শিশুদের সাথে পড়ুন ও পড়ান:
শিশুকে স্কুলে ভর্তির আগে তাকে নার্সারি লেভেলের ছড়াগুলি শিখিয়ে দিন। তাদের কে প্রয়োজনে ছড়াগুলি অভিনয় করে পড়ান; সাথে সাথে তাদেরকেও অভিনয় করে আবৃত্তি করতে বলুন। বইয়ে ছাপা কবিতার শব্দগুলিতে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেখিয়ে পড়তে বলুন। ধীরে ধীরে তাদের কবিতাটি মুখস্ত করিয়ে দিন। যখন সে নার্সারিতে ভর্তি হবে, তখন সেই হয়তো এগিয়ে থাকবে সবার চেয়ে বেশি; আর পড়ালেখায় তার আগ্রহও বেড়ে যাবে বহুগুন।

৪. শিশুদের জন্য পড়ার পরিবেশ তৈরি করে দিন:
যদি সম্ভব হয়, তাহলে শিশুর জন্য আলাদা একটি পড়ার রুমের ব্যবস্থা করে দিন। তা সম্ভব না হলে শিশু যে রুমে ঘুমায়, সেই রুমের কোনায় একটি রিডিং টেবিল দিয়ে দিন। রিডিং টেবিলে তাক সিস্টেম থাকলে ভালো হয়। টেবিলের গায়ে শিশুর প্রিয় কার্টুন চরিত্রের স্টিকার লাগিয়ে দিন। অনেক সময়ই দেখা যায়, মনের মতো পরিবেশের অভাবেও শিশু পড়তে চায় না। এই রুমে তার খেলনাগুলিও রাখতে পারেন। আর সবচেয়ে ভালো, তারই সুন্দর সুন্দর সেরা সিঙ্গেল ছবিগুলি বড় করে পৃন্ট করে ওই রুমের দেয়ালে লাগিয়ে রাখুন দেয়ালে লাগিয়ে দিন।

৫. প্রতিদিনই শিশুদের জানান (এবং আপনি নিজেও বিশ্বাস করুন) যে, সে একটি স্মার্ট শিশু ও ভাল পড়ুয়া:
কারণে অকারণে শিশুকে উৎসাহ দিন। শিশুর সার্বিক বিকাশে উৎসাহ দেওয়ার বিকল্প কিছু নেই। শিশুকে জানান যে, সে খুব ভালো পড়তে পারে এবং তার পড়ার আগ্রহ অন্যদের চেয়ে বেশি। তুমি যত বেশি পড়বে, অন্যদের চেয়ে তত বেশি জানবে ও তত বেশি এগিয়ে যাবে। তাকে বলুন- তুমি খুব স্মার্ট। আর স্মার্টদের কে অনেক কিছু জানতে হয়; তাই তাদের অনেক কিছু পড়তে হয়।

৬. শিশুকে তার শিক্ষক ও স্কুল সম্পর্কে পজিটিভ কথা বলুন:
অনেক শিশুরই স্কুলভীতি থাকে। তারা অনেক সময় ধরে নেয় যে, স্কুল মানেই কড়া কড়া টিচারের বকুনি আর দুষ্টু ক্লাসমেটদের দুষ্টুমির শিকার হওয়া। এতে করে তাদের মধ্যে শুরুতেই স্কুলের প্রতি অনীহা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পড়ালেখার ওপর। তাই শিশুদের স্কুলে দেবার আগে স্কুল ও টিচার সম্পর্কে ভালো কথা বলুন। তাদের জানান, স্কুলে তুমি যেমন ভালো ভালো খেলার সাথী পাবে, তেমনি পাবে তোমার যতœ নেওয়ার জন্য ভালো ভালো টিচার।

৭. পড়ার পাশাপাশি শিশুদের লিখতে উৎসাহ দিন:
পড়ার পাশাপাশি তাদেরকে যে কোন কিছু লিখতে উৎসাহ দিন। তাকে নিজের থেকে ছড়া, মিনি গল্প, কিংবা আজ স্কুলে সে কী কী করলো, তা লিখতে বলুন। এতে করে তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। তার লেখায় অনেক ভুল থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাই, তাকে সবার আগে চমৎকার লেখার জন্য বাহবা দিয়ে অত্যন্ত যতেœর সাথে ভুলগুলি ধীরে ধীরে শুধরে দিন। হতে পারে, আপনার শিশুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বড় কোন লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, গীতিকার, জার্নালিস্ট, কিংবা কলামিস্টের প্রতিভা!

৮. শিশুর সাথে কথা বলুন, তাকে প্রশ্ন করুন, তার কাছ থেকে প্রশ্ন শুনুন:
শিশুর সাথে তার পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কথা বলুন। সে কী কী বিষয়ে পড়তে উৎসাহ বোধ করে, অথবা আপনি তাকে কোন কোন বিষয়গুলি পড়ালে সে আনন্দ পায়, তাকে তাকে প্রশ্ন করে জেনে নিন। তার পছন্দের বিষয়েই আপনি বেশি করে মনোনিবেশ করুন। শিশু যদি পড়ার মধ্যে আনন্দ একবার পেয়ে যায়, তাহলে সেটা হবে আপনার জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। পাশাপাশি আপনি এও তার কাছে থেকে জেনে নিন যে, কী কী বিষয় পড়তে তার ভালো লাগে না।

৯. মাঝে মাঝে শিশুর সাথে তার স্কুলে গিয়ে তার বিষয়ে টিচারদের সাথে কথা বলুন:
যখন সময় পাবেন, কিংবা শিশুকে স্কুলে দিয়ে বা নিয়ে আসার সময় তার বিষয়ে টিচারদের সাথে কথা বলুন। তার ক্লাস পারফরমেন্সের বিষয়ে আলাপ করুন। কিংবা তার বিষয়ে কোন কথা জানানোর থাকলে তা টিচারদেরকে অবিহিত করুন। এতে করে টিচাররা তার বিষয়ে সঠিক যত্ন নিতে পারবেন। আর আপনার শিশুরও এটা দেখে ভালো লাগবে যে, তার বিষয়ে আপনি কতটা যত্নবান।

১০. তাকে পুরস্কৃত করুন:
সুযোগ পেলেই শিশুকে পুরস্কৃত করুন। নতুন নতুন খেলনার বায়নাতো শিশুদের লেগেই থাকে। আর সেটা তাকে যেহেতু কিনে দিতেই হয়, তাই সে কিছুর বায়না করার আগেই তাকে বলুন- তুমি যদি এই বইটা সুন্দর করে পড়া শেষ করতে পারো তাহলে তোমার জন্য সুন্দর একটি গিফট রয়েছে। নিজ চোখেই না হয় পরখ করে দেখুন যে, এই টিপসটা কতটা কার্যকর! কিংবা একটি বই শেষ করার পরই হঠাৎই তার সামনে এক বাটি আইসক্রিম দিয়েই দেখুন না!

এগুলিই ছিলো বাছাই করা সেরা সব টিপস। লেট ইজ বেটার দ্যান নেভার! তাই, আরো দেরি হয়ে যাবার আগেই শিশুদের পড়ার বিষয়টিতে মনযোগ দিন। আজ হয়তো আপনি তার পড়ায় আগ্রহ আনছেন, কিন্তু এমনও হতে পারে যে, ভবিষ্যতে তারই দারুন কোন লেখা যখন হাজার হাজার পাঠক মুগ্ধ হয়ে পড়বে, তখন সেই লেখাটি পড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নি:সন্দেহে আপনারই থাকবে!

[পুনশ্চ: লেখাটি ১০ আগস্ট ২০০৭ তারিখে শিশুদের পড়ার অভ্যাস করতে হলে শিরোনামে দৈনিক যায়যায়দিন এর ফ্যামিলি অ্যান্ড স্টাইল ম্যাগাজিন ও মাসিক পত্রিকা মনোজগত এর এপ্রিল ২০০৮ সংখ্যায় (পৃষ্ঠা ৫৭) প্রকাশিত,
অবশ্য, মনোজগত লেখাটি ছাপার আগে লেখকের অনুমতি নেবার প্রয়োজন বোধ করেনি]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28788923 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28788923 2008-04-18 06:40:08
ইনসাইড স্টোরি অফ রোমান হলিডে
তেমন একটি মুভিই হলো রোমান হলিডে, যে মুভিটি সাদাকালো হওয়ার পরেও আজও মানুষের মনে চির রঙিন।

প্রথমেই জানিয়ে দেই মুভির ডিরেক্টরের নাম। উইলিয়াম উইলার। জন্ম ১ জুলাই, ১৯০২, জার্মানীতে; মৃত্যু (হার্ট-এটাকে) ২৭ জুলাই, ১৯৮১, আমেরিকায়। জিতেছেন তিনটি অস্কার সহ ১৮ টি পুরস্কার। রোমান হলিডে তার ৫৯ তম মুভি। ১৯২৫ সালে তার দি ক্রুক বাস্টার মুভির মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ডিরেক্টর হওয়ার রেকর্ড গড়েন। ১৯৫৪ সালে রোমান হলিডে মুভির জন্য অস্কারে বেস্ট ডিরেক্টর নমিনেশন পেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কিন্তু পুরস্কারটি পাননি।

মুভির নায়ক রিপোর্টার জো ব্রাডলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্রেগরি পেক। পুরো নাম এলড্রেড গ্রেগরি পেক। জন্ম ৫ এপৃল ১৯১৬, আমেরিকায়; মৃত্যু (কার্ডিওরেসপিরেটরি এ্যারেস্ট ও ব্রঙ্কনিউমোনিয়ায়) ১২ জুন ২০০৩, আমেরিকাতেই। জিতেছেন অস্কার সহ ৩৩ টি পুরস্কার। ১৯৬২ সালে টু কিল এ মকিংবার্ড-এর জন্য বেস্ট এ্যাক্টর ইন এ লিডিং রোল ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতলেও নমিনেশনই পাননি রোমান হলিডের জন্য। রোমান হলিডে তার ২০ তম মুভি। তার অন্যতম বিখ্যাত মুভির নাম স্পেলবাউন্ড

মুভির নায়িকা প্রিন্সেস এ্যান চরিত্রে রূপদান করেছেন অড্রে হেপবার্ন। পুরো নাম অড্রে ক্যাথলিন রাস্টন। জন্ম ৪ মে, ১৯২৯, বেলজিয়ামে; মৃত্যু (কলন ক্যান্সারে) ২০ জানুয়ারি, ১৯৯৩, সুইজারল্যান্ডে। জিতেছেন অস্কার সহ ২৪ টি পুরস্কার। রোমান হলিডে তার ৯ম ছবি হলেও বড় কোন চরিত্রে এটিই তার প্রথম মুভি। আর তা দিয়ে ১৯৫৪ সালে বেস্ট এ্যাকট্রেস ইন এ লিডিং রোল ক্যাটাগরিতে জিতেছেন অস্কার পুরস্কার। এই মুভির জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তখনকার সময়ে ১২,৫০০ আমেরিকান ডলার।

রোমান হলিডে ছিলো মূলত ডিরেক্টর ফ্রাঙ্ক কাপ্রার প্রজেক্ট। সেটা ১৯৪৯ সালের ঘটনা। তিনি জো ব্রাডলি ও পৃন্সেস এ্যান-এর চরিত্র দুইটি যথাক্রমে ক্যারি গ্রান্ট ও এলিজাবেথ টেলর-কে দিয়ে করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তার লিবারটি ফিল্মস প্রডাকশন কোম্পানি ফিনানশিয়াল প্রবলেমে পড়ে যায় এবং তিনি কোম্পানিটি প্যারামাউন্ট-এর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। ব্লাকলিস্টেড রাইটার ডাল্টন ট্রুমবোর সাথে প্যারামাউন্টের সম্পৃক্তি ও টাইট বাজেটের কারনে তিনি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। রোমান হলিডের অরিজিনাল স্টোরি এই ডাল্ট ট্রাম্বোরই লেখা। ইটালিতে প্যারামাউন্টের কিছু এ্যাসেট এমনিতেই পড়ে ছিলো। তাই রোমে শুটিংয়ের সময় তারা এই এই এ্যাসেটের এ্যাডভানটেজ পেয়েছিলো। ডিরেক্টর উইলিয়াম উইলার প্রথমে জিন সিমনস-কে দিয়ে প্রিন্সেস অ্যানের পার্ট করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিমনস তখন ছিলেন সময় দিতে পারেননি। কিন্তু শেডিউল জটিলতায় তার আর ইতিহাসের অংশ হওয়া হলো না।

পুরো শুটিং ইটালিতে হওয়া প্রথম আমেরিকান মুভি এই রোমান হলিডে। মুভির বাজেট ১.৫ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার হলেও, এটি তৈরি করতে লেগে যায় ৫ মিলিয়ন ডলার। মুভির শুটিংয়ের সময় ইটালিতে চলছিলো গ্রীষ্মকাল। তাপমাত্রা ছিলো গড়ে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

যখন পেক মুভিটির স্কৃপ্ট হাতে পান, তিনি তখন এই কমেডি মুভিটি করার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন; কারণ, এর আগে তিনি কোন কমেডি মুভিতে অভিনয় করেননি। কিন্তু এরপর থেকে রোমান্টিক কমেডির স্কৃপ্ট পড়ার সময় তার মনে হতো এতে ক্যারি গ্রান্টের ফিঙ্গারপৃন্ট আছে! যেই ক্যারি গ্রান্টের হওয়ার কথা ছিলো রোমান হলিডের জো ব্রাডলি, তার সাথে কাজ করার সুযোগ কিন্তু অড্রে হেপবার্ন পেয়েছিলেন। তবে সেটা ১৯৬৪ সালে, শ্যারেড মুভিতে। মুভিটিতে কাজ করার সময় তাদের দু'জনের ভেতরে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। পরে গ্রান্ট জানান, তিনি যাদের সাথে কাজ করে আনন্দ পান, এমন অভিনেত্রীদের মধ্যে হেপবার্ন একজন।
মুভির শুটিংয়ের জন্য যখন গ্রেগরি পেক ইটালিতে আসেন, তখন ব্যক্তিগত ভাবে তার মন ছিলো বিষন্ন। কারণ, তার মাত্র কিছুদিন আগে তার প্রথমা স্ত্রী, গ্রেটা-র সাথে তার সেপারেশন ও ডিভোর্স হয়েছে। তখন গুজব ওঠে যে পেক হেপবার্নের প্রেমে পড়েছেন। বলে নেয়া ভালো যে পেক হেপবার্নের জন্য তার সমান সম্মানীই এ্যারেঞ্জ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মুভির শুটিংয়ের সময় তার সাথে ভেরোনিক পাসানি নামের এক ফরাসি মেয়ের পরিচয় হয়, যিনি পেশায় ছিলেন একজন রিপোর্টার। পরে তার সাথে পাসানির বিয়ে হয় এবং তারা জীবনের শেষ পর্যন্ত এক সাথেই ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, রোমান হলিডে ছিলো তার জন্য লাকি মুভি!

মুভির শুরুর সময় যে বয়স্ক জেন্টেলম্যানকে হেপবার্নের সাথে নাচতে দেখা যায়, তিনি ইটালি ভাষায় হেপবার্নকে একটি কথা বলেন। সেই কথাটি ইংরেজি করলে দাড়ায়- আই ওয়ান্ট এ্যাবসোলিউটলি টু ডাই অন দি শিপ!
দি এ্যামবাসি বল সিকোয়েন্সে উপস্থিত সুধীরা সত্যিকারেই ছিলেন ইটালির সব নোবেল পারসনস। তারা তাদের স্যালারির পুরোটাই চ্যারিটিতে ব্যয় করেন।

রোমের মুদ্রার নাম লিরা। পেক ট্যাক্সি ভাড়া হিসেবে ১০০০ লিরা ও হেপবার্নকে সাথে নিয়ে যাবার জন্য টিপস হিসেবে ড্রাইভারকে আরো ১০০০ লিরা দেয়। সেই ২০০০ লিরার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৭ আমেরিকান ডলার।

মুভিতে পেক যে দুই স্কুল-চিলড্রেনের কাছ থেকে ক্যামেরা ধার নিতে চায়, সেই দুই স্কুল-চিলড্রেন আসলে ডিরেক্টর উইলারেরই দুই মেয়ে- জুডি উইলার ও ক্যাথেরিন উইলার।

মুভির এক পর্যায়ে, পেক যখন মাউথ অফ দি স্টোন থেকে হাত তার বের করে আনবেন, তখন পেকের হেপবার্নের সাথে একটু জোক করার প্লান আটলেন। এই অংশটুকু আসল স্কৃপ্টে ছিলো না। তিনি তার হাত কোটের ভেতরে লুকিয়ে ফেললেন ও এমন ভাব করলেন যেন হাত সত্যিই কেটে গেছে। হেপবার্নতো রীতিমত চমকে উঠলেন। ডিরেক্টর কিন্তু তখনো কাট বলেননি, বরং এই টেকটিই তিনি সিলেক্ট করলেন। আর এটিই ছিলো পুরো মুভির একমাএ টেক যা একবারেই সিলেক্ট হয়েছিলো।

মুভির শেষের দিকে পেক-কে গুডবাই জানানোর সময় অনভিজ্ঞ হেপবার্ন কোনমতেই চোখে পানি আনতে পারছিলেন না! ফলে, ডিরেক্টর উইলিয়াম উইলার একই টেক অনেকবার নেবার পরও পারফেক্ট হচ্ছে না বলে হেপবার্ন-কে কমপ্লেন করেন। বেচারী হেপবার্ন তখন ভো করে কেদে দিলেন। সুপ্রিয় পাঠক নিশ্চই বুঝে গেছেন যে তখন টেকটি নেয়া হয় এবং তা হয় পারফেক্ট।

মুভির শেষে উপস্থিত রিপোর্টাররা সবাই ছিলেন সত্যিকারেই রিপোর্টার।

মুভির কাজ শেষ হওয়ার পরে পেক প্রডিউসারদের বলনেন যে হেপবার্ন নি:সন্দেহে এই মুভির জন্য অস্কার পেতে যাচ্ছে, তাই মুভিতে টাইটেলের আগে তার নামটি রাখতে বললেন। প্রডিউসাররা সেটাই করলেন ও হেপবার্নও অস্কার পেলেন! আর রোমান হলিডে মুভিটি ৩ টি অস্কার সহ পেয়েছে মোট ৮ টি পুরস্কার। আইএমডিবির বেস্ট ২৫০ টি মুভির মধ্যে রোমান হলিডে আছে ২২৮ নাম্বারে।

এবার সুপ্রিয় পাঠককে আমরা নিয়ে যাবো মুভির টেকনিকাল কিছু মিসটেকে। এতে করে আপনারা যখন মুভিটি দেখবেন, তখন আপনাদের মনে হবে যেন আপনারা শুটিংয়ের সময় সামনে ছিলেন আর দেখতে পাচ্ছেন মুভির মেকিং। এখান মুভিটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অসঙ্গতি তুলে ধরা হলো।

প্যালেস থেকে পালানো সময় হেপবার্ন একটি পিজা ডেলিভারি ট্রাকের পেছনে ওঠে। কিন্তু তিনি যে বাক্সের পেছনে লুকান, নামার সময় দেখা যায় যে সেই বাক্সটির লেবেল চেঞ্জ হয়ে গেছে!

হেপবার্নকে নিয়ে ট্যাক্সিতে ওঠার পরে ট্যাক্সির পেছনের বামপাশের দরজার উপরের জানালার কাচের লেভেল ছিলো হেপবার্নের গলার বেশ নিচে। কিন্তু পরের সিনেই সেই লেভেল বেশ উপরে উঠে যায়!

যখন পেক হেপবার্নকে নিয়ে নিজের এ্যাপার্টমেন্টে ওঠায়, তখন টাই খুলে দেবার সময় হেপবার্নের শার্টের বাম দিকের কলার উপরের দিকে বাকা হয়ে উঠে যায়। কিন্তু তার পরের শটেই দেখা যায় শার্টের কলার আবার আগের মতোই ফ্লাট হয়ে শার্টের ওপর পড়ে আছে। তারই একটু পরে দেখা যায় পরপর কয়েকটি শটে হেপবার্নের বাম হাত দিয়ে পাজামা ধরার স্টাইল পাল্টে যায়।

মুভিতে যখন পেক হেপবার্নকে ফলো করছিলেন, তখন রাস্তার লোকজনকে তাদের স্বাভাবিক কাজ করার বদলে মুভির শুটিং দেখাতেই যেন বেশি মনোনিবেশ করেছিলো।

চুল কাটতে সেলুনে ঢোকা থেকে শুরু করে টাওয়ারে সামনে বসা পযর্ন্ত হেপবার্নের হাতের কাফ বেশ কয়েক বার জায়গা বদল করে শেষ পর্যন্ত হাতের অনেক উপরে উঠে স্থির হয়! একই সাথে সুপ্রিয় পাঠক দেখতে পাবেন যে টাওয়ারের সামনে বসার পর এক মুহূর্তেই হেপবার্নের শার্টের টাই ভ্যানিশ হয়ে যায়! আবার একটু পরে পেক সেখানে বসার আগ মুহূর্তে জেলাটো ভরা ছিলো, কিন্তু বসার পরের মুহূর্তেই জেলাটো উপরের অংশ খালি হয়ে যায়!

হেয়ার কাট শেষ করার পর যখন, হেপবার্ন দি পিয়াজ্জা-তে প্রবেশ করে, তখন পেছনের টাওয়ারের ঘড়িতে বাজে দুপুর ১২ টা ৩৫, কিন্তু তার পরের সিনেই যখন পেক তাকে ফলো করে, তখন ঘড়িতে বাজে ১২ টা ৩২! আবার যখন টাওয়ারের সামনে হেপবার্ন বসেন, তখন ঘড়িতে বাজে ২ টা ৪০, যদিও পিয়াজ্জায় ঢোকা, জেলাটো (এক ধরনের কোন-আইসকৃম) কেনা ও সেখানে বসতে বড়জোড় কয়েক মিনিট লাগার কথা। তাদের কথোপকথন শুরু হয় ২ টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু পরের ক্লোজআপ শটেই যখন পেক বসেন, তখন ঘড়িতে বাজে ৪ টা ৫৫ থেকে ৪ টা ৫৮ মতো! আবার, যখন পেক দাড়িয়ে গিয়ে হেপবার্নকে বলে- টুডে’স গনা বি এ হোলিডে, তখন ঘড়িতে বাজে ৩ টা ৫০ মিনিট।

আবার, পেক যখন আরভিংয়ের গায়ে ড্রিংক ঢেলে দেয়, তখন স্পষ্টই দেখা যায় যে তার জামা ভিজে গেছে। কিন্তু পরে যাওয়া থেকে উঠে চেয়ারে বসার পরই সেই ভেজা দাগ মুহূর্তেই উধাও!

পেকের এ্যাপার্টমেন্টে যখন মিস্টার হ্যানেসির সাথে তার কথা শেষ হয়, তখন পেক তার হাতের এনভেলপটি দুই হাত দিয়ে ধরে রাখে, কিন্তু পরের শটেই দেখা যায় এনভেলাপটি তার ডান হাতে, আর ডান হাত মাজায় ভর করে রাখা!

মুভির শেষের দিকে ব্রাডলির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্যালেসে ফেরার পর প্রথম সিনেই মিডিয়াম ও ক্লোজআপ শটে হেপবার্নের হেয়ার স্টাইল পাল্টে যায়।

আসলে মুভিতে এমন হয়ই, কারণ এভাবে টাইম ও সিকোয়েন্স মেইন্টেন করে তো আর শুটিং করা সম্ভব নয়; তবুও দেখতে তো একটু দৃষ্টিকটু লাগেই। এ বিষয়গুলি আপনাদেরকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখতে হবে।
অডিও-ভিজুয়াল সেকশনেও অসঙ্গতি ছিলো। যেমন, যখন পেক ও হেপবার্ন মটরসাইকেলে থাকে তখন হেপবার্নের বলা ডায়লগ- নো নো নো, লেট গো। আই ক্যান ডু ইট, হেপবার্নের লিপসিংয়ের সাথে ঠিক মেলে না! একইভাবে, যখন পেক বিছানা থেকে হেপবার্নকে কাউচে ট্রান্সফার করে, তখন হেপবার্ন বিড়বিড় করে বলে- সো হ্যাপি, যদিও তার ঠোট নড়তে দেখা যায় না!

অনেকের মনেই প্রশ্ন যে মুভিটি সাদাকালো কেন? বিশাল অংকের খরচ তো একটা ফ্যাক্টর ছিলোই, তাছাড়া ডিরেক্টর ভেবেছিলেন যে মুভিটি রঙিন করলে রোমের রোমান্টিক পরিবেশ, নায়ক-নায়িকার কালারফুল অ্যাপিয়ারেন্সে কিছুটা ম্লান হয়ে যেতে পারে। অবশ্য আমার মতে, ব্লাক এ্যান্ড হোয়াইট ইজ মোর কালারফুল দ্যান কালার!

রোমান হলিডেকে চমৎকার একটি টুরিস্ট মুভিও বলা হয়। কারণ, পেক এতে হেপবার্নকে বলতে গেলে পুরো রোমের সব দর্শনীয় স্থান একদিনেই ঘুরে দেখায়। এখানে আপনারা দেখতে পাবেন ফন্টানা দি ত্রেভি, পিয়াজ্জা দি স্পাগনা, বোক্কা ডেলা ভারিটা, ক্যাসেল সান এ্যাঞ্জেলো ও পোলাজো কলোনা সহ অনেক কিছু। তাহলে, সুপ্রিয় পাঠক আর দেরি কেন, ব্যস্ত জীবন থেকে দুই ঘন্টা সময় ধার নিন। আর গ্রেগরি পেক ও অড্রে হেপবার্নের সাথে টুরিস্ট হয়ে ঘুড়ে আসুন রোম। ও বুঝেছি বুঝেছি, সাথে মুভির মতই সঙ্গী নিতে চান? অসুবিধা কি, তখন নাহয় একজন টুরিস্ট আর অন্যজন গাইড হয়ে যাবেন! কি, আপত্তি নেই তো?!

[পুনশ্চ: লেখাটি এডিটেড ফর্মে ৯ মার্চ ২০০৭ তারিখে দৈনিক যায়যায়দিন এর ফ্যামিলি অ্যান্ড স্টাইল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28788059 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28788059 2008-04-15 15:45:21
মাস্টারপিস মুভি যোধা আকবর
এই মুভিটিকে নিয়ে দর্শকদের বিপুল আগ্রহের কারণ ছিলো মূলত তিনটি:

এক.
মুভিটির ষোড়ষ শতাব্দীর ঐতিহাসিক প্লট। মুসলিম মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর এবং হিন্দু রাজপুত প্রিন্সেস যোধা বাঈর বিয়ে পরবর্তী প্রেম কাহিনীর চিত্রায়ন অবশ্যই আগ্রহ জাগাবার মতোই। রাজনৈতিক মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিয়ে হয় দুই ভিন্ন কালচারের আকবর ও যোধার।

দুই.
ডিরেক্টর আশুতোষ গোয়ারিকার, যিনি এর আগে উপহার দিয়েছেন লগান : ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ইনডিয়া (২০০১) এবং স্বদেশ : উই দি পিপল (২০০৪)-এর মতো কোয়ালিটি মুভি। আর এবারই তিনি প্রথমবারের মতো এসেছেন প্রেমের কাহিনী নিয়ে।

তিন.
মুভির মিউজিক ডিরেক্টর মিউজিক মিউজিশিয়ান এর আর রহমান, যার মিউজিক রিলিজের আগেই থেকেই হিট হয়ে যায়! এর আগে যুবেইদা (২০০১) মুভিতে ১৯৫০ সালের মিউজিক উপহার দেয়া এ আর রহমান ষোড়ষ শতাব্দীর আবহে এই মুভিতে কী মিউজিক রাখছেন সেটিও একটি আগ্রহের বিষয় ছিলো। এছাড়া ধুম টু-র চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ফ্লেভারের ঋত্বিক-অ্যাশ জুটি নিয়ে কৌতুহল তো ছিলোই।

এছাড়া মুভিটির ছিলো বিশেষ কয়েকটি দিক। যেমন,
# ডিরেক্টর আশুতোষ গোয়ারিকার দিল্লী, লক্ষ্ণৌ, আগ্রা ও জয়পুর থেকে ইতিহাসবিদদের একটি রিসার্চ টিম এনেছিলেন মুভিতে তাকে গাইড করার জন্য এবং মুভিতে ঐতিহাসিক সত্য ঠিকমতো বজায় থাকছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য।
# মুভিটিতে সিনক্রোনাইজড সাউন্ড (শুটিংয়ের সময়ের লাইভ সাউন্ড রেকর্ড করা) ব্যবহার করার কারণে ডিরেক্টর মুভির সেটে পুরো অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন।
# মুভির আর্ট ডিরেক্টর নিতিন চন্দ্রকান্ত দেশাই তার স্টুডিওতে ঋত্বিক ও ঐশ্বরিয়ার জন্য ছোট ছোট কুড়েঘর বানিয়েছিলেন; কারণ, ডিরেক্টর চেয়েছিলেন, তারা কাজরাটেই থাকুক; প্রতিদিন মুম্বাই থেকে যোগাযোগ করার চেয়ে এটি ছিলো ভালো একটি উপায়। আধুনিক একটি বাসার সব সুবিধার ব্যবস্থা এই কুড়েঘরগুলিতে করা হয়েছিলো। এমনকি ঋত্বিকের স্ত্রী সুজান খান ও ছেলে রেহান এই ঘরে ছিলেন।
# মুভিটিতে ব্যবহার করা হয়েছিলো কমপক্ষে ৮০ টি হাতি, ১০০ টি ঘোড়া এবং ৫৫ টি উট।
# রাজস্থানের রাজপুত সম্প্রদায় আশুতোষ গোয়ারিকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনেছিলো।
# মুভির "আজিম-ও-শান শাহেনশাহ" গানটির চিত্রায়নে ঋত্বিক ও ঐশ্বরিয়ার সাথে ছিলো প্রায় আড়াই হাজার ডান্স আর্টিস্ট।
# একটি দৃশ্যের জন্য শীষমহল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিলো প্রায় বিশ লাখ আয়না!
# স্টুডিও ১৮ (ইনডিয়ার মিডিয়া ভিত্তিক কোম্পানি নেটওয়ার্ক ১৮ ফিনক্যাপ এটির হোল্ডিং কোম্পানি) মুভিটির সাফল্য সম্পর্কে এতটাই নিশ্চিত ছিলো যে, তারা ৪০ কোটি রূপি বাজেটের এই মুভিটির আন্তর্জাতিক স্বত্ব কিনে নিয়েছিলো বাজেটের দ্বিগুণ দামে, অর্থাৎ ৮০ কোটি রূপিতে।
# ঐতিহাসিক মুভিতে এটিই ঋত্বিকের প্রথম কাজ এবং দর্শক এবারই প্রথম গোফওয়ালা ঋত্বিককে দেখতে পেয়েছে।
তাই অনেক হিন্দী মুভি দর্শকের মনেই প্রশ্ন জমেছে যে, কেমন হলো মুভিটি।

প্রথমেই একটি বিষয় সোজাসুজি বলে ফেলা ভালো, এত সমৃদ্ধ, এত চমৎকার এবং এত জীবন্ত কিছু হিন্দী মুভি দর্শকরা অনেক দীর্ঘ একটি সময় ধরে তাদের মুভি স্ক্রিনে দেখেননি! যেসব বড় বড় মুভি ক্রিটিকস ও শীর্ষ স্থানীয় অভিনেতারা যোধা আকবর দেখেছেন, মুভিটির বিষয়ে তাদের সবার মতামতই প্রায় একই ছিলো। তারা এ কথা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, এটি একটি মাস্টারপিস! তাছাড়া এই মুভিটির সাফল্যের আরেকটি কারণ হলো বর্তমান দর্শকরা অনেকেই আকবর ও যোধার প্রেমের বিষয়টি সম্পর্কে ঠিক অবগত ছিলো না। সবাই জানে যে, আকবর ছিলেন মহান একজন সম্রাট, কিন্তু একই সাথে তার মধ্যে যে রোমান্সও ছিলো, সেটি হয়তো অনেকেই এই মুভির মাধ্যমে নতুন করে উন্মোচন করবেন।

তাহলে এবার একটু জেনে নেয়া যাক, মুভির কাহিনী কীভাবে এগিয়েছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য আমের রাজ্যের রাজা ভার্মাল মোঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরকে প্রস্তাব দেয় তার মেয়ে রাজকুমারী যোধা বাঈকে বিয়ে করার জন্য। সম্রাট আকবর সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সময় চেয়ে অবশেষে রাজি হন এই বিয়েতে। বিয়ের আগে যোধা সম্রাট আকবরের কাছে দু’টি শর্ত জুড়ে দিলে, তা পূরণের বিষয়েও আকবর রাজি হন। বিয়ের পরে তাদের দু’জনের মধ্যে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, আকবরের দাঈ মা মাহামাঙ্গার ষড়যন্ত্র তাদের সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে। তবে এক পর্যায়ে আকবর তার ভুল বুঝতে পারেন। তবে, ভেতরে ভেতরে দু’জনই দু’জনার প্রেমে পড়ে যান। পরবর্তীতে আকবরের ভগ্নিপতি শরিফুদ্দিন হোসেন আকবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ঘটনা ক্লাইমেক্সে মোড় নেয়। তবে আকবরের জীবন বাচানোর জন্য যোধার চাচাতো ভাই সুজামলের আত্মত্যাগ অনেকের মনেই দাগ কেটে থাকবে। অবশেষে আকবর ও শরিফুদ্দিনের একক যুদ্ধে জয় হয় আকবরেরই এবং বোনের কথা চিন্তা করে শরিফুদ্দিনকে জীবন ভিক্ষা দেন বড় মনের অধিকারী আকবর।

যোধা আকবর-এর কিছু সিকোয়েন্স মুভিটিকে করেছে বিশেষভাবে স্পেশাল। যেমন,
# মুভির সূচনাতে যে যুদ্ধের সিকোয়েন্স দেখানো হয়েছে, তা আপনাকে প্রথমেই মুভির গভীরতা বোঝাতে সাহায্য করবে।
# এরপর নিয়ন্ত্রণহীন হাতির সাথে আকবরের সিকোয়েন্সটি অসাধারণ।
# বিয়ের আগে যোধার দু’টি শর্ত জুড়ে দেয়ার বিষয়টি খুবই ইন্টারেস্টিং। সেই সিকোয়েন্সটির সময় ঋত্বিকের চেহারার অভিব্যক্তি দর্শক দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
# খাজা মেরে খাজা গানের শেষদিকে যখন আকবর সয়ং গানের দলে যোগ দিয়ে গানের আবহের সাথে মিশে যায়, সেটি আকবরের মানসিকতার অনেকখানিই প্রকাশ করে দেয়। তাছাড়া এই দৃশ্যটিকে ইনডিয়ান মুভি ইতিহাসের অন্যতাম সেরা একটি দৃশ্য বলেও অভিহিত করা হচ্ছে।
# যখন যোধা নিজেই রান্না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কিচেনে মাহামাঙ্গার সাথে যোধার কথপোকথন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মাহামাঙ্গার হিংসা ও ঈর্ষাপূর্ণ মনোভাব যোধার কাছে স্পষ্ট হয়।
# যোধার হাতের রান্না করা খাবার আকবরকে দেবার আগে মাহামাঙ্গা তা যোধাকে চেখে দেখতে বলে যে, সেটি নিরাপদ কিনা। যোধা খেয়ে দেখার পর আকবর বলে যে, যে থালার খাবার যোধা চেখেছে, সেই থালার খাবারই তাকে দিতে হবে, এই সিকোয়েন্সটি ছিলো অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত।
# বিরতির সময়টিও ছিলো পারফেক্ট, কারণ তখন আকবর ও যোধার মধ্যে সম্পর্কে ফাটল বড় ধরণের ফাটল ধরে।
# বিরতির পর যখন আকবর যোধাকে ফিরিয়ে আনতে আমের যায়, তখন তাকে স্বাগতম জানানোর জন্য যখন অনেকের ভিড়ে আকবরকে খুজে নিতে হয় যোধাকে, সেই সিকোয়েন্সটি মুভিটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
# তার পরের দিন সকালে যোধা ও আকবরের তলোয়ার যুদ্ধের সিকোয়েন্সটি ভালো লাগার মতো।
# "আজিম-ও-শান শাহেনশাহ" গানটি, যেখানে পুরো রাজ্যের প্রজারা আকবরের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করে, কোরিওগ্রাফির বিচারে সেটি মুভির সেরা উপহার।
# ক্লাইমেক্সের আকবর-শরিফুদ্দিনের যুদ্ধ মনে করিয়ে দেয় "ট্রয়" মুভির ব্রাড পিট ও এরিক বানার যুদ্ধের কথা। তাছাড়া এই মুভিতে ঋত্বিকের যুদ্ধের পোষাক আপনাকে মনে করিয়ে দেবে "ব্রেভহার্ট"-এর মেল গিবসন ও দি লাস্ট সামুরাই-এর টম ক্রুজের কথা।

এ আর রহমানের গানগুলি অবশ্যই তার সবসময়ের গান গুলির চেয়ে আলাদা। ফিল্মের মুডের সাথে গানগুলি অসাধারণভাবে মানিয়ে গেছে। সুরের হিসেবে কাওয়ালি ট্র্যাক খাজা মেরে খাজা, জাসনে বাহারা এবং আজিম-ও-শান শাহেনশাহ অসাধারণ। বিশেষ করে শুধু একজন যে একটি কাওয়ালি গান পরিপূর্ণরূপে গাইতে পারে, সেই কথাটি খাজা মেরে খাজা গানটির মাধ্যমে সার্থকভাবে প্রমাণ করলেন এ আর রহমান। রহমানের নিজের কন্ঠে গাওয়া এ গানটি এক কথায় একটি টাইমলেস ক্রিয়েশন। আর এ আর রহমানের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এক কথায় ওয়ার্ল্ডক্লাস এবং এক্সট্রা-অরডিনারি। মিউজিক ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, দুই ক্যাটেগরিতেই যে কোন লেভেলের পুরস্কার তার অবশ্য-প্রাপ্য।

হায়দার আলি ও আশুতোষ গোয়ারিকারের স্ক্রিনপ্লে মুভির প্রথম থেকেই ঝরঝরে। মুভির কোন জায়গায় বোরিং হবার সুযোগ নেই। কে. পি. সাক্সেনার ডায়লগ চমৎকার, যা কিছু কিছু সময়ে এসিডও নিক্ষেপ করেছে। কিরন দিওহানসের সিনেম্যাটোগ্রাফি রীতিমত ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড লেভেলের। বিভিন্ন দৃশ্যে, বিশেষ করে যুদ্ধের দৃশ্যগুলিতে ক্যামেরার মুভমেন্ট অসাধারণ। নিতিন চন্দ্রকান্ত দেশাইয়ের প্রোডাকশন ডিজাইন চমৎকার। যুদ্ধের সিকোয়েন্সে তলোয়ারের যুদ্ধ ও অন্যান্য অ্যাকশনের দৃশ্যে রবি দিওয়ানের অবদান উল্লেখ করার মতো; বিশেষ করে ক্লাইমেক্সের দৃশ্যে ঋত্বিক ও নিকিতিন ধীরের যুদ্ধ মনে রাখার মতো। বাল্লু সালুজার এডিটিং পারফেক্ট। নিতা লুল্লার কস্টিউম ডিজাইন ও বাহারি জুয়েলারি প্রশংসা পাবার যোগ্য। এই মুভির কাস্টিংও যথাযথ। বিশেষ করে মুঘল সম্রাট আকবর-এর রোলটির জন্য যে কাউকেই চিন্তা করা কঠিন। তবে বর্নঅ্যাক্টর ঋত্বিক যেন এই রোলটি করার জন্যই জন্মেছেন! নি:সন্দেহে তার পারফরমেন্স দর্শক অনেক অনেক দিন মনে রাখবে। তেমনি যোধা বাঈ চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ছিলেন অনবদ্য। এমন পারফরমেন্স তো ঐশ্বরিয়া দেবেনই, এ আর নতুন কী! এছাড়াও সনু সুদ (সুজামল), নিকিতিন ধীর (শরিফুদ্দিন), ইলা অরুন (মাহামাঙ্গা), পুনম এস. সিনহা (হামিদা বানু), কুলভূষন খারবান্দা (রাজা ভার্মাল) প্রমুখ অভিনয়শিল্পী তাদের নিজ নিজ চরিত্রে ছিলেন আন্তরিক, প্রাণবন্ত, মানানসই এবং কার্যকরী। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে অমিতাভ বচ্চনের গমগমে কন্ঠ মুভিটিকে দিয়েছে অন্যমাত্রা।

সবশেষে মুভির সার্থক ডিরেক্টর আশুতোষ গোয়ারিকারের মতো করেই বলতে হয়, মাস্ট সি এই মাস্টারপিস মুভি দেখে দর্শক সত্যিই ভুলে যাবে ঋত্বিক-ঐশ্বরিয়াকে!

[পুনশ্চ: লেখাটি "পাক্ষিক রূপালী তারকা" ম্যাগাজিনের ১৫ মার্চ ইসুতে "যোধা আকবর ছবির ইতিকথা" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে; এছাড়া লেখাটির অরিজিনাল ভার্সন পাওয়া যাবে "দৈনিক যায়যায়দিন"-এর ১৩ জানুয়ারি ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসু দু'টির যথাক্রমে "বিয়ের পরে ঐশ্বরিয়া ফিরছেন যোধা আকবর মুভিতে" ও "মাস্টারপিস মুভি যোধা আকবর" শিরোনামের লেখা দু'টিতে।

লিংক:
বিয়ের পরে ঐশ্বরিয়া ফিরছেন যোধা আকবর মুভিতে
মাস্টারপিস মুভি যোধা আকবর

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28787226 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28787226 2008-04-12 23:18:39
ডেটিংয়ে ছেলেদের ৫টি ভুল
১. ওভার স্মার্টনেস অথবা নিজেকে অতিমাত্রায় জাহির করার চেষ্টা:
বিষয়টি শুনতে হাস্যকর মনে হলেও অনেককে দেখা যায়, ডেটিংয়ে মেয়েটিকে নিজের সিভি বা বায়োডাটা দিতে। এটি অন্যতম একটি ভুল। এছাড়া অনেক ছেলেকে দেখা যায়, সে কতো টাকা উপার্জন করে এবং সামনে তার উপার্জন কি হারে বৃদ্ধি পাবে, সেসব বিষয়ে কথা বলতে। অনেকে নানা রকম উদাহরণের মাধ্যমে এটাও বোঝানোর চেষ্টা করে, তার সঙ্গে সম্পর্ক হলে কিভাবে জীবন বদলে যেতে পারে, কিভাবে জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বপ্নের মতো। এ বিষয়গুলো ঠিক নয়। এতে পজিটিভ ইমপ্রেশনের বদলে মেয়েটির মনে জমে নেগেটিভ ইমপ্রেশন। নিজের সম্পর্কে বেশি কথা না বলে বরং বিভিন্ন বিষয়ে তার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তবে এমন কোনো প্রশ্ন করা উচিত হবে না যা তাকে বিব্রত করতে পারে। আপনারা দুজন এক সঙ্গে হলে কি কি হবে, সেসব বিষয় আলোচনা না করে এক সঙ্গে হতে চান, এটি জানান এবং সে বিষয়ে তার মতামতও জানার চেষ্টা করুন।

২. মেয়েরা কথা বলার সময় ছেলেরা শুনতে চায় না:
এ বিষয়ে মেয়েদের কয়েকটি শক্ত অভিযোগ রয়েছে : প্রথমত. ছেলেরা মেয়েদের বেশি কথা বলার সুযোগ দেয় না, যতোটা না নিজেরা বলে; দ্বিতীয়ত. মেয়েরা যে প্রশ্নের উত্তর একবার দিয়েছে সেই প্রশ্নটিই তাদের আবার করা; তৃতীয়ত. যখন মেয়েরা নিজেদের একান্ত কথা শুরু করে, তখন তাদের কথার মাঝে ঘন ঘন বাধা দেয়া। এ বিষয়গুলো সহজেই একটি মেয়ের মনে বিরক্তির জন্ম দিতে পারে। যদি না মোবাইল ফোনে কোনো দরকারি কল বা মেসেজ আসে, তাহলে ছেলেটির উচিত হবে না বারবার মোবাইল চেক করা, ঘড়ির দিকে তাকানো কিংবা উপস্থিত স্থানে অন্য মেয়েদের দিকে মনোনিবেশ করা। শুধু নিজেই কথা না বলে গুরুত্বের সঙ্গে শুনতে হবে মেয়েটির কথা। পুরো মনোযোগ রাখুন আপনার টেবিলের বিপরীত দিকে বসা আপনার অতিথি মেয়েটির দিকে এবং তার বক্তব্যের দিকে।

৩. ছেলেরা এখন আর ততোটা বিনয়ী এবং সেবী নয়:
এ বিষয়টি আসলে কিছুটা কনফিউশনের, কারণ বিষয়টি কে কিভাবে নিচ্ছেন, তার ওপরই পুরো ব্যাপারটি নির্ভর করে। এখন সবাই-ই চায় যে, ছেলেমেয়ে উভয়ই একই ট্রিটমেন্ট পাক। কিন্তু এ কথাও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না যে, মেয়েরা কিছু বিষয়ে চায়, তাদের যেন সেসব বিষয়ে মেয়ে হিসেবেই ট্রিট করা হয়। এ বিষয়টির মধ্যে পড়ে, ডেটিংয়ের শেষে মেয়েটিকে নিরাপদে বাড়ি পৌছে দেয়া। বেশির ভাগ মেয়েই চায় যে ডেটিংয়ের পড়ে ছেলেটি তাকে বাড়ি পৌছে দিক। হতে পারে মতামতটি কিছুটা ওল্ড ফ্যাশনের, কিন্তু অধিকাংশ মেয়ের বক্তব্যেই দেখা গেছে, ডেটিং বিষয়টি তাদের কাছে জেন্টলম্যান ম্যাটারের ভেতরে পড়ে। তাই উচিত হবে ডেটিংয়ের পরে অবশ্যই তাকে বাড়ি পৌছে দেয়া।

৪. ছেলেরা ইনিশিয়েটিভ বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায় না:
ছেলেরা নিজেদের একটু প্রশ্ন করে দেখুন তো এ বাক্য দুটি আপনারা ডেটিংয়ের প্ল্যানিং করার সময় এ পর্যন্ত কতোবার বলেছেন : এক. আমি জানি না, দুই. যা তুমি চাও। আসলে আপনি একটি ডেট অফার করছেন, অথচ মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করছেন যে, কোথায় যাবে, বিষয়টি ঠিক যেন সঠিক হচ্ছে না বরং এ বিষয়ে সঠিক অ্যাপ্রোচ হবে, সে যাতে আনন্দ পায় এমন কয়েকটি বিষয় আগেই সিলেক্ট করে রেখে তার কাছে উত্থাপন করা এবং তার মধ্য থেকে তাকে বেছে নিতে বলা। যদি সে একটির বদলে একাধিক বা সবই গ্রহণ করে, তবে উচিত হবে টাইম অ্যাডজাস্ট করে যতোটুকু সম্ভব তার ইচ্ছা পূরণ করা। ইনিশিয়েটিভ বলতে এটা বোঝায় না, রেস্টুরেন্টে তার জন্য খাবার অর্ডার করা। ইনিশিয়েটিভ বলতে বোঝাচ্ছে আইডিয়া, প্যাশন এবং ইন্টারেস্টসহ তাকে একটি এক্সক্লুসিভ ডেট অফার করা।

৫. ছেলেরা বলে যে তারা যোগাযোগ করবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত করে না:
ডেটিংয়ের শেষে অধিকাংশ সময়েই ছেলেদের বলতে শোনা যায়, তারা যোগাযোগ করবে, কিন্তু আসলে তারা তা করে না। বিদায় নেয়ার সময় তারা এমন আচরণ করে, তারা রাতেই কল দিয়ে সেদিনের ডেটিং বা সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করবে। সত্যিকার অর্থে তারা সেই কথা রাখতে বেশির ভাগ সময়ই ব্যর্থ হয়। সরাসরি কথা বলে ডেটিং শেষ করাটাই অধিকাংশ মেয়ে পছন্দ করে। যেমন বলা যেতে পারে- ইট ওয়াজ নাইস টু মিট ইউ। হ্যাভ এ গুড নাইট। প্রথম ডেটিংয়ে রোমান্টিক কানেকশন ফিল না করে উচিত হবে ডেটিংয়ের পুরো সময়টি উপভোগ করা। মনে রাখতে হবে একটি মেয়ের সঙ্গে এগিয়ে চলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা।

মোটামুটি এ পয়েন্টগুলোই ছিল আজকের আলোচ্য বিষয়। আসলে সব বিষয়েরই ব্যতিক্রম রয়েছে এবং সবার সঙ্গে সবার মিলবে এমনটি আশা করাও ঠিক হবে না। তাই এ বিষয়গুলোকে ঠিক ভুলও বলা যাবে না বরং এগুলোকে নিতে হবে কৌশল হিসেবে। উপরের বিষয়গুলো একটু মাথায় রেখে চললে আশা করা যায় ডেটিং হয়ে উঠবে আরো সফল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28785696 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28785696 2008-04-06 19:26:29
শিশুর লাজুকতা যখন সমস্যা..
লজ্জা মানুষের একটি স্বাভাবিক অভিব্যক্তি। সব মানুষের মাঝে এই বিষয়টি স্বাভাবিক মাত্রায় থাকাও উচিত। কিন্তু এর মাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে লাজুকতা বেশি হলে তা একই সাথে তার বাবা-মা সহ নিজের জন্য নানা রকম সমস্যার কারণ হয়। তবে বাবা-মায়েদের একটি বিষয় সবার আগে জানতে হবে যে, কিছু শিশু জন্মগতভাবেই হয় শান্ত স্বভাবের, তাদের মধ্যে হৈ চৈ থাকে কম, তারা বাইরেও যেতে ততটা পছন্দ করে না। তাই এমন বৈশিষ্ট্যের শিশুদের বিষয়ে প্রথমেই ধরে নেয়া যাবে না যে, তাদের লজ্জাবোধ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় রয়েছে। তবে, যদি লাজুকতার কারণে শিশুটির সামাজিক সম্পর্কে কিংবা স্কুলে সমস্যার সৃষ্টির হয়, কেবল তখনই বুঝতে হবে যে, অতিরিক্ত লজ্জাবোধ এখন তার জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা। এই রকম পরিস্থিতিতে কীভাবে একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি তাকে সাহায্য করতে পারেন বা দিক নির্দেশনা দিতে পারে সেই বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ এখানে উল্লেখ করা হলো:

১.
প্রথম কথাই হলো যে, শিশুকে বলা যাবে না যে, সে লাজুক। যে শিশুরা আসলেই লাজুক, অথবা শান্ত চরিত্রের অধিকারী বলে যাদেরকে ভুল করে লাজুক ভাবা হয়, তারা কেউই চায় না যে, তাদেরকে লাজুক বলা হোক। যারা লাজুক তারা জানে যে, তারা লাজুক; তাই তাদের কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর দরকার নেই যে, তারা লাজুক। বরং যখন তারা স্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ করে, তখন তাদের ভালো ভালো কমেন্ট করুন; এটি তাদের জন্য নীরব উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।
তাদেরকে তাদের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে দিন। তাদের কে তুমি লাজুকের মতো আচরণ করছো কথাটি না বলে বরং তাদের কাছে জানতে চান যে বিভিন্ন ধরণের পরিস্থিতিতে তারা কী অনুভব করে।

২.
শিশুকে সামাজিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিন। তাকে নিয়ে আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যান। তাদের সন্তানদের সাথে আপনার শিশুকে পরিচয় করিয়ে দিন। শিশুকে তার পরিপাশ্বের শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বলুন, তাদেরকে বাসায় নিয়ে আসতে বলুন; কিংবা ঘনিষ্ঠতা বেশি হলে সেই বন্ধুদের বাসাতে তাকে নিয়ে বেড়াতে যান। শিশু যেসব মানুষদের পছন্দের করে, তাকে তাদের সানিধ্যে বেশি সময় থাকতে দিন। তাতে তাদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে মানুষের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা। ধীরে ধীরে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিন বেশি বেশি মানুষের সাথে এবং বেশি বেশি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থির সাথে।

৩.
শিশুদের সবচেয়ে কমন যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা হলো বড়দের দেখে দেখে শেখা। তাই সে বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সামনে অন্যদের সাথে সামাজিক সম্পৃতি বজায় রেখে আচরণ প্রকাশ করুন। শিশুরা যদি দেখে যে, তাদের বাবা-মায়েরা অন্যদের সাথে সব সময়ই কথা বলে এবং তাদের এড়িয়ে চলে না, তখন তাদের মধ্যে তেমনটি হবার ইচ্ছা স্বাভাবিকভাবেই জন্মাতে পারে। শিশুদের ওপর কোন কিছু জোর করে চাপিয়ে দেয়া কোনমতেই ঠিক হবে না; যেমন, তাদের বলা যাবে না যে ওমুক আংকেলের সামনে তোমাকে গান গাইতেই হবে অথবা ওমুক আপুর সামনে তোমাকে নাচতেই হবে। বরং বেশি মানুষের ভিড়ে তাকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করুন। তাকে এটা বোঝান যে, আপনি সব সময়ই তার সাথে ও পাশে রয়েছেন; এতে সে অনেক কমফোর্ট ফিল করবে।

৪.
শিশুদেরকে নতুন কিছু করতে সবসয়ই উৎসাহ দিন, সেটি হতে পারে ছবি আকা, গান গাওয়া, কবিতা লেখা ইত্যাদি এবং সেগুলি করতে তার কেমন লাগছে, সেটিও জিজ্ঞাসা করুন। তাদের সামনে তার জন্য ভীতিকর বা লজ্জাকর পরিস্থিতিগুলি এমন সহজভাবে উপস্থাপন করুন, যাতে তার মনে হয় এমন সব পরিস্থিতিতে ভয়ের বা লজ্জার কিছু নেই। তার বন্ধুদের সাথে কথা বলার জন্য আপনি তাকে বিষয় ঠিক করে দিন, হতে পারে সেটি টম অ্যান্ড জেরি বা পাপাইকে নিয়ে। এটি তার মাঝে কথা বলার একটি তাগিদ তৈরি হওয়ার বিষয়ে দারুন সাহায্য করবে। আর যে ধরণের মানুষের প্রতি তারা স্বভাবত আকর্ষণ অনুভব করে, তেমন মানুষদের সাথে যত বেশি সম্ভব তাদের পরিচয় করিয়ে দিন।

৫.
একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন যে, শিশুরা সাইলেন্ট সিগনাল বা নীরব ইশারা ভালো বুঝতে পারে। তাই তাদের সামনে অবশ্যই নিজের মুড এমন রাখবেন না, যাতে তারা মনে করে আপনি নার্ভাস, বিষণœ কিংবা উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। তারা যদি এটি বুঝতে পারে, তাহলে তাদেরও নার্ভাস, বিষণœ ও উদ্বিগ্ন হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তারা একথা নিশ্চিতভাবেই ভেবে নেয় যে, নিশ্চয়ই খুব খারাপ কিছু ঘটেছে।

৬.
শিশুদের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং আপনি যে তাদের অনুভূতি বুঝতে পারেন, এ বিষয়টিও তাদেরকে স্পষ্টভাবে বুঝতে দিন। আপনি তাদের মেসেজ দেবার মতো করে গল্পের আকারে জানান যে, সবার জীবনেই লজ্জা, নার্ভাসনেস, উদ্বিগ্নতা, ভীতি এই বিষয়গুলি থাকে, এমনকি আপনারও রয়েছে। তার পরপরই আপনি তাকে জানিয়ে দিন যে, এই সব পরিস্থিতি আপনি কীভাবে সামাল দেন। তাতে আপনার শিশুর মাঝেও এই বিষয়গুলিকে জয় করার সাহস সঞ্চারিত হবে।

৭.
শিশুদেরকে জানান যে, লজ্জাবোধ বেশি থাকাটা একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এই বিষয়টি চিরস্থায়ী নয়। আর এতে লজ্জারও কিছু নেই। শিশুরা তাদের প্রতিকুল পরিস্থিতিগুলিতে সেই সব পরিস্থিতির গভীরতার তুলনায় বেশি রিঅ্যাক্ট করতেই পারে, কারণ তারা শিশু। এই বিষয়টিও অভিভাবক হিসেবে আপনাকে বুঝতে হবে। আপনার কাজই হবে এই সব পরিস্থিতিতে তাদের সহযোগিতা করা। শিশুদের জন্য কঠিন, এমন সব পরিস্থিতিকে সহজ বর্ণনার মাধ্যমে তাদের কাছে আরো সহজ করে তুলুন। দেখবেন তারা একদিন না হোক, দুই দিন না হোক, তিন দিনের দিন অবশ্যই বুঝতে পারবে। তাকে জানান যে, সব কিছুই ঠিক রয়েছে এবং তাদেরকেও সেই সব পরিস্থিতিতে নার্ভাস না হওয়ার আহ্বান জানান।

মোটামুটিভাবে এই বিষয়গুলি মেনে চললে আশা করা যায়, অতিমাত্রার লাজুক শিশুদের ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তবে সবার আগে দরকার হবে অভিভাবকদের অপরিসীম ধৈর্যের। তাকে বলতে হবে উৎসাহমূলক অনেক অনেক ভালো কথা, দিতে হবে আন্তরিক আলিঙ্গন ও অফুরন্ত ভালোবাসা। খুব কম বিষয়ই রয়েছে যা নিরলস চেষ্টা, নিস্বার্থ ভালোবাসা এবং নিখাঁদ আন্তরিকতার কাছে পরাজয় স্বীকার করে না। কিন্তু এর পরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তখন নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, এবার তার প্রয়োজন প্রফেশনাল লেভেলের কারো সাহায্য; হতে পারে তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, কিংবা একজন সাইকিয়াট্রিস্ট, অথবা একজন সোশাল ওয়ার্কার।

পুনশ্চ: আলট্রা মডার্ন অভিভাবকরা তাদের লাজুক শিশুদের হাতে ডিজুস সিম সহ একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিতে পারেন। দুই রাত আজইরা প্যাচাল আর এক্সট্রা খাতিরওয়ালা চালু কথা বললে লজ্জা-শরম কোথায় গিয়ে ঠেকবে!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28785349 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28785349 2008-04-05 03:32:45
শিশুর বুড়ো আঙ্গুল চোষার অভ্যাস দূর করা যেতে পারে যেভাবে আঙ্গুল চোষা তেমন একটি বাজে অভ্যাস যেটি শিশুর জন্য সমস্যা হতে পারে শারীরিক ও মানসিক, দু’ভাবেই। শারীরিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে দাঁত বাকা হয়ে যাওয়া, দাঁতে ইনফেকশন হওয়া, আঙ্গুলের চামড়া ক্ষয় হয়ে যাওয়া, নখের নিচে ইনফেকশন হওয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব, নার্ভাসনেস, অন্য শিশুদের কাছ থেকে টিজিং ইত্যাদি। যদিও মূলত নার্ভাসনেস, উদ্বিগ্নতা এবং একঘেয়েমি-জনিত বিরক্তির কারণে শিশুর মধ্যে এই অভ্যাসটির জন্ম হয়, তবুও এই অভ্যাসটি দূর করা সম্ভব এবং উচিৎও। এবং বিশেষ ভাবে বলা হচ্ছে যে, স্কুলে যাওয়ার আগেই শিশুদের এই অভ্যাসটি দূর করে দেয়া উচিৎ। এখন দেখে নেয়া যাক কীকরে শিশুর নাছোড়বান্দা এই অভ্যাসটিকে দূর করা যেতে পারে।

সবার প্রথমেই যেটি করা উচিৎ সেটি হলো, বিষয়টি করতে মানা করে শিশুকে ঘনঘন বিরক্ত করা অথবা ক্রমাগত দোষারোপ করা ঠিক হবে না। এটি তার মধ্যে এক ধরণের অপরাধবোধ এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, ফলে তার বুড়ো আঙ্গুল কমার অভ্যাসটি কমার বদলে বরং আরো বেড়ে যেতে পারে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তারা শিশু এবং তারা নিজে নিজে ইচ্ছা করে আঙ্গুল চুষছে না, কিংবা তারা যে নিজের অজান্তেই আঙ্গুল চুষছে, এটাও তারা বুঝতে পারছে না। তারা বিষয়টি বুঝতে পারলে তো আর এতো সমস্যা থাকতো না! তাই তাকে যদি নিষেধ করা হয়ও, তবে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে তাকে নিষেধ করার বিষয়ে নিষেধকারীর অ্যাপ্রোচের দিকে।

এরপর দেখতে হবে যে, শিশু ঠিক কখন কখন আঙ্গুল চোষে; যখন সে নার্ভাস, ভীত, রাগন্বিত, নাকি বোরড। তাকে এই নার্ভাসনেস, ভয়, রাগ, বা বোরিং শব্দগুলো সাথে প্রাকটিকালি পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, যাতে সে বুঝতে পারে এই বিষয়গুলির মধ্যে প্রবেশ করলেই সে আঙ্গুল চুষতে শুরু করে। তাতে তার জন্য সহজ হয়ে আঙ্গুল চোষা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াটা; এমনকি একটা সময় শুরু হওয়ার আগেই সে হয়তো তা থামিয়ে দিতে পারবে।

শিশুকে আঙ্গুল চোষার বিকল্প কিছু দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক সময় শিশুকে বালিশ, কম্বল, কিংবা ছোট ছোট খেলনা দেয়া হয়, যাতে সে সেগুলি নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং আঙ্গুল না চোষে। কিন্তু তাতে হতে পারে হিতে বিপরীত। কারণ তখন সে আঙ্গুলের বদলে ওইগুলিই চোষা শুরু করে দিতে পারে। এটা নিশ্চয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে না যে, একটি বাজে অভ্যাস দূর করার জন্য আরেকটি খারাপ বাজে অভ্যাস ধরিয়ে দেওয়া।

শিশুর সাথে আলোচনায় বসা এবং তার সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে হবে। শিশুকে জানাতে হবে যে, কী কারণে আঙ্গুল চোষা বিষয়টি থামানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাকে বোঝাতে হবে যে, এটা তার দাঁত ও আঙ্গুলের ক্ষতি করতে পারে, এবং তার বন্ধুরা তাকে এই বিষয়ে খেপাতেও পারে। তাকে ভালোভাবে ধীরে সুস্থে ধৈর্যের সাথে সুন্দর করে বোঝাতে যাতে সে এই বিষয়টি বন্ধ করার বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারে। কেননা, শিশুর নিজেকেই এই অভ্যাসটি বন্ধ করার কাজটি করতে হবে, অন্যরা কেবল তাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করে যেতে পারবে।

শিশুর আনন্দ কিংবা স্ট্রেসের সময়ে এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। যদি এটা হলিডে সিজন হয়, বা এমন কোন সময় যাচ্ছে যে সে খুব আনন্দিত, সে সময় তাকে এই বিষয়টি বলে তার আনন্দে ভাটা আনাটা ঠিক হবে না; এতে তার মনে বিপরীত প্রভাব পড়তে পারে। আবার যদি বাবা-মার ডিভোর্স, কিংবা তাদের কারো মৃত্যুর মত ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে উচিৎ হবে তার মনকে যতটা সম্ভব রিলাক্সে রাখা, মোটেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা নয়।

একটি ডেডলাইন ঠিক করা দরকার যে আগামী এক মাস, তিন মাস, বা ছয় মাসের মধ্যে অভ্যাসটি বর্জন করতে হবে। শিশুকেও বলতে দেয় উচিত ডেডলাইনটি কত দিনের হতে পারে। শিশুর দেয়া ডেডলাইনকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে, কিন্তু যদি সে বলে, ডেডলাইন তিন বছর, তবে, সেটিকে সিলেক্ট না করাই উত্তম, সেটি বলাই বাহুল্য।

পুরস্কার ঘোষণা করা যেতে পারে। তাকে বলা যেতে পারে যে, যদি সে এক ঘন্টা বা পুরো সকাল বা এক দিন আঙ্গুল না চোষে তবে তার জন্য রয়েছে চকলেট, আইসক্রিম, অথবা খেলনা। হতে পারে, তার মানসিক অবস্থার ওপরও পুরস্কার ঘোষণা করা যেতে পারে; যেমন- যদি সে তার আঙ্গুল চোষা বিষয়টি ফিল করে বলে, আমি আঙ্গুল চুষতে ইচ্ছা করেছে, কিন্তু আমি চুষিনি, তাহলে তার জন্য রয়েছে পুরস্কার।

শিশুকাল হোক আর বড়কালই হোক, অভ্যাস এমনই একটি ফ্যাক্টর যেটিকে বর্জন করা কঠিন। হয়তো শিশুকালে অনেকেরই এমন কোন অভ্যাস ছিলো বা তাদের অনেকেই হয়তো তা থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছিলো। বিষয়টি শিশুকে জানানো যেতে পারে, কিন্তু এই বিষয়ে শর্ত আরোপ করা যাবে না যে, তাই তাকেও পারতে হবে। বরং তাকে বলতে হবে উৎসাহমূলক অনেক অনেক ভালো কথা, দিতে হবে আন্তরিক আলিঙ্গন ও অফুরন্ত ভালোবাসা। খুব কম বিষয়ই রয়েছে যা নিরলস চেষ্টা, নিস্বার্থ ভালোবাসা এবং নিখাঁদ আন্তরিকতার কাছে পরাজয় স্বীকার করে না। তাই আর দেরি না করে শিশুর এই বাজে অভ্যাসটি বর্জন করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28782485 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28782485 2008-03-26 00:29:55
এক নজরে অস্কার নমিনেশন ২০০৮ বেস্ট পিকচার
অ্যাটনমেন্ট
জুনো
মাইকেল ক্লেটন
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
দেয়ার উইল বি ব্লাড

বেস্ট অ্যাক্টর ইন এ লিডিং রোল
জর্জ ক্লুনি (মাইকেল ক্লেটন)
ডেনিয়েল ডে-লুইস (দেয়ার উইল বি ব্লাড)
জনি ডেপ (সুইনি টড : দা ডেমন বারবার অফ ফ্লিট স্ট্রিট)
টমি লি জোনস (ইন দা ভ্যালি অফ এলাহ)
ভিগো মর্টেনসেন (ইস্টার্ন প্রমিজেস)

বেস্ট অ্যাকট্রেস ইন এ লিডিং রোল
কেট ব্লানচেট (এলিজাবেথ : দা গোল্ডেন এজ)
জুলি ক্রিস্টি (অ্যাওয়ে ফ্রম হার)
ম্যারিয়ন কোটিলার্ড (লা ভি এন রোজ)
লরা লিনি (দা স্যাভাজেস)
এলেন পেজ (জুনো)

বেস্ট অ্যাক্টর ইন এ সাপোর্টিং রোল
কেসি অ্যাফ্লেক (দি অ্যাসাসিনেশন অফ জিস জেমস বাই দা কাওয়ার্ড রবার্ট ফোর্ড)
জেভিয়ার বারডেম (নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন)
ফিলিপ সিমোর হফম্যান (চার্লি উইলসন’স ওয়ার)
হ্যাল হলব্রুক (ইনটু দি ওয়াইল্ড)
টম উইলকিনসন (মাইকেল ক্লেটন)

বেস্ট অ্যাকট্রেস ইন এ সাপোর্টিং রোল
কেট ব্ল্যানচেট (আই অ্যাম নট দেয়ার)
রুডি ডি (অ্যামেরিকান গ্যাংস্টার)
স্যাওয়ের্স রোনান (অ্যাটনমেন্ট)
এমি রায়ান (গন বেবি গন)
টিলডা সুইনটন (মাইকেল ক্লেটন)

বেস্ট ডিরেক্টর
পল থমাস অ্যান্ডারসন (দেয়ার উইল বি ব্লাড)
জোয়েল অ্যান্ড ইথান কোয়েন (নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন)
টনি গিলরয় (মাইকেল ক্লেটন)
জেসন রিটম্যান (জুনো)
জুলিয়ান শ্নাবেল (দা ডাইভিং বেল অ্যান্ড দা বাটারফ্লাই)

বেস্ট ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম
বিউফোর্ট (ইসরেল)
দা কাউন্টারফিটার্স (অস্ট্রিয়া)
ক্যাটিন (পোল্যান্ড)
মঙ্গোল (কাজাখস্তান)
১২ (রাশিয়া)

বেস্ট অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম
পারসেপলিস
র‌্যাটাটুইল
সার্ফ’স আপ

বেস্ট লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম
অ্যাট নাইট
ইল সাপ্লেন্টি (দা সাবস্টিটিউট)
লে মোজার্ট ডেস পিকপকেটস
ট্যাঙ্ঘি আর্জেন্টিনি
দা টন্টো ওম্যান

বেস্ট অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম
আই মেট দি ওয়ালরাস
ম্যাডাম টুটলি-পুটলি
মেমে লেস পিজিয়নস ভন্ট অ প্যারাডিস (ইভেন পিজিয়নস গো টু হেভেন)
মাই লাভ (ময়া লিউবভ)
পিটার অ্যান্ড দি উল্ফ

বেস্ট ফিচার ডকুমেন্টারি
নো এন্ড ইন সাইট
অপারেশন হোমকামিং : রাইটিং দি ওয়ারটাইম এক্সপেরিয়েন্স
সিকো
ট্যাক্সি টু দা ডার্ক সাইড
ওয়ার/ডান্স

বেস্ট শর্ট ডকুমেন্টারি
ফ্রিহেল্ড
লা করোনা (দা ক্রাউন)
সেলিম বাবা
সারি’স মাদার

বেস্ট রাইটিং অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে
জুনো
লার্স অ্যান্ড দা রিয়েল গার্ল
মাইকেল ক্লেটন
র‌্যাটাটুইল
দি স্যাভাজেস

বেস্ট রাইটিং অ্যাডপ্টেড স্ক্রিনপ্লে
অ্যাটনমেন্ট
অ্যাওয়ে ফ্রম হার
দা ডাইভিং বেল অ্যান্ড দা বাটারফ্লাই
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
দেয়ার উইল বি ব্লাড

বেস্ট মিউজিক (স্কোর)
অ্যাটনমেন্ট
দা কাইট রানার
মাইকেল ক্লেটন
র‌্যাটাটুইল
৩:১০ টু ইউমা

বেস্ট মিউজিক (সং)
ওয়ান্স (ফলিং স্লোলি)
এনচ্যান্টেড (হ্যাপি ওয়ার্কিং সং)
অগাস্ট রাশ (রেইজ ইট আপ)
এনচ্যান্টেড (সো ক্লোজ)
এনচ্যান্টেড (দ্যাট’স হাউ ইউ নো)

বেস্ট সিনেম্যাটোগ্রাফি
দি অ্যাসাসিনেশন অফ জেসি জেমস বাই দা কাওয়ার্ড রবার্ট ফোর্ড
অ্যাটনমেন্ট
দা ডাইভিং বেল অ্যান্ড দা বাটারফ্লাই
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
দেয়ার উইল বি ব্লাড

বেস্ট আর্ট ডিরেকশন
অ্যামেরিকান গ্যাংস্টার
অ্যাটনমেন্ট
দা গোল্ডেন কম্পাস
সুইনি টড : দা ডেমন বারবার অফ ফ্লিট স্ট্রিট
দেয়ার উইল বি ব্লাড

বেস্ট সাউন্ড এডিটিং
দা বোর্ন আল্টিমেটাম
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
র‌্যাটাটুইল
দেয়ার উইল বি ব্লাড
ট্রান্সফরমার্স

বেস্ট সাউন্ড মিক্সিং
দা বর্ন আল্টিমেটাম
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
র‌্যাটাটুইল
৩:১০ টু ইউমা
ট্রান্সফরমার্স

বেস্ট ভিজুয়াল ইফেক্টস
দা গোল্ডেন কম্পাস
পাইরেটস অফ দা ক্যারিবিয়ান : অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড
ট্রান্সরফমার্স

বেস্ট ফিল্ম এডিটিং
দা বোর্ন আল্টিমেটাম
দা ডাইভিং বেল অ্যান্ড দা বাটারফ্লাই
ইনটু দি ওয়াইল্ড
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন
দেয়ার উইল বি ব্লাড

বেস্ট কস্টিউম ডিজাইন
অ্যাক্রস দি ইউনিভার্স
অ্যাটনমেন্ট
এলিজাবেথ : দা গোল্ডেন এজ
লা ভি এন রোজ
সুইনি টড : দা ডেমন বারবার অফ ফ্লিট স্ট্রিট

বেস্ট মেকআপ
লা ভি এন রোজ
নরবিট
পাইরেটস অফ দা ক্যারিবিয়ান : অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28763964 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28763964 2008-01-24 23:48:09
সামহোয়ারইনব্লগের সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছ! আগেই ভেবেরেখেছিলাম যে, এবার সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছাটা দেবো একদম টাটকা! ঈদের নামায পড়লাম সকাল ৮ টার দিকে। তারপর বাসায় এসে কিছু মুখে দিয়ে গেলাম গরু জবাইয়ের স্থানে। সেখানকার কাজ শুরু করে দিয়ে এসে বসলাম ব্লগে।

সকল ব্লগারসহ সামহোয়ারইনব্লগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলদের জানাই ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা!

ঈদ মোবারক এবং হ্যাপি ঈদ!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28753026 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28753026 2007-12-21 11:08:29
ডিফল্ট কিবোর্ড লেআউট পরিবর্তন করতে পারছি না! ডিফল্ট কিবোর্ড লেআউট পরিবর্তন করতে পারছি না!

এখানে ডিফল্ট হিসেবে দেয়া রয়েছে 'ইউনিজয়'।

যতবারই "পরিবর্তন করুন" অপশনে গিয়ে 'বিজয়' সিলেক্ট করে আসছি, ততবারই সেই 'ইউনিজয়'-ই রয়ে যাচ্ছে।

কেউ কি এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28752635 http://www.somewhereinblog.net/blog/notunprithibiblog/28752635 2007-12-19 15:50:11
কোরবানির ঈদে শিশুদের ক্ষেত্রে তিনটি সাবধানতা.. আলভি ক্লাস টু-এর ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। সে এবার ক্লাস থ্রিতে উঠবে। সে যে আবার নতুন একটি ক্লাসে উঠবে, এ কথা ভাবতেই তার মন ভালো হয়ে যাচ্ছে। আর তার চেয়েও বড় কথা হলো, এবার এই কোরবানির ঈদে তার পড়ালেখা নিয়ে কোন টেনশন নেই। এবার আগেরবারের চেয়ে কয়েকদিন আগেই তাদের কোরবানির গরু কেনা হয়ে গেছে। এইতো সেদিন মজা করতে করতে মনের আনন্দে বাবার সাথে কোরবানির গরু কিনতে গিয়েছিলো আলভি; আসলে যাবার খুব একটা ইচ্ছে তার ছিলো না; কিন্তু বাবা সাধাতে সে রাজি হয়েছে। রাজি হবার অবশ্য আরেকটি গোপন কারণও রয়েছে; সেটি হলো, তাহলে সে বন্ধুদেরকে বড় গলায় বলতে পারবে যে, এবার সে গরুর হাটে গরু কিনতে গিয়েছিলো।

এবারই সে প্রথমবারের গরুর হাটে গেলো এবং এরই মধ্যে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে, আর কখনো গরুর হাটে যাবে না। তার কারণ চারটি:
এক. গরুর হাটে অনেক বাজে গন্ধ থাকে। সবসময় নাক ধরে রাখতে গিয়ে সে খুব বিরক্ত হয়ে গেছে। প্রায় বমিই চলে এসেছিলো তার।
দুই. তার ধারণা ছিলো হাটে গিয়েই গরু কিনে চলে আসতে পারবে। কিন্তু বাবার মোটে গরু পছন্দই হয় না; যেটা হয় সেটা আবার দামে পোষায় না! বড্ড জ্বালা, হাটতে হাটতে আলভির পা দু'টিই ব্যথা হয়ে গিয়েছিলো। একটা গরু কিনতে লেগে গেলো তিনটা ঘন্টা, আশ্চর্য! তার উপর আবার পায়ের চামড়ার স্যান্ডেলটায় অসাবধানে লেগে গেছে গোবর; এখানে গোবর, সেখানে গোবর, পরিস্কার করার কি কেউ নেই নাকি!
তিন. তার সব সময় মনে হয়েছে যে, গরুগুলি এখনই তাকে গুঁতো মারতে আসবে! সারাক্ষণ কি এমন আতঙ্কের মধ্যে থাকা যায়!
চার. এটিই সবচেয়ে বড় কারণ, তা হলো গরু দেখতে দেখতে সে হঠাৎ দেখে তার বাবা নেই! সে হারিয়ে গেছে! ভাগ্যিস বুদ্ধি করে সে আর সেই জায়গা থেকে সরেনি; কিছু সময় পরই তার বাবা তাকে খুজে পেলো। অবশ্য তার অন্যমনস্কতার জন্য বাবা ভীষণ বকেছিলো।

অন্যদিকে, তার সবচেয়ে বন্ধু লামিয়ার মন একটুও ভালো নেই। তার বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে গতবারের একটি বিশেষ স্মৃতির কথা। এবার সে একটি বিষয় নিয়ে খুবই চিন্তিত। তার চিন্তা জুড়ে রয়েছে বাবা কি এবার আগের বারের মতো একটা ছাগলই কিনবে? নাকি গরু কিনবে? কিনলে কত টাকার গরু? গতবার তার কয়েকজন বন্ধু তাদের ছাগল কোরবানি দেয়া নিয়ে খুব উপহাস করেছিলো তাকে। সেই বন্ধুদের সবার বাসাতেই কোরবানি দেয়া হয়েছিলো গরু। তাও রক্ষা যে, অন্তত কোরবানি তো দেয়া হয়েছিলো; যদি তাও না দিতো তাদের বাসায়, তাহলে যে কী হতো! বন্ধুদের সামনে মুখ দেখানোটাই লজ্জার বিষয় হয়ে দাড়াতো! সমস্যা যদি ওটুকু হতো, তাহলেও চলতো; কিন্তু সমস্যা আরো আছে। সেটি হলো গরুর দাম। গতবার তার বন্ধুদের মধ্যে ভীষণ প্রতিযোগিতা চলছিলো গরুর দাম নিয়ে। একেকজন যে দাম বলেছে, তা দিয়ে অনায়াসেই দুই-চারটা গরু কেনা যায়! সে ঠিক বুঝতে পারছে না যে, বলার সময় সে দাম বাড়িয়ে বলবে কিনা; আবার মনটাও তার শুধু খচখচ করছে যে, মিথ্যা বলাটা বোধহয় ঠিক হবে না। অবশ্য বাবাকে সে বলেছে এবার গরু কিনতে; তাছাড়া, গরুতে তো মাংশও বেশি পাওয়া যায়!

তাদের আরেক বন্ধু সিফাতকে এবার কোরবানির গরু জবাই করার সময় সামনে রাখা হচ্ছে না। কারণ গতবার যা ঘটেছিলো, তাতে এবার তাকে জবাইয়ের স্থান থেকে পাচশ’ হাত দূরে রাখাই সঠিক হবে। গতবার সিফাত বায়না ধরলো যে, সে গরু জবাই দেখবে। তাকে তার ছোট মামা মানা করলো যে, বাচ্চাদের জবাই করার সময় থাকতে হয় না। কে শোনে কার কথা, গরু জবাই তাকে দেখতেই হবে; ঈদ কোরবানির, অথচ গরু জবাই দেখবে না, তা কি করে হয়! যা হোক, ঈদের নামায শেষে গরু জবাই করার স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো। জবাই করার পর অনেক রক্ত বের হলো; এমনকি, যিনি জবাই দিয়েছেন, তার সাদা পাঞ্জাবিও রক্তে লাল হয়ে গেলো। এই দৃশ্য দেখে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা সিফাতের। চেহারা পুরো ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিলো তার; আর কেমন আটোসাটো হয়ে গিয়েছিঅে সে। কথা বলাই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলো সে। বাইরে কোথায় যেতেও সে চায়নি। সেই ঈদটি তার সারাদিন বিছানায় শুয়েই কেটেছিলো। তাই এবার আর তাকে রাখা হচ্ছে না গরু জবাইয়ের স্থানে।

আসলে উপরের তিনটি বিষয়ের একটিও হালকা ভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। প্রথমটি থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিশুদের কোরবানির গরু-ছাগলের হাটে না নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অসাবধানতায় শিশু হারিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া শিশুর মনে যদি প্রথমেই কোরবানির হাটের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে, তাহলে সেটি তার মনের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিতীয় বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কোরাবানির পশুর দাম নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর অহংকার অনেক বড় মানুষের মধ্যেও দেখা যায়; তারই প্রভাব ওই শিশুদের মাঝেও পড়েছে। কোরবানি বিষয়টির আসল মর্ম যারা বোঝে না অথবা বুঝতে চায় না, তাদের মধ্যেই এই মূল্য নিয়ে বড়াই করার প্রবণতা দেখা যায়। শিশুদের মন ফুলের মতো পবিত্র। তাদের মনে যদি ঈদুল আযহার মতো পবিত্র একটি বিষয়ের কোরবানির পশুর দাম নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যায়, সেটি অবশ্যই তাদের জন্য সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ হবে না। শিশুরা অনেক কিছুই বড়দের মতো করে বোঝে না। তারা তাদের চারপাশের বড়দের কার্যকলাপ থেকে অধিকাংশ বিষয়ই শেখে। তাই, অভিভাবকদের উচিত হবে কোরবানির আসল মাহাত্ম শিশুদেরকে গপ্লের আকারে বুঝিয়ে দেয়া এবং কোরবানির পশুর মূল্য যে তেমন মূল্যবান কোন বিষয় নয়, সেটিও তাকে জানিয়ে রাখতে ভুলে যাওয়াটা উচিত হবে না।
আর সবশেষের বিষয়টি পুরোটাই মানসিক। শিশুদের মন স্বভাবতই কোমল ও নরম। বেশিরভাগ শিশুর জন্যই করবানির পশুর জবাইয়ের দৃশ্যটি স্বস্তিকর নাও হতে পারে। ছুড়ি দিয়ে কোরবানির পশুর গলা কাটার পরিচিত দৃশ্য ও সেখান থেকে ফিনকি দিয়ে বের হওয়া রক্ত শিশুদের সাদা মনে কালো দাগ ফেলতেই পারে। তাই, শিশুদের মনস্