আমি যে ইউনিটে থাকি। তার তাতে আরও সাতটা ইউনিট আছে। আমার পাশের এক নম্বর ইউনিটে একজন অতি বৃদ্ধা বসবাস করতেন। বয়স তার হবে আশি উর্ধ্ব কি তারো বেশি। আমি বেশ ব্যস্ত থাকায় আশপাশের কোন খবরই নিচ্ছিলাম না। সকাল সাড়ে ৭ ঘর থেকে বের হই আর রাত ৭টায় ফিরি। কাজের চাপও বেশি। হঠাত্ করে চাকরীটা ছেড়ে দেয়াতে ঘরেই অলস সময় কাটাচ্ছিলাম। বৃদ্ধ মহিলার এক জন মেয়ে আছেন যিনি নিজেও পৌঢ়। বয়স ষাটের কাছাকাছি। হঠাত্ দেখলাম ভাবীর সাথে কথা বছছেন ঐ ভদ্র মহিলা। সামনাসামনি পড়তেই কথা হলো। উনার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই উনি যা বললেন। তাতে আমার এক নতুন উপলব্ধি হলো।
বৃদ্ধার চার বার স্ট্রোক করলো। তাই তাকে এথন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নার্সিং হোমে কাটাতে হবে। আমার পড়শি চাকরী করেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে হাই স্কুলে পড়ে। ছেলে গাড়ি মেরামত করে। তিনিতো ব্যস্ত। তাহলে তার মাকে দেখা শুনা করবে কে। যুক্তি ও বাস্তবতা দুটিই ভয়াবহ সত্য। তার চাইতেও বড় সত্য বৃদ্ধার আসলেই এক জন সাহায্যকারী দরকার।
তার আগের কিছু ঘটনা বলি। এক দিন আমি আমার বড় ভাই সহ পরিবারের সবাই কোথায় যেনো বেড়াতে যাচ্ছি। কয়েক মাস আগের ঘটনা। আমরা ঐ বৃদ্ধাকে পেলাম আমার প্রধান দরজার কাছে (সব ইউনিটের বাসায় একটা প্রধান দরজা থাকে)। উনি একটা বাক্সে করে কিছু ময়লা নিয়ে যাচ্ছিলেন বিনে ফেলার জন্য যা আমাদের ইউনিটের বাইরে থাকে। আমি দেখছিলাম উনি মেঝে থেকে ময়লা তুলছে হয়তো হাত থেকে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। আমাদের দেখে উনি থমকে গেলেন হয়তো ভাবলেন মেঝে ময়লা করার জন্য আমরা বুঝি বিরক্ত হলাম। বৃদ্ধাকে সাহায্য করলাম। তার ময়লাটা বিনে ফেলে দিতে সাহায্য করলাম। সেই থেকে বৃদ্ধার সাথে আমার একটা সখ্য গড়ে উঠেছিল।
বৃদ্ধার মেয়ে (নামটা কাল্পনিক - চেলসি) আমাকে বললেন, তার মাকে আজ নাসিং হোমে দিয়ে আসলেন। চেলসিকে বেশ অনেকটা স্বস্থির দেখা গেল। কিন্তু কেন। আমাদের এই সমাজে আমরা তাহলে বৃদ্ধদের কে ভাবছি নাসিং হোমের উপযুক্ত। চেলসি জাতিগত ভাবে আরব অথচ তার মধ্যেও পশ্চিমি ধাচেঁর চিন্তা। আমার জানা মতে আরবরা বাঙালীদের মতোই বৃদ্ধদের শেষ বয়সে একটু পারিবারিক গন্ডিতে থাকাটা বেশ শ্রদ্ধা করেন।
আমার এই বোধ আজ আসল। একদিন আমিও বৃদ্ধ হবো। আমারও হয়তো কয়েক বার অসুখ হতে পারে। তখন কি আমার সন্তানরা আমাকে এভাবে নাসিং হোমে ফেলে চলে যাবে। দূষ দেই না কারণ আমিও আমার মাকে ফেলে আজ বিদেশে পড়ে আছি। আমার মা আজ অসুস্থ। তার চিকি্তসা করাচ্ছে বড় আপা। এ কেমন সভ্যতা আমরা বিনিমার্ণ করে চলেছি একবার কি ভাবছি শ্রদ্ধেয় পাঠক।
ম ন আলম ফরিদ
পাঞ্চবোল
অস্ট্রেলিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


