মাদরাসাশিক্ষার উপরও এই শিক্ষানীতিটি চাপানোর চেষ্টা জাতি কখনো মানবে না
মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া
[নতুন বছর, দরগাহ মাদরাসা, সিলেটের শিক্ষামান ও অবস্থা, ইমাম সাহেব হুজুর, কওমী মাদরাসা স্বীকৃতির বর্তমান, মাদরাসা বোর্ডগুলোর সমস্যা, ছাত্রদের সাহিত্য ও প্রকাশনা এবং জাতীয় শিক্ষানীতিসহ নানা বিষয়ে কালকণ্ঠ সম্পাদক নোমান বিন আরমানের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সময় দিয়েছেন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও দেশের অন্যতম প্রধান মুফতি, জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ-এ হযরত শাহজালাল রাহ. মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া]
কালকণ্ঠ : মাদরাসা সম্পর্কে কিছু বলুন। কতোজন ছাত্র ভর্তি হলেন।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আলহামদুলিল্ল¬াহ, বেশ ভালো। সাড়ে ৪ শ’র মতো নতুন ছাত্র মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ শ’ ছাত্র এবার আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছে। গতবছর এই সংখ্যা ছিলো ৭৪৭জন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মক্তব, কিতাব, হিফয ও ইফতাশাখায় লেখাপড়া চলছে। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুটা খুব ভালো।
কালকণ্ঠ : ভর্তি ফরমের পাঁচ টাকা ছাড়া দরগাহ মাদরাসায় ছাত্রদের থেকে কোনো ফি নেয়া হয় না। ছাত্রদের থেকে আর্থিক সুবিধা না নেয়ার Ñ দরগাহর চেতনাটা কি?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : এ বিষয়টি আসলে অনেকের কাছেই বিস্ময়। ছাত্রদের থেকে কোনো রকমের টাকা না নিয়ে পড়ানো হয় এই যুগেও Ñ অনেকে বিশ্বাস করতে চান না। ছাত্রদের থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়াটা এখন একপ্রকারের সামাজিক ‘বৈধতা’ পেয়ে গেছে। এ কারণে এটাই রেওয়াজ হয়ে গেছে এখন। কিন্তু আগে সেটি ছিলো না। কওমি মাদরাসাতে তো না-ই, এমনকি আলিয়া মাদরাসাতেও একসময় ছাত্রদের থেকে আর্থিক কোনো সুবিধা নেয়া হতো না। নেয়াটাকে অন্যায় ভাবা হতো। আমাদের যেটি ‘মাদরে ইলম’Ñ সেই দারুল উলুম দেওবন্দেও শিক্ষাদানের কারণে ছাত্রদের থেকে কোনো প্রকারের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয় না। উল্টো ছাত্ররা যে দ্বীন শিখতে এসেছে, এ কারণে তাকে উৎসাহিত করার জন্য সেখানে ফ্রি আবাসন ও খাবার ছাড়াও জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খরচ, যেমন তেল-সাবান কেনার টাকাটাও মাদরাসা থেকে দেয়া হয়। এমনকি প্রত্যেক ছাত্রকে প্রতিবছর দু সেট নতুন কাপড়ও বানিয়ে দেয়া হয় দেওবন্দে। তবে কাপড় দেয়ার রেওয়াজটি এখনো দেওবন্দে আছে কি না ঠিক বলতে পারবো না। দেওবন্দের এই নজরিয়া থেকেই শিক্ষাদানের কারণে ছাত্রদের থেকে কোনো প্রকারের আর্থিক সুবিধাগ্রহণকে আমরা সমর্থন করিনি। ইমাম সাহেব হুজুর রাহ.ও (প্রতিষ্ঠাতা) সেটা পছন্দ করতেন না।
কারণ, দ্বীন শিখতে এসে তো কেউ কোনো অন্যায় করেনি। তাহলে দ্বীন শিখার কারণে ছাত্ররা নানা রকম ফি দেবে কেনো? বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তানের কোনো কওমি মাদরাসাতেই ফি নেয়ার এই নিয়ম নেই। আরবদেশগুলোতেও ছাত্রদের থেকে কোনো ফি নেয়া হয় না।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে ‘জরিমানা’ মনে করি। কিন্তু দ্বীন শিখতে আসাটা কোনো `অপরাধ' নয়, যার কারণে জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া একজন ছাত্রের পেছনে সব প্রতিষ্ঠানকেই প্রতিমাসে কমবেশি হাজার থেকে পনেরোশ' টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সেটি যদি সব প্রতিষ্ঠান পারে, তাহলে ভর্তি ও পরীক্ষার সময় সামান্য কিছু টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে না নিলে প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে যাবে, এমনটি আমি বিশ্বাস করি না।
দরগাহয় ভর্তি ফরমের যে পাঁচ টাকা নেয়া হয়, সেটিও মাদরাসার ফান্ডে জমা হয় না। ফরমটিও ফ্রি দেয়া হয়। আর ওই পাঁচ টাকা জমা হয় আজাদ দ্বীনী এদারা বোর্ডে। এটি বোর্ডের নিয়মের কারণেই হয়। এতো গেলো, টাকা না নেয়ার প্রসঙ্গটি। আমরা চাচ্ছি, দেওবন্দের দ্বিতীয় নজরিয়াটিও চালু করতে। অর্থাৎ প্রত্যেক ছাত্রকে প্রয়োজনীয় খরচটা নিয়মিত দিতে।
কালকণ্ঠ : কবে থেকে চালু হচ্ছে সেটি?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : প্রস্তাব এসেছে। আলোচনা হয়েছে। এবং প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনও পেয়েছে। এখন জামেয়ার মজলিসে আমেলা ও মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তা কর্যকর হবে।
কালকণ্ঠ : তাহলে যেসব প্রতিষ্ঠান ছাত্রদের থেকে আর্থিকসুবিধা গ্রহণ করছে, শরঈদৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে কীভাবে বিবেচনা করা হবে?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : এটাকে তো এখন সরাসরি নাজায়েয বলা যাবে না। তবে সেটি যে দ্বীনীশিক্ষার চেতনার পুরোপুরি অনুসরণ নয়, তা বলা যায়। এবং অনুত্তম তো অবশ্যই। চেষ্টা করা দরকার, কীভাবে মাদরাসা শিক্ষাকে ধীরে ধীরে তার মৌলচেতনায় ফিরিয়ে নেয়া যায়। ফি মুক্ত করা যায়।
কালকণ্ঠ : আপনি আরবদেশগুলোর যে দৃষ্টান্ত আনলেন, সেসব দেশে তো সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করছে। বইখাতার অর্থ দিচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো তো...?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : শিক্ষাপ্রসারের প্রধান কাজটি মূলত সরকারের। আরবদেশের সরকারগুলো সেটি করছে। আর বাংলাদেশ সরকার কওমি মাদরাসার ফান্ড না যোগালেও Ñ জনগণ দান করছে। সরকারের কাজটি এখানে জনগণ আদায় করছে।
কালকণ্ঠ : পুরো দেশ বিবেচনায় সিলেটের মাদরাসাগুলোর শিক্ষামান কেমন।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : সিলেটের শিক্ষামান অন্যান্য জেলার চে’ ভালো। আমরা খোঁজ নিয়েছি এবং যারা ঢাকা, চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলায় পড়তে যায়, তাদের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য থেকে বুঝেছি, সার্বিকভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে।
কালকণ্ঠ : কিন্তু অনেকেই এখন সিলেটে হাদিস পড়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে বলে শোনা যাচ্ছে।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : বিষয়টি ঠিক নয়। সিলেটে এখনো হাদিসের খুব ভালো দারস হচ্ছে। তাই উৎসাহ হারিয়ে ফেলার কোনো কারণ দেখি না। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শায়খুল-হাদিস ও মুহাদ্দিসগণ এখানে দারস দিচ্ছেন। যেটি দেশের অন্য জেলাগুলোয় কম। ঢাকায়ও এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে কম অভিজ্ঞতার মুহাদ্দিস সবক পড়াচ্ছেন। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া একই অবস্থা চিটাগাংগেরও। ওইসব এলাকার অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শোনা যায়, সেগুলোতে হাদিসের প্রাসঙ্গিক আলোচনা খুব কমই হয়। কিন্তু সিলেটের প্রধানপ্রতিষ্ঠানগুলোয় হাদিসের বিস্তারিত আলোচনা করে শায়খরা দারস দিচ্ছেন। যারা মনে করে, সিলেটে ভালো পড়া হচ্ছে না, এরা মূলত মহানগরের প্রতি এক প্রকারের টান থেকে সেটি ধারণা করে। তারা ভাবে, রাজধানী যখনÑ তখন তো ভালো লেখাপড়া হবে।
কালকণ্ঠ : `দরগার ইমাম' সাহেব হুজুর ইন্তেকাল করেছেন ৪ বছর হলো। পরে যিনি মুহতামিম হলেন তিনিও ইন্তেকাল করলেন। তাঁদের অবর্তমানে আপনারা কেমন আছেন?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : ইমাম সাহেব হুজুর রাহ. আমাদের মাথায় ছায়ার মতোই ছিলেন। যেকোনো কিছুর ব্যাপারেই আমরা তাঁর নির্দেশের অপেক্ষা করেছি। সমস্যা-সঙ্কটে তাঁর পরামর্শে চলেছি। ফলে সকল প্রতিকূলতাকে মাড়িয়ে শূন্য থেকে তাঁর জীবদ্দশায়ই দরগাহ বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। তাঁর ইন্তেকাল আমাদের তো এখনো শোকাহত করছেই। আর করবেও। কারণ তা মানবিক প্রকৃতি। কিন্তু আমরা এখন কোনো সমস্যায় নেই।
শিক্ষা, অর্থসহ দরগার সবকিছুরই দিনদিন চোখে পড়ার মতো উন্নতি হচ্ছে। আর এমনটা সব বুযুর্গের কর্মের ক্ষেত্রে হয়ই। তাঁদের ইন্তেকালের পরও একটি বরকত সেসবে থেকে যায়। ফলে তাঁদের কর্ম তাঁদের ইন্তেকালে হারিয়ে যায় না বা এর অবনতিও হয় না। যেমন দেখো, রেঙ্গা মাদরাসার বিষয়টি। শায়খে রেঙ্গার ইন্তেকালের পর রেঙ্গা মাদরাসার যে উন্নতি হয়েছে বা হচ্ছে তেমনটি তার জীবদ্দশায়ও ছিলো না। এসবই বুযুর্গদের ইখলাসের বরকত।
কালকণ্ঠ : আপনি তো দীর্ঘদিন ইমাম সাহেব হুজুরের সংস্পর্শে ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলুন।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : ইমাম সাহেব সম্পর্কে যাই বলা হবে, সেটাই বিশেষ। কোনো কিছুই কম গুরুত্বের নয়। সবচে বড়কথা, তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার চেষ্টা করতেন। সে পরিবারেও প্রতিষ্ঠানেও এবং কারো সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। আর দানের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সবসময়ই উদার। জীবনভর মানুষকে দিয়েই গেছেন শুধু। কখনো কারো থেকে প্রত্যাশা করেননি তার সামান্যও। পরিচিতজনদের তো নিয়মিত দিতেনই, অপরিচিত কোনো আলেমও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে খালি হাতে দিতেন না। কিছু না কিছু অবশ্যই দিতেন।
ছাত্রদের জন্য হুজুরের ছিলো অবিশ্বাস্য রকমের দরদ। একবার মাদরাসার বেশ কিছু ছাত্রের বোর্ডিংয়ে একদিনের খানা বন্ধ করে দেয়া হয়। মাদরাসার প্রশাসনিক নিয়মের কারণেই ছাত্রদের জন্য এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সেদিন তিনি কী করলেন, সারা দিন খেলেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, তিনি রোযা রেখেছেন। কেনো, কারণ তার ছাত্ররা না খেয়ে থাকবে আর তিনি খাবেন! এ হবে না বলেই রোযা রাখলেন।
কালকণ্ঠ : হুজুরের কর্ম-আদর্শকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়া হয়নি। একবার স্মারক প্রকাশ হচ্ছে বলে শোনা গিয়েছিলো। তার কী হলো।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : স্মারক প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো অনেক আগেই। লেখা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিই চলছিলো। মধ্যখানে এসে সেটি থেমে আছে। সে কারণেই স্মারকটি এখনো প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আবার কাজ শুরুর ইচ্ছা আছে আমাদের। এর আগে তার নামে বিভিন্ন বিষয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর জন্য ফান্ড সংগ্রহও চলছে। এটি অচিরেই শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।
কালকণ্ঠ : এবার একটু অন্যপ্রসঙ্গে কথা বলি। প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষানীতি ’০৯ সম্পর্কে আপনাদের মূল্যায়ন কী?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে আযাদ দ্বীনী এদ্বারার পক্ষ থেকে একটি মূল্যায়ন ও প্রস্তাবনা আমরা পাঠিয়েছি। আমরা যেটা বলতে চেয়েছি, এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হলে জাতিকে ধর্মীয়ভাবে পঙ্গু করে দেয়া হবে এবং ধীরে ধীরে এদেশ থেকে ইসলাম আর মুসলমানের নিশানা মুছে ফেলা হবে। অকাল হবে সুনাগরিক ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের। কারণ প্রস্তাবিত ওই শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে মোটেই গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এর বদলে জাগতিক শিক্ষাটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
আমরা যদি সভ্যতার দাবীদার দেশগুলোর উদাহরণ আনি, তো দেখবো ধর্মকে বাদ দিয়ে ওইসব দেশের মানুষ প্রযুক্তি ও জাগতিক বিদ্যেটা শিখে একেকটা কেমন যন্ত্রমানব হয়েছে। মনুষ্যত্ব, নীতিনৈতিকতা ও মানবিকবৈশিষ্টগুলো তারা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে ঐশ্বর্যের অধিকারী হয়েও তারা সুখি হতে পারছে না। সামাজিক, পারিবারিক বন্ধন ছেড়ে প্রত্যেকেই কার্যত উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানবিকমূল্যবোধ হারানোর কারণেই বিশ্বময় তারা নৈরাজ্য ফলাচ্ছে। তো এতোসব দেখার পরও যদি আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতির প্রণেতারা ওই শিক্ষাকেই উন্নতির চাবিকাঠি ভাবেন, তাহলে তো বলার কিছু থাকে না।
কালকণ্ঠ : শিক্ষানীতির কোন বিষয়টি বেশি আপত্তিকর বলে আপনি মনে করেন?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : ধর্মশিক্ষাকে গুরুত্ব না দেয়াটাই হচ্ছে বেশি আপত্তিকর। এরচেও বড় বিষয় হলো জাতিকে ধর্মহীন করার ওই শিক্ষাটি একধারার প্রাথমিক শিক্ষা চালুর নামে মাদরাসাগুলোর জন্যও বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে সরকার তো নিজেই মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান শেখার ব্যবস্থা করবে না, অন্যদেরও করতে দেবে না।
এতে কি মনে হয় না, পুরো জাতিকে ‘সেক্যুলার’ বা ধর্মহীন করার চক্রান্ত থেকেই এই শিক্ষানীতি চাপানোর চেষ্টা চলছে। না হয় কেনো পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষাকে আট বছরমেয়াদী করে সেখানে ধর্মশিক্ষাকে বাদ দিয়ে একধারার শিক্ষা চালুর নামে মাদরাসার উপরও তা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
কালকণ্ঠ : কওমী মাদরাসার উপর এর কী রকমের প্রভাব পড়তে পারে।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : কওমি মাদরাসার উপরও এই শিক্ষানীতিটি চাপানোর চেষ্টা জাতি কখনো মানবে না। সরকার যদি একধারার প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিলো তখন সেটিকে আরও তিন বছর বাড়ানো হলো কেনো। যদি পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা থাকতো, তখন হয়তো সেটি বিবেচনার সুযোগ ছিলো। কিন্তু আট বছরের প্রাথমিক শিক্ষার পর যদি আমরা একটা ছাত্রকে মাদরাসার লাইনে পড়াতে চাই, তখন তো সে মাদরাসার কিছুই জানবে না। অথচ তখন তার বয়স হবে কমপক্ষে চৌদ্দ বছর। তো এই চৌদ্দ বছরের ছেলেকে তখন ইসলামিয়াতের প্রাথমিক শিক্ষাটা আমাদের দিতে হবে। কালেমা, নামাযসহ মক্তবের বিষয়গুলো শেখাতে হবে। কায়দা পড়াতে হবে। বালেগ হওয়ার পর এসে ছাত্রকে শিখতে হবে এসব! এটা কি যুক্তির কথা? ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে ৭ বছর বয়স থেকেই বাচ্চাকে নামাযের তালিম দিতে। বালেগ হলে বাধ্যতামূলকভাবে তাকে নামায পড়াতে। আর এই সময়টিতেই শিক্ষার্থীদের ধর্মশিক্ষা থেকে দূরে রাখার শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছে। সরকারের এই শিক্ষানীতি মেনে যদি আমাদেরও আট বছরের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়, তাহলে বেকারের এই দেশে আরো বেকারত্ব বাড়বে। কারণ এখন যারা মাদরাসার অস্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াচ্ছেন তারা তখন পড়াতে পারবে না। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারাবেন। দেশে বেকারত্বের সমস্যা প্রকট হবে।
কালকণ্ঠ : কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির দাবি ওঠেছিলো কেনো?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : পশ্চিমাবিশ্ব, ইহুদিলবি ও তাদের এজেন্টরা বারবারই কওমি মাদরাসা সম্পর্কে অপপ্রচারে লিপ্ত। নানা কিছুর সাথে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কওমির নাম জড়িয়ে তথ্যসন্ত্রাস করে চলেছে। এর মাধ্যমে আলেম-ওলামার ইমেজ, সম্মান ও ইসলামকে কলঙ্কিত করার হীনচেষ্টা চলছে। তাদের অব্যাহত মিথ্যাপ্রচারণায় সরলপ্রাণ অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আমরা যতো কথাই বলি, সেসব উন্মত্ত স্রোতে খড়কুটুর মতো। তাদের মিথ্যা ও অতি প্রচারণায় হারিয়ে যায় আমাদের ক্ষীণ আওয়াজ। সরকারও পড়ে দ্বিধায়। কারণ কওমি মাদরাসা সম্পর্কে সরকারের প্রতক্ষ্য জানাশোনা কম। সে কারণে আলেমরা ভাবলেন, কওমির স্বীকৃতি যদি সরকার থেকে আদায় করা যায়, তাহলে মাদরাসা সম্পর্কে বিরুপ ও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করা সহজ হবে। কোথাও হয়ও যদি তবে সরকার তার জবাবদিহি করবে। এই দিকটা চিন্তা করেই স্বীকৃতির পক্ষে আলেমসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে যারা ভাবছেন, সরকারি চাকুরির জন্য এই স্বীকৃতি চাওয়া হচ্ছে, বা স্বীকৃতি নিলে কওমির বৈশিষ্ট্য হারাবে তাদের ভাবনা ঠিক নয়। কারণ স্বীকৃতি চাওয়ার আগে ওলামায়ে কেরাম কওমির বৈশিষ্ট্য রক্ষার বিষয়টিকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সবমহলেই আলাপ-আলোচনা করেছেন। এবং সে মতেই স্বীকৃতির সার্বিক কাজ এগিয়েছে।
কালকণ্ঠ : স্বীকৃতি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : এখন নতুন সরকার ক্ষমতায়। স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছিলো জোটসরকার। তো এই সরকার আগের সরকারের সিদ্ধান্তকে কীভাবে নেয় তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবু আশার কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ওলামাদেরকে কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বাস্তবায়ন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু হয়েও হচ্ছে না।
কালকণ্ঠ : এই না হওয়ার কারণ কী?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আসলে স্বীকৃতি বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে `বলতে মানা' এমন অনেক কারণই রয়েছে। বাহ্যত বোর্ডগুলোর অনৈক্যকেই স্বীকৃতি বাস্তবায়ন না হওয়ার বড় কারণ বলে অনেকে মনে করছেন।
কালকণ্ঠ : একটু ব্যাখ্যা করুন
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : সরকার চেয়েছে কওমি মাদরাসার সম্মিলিত একটি শিক্ষাবোর্ড। কিন্তু নানা কারণে কওমি মাদরাসা বোর্ডগুলো এক হতে পারছে না।
কালকণ্ঠ : কারণ কী?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : প্রত্যেক বোর্ডই চায় তার সাথে এসে অন্যরা যুক্ত হোক। `সকলে এক হই', এটি কেউ চায় না। এ ভাবে কি ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব! এ ছাড়া গত জোট সরকারের সাথে প্রায় সবমহলের আলেমদেরই একটি সম্পর্ক ছিলো বা ভালো ধারণা ছিলো। কিন্তু এই সরকারের সাথে কিছু কিছু আলেমের সম্পর্ক ভালো থাকলেও, অনেকেরই রয়েছে দূরত্ব। তাই এখন স্বীকৃতি নিতে তারা কিছুটা ভয়ও পাচ্ছেন। যে কারণে স্বীকৃতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থেমে আছে। সর্বশেষ যেটি শুনেছি (সত্য কি না জানি না) এই কারণে বেফাক স্বীকৃতির দাবী থেকে সরে যাচ্ছে!
কালকণ্ঠ : সব বোর্ড এক না হলে স্বীকৃতি যে হচ্ছে না, এই বিষয়টি কি আলেমরা বুঝছেন না?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : এক না হলে যে স্বীকৃতি বাস্তবায়ন অসম্ভব Ñ এই বিষয়টি আলেমরাও জানেন, বুঝেন। কিন্তু কেনো যেনো তাদের ঐক্য হচ্ছে না!
কালকণ্ঠ : স্বীকৃতির জন্য কোন কোন বোর্ড বেশি উদ্যোগী?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : প্রধানত চারটি বোর্ডের নাম করা যায়। বেফাক, আযাদ দ্বীনী এদারা, তানজিমুল মাদারিস, ইত্তেহাদুল মাদারিস। বেফাক ছাড়া এই বোর্ড তিনটি এখন সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ নামে এক বোর্ড হিসাবে কাজ করছে। এই বোর্ডে যুক্ত হযেছে দক্ষিণবঙ্গের গওহড়ডাঙ্গা কেন্দ্রিক ‘বেফাক’ নামের আরও একটি বোর্ড।
কালকণ্ঠ : কওমি মাদরাসা বোর্ডগুলোর কার্যক্রম শুধু পরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ কেনো? মাদরাসাগুলোর অন্য ব্যাপার বা সমস্যায় তাদের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে না
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : বোর্ডগুলোর আর্থিক সঙ্কট এর একটি কারণ। মাদরাসাগুলোর উন্নয়নে বোর্ড যদি আর্থিক সহায়তা করতে পারতো। তাহলে মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিলো। কিন্তু সেটি এখন সম্ভব নয় বলেই বোর্ড ওদিকটায় যায় না। এটি করতে গেলে দেখা যাবে অনেক মাদরাসাই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হচ্ছে না। কারণ, হয়তো মুহতামিম সেটা চাচ্ছেন না অথবা মাদরাসা পরিচালনা কমিটি সেটা হতে দেবে না। তারা ভাববে, মাদরাসা চালাই আমরা, বোর্ড এখানে কথা বলবে কেনো। কিন্তু তারা যদি শিক্ষাসংশ্লি¬ষ্ট বিষয়ে বোর্ডের উপরই আস্থা রাখতেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন সম্ভব ছিলো।
কালকণ্ঠ : অন্তত শিক্ষক নিয়োগ, বাতিল ও পদোন্নতির বিষয়েও তো বোর্ড তদারকি করতে পারতো। এমন হলে প্রতিষ্ঠানগুলো একটা নিয়মের মধ্যে আসতো। কিন্তু দেখা যায়, অনেক মুহতামিমের ইচ্ছার উপরই একজন শিক্ষকের চাকরি নির্ভর করছে।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : এটিও অনেকের জন্য কঠিন হবে। কারণ, বোর্ড যদি শিক্ষক নিয়োগ করতে যায় তখন শিক্ষকদের ক্যাটাগরি ঠিক করবে। এই ক্যাটাগরির হলে এই বেতন এই সব। তো অনেক প্রতিষ্ঠান এই শিক্ষককে নির্ধারিত বেতনভাতা দিতে অপারগ হবে। এ কারণেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
এ ছাড়া মুহতামিম অনেক সময়ই মাদরাসার স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যাকে রাখলে মনে করেন মাদরাসার স্বার্থ অর্জন হবে বেশি, যেমন এলাকার কাউকে শিক্ষক রাখলে, তিনি সেটিই করেন। কিন্তু বোর্ডের পক্ষে সব প্রতিষ্ঠানের এই দিকটি লক্ষ্য রাখা সম্ভব হবে না। সে যোগ্যবিবেচনা করে যেকোনো অঞ্চলের একজনকে শিক্ষক হিসাবে পাঠিয়ে দেবে।
কালকণ্ঠ : দ্বীনের খেদমতের স্বার্থে অনেকেই কওমি মাদরাসায় পড়ার পরও বা পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্ঞানের জন্য বিভিন্ন ধারায় পড়াশোনা করেন। তো এই অতিরিক্ত বিষয়গুলো কি দ্বীনের স্বার্থে মাদরাসায় অন্তর্ভূক্ত করা যায় না।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আসলে হঠাৎ করেই সবগুলো বিষয় এখন সিলেবাসভূক্ত করা সম্ভব নয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল তো অনেক আগেই সিলেবাসভূক্ত হয়েছে। চেষ্টা চলছে, ধীরে ধীরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সিলেবাসভূক্ত করতে।
কালকণ্ঠ : এইসব বিষয় তো এখন নিু মাধ্যমিক পর্যন্তই সীমিত। উচ্চমাধ্যমিকে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কি আছে?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আসলে উচ্চমাধ্যমিকে মাদরাসার প্রধান কিতাবগুলোর সাথে অন্য বিষয়যুক্ত করা বেশ কঠিনই। কারণ এতে মূলবিষয় ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষার মাধ্যমে জাগতিক বিষয়ে `পণ্ডিত' করার ইচ্ছাও নেই। নিম্নমাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা ইংরেজিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, যাতে একে ভর করে ছাত্ররা ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে। নিজের চেষ্টায় সাহিত্যে দখল নিতে পারে। আর এটা হচ্ছেও। মাদরাসার এই নিুমাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা পড়েও নিজ চেষ্টায় কওমির ছাত্ররা এগিয়ে যাচ্ছে। ভালো লেখালেখি করছে। বাংলায় এখন আরবি, উর্দুর প্রয়োজনীয় সব কিতাবই অনুবাদ হয়ে গেছে। হচ্ছে। এসবই তো এরাই করছে।
কালকণ্ঠ : কিন্তু এসবের সিংহভাগই কাঁচা অনুবাদ এবং এর ভাষা, ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনে রয়েছে মারাত্মক ভুল।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : ভুল রয়েছে ঠিক। এর কিছু কারণ হলো মুদ্রণজনিত ও প্রুফসম্পর্কিত। আমাদের অনেকে লিখতে পারলেও ভালো প্রুফ দেখতে পারেন না। যে কারণে বানানে ভুল থেকে যাচ্ছে। আর অনেকের সত্যি সত্যি দক্ষতার অভাব রয়েছে। সিলেট থেকে কিছুদিন আগে একটি তাফসিরের অনুবাদ বের হয়েছে। সেটি আমাকে দেখতে দেয়া হয়েছিলো। দুয়েকটি পৃষ্ঠা পড়েই আমি ফিরত দিয়েছি সেটি। এর উপর কেনো মন্তব্য লেখে দেয়া সম্ভব হয়নি।
কালকণ্ঠ : বোর্ডগুলোর বইয়েও অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যাপার দেখা যাচ্ছে।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আসলে বোর্ড বাংলা, ইংরেজিতে যেসব বই প্রকাশ করে তা বড়মাপের লেখকদের দিয়ে লেখানো সম্ভব হয় না। কারণ বোর্ডের উদ্দেশ্য আর আদর্শের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি সম্পৃক্ত নন। তার ধ্যানধারণা ভিন্ন। চিন্তা-চেতনা অন্য। তাকে যদি সিলেবাসের বই তৈরি করতে দেয়া হয়, তো দেখা যাবে তিনি তার চেতনা থেকে একটি বিষয় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তা মাদরাসার চেতনাসম্মত হবে না। এই কারণেই নিজেদের মধ্যে যারা একটু লিখেতে পারেন, তাদের দিয়েই বই রচনা করা হয়। এতে ভাষাগত সমস্যা হয়তো থাকে, চিন্তাগত তফাত থাকে না।
কালকণ্ঠ : বোর্ডগুলোর কি তবে ভালো লেখক তৈরির কোনো উদ্যোগ আছে?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : না, এখনো তেমন কিছু নেই। তবে ভালো লেখক-সাহিত্যিক তৈরির জন্য আলাদা কোর্স করা দরকার হয়ে পড়েছে।
কালকণ্ঠ : আপনার সম্পদনায় তো আল কাসিম নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের হয়েছিলো। সেটি বন্ধ হয়ে গেলো কেনো?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : আসলে শুধু আল কাসিম না, এরও অনেক আগে ৯১/৯২ সালের দিকে আদর্শ নামেও একটি মাসিক পত্রিকা আমরা ফুজালা পরিষদের উদ্যোগে চালু করেছিলাম। পাঁচটির মতো সংখ্যাও প্রকাশ হয়েছিলো। কিন্তু জনবল সঙ্কটের কারণে সেটি বন্ধ করতে হয়।
এরপর আল কাসিম যখন শুরু করি, তখনও একই অবস্থা Ñ জনবল সঙ্কট। তবু শুরু করলাম. ভাবলাম, হয়তো কিছুদিন চেষ্টার পর সেটি কাটিয়ে উঠতে পারবো। কিন্তু হলো না। এখন নূতন করে ভাবনা চলছে, আরেকটি পত্রিকা করা যায় কিনা।
কালকণ্ঠ : কী নামে, আল কাসিম?
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : নাম এখনও ঠিক হয়নি। কথা হচ্ছে। আল কাসিম তো ফুজালা পরিষদের উদ্যোগে বের হতো। এখন ভাবছি মাদরাসার মুখপত্র হিসাবে একটি পত্রিকা বের করা যায় কি না। মাদরাসার নামের সাথে যেহেতু মিল রয়েছে, সেকারণে পত্রিকাটি আল কাসিম নামেই হতে পারে।
কালকণ্ঠ : কালকণ্ঠের অক্টোবর সংখ্যাটি তো দেখলেন। আমাদের কর্ম-উদ্যোগ সম্পর্কে কোনো মূল্যায়ন বা পরামর্শ
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : পত্রিকাটি বেশ সুন্দর হয়েছে। আমি অনেককে বলেছিও সেটি।
কালকণ্ঠ : কী ধরণের লেখা বা কোন দিকটি প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কাজ করা দরকার।
মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়া : লেখা বলতে গত সংখ্যায় তোমরা যাইদিকে নিয়ে যে সাক্ষাৎকার ছেপেছো, সেটি খুব ভালো হয়েছে। এই ধরণের লেখা বেশি করে ছাপবে। যাতে `কেমন মুসলমান হওয়া চাই' সেটি পাঠক বুঝতে পারে। আরেকটি কাজ করতে পারো, প্রত্যেক মাদরাসাগুলোর পরিচয় ছাপতে পারো। এটি একসময় ইতিহাস হয়ে থাকবে।
কালকণ্ঠ : আপনাকে অনেক শোকরিয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



