somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যৌনান্ধ মোহনার স্বদেশ ও একটি পত্র

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বালিকা বন্ধু প্রিয় মোহনা,
তোমার কৌতুহলের কাছে জিম্মি হয়ে নিজকে উপলব্ধি করতে শিখেছি বলেই আজকের এই পত্র। রাত আড়াই টা, টানা তিনদিনের বৃষ্টি শোক গাথা হয়ে শোকাহত আগস্টের স্বরলিপি তুলেছে আকাশে, যেন কান্নার আওয়াজে মিশে গেছে অনিশ্চিত ইতিহাস ও স্বপ্নে লুন্ঠিত স্বদেশের বুক। অসম কর্মব্যস্ততা ও গন্তব্যে যাওয়ার নিরন্তর ব্যর্থ একটি সংগ্রামে ক্লান্তির অবসর। আমার কাছে সময়টা পত্র লেখার উপযোগী মনে হয় না। ইদানিং নিজকে মনে হয় ব্যর্থ পুরুষ; ব্যর্থ জাতি আমরা। এই ব্যর্থতার হতাশা নিয়ে পত্র লেখাটাও বড় বেশী বেমানান। একদিকে মুঠোফোনে সেক্স সংলাপ, ইন্টারনেটের প্রকাশ্য বেশ্যাবৃত্তি চর্চায় জয় জয়কার। অন্যদিকে হতাশার আর্তনাদে বেড়ে উঠা তরুণ আমি অনেকটা বাধ্য হয়ে তোমার কাছে লিখতে বসলাম নিজস্ব দায়বোধে। অপ-বিশ্বাস দূরে রেখে তাচ্ছিল্যের সাথে যদি পড়ো তবে তুমি বুঝতে পারবে পরিস্থিতির জটিলতাটুকু।

কিছুক্ষণ আগেই তুমি ফোন করে স্বভাবজাত অবহেলার সুরে বলেছো- “ তুই মরতে পারিস না, তুই মরলে মনে হয় আমি বাঁচি।” এই কথাটি তোমার মুখে একাধিকবার শুনে যতোবার মরতে গিয়েছি ততোবার বিস্মিত হয়ে নিজকে চিনতে পেরে তোমাকে বলেছি- “তুই দেখে নিস্‌ তোর জীবনে আমি জীবন্ত লাশ হয়ে থাকবো, আমি বেঁচে এটা তুই উপলব্ধি করবি না কোনদিন।” আমি এখন মৃত। অস্তিত্বহীন জীবন্ত একটি লাশ হয়ে বেচেঁ আছি আটটি বছর। আমার ভেতরে জমে থাকা সবটুকু তৃপ্তির অনুভূতি, অনুরাগ শুভ্র মেঘের মতো উড়ে এসে আগ্রাসন করেছে নিজস্ব ভূবন। যে ভূবন জুড়ে কেবল উৎপাত। অতৃপ্তির বিকেল যেন ছিনিয়ে নিয়েছে সামুদ্রিক গাঙচিল। ঢেউর ফণায় যেন ধর্ষিতা হলো লবণাক্ত জলের মহল। সরলতার স্রোতের মতো যেন ভেসে উঠেছে গুপ্ত রহস্য। যেখানে স্মৃতির কপাটে আঁকা আছে সুন্দর সময়ের উৎস। বাল্যকালিন প্রেম ও নারী চিহ্নিত করার প্রথম অভিজ্ঞতাটুকু।

বালিকা, তোমার বাচনভঙ্গি শুদ্ধ, কথা গুছিয়ে বলার আয়ত্ব আছে। তুমি সহজেই ব্যাখ্যা করতে পার সবকিছুই। তোমার কোন দুঃখ নেই, আমার মতো। রঙধনু বিমুখ জীবনের হতাশাও নেই, নেই প্রস্থানগামী নীরব জ্যোৎস্নার নিপীড়িত আলিঙ্গন। সময়টা পাল্টে গেছে অনেক আগেই। হয়তো তাই তোমার বুকে মাথা রেখে কখনো বলতে পারিনি- “বালিকা বন্ধু আমার, তোমার অবুঝ প্রেমিক উপমকে এক মুঠো মমতা ভিক্ষা দাও, শান্ত করো।”

না মোহনা, এটা বলার সাহস আমার ছিলনা, এখনো নেই। মমতার অজুহাতে শরীর ভিক্ষা চাওয়ার প্রবণতা আমার হয়নি; হবেও না কখনো। মনে পড়ে কী বন্ধু, তোমার সাথে আমার পরিচয়টা কতোটা রোমাঞ্চকর! তুমি তখন চৌদ্দ বছর বয়সি কিশোরী আর আমি আঠারোকে বিদায় জানিয়ে কেবল তারুণ্যের দিকে যাত্রা করেছিলাম। এই যাত্রার সাথে আমার চাঞ্চল্য অনুভূতি গেঁথে যখন জীবনকে বুঝতে আরম্ভ করি তখন তোমার সন্ধান।

তুমি আনমনা এক কিশোরী ছিলে। প্রতিদিন আমি দু’বার উত্তরের ব্যাল্‌কনিতে বসে উপভোগ করতাম তোমাকে। ব্যাচেলর জীবনের শুরুতেই এইরকম উপভোগের অনুভূতির সূত্রেই দু’জনের চেনা-জানা। তোমাদের দক্ষিণের বাড়ীর তিন তলায় থাকতাম আমি। একদিন সকাল আটটায় পরিচিত মিহি গন্ধে ঘুম ভেঙে যায় আমার। শরীর জড়ানো চাদর মাড়িয়ে গন্ধটা কিসের ? কোথায় থেকে যেন বের হচ্ছে অনুভবের চেষ্টা করে আমি দ্বিধার সাগরে বন্দী হয়ে যাই। একটু দেরীতে হলেও বুঝতে পারি এতো ইমা আপুর শরীরের গন্ধ। লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে উত্তরের ব্যাল্‌কনিতে দাঁড়াতেই তোমার সন্ধান। তোমার রুম থেকে এই গন্ধ এসে বিমোহিত করেছে আমাকে। ব্যাল্‌কনি থেকে পাঁচ হাত দূরে অবস্থিত তোমার রুমের জানালা খোলা ছিল। আয়নায় মগ্ন হয়ে তুমি তোমার সদ্য বাড়ন্ত শরীরের রূপ পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত তখন। রক্ত লালে মিশ্রিত কিশোরী তুমি, তোমার নগ্ন দেহের ভাঁজ থেকে অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে বিমুগ্ধ রাতের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আলোয় আলোয় যে গন্ধ আমাকে মাতাল করেছে ওটা ইমা আপুর। কিন্তু তোমার কাছ থেকে কেন ? এই ভাবনার বেড়াজালে টানা সাতশত ত্রিশটি দিন চৌদ্দশত ষাট বার আমি তোমার এই দৃশ্যটি উপভোগ করি।

তুমি প্রতিদিন দু’বার করে একই দৃশ্যে অভিনয় করতে। একবার সকাল আট টায়, অন্যবার রাত সাড়ে বার টায়। সকালের দৃশ্যটা স্নান সেরে স্কুলে যাওয়ার আগে। এই সময় তুমি রুমের দরোজা বন্ধ রাখলেও জানালার দিকে মনোযোগ ছিলো না বলেই আমার তোমার দৃশ্যে মগ্ন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি তোমার শরীর থেকে ফতুয়া, প্যান্ট খুলে নিজের দিকে তাকাও। আর তোমার দু’হাত বাড়ন্ত বুকের মাংসের পিণ্ডে পরম মমতায় আঁকড়ে রাখতে অনেকক্ষণ।

রাতের দৃশ্যটি ভিন্ন ছিলো। তোমার হাতের ভূমিকাটি জরায়ুতে ব্যস্ত করে রাখতে তুমি। হাতের মধ্য আঙ্গুলের মৈথুনে গুপ্ত ছিদ্রের ফুটন্ত গোলাপের পাপড়ি আমাকে ইমা আপুর কাছে শেখানো শিহরণে নিয়ে যেতো কেবল। বিমোহিত গন্ধ ও শিহরণের দু’টি বছর অতিক্রম করেই একদিন তোমার সাথে আমার কাছাকাছি আসার সৌভাগ্য হয়। শহরের এক পরিচিত বন্ধুর বাড়ীতে। ওই দিনও তোমার কৌতুহলের কাছে জিম্মি হয়ে একে অপরের মোবাইল নম্বর বিনিময় করি। নম্বর বিনিময়ের এক ঘণ্টা পর তুমি ফোন করেই কাঁপা স্বরে বললে, “উপম ভাই, আমি আপনার বন্ধু হতে চাই।” উত্তরে আমি সহজেই বলেছিলাম - ‘হবে’।

বেশীক্ষণ কথা হয়নি তখন। বলেছিলাম - রাতে তোমাকে আমি ফোন করবো। মোবাইলটা হাতের কাছে রেখো। সেইদিন রাত সাড়ে বারটায় ফুটন্ত গোলাপের পাঁপড়ির গন্ধের শিহরণে আমি ফোন করতেই তুমি বললে - উপম ভাই আপনি তাহলে সত্যিই ফোন করেছেন ? আমিতো ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম।
আমি একটু হাসলাম। হাসি শুনে তুমি রাগের স্বরে বললে - হাসলেন কেন ?
আমি বললাম - বালিকা তুমি বড্ড পাগল, এতো রাতে এইভাবে নগ্ন হয়ে.........
আমাকে শেষ করতে না দিয়ে তুমি বিচলিত হলে একটু। জানালার দিকে তাকিয়ে আমার ভেল্‌কনির দিকে দৃষ্টিপাত করলে দ্রুত। সবক’টা বাল্ব নিভিয়ে অন্ধকারে বসে থাকা আমাকে তুমি দেখতে পেলে না। কেমন জানি লজ্জাবোধের ভেতরে বললে - এসব কি বলেন।
আমি বললাম- সব তোমাকে বলবো। তবে লাইনটা কেটে আগে কাপড় পড়ে নাও।
তুমি যন্ত্রের মতো ফোনের লাইন কেটে শরীরে তুলে নিলে একে একে ফতুয়া, প্যান্ট। তারপর মিস্‌ কল দিলে। আমি ফোন করে তোমাকে বললাম - মোহনা, প্রতিদিন সকাল ও রাতে তোমার এই রূপ দৃশ্য আমি দেখি।
তুমি বললে- কিভাবে ?
আমি তখন তোমাকে দখিনের জানালায় এসে দাঁড়াতে বলি। তুমি এসে দাঁড়ালে আমার রুমের বাল্ব জ্বালিয়ে দিয়ে বলি- আমাকে এখন কি তুমি দেখতে পাচ্ছ?
এই সময় দু’জন যেন মুখোমুখি। তুমি দ্রুত জানালা থেকে সরে বললে- আপনি খুবই দুষ্ট। এইভাবে কতদিন .....?
আমি জানিয়ে দিলাম , দু’বছর। তুমি ফোন কেটে দিলে।
এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে অল্প সময়ে তুমি থেকে তুই হয়ে বন্ধুত্বের জালে বন্ধি হয়ে যাই আমরা দু’জন।

তুমি দুষ্ট বালিকা, সেদিন সহজেই জেনেও জানতে চেয়েছিলে ‘স্বপ্নদোষটা কি ?’ আমি না বলা পর্যন্ত মুক্তি ছিলো না বলেই বাধ্য হয়ে তোমাকে বলতে হয়েছিল।
-একটা বয়সে এসে বিভিন্ন কারণে স্বপ্নে যৌন সঙ্গম কিংবা উত্তেজক দৃশ্যের সাথে বীর্যপাতই হল স্বপ্নদোষ।
- বীর্যটা কি ?
- গাঢ় সাদা, আঠাঁলো একটি পদার্থ, যা যৌন লিঙ্গ দিয়ে নিঃর্গত হয়।
- এটা নিঃর্গত হয় কেন ?
- প্রাকৃতিক নিয়ম-নীতির কারণে।
উত্তর শুনে প্রশ্ন করে বসো- এই নিয়ম না থাকলে হতো না।
- হতো না, আমি হতাম না, তুঁই হতি না। কোন প্রাণীই হতো না।
- কেন............কেন.........?
- কেন ? এর উত্তর কঠিন তবে বাবা-মার এই পদার্থ থেকে আমার সৃষ্টি, তোর সৃষ্টি, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীই এভাবে স্ব-স্ব প্রজাতির পুরুষ-নারীর এই পদার্থ দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এই তুই পুরুষ, আমি নারী। দু’জনের এই পদার্থ দিয়ে একটি প্রাণী সৃষ্টি করি,করবে ?
- তুই বললেই হয়ে যাবে? এই সৃষ্টির জন্য একটি বিশেষ কাজ প্রয়োজন হয়।
- কাজটি কি তুই জানিস।
- হ্যাঁ জানি।
- একবার করবি কাজটা।
- না, করবো না।
- কেন ? কেন ? কাজটা কি একবার বলবি ?
- সঙ্গম।
- এটা কখনো করেছিস তুই।
- হ্যাঁ করেছি।
- কার সাথে আমাকে বলবি।
- হ্যাঁ, ওটা আমার নারী চিহ্নিত করার প্রথম অভিজ্ঞতা। আমার বেড়ে উঠার নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে নারী। নারী কখনো মা, কখনো বোন, কখনো বন্ধু, কখনো আবার এই নারী হয়েছে আমার যৌনতার উপকরণ। ফলে নারীকে দেখে আমার আকর্ষণ বোধ জাগে না। আর জাগে না বলেই অন্য তরুণের মতো আমি ব্যস্ত হয়ে উঠিনা মুঠোফোন সেক্সে। অপালাপে কিংবা বিভ্রান্ত সংলাপে। ফলে পরিস্থিতির অনুুকুলে কখনো এই সময়ের নারীদের প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি আমি।
- তোকে বলেছি কার সাথে হয়েছে তা বলার জন্য।
- বলা যাবে না। বলাটা মুশকিল হয়ে পড়ে।
- তুই আমাকে কিছুই বলিস না। তুই মরতে পারিস না, তুই মরলে মনে হয় আমি বাঁচি।
- খুব সম্ভবত তার পর তোমার ফোনে টাকা ছিলনা তাই বলেই লাইন কেটে গেছে। কোন কথা হয়নি। আর দেখাও হয়নি এই আজ পর্যন্ত। আজ ফোন করেই শেষ কথাটি আবার বলেছো। তারপর পত্র লিখতে বসলাম। লেখার উদ্দেশ্য কার সাথে হয়েছে কিভাবে হয়েছে তা তোমাকে জানানো। শুরুতেই বলেছি তোমার কৌতুহলে জিম্মি হয়ে আজকের পত্র।

আমি জানি মোহনা, তোমার দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতার কাছে আমার বাল্যকালিন সময়ের স্মৃতির কোন মূল্য থাকবেনা। তারপরও বালিকা বন্ধু তুমি জেনে রাখো তোমার বিশ্বাসের আলোকে নয় অবিশ্বাসের ভেতরেই আমার নেপথ্য যাপন। তুমি যখন ভাসমান শূন্যতায় বিশ্বাস রেখে বিপন্ন জীর্ণ একটি অলৌকিক দ্বন্দ্বে ঢেকে রাখে গোপন রহস্য। অজান্তেই হেফাজত রাখো পরিপূর্ণ সম্পদের লুন্ঠিত দেহ ও তার কলা কৌশল। তখনই বিস্ময় হয়ে আমি উপলব্ধি করি তোমাকে। তুমি ব্যস্ত হয়ে উঠো মুঠো ফোন সেক্স সংলাপে। রাত বাড়ে সংলাপ বাড়তে থাকে। সংলাপে সংলাপে তোমার হাত চলে জরায়ুর ছিদ্রে অস্থির, শিহরণ বাড়ে কথায় কথায়। শরীর থেকে ঝরে অনাবিল গাঢ় পদার্থটাও। তারপর তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, আমিও। ওটা দু’জনের প্রতারণা। প্রতারকের ভূমিকায় সংলাপ এবং কথার সঙ্গম। যে দৃশ্যের ভেতরে তুমি ও আমি কৃত্রিম মৈথুনের জালে বন্ধি থাকি।

বালিকা আমি তো গ্রামের ছেলে। তোমাদের কাছে আমার কোন স্বপ্ন নেই। সংসার গড়া কিম্বা ভাঙ্গার বিলাসিতাও নেই। গ্রামে বেড়ে উঠা বলেই অবহেলার চাবুক উঠে বারবার। সত্য বলা যাবে না তোমাদের। তোমাদের কাছে যারা মিথ্যা বলে, নিষ্পাপ বলে অভিনয় করে তাদের মূল্য বেশী। ওই সব মিথ্যা কলা-কৌশল আমার জানা নেই। আমি সহজ বলেই বলতে পারি আমি সিগারেট-মদে আসক্ত, নারী যৌনতার অভিজ্ঞতা আমার আছে। আর ওই অভিজ্ঞতা আমাকে ছুঁয়েছে বলেই তুমি আমার বন্ধু হয়েছো, হতে পেরেছো। এই অভিজ্ঞাতাটি দিয়েছে আমার ইমা আপু। যাকে তুমি ভাবী ডাকো। আমার বেড়ে উঠার নেপথ্যে এই ইমার শরীরের গন্ধ এখনো জড়িয়ে আছে। টানা চৌদ্দ বছর পরও এই তীক্ষ্ণ অভিজ্ঞতা আমাকে তাড়া করে প্রিয় মোহনা। তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারো আমার কষ্টের স্বরলিপি, দ্বিধাহীন অদ্ভুত রাত যাপনের ভূমিকাও। তুমি বুঝতে পেরেছো তোমার প্রতি আমার দূর্বল অনুভূতি আর এই অনুভূতি জন্ম দিয়েছে ইমা আপুই।

আমি জানি, আমাকে তোমার অপছন্দ, কথার মৈথুনে ব্যস্ত রেখে কখনো কাছে যেতে চাইনি বলে। যাযাবর ও প্রতারক হিসেবে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি কেবল আমিই। কিন্তু আমি অবাঞ্চিত সমাজের তরুণ বলেই একজন মোহনাকে ইমার মতো ভাবতে পারিনি এখনো।

আজ থেকে চৌদ্দটি বছর আগের গ্রীষ্মের তপ্ত রৌদ্রের দুপুর সেদিন। বার বছর বয়সী এই কিশোর উপম গ্রামের পরিচিত বটবৃক্ষের শেকড়ে, পাখি ও ফুলের ভেতরেই ব্যস্ত থাকতো বন্ধুদের নিয়ে। দুরন্ত চঞ্চলতা ও নিত্য খেলায় ব্যস্ত থাকতো কেবল। সেদিনের দৃশ্যই স্বাভাবিক। খেলার জন্য বাড়ী থেকে বের হয়ে অন্যান্য বন্ধুদের কাছে না পেয়ে মনমরা হয়ে ছুটে যাই ইমা আপুর বাড়ীতে। এই ইমা আপু মাঝে মধ্যে আমাদের খেলার সাথী হয় বলেই এই ছুটে যাওয়া।
আমাকে ইমা আপু পেয়ে ভারী আনন্দিত হয়ে বলে উপম তুই এসেছিস। আজ তোকে নিয়ে এক নতুন খেলা খেলব।
আমি বলি- অন্য কোন বন্ধুরা নেই যে।
- অন্য কাউকে লাগবে না। এ খেলায় কেবল দু’জনই লাগে।
যাক অবশেষে দু’জনের একটি নতুন খেলা খেলতে আমি উৎসাহবোধ করি। ইমা আপু আমাকে নিয়ে ঢুকে পড়ে বাড়ীর ভেতর, তার নিজস্ব রুমে। ঘরের দরজা - জানালা বন্ধ করে ইমা আপু। বাড়ীটা নিরব, কেউই নেই। আমার দশ বছরের বড় ইমা আপু আমাকে নিয়ে নিজের বিছানায় বসে শুরু করে নতুন খেলাটি। এ খেলাটি তোমার সাথে মুঠোফোনে সংলাপের চেয়ে রোমাঞ্চকর। তোমার শরীরের মতো রক্ত লালে মিশ্রিত ফুল সৌরভের জ্যোৎস্না দেখেছি ইমা আপুর শরীরে। ইমা আপু প্রথমে কামিজ ও ব্রা খুলে আমাকে বলে তোমার চেয়ে আয়তনে তিনগুন বড়ো তার বুকে ঝুলে থাকা যুগল পিণ্ডে হাত বুলাতে। আমি ক্রমান্বয়ে বুক নিয়ে ব্যস্ত হই। ইমা আপু নিচ থেকে সেলোয়ার, প্যান্টি খুলে, আমার হাফ প্যান্টও খুলে ফেলে। হাত দিয়ে আমার ক্ষুদ্র লিঙ্গ নাড়াচাড়া করে ইমা। কেমন জানি লাফিয়ে উঠে ক্ষুদ্র এই লাঠিটি। আামাকে তার যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে আঙ্গুল ঢুকাতে বলে ছিদ্র দিয়ে। আমিও তা করি। তারপর এক সময় উত্তপ্ত লাফানো লাঠিটি আস্তে আস্তে কারাবন্ধি করে তার ঐ গোপন ছিদ্রে। ইমা আপুর ব্যস্ততা বাড়ে। চটপট করে অনেকক্ষণ। তারপর শান্ত হয়।

ইমা আপুর নিষেধ ছিল এই খেলার কথা কখনো কাউকে বলা যাবে না। আমিও বলিনি কখনো কাউকে। যৌনতা না বুঝা আমি ইমা আপুর কাছ থেকে দশ মাসেই চিহ্নিত করি নারী এবং নারী-পুরুষের অনাবিল শিহরণ ও অন্যরকম উঞ্চতা। তখন থেকে একটি গন্ধ আমাকে বার বার নিয়ে যেতো ইমার শরীরের বন্ধনে। তারপর একদিন ইমা আপুর বিয়ে হয়ে গেল। আমি জানতাম না ইমা আপুর বিয়ে কোথায় হল, কার সাথে হলো? তোমার সাথে বন্ধুত্বের কারণে চৌদ্দ বছর পর ইমা আপুর সন্ধান। তুমি জানো না বালিকা, তোমাকে কৃত্রিম শিহরণে ব্যস্ত রেখে আমি প্রতিদিন বিকেলে তোমার অনুপস্থিতিতে এখনো ছুটে যাই ইমা আপুর শরীরের বন্ধনে। তারপরও আমি এই শরীরের গন্ধের জন্য মাতাল থাকি পুরোপুরি। খুব সম্ভবত তোমার ভাবীর শরীর থেকে তুমি এই গন্ধের সৃষ্টি করতে পেরেছো। ইমা আপু বলেছে- তোমাকে এই দৃশ্যের ভুমিকায় অভিনয় করতে শিখিয়েছে সে নিজেই। আমার কাছে কথাটা সত্যি মনে হয়েছে।

ইমা ও তুমি আমাকে আঁকড়ে ফেলেছো। ইমা আপু বলেছে- তোমার সাথে তার আলাপ হয়েছে। তুমিও কৃত্রিমতা দুরে রেখে আমাকে নিয়ে মেতে উঠতে চাও প্রাকৃতিক নিবিড় মৈথুনে। তুমি যদি অকপটে দ্বিধাহীন আহ্বান করো আমাকে তবে আজ থেকে জীবন্ত লাশ নয় বালিকা, আমিও জীবন্ত হবো। তোমার শরীরের মোহে আটকে ফিরে যাবো নদীর স্বচ্ছ প্লাবনে। জোয়ারে ঢেউয়ে জ্যোৎস্না হয়ে কুড়িয়ে নেবো তোমার বাইশ বছরের নিষিদ্ধ আলিঙ্গন। শরীরে শরীর ঘেঁষে আমরাও এবার ছুটে যাব আদিম মানবের বসতিতে।

প্রিয় মোহনা, এই অসংগতির অন্ধকারে যৌনতার চেয়ে নিরাপদ আর কিছুই নেই। আমাদের স্বদেশে কেবল লজ্জিত নায়কের আগমন প্রস্থান। তার চেয়ে আদিমতাই ভালো। যৌনতার শিহরণে কলংকের আগস্ট ও লুন্ঠিত স্বদেশের দুঃখ ভুলে যাব আমরা দু’জন।
-তোমার বন্ধু উপম,১ আগস্ট ২০০৮।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×